somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নীতিনির্ধারণ কার্যক্রমে বিশ্বব্যাংক, এডিবি এবং আইএমএফ-এর অনৈতিক হস্তক্ষেপ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দূর্বল করছে

০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০০৯ দুপুর ১২:৩৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

নীতিনির্ধারণ কার্যক্রমে বিশ্বব্যাংক, এডিবি এবং আইএমএফ-এর অনৈতিক হস্তক্ষেপ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দূর্বল করছে

রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিশ্বব্যাংক, এডিবি এবং আইএমএফ এর মতো ঋণ প্রদানকারী সংস্থাগুলোর হসত্দক্ষেপ অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সমপ্রতিক বিশ্বব্যাংক সরকারী কর্মকর্তাদের বেতন বৃদ্ধির বিরোধীতা করেছে। একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশের প্রশাসনিক সিদ্ধানত্দের এ ধরনের বিরোধীতা বা হসত্দক্ষেপ একটি আনত্দর্জাতিক সংস্থার কোনভাবেই উচিত নয়। পৃথিবীর অন্যান্য দেশে এ ধরনের সংস্থাগুলোর কার্যক্রম কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হলেও বাংলাদেশে কতিপয় আমলা, অর্থনীতিবিদ এবং সংগঠনের সহায়তায় সংস্থাগুলোর কার্যক্রম অব্যাহতভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমান সরকারে সময় এই ঋণ প্রদানকারী সংস্থাগুলো খবরদারি এবং হসত্দক্ষেপে আরো প্রসারিত এবং নগ্নরূপ ধারণ করেছে।

দেশের জাতীয় সংসদ হতে সরকারের প্রায় প্রতিটি মন্ত্রণালয়ে প্রকল্প নাম দুণীতি ও অর্থ অপচয় মূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে সরকারের নীতি ও কার্যক্রমকে প্রভাবিত করছে এ সংস্থাগুলো। প্রকল্প নিয়োজিত সরকারী কর্মকর্তারা বেতন ও অন্যান্য সুবিধা পাবার লক্ষ্যে এই ঋণপ্রদানকারী সংস্থাগুলোর পরামর্শে অনুসারে সরকারী নীতিপ্রণয়ন এবং বাসত্দবায়নের জন্য অভ্যনত্দরীনভাবে কাজ করে। অপর দিক প্রকল্পের বাইরের কর্মকর্তারা প্রকল্পে কাজ পাবার আশায় এ সকল সংস্থাগুলোর অনৈতিক ও নীতি বর্হিভূত কার্যক্রমের কোন ধরনের প্রতিবাদ করে না।

বিদেশী ব্যক্তি বা রাষ্ট্রদুত বা প্রতিনিধিদের জন্য ভিয়েনা কনভেনশন অনুসরণ হলেও এই সংস্থাগুলো কোন ধরনের নীতি ও আইনের তোয়াক্কা করছে না। বিদেশী নাগরিক বা সংস্থার সুবিধা ভোগ করেও, লঙ্গন করছে আইন। অর্থনীতিক পরামর্শের দোহাই দিয়ে দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি, পরিবেশ, সংস্কৃতিক সর্বক্ষেত্রেই তারা হসত্দক্ষেপ করছে। এই ঋণ প্রদানকারী সংস্থাগুলোর হসত্দক্ষেপ দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বকে চ্যালেঞ্জ করছে। যদি এ সংস্থাগুলোর পরামর্শে দেশ পরিচালিত হবে তবে জাতীয় সংসদের ভূমিকা ও কার্যকারিতার প্রশ্ন বিদ্ধ হবে। দেশের সংরক্ষিত বিভাগে এ সকল বিদেশী সংস্থার নীতি প্রণয়ন বা প্রভাবক প্রকল্প বন্ধ করা উচিত। সেই সাথে নীতিগ্রহণ সংক্রানত্দ কোন কার্যক্রমে তাদের অংশগ্রহণ নিরুৎসাহিত ও সংরক্ষিত করা প্রয়োজন।

যে সকল কর্মকর্তা ও কথিত অর্থনীতিবিদ এই সকল সংস্থার আনুগত্য, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার স্বার্থে তাদের বর্জন করা উচিত। জনগনের সামনে এই ব্যক্তিগুলোর আসল চরিত্র তুলে ধরা প্রয়োজন। তাহলে এভাবেই দেশের শক্রু মিত্র এক বড় অংশ চিহ্নিত করা হয়ে যাবে। একটি সহজ পদ্ধতি হচ্ছে বিগত দিনের রাষ্ট্রীয় সম্পদ বিদেশী বেনিয়াদের হাতে চলে গেছে, এ সকল সম্পদের মূল দায়িত্ব বা পরামর্শে করা ছিলেন তাদের চিহ্নিত করা সম্ভব হলেই ঋণপ্রদানকারী সংস্থার চটুকারদের খুজে বের করা সম্ভব।

ঋণপ্রদানকারী সংস্থাগুলো সরকারের অধীন হলেও একের পর এক শিষ্টাচার বর্হিভুত কার্যক্রম করলেও তা নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে সরকারের কোন ধরনের পদক্ষেপ এখনো পরিলক্ষিত হয়নি। বর্তমান সময়ে রাজনৈতিক সরকার না থাকায় তাদের কার্যকলাপ, স্বেচ্ছাচারিতা এবং নীতিগত বিষয়ে হসত্দক্ষেপ অনিয়ন্ত্রিত পর্যায়ে পৌছেছে। অনেক ক্ষেত্রেই দেশের নীতিনির্ধরনী বিষয়ে কথা বলছে যা কুটনৈতিক শিষ্টাচার বর্হিভুত। রাষ্ট্রের সংবিধান ও সংসদের নির্দিষ্ট নীতি প্রণয়নের বিধান থাকলেও তাদের প্ররোচনায় অনেক নীতি ও সিদ্ধানত্দ গৃহীত হয় সংসদকে পাশ কাটিয়ে।

দূনীতির দোহাই তুলে রাজনীতিবিদের কোনঠাসা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে কোম্পানিতে রূপানত্দরের পরিকল্পনা মূল হোতা এই সংস্থাগুলো নিজে দূনীতিমুক্ত কি না তা অনেকেরই প্রশ্ন। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর দূনীতি নিয়ে এই সংস্থাগুলো নিয়মিত তথ্য পরিবেশ করে বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে তৈরিতে সহায়ক ভূমিকা পালণ করে বলে অনেকেই অভিযোগ করেন। বিগত দিনে মোবাইল কোম্পানিগুলোর অতিরিক্ত বিল, ভিওআইপির মাধ্যমে দুনীতি, নাইকো, অক্সিডেন্টাল, এশিয়া এনার্জির মতো কোম্পানিগুলোর অনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিধ্বংশী কার্যকলাপে এই ঋণপ্রদানকারী সংস্থা ও তাদের সহযোগী দূনীতি বিরোধী সংগঠনগুলো নিরবতার ভূমিকা পালণ করেছে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সরকারী কর্মকর্তর্াদের বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে এই প্রতিষ্ঠানগুলো সরব ভূমিকা পালণ করলেও বেসরকারী প্রতিষ্ঠান বিশেষ করে বিদেশী কোম্পানির অনৈতিক কার্যক্রমে নিরবতা মাধ্যমে প্রত্যক্ষভাবে সমর্থন যুগিয়ে আসছে। সরকার কি এ ব্যাপারে কোন উদ্যোগ গ্রহণ করবেন? বিষয়টি সম্পর্কে পরিস্কার হওয়া দরকার।

সমপ্রতিক শেভরন কোম্পানি লাউয়াছড়ায় অনুসন্ধানের নামে পরিবেশ বিধ্বংশী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে এই সংস্থাগুলোর কার্যক্রম নিরব। বিগত দিনে এ সকল সংস্থাগুলোর প্রত্যক্ষ পরামর্শে পাটখাত, বিদুৎ, যোগাযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ, অর্থনীতি এবং শিল্পখাতে বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়েছে। অপর দিকে এই সকল খাতে বিদেশী কোম্পানিগুলোর ব্যবসা সৃষ্টি হয়েছে এবং দেশের মানুষকে জিমি্ন করা হয়। অনেক বিশেষ্জ মতে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর নীতিনির্ধারনে অংশগ্রহনের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংশ এবং বেসরকারী বিদেশী কোম্পানিগুলোর ব্যবসার পরিবেশ সৃষ্টি করা এই সংস্থাগুলোর অন্যতম কার্যক্রম। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে সুকৌশলে অকার্যকর প্রমানের অনৈতিক কার্যক্রম করে থাকে এ সংস্থাগুলো।

সমপ্রতিক এ সংস্থাগুলোর অপচেষ্টায় ক্ষেত্র বাংলাদেশ রেলওয়ে বলে অনেকেই শংকা প্রকাশ করেছে। রেলওয়েকে কোম্পানিতে রূপানত্দর এবং বিদেশী কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়ার লক্ষ্যে এডিবি একটি প্রকল্প পরিচালিত হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় একটি প্রতিষ্ঠানে এধরনের প্রকল্প পরিচালিত হলেও এ প্রকল্পের কার্যক্রম সম্পর্কে জনসাধারনের কাছে কোন ধরনের তথ্য নেই। অপর দিকে এই কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় ঋণ প্রদানের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় স্বাস্থ্যখাতে বেসরকারী করার ভিন্ন ভিন্ন প্রচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে বিশ্বব্যাংক। এই কাজের সহায়কা হিসেবে তারা দেশের কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় এনজিওকে ব্যবহার করছে। ঋণ প্রদানের উন্নত সংস্করণ বিদেশী বিনিয়োগ বৃদ্ধির প্রচেষ্টাকে উৎসাহিত করতে গিয়ে রাষ্ট্রীয় শিল্প, বিদুৎ, শিক্ষা, স্বাস্থ্যখাতে আরাজগতার সৃষ্টি করছে।

দেশের সংবিধান, সংসদ, রাজনীতির প্রতি বিদ্বেশী মনোভাব সৃষ্টি করে দেশের নীতিনির্ধারনে প্রভাব বিসত্দারের অশুভ কার্যক্রমের লিপ্ত হয়েছে এই সংস্থাগুলো। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দেশের সংরক্ষিত বিভাগে এ সকল সংস্থাগুলোর প্রকল্প বন্ধ এবং সংস্থাগুলোর কার্যক্রমে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি ।
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এমন কেন?

লিখেছেন তাই-ফি, ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:৪৪

একটা গল্প দিয়ে শুরু করা যাক।

শেষ বিচারের পর নরকে শাস্তি ভোগ করছে পাপীরা। বিশাল বিশাল তেলের ড্রামে তাদের একবার ডুবিয়ে আবার ভাসিয়ে তোলা হচ্ছে। প্রতিটি ড্রামের সামনে একজন করে পাহারাদার... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×