somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বান্দরবানে পাহাড়ের অপরূপ রূপ

০৯ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১২:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বান্দরবানের পাহাড় ও প্রকৃতির নয়নাভিরাম সৌন্দর্য দেখার লোভ ছিল অনেকদিনের। সে অনুযায়ী প্রস্তুতিও নেয়া ছিল। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২৫ সেপ্টেম্বর রাত ১২টায় হাজির হলাম ঢাকার আরামবাগের সোহাগ পরিবহনের ভলবো কাউন্টারে। দলে আমি ও নোঙর টুরিজমের গাইড কামরুল ভাই ছাড়াও আরো ১০ জন। তাদের মধ্যে ছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ চিকিৎসক দম্পতি এবং তাদের ২ মেয়ে। বাস ছাড়ল সাড়ে ১২টায়। একবার যাত্রা বিরতি শেষে ভোর ৭টায় চট্টগ্রাম পৌঁছলাম। ঢাকা থেকে সরাসরি বান্দরবানের গাড়ি থাকলেও আমরা বিশ্রামের জন্য চট্টগ্রাম থামলাম। চট্টগ্রাম থেকে মাইক্রোবাসে করে বান্দরবান যেতে সময় লাগবে সর্বোচ্চ দুই ঘণ্টা। মাইক্রোবাসে চড়ে সবুজ পাহাড় পাশ কাটিয়ে সকাল ৯টার মধ্যে পৌঁছে গেলাম বান্দরবানের অন্যতম পর্যটন স্পট মেঘলায়। এখান থেকে বান্দরবান শহর ৪ কিলোমিটার দূরে। আমাদের থাকার ব্যবস্থা ছিল মেঘলার বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের মোটেলে। রুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে মোটেলের রেস্টুরেন্টে গেলাম সবাই। এরমধ্যেই গাড়ি (স্থানীয় ভাষায় চাঁন্দের গাড়ি) এসে পৌঁছেছে। গাইড কামরুল ভাই জানালেন, প্রথমদিন আমরা দেখবো নীলগিরি, চিম্বুক ও শৈলপ্রপাত। মোটেল থেকে নীলগিরির দূরত্ব ৪৯ কিলোমিটার, সমতল থেকে প্রায় ২ হাজার ২শ ফুট উঁচুতে। নীলগিরির উদ্দেশে আঁকাবাঁকা, উঁচু-নিচু পথ ধরে গাড়ি ছুটে চলার সময় নজরে এলো শৈলপ্রপাত ও চিম্বুক। রাস্তার দুপাশে যতদূর চোখ যায় শুধু পাহাড় আর পাহাড়। এ যেন ভয়ংকর সৌন্দর্যের এক অপার সমারোহ। সত্যিই, আমাদের দেশটা যে অপরূপ সুন্দরের আধার- তার প্রমাণ মিলল আবারো। চান্দের গাড়ি কখনোবা রাস্তা ধরে পাহাড়ের উপরে উঠছে, আবার কখনোবা নামছে। আড়াই ঘণ্টার জার্নি শেষে আমরা নীলগিরি পৌঁছলাম। সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে এখানে একটি রেস্টুরেন্টও পাওয়া গেল। দেখা মিলল আমাদের মতো আরো অনেক পর্যটকের।

এরমধ্যেই আমার সঙ্গে থাকা ডাক্তার দম্পতিরা ব্যস্ত হয়ে পড়লেন ছবি তোলা নিয়ে। এমন নয়নাভিরাম স্থানে তাদের পদচিহ্নের স্মৃতি থাকবে না তা কি হয় কখনো? কামরুল ভাই নীলগিরি সম্পর্কে আমাদের ছোট্ট করে বিফ্রিং দিলেন। নীলগিরির একপাশে মিয়ানমার, অন্যপাশে দাঁড়ালে বঙ্গোপসাগর দেখা যায়। নীলগিরির পেছনে সাঙ্গু নদী। সবই হলো কিন্তু বৃষ্টি না থাকায় আমাদের মেঘ ছোঁয়া হলো না।

দুঘণ্টা নীলগিরি দেখে এবার চিম্বুক যাওয়ার পালা। এখান থেকে চিম্বুকের দূরত্ব ১৮ কিলোমিটার। চিম্বুকে বেশিক্ষণ ছিলাম না। রওনা দিলাম শৈলপ্রপাতের উদ্দেশে। পর্যটকদের কেউই শৈলপ্রপাতের ঠাণ্ডা পানিতে গা ভেজাতে ভুল করছেন না। শৈলপ্রপাতে অনেকক্ষণ কাটিয়ে পড়ন্ত বিকালে মোটেলে ফিরলাম।

সন্ধ্যার পর মোটেলের ছাদে সবাই মিলে জমিয়ে আড্ডা দিলাম। মজার বিষয় হচ্ছে, আমাদের ক্ষুদে সফরসঙ্গী ১২ বছরের নুহা ও ২ বছরের নীলাদ্রি এরমধ্যেই বাংলাদেশের প্রায় সব দর্শনীয় স্থান দেখে ফেলেছে।

পরদিন গেলাম মোটেলের পাশেই অবস্থিত মেঘলা পর্যটন স্পটে। প্রায় আড়াই ঘণ্টা লেগে গেল পুরো পর্যটন স্পটটির লেক, দুটি ঝুলন্ত সেতু, সাফারি পার্ক ও বান্দরবান চিড়িয়াখানা ঘুরে দেখতে। দুপুরের পর রওনা দিলাম স্বর্ণমন্দির ও নীলাচলের উদ্দেশে। যথাসময়ে চান্দের গাড়িতে চড়ে সবাই রওনা দিলাম এবং আধঘণ্টার মধ্যেই পৌঁছে গেলাম স্বর্ণমন্দিরে। ১০ টাকার টিকিট কেটে বিকাল ৪টা থেকে ৬টা পর্যন্ত স্বর্ণমন্দির ঘুরে দেখতে পারে যে কেউ। এ বৌদ্ধমন্দিরটির রঙ সোনালি হওয়ায় মন্দিরের নাম স্বর্ণমন্দির। পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত এ মন্দিরের বাহারি নকশা ও রূপ দেখে বিমোহিত হবেন যে কেউ। মন্দির প্রাঙ্গণ থেকে পুরো বান্দরবান শহর নজরে এলো।

মন্দির দেখা শেষে রওনা দিলাম নীলাচলের উদ্দেশে। স্বর্ণমন্দির থেকে নীলাচল ২০ মিনিটের পথ। সমতল থেকে ১ হাজার ৮শ ফুট উপরে অবস্থিত নীলাচলে গিয়ে প্রকৃতির রূপে মন জুড়িয়ে গেল। সন্ধ্যার আকাশে সূর্য লাল হয়ে ডুবতে শুরু করল আস্তে আস্তে। সূর্য আমাদের ছেড়ে যেতে চাইছিল না, নাকি আমরা সূর্যকে ছেড়ে? প্রশ্নটির উত্তর মিলল না।

ঘোরাঘুরি হলো। এবার নীড়ে ফেরার পালা। আবার ঢাকার সেই যানজট, পানি, গ্যাস, বিদ্যুৎ নানান সমস্যা। ফিরে যেতে হবে বলে সবার বেশ মন খারাপ। তারপরও যেতে হবে। রাতেই গাড়িতে উঠে ঢাকার উদ্দেশে রওনা। বান্দরবানের অপার সৌন্দর্যে স্মৃতি রোমান্থন হয়ে ঢাকায় ফেরা।
ভ্রমণপিয়াসী যে কেউ ঘুরে আসতে পারেন বান্দরবান। সত্যিই দেখার অনেক কিছু আছে। যারা অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমী তারা যেতে পারেন থানচি, বগালেক, তাজিনডং এবং ক্রিওক্রাডং পাহাড়ের মতো স্থানে। এসবই বান্দরবানের আশপাশের এলাকা।


বান্দরবান যাওয়ার কিছু পরামর্শঃ ঢাকার ফকিরাপুল এবং সায়েদাবাদ থেকে বান্দরবানের উদ্দেশ্যে বেশ কয়েকটি পরিবহনের নন-এসি চেয়ার কোচ চলাচল করে। ভাড়া জনপ্রতি ৩৩০-৪০০ টাকা। থাকার জন্য মেঘলার পর্যটন মোটেল ছাড়াও বান্দরবান শহরে রয়েছে ভালোমানের বেশকিছু আবাসিক হোটেল। এসব হোটেলে থাকার খরচ পড়বে ৪০০ থেকে ১৮০০ টাকার মধ্যে। আর খাবার-দাবারের জন্য হোটেলগুলোর পাশেই রয়েছে বিভিন্ন মানের খাবারের রেস্টুরেন্ট। পর্যটন স্পটগুলোতে যাওয়ার জন্য প্রয়োজন হবে জিপ কিংবা চান্দের গাড়ি। স্পট অনুযায়ী এসব গাড়ির ভাড়া পড়বে ১ হাজার ৫শ থেকে ৪ হাজার টাকা। খরচ কমাতে তাই দল বেধেই বান্দরবান ভ্রমণে বের হওয়া ভালো।

ছবি: নওরোজ ইমতিয়াজ ও শরীফ ফয়সাল

বিদ্রঃ এই লেখাটি আজকের দৈনিক আমাদের সময় (০৯ অক্টোবর ’০৯) পত্রিকায় ০৬ নং পৃষ্ঠায় প্রকাশিত হয়েছে।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই অক্টোবর, ২০০৯ সকাল ১১:০৩
৪টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×