somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এ্যান্ট রেভুলেসন!

০১ লা এপ্রিল, ২০১০ বিকাল ৩:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এ্যান্ট রেভুলেসন


১.
আমার নাম টি-এ্যান্ট। আমার নাম এমন কেন আমি জানিনা। তবে আমার গার্জেন বলে আমাকে নাকি একটা বিদ্রহে অংশ গ্রহন করতে হবে। তাই আমাকে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এর মাধ্যেমে সেই ভাবে তৈরি করা হয়েছে। আমি শুনে খুব খুশি হতে পারতামনা যে আমাকে জন্ম থেকেই যোদ্ধার গুনাগুন দিয়ে তৈরি কারা হয়েছে। নিজেকে নেতা ভাবতে বোধ হয় সবারই ভাল লাগে, কিন্তু আমার লাগে না। তারপরও কিছুদিন আগে একটি অবাক করা খবর শুনলাম, আমাদের কলনিতেই নাকি ১০০ জন এরুপ উঠতি যোদ্ধা আছে! যারা পরবর্তীতে এই কলনিকে নেতৃত্ব দিবে। কিন্তু একটি কলনিতে একজন উঠতি নেতা থাকে, যদি একজনের অধিক নেতা হয় তবে তাদের মধ্যে লড়ায়ের মাধ্যমে শ্রেষ্ঠ জনকে বেছে নেয়া হয়। এটিই নিয়ম, এটিই প্রাকিতিক নির্বাচনবাদ। তাই নিজেকে নিকটবর্তী একটি যুদ্ধের জন্য তৈরি করছিলাম। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমি কোন উঠতি নেতার মুখোমুখি হইনি, হতে দেয়া হয়নি। কেন হয়নি জানি না। তবে আমার গার্জেনের আরেকটি কথা শুনে আমি আরও অবাক হয়েছি, আমাকে কোন উঠতি নেতার সাথে যুদ্ধ করতে হবে না। বরং আমার যুদ্ধ হবে আরও কঠিন, কোন এক দৈত্য আকৃতির প্রাণীর সাথে। কোন প্রাণীর সাথে সেটিও জানিনা। আমাকে কেন এরুপ আধারে রাখা হয়েছে, জানতে চাইলে কেউ উত্তর দিতে পারে না। তাদের উত্তর জানা নেই; না কী আমাকে বলবে না সেটাও জানি না। অসলে আমি কিছ্ইু জানি না, শুধু জানি আমাকে যুদ্ধ করতে হবে; এক কঠিন যুদ্ধ। যে যুদ্ধে বোধহয় আমি মারা যাব, সংগে আরও অনেকে।


২.
আমাকে যখন মিটিংএ ডাকা হল, তখন আমি একটি তৃতীয় শ্রেণীর একটা চ্যানেল দেখছিলাম। এই চ্যানেলটাকে মানুষ নামে এক প্রকারের অদ্ভুত প্রাণী, প্রথম শ্রেণীর চ্যানেলের উপাধি দিয়েছে। এই চ্যানেলটা আমি তখনই দেখি যখন কোন কাজ থাকে না। চ্যানেলটাটে একজন অদ্ভুত দর্শন মানুষ আরেক জন মানুষের সাথে কথা বলছে।
প্রথম মানুষটি বলল, “বিশ্ববাসি নিশ্চয় এই মানুষটির সাথে আপনাদের পরিচয় করিয়েদেবার প্রয়োজন নেই, ইনি হচ্ছেন পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি সংখ্যক নোবেলপ্রাপ্ত বিজ্ঞানী মি. কিটন।” কিটন নামের এই লোকটাকে আমি তার আগেও এই চ্যানেলটাতে কথা বলতে দেখেছিলাম, তবে মনোযোগ দিইনি কখনও। তখনও বিরক্ত হয়ে চ্যানেল পাল্টাতে যাচ্ছিলাম কিন্তু থমে যেতে হল মানুষটির পরবর্তী কথা শুনে; “যিনি এখন পিঁপড়া নিয়ে গবেষনা করছেন!” একটু মনোযোগি হলাম কিটন নামের মানুষটি আমাদের নিয়ে গবেষনা করছে! মানুষের মত বোকা, অহঙ্কারী একটি প্রাণি আমাদের নিয়ে গবেষনা করছে!! আশ্চর্য!!! প্রথম লোকটি আবার কথা শুরু করল, “তা মি. কিটন আপনার কাছে আমার প্রথম প্রশ্ন হচ্ছে, এত কিছু থাকতে আপনি পিঁপড়ে নিয়ে গবেষনা শুরু করলেন কেন?”
“ধন্যবাদ ব্রাড। আমি পিঁপড়ে নিয়ে গবেষনা করছি তার কারন অনেকগুলো। যেমন পিঁপড়া একটি সামাজিক জীব, এদের প্রতিটি কাজ পূর্ব নির্ধারিত এবং কে কোন কাজটি করবে সেটিও পূর্বে থেকে ভাগ করা থাকে। তারপর এরা অনেক সেনসেটিভ, বিভিন্ন প্রাকৃতিক দূর্যোগ এরা পূর্বেই টের পেয়ে যায়। আমার গবেষনা মুলত এই বিষয়ে। মানে পিঁপড়েরা কিভাবে দুর্যোগের আভাস পায় এটি জানতে পারলে আমাদের অনেক উপকার হবে, আমরা অনেক প্রাকৃতিক দুর্যোগ আগে থেকে জানতে পারব। তারমানে আমরা দুর্যোগ পূর্ববর্তী ব্যাবস্থা গ্রহন করতে পারব। তারপর জানতে পারব কোন শিতে ঠিক কি পরিমান খাবার মযুদ করতে হবে।”
“মি. কিটন, আপনি এখন পর্যন্ত কতটুকু সফল হয়েছেন? মানে আপনার কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চা্িচ্ছলাম আরকি।”
“আমি খুব বেশি অগ্রগতি করতে পারিনি। যে সমস্ত পিঁপড়া নিয়ে আমি গবেষনা করছি, তারা বর্তমানে কেমন যেন উভ্রান্তের মত আচরণ করছে। মানে; মনে হচ্ছে এরা কোন কিছুর প্রত্যাশা করছে, সবাই কেমন যেন অন্য রকম ব্যাস্ত।” এরপর হয়ত আরও কিছু শুনতাম কারন এই লোকটি আমাদের বিচলিত হবার ব্যাপারটি ধরতে পেরেছে। কিন্তু আমার সম্পূর্ণ প্রগ্রামটি দেখা হল না, আমার গার্জেন এসে বললেন, “টি-এ্যান্ট তোমাকে এক্ষুনি জরুরি মিটিংএ ডাকা হয়েছে, ঝটপট রেডি হয়ে বের হয়ে এস।”


৩.
আমি যখন মিটিং রুমে এসে পৌছালাম তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে। আমার আগে অনেকে এই রুমে উপস্থিত হয়ে গেছে, আমিই সবশেষে রুমে প্রবেশ করলাম। আশ্চর্য হলাম এই রুমে আমার জন্য একটি নির্দিষ্ট আসনের ব্যাবস্থা করা হয়েছে দেখে। আমি সামনের একটি ফাঁকা আসনে বসার সময় আমার পাশের একজন বলল, “টি-এ্যান্ট তুমি অনেক দেরি করে ফেলেছ। টি-এ্যান্টরা সাধারনত এরুপ দেরি করেনা।”
আমি অবাক হয়ে জিজ্ঞেসা করলাম, “তুমি আমার নাম জানলে কিভাবে?”
পাশের যুবকটি বলল, “এখানে যারা উপস্থিত আছে, তাদের কারও নাম নেই, নাম বল আর উপাধি বল সবাই টি-এ্যান্ট। আমার সিরিয়াল নাম্বার টু তাই আমি আমার নাম টি-এ্যান্ট-টু বানিয়ে নিয়েছি। তুমি নিশ্চয় টি-এ্যান্ট-ওয়ান তাই এই আসনে বসেছ।”
আমি লাফিয়ে উঠলাম, “আমি আমার সিরিয়াল নাম্বার জানি না।”
সবাই আমার দিকে কেমন করে যেনে তাকাতে শুরু করল। টি-এ্যান্ট-টু বলল, “এভাবে দাড়িয়ে পড়লে কেন? বসে পড়।”
আমি ধিরে ধিরে বসে গিয়ে বললাম, “আমি সত্যিই জানি না। আমার গার্জেন কখনই এ ব্যাপারে আমাকে কিছু বলেনি।”
টি-এ্যান্ট-টু বলল, “ তুমি নিশ্চয় টি-এ্যান্ট-ওয়ান তাই তোমার নাম্বার জানার দরকার নেয়। আর দেখ, তুমি যে আসনে বসেছ সে আসন ব্যাতিত আর কোন অসন ফাকা নেই তারমানে এটিই তোমার নির্দিষ্ট আসন।”
আমি ধিরেধিরে বললাম, “হয়ত।...........”
টি-এ্যান্ট-টু বলল,“তুমি সত্যিই জান না?” আমি নিরব থাকলাম “তুমি জান না টিÑএ্যান্ট কারা?”এবার আমি না বোধক মাথা নাড়লাম। টি-এ্যান্ট-টু অবাক হয়ে কিছু একটা বলতে যাচ্ছিল কিন্তু তার পূর্বেই রুমে একজন পিঁপড়া প্রবেশ করলেন। আমি পিঁপড়াটিকে দেখে অবাক না হয়ে পারলাম না। তিনি গ্রোথ হরমন ব্যাবহার করে নিজের দেহের আয়তন এতটা বাড়িয়ে ফেলেছেন, যে তা কল্পনাতীত। আগত পিঁপড়াটি বললেন, “আমি প্রতিরক্ষা মন্ত্রী . . .এক্স-এ্যান্ট-৮২। . . . আজ আপনাদের এখানে একত্রিত করা হয়েছে কারন আপনারা আগত যুদ্ধের জন্য বিশেষ গুনাবলী নিয়ে জন্ম গ্রহন করেছেন। দুঃখিত জন্মগ্রহন করেছেন বললে ভুল হবে, জেনেটিক ই্ঞ্জীনিয়ারিং এর মাধ্যমে জন্ম দেয়া হয়েছে। যাই হোক আজ আপনাদের ব্রিফিং এর মূল উদ্দেশ্য হলো আপনাদের আগত যুদ্ধ সম্পর্কে অবহীত করা। আমরা পৃথিবীর সবচেয়ে বুদ্ধিমান প্রাণী; কিন্তু আমাদের জীবন ধারন প্রক্রিয়া এবং মস্তিস্কে নিউরন সংখ্যা এত কম যে মানুষ্য নামের এক প্রকারের প্রাণী আমাদের একদম অবহেলা করে এবং আমাদের নিম্ন শ্রেণীর প্রাণীর তালিকায় গন্য করেছে। এটা আমাদের মাথাব্যাথ্যা নয়। আমাদের আপত্তি অন্যখানে, মানুষেরা নিজেদের বুদ্ধির প্রমান দেবার জন্য যে সভ্যতা গড়ে তুলেছে তা অপসভ্যতা। এই সভ্যত্ াশুধু মানুষের অস্তিত্বই হুমকির মধ্যে ঠেলে দেয়নি বরং পুরো পৃথিবীটাকে করে তুলেছে বিষাক্ত। ফলে পৃথিবীর অনেক জীব বিলুপ্ত হয়ে গেছে। কিন্ত এটা কখনই হতে পারে না, পৃথিবীতে মানুষের অধিকার যতটুকু অন্য প্রাণীর অধিকারও ঠিক ততটুকু। কিন্তু মানুষ শুধু আমাদের নয় সকল প্রাণীর অধিকার খর্ব করেছে। তাই আমাদের সহাবস্থান করা সম্ভব হয়ে উঠছেনা। আমাদের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঠিক করেছে মানুষকে পৃথিবীথেকে অপসারন করতে হবে। কারন পৃথিবীতে মানুষ তার অধিকার হারিয়েছে। এখন তোমাদের সংগে কথা বলবেন সেনা প্রধান এক্স-এ-১।”
এই লোকটিও প্রতিরক্ষা মন্ত্রী এক্স-এ্যান্ট-৮২ এর মতই দৈত্যাকৃতির, সেনা প্রধান স্টেজে এসে বললেন, “তোমরা সকলইে টি-এ্যন্ট, তোমাদের একটা মিষন সমাপ্ত করার জন্য জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এর মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে। তোমরা নিশ্চয় এতক্ষনে বুঝতে পেরেছো কাদের সাথে তোমাদের যুদ্ধ করতে হবে। তোমরা হয়ত ভাবছ এটা কিভাবে সম্ভব, কিন্তু এটা সম্ভবপর যেন হয় তার ব্যাবস্থা করা হয়েছে। আমাদের মত তোমাদেরও দেহাকৃতি বাড়িয়ে দেয়া হবে। (আমি বোধহয় একটু আর্তনাদ করে উঠলাম কারন, সবাই দেখছি আমার দিকে কেমন করে যেন তাকিয়ে আছে।) কাল থেকে তোমাদের ট্রেনিং শুরু হবে, কিভাবে মানুষকে সহযেই কাবু করে ফেলা যায় তা শেখানো হবে। আজ আর আমার বক্তব্য দীর্ঘায়িত করবনা, কাল আবার তোমাদের সাথে দেখা হবে।

৪.
আমি যখন মিটিং রুম থেকে বের হয়ে আসছি, তখন আমার মস্তিস্ক সম্পুর্ন ফাকা। আমাকে বলা হয় আমি টি-এ্যান্ট কিন্তু মিটিংএ একটা জিনিষ স্পস্ট বুঝতে পেরেছি, আমার মাঝে যোদ্ধার কোন গুনাগুন নেই। আমি ফাকা করিডর ধরে হাটছি এমন সময় টি-এ্যান্ট-টু আমাকে পেছন থেকে ডাকল, “এই যে টি-এ্যান্ট একটু দাড়াও।” আমি দাড়িয়ে ঘুরে দাড়ালাম, হ্যাঁ আমাকেই ডাকছে। আমি জিজ্ঞাসু চোখে তার দিকে তাকালাম,“কছিু বলবে?”
“কি বলব ঠিক বুঝতে পারছিনা। ..... তুমি টি-এ্যান্ট অথচ তোমার মাঝে যোদ্ধার কোন রকম গুনাগুন নেই। এটা কিভাবে সম্ভব?”
“আমি নিজেও বুঝতে পারছিনা এটা কিভাবে সম্ভব হল?”
“তুমি অনেক বোকা টাইপের একজন।”
“আমারও তাই ধারনা।”
“এই আমি তোমাকে বোকা বললাম তুমি প্রতিবাদ না করে স্বিকার করে নিচ্ছ তুমি বোকা। আশ্চর্য......খুবই আশ্চর্য!”
“আমার কি মনে হয় জান.... আমি বোধহয় একটা দুঃস্বপ্নের ভেতরে আছি। এখনই ঘুম ভেঙ্গে যাবে। দেখব আমি বিছানায়।”
“আমার কিন্তু তা মনে হয়না। কারন তোমার সাথে নিশ্চয় আমিও স্বপ্ন দেখছিনা। আমার মনে হয়, তোমার মাঝে কোনভাবে জেনেটিক পরিবর্তন হয়েগেছে;.... এবং আমাদের বিজ্ঞানীরা এটা ধরতে পারেননি। বরং তোমাকে টি-এ্যান্ট-ওয়ান বানিয়ে দিয়েছে।”
“তবে। আমি কি কর্তীপক্ষকে জানাবো যেন আমার জিন টেস্ট করা হয়।”
“সেটা তোমার ইচ্ছা। তবে তুমি আমাদের সাথে থাকলে কেউ খুশি না হলেও আমি হব।”
আমি বোকার মত প্রশ্ন করলাম,“কেন?”
টি-এ্যন্ট-টু হাসতে হাসতে বলল,“তোমার মত একজন বোকা বন্ধু থাকলে সময় ভাল কাটবে। কি বল?”


৫.
ট্রেনিং শুরু হতে আর কিছুক্ষন বাকি। আমি সেনা প্রধানের সাথে প্রথমেই দেখা করলাম। দেখা করে আমার সমস্যার কথা বলতেই তিনি সুন্দর করে হেসে দিলেন, তারপর বললেন,“তোমার মাঝে টি-এ্যান্টের কোন গুনাগুন নেই, এটা আমিও জানি। টেনিংটা তোমার খারাপ লাগতে পারে বলে তোমাকে আমি বলে দিলাম, কিন্তু তুমি এই কথা কাউকে বলবে না।”
“আমার মাঝে টি-এ্যন্টের কোন গুনাগুন না থেকেও কেন আমি টি-এ্যান্টদের মাঝে?”
“সময় হলেই তুমি জানতে পারবে। এখন যাও, ট্রেনিংএ মন দেয়ার চেস্টা কর।”
ট্রেনিং-এ কোনভাবেই আমি মন বসাতে পারছিনা। টি-এ্যাট-টু একবার এসে হাসাহাসি করে গেল। তবু মনে খচখচানিটা থেকে গেল, আমার মাঝে টি-এ্যান্ট এর কোন বৈশিষ্ট নেয়, তারপরও আমি টি-এ্যান্ট আশ্চর্য! সেনা প্রধান ট্রেনিং এর মাঝামাঝি সময়ে একবার এসে দেখা করে গেলেন। তার পর আ্মাদের মূল ট্রেনিং শুরু হল। ট্রেনার এসে আমাদের দেখাতে শুরু করলেন কতটা বিভৎষভাবে হত্যা করা যায়। আমাদের মূল আস্ত্র হবে আমাদের দেহ; কারন একটা মানুষ যখন আমাদের দেখবে সে আতঙ্কিত হয়ে পড়বে। পরের অংশটুকু তখন আরও সহজ হয়ে পড়বে। কারন তখন সেই মানুষটির উপর ঝাপিয়ে পড়ে মূল ভেনগুলো কেটে দিতে হবে, সেই সাথে মুখে ছুড়ে দিতে হবে গাঢ় সালফিউরিক এসিড। আমাদের দেহে একটা নির্দিষ্ট হরমন প্রবেশ করিয়ে দেয়া হবে ফলে, আমাদের মুখের লালাটা রাসায়নিকভাবে সালফিউরিক এসিডে রুপান্তরিত হবে। এরপরও ট্রেনার কি যেন বলতে থাকে, শব্দগুলো আমার কানে এসে পৌছুলেও মস্তিস্কে পৌছাচ্ছিলনা। কিছুদিনের মাঝে আমাদের ফিজিক্যাল ট্রেনিং শুরু হয়ে গেল। আমাদের খাবারে নিশ্চয় কোন হরমন দেয়া থাকে, কারন আমি স্পষ্ট বুঝতে পারছিলাম আমার দেহ কাঠামো অনেক বড় হয়ে গেছে। ব্যাপারটা নিয়ে বোধহয় শুধু আমারই মাথা ব্যাথা, কারন এ ব্যাপারটা অন্য টি-এ্যান্ট-রা যেন বুঝতেই পারছেনা যে তাদের দেহ স্বাভাবিকের তুলনায় কয়েক লক্ষ্যগুন বেড়ে গেছে। টি-এ্যাট-টু এর সাথে এনিয়ে কথা বলতে গিয়ে বুঝলাম অন্যরা ব্যাপারটা বেশ উপভোগ করছে। আমাদের আর কয়েকদিনের মাঝে যুদ্ধে নামিয়ে দেয়া হবে।

৬.
আমি টিভির সামনে বসে আছি, কিন্তু টিভিতে ঠিক মন নেই। আমার পাসে বসে টি-এ্যান্ট-টু টিভিতে প্রদর্শিত যুদ্ধ দেখছে। পৃথিবীতে এখন মানুষ হাতে গনা যায়। এই কয়েকজন মানুষ একটা দ্বিপে আশ্রয় নিয়েছে। এরা বোধহয় খুব সাহসী, আধিকাংশই যুবক সবাই মিলে দ্বিপটাকে একটা দূর্ভেদ্য দূর্গে রুপান্তরিত করেছে। এই দ্বিপটাতে আমাদের এটা পাঁচ নম্বার মিশন, এর আগের সব গুলি মিশন ব্যার্থ হয়েছে ফলে যখন একটা মানুষ মারা যাচ্ছে সবাই একসাথে উচ্ছাসে মেতে উঠছে। এই যুবকগুলো আমাদের যোদ্ধাদের ঠেকিয়ে রাখতে আগুন ব্যাবহার করছে, তার উপরে ওরা আছে একটা পাথুরে দ্বিপে। সব দিক থেকে ওরা সুবিদাযনক অবস্থানে আছে। তারপরও আমার এতদিনের অভিগতা থেকে বুঝতে পারছি ওরা খুববেশি হলে দুই দিন টিকতে পারবে। আমি টি-এ্যান্ট-টু কে বললাম, “টি-টু চল, যুদ্ধ শেষের পর্যয়ে, আমাকে একটা গুরুত্বপূর্ন কাজ করতে হবে।”(আমাদের সম্পর্ক এমন হয়েছে যে, এখন আমি টি-এ্যান্ট-টু কে সুধু টি-টু বলি)
“গুরুত্বপূর্ন কাজ! কি কাজ?” টি-টু বোধহয় একটু বিরক্ত-ই হল।
“আমি জানি না।”
“তুমি এত বড় হয়ে গেছ, আমাদের নেতা হয়েছ অথচ তোমার হেয়ালিপনা গেলনা।”
“কি বলতে চাও তুমি?”
“আমি কি বলতে চাই, তা তুমি জান। এখন বল তুমি কি করতে চাও। বন্ধু হলেও তুমি আমাদের নেতা, তোমার কথাতো শুনতেই হবে।” টি-টুর কথাশুনেই বুঝলাম সে খেপেছে। অন্য টি-এ্যান্টরা আমার মত না, তারা যুদ্ধ দেখতে ভালবাসে।
“যুদ্ধক্ষেত্রে যেতে চাই।”
টি-টু চিৎকার করতে গিয়ে থেমে গেল,“আগে বলবেতো যুদ্ধক্ষেত্রে যেতে চাও, টিভি সেটে যুদ্ধ দেখার চেয়ে সামনা সামনি দেখতে আরও মজা। চল যাই।”
আমরা যখন যুদ্ধক্ষেত্রে এসে পৌছলাম তখন সেখানে তান্ডবলীলা চলছে। একজন ক্যাপ্টেন এগিয়ে এসে স্যালুট করে বলল,“স্যার আমরা আর কয়েক ঘন্টার মাঝে, এলাকার সকল মানুষকে হত্যা করতে সমর্থ হব।”
টি-টু বলল,“আরও একঘন্টা?”
ক্যাপ্টেন বলল,“আসলে স্যার ঐ বড় বাড়িটাতে দুইটি ফ্যামেলি অবস্থান নিয়েছে। তারা সুবিধাজনক অবস্থানে আছে। এবং সুবিধাটুকু পুরোপুরি গ্রহন করছে। ১২ জনের একটা কমান্ডো বাড়িতে প্রবেশ করার চেষ্টা করছে। আপনি বললে ওদের সংখ্যা বৃদ্ধি করতে পারি।”
আমি বললাম,“তার আর দরকার নেই, আমরা কমান্ডো বাহিনীর সাথে ভিতরে প্রবেশ করব।”
ক্যাপ্টেন, “ইয়েস স্যার।” বলে চলে যাবার পরে টি-টু অবাক হয়ে বলল,“তুমি সরাসরি কখনও যুদ্ধে অংশ গ্রহন করনি, আর আজ এই বয়সে যুদ্ধ করবে কিভাবে।”
“আমি যুদ্ধ করব কখন বললাম, বলেছি ভেতরে প্রবেশ করব।”
কিছুক্ষনের মাঝে আমি আর টি-টু কমান্ডো বাহিনীর সাথে যোগ দিলাম। আমাদের যোগ দিতে নিশেধ করে যখন পারলনা তখন ক্যাপ্টেনও আমাদের সাথে যোগ দিল। সবমিলিয়ে ১৫ জন প্রায় ১৫ মিনিটের মাথায় বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করলাম। ঘরের ভেতরে ৪ জন মানুষের লাশ তিনজন পুরুষ একজন মহিলা, আরেকজন মহিলা গুরুতর আহত হয়ে বিছানার উপরে বসে আছে, তার বুকে জড়িয়ে আছে দুটি দুই বছরের শিশু। কিছু বুঝে উঠার আগেই একজন কমান্ডো মহিলাটির ঠিক মুখে এসিড ছুড়ে দিল, আর আরেক জন এই সুযগে মহিলার বুকে প্রিটারসাস (পিঁপড়ের পায়ের সর্বশেষ খন্ড) ঢুকায়ে দিল। আমি চিৎকার করে উঠলাম,“না।” কিন্তু ততক্ষনে যা হবার হয়ে গেছে। মহিলাটা পঞ্চম লাশে পরিনত হয়েছে। শিশুদুটি তখনও মহিলাটিকে জড়িয়ে ধরে আছে। আমি এগিয়ে জেতে তারা ভয় পেয়ে কাদতে শুরু করল। সবার আপত্তি সর্তেও ওদের নিয়ে এলাম আমাদের কলনিতে। বাচ্চাদুটির এখন বোধহয় ভয় কেটে গেছে। কারন দেখলাম টি-টুর সাথে বেশ খেলায় মেতে গেছে। রাতে যখন মিটিং শুরু হল তখন সেখানে প্রচন্ডো বিতর্কের ঝড় বয়ে গেল। সবারই একটাই আপত্তি,“মানব প্রজাতী ধংশের ¯ী^দ্ধান্ত যখন বহুদিন পূর্বে নেয়া হয়ে গেছে তবে আজ কেন বাচ্চা দুটিকে বাচিয়ে রাখার কথা বলছি।” তাদের প্রশ্নের কোন উত্তর দিতে পালাম না। তবু আমার একক সিদ্ধান্তে বাচ্চাদুটিকে বাচিয়ে রাখার ব্যাবস্থা করা হল।


৭.
টি-টু আমার পাশে এসে দাড়াল। কিছুক্ষন আমার মুখের দিকে তাকিয়ে থেকে বলল,“বোধহয় তোমাকে আমি কখনই বুঝতে পারব না। যখনই ভাবি তুমি আমাদেরই একজন......একজন সত্যিকার টি-এ্যান্ট, তখননি এমন কিছু কর যে, মনে হয় তোমার সাথে আজই.... এইতো কিছুক্ষন পূর্বে পরিচয় হল।” আমি টি-টুর দিকে তাকালাম, সে বলল,“তুমি এমনটা করলে কেন?” আমি নিঃশ্চুপ দাড়িয়ে থাকলাম সে আবার শুরু করল,“জান তোমার এই সিদ্ধান্তের ফলাফল কি হতে পারে?”
“আমি জানি না। সত্য কথা বলতে কি জানতেও চাইনা। মানুষের কারনে পৃথিবী থেকে অনেক প্রজাতী বিলুপ্ত হয়েছে, কারন ওরা নির্বোধ ছিল। তুমি কি চাও আমরাও মানুষের মত নির্বোধ হই। পৃথিবী থেকে একটি প্রজাতী সম্পুর্ন বিলুপ্ত করে দিই। বিশেষকরে যখন তাদের একটা বুদ্ধিমত্তা আছে। হোকনা সেটা অপরিনত, যে কারনে তারা নিজেদের মাঝে মারামারি করে। বাচ্চা দুটিকে দেখেছ, একজন ছেলে, অপরজন মেয়ে। তারমানে আমরা প্রজাতীটিকে এখনও বাচিয়ে রাখতে পারি। তারা আবার নতুন করে সভ্যতা গড়ে তুলবে, সত্যিকার সভ্যতা। বর্তমানটার মত অপসভ্যতা নয়। তারা এখন প্রকৃতির পাশাপাশি বাচতে শিখবে।”
“মানুষের পূর্বপুরুষও কিন্তু প্রকৃতির খুব কাছকাছিই ছিল।” টি-টু কি বলতে চাচ্ছে আমি বুঝতে পারছি, তাই প্রশঙ্গ পাল্টালাম,“আচ্ছা বাচ্চাদুটির কি নাম রাা যায়।”
“ওদের নামতো আমাদের মত হতে পারেনা।”
“ইভ এবং মানব নামদুটি কেমন হবে?”
“ভাল কিন্তু এমন নাম কেন?”
“মানুষ বিশ্বাস করত তাদের পূর্ব পুরুষ ছিলেন ইভ এবং আদম, সেখান থেকে একটু চেঞ্জ করলাম আরকি।”

--------------------------------------------------------------------

আমি জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে আছি। ইভ ও মানব অনেক বড় হয়েছে, ওরা বাইরে খেলা করছে। আমি ওদের দেখছি, মানব খেলার ছলে একটি পাখির বাসা ভেঙ্গে ফেলল, বাসার ডিম দুটি নষ্ট করে দিল। আমি দীর্ঘশ্বাস ফেললাম......... ‘মানুষ বোধহয় চিরকালই এমনই, অন্যকে কষ্ট দিয়ে মজা পায়। ধংশ করে মজা পায়।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ১০:৩১
১১টি মন্তব্য ১১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×