চলছে...
তারপর প্রশ্ন আসলো বিয়ের, কিন্তু আমি ঐ মুহুর্তে বিয়ের জন্য প্রস্তুত ছিলাম না। মাত্র ইন্টারমিডিয়েট পড়ি।
কেন যেন আম্মা একটু একটু সন্দেহ করতে থাকলো আমাকে নিয়ে। আম্মার কাছে খুব বেশী লুকাতে বা মিথ্যা বলতে পারতাম না আমি, কেন যেন মনে হয়েছিলো আম্মাকে বললে আম্মা সহজভাবে নেবে। রানার সাথে তখন প্রেম মাত্র ৫মাস, তাতেই আমার মনে হতো সে আমার অনন্তকালের চেনা। কারণ সে আমাকে ছুঁয়ে দিয়েছে, যে শরীররটা কেউ দেখেনি আংশিক হলেও সে তা দেখেছে।
একদিন সত্যি আম্মাকে আমার ঘরে ডেকে বলে ফেললাম রানার কথা।
আম্মাকে বলাটা আমার চরম একটা ভুল হলো। যা ভেবেছিলাম তার অপসিট প্রতিক্রিয়া হলো আম্মার, প্রচন্ড রেগে গেলো ।
কোন উত্তর দিলো না। শুরু হলো আর এক যন্ত্রনা।
সম্ভবত সারা রাত ভাবলো আম্মা, সকালে উঠে বললো- কলেজ যাওয়া বন্ধ, কোথাও যেতে হলে আম্মার অনুমতি ছাড়া বের হতে পারবো না।
রানার সাথে দেখা হওয়া বন্ধ- শুরু হলো এবার বিরহের পালা।
ঘরে বসে দুইদিন কাঁদলাম শুধু তারপর একদিন সকালে সরাসরি আম্মাকে যেয়ে বললাম রানার সাথে দেখা করতে যাবো। আম্মা বাধা দিলো । আমার প্রচন্ড জেদ কাজ করলো আমি কিছু বললাম না, সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত চুপ করে দাড়িয়ে থাকলাম একই জায়গায়।
আম্মা আরো রেগে গেলো বললো- তোমার যা ইচ্ছা তাই করো তবে এ বাড়িতে থেকে নয়, তাকে বিয়ে করে তারপর করো। তার আগে দেখা করতে পারবে না। এ এক কঠিন পরীক্ষা। আম্মাকে বলার বিষয়টা খুবই খারাপ হয়েছিলো।
হয়তো আরো কিছুদিন তার সাথে মেলা মেশা করলে হয়তো তার সাথে আমার আন্ডারস্ট্যান্ডিংটা কেমন বুঝতে সুবিধা হতো কিছু বুঝে উঠার আগেই দেখা বন্ধ হয়ে গেলো।
আম্মাকে অনেক অনুরোধ করে হাতে পায়ে ধরলাম, একটু যেতে দাও আধা ঘন্টার জন্য। এক পর্যায়ে আম্মা রাজী হলো।
ছুটলাম রানার কাছে, সেদিনের সেই অস্থির পথ চলা যেন শেষ হচ্ছিলো না। চলতে চলতে ভাবছিলাম রানাকে কি বলবো, ও কিভাবে নেবে বিষয়টি।
আজীবন আমার ভাবনার আকাশে শুধু মেঘ দেখেছি, হয়তো হঠাৎ কখোনো সূর্যটা উকি দিয়েছে, দিয়েই আবার মিলিয়ে গেছে নিমিষেই। হয়তো আমার নিজেরই সমস্যা সেটা, অল্প করে ভাবতে পারি না কখোনো সব সময় বিস্তারিত ভাবতে যেয়ে খেই হারাই। কেন যেন ভাবতে গেলে ভুলে যাই সব।
রানার সাথে দেখা হলো, বললাম সব।
হয়তো কিছু ভাবলো, তারপর বললো কাল তোমার বাসায় যাবো।
কিছুটা ভয় পেলাম
চলবে....

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


