চলছে....
না পাওয়া কিছু যেনো পেতে চলেছি... অজানা আনন্দের আহবান!
খাওয়া ঘুম বন্ধ। অজানা সুখের চিন্তায়।
এতো বেশী আবেগপ্রবণ, কল্পনাপ্রবণ আমি, আমার আবেগগুলো ধরে রাখাই আমার জন্য কঠিন ছিলো।
ছোটবেলা থেকেই আমার কল্পনা করার একটা অভ্যাস ছিলো, মোটামুটি একটা নেশার মতো, বলা যায় এটা আমার হবি।
যখনই সময় পেতাম নিজের ঘরের দরজা বন্ধ করে চোখ বুজে শুয়ে পরতাম। তারপর শুরু হতো আমার কল্পনা, যা হতে পারে এমনও ভাবতাম আবার যা কখোনো হবার নয় এমনও ভাবতাম।
আমার কল্পনাটা কোনো নির্দিষ্ট কিছু নিয়ে নয়, মনে মনে একটা গল্প বানিয়ে নিয়ে যখন যে রকম ইচ্ছা হতো সেটাকে নিয়ে কল্পনা করতাম।
এবং কল্পনাগুলো এমন ছিলো যে প্রতিটি মূহুর্ত আমি অনুভব করতাম, একেবারে মিশে যেতাম প্রতিটি ভাবনার সাথে।
জীবনকে বিভিন্ন দৃষ্টিকোন থেকে কল্পনা করতাম, কখোনো শুধুই সুখের একটা জীবন কখোনো কিছুটা দুঃখ মিশ্রিত।
আমার কল্পনাগুলো এতোটাই গভীরভাবে ভাবি যে, কোন কষ্ট বা কারো ছোঁয়া অনুভব করতে পারি গভীরভাবে, মিশে যেতে পুরোপুরি অনুভুতিটা দিয়ে।
মূহুর্তের জন্যও ভাবতে পারি না যে এটা কল্পনা।
হয়তো এতোটা কল্পনাপ্রবন বলেই জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে অবচেতন ভাবেই জীবনকে কল্পনার সাথে মিলাতে চেয়েছি।
হয়তো ভুল করেছি, আবার এমনও হতে পারে কল্পনা করতে পারি বলেই বেঁচে আছি।
কারন দেখা গেছে আমার অনেক কষ্টের সময়ও আমি সব ভুলে কিছক্ষণের জন্য হারিয়ে গেছি আমার কল্পনার জগতে,
আমার কল্পনার একজন আছে, যাকে আমি বাস্তবে কখোনো দেখিনি, যে আমার বুকের গভীরে নিভৃতে লুকিয়ে আছে। আমি চাইলেই সে আমার কল্পনায় ভেসে উঠে, আমি যা চাই তাই পাই তার কাছে। সেই... আমার বেঁচে থাকার আশা।
আব্বা যখন আম্মাকে রাজী করাতে ব্যস্ত তখন আমি ডুবে আছি আমার কল্পনার জগতে।
আব্বা জানালো আম্মা রাজী হয়েছে।
রানার সাথে কথা বলতে চাইলো আব্বা,
বাসায় আসলো রানা, বললো তার মা আসবে কথা বলতে। আব্বা রাজী হলো ।
আমি একদিন বাইরে গেছি বাসায় এসে দেখি রানার মা, বোন, বোনের জামাই এসেছে।
আমি ভিতরে চলে গেলাম। প্রচন্ড ভয় করছিলো কি জানি কি হয়।
পরে শুনলাম রানার মা ভালো ব্যবহার করে নাই। তাঁর একটাই ছেলে নিজের ইচ্ছা মতই বিয়ে দিতে চেয়েছিলো সে।
হয়তো মনে মনে রাগ ছিলো ।
আব্বাকে বললো, ছেলে যখন পছন্দ করেছে আমার বলা না বলায় কিছু যায় আসে না,
আমার ইচ্ছা না থাকলেও বিয়ে হবে, কিন্তু বউ-এর মর্যাদা কখোনো পাবে না। চাকরানীর মত থাকবে।
যেনো বাজ পরলো, আব্বা কিছুক্ষণ চুপ করে থাকলো তার পর কি হলো কে জানে খুব রেগে গেলো।
কোনদিন আব্বা এতটুকু কষ্ট আমাকে দেয়নি, সে কি কওে এতো বড় কথা সহ্য করবে? বাসা থেকে বের কওে দিলো। সব শুনে নিজেই হতবাক হলাম, কি করবো ভেবে পেলাম না, ভালোবাসার যন্ত্রণা যে এতো কঠিন জানতাম কিন্তু বুঝতাম না। কঠিন পরীক্ষা, রাতে শুয়ে শুয়ে ভাবছিলাম একদিকে রানা অন্যদিকে বাবা মা, রানার বাসায় এসে তাঁদেও অপমান করেছে। আমারও খুব রাগ হয়েচিলো। ভাবতে ভাবতে এক পর্যায়ে ডিসিশন নিলাম বিয়ে করবো না রানাকে। মরে তো যাবো না নিশ্চয়।
চলবে....

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



