শাহাদাৎ তৈয়ব
১.
আমি প্রতিমুহূর্তে এক আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে থাকি
বড়ো দীর্ঘকাল ধরে দাঁড়াবার এক প্রাণান্ত ইতিহাস
দুনিয়ার জানা অজানা সমস্ত চিহ্নই আয়নার মধ্যে সাঁতার কাটে
সাঁতার কাটে অধরাকে ধরবার বিপুল আকুতি আমার
কেবল আকুতি নয় সময়ের অধিক এক দায় বলে
ঋণ বলে
মুহূর্তের খাঁচায় আমি আটকে পড়লাম
পড়ে পড়ে বারবার আয়নার সামনে দাঁড়াই
আয়না আর সময় এক রকম বলে
অথবা খাঁচা আর মুহূর্ত এক হুকুম বলে
আয়নার মধ্যে দায়শোধের আমার হরফমালা এঁকে যাই
আয়নাই কেবল আমার নিয়তির পায়ে মাথা নোয়াবার সুদীর্ঘ পথ
আয়নাই কেবল আমার পূর্ণতার অথৈ রহস্য
যুগ যুগ ধরে এই আয়নার সামনে আমি
তাকালেই দেখি এখন অন্য এক ছবি ভেসে ওঠে
ভেসে ওঠে আকাশ পাতাল অসংখ্য ফারাক
কোথাও আর ফাঁক নেই যেখানে উঁকি দিলে দেখা যাবে
মানুষের মুখ
তবু বারবার এগিয়ে যাই
যতই এগিয়ে যাই
এ আমার ছবি এ আমার জীবন
আয়নার সেই ছবির মতো হয়ে উঠছে
আমি উত্তরে, দক্ষিণে, পূর্বে, পশ্চিমে যেখানেই দাঁড়াই
দেখিনা গন্ধ আমার, নিজের ছায়া, নিজের ভাষা
আমি শুধু
আয়নায় মিশে থাকা সেই ছবিতেই
ক্রমাগত তলিয়ে যাচ্ছি
হারিয়ে যাচ্ছি।
২.
যে জগত গিলে ফেলছে রূহের নীলিমা
যে বর্তমান ঘিরে রাখছে আয়না এবং সময়ের চারসীমা
আকাশে জমিনে গোপনে প্রকাশ্যে তার নুন আর নুন
জাহেরী বাতেনী সবখানে তার মহাপরাক্রমশালী নুন
লোহার চেয়ে কঠিন হলেও অনায়াসেই তাতে গলে যেতে হয়
গলে যেতে হয় মগজের তামাম রসায়ন
গলে গলে দিনবাত আমি খুন হলেও
খুন হয়নি নির্জীব বীর্য আর গুপ্ত নি:শ্বাস।
তবে বীর্যে, রসে, বাতাসে আমার-
মনে রেখো, গলে পড়বে একইরকম,
নুনের ইতিহাস।
প্রভু আমায় পানি দাও-বীর্যরস,
দাও বাতাস -বায়ুর পরশ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

