চলছে...
জীবন চলছে- তবে রানা কেমন যেন আরো বদলে গেল আগের মত নেই। কেমন যেনো পার্থক্য দেখতে পেলাম আমি। আগে যতটুকু কাছে নিতো এখন যেনো ততটুকুও কাছে ডাকে না। আমি কাছে গেলেও তেমন সায় পাই না। দিনের পর দিন এভাবেই চলতে থাকলো ঝগড়াও বাড়তে থাকলো, মনের কষ্ট বলে আর কি হবে-অতটুকুই অনেক কষ্ট মনে হয়েছিলো সেদিন বুঝিনি সবে শুরু।
মনে প্রচন্ড কষ্ট নিয়ে রানাকে একদিন বলেছিলাম- আজ আমি তোমাকে কাছে ডাকছি তুমি কাছে আসছো না যেদিন তুমি আমাকে কাছে ডাকবে সেদিন হয়তো আমিই কাছে আসবো না, সেদিন বুঝবে যে আমার কষ্টটা কতখানি ছিলো। যতক্ষণ রানা সামনে থাকতো সব সময় আমার ইচ্ছা হতো রানাকে জড়িয়ে ধরে রাখতে, আদর করতে, আদর পেতে কিন্তু ঘটনাটা ঘটতো তার উল্টো।
রানার একটা বান্ধবী ছিলো, পেনফ্রেন্ড। মেয়েটা বোম্বের নাম শ্র“তি, দেখতো ভালো ফিগার ভালো অনেক লম্বা।
খুব ভালো ফেন্ডশীপ ছিলো ওর সাথে বিয়ের অনেক আগে স্টুডেন্ট লাইফ থেকে। রানা বোম্বেও গিয়েছিলো, ওর সাথে অনেক ছবিও আছে। সবই আমি স্বাভাবিকভাবে নিয়েছি।
রানা ওর বড় বোনের মেয়ের নাম রাখলো শ্র“তি। সেটা কেনো জানি একটু খারাপ লেগেছিলো।
হয়তো ভালোবাসতো শ্র“তিকে কিন্তু এখোনো কি ভালোবাসে ওকে?
উত্তর জানার কখোনো চেষ্টা করিনি। সহজভাবে নেওয়ার চেষ্টা করেছি। ক¤েপ্রামাইজ করাই আমার অভ্যাস। জানতাম উত্তর জানতে চাইলে ঝামেলা বাড়বে হয়তো ঝগড়া হবে। তাই ইচ্ছা হয়নি কখোনো। বিয়ের আগে কিছু থাকতেই পারে তা নিয়ে মাথা না ঘামানোই ভালো।
আর সবচেয়ে কাছের যে জন ছিলো রানার সে হলো ডেজি খালা।
রানার আপন মামির ছোট বোন, রানাদের সমবয়সি ডেজি খালা। তার কথা বিয়ের আগেই বলেছিলো রানা আমাকে।
রানার সাথে প্রেমের সময় রানার প্রথম গল্পই ছিলো ডেজি খালাকে নিয়ে।
ডেজিখালার সাথে খুব ভালো একটা আন্ডারস্ট্যান্ডিং ছিলো রানার, এটা তার ভাস্য। বন্ধু ছিলো ওরা।
রানা চিটাগাং মেডিকেল কলেজে পড়তো ডেজিখালা তখন ঢাকা ইউনিভারসিটিতে পড়ে, দুজন দুজনকে না দেখে একেবারেই থাকতে পারতো না।
রানা প্রায় প্রতি সপ্তাহে ছুটে আসতো তার সাথে দেখা করার জন্য। দু’জনেই খুব অস্থির ছিলো, সহরোয়ার্দী উদ্যানে ওরা ঘন্টার পর ঘন্টা কাটিয়েছে। কিস্ করেছে, তার চেয়ে বেশী কিছুও করেছে। কিন্তু বিয়ের কথা ভাবেনি কখোনো। ওদের ঘোরাঘুরিটা কেউ কিছু মনে করতো না, সবাই ভাবতো খালাইতো হয়।
একসময় ডেজিখালার বিয়ে ঠিক হলো তখন ওরা বুঝলো দুজন দুজনকে ছাড়া থাকতে পারবে না, ভালোবাসার পরিমাণটা ওরা যা ভেবেছিলো তার চেয়ে একটু বেশী ছিলো।
রানা ডেজি খালার সাথে দেখা করলো বিয়ে করতে চাইলো তাকে।
মন চাইলেও রাজি হলেন না উনি, কিন্তু অনেক কেঁদেছিলো। সম্পর্কের কথা ভেবেই হয়তো রাজি হয়নি, মেয়েদের অনেক কিছুই ভাবতে হয়।
তারপর থেকে দু’জনের আর দেখা হয়নি তার একমাস পরেই রানার সাথে আমার পরিচয়।
তাকে দেখার ভাগ্য আমার কখোনো হয়নি তবে শুনেছি আমি নাকি দেখতে ঠিক ডেজি খালার মত।
গল্পটা বলার সময় রানাও আমাকে তাই বলেছিলো। হয়তো সেজন্যই আমাকে রানার ভালো লেগেছিলো।
বিয়ের পর পর সবাই আমাকে দেখে অবাক হতো এত মিল কি করে হয়!
আমার যখন বাবু পেটে তখন রানা বলতো মেয়ে হলে মেয়ের নাম রাখবে ডেজি!
কেনো যেনো সেটা মানতে পারিনি আমি রাজি হলাম না। বললাম এগুলো একটা সস্তা ইমোশন নাম রাখলেই কি তাকে পাওয়া হয়ে যাবে? ভালোবাসো থাক না মনে মনে, তাতো হারাবার নয়, তা নিয়ে আমিওতো কিছু বলছি না।
অবশ্য তখন মেয়ে হলে কি হতো জানি না।
হঠাৎ করে লক্ষ্য করলাম রানা মাঝে মাঝে টেলিফোনে অচেনা মেয়েদের সাথে গল্প করছে, আমার সামনেই।
আমি কখোনো কিছু মনে করিনি। জাস্ট ফান করছে এটাই ভেবেছি।
এটা আস্তে আস্তে বাড়তে থাকলো ঘন্টার পর ঘন্টা গল্প করতো যখন বাসায় থাকতো। আমি তখন অন্য কাজে ব্যস্ত থাকতাম শুনতামও না কি গল্প করে, কি জানি কোনো রকম সন্দেহ রানার প্রতি আমার ছিলো না।
মাঝে মাঝে একটু রাগ করতাম এতো কি কথা বলো? এমনি যেমনই হোক পূর্ণ বিশ্বাস ছিলো তার উপর। আমার সাথে যেমন ব্যাবহারই করুক আর কিছু নিয়ে কখোনো সন্দেহ আসতো না।
খুবই শান্ত ছিলাম আমি আগেই বলেছি প্রতিবাদ ব্যাপারটা আমার ভিতর একটু কমই ছিলো। খারাপ লাগলেও চেপে থাকতাম যতক্ষণ সহ্য করা যায়।
রানার অবহেলা দিন দিন বাড়তে থাকলো। বাসার অন্য সবার কথাতো বলা বাহল্য।
আব্বা আম্মাকে বলারতো প্রশ্নই আসে না, নিজে পছন্দ করে বিয়ে করেছি।
তাছাড়া কারো কাছে রানাকে ছোট করতে চাইনি কখোনো। সেতো আমারই! সে ছোট হলে, আমি নিজেও যে ছোট হয়ে যাবো!
চলবে.....

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



