somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জীবনের কথা-২০ (১৮+)

০৮ ই মে, ২০১০ বিকাল ৫:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

চলছে....
ভালোবাসার নীল খামে চিঠি পাঠিয়েছিলাম ঠিকই তবে ভুল ঠিকানায়। ভুলটাই যখন সত্যি হলো তাকে মেনে নেওয়া ছাড়া কোন পথ কি ছিলো? জীবনে মেনে নেওয়ার বিষয়টিই মানুষের জীবনের একটা বড় বিপর্যয়। এত কিছু করে যাকে পেলাম...আমি কি করে কাউকে কিছু বলবো, অন্তর্দহনে আমি জ্বলছি। তারপরও ভাবলাম যাক যে করেই হোক এর সমাধান করতে হবে আজ কষ্ট হলেও মেনে নেবো তবু সুস্থ জীবন শুরু হোক।
পরদিন রানা আবার আসলো, পাগল আমি অস্থির চিত্ত নিয়ে বসে আছি অধীর আশায় আজই বোধহয় আমার চরম পাওয়ার সেই দিনটি...
সেদিনের মত আজও অনেক গভীর মুহূর্ত কাটলো কিন্তু হলো না চরম পাওয়াটা, সেদিনের মতই ঘটলো ঘটনাটি, এমনি করে গেলো পাঁচদিন আমি পাগল প্রায়, স্বাভাবিকভাবেই একটা অস্থিরতায় অস্থির হচ্ছিলাম আমি ওদিকে লজ্জা ভয়, বার বার মনে হচ্ছে, আমি না হয় বুঝি না সে কেনো ঠিকমত এগিয়ে আসছে না।
এর পর যেদিন রানা আসলো আমার লজ্জা ভয় সব ঝেড়ে ফেললাম, আজ যা আছে কপালে তাই হবে! অজানাকে জানতেই হবে, এত কাছে পেয়েও সেই রহস্য আমি উদঘাটন করতে পারছি না। আজ ঘটনা ঘটতেই হবে, আমি বলে ফেললাম তুমি কেনো পারছো না? আজ আমার চাই...ই...যেভাবেই হোক
শেষ পর্যন্ত ঘটলো ঘটনাটি-বহু আকাক্সিক্ষত সেই আজানেক জানলাম। অদ্ভূতভাবে আলোড়িত হয়েছিলাম, কষ্ট কিছুটা হয়েছিলো ঠিকই আনন্দটাও ছিলো সীমাহীন, বহু প্রতীক্ষিত...
এর পর ঘটছে বার বার বহুবার, যেটা স্বাভাবিক।
জীবনে ঐ সময়গুলো যে কিসের মধ্যে দিয়ে গিয়েছে, আমি কিছুই জানি না, সব কিছুই ভালো লাগতো।
কেমন যেনো ঘোরের মধ্যে ছিলাম। জীবনটা যেনো ছোট্ট একটা গন্ডির মধ্যে বাঁধা ছিলো, ভালোবাসা, আদর আর সংসার। ছোট্ট মনে আর কোনো জটিলতার কথা মাথায়ও আসে নাই। তখন আমি শুধুই তথাকথিত এক সাধারণ নারী। হয়তো এই নিয়েই আমি আমার জীবন কাটাতে পারতাম কিন্তু সবাইতো আমার মতো না। জীবন অনেক কঠিন অনেক বিস্তারিত।

ছোট্টবেলা থেকেই অম্ভুত একটা ভাবনা ছিলো আমার, আমাদের বাসার পিছনে একটা জায়গা ছিলো, সেখানে মাঝে মাঝে গাছ লাগাতাম, সেভেন এইটে পড়ি যখন তখনও পুতুল খেলতাম, ভাবতাম যদি এমন হতো আমার পুতুলগুলোর প্রান আছে ওরা লিলিপুটের মতো ছোট ছোট, বাড়ির পিছনের জায়গাটা ওদের পৃথিবী, ওখানে ঘর থাকবে, বাজার স্কুল অফিস সব থাকবে, আর ওদের শুধু সুখ থাকবে কোন কষ্ট থাকবে না। খাবে ঘুমাবে আর ভালোবাসবে। আর মাঝে মাঝে আমি ওদের দেখে আসবো।
আমার পুতুলের পৃথিবীর মতই ছিলো আমার পৃথিবীটাও। খুব বেশী গোছানো।
রানাকে ছাড়া কিছুই বুঝি না তখন। একমাস ছিলাম মার বাসায়, হঠাৎ একদিন রানার মা আসলো, উনি খুব গম্ভীর কেমন যেনো দেখে খুব ভয় করতো, আম্মাকে বললো আমাকে কয়েকদিনের জন্য নিয়ে যেতে চায়, আম্মা বললো অনুষ্ঠানটা করার পর নিয়ে যান। উনি রাজী হলেন না। তখন সব কিছুতেই খুশি আমি, রানার বাসায় যাবো !
কাছেই রাজাবাজারে বাসা ছিলো, নিজেদের বাড়ি দোতালা থাকে ওরা।
বাসায় ঢুকলাম কেমন যেনো অনুভুতি রানার চারটা বোন তখন দুইটার বিয়ে হয়েছে। ওদের সাথে দেখা হলো। কথা হলো।
রানা তখনও হাসপাতালে ডিউটিতে, সবাই কেমন যেন চুপচাপ খুব কম কথা বলে। আমিও ফ্রি হতে পারি না কেউ ফ্রি না হলে।
আমাকে রানার ঘরটা দেখিয়ে দিলো আমি ঘরে গেলাম, রানার ঘর তার মানে নিজের ঘর, অগোছালো ঘরটা
নিজ হাতে নিজের মত করে গোছালাম,
রাতে রানাকে কখোনো পাইনি আজই প্রথম রাত, প্রতিটি মুহুর্তে ফিল করছি রানাকে। রাতের আমেজ অন্যরকম, রাতের বেলায় মানুষের মন এমনিতেই কেমন যেন ইমোশনাল হয়ে থাকে, সব ভাবনাতেই রোমান্স অনুভব করতে থাকলাম। রানা বাসায় আসলে কি করবো কি বলবো, এটা সেটা ভাবছি আর ফিল করছি, এখোনো আসে না কেনো ? অস্থির চিত্ত আমার...
রানা আসলো বাসায় খাওয়া দাওয়ার পর ঘরে ঢুকলাম, শুরু হলো ভালোবাসার খেলা। সারা রাত জেগে ছিলাম দু’জন, দু’একটা কথা আর ভালোলাগার আবেশে কেটে গিয়েছিলো রাত। সত্যি কথা বলতে রানার সাথে কথা খুব কম হয়েছে আমার সেই প্রেমের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত
এমনি করে জীবনের ভালো সময়গুলি কাটতে থাকলো..........
আমি কলেজে যাই বাসায় আসি, দুপুরে রানাও বাসায় আসে, খেয়ে একটু রেষ্ট নিয়ে বিকালে একটা ক্লিনিকে যেতো, চাকরী করতো। আমি যেতে দিতে চাইতাম না, অস্থির হয়ে জড়িয়ে ধরে রাখতাম, সারাক্ষণ রানাকে কাছে কাছে পেতে ইচ্ছা করতো।
ইমোশনাল চাওয়াগুলো খুব বেশী আমার তাই প্রতি পদে পদে হোঁচট খেয়েছি আমি, কেঁদেছি বার বার। আজও তেমনই আছি আমি। বয়সের সাথে সাথে মানুষ বদলায় কিন্তু আমি কেনো বদলাইনি? নিজের কাছেই প্রশ্ন আমার। নিজেকে গালি দিতে ইচ্ছে হয় মাঝে মাঝে, আমার যে মনটা শুধু চায় সে শুধু হাসে আর বলে পাই বা না পাই আমি আমার চাওয়া চাইবোই বার বার চাইবো...! আমার দুই মনের দ্বন্দ এমনি করেই চলছে চলবে...!!
চাকরী করে রানা, যেতে তো হবেই, ঠেকাতে পারিনি কোন দিন- বিভিন্নভাবে ঠেকাতে চেষ্টা করেছি। দেখা গেলো সে রেডি হয়ে গেছে বের হবে, আমি তখন জড়িয়ে ধরে পাগলের মতো চুমু দিতাম আদর করতাম যেনো সেও আমাকে আদর করে,
এক পর্যায়ে হয়তো আরো কিছু হতো। কাজ শেষ তারপর সে চলে যেতো, তারপর আবার অপেক্ষা- ভাবতাম আদরের রেশটা
থাকতে থাকতে যেনো ও চলে আসে। অনেক পাগলামী করেছি।
শীতের সন্ধ্যায় ঠান্ডা বাতাসে বারান্দায় দাড়িয়ে অপেক্ষা করতাম, আর ভাবতাম ‘‘এই পৃথিবীর সুখী মানুষদের মধ্যে আমি একজন” আমার এই অমূল্য সুখের ভাবনাটা আমি কখোনো ভুলবো না, জীবনে কোন একটা দিন যে এই ভাবনাটা ভাবতে পেরেছিলাম সেইজন্য নিজেকে ভাগ্যবান মনে করি, কটা মানুষ পারো এমন ভাবনা ভাবতে, হোক তা একবার তবুওতো তা শ্রেষ্ঠ ভালোলাগা। কেমন যেন শীতের সন্ধ্যার সে...ই হীমেল বাতাসটা আজও আমার গায়ে এসে লাগে, আমি অনুভব করি গভীর অনুরাগে দুচোখ বুজে আমার ভালোবাসাকে।

আর লিখতে পারছি না, দু চোখ ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে, জানি এ অশ্রুজল আজীবনের..........

চলবে......
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই মে, ২০১০ বিকাল ৫:০৮
২১টি মন্তব্য ১৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এমন কেন?

লিখেছেন তাই-ফি, ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:৪৪

একটা গল্প দিয়ে শুরু করা যাক।

শেষ বিচারের পর নরকে শাস্তি ভোগ করছে পাপীরা। বিশাল বিশাল তেলের ড্রামে তাদের একবার ডুবিয়ে আবার ভাসিয়ে তোলা হচ্ছে। প্রতিটি ড্রামের সামনে একজন করে পাহারাদার... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×