রাখে আল্লাহ মারে কে
২২ শে জুলাই, ২০০৮ দুপুর ১:৪৭
খুব ছোট বেলায় এই শিরোনামে বেশ কিছু ঘটনা পড়েছিলাম। যেখানে অদ্ভুত ভাবে প্রাণে বেঁচে যাওয়া কিছু মানুষের ঘটনা ছিল। পাঠক, ভয় পাবেন না, আমি তাদের কথা বলতে বসিনি। আমি আমার কথাই বলব।
যত কষ্টই হোক (বেশি সকালে উঠতে, সবার আগে গাড়িতে উঠে প্রত্যেকের বাড়ির সামনে দাড়িয়ে ওয়েট করে সবাইকে তুলতে, আবার যাবার সময় গাড়িতে বসে বাকিদের জন্য অপেক্ষা করতে) আমি অফিসের গাড়িতেই অফিসে যাওয়া আসা করি। সি এন জি বা ক্যাবে একা চলাচল করা নিরাপদ নয়, ভাড়াও অনেক বেশি চায়, ঘন্টার পর ঘন্টা দাড়িয়ে থাকতে হয় যদি কেউ রাজি হয় গন্তব্যে যেতে। রিক্সা সব রাস্তায় চলে না। আবার শক্ত, ঢালু সিটে বসে এক ঘন্টার উপর থাকাটাও আমার জন্য কষ্টকর।
কালও গাড়িতে ফিরছিলাম। বাড্ডার রাস্তায় হল্যান্ড সেন্টারের সামনে গাড়ি ইউ টার্ন নেয়ার সময় রাস্তা উল্টা দিকের রাস্তা ফাকাই ছিল। তবে আমি দেখতে পাচ্চিলাম, দুর থেকে একটা বাস খুব দ্রুত গতিতে আসছে। যার বাড্ডা-রামপুরা রাস্তায় চলাচল করেন তারা যানেন এই রাস্তায় মানুষকে রোড ক্রস করতে হলেও অনেকক্ষন দাড়িয়ে থাকতে হয়। রাস্তায় ছুটির দিনে জ্যাম থাকে। যানবাহন গুলো একটু ফাকা পেলেই মাথে ঢুকিয়ে দিয়ে নিজের জায়গা করে নেয়।
যাই হোক, যা মনে হলো স্বভাবত:ই গাড়ির ড্রাইভাব ভাবল তাকে দেখে ঐ বাস গতি কমাবে। বাস ড্রাইভার হয়তো ভাবল তার বাসের গতি দেখে আমাদের গাড়ি ব্রেক কষবে। কিন্তু বাস্তব হলো মানুষ কেউ কারো মনের কথা পড়তে পারে না। তাই দুটোই নিজের মতোন চলতে লাগল। শেষ মুহূর্তে আমাদের ড্রাইভার বুঝল, সংঘাত অবশ্যম্ভাবি। সে গতি কমালো, কিন্তু পিছালো না, রাস্তার বেশির ভাগ দখল করে আস্তে আস্তে ঘুরাতে লাগল, আর সেই সময় বাসও বাধ্য হয়ে হার্ড ব্রেক কষল। বাস সজোরে আঘাত করলো আমাদের গাড়ির সামনের বাঁ দিকের কাঁচে। বাসের কিছু হলো না, ট্যাপ খেলেও বোঝের উপায় নেই, আগে থেকেই অনেক ট্যাপ খেয়ে আছে। গাড়ির একটা পাশ চ্যাপটা হয়ে গেল। তবে সামান্য।
আমি স্তব্ধ হয়ে গেলাম। কোন কারনে ড্রাইভার আরেকটু পরে ব্রেক কষলে বা আমাদের গাড়ি স্পিডে ঘুরতে থাকলে বাস সরাসরি আমি যে দিকে বসে আছি সেখানে আঘাত করত। তারপরে কি হতে পারত সেটা পরের কথা। একবার ভাবলাম সামহোয়্যার আউটকে ফোন করে বলি কি হয়েছে। তারপর মনে হলো যদি ফোন করি তাহলে ও আরো চিন্তায় পড়ে যাবে। ওর তখন অফিস থেকে বের হবার সময়। বেচারা দুশ্চিন্তায় বাসে উঠতে গিয়ে আবার কোন কান্ড করে। তাই আর ফোন করলাম না।
লেখক বলেছেন: ভাল আছি যতদূর সম্ভব।
লেখক বলেছেন: জি আমার আর ড্রাইভারের কিছু হয়নি।
কৌশিক বলেছেন:
ড্রাইভারটারে একটা কানমলা দেন
লেখক বলেছেন: আমার হয়ে আপনিই না হয়..।
নিশীথ রাতের বাদলধারা বলেছেন:
আসলেই!
সবসময় আল্লাহ আপনার সহায় থাকুন।
আপনার সামহোয়ার আউট যেন কখনো দুশ্চিন্তায় না পড়ে।
লেখক বলেছেন: আমিন।
লেখক বলেছেন: ঠিক আছি আমি।
সেকেতুরে বলেছেন:
রাখে আল্লাহ মারে কে? মারে আল্লাহ ঠেকায় কে?। সত্যিই আপনি অনেক বড় বিপদ হতে বেচে গেলেন। আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করবেন। আর গাড়ী চালককে কখনও দ্রুত চালাতে উৎসাহ দিবেন না প্লিজ!।ভালো থাকবেন।.....................
লেখক বলেছেন: শুকরিয়া আদায় করছি।
লেখক বলেছেন: আচ্ছা।
কৌশিক বলেছেন:
ধোলাই না দিলে পরে একটা এক্সিডেন্টই করে ফেলবে।
লেখক বলেছেন: হমম। এ্যাকসিডেন্টের পর বেশ সাবধানে চালাচ্ছিল। দেখা যাক কতদিন মনে রাখে।
মদন বলেছেন:
আল্লাহর শুকরিয়া, আপনি জীবিত এবং সুস্থ্য আছেন।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
ইলা বলেছেন:
সুবহান আল্লাহ। আলহামদুলিল্রাহ! দু` রাকাত শুকরিয়া নামায পড়েন। খারাপ কিছু হয়েগেলে আজ আমাদের মাঝে আপনাকে সুস্থ্য নাও পেতে পারতাম। সব সময় ড্রাইভারকে গতি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখতে এবং আেস্ত আস্তে চালাতে বলবেন। লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। আস্তে বা ধীরে চালাতে প্রায়ই বলি, কারণ ঝাকুনি আমার সহ্য হয় না। সাধারনত: সাবধানেই চালায়।
নিবিড় অভ্র বলেছেন:
হুমমমমমম
লেখক বলেছেন: হমম
নতুন বলেছেন:
বঝেছি আপনার নতুন ড্রাইভার দরকার... এই ড্রাইভারটা কে নিয়োগ দিতে পারেন... খুব পাকা ড্রাইভার>>
লেখক বলেছেন: পছন্দ হয়েছে।
নুর হাসান মুহাম্মদ তানভীর বলেছেন:
শুনে খুবই খারাপ লাগল, যাক আল্লাহর রহমতে কিছু হইনি ।ড্রাইভারা একটু ধর্য কম থাকে । আশা করি ড্রইভার আর্র এমন করবে না ।
লেখক বলেছেন: আমিও আশা করি...
বুমবুম বলেছেন:
ড্রাইভার রে মাইনাচ
লেখক বলেছেন: কোন ড্রাইভার?
চাচামিঞা বলেছেন:
খুব ভালো লাগলো, আপনার কিছু হয় নাই যেনে। আসলে যেই রাস্তাটার কথা বলছেন, সেখানে সরকার আছে, বা কোনদিন ছিলো বলে মনে হয় না। আমার শশুর বাড়ী রামপুরা। আমি পারত পক্ষে সেখানে যাই না এই ট্রাফিক অব্যবস্হার কারনে।বিড়াল ছারা পোস্ট মনেহয় প্রথম দেখলাম। (গাড়ীর পেছনে পুতুলটাকে আমি বিড়াল বলে মানতে রাজি নই।)
আপনার সুস্হতা উপলক্ষে বিড়ালটা উপহার দিলাম
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
ভোরের আলো বলেছেন:
ভাল থাকবেন!
লেখক বলেছেন: আপনিও।
নাজমুল। বলেছেন:
আলহামদুলিল্লাহ।গাড়ীতে সব সময় সিট বেল্ট পরে থাকবেন।দোয়া করি ভাল থাকেন।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
আনিকা বলেছেন:
আলহামদুলিল্লাহ... সাবধানে থাকবেন.. আমাকে ইথার বললো এই ঘটনার কথা, একটু ভয় পেয়েছিলাম.. ভালো থাকেন..
লেখক বলেছেন: ভয় পাবেন না, আমি ঠিক আছি।




















ভালো থাকুন।