somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... শেষ পোস্ট
প্রথম দুটি পোস্টে কাকতালীয় ভাবে বিড়াল চলে আসায় ভাবলাম এটাই হোক আমার ট্রেড মার্ক সব পোস্টেই মডেল হবে বিড়াল। নিজের ব্লগে লেখার সময় অনেক কষ্ট বের করতাম, তাই কমেন্টের উত্তর বা অন্য ব্লগ দেখার সময় সহজে বের করতে পারতাম না।

এবার আসি বর্তমান পরিস্থিতিতে। মনে হচ্ছে আমার লেখা অধিকাংশ ব্লগারের পছন্দ নয়। শুধু তাই নয়, তারা আমার লেখা ব্লগে প্রকাশিত হোক এটাও চাননা। দেখুন ব্লগে আমি কাউকে খুশি করতে আসি না। তবে কেউ কষ্ট পাক এটাও চাইনা। যেহেতু আমার লেখায় অনেকে বিরক্ত হচ্ছেন, সেহেতু আমি মনে করি এখানে আমার আর লেখা উচিত নয়। আমার জন্য ব্লগস্পটই ভাল। নিজের মতো লিখি, যার ভাল লাগে পড়ে যার ভাল লাগেনা পড়েনা।

যদি কেউ কখনও আমার লেখা অল্প হলেও পছন্দ করেছিলেন তো একটাই অনুরোধ, আমাকে আর এখানে লিখতে বলবেন না। কারন আপনাদের অনুরোধ অস্বিকার করতেও আমার খারাপ লাগবে।

তবে শেষ বারের জন্য সবাইকে আরেকটু বিরক্ত করবো। যেহেতু সিলেট যাওয়া নিয়ে ডায়রীর লেখা তুলে দেয়া শুরু করেছিলাম, সেটা শেষ করবো।

পুরানো ডায়রী থেকে তুলে দিচ্ছি। তখন ইউনিভার্সিটিতে পড়তাম, আর এটুকুই লিখেছিলাম, এই ভ্রমনের...

ঐদিন বিকালেই হযরত শাহজালাল (রহ<img src=" style="border:0;" /> মাজারে গেলাম। মাজার চত্বরটা ইট বিছানো। একপাশে মসজিদ। এটা পাহাড় বা টিলার উপরে। ওখানেই মাজার। টিলার নিচে একপাশে মহিলাদের নামাজের ঘর। ওখান থেকে কান্নার শব্দ শুনতে পাচ্ছিলাম। চত্বরে প্রচুর কবুতর। সাদা আর খয়েরি রং রমেশানো। সিফাত আর আব্বা নামাজ পড়ে আসার পর ওজুর জায়গায়র পাশ দিয়ে হেটে পুকুর পাড়ে এসে দাড়ালাম। আব্বা বললেন, কাছিম আছে। কাছিম না দেখলেও কালো পানিতে অনেক মুড়ি ছিটানো দেখলাম। পুকুর পাড়ে বেশ কিছু লোকের ভিড় দেখলাম, কাছিম দেখার জন্য। আমরা এরপর অন্য গেট দিয়ে বের হলাম। এটাই বোধহয় প্রবেশ পথ। কারন রাস্তার দুপাশে নানা রকম দোকান দেখতে পেলাম। বেশির ভাগ দোকানে কদমা, জিলিপি, ঝিনুকের মালা, আয়াতুল কুরসী লেখা বিক্রি হচ্ছিল। এগুলো রাস্তার ঠিক মাঝখানে লাইন করে দাড়ানো ছিল।

আমরা এরপর হযরত শাহপরান (রহ<img src=" style="border:0;" /> মাজারে যাবার জন্য স্কুটার ঠিক করলাম। এটা শহর থেকে বেশ দূরে। যেতে যেতে সন্ধ্যা হয়ে গেল। ওখানে যখন পৌছলাম, তখন সেখানে কারেন্ট ছিল না। দেখলাম মেইন রোড থেকে একটা সরু গলির মতো চলে গিয়েছে। রাস্তাটা বোধহয় মাটির ছিল। রাস্তার দুপাশে আগের মতো দোকান পাট, তবে কারেন্ট না থাকায় মোমবাতি জলছিল। মাজারে পৌছে দেখলাম নিরিবিলি বনের মধ্যে পাহাড়ের উপর মাজার। সন্ধ্যে হয়ে গিয়েছিল, তাই বোধহয় ঠান্ডা লাগছিল। ওখান থেকে হোটেলে ফিরতে ফিরতে রাত হয়ে গিয়েছিল। পরের দিন ঠিক করলাম জাফলং যাব।

(শেষ)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/shahana/29517487 http://www.somewhereinblog.net/blog/shahana/29517487 2012-01-06 19:01:28
সিলেট: হোটেল
বিকালে সিলেটে পৌছলাম। স্টেশনটা ছোট। অবশ্য ঢাকার তুলনায় অন্য সব স্টেশন ছোট মনে হওয়া স্বাভাবিক। স্টেশন থেকে বের হয়ে আব্বা কোন হোটেলে উঠবেন, সেটা নিয়ে স্কুটার ওয়ালার সাথে আলোচনা শুরু করলেন। আব্বার এক সহকর্মী হোটেল শাবান এর নাম বলেছিলেন। আমি এ কারনে এই হোটেলের নাম বললাম। স্কুটার ওয়ালা বলল ভাল হোটেল। আব্বা এটাতেই যাবার জন্য মনোস্থির করলেন। স্টেশন থেকে হোটেলটা বেশ দুরে। যেতে যেতে ক্ষুধায় কাহিল হয়ে পরলাম। হোটেলে পৌছে দেখলাম, এরনাম শাবান নয় শাহবান। আমার আগেই সন্দেহ হয়েছিল নামটা নিয়ে। হোটেল ম্যানেজারকে আব্বা বললেন, আমরা নিরিবিলি পছন্দ করি। ম্যানেজার কি বুঝলেন কি জানে, আমাদের ডিল্যাক্স ৭ এই রুমটা দিলেন, ৫তলায়। উঠতে উঠতে পা ব্যাথা হয়ে যায়। চারদিন এই হোটেলে ছিলাম। রুমে ঢুকে দেখলাম, ছোট একটা রুমে ২টা খাট, একটা ড্রেসিং টেবিল, একটা সোফা, নানা দুটা সিংগেল সোফা, একটি টেবিল। রুম মোটামুটি ভাল। বয়কে ডেকে সাবান আর টিস্যু দিতে বললাম।

(চলবে)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/shahana/29514772 http://www.somewhereinblog.net/blog/shahana/29514772 2012-01-02 14:57:50
সিলেট: ট্রেন
২০শে নভেম্বর ৭:১৫ মিনিটে ঢাকা রেলস্টেশনে এর উদ্দেশ্যে রওনা হলাম। আমি আর আব্বা এক রিক্সায়, অন্যটায় লিটু ভাই (আমার খালাত ভাই) আর সিফাত (আমার ছোট ভাই)। আমাদের ট্রেন পারাবত ৭:৪০ এ ছাড়ার কথা ছিল। ১০ মিনিট আগে স্টেশনে পৌছলাম। এরপর তারাহুরা করে ট্রেনে বসলাম। তবে ট্রেন ছাড়ল ৭:৫০ এ। এর মধ্যে লিটু ভাই তার নতুন সার্টের কাফফারা স্বরুপ এক প্যাকেট চুইংগাম কিনে দিল ফেরিওয়ালার কাছ থেকে (তখন আমাদের মধ্যে এই প্রচলন ছিল, কেও নতুন ড্রেস পরলে, তাকে কিছু খাওয়াতে হতো)।

ট্রেন ছাড়ল, এটাই আমার প্রথম ট্রেন ভ্রমন। প্রথম যখন ধীরে ধীরে ট্রেন চলছিল তখন মনে হলো, হাতির পিঠে বসলে যেমন একবার ডানে আর একবার বামে হেলে তেমনি ভাবে যাচ্ছে। আমরা যাচ্ছিলাম শোভন চেয়ারে। খুব ভাল লাগছিল। ট্রেনে বসে রেলগেটে অপেক্ষমান যাত্রীদের দেখছিলাম, তখন মনে হচ্ছিল আমিও একসময় এভাবে রিক্সায় বসে ট্রেন দেখতাম। শহর ছেড়ে বাইরে যাবার পর যখন ধান ক্ষেতের মাঝখান দিয়ে যাচ্ছিল। তখন শো শো শব্দ হচ্ছিল। প্লেন উড়ার সময় যে ধরনের শব্দ হয়ে অনেকটা সে রকম। ট্রেনে ঝিক ঝিক শব্দ হয় শুনেছিলাম। কিন্তু এই শব্দটার কথা কেউ আমাকে বলেনি।

সিলেট পৌছানোর পথে ৫জায়গায় ট্রেন থেমেছিল। এরমধ্যে আখাউরা জংশনে শুধু আধা ঘন্টা থেমেছিল। বাকি ৪ স্টেশনে ৫ মিনিট করে। ট্রেন থেকে সিলেটের ধান ক্ষেত দেখলাম। এখানকার মানে সিলেট অঞ্চলের ধান গাছগুলো খাট আর মাটি শুকনো। আমি জানিনা এগুলোকে কি ধান বলে। এসব তথ্য রাতের ট্রেনে বসে লিখছি, তাই হাতের লেখার এ অবস্থা (আমার মনে হয় টাইপিংয়ের অবস্থাও ভাল না)। শ্রীমংগলে ট্রেন পৌছানোর পর থেকে সারাটা জায়গায় শুধু চা বাগান দেখলাম। কতকগুলো রেললাইনের এতো কাছে যে হাত বাড়িয়ে পাতা ছেড়া যায়। বৃহত্তর সিলেট জেলার কয়েক অঞ্চলে দেখলাম মাটি একদম দুধের মত সাদা। কয়েক জায়গায় দেখলাম মাটি কেটে ট্রাকে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এগুলো কাচবালি কিনা কে জানে।

ট্রেনে আব্বাকে নিয়ে হয়েছে এক সমস্যা। এখানে সারাক্ষনই হকাররা যাওয়া আসা করছে। আব্বার কোন কিছু খেতে ইচ্ছা করলে আমাদের জিগ্যেস করেন খাব কিনা। যদি আমরা (আমি আর সিফাত) না বলি তাহলে আব্বাও আর খায়না। আব্বার খেতে ইচ্ছা হয় বলে আমি অনেক সময় খাব বলি। যেমন- চা। এই পারাবত ট্রেনের চা মোটেও ভাল না। তবে নাস্তাটা মোটামুটি ভাল। এক ধরনের বিস্কিট জাতীয় মালয়েশিয়ান মিমি খেতে খুব ভাল লাগল। আমাদের পাশাপাশি ৩টা সিট, ৪ নম্বরটা খালি। এ সুযোগে সিফাত এতোবার সিট বদলালো যে ট্রেনের লোকজন অবাক হয়ে গেল। আমি একবার আব্বাকে নিয়ে গেলাম ট্রেনের খোলা দরজা দিয়ে দাড়ানোর জন্য। কিন্তু দরজা বন্ধ। তার উপর ট্রেনের বগি দুটোর সংযোগ স্থলে বগিটা এতো বেশি নড়ে যে, অন্য বগিতে যাবার সাহস পেলাম না। ফেরার পথে অবশ্য ভেবেছিলাম, চলন্ত ট্রেনে হেটে দেখবো। কিন্তু রাতের ট্রেনে ফিরতে হলো বলে সেটা আর করা হয়নি। কারন আব্বা ঘুমাচ্ছিলেন আর একা একা ঘুরতে যাওয়া হয়নি।

(চলবে)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/shahana/29514232 http://www.somewhereinblog.net/blog/shahana/29514232 2012-01-01 17:51:54
শামসুন্নাহার হল: জিমনেশিয়াম
ফাহমিদা খাওয়ার পর বলল, পৌনে তিনটায় ও জিমনেশিয়ামে যাবে। ওদের ১৭ তারিখ বার্ষিক কুচকাওয়াজ হবে, তাই প্রতিদিন প্যারেড করতে হয়।

পৌনে তিনটায় ফাহমিদাকে নিয়ে আমি আর সুমি রওনা হলাম। সুমিকে আমি অবশ্য জোর করে নিয়ে গেলাম। দুটো রিক্সা ভাড়া করা হলো। আমি আর সুমি একটাতে, আর ফাহমিদা আরেকটা মেয়ের সাথে শেয়ারে গেল। জিমনেশিয়ামে ঢোকার পর হাতের বা দিকে মাঠ আর এরপর সুইমিং পুল। আর ডান দিকে অফিস রুম। আমরা বা দিকে চলে গেলাম। দুপাশে গ্যালারী আর মাঝখানে ঢোকার রাস্তা। মাঠে দেখলাম ছেলে মেয়েরা প্যারেড করার জন্য দাড়িয়ে আছে। এদের কেউ ড্রেস পরেছে, কেউ পরেনি। কেউবা গ্যালারীতে দাড়িয়ে ড্রেস পড়ছে। ফাহমিদা আমাকে আর সুমিকে গ্যালারীতে বসিয়ে নিজে ওর দলের মেয়েদের সাথে গ্যালারীতে চলে গেল। একসময় ওরা লাইন করে মাঠের পাশে রাখা মিলিটারী ট্রাক হতে অস্ত্র (রাইফেল) নিল। আমার বাস ছিল ৩:৩০ এ আর ওদের প্যারেড প্র্যাকটিস শুরু হলো ৩:২০ এ। ঘড়ি ধরে ৫মিনিট দেখে বাসের জন্য প্রায় দৌড়ে জিমনেশিয়ামের মাঠ থেকে বের হলাম। গেটে আমাকে দেখে একটা মেয়ে চিৎকার করে উঠল। পাশের মেয়েটি দেখলাম ব্যাগ দিয়ে মুখ ঢাকলো। মাঝখানের জন আমাকে বলল, "কেমন আছো শাহানা?" ওর কথা শুনে চিনতে পারলাম, ওরা হলো যথাক্রমে তানিয়া, নীলা আর চৈতি/বকুল। ড্রেস পরা (সার্ট, প্যান্ট, ক্যাপ) ছিল বলে লজ্জায় মুখ ঢেকে ছিল। ওদের বললাম, প্যারেড শুরু হয়ে গিয়েছে, তারাতারি যাও। আমি হাটা থামালাম না। কারন বাসের সময় হয়ে গিয়েছিল। সুমির পায়ে ফোসকা, বেচারী এই নিয়েই আমার সাথে সাথে দৌড়াতে লাগল। দোয়েল চত্বরে পৌছে দেখলাম দুটো বাস দাড়িয়ে আছে। প্রথম টা অন্য রুটের, পরেরটা আমাদের রুটে যাবে, "শ্রাবন"। সুমিকে কার্জন হলের সিড়িতে বসতে বলে আমি বাসে উঠলাম। ওর বাস ৩:৪০ এ।

(শেষ)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/shahana/29512769 http://www.somewhereinblog.net/blog/shahana/29512769 2011-12-30 14:20:43
শামসুন্নাহার হল: রান্না
রত্না বলল, ফাহমিদার আসতে দেরী হবে। এরপর আমরা বসলাম বাজারের লিস্ট তৈরি করতে। রত্না বলল ও গত সাড়ে চার মাস যাবত কোন রান্না করেনি, তাই ওর ঘরে কিছু নেই। এমন কি লবন পর্যন্ত নেই। এসব আলোচনা যখন চলছিল, তখন ফাহমিদা আসল। ফাহমিদা রত্নার হাড়ি, পাতিল, কড়াই এসব দেখে বলল, অনেক দিনের ময়লা জমেছে। এসব সহজে পরিস্কার হবে না। এরচেয়ে ফাহমিদা নিজের ঘর থেকে (অনার্স বিল্ডিংয়ের চার তলায়) হাড়ি পাতিল নিয়ে আসবে। আমি বললাম, গেলে তাড়াতাড়ি যাও, তাড়াতাড়ি রান্না শুরু হবে। ও বলল, আচারের বৈয়ামও নিয়ে আসবে।

এরপর বেশির ভাগ জিনিস পত্র হলের ভিতরের দোকান থেকে কেনা হলো। বাকিটা নিউমার্কেট থেকে আনা হলো। সুমি আর ফাহমিদা মার্কেটে গিয়েছিল। ওরা দুজন মিলে রত্নার জম্নদিন উপলক্ষ্যে ওকে একটা কানের দুল, সুমি আমাদের বাকি তিনজনের জন্য একরকম কানের টব আর রত্নার রুমমেট মুন্নী আপার জন্য ফুলকপি নিয়ে আসল। অবশ্য ওদের মার্কেটে যাবার সময় ফুলকপি আনার কথা মন্নী আপা নিজেই বলে দিয়েছিলেন। দাম ছিল ৮টাকা। এটা উনি পরে দিয়ে দিয়েছিলেন।

রান্না মূলত: করলো সুমি, সাথে ফাহমিদাও সাহায্য করেছিল। রত্না অন্যান্য টুকিটাকি কাজ করে দিল। আমি একটা পিড়ির উপর বসে ওদের খবরদারী করলাম। অবশ্য ওরা বার বার আমাকে মুখে ধমক আর চোখ দিয়ে ভস্ম করতে চাচ্ছিল। কিন্তু আমি কাজে হাত দিলাম না। তবে রান্না শেষ হবার পর বারান্দাটা আমিই ঝাড়ু দিলাম। নোংরা রেখে দেয়ার মানে হয় না।

খাবারের মেনু ছিল:
১) ভাজি ভাত
২) ডিম ভাজা
৩) আলু আর বেগুন ভর্তা
৪) আমের আচার
সবশেষে মুন্নী আপা চা বানিয়ে খাইয়েছিলেন। রান্না সত্যি ভাল হয়েছিল। সুমি জানালো এই একটা রান্নাই সে জানে।

(চলবে)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/shahana/29512077 http://www.somewhereinblog.net/blog/shahana/29512077 2011-12-29 12:20:57
শামসুন্নাহার হল: পরীক্ষার পর
পরীক্ষার সময় কত কিছু করার কথা মনে আসে। আর পরীক্ষা শেষে সব ভুলে যাই। এবার ফাস্ট ইয়ার অনার্স ফাইনাল পরিক্ষা দিয়ে তিন বান্ধবী বসলাম কি করা যায়, কি করা যায়? কিন্তু কিছুই আর মনে পড়ে না। হঠাৎ আমার মনে পড়ল, হলে একবার রান্না করে খাব বলেছিলাম। ওরা দুজন, মানে সুমি আর রত্না মিলে ঠিক করলো বাজেট আর খাবারের মেনু।

ঠিক করেছিলাম, আমি আর সুমি ৭টার বাসে হলে যাব। পরের দিন ঘুম ভাংল সাড়ে ৬টায়। বুঝতে পারছিলাম না, তারাহুরা করে তৈরি হবো না পরের বাসে মানে ৮টার বাসে যাব। ভেবে দেখলাম, এটা এমন কোন গুরুত্বপুর্ন ব্যাপার না যে আমাকে তারাহুরা করে ছুটতে হবে। সুতরাং পরের বাসেই যাব। এরপর নাস্তার টেবিলে বড়পা বলল, একটা বাস নষ্ট তাই ৭টায় বাস চলবে না, ৮টায় চলবে। শুনে খুশি হলাম, ওদেরকে দেরী হবার কারন হিসাবে বাস নষ্ট এটা বলা যাবে।

৮টায় বাসা থেকে বাস স্টপেজে রওনা দিলাম। যথাসময়ে বাস এলো। এরপর গান শুনতে শুনতে ভার্সিটিতে এসে পৌছলাম। বাস থেকে মসজিদ গেটে নেমে হেটে হেটে শামসুন্নাহার হলে গেলাম। মাঝে মাঝে গুন গুন করে গান গাচ্ছিলাম, বাসে এতক্ষন যা শুনেছি সেগুলোই। প্রায় দৌড়ে দৌড়ে হলে পৌছলাম। রত্নার রুমে ঢুকে দেখি সুমি বসে আছে। আমাকে দেখেই সুমি বির বির করে বলল, থাপ্পর দিব। আমি শুনতে পাইনি। কিন্তু ওর ঠোট নাড়ানো আর হাতের মুদ্রা দেখে আন্দাজ করলাম। রত্না অবশ্য হাসছিল।

সুমি বলল, ও দেরি করে এসে ভাবছিল, আমি বকাবকি করবো। এখন দেখে আমিই দেরিতে এসেছি।

(চলবে)পরীক্ষার সময় কত কিছু করার কথা মনে আসে। আর পরীক্ষা শেষে সব ভুলে যাই। এবার ফাস্ট ইয়ার অনার্স ফাইনাল পরিক্ষা দিয়ে তিন বান্ধবী বসলাম কি করা যায়, কি করা যায়? কিন্তু কিছুই আর মনে পড়ে না। হঠাৎ আমার মনে পড়ল, হলে একবার রান্না করে খাব বলেছিলাম। ওরা দুজন, মানে সুমি আর রত্না মিলে ঠিক করলো বাজেট আর খাবারের মেনু।

ঠিক করেছিলাম, আমি আর সুমি ৭টার বাসে হলে যাব। পরের দিন ঘুম ভাংল সাড়ে ৬টায়। বুঝতে পারছিলাম না, তারাহুরা করে তৈরি হবো না পরের বাসে মানে ৮টার বাসে যাব। ভেবে দেখলাম, এটা এমন কোন গুরুত্বপুর্ন ব্যাপার না যে আমাকে তারাহুরা করে ছুটতে হবে। সুতরাং পরের বাসেই যাব। এরপর নাস্তার টেবিলে বড়পা বলল, একটা বাস নষ্ট তাই ৭টায় বাস চলবে না, ৮টায় চলবে। শুনে খুশি হলাম, ওদেরকে দেরী হবার কারন হিসাবে বাস নষ্ট এটা বলা যাবে।

৮টায় বাসা থেকে বাস স্টপেজে রওনা দিলাম। যথাসময়ে বাস এলো। এরপর গান শুনতে শুনতে ভার্সিটিতে এসে পৌছলাম। বাস থেকে মসজিদ গেটে নেমে হেটে হেটে শামসুন্নাহার হলে গেলাম। মাঝে মাঝে গুন গুন করে গান গাচ্ছিলাম, বাসে এতক্ষন যা শুনেছি সেগুলোই। প্রায় দৌড়ে দৌড়ে হলে পৌছলাম। রত্নার রুমে ঢুকে দেখি সুমি বসে আছে। আমাকে দেখেই সুমি বির বির করে বলল, থাপ্পর দিব। আমি শুনতে পাইনি। কিন্তু ওর ঠোট নাড়ানো আর হাতের মুদ্রা দেখে আন্দাজ করলাম। রত্না অবশ্য হাসছিল।

সুমি বলল, ও দেরি করে এসে ভাবছিল, আমি বকাবকি করবো। এখন দেখে আমিই দেরিতে এসেছি।

(চলবে)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/shahana/29511473 http://www.somewhereinblog.net/blog/shahana/29511473 2011-12-28 13:29:57
ইরানী দুতাবাস বড় বিলাই ক্বেরাতে অংশ নিয়ে ৩য় হয়েছিল):

রবিবার, ৮ই অক্টোবর, ১৯৯৬

ফজরের নামাজ পড়ে আবার ঘুমানো অনেক দিনের অভ্যাস। আজও ঘুমিয়ে ছিলাম। আম্মা ঢাক্কা দিয়ে তুলে বললেন, "বড় বিলাইয়ের সাথে ইরানী এ্যাম্বেসিতে যাবি?"। চোখে এত ঘুম, ইচ্ছা হলো বলি যাব না। তবু চুপ করে রইলাম। আরো ১০মিনিট পর কোনমতে চোখ খুলে বিছানা থেকে নামলাম।

ইসলামী ফাউন্ডেশন থেকে বলে দিয়েছিল ৮.৩০ এর মধ্যে ওখানে পৌছতে। আমি বড় বিলাইকে নিয়ে ৮.২৫ এ রওনা দিলাম। ১২টাকা ভাড়া। কিন্তু রিক্সাওয়ালা কিছুতেই ১৫টাকার নিচে যাবে না। বিশ্বরোড পর্যন্ত হেটে শেষ পর্যন্ত ১৫টাকাতেই যেতে হলো। তখন পৌনে নয়টা বাজে। ফাউন্ডেশনে পৌছে দেখলাম ৯.২০ বাজে। সোজা সংস্কৃতিক বিভাগের পরিচালকের রুমে গেলাম। ওখানে ৫/৬টি ছেলে আর ফরিদা বসেছিল। আমাদের আর জায়গা নেই দেখে ফরিদার গার্ডিয়ান উঠে বাইরে চলে গেলেন। আমি আর বড় বিলাই সোফায় বসলাম। এসময় পরিচালক আর তার সহকর্মিরা মাসুদ নামের একটি ছেলের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করছিলেন। এভাবে ফরম পূরন আর আরও নানা কাজ করতে করতে সাড়ে এগারটা বেজে গেল। আমরা রওনা হলাম।

এ্যাম্বেসিতে পৌছানোর পর প্রথমেই রাস্তায় জমে থাকা পানি ছোট হাই জাম্পে পার হলাম। এরপর মেইন গেট দিয়ে ঢোকার পর ওখানকার একজন কর্মচারী আমাদের বিল্ডিংয়ের পাশে সরু পথ দিয়ে একেবারে পিছনে চলে যেতে বললেন। আমার একটু খারাপ লাগল। যেন নিম্নমানের কেউ, সামনের গেট দিয়ে অফিসে ঢুকতে দিল না। অবশ্য দেখলে অফিস মনে হয়না। বাড়িই মনে হয়। সরু রাস্তা দিয়ে দুজন পাশাপাশি চলা যায় না। এরমধ্যে পথের পাশি সাড়ি করে টবে পাতা বাহারের গাছ। বিল্ডিংয়ের একেবারে শেষ প্রান্তে পৌছে ডানদিকে মোর নিলাম। এখানে ছোট একটা বারান্দা পেরিয়ে কাচের ঘরে ঢুকতে হয়। গেট খোলা নিয়ে হলো আরেক সমস্যা। আমাদের পরিচালক কয়েকবার টান মেরেও খুলতে না পেরে, ভিতরে বসা রিসেপসনিস্টকে কাচে নক করে ইশারা করলেন ভিতর থেকে খুলতে। তিনি আবার ইশারা করলেন, আবার চেষ্টা করেন। এবার সজোরে হ্যাচকা টান মেরে খোলা হলো। ভিতরে ঢুকলাম। ঘরের শেষ প্রান্তে রিসেপসনিস্ট এর টেবিল। এর আগে সাড়ি করে রাখা ৭/৮টা চেয়ার। যা আমাদের সংখ্যায় অপ্রতুল। পরিচালক সাহেব "লেডিস ফার্সট" নীতিতে ৩ কন্যাকে আগে বসতে বললেন। এরপর অন্যদের। এতে তাদের বসার আর জায়গা রইল না। মাসুদ উঠে পরিচালককে বসতে বলল। তিনি বসলেন। আমি উঠে সহকারী পরিচালক সাঈদ কাকুকে বসতে বললাম। তিনি কিছুতেই রাজি হলেন না। অগত্যা আমাকেই বসতে হলো। আমাদের ঘরে ঢোকার পর পরই রিসেপসনিস্ট ভিতরে চলে গিয়েছিল। এবার তিনি ফিরলেন আরেকজন লোককে সাথে নিয়ে। তিনি আমাদের ভিতরে যেতে বললেন। পরে যাতে অসুবিধা না হয় তাই পরিচালক আগেই বলে দিলেন, আমাদের সাথে ক্যান্ডিডেট ছাড়াও আরও ২জন আছে। একজন আমি, আরেকজন একটা ছোট ছেলের সাথে এসেছে। এ্যাম্বেসির ভদ্রলোক জানালেন কোন অসুবিধা নেই। সবাই একটা সরু প্যাসেজ পেরিয়ে একটা কাচদিয়ে ঘেরা ঘরে ঢুকলাম। এখানে ঘরের একপাশে সোফাসেট অন্যপাশে কার্পেটের উপর সাদা চাদর বিছানো। পরিচালক জিগ্যেস করলেন, নিচে বসবো? ভদ্রলোক বললেন, নিচেই ভাল, সোফাতে সবার জায়গা হবে না। আমরা লাইন করে বসলাম। বড়রা অন্যপাশে বসল। একটু পর একজন ইরানী ভদ্রলোক এলেন, মোটা একটু বেটে। তার সাথে ছিল কিছু ফারসী ফরম। এসব ফরম পূরন করার ফাকে আমাদের লাল চা দেয়া হলো। চিনিটা বোধ হয় ভাল ছিল না। কারন ২চামচ দেয়ার পরও চায়ে মিস্টি কম মনে হলো। আধা ঘন্টার ভিতর আমাদের কাজ হয়ে গেল। এবার ইরানী ভদ্রলোক ইংরেজীতে বললেন, "আমাদের সময় নষ্ট করার জন্য তিনি খুবই দু:খিত। অনেক ধন্যবাদ।" বুঝলাম, তার ইংলিশের দৌড় এ পর্যন্তই। সবাই বিদায় নিয়ে, ছেলেরা হাত মিলিয়ে সবাই আবার রিসেপসন ঘরে পৌছলাম। এখানে পরিচাল তাদের পত্রিকা "স্মরনীকা" এ্যাম্বেসির লোকের হাতে দিলেন। এরপর আমরা বাড়ি থেকে বের হয়ে এলাম। ড্রাইভার একা গাড়ি নিয়ে শুকনো মুখে দাড়িয়ে আছে। পরিচালক তাকে বললেন, "আফসোস করোনা, শুধু চা খাইয়েছে"। গাড়িতে বসে আরেকবার আফসোস করে বললেন, "আর কিছু খাওয়ালোনা। তবে সৌদি আরবের এ্যাম্বেসির চেয়ে অনেক ভাল। ওরাতো কিছুই খাওয়ায় না। আর মিশরের এ্যাম্বেসির ব্যবহার তো খুবই খারাপ "। এরপর আমরা ইসলামিক ফউন্ডেশনের গেটে পৌছলাম কোন জ্যামে না আটকে, এটা বেশ আশ্চর্যের বিষয়। ওখানে পৌছানোর পর পরিচালক বলে দিলেন, আগামী কাল পাসপোর্ট আর ছবি নিয়ে আসার জন্য। আমিও চায়ের জন্য ধন্যবাদ দিলাম (ওরাও খাইয়েছিল)। এবার আমি আর বড় বিলাই ফাউন্ডেশন থেকে বের হয়ে বাসায় রওনা হলাম।

(শেষ)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/shahana/29510347 http://www.somewhereinblog.net/blog/shahana/29510347 2011-12-26 12:41:39
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়: শামসুন্নাহার হল
১৪ই নভেম্বর, ১৯৯৫

পড়াশুনার জন্য গতকালই ঠিক করলাম একরাত হলে থাকব। এ্যাসাইনমেন্ট তৈরি করতে হবে। ১২.২৫ এ রওনা হলাম। বিশ্বরোডে অনেকটা কড়া রোদে দাড়িয়ে থেকে ২০টাকা দিয়ে রিক্সা পেলাম। রিক্সাওয়ালা সবচেয়ে সর্টকাট রোডে আমাকে শামসুন্নাহার হলে পৌছে দিল। তবে টি.এস.সি এর ভিতরের রাস্তা দিয়ে আমিই চালাতে বলেছিলাম। কারন শামসুন্নাহার হল সে চিনেনা, তাই রোকেয়া হলের সামনে নিয়ে যাচ্ছিল। হলে ঢুকে ২২৮এ রত্নার রুমে গেলাম। দরজা ভিতর থেকে বন্ধ ছিল।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/shahana/29509768 http://www.somewhereinblog.net/blog/shahana/29509768 2011-12-25 13:15:34
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়: কমার্স ফ্যাকাল্টি ১৭ জুন, ১৯৯৫

বড়পাকে নিয়ে কমার্স ফ্যাকাল্টিতে গেলাম ওর পরিক্ষার রেজাল্ট দেখতে। রোল নাম্বার অনুসারে ওর রেজাল্ট যে কাগজে থাকার কথা সে জায়গাটা ফাকা, মানে কাগজ টানানো হয়েছিল, কিন্তু এখন নেই। বড়পা বলল, অনেক সময় শিট খুলে নিচে পরে। আমরা দেখলাম নোটিশ বোর্ডের নিচে একটা কাগজ পড়ে আছে। অনেক কষ্টে কম্পাস দিয়ে খুচিয়ে বড়পা নেটের বা জালির ভিতর থেকে কাগজটা উদ্ধার করলো। কিন্তু ওতে ওর রোল নেই। মানে ওরটা অন্যকেউ একই ভাবে নিয়ে গিয়েছে। এমন সময় বি সেকশনের ইয়াসমিন আপা আসলেন। উনিও বড়পার রেজাল্ট কিছুক্ষন খুজলেন, পেলেন না। এমন সময় নাহার আপু (বড়পার ক্লাসমেট) আর লিলি আপা (সিনিয়র) আসলেন। নাহার আপু নিজের রেজাল্ট আগেই দেখেছিলেন, বড়পা জানতে চাইলেও বললেন না। নাহার আপু দোতলায় গেলেন কি একটা কাজে, আমি আর বড়পা গেলাম অফিস রুমে রেজাল্ট আনতে। ওখানে একজন বলল, মোখলেসের কাছে খোজ করো। মোখলেস ছিল না তাই ফিরে আসছিলাম। পথে বড়পার ক্লাসের বাবুল ভাই আর রফিক ভাইয়ের সাথে দেখা হলো। বড়পা আমার সাথে পরিচয় করিয়ে দিলেন। বাবুল ভাই হেসে ফেললেন। বললেন, ছোট বোন কোথায়? বড় বোন বল। এখানে বলে রাখি আমি বড়পার চেয়ে লম্বায় বেশ বড়। রফিক ভাই বড়পার রেজাল্ট নিয়ে দুরাবস্থার কথা শুনে বললেন, গোলাম রসুলের কাছে চাইলেও হবে। দুজনে অফিস রুমে গিয়ে উকি মেরে ওখান থেকেই চেচিয়ে বললেন, গোলাম রসুলও নেই। ওদের বিদায় দিয়ে আমি আর বড়পা বাসায় রওনা হলাম।
(শেষ)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/shahana/29509130 http://www.somewhereinblog.net/blog/shahana/29509130 2011-12-24 13:14:26
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়: আমার ভর্তির রেজাল্ট দেখতে ১৭ই জুন, ১৯৯৫।

বড়পাকে নিয়ে ভার্সিটিতে গেলাম, ভর্তির নোটিশ দেখতে। সবুজবাগ মোড় পর্যন্ত হেটে গিয়েও রিক্সা পাচ্ছিলাম না। এমন সময় ঝমঝম করে বৃষ্টি নামল। তাড়াতাড়ি দোকানের নিচে যাওয়ার সময় আমি রিক্সা ঠিক করলাম ৩টাকা বেশি দিয়ে। মৎস্য বিভাগের সামনে যখন পৌছলাম তখন বৃষ্টি নেই। ভার্সিটিতে গিয়ে রিক্সা ভাড়া দিয়ে নোটিশ বোর্ড দেখতে গেলাম। প্রথমে "ঘ" ইউনিটের অফিসের সামনে গিয়ে দেখলাম সেখানে প্রযন্ড ভীড়। এরপর লম্বা বারান্দা দিয়ে "খ" ইউনিটের সামনে গেলাম। সেখানে দেয়ালে টাংগানো রেজাল্ট বড়পাকে দেখালাম। তবে ভর্তির ব্যাপারে কোন নোটিশ দেখলাম না। ভিতরে অফিসের একজনকে জিগ্যেস করলাম ভর্তির ফরম আর বিষয়ানুসারে নম্বরের ব্যাপারে, তিনি বললেন, ভাইবার আগে দিয়ে দেয়া হবে।

এবার বড়পাকে নিয়ে কমার্স ফ্যাকাল্টিতে গেলাম ওর রেজাল্ট দেখতে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/shahana/29508547 http://www.somewhereinblog.net/blog/shahana/29508547 2011-12-23 15:37:49
শিশু একাডেমী: অটোগ্রাফ নিয়ে বাড়ি ফিরলাম
বিরক্তিকর ভাষন শুরু হলো। বেগম সারওয়ারী রহমানের ভাষনের সময় প্রফেসর চৌধুরী পকেট থেকে একটা ছোট ক্যামেরা বের করে আমাদের আশ্চর্য করে দিয়ে প্রথমে দর্শকদের একটা ছবি তুললেন, তারপর বেগম সাওয়ারী রহমানের একটি, অবশেষে একজন লোককে ডেকে অন্যান্য অতিথিদের সাথে দাঁত বের করে একটি ছবি তুললেন। এরপর প্রফেসর চৌধুরী ভাষন দিতে দাড়ালেন। তিনি বুঝতে পারছিলেন ভাষন শোনার কোন ইচ্ছা দর্শকদের নেই। তাই দাড়িয়েই বললেন, আমি ছোট্ট বন্ধুদের প্রশ্ন করবো, তোমরা উত্তর দিবে। এভাবে আসর জমিয়ে তিনি ভাষন দিলেন। সবার ভাষন শেষ হলে অতিথিরা মন্ঞ থেকে নেমে অন্যান্যদের উঠিয়ে দিয়ে সোফায় বসলেন। এরপর শুরু হলো অটোগ্রাফ নেবার পালা। আমি অটোগ্রাফ খাতা আনলেও, সাইনপেন খুজে না পেয়ে একটা ইকোনো ডি এক্স বলপেন এনেছিলাম। এটা নিয়েই ভিড়ের মধ্যে ঢাক্কাঢাক্কি করতে করতে শেখা অটোগ্রাফ আনতে গেল। বেগম সারওয়ারী রহমান অটোগ্রাফ দিতে গিয়ে দেখলেন, কলমে কালি নেই। অথচ আমি চেক করেই এনেছিলাম। শেখা রাগে ওখান থেকেই কলমটা আমার গায়ে ছুড়ে ফেলল। পাজিটাকে কাছে পেলে কান টেনে এই বেয়াদবির দন্ড দিতাম। এখন সম্ভব না। যা হোক অন্যের কলম ধার করে কোনমতে অটোগ্রাফ নিয়ে রওনা হলাম। দরজার ভিড় কাটিয়ে বাইরে বের হয়ে আরেক ঢাক্কা খেলাম। দরজা থেকে বারান্দা দিয়ে হেটে প্রায় ২০ ফুট পেরুতে হয়। এ অংশটুকু পুরোটাই ছেলেরা ভিড় করে দাড়িয়ে আছে। অনুষ্ঠান দেখতে ঢুকতে পারছে না। কিন্তু আমি বের হই কি করে? "এক্সকিউজ মি" বলে কোনমতে রাস্তা বের করে এগুচ্ছি। এক সময় সামনের একটা অভদ্র লোক জায়গা না ছেড়ে দাড়িয়ে থাকায় আমাকে থামতে হলো। শেখা পিছন থেকে ঢাক্কা মেরে প্রায় লোকের গায়ে ফেলে বলল, "থামলে কেন? যাও!" আবার রাগ সামলে লোকটিকে সরতে বললাম। এবার পাশের একটি লোক সামনের লোকটিকে সজোরে সরিয়ে দিয়ে আমাদের বলল, যান। আমরা জায়গা পেয়ে তাড়াতাড়ি ভিড় কাটিয়ে বাইরে আসলাম। এরপর রিক্সা নিয়ে সোজা বাড়ি।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/shahana/29505188 http://www.somewhereinblog.net/blog/shahana/29505188 2011-12-18 13:57:50
শিশু একাডেমী: অনুস্ঠান
অনুস্ঠান শুরুর আগে শেখা আর তন্বী স্টেজের ভিতরে রেহানা আন্টির কাছে চলে গেল। আন্টি আজ আট বছরের ছেলেকে সাথে নিয়ে এসেছেন। শেখা উঠে যাবার পর ওর জায়গা রাখা মুশকিল হয়ে গেল। শেষ পর্যন্ত একটা বাচ্চা মেয়ে বলল, শেখা আসলে ও উঠে যাবে। অতএব, বসে পর। আজ অনেক প্রতিবন্ধি শিশুরা এসেছে, ওদের পুরস্কার দেয়া হবে। যথা সময়ের প্রায় দেড় ঘন্টা পর অতিথিরা অর্থাৎ, বেগম সারওয়ারী রহমান, একজন মহিলা এমপি, এ কিউ এম বদরুজ্জোদা চৌধুরী এবং পরিবার পরিকল্পনা সচিব এলেন। অতিথিরা মন্ঞে আসন গ্রহন করলে শেখা কোরআন পড়ল। খুব সুন্দর করে পড়ল, যে বিশেষ অতিথিরা ছাড়া পুরো অডিটোরিয়ামের দর্শক মুগ্ধ হয়ে শুনলো। এরপর শেখা আমার কাছে আসল। এদিকে সেই ছোট মেয়ে উঠলেও শেখার বসার মতোন আর জায়গা নেই। তবুও অনেক কষ্টে বসল। আর বারবার বলতে লাগল চলো চলে যাই। আমি বললাম অটোগ্রাফ না নিয়ে যাব না। (এক সময় অটোগ্রাফ সংগ্রহের বাতিক ছিল) ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/shahana/29503286 http://www.somewhereinblog.net/blog/shahana/29503286 2011-12-15 12:17:24
শিশু একাডেমী: অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি
অফিস বিল্ডিংয়ের সিড়িতে দেখলাম গানের স্যার দাড়িয়ে আছেন। সালাম দিয়ে ভিতরে ঢুকলাম। হাফসা আপার রুমে ঢোকার আগে দেখলাম নাচের আপা দাড়িয়ে আছেন। তাকে সালাম দিয়ে ভিতরে ঢুকলাম। হাফসা আপাকে দেখলাম উপস্হাপনার মেয়ে বুঝিয়ে দিচ্ছেন। সালাম দিলে আমার দিকে তাকিয়ে হেসে ফেললেন। বললেন, "আমি এখনই তোমাদের ফোন করার কথা বলছিলাম আর তোমরা এসে পড়লে" তন্বীর (উপস্থাপিকা) আম্মা শেখাকে বললেন, "তুমিই বড় বিলাই "? হাফসা আপা বললেন, "না ও শেখা"।
এরপর হাফসা আপা উপস্থাপিকা শিটে বড় বিলাইয়ে র নাম কেটে শেখা লিখে দিলেন। আমাকে বসতে বললেন। অথচ চেয়ার মাত্র দুটো। একটাতে ঐ আন্টি আর আরেকটাতে শেখা বসে ছিল। আমার অপ্রস্তুত অবস্থা দেখে আন্টি উঠে আমাকে বসতে বললেন। কিন্তু একজন বয়স্ক মহিলাকে উঠিয়ে আমি বসি কি করে? তাই আমরা দুজনে দাড়িয়ে রইলাম আর চেয়ার খালি রইল। এরপর হাফসা আপা আন্টিকে বললেন, "আপনারা স্টেজে যান, ওদের (আমি আর শেখা) নিয়ে যান"।
অফিস থেকে বের হয়ে আন্টি অডিটোরিয়ামে যাবার পথ দেখিয়ে দিলেন (যেন এই মাত্র সুন্দরবন থেকে আমরা এসেছি কিছুই জানিনাহ)।
এবং নিয়ে কন্যাকে নিয়ে উল্টা দিকে চলে গেলেন। আমি আর কি করি, শেখাকে নিয়ে অডিটোরিয়ামে চলে আসলাম। একি! স্টেজের একি অবস্থা! রাস্তায় বানানো মঞ্চও এরচেয়ে ভাল হয়। সরু সিড়ি বেয়ে স্টেজে উঠলাম। তিন পাশে সাদা ময়লা চাদর দিয়ে ঢাকা। স্টেজের কোনায় চাদর সরিয়ে ঢোকা যায়। কোনাটা মেকানিক দিয়ে জ্যাম হয়ে আছে। বললাম, "এক্সকিউজ মি আমরা ভিতরে যাব" সবাই সড়ে দাড়িয়ে আমাদের ঢোকার জায়গা করে দিল। আমি আর শেখা ভিতরে একবার উকি দিয়ে দেখলাম, সম্পুর্ন অন্ধকার, কেউ নেই আর বসার কোন জায়গা নেই। শেখা বলল, "এখানে ঢুকে কোন কাজ নেই, চলো আমরা চলে যাই"।
এরমধ্যে স্বপন ভাই (গিটারের শিক্ষক) এসে মেকানিকদের পরামর্শ দেয়া শুরু করেছেন। আমরা স্টেজ থেকে নামার আগেই তিনি সিড়ি দিয়ে নামা শুরু করলেন আর পরপরই আমি আর শেখা। এখানে একটা কথা জানানো দরকার, স্বপন ভাই বেশ ছোট খাট একজন মানুষ। আর গলাও ভরাট না মানে বেশ চিকন। ফলে আমার নিচের সিড়িতে তাকে কেমন দেখাচ্ছিল, সেটা দেখটে না পেলেও অনুমান করা কঠিন না। কারন দর্শকদের প্রথম সারির লোকরা ৩৩ দাত বের করে হাসছিল। আমি এসব পাত্তা না দিয়ে অডিটোরিয়ামের দরজার পাশে দাড়ালাম। বেশ কিছুক্ষন দাড়িয়ে গল্প করে পা ব্যাথা করার পর দেখলাম তন্বী আর তার মা আসছে। ওরা ভিতরে ঢুকে সোফায় বসে আমাদের ডাকলেন। আমরাও বিশেষ অতিথিদের জন্য সংরক্ষিত আসনে (সোফায়) বসলাম। একটু পর আন্টি আর তন্বী উঠে চলে গেল। ম্যানেজম্যান্টের লোকজন আমাদের দিকে বাকা চোখে তাকাচ্ছিল।এখানে আমাদের বসা উচিত না। শেখা ভয় পেয়ে বার বার বলছিল, "চলো উঠে যাই"।
আমি জোর করে বসে রইলাম। যা হয় হবে। দাড়িয়ে থাকতে পারবোনা। এদিকে হলের সিট সম্পুর্ন ভরে গেল। মানুষ আর দাড়িয়ে থাকতে না পেরে সোফায় বসে পরতে আরম্ভ করলো। অবশ্য আমাদের বসা দেখে সাহস পেল। এরপর একাডেমীর লোকদের আর সহ্য হলো না। ওরা উঠে যেতে বলল এবং কেউই উঠলোনা। বলল, "আগে সিটের ব্যবস্থা করে দেন তারপর উঠব।" পরে উপ পরিচালক আসলে কমিটির লোকরা তার কাছে নালিশ জানালো। তিনি বললেন প্রথম সারির সোফাতেই অতিথিদের জায়গায় হয়ে যাবে। তাই দ্বিতীয় সারির লোকদের আর উঠতে হলোনা। আমরাও স্বস্তির নি:শ্বাস ফেললাম।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/shahana/29494188 http://www.somewhereinblog.net/blog/shahana/29494188 2011-12-01 14:17:00
যতদিন বাচুন, সুস্থ্য ভাবে বাচুন http://www.somewhereinblog.net/blog/shahana/29489484 http://www.somewhereinblog.net/blog/shahana/29489484 2011-11-24 12:59:36 শিশু একাডেমী: পৌছলাম
কয়েকদিন আগে হাফসা আপা টেলিফোন করে বলেছিলেন, ১৬ই ডিসেম্বর বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে শিশু একাডেমীতে একটা অনুষ্ঠান হবে। অনুষ্ঠানের শুরুতে ক্বেরাত পড়ার জন্য বড় বিলাইকে যেতে হবে।কিন্তু বড় বিলাই শুক্রবার স্যারের বাসায় পড়তে যায়। তাই ঠিক করা হলো শেখাকে (আমার সবচেয়ে ছোট বোন) নিয়ে আমি যাব। টেলিফোনে বলা হয়েছিল সকাল ৮টায় যথাস্থানে পৌছতে। কিন্তু বাংগালী এতো সকালে অনুষ্ঠান আরম্ভ করবে, ঠিক বিশ্বাস হলো না। তাই শুক্রবার সকাল ৭:৩০ তে ফোন করলাম, কেউ ধরল না। আবার ৮টায় ফোন করলো শেখা। এবার কেয়ার টেকার শ্রেনীর কেউ ধরল এবং বলল ১০টায় অনুষ্ঠান আরম্ভ হবে। এখন আমাদের যাত্রার সময় নির্ধারনের পালা। বড়পা বলল ৯টায় রওনা হও। আম্মা বললেন, ১০টায়। আমি ঠিক করলাম ৯:৩০ এ রওনা হবো। শেষ পর্যন্ত ৯:২০ এ রওনা হলাম। এবং আশ্চর্যজনক ভাবে ১০টাকায় রিক্সাও পেয়ে গেলাম। যাওয়ার সময় দেখলাম বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক আর সোনালী ব্যাংক সুন্দর ভাবে লাইট দিয়ে সাজানো হয়েছে। আর শাপলা চত্বরে আওয়ামীলিগ শেখ মুজিবের বানী সহ ব্যানার টানিয়েছে। এছাড়া প্রেস ক্লাবের সামনেও দেখলাম ঐরকম ছবি। দূ'টো ট্রাক দেখলাম, যেখানে সংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হচ্ছে। এছাড়া একদল অনশনকারীর বক্তৃতা শুনতে পেয়েছিলাম। রাস্তা থেকে এদের দেখা যাচ্ছিল না। স্টেডিয়ামের পাশে দেখলাম সাড়ি সাড়ি খালি বাস দাড়িয়ে আছে। ব্যাপারটা অনুমান করা খুব সহজ। ঢাকা স্টেডিয়ামে আজ শিশু-কিশোর সমাবেশ হচ্ছে তাই এসব বাসে সবাইকে আনা নেয়া করা হচ্ছে। শিশু একাডেমী পৌছে দেখলাম মেইন গেটের ভিতরে রিক্সা ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না। রাস্তা থেকে হেটে ভিতরে ঢুকলাম। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/shahana/29483697 http://www.somewhereinblog.net/blog/shahana/29483697 2011-11-15 13:25:17
বড় বিলাইয়ের ডায়রী থেকে: তেহরান, ইরান বড় বিলাই এর ইরান যাওয়া ঠিক হওয়ার পর ওকে আমার ডায়রী দিয়ে বলেছিলাম ভ্রমন কাহিনী লিখতে, এখানে ওর লেখা তুলে দিচ্ছি}

নভেম্বর ২০, ১৯৯৪ , 5-13 a m, ইরান এয়ার


প্লেনে এমন অখাদ্য কেন দেয়া হয় বুঝিনা। লবন ছাড়া মাংস, পচা জলপাই ভাল লাগে না। এ্যামিরাটস এয়ারওয়েজেও যে কান্ড করেছি, এখানেও তাই। খাবার বেশির ভাগ না ছুয়েই রেখে দিয়েছি।

১০-০৪ এ এম, রুম ২১৯, মারমার হোটেল, তেহরান, ইরান

সাড়ে ছটায় প্লেন ইরান ইয়ারপোর্ট ল্যান্ড করেছে। প্লেন থেকে নামবার আগে দুজন ডাক্তার বার বার আমাদের পাসপোর্ট দেখে নিশ্চিত হয়ে নিল আমরা সত্যি বাংলাদেশি নাকি ইন্ডিয়ান কিংবা আমরা ইন্ডিয়ায় ৬ দিনের কম সময় ছিলাম কিনা। প্লেন থেকে নেমে বাসে উঠলাম, বাসে বসবার জায়গা ছিল না। দাড়িয়েই গেলাম। কিন্তু একটু ক্ষন পরেই সবুজ স্যুট পরা একজন ভদ্রলোক এসে আমাদের জিগ্জাসা করলেন, "আর ইউ ফ্রম বাংলাদেশ?"।
জিজি স্যার বললেন "ইয়েস", ঐলোক আবার বললেন "ফোর কম্পিটিশন?" জিজি স্যার বললেন "ইয়েস ইয়েস"।
এবার ঐলোক সব পুরুষের সাথে হ্যান্ডশেক করে মহিলাদের হ্যালো বললেন। শুধু আমি একটা হ্যালো বলে উত্তর দিলাম, বাকি দুজন চুপ করে রইলো। পরে জেনেছি লোকটির নাম সামিমি। পরে দেখলাম, শ্রীলংকা আর পাকিস্তানের দলটিও একই প্লেনে করে এসেছে। তাদেরকে গাইড দেয়ার জন্যও দুজন লোক রয়েছেন। তারাও সবুজ স্যুট পরা। তারপর আমাদের পাসপোর্টের সমস্ত ঝামেলা ২ মিনিটে চুকিয়ে দিয়ে সসম্মানে নিয়ে গেল লাগেজের কাছে। লাগেজ নিয়ে আমরা বাইরে আসার পর সাংবাদিকরা আমাদের ছবি তুলল। তারপর সব দেশের মেয়েদের আলাদা আলাদা গাড়িতে আর সব ছেলেদের একটা বড় বাসে উঠিয়ে হোটেলে নিয়ে আসা হলো। হোটেলের নাম মারমার আর রুম ২১৯।
এখানে এসে কাপড় চোপর পাল্টিয়ে সব গুছিয়ে ফরিদা (প্রতিযোগি) ঘুমিয়ে পড়েছে, আমি ডায়রী লিখছি আর খালেদা খালাম্মা গোসল সেরে কাপর গুছাচ্ছেন। এখানকার বাথটাবটা খুব নোংরা, আবার শাওয়ারটা বাথটাবের ঠিক উপরে, মহা মুশকিল। এখনও সকালের নাস্তা আসেনি। তবে আমি মিমি খেয়ে নিয়েছি। তবে একটা ব্যাপার আমার আশ্চর্য লাগছে। এ ডায়রী লেখা পর্যন্ত সময় হিসাব করলে দেখা যাবে আমি একটানা সাড়ে উনত্রিশ ঘন্টা জেগে আছি। অথচ আমার একটুও ঘুম আসছে না।

ডায়রীর লেখাটা এখানেই শেষ...]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/shahana/29480601 http://www.somewhereinblog.net/blog/shahana/29480601 2011-11-10 12:43:22
বড় বিলাইয়ের ডায়রী থেকে: অপেক্ষার অবসান বড় বিলাই এর ইরান যাওয়া ঠিক হওয়ার পর ওকে আমার ডায়রী দিয়ে বলেছিলাম ভ্রমন কাহিনী লিখতে, এখানে ওর লেখা তুলে দিচ্ছি}

নভেম্বর ২০, ১৯৯৪ ১২-৪২ এ এম , করাচী ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট জিন্নাহ টারমিনাল

চরম বিরক্ত হওয়া কাকে বলে মনে হয় আজ বুঝতে পারছি। শুধু বসে থাকতে পারলেও হতো, কিন্তু একদিকে টিভিতে চলছে গান, অন্যদিক এয়ারপোর্টের রেস্টুরেন্টের লবনহীন কুখাদ্য। আর কত সহ্য করা যায়।

১-১১ এ এম

এখন এয়ারপোর্ট থেকে দেয়া ফ্রী খাদ্য খেলাম। বিশ্রী পনির মাখানো চার টুকরো রুটি, বিশ্রী স্বাদের কেক আর বিশ্রী স্বাদের চা। ফরিদা (প্রতিযোগী) ২টুকরো রুটি মুখে দিয়ে আর কিছু মুখে তুললনা। আমি কোন রকমে কেকটা গিলে চা টা খেয়ে ফেললাম। আশে পাশের লোকজন এমন ভাবে তাকায় কেন? অসহ্য লাগছে।

২-০৭ এ এম

৭ মিনিট আগে প্লেন ছাড়বার কথা। এদিকে প্লেন আসারই নাম গন্ধ নেই। মনে হচ্ছে সাড়া জীবন এই এয়ারপোর্টে থাকতে আর পচতে হবে। জীবনে এরকম বিরক্ত হইনি কখনও।আমার বিদেশে ভ্রমন করিবার সাধ মিটিয়া গেল।

২-৩৯

আজ সকাল ৫-৪৫ এ ঘুম ভেংগেছে। তারপর আর ঘুমাইনি। অর্থাৎ পুরো ৯৮৪ মিনিট জেগে আছি। আরও জাগতে হবে মনে হচ্ছে। ফেস পাউডার বক্সের আয়নায় দেখেছি আমার ২ চোখ লাল হয়ে আছে। কতগুলো লোক বারবার আমার দিকে তাকাচ্ছে। অবশ্য আমিও তাদের দিকে বার বার তাকাচ্ছি নইলে বুঝবো কিভাবে। মাথা ব্যাথা করছে খুব। কিন্তু নাপা খেতে ইচ্ছা করছে না। "আই হ্যাভ নেভার বিন সো টায়ার্ড লাইক টুডে"

২-৩৪ এ এম

আমাদের প্লেন নষ্ট হয়ে গিয়েছে। এখন ঠিক করছে। এক আল্লাহ পাক জানেন, সামনে আরও কি ভোগান্তি আছে। "এ জীবন নহে শুধু সুখের লাগিয়ে" ইহাকেই বোধ হয় বলে। কি করবো এখন? ফরিদা তো নিশ্চিন্তে ঘুমাচ্ছে। আমি এতো লোকের সামনে ঘুমাতে পারবো না। গরম লাগছে। সোয়টার খুলে ফেলেছি। বাসার সবাই মনে করছে আমি এখন তেহরানে ফাইভ স্টার হোটেলে নাক ডেকে ঘুমাচ্ছি। আহা, তারা যদি আমার এখনকার অবস্থা জানত।

৪-১৫ এ এম

কায়েদ-এ-াজন ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট হতে ভোর ৪টায় (বাংলাদেশ সময়) ইরান এয়ার এর বিমান আমাদের নিয়ে রওনা হলো। আজ জানালার পাশে বসে অনেক কিছু দেখলাম। রানওয়ে পার হবার সময় একটা খরগোশকে দৌড়ে যেতে দেখেছি। করাচিকে দেখলাম আলো ঝলমল নগরীরুপে। এখন অনেক উপরে উঠে গেছি। কিছু দেখা যাচ্ছে না। প্লেনে উঠলে আমার সবচেয়ে বেশি অসুবিধা হয় কানে। দুই সেকেন্ডে কান বন্ধ হয়ে যায় । ঢোক গিলতে হয় কেবল। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/shahana/29479279 http://www.somewhereinblog.net/blog/shahana/29479279 2011-11-07 12:27:17
বড় বিলাইয়ের ডায়রী থেকে: করাচী ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট বড় বিলাই এর ইরান যাওয়া ঠিক হওয়ার পর ওকে আমার ডায়রী দিয়ে বলেছিলাম ভ্রমন কাহিনী লিখতে, এখানে ওর লেখা তুলে দিচ্ছি}

অক্টোবর ১৯, ১৯৯৪, ৪-১৮ পিএম, করাচী ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট জিন্নাহ টারমিনাল

আড়াইটের সময় প্লেন করাচী পৌছছে, এখন পর্যন্ত এখানেই আছি। আজ রাত এগারটায় তেহরান রওনা হবো। পাকিস্তানে আমাদের জন্য হোটেল বুক করা হয়নি। তেহরানে যাওয়া পর্যন্ত এখানেই থাকতে হবে।এখানকার একজন লোক দয়া করে খাওয়া দাওয়া ফ্রী করে দিয়েছেন। স্যুপ এসে গেছে।

৪-৫৫ পি এম

স্যুপ শেষ করে খেলাম চিকেন কাকলেট। এরা সম্ভবত: লবন পছন্দ করে না। একটা খাবারেও লবন নেই। আমি জোর করে খানিকটা পেটে ঢুকিয়ে দেখি, আমিই সবচেয়ে বেশি খেয়েছি। খালেদা খালাম্মা (মেয়ে প্রতিযোগীদের কেয়ারটেকার) লবন নেই শুনে একটা খাবারও মুখে দিলেন না। ক্বারী হুজুর (ছেলে প্রতিযোগী) কফির ওর্ডার দিলেন। বিশ্রী পানীয়।

৫-৩৯ পি এম

কফি খাওয়া শেষ করে এখন বসে আছি। ক্বারী হুজুরের ভাষায় "কপি"।
পাশেই ফুল ভলিয়্যুমে টিভি চলছে। কিছুক্ষন পিটিভি২ চলে আবার কিছুক্ষন বি বি সি। অসহ্য লাগছে। ক্বারী হুজুর এখানকার দোকান থেকে কিছু কিনতে চাইছে, আমি বলে রেখেছি, আমাকে রেখে যেন কিনতে না যায়। সামনেই একটা টয়োটা করোলা কার রাখা আছে। সম্ভবত: বিক্রি হবে। গাঢ় নীল রং, খুব সুন্দর।

৫-৫৭ পি এম

আসরের নামায পড়ে এলাম। এখানকার নামাজ ঘর খুবই সুন্দর। আর এখানকার লোকগুলিও খুব ভাল। এখানে মেয়েদের আলাদা ওযুর জায়গা নেই বলে আমরা ছেলেদের জায়গাতেই ওযু করতে গিয়েছিলাম। তা দেখে একজন লোক উর্দুতে আমাদের বলল, গোসলখানায় দরজা বন্ধ করে ওযু করলেই আমাদের জন্য ভাল হয়। এখানে এসে একজন পাকিস্তানিকেও পেলাম না যার গায়ের রং কালো। তারপরও আমাদের সাথে এখানকার লোকজন প্রথমে উর্দুতে কথা বলে। আমরা যতদূর পারি উর্দুতে উত্তর দেই। আর একটু ইতস্তত: করলেই আবার এরা ইংলিশে কথা বলে। আমাকে একজন লোক শুধু জিগ্যাসা করেছিল, "আপ কাহা সে আয়ি হে?" আমি জিজি স্যার (ছেলে প্রতিযোগিদের কেয়ারটেকার)কে দেখিয়ে বলেছি, "মে উনকো সাথ আহি হু"।কারন এর আগে ওরা জিজি স্যারকে জিগ্যেস করেছে, কোথ্থেকে এসেছেন।

৬-৫৩ পি এম

আল্লাহ জানেন, আর কতক্ষন এভাবে বসে থাকতে হবে। এদিকে নাক দিয়ে ঠান্ডা বাতাস ঢুকে মাথা ভার হয়ে আছে। আশে পাশে খুব সামান্য লোকজন বসে আছে, তারা আছে বলেই হাত পা ছড়িয়ে শুতে পারছিনা। ও হ্যঁা একজন কালো পাকিস্তানি মহিলা দেখেছি। এখানেই কাজ করে। আমাকে কিছুক্ষন পর পর ডায়রী লিখতে দেখে ফরিদা (অন্য প্রতিযোগী) বলল, ওর ডায়রীটা লাগেজের ভিতরে রেখে দিয়েছে। তাই কিছু লিখতে পারছে না। এখন আমি একা বসে আছি। কিভাবে একা হলাম বলি, প্রথমেই তিন ব্যাটা আমাদের তিনজন মেয়েকে একা রেখে তিন দিকে ভেগে গিয়েছে। কিছুক্ষন আগে খালেদা খালাম্মা ফরিদাকে নিয়ে হাটতে বেরিয়েছেন। আমি যায়নি, আমার তো বসে থাকতেই বেশি ভাল লাগে। এইমাত্র ওরা ফিরে এলো।

৭-২২ পি এম

মাগরিবের নামায পড়ে আসলাম। এখন আমাদের দলের পুরুষরা নামায পড়তে গিয়েছে। যখন আমরা নামায পড়তে যাই, তখন শুধু এরা আমাদের লাগেজ পাহাড়া দেয়। বাকী সময়টা এরা ঘুরে বেড়ায় আর আমরা পাহাড়া দেই। তবে এবার ওরা ফিরে এলে ক্বারী হুজুরকে নিয়ে আমি আর খালেদা খালাম্মা দোকানে যাব। ক্বারী হুজুর ৭টা আতর আর ২টা কোটি কিনেছেন ২৭ ডলার দিয়ে। দেখি আমি কি পাই।

৯-৪৮ পি এম

এখানে খুব বেশি দাম চাইছে।এখান থেকে কিছু কিনবো না। তাছাড়া কিছুক্ষনের মধ্যেই প্লেন এসে পড়বে। কাজেই শপিং করলে, পরে কোন এক সময় করতে হবে। আমি কিছুক্ষন পর পর ডায়রী বের করে লিখি বলে জিজি স্যার জিগ্যেস করলেন, "কি তুমি কবিতা টবিতা লেখ নাকি?" আমি লজ্জা পেয়ে বললাম "জি না"।
উনি আবার বললেন, "কি তুমি লেখা লেখি করো? তাহলে তো তোমাকে আমার দরকার" আমি হেসে বললাম, না লিখিনা । বলে তাড়াতাড়ি ডায়রী বন্ধ করে ব্যাগে ঢুকিয়ে রাখলাম। তারপর স্যার এন্টাসিড, সেটামল আর হিস্টাসিন দিলেন আমাকে। আমি খালেদা খালাম্মাকে দিয়ে দিলাম।

১০-৪১ পি এম

একটা কথা লিখতে ভুলে গিয়েছিলাম। করাচী এয়ারপোর্টে এসে এ পর্যন্ত একটা মাত্র মশা চোখে পরেছে। আমার আশে পাশেই উড়ছে। এখনও কামড়ায়নি।

১১-০৪ পি এম

মশাটা মারলাম না। নীচে চলে এসেছি। সাড়ে এগারোটায় মানে বাংলাদেশ সময় সাড়ে বারোটায় ফ্লাইট। আবার সেই বসে থাকার পালা। অসহ্য লাগছে। আরও অসহ্য লাগছে টিভিটাকে। ঢিলা একটা গান চলছে, তাও ফুল ভলিয়্যুমে। একজন লোক, থামের পিছনে লোকটার মুখ, শুধু পা দেখা যাচ্ছে, লোকটা কিছুক্ষন পর পর ধ্যানে চলে যায় আর গানের তালে তালে মেঝেতে পা দিয়ে ঠকাস ঠকাস শব্দ করে, এক সময় ধ্যান ভাংলে চুপ হয়ে যায়। একটু আগে আবার শুরু হয়েছে।

নভেম্বর ২০, ১৯৯৪, ১২-০১ এ এম

এখানে এখন ১১টা বাজে। আরও আধা ঘন্টা পর আমাদের ফ্লাইট। আমাদের লাগেজ কোথায় আছে, কে জানে? বিচিত্র মানুষের দেখা পাওয়া যাচ্ছে এখানে এসে। পায়ে তাল দেয়া লোকটা আর নেই। আরও একটা সুন্দর পরিবারের দেখা পেয়েছি। একটা ছোট্ট বাচ্চা (হাটতে পারে), তার বাবা-মা, সম্ভবত: খালা আর নানা-নানী। বাচ্চাটাই সবচেয়ে সুন্দর, মা খালারাও সুন্দরী, বাবাটা বেশি সুন্দর না। নানী শুটকি আর নানা একরকম।

১২-১৭ এ এম

একটু আগে ক্বারী হুজুর খবর দিল, আমাদের ফ্লাইট টা রাত ১টায়। অর্থাৎ রাত ২টায়। আরও আড়াই ঘন্টা বসে থাকতে হবে। সত্যি বাস্তব আর কল্পনা পার্থক্য। এখন টিভিতে একটা ছোট ছেলে (আমার বয়সী) গান গাইছে। খুব সুন্দর গায়।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/shahana/29478883 http://www.somewhereinblog.net/blog/shahana/29478883 2011-11-06 15:05:18
বড় বিলাইয়ের ডায়রী থেকে: প্লেনে করাচির পথে বড় বিলাই এর ইরান যাওয়া ঠিক হওয়ার পর ওকে আমার ডায়রী দিয়ে বলেছিলাম ভ্রমন কাহিনী লিখতে, এখানে ওর লেখা তুলে দিচ্ছি}

19.10.1994 11-58am On plain Emirates.

প্লেনে উড়ছি এখন, ২টার পর করাচি পৌছবো। ঠান্ডা জুস খেয়ে গলা খুসখুস করছে। আম্মা জানতে পারলে খুব রাগ করবেন।

১২-৪৩ পি এম

একটু আগে খেয়ে উঠলাম। এখন টিভি দেখছি। চ্যানেল ফোর এর অনুষ্ঠান। অবাস্তব ছবি। সম্পুর্ন ছবি বড় বড় পুতুল দিয়ে করা হয়েছে। শুরু থেকে দেখিনি। তাই নাম বলতে পারছিনা। মহাশুন্যে বিচরনকারী মানুষদের দেখাচ্ছে। দেখি কি হয়।

১-৫৫ পি এম

আরবী গান শুনছি। মাটি থেকে ৩৫০০০ ফুট উপর দিয়ে যাচ্ছি। বাইরে রোদ দেখা গেলেও কম্পিউটার স্ক্রীনে দেখাচ্ছে বাইরে এখন মাইনাস ৪৬ ডিগ্রি তাপমাত্রা। একবার এয়ার পকেটে পড়েছিল। ঘন্টায় প্রায় ৪০০ কিমি বেগে চলছে প্লেন। মাঝে মাঝে গতি কমাচ্ছে, বাড়াচ্ছে। প্লেন থেকে ফোন করা যায়, প্রতি মিনিট ৫ ডলার করে নেয়। এ সমস্ত তথ্যই কম্পিউটার স্ক্রিনে দেখতে পাচ্ছি। ভারত পার হয়ে নওয়াবশাহ এর কাছ দিয়ে প্লেন যাচ্ছে। আমরা কাবা থেকে কত দুরে আছি।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/shahana/29478433 http://www.somewhereinblog.net/blog/shahana/29478433 2011-11-05 17:01:24
বড় বিলাইয়ের ডায়রী থেকে: ইরানে যাওয়ার প্রস্তুতি বড় বিলাই এর ইরান যাওয়া ঠিক হওয়ার পর ওকে আমার ডায়রী দিয়ে বলেছিলাম ভ্রমন কাহিনী লিখতে, এখানে ওর লেখা তুলে দিচ্ছি}২২শে

সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার, ১৯৯৪ রাত ৮টা, বাংলাদেশ

এখন বসে বসে দিন গুনছি। আমার মাথাটাই খারাপ হয়ে গেছে এখন। কোন কিছুতেই মন বসে না।পড়াশুনা কোথায় চলে গেছে খুজে পাওয়া যাচ্ছে না।

এর মধ্যে আবার সবাই কানের কাছে এসে বলছে, ইরান থেকে এটা আনবে, ঐটা আনা বেশি দরকার, সেটা না আনলে জীবন বৃথা ইত্যাদি। সবাই বলছে, এমন জিনিস আনবে, যা দরকারী কাজে আসবে। যেমন...।
এই যেমন যেমন বলে ওর এতগুলো জিনিসের নাম বলেছে যে আমার মাথায় তালগোল পাকিয়ে গেছে। এখন ওগুলোর কথা মনে করতে গেলে মাথা বনবন করতে থাকে।

না, আর পারছিনা, মাথা বন বন শুরু হয়ে গেছে। দাড়ান, দাড়ান, আরও কিছু বলে নেই। সবাই আল্লাহর কাছে দোয়া করবেন যেন অন্তত: ইরান যাওয়া পর্যন্ত বেচে থাকি। অবশ্য, বাচা মরা আল্লাহ নির্দিস্ট করে দিয়েছেন, তার বাইরে কিছু হবে না। তবু মনে সান্ত্বনা পেতে তো ইচ্ছা করে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/shahana/29477409 http://www.somewhereinblog.net/blog/shahana/29477409 2011-11-03 12:03:32
বড় বিলাইয়ের ডায়রী থেকে: বাছাইয়ে টিকে গেলাম বড় বিলাই এর ইরান যাওয়া ঠিক হওয়ার পর ওকে আমার ডায়রী দিয়ে বলেছিলাম ভ্রমন কাহিনী লিখতে}

২২শে সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার, ১৯৯৪ রাত ৮টা, বাংলাদেশ

আর এক মাস। এক মাস পর ইরানে ক্বেরাত আর হিফজ প্রতিযোগিতা শুর হবে। বিভিন্ন দেশের ১২ থেকে ১৮ বছরের ছেলে মেয়ে এতে অংশ নিবে। বাংলাদেশ থেকেও ৪ জন ছেলে মেয়ে যাচ্ছে।

এবার নিশ্চয়ই বোঝা যাচ্ছে কেন এই ভুমিকা? হ্যাঁ বাংলাদেশ থেকে ক্বিরআতে মেয়ে হিসাবে আমার সুযোগ হয়েছে। সুযোগটা ভাগ্যক্রমেই হঠাৎ এসে গেল।

প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়ার কথা শুনলেই আমার পেট কামড়ায়। শ্বাস ফুরিয়ে আসে। তবুও বাছাই পর্বে টিকে গেলাম।কিভাবে টিকে গেলাম তাহলে সেটা বলি।

বাছাইয়ের দিন ইসলামিক ফাউন্ডেশনে গিয়ে দেখি তারানা বসে আছে। ও আমার চেয়ে ভাল সুর আনতে পারে। কাজেই আমার আশা ভরষা একধাপ নিচে নেমে গেল। সমস্ত আশা কিভাবে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেল বলি,

প্রথম ধাপ: আগেই বলেছি তারানাকে দেখে

দ্বিতীয় ধাপ: কিছুক্ষনের মধ্যেই ফাতিহা ও আয়েশা সিদ্দীকা নামে দুজন ভাল ক্বারীয়ার দেখা পেলাম

তৃতীয় ধাপ: আরও কিছুক্ষন পর তানজিনার দেখা পেলাম। ও আমার চেয়ে ভাল পড়ে না জানি। তবুও একেবারে উড়িয়ে দেয়া যায় না।

চতুর্থ ধাপ: আরোও কিছুক্ষন পর হাসি অর্থাৎ জোহরা এলো। ও আমার চেয়ে অনেক ভাল পড়ে। কাজেই আমার আশার প্রদীপ নিবু নিবু করতে লাগল।

পঞ্চম ধাপ: ব্যস। এই ঝাপটারই দরকার ছিল, আমার নিবু নিবু প্রদীপ নেভানোর জন্য। বুঝতেইি পারছেন কার কথা বলছি। তুসি। খুলনার মেয়ে তুসি। যেমন আর দম, আর তেমনি তার সুর। আর চিন্তা নেই। সম্পূর্ন নিশ্চিত হতে আর বাকি নেই।

এখন ভাবছেন সম্পুর্ন নিশ্চিত হবার পরও যখন আমিই টিকলাম তখন নিশ্চয়ই খুব ভাল পড়েছি। না তা নয়। আমি যেই তিমিরে ছিলাম, সেই তিমিরেই আছি। তাহলে?

রহস্যটা তাহলে খুলেই বলি। সাধারনত: প্রতিযোগিতায় আমি গলা আটকে বোবা হয়ে যাই। কিন্তু আশ্চর্যজনক ভাবে এবার কোথাও না আটকে পড়ে গেলাম। আর অন্যরা নানা কারনে আটকে গেল। আচ্ছা কারন গুলো খুলেই বলি।

তানজিনা সাধারনত: একটা সুরা অনেকদিন বার বার না পড়লে ভাল পড়তে পারে না। প্রতিযোগিতায় মাত্র ৩০ মিনিট আগে সুরা হাতে দেয়া হয়, তাই সে ভাল মতোন আয়ত্ব করতে পারে নি।

তারানাকে প্রথমে একটি সুরার প্রথম থেকে ৬ আয়াত পড়তে দিয়ে পরে ৬ থেকে ১২ আয়াত পড়তে বলা হলো। ফলে সে হাতে সময় পেল ১০ মিনিট। এতো কম সময়ে সে ঠিক মতোন প্রস্তুতির সময় পায়নি। ফলে...।

জোহরা সূরা পড়ার সময় শেষের আয়াত বাদ দিয়ে পড়েছিল। কাজেই সেও বাদ হয়ে গেল।

আর তুসি। যাকে নিয়ে এতো নিশ্চিত ছিলাম, সেও পড়ার সময় হঠাৎ ভুল করলো।

এতো কিছুর পরও কিন্তু আমার চেয়ে ০.৫ নম্বরে এগিয়ে ছিল ফাতিহা। কিন্তু না। তার বয়স আবার ১৮ এর বেশি হয়ে গিয়েছিল।

অর্থাৎ আমার ইরানে যাওয়া নিশ্চিত হলো।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/shahana/29476848 http://www.somewhereinblog.net/blog/shahana/29476848 2011-11-02 13:04:24
মৌন মিছিল: প্ল্যাকার্ড
এক সময় লক্ষ্য করলাম, একটি মেয়ে প্ল্যাকার্ড দিচ্ছি। ওখান থেকে একটা নিয়ে আসলাম। এদিকে ইথার আর পর্শিয়া চেচাচ্ছে: কালো ব্যাজ কই। ওরা এখনও কালো ব্যাজ পায়নি। এমন সময় কে যেন বলল, ডিবেটিং ক্লাব রুমে ব্যাজ দিচ্ছে। ইথার আমাকে বলল, তোমার প্ল্যাকার্ডটা দাও, এটা নিয়ে গেলে লুবনা ব্যাজ দিবে। আমি দিতে চাচ্ছিলাম না। জীবনের প্রথম মিছিল, হাতে একটা প্ল্যাকার্ড থাকবে না? ইথার আমাকে বোঝালো, ও এটা আমার কাছে ফিরিয়ে দিবে, ব্যাজ পাবার পর। আমি দিলাম। একটু পর পিটি আপা ঘোষনা করলেন সবাইকে প্ল্যাকার্ড ফেরত দিতে হবে। আমি খুব ভয় পাচ্ছিলাম, ইথার হয়তো আমার প্ল্যাকার্ডটা ফেরত দিয়ে দিবে। আমার আশংকাই সত্যি হলো। একটু পর দেখি ইথার খালি হাতে ফিরে আসছে। ও বলল, ব্যাজ শেষ তাই পায়নি, আর লুবনা ওর প্ল্যাকার্ড নিয়ে নিয়েছে। আমার মেজাজ খারাপ হয়ে গেল, বললাম, যেখানে রেখে এসেছো, সেখান থেকে নিয়ে আস। ও আমার কথার কোন পাত্তা দিলনা। সোজা লাইনে এসে দাড়াল। আমি দেখলাম, প্ল্যাকার্ডগুলো স্টেজের সামনে জড়ো করা হয়েছে। সেখান থেকে আপা ডেকে ভলান্টিয়ারদের হাতে তুলে দিচ্ছেন। ইথার বলল, ওখান থেকে নিয়ে আস। কিন্তু আপা পরিচিত মেয়েদের ডেকে দিচ্ছেন। চাদরওয়ালীকে দেয়ার প্রশ্নই আসে না। তবু আমি স্টেজের কাছে গেলাম, একটা প্ল্যাকার্ড তুলে কোন কথা না বলে ফিরে আসলাম নিজের জায়গায়। ওখানকার মেয়েরা চিৎকার করছে, করো কি? আপা নিতে নিষেধ করেছেন ইত্যাদি। কিন্তু আমি কানে দিয়েছি তুলো। আলেয়া (মিতা) শুধু একবার বলল, তুমিই পারো! (ওর মতে আমি মহাবুদ্ধিমতি)।
আমাদের বাংলা পড়ান রোকসানা শামীম আপা। তিনি মিছিলের ব্যাপারটা বুঝিয়ে বললেন, ৩জন করে লাইন করা হবে, প্রথমে থাকবে স্কুলের মেয়েরা, এরপর কলেজের মেয়েরা যাবে। এই শোক মিছিলে যদি মেয়েরা হাসি ঠাট্টা শুরু করে তাহলে আপা ওখান থেকে মিছিল ঘুরিয়ে কলেজে নিয়ে আসবেন...।


এটুকুই ডায়রীতে লিখেছি তখন।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/shahana/29476234 http://www.somewhereinblog.net/blog/shahana/29476234 2011-11-01 12:59:22
মৌন মিছিল: ভলান্টিয়ার বাতিল
নিচে হলরুমে গিয়ে দেখি মিতাও (ক্যাপ্টেন) ভলান্টিয়ার স্টিকার লাগিয়েছে। ওর সব বান্ধবীরা লাইনে দাড়িয়েছে আর আমাদের জন্য জায়গাও রেখেছে। এমন সময় স্টেজ থেকে মাইকে পিটি আপা বললেন সব ভলান্টিয়ারদের এক জায়গায় দাড়াতে। আমি আর মিতা হাত ধরে স্টেজের সামনে দাড়ালাম। এরপরের কান্ড দেখে তো আমাদের চোখ বড় বড় হয়ে গেল। ভলান্টিয়ার স্লীপ আটা মেয়ে আসছে তো আসছেই। মিছিলের মেয়ের চাইতে ভলান্টিয়ার বেশি। আপা কিংকর্তব্য বিমুঢ়। এরপর আমাদের হেড গার্ল সবাইকে একপাশে সরিয়ে বেছে বেছে মেয়ে অন্য পাশে নিতে লাগল। ওর বাছাইয়ের স্টাইল দেখেই বুঝতে পারলাম, আমাকে বা মিতাকে নেয়ার কোন সম্ভাবনা নেই। তাই মিতাকে বললাম, চল, মানসম্মান থাকতে ফিরে যাই। পরে হয়তো, মুখের উপর বলে বসবে তোমরা বাতিল আর সারা কলেজের মেয়েরা হাসবে। মিতা আর আমি লাইনে ফিরে এলাম। ইথার বলল, ফিরে এসে ভালই করেছো।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/shahana/29475700 http://www.somewhereinblog.net/blog/shahana/29475700 2011-10-31 14:30:05
মৌন মিছিল: ভলান্টিয়ার মর্মান্তিক ট্রাক দুর্ঘটনায় রুমানা নিহত। ১৯৮৬ সাল থেকে এ পর্যন্ত ভিকারুন্নিসার ৫ জন ছাত্রী ও প্রাক্তন ছাত্রী নিহত হয়েছে। এছাড়া অভিভাবকও মারা গেছেন। আহত হয়েছেন অনেকে। একজন ছাত্রী তো সম্পূর্ন এ্যাবনরম্যাল হয়ে গিয়েছে। পড়াশুনা বন্ধ।
তাই আমাদের আপারা ঠিক করলেন একটি মৌন মিছিল বের করবেন। আমাদের জানানো হলো, কলেজ গেট থেকে সুগন্ধায় আবার ওখান থেকে কলেজ গেটে আসা হবে। খুব কাছেই তাই বেশিক্ষন হাটতে হবে না। এটা কোন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে করা হবে না। আমাদের উদ্দেশ্য শুধু এই দূর্ঘটনার প্রতিবাদ করা।
আমি এক কথায় রাজি। কিন্তু কাকনকে (আমি ওর সাথে কলেজে যাওয়া আসা করি) রাজি করাতে পারলাম না। ওর মতে এসব ফালতু কাজ। বেশ, আমি একটাই যথেস্ট।
২৪ তারিখ কলেজে ২টা ক্লাস হলো। এরমধ্যে গুলশান (ক্লাসমেট) এসে জানালো যারা ভলান্টিয়ার হতে চায় তারা যেন একটা কাগজে ভলান্টিয়ার লিখে পিন দিয়ে কামিজের সাথে আটকিয়ে নেয়।পরে নিচে লুবনার (হেডগার্ল) সাথে যোগাযোগ করলে চলবে। আমি ভাবলাম, কলেজে এখন আমরা সবচেয়ে সিনিয়র। তাই মাতব্বরি করতে হলে ভলান্টিয়ার হওয়া জরুরী। কিন্তু লজ্জা লাগছিল। এমন সময় দেখি আমার পিছনের ব্যাঞ্চের মেয়েটা খুব যত্ন করে ইংলিশে ভলান্টিয়ার লিখছে। আমি বললাম আমাকেও একটা লিখে দাও। বলল, ওর সময় নেই। যেভাবে লিখছে, তাতে মিছিল শেষ হয়ে যাবে তবু ভলান্টিয়ার লেখা শেষ হবে না।কি আর করা মনের দু:খ মনেই চেপে নিচে নেমে এলাম। দেখি অনেকেই ভলান্টিয়ার লিখে ঘুরে বেড়াচ্ছে। যেন ইলেক্শনে বিজয়ী। আর সহ্য হলো না, আবার তিন তলায় উঠে ক্লাসে গেলাম। বেশির ভাগ মেয়ে নেই। দু'একজন ব্যাগ গুছিয়ে রওনা হচ্ছে। ওদের উদ্দেশ্যে বললাম, একটু কাগজ দাও। আসলে আমার খাতা সব নিউজপ্রিন্ট, সাদা কাগজ নেই। ওরা শুনেও না শোনার ভান করলো। একটু খারাপ লাগলেও সেদিকে লক্ষ্য না করে ব্যাগে কাগজ খুজতে লাগলাম। ডায়রীর পাতে রুল টানা হলেও উপরের কিছু অংশ সাদা। অদক্ষ হাতে সেটুকু ছিড়ে (বলা বাহুল্য কাগজটা খুবই আকা বাকা হয়ে গিয়েছিল) তাতে সাইন পেন দিয়ে লিখলাম, ভলান্টিয়ার। এরপর কালো ব্যাজের সাথে সেফটি পিন দিয়ে আটকিয়ে নিলাম। ঘোমটা ওয়ালীর কান্ড দেখে কিছু মেয়ে অবাক হয়ে গেল।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/shahana/29473812 http://www.somewhereinblog.net/blog/shahana/29473812 2011-10-28 17:03:44
মমতাজ হোটেল, বাগের হাট থেকে মমতাজ হোটেল
শেখা,
কেমন আছ? আমি ভাল আছি। পুরো ১২ ঘন্টা বাস জার্নি করলাম। উঠেছি মমতাজ হোটেলের ৫ নম্বর রুমে। ৩ বেড, ৩ কন্যা মহাআরামে আছি।
এখানে মশা প্রচুর। মশারী টানানোর পরও মনে হয় কানের কাছে গান গাচ্ছে।
হোটেল যে এতো পচা হয়, এখানে না আসলে, এতো বড় অভিজ্ঞতা থেকে বঞ্চিত হতাম। রুমে ৩টা বিছানা ছাড়া, একটা টেবিল, একটা চেয়ার আর একটা আয়না আছে। ও হ্যঁা, একটা দক্ষিনের জানালাও আছে। আমাদের ঘরটাই নাকি সবচেয়ে সুন্দর। সবার ধারনা ওদের ঠকিয়ে আমরা ভাল ঘরটা নিয়েছি। অথচ আমরা একবারেই এই ঘরে উঠেছি, অন্য ঘরে কি আছে না নেই সেটা চেক করিনি। পরে জানলাম অন্য ঘরগুলোতে জানালা নে. আসলে ভেন্টিলেটরই নেই তো জানালা তো আরও পরের কথা।
আমাদের বাথরুমের দরজায় ছিটকিরি নেই। কেউ ঢুকলে বাইরে থেকে বন্ধ করে দেই।শাওয়ার চলে না। অন্যদের কারো কারো বাথরুমে আলো নেই .. ইত্যাদি।
তারপরও সুখে আছি। মাথা ব্যাথা করছে। পচা পানি দিয়ে ওষুধ খাচ্ছিনা। কলের পানি দেখে মনে হলো কোন ডোবা থেকে পানি সাপ্লাই করেছে। তাই নাস্তার সময় কোকের সাথে ট্যাবলেট খাব। সারা রাস্তায় একটা পর একটা চকলেট খেয়েছি। বমি লাগলেও হয়নি।
সবচেয়ে ভাল লেগেছে ফেরিতে। পদ্না নদীর অবস্থা ভাল না। নদীতে চর আর চর। নালার মতোন এক পাশ দিয়ে ফেরি চলাচল করে। নদীর পানির রং সবুজ। ঘোলা পানি সবুজ হলো কি করে কে জানে।
রুপসা নদীতে ফেরি পার হতে হয়েছে। ছোট ফেরি।
এখন এ পর্যন্তই থাক। ৮টায় বের হতে হবে।
ইতি
শাহানা শফিউদ্দিন
পুন: সুমি আর রত্না কানের কাছে এমন গল্প করছে, তাই অনেক কাটাকুটি হলো।

স্টাডি টুরে মাস্টার্সে পড়ার সময় বাগের হাট, মংলা আর খুলনা ঘুরেছিলাম। বাগেরহাটে পৌছার পর ছোট বোনকে এই চিঠি লিখেছিলাম।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/shahana/29470641 http://www.somewhereinblog.net/blog/shahana/29470641 2011-10-22 16:16:37
পিনু আপার বাসা ২
সমাপ্ত

১৯৯২ সনের ডা্য়রীতে লেখা, এর বেশী লেখার ধৈর্য পাইনি।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/shahana/29469236 http://www.somewhereinblog.net/blog/shahana/29469236 2011-10-19 15:10:54
পিনু আপার বাসা ১ বড়পার প্রয়োজনে ওর চিঠি নিয়ে পিনু আপার বাসায় যাব এবং এতোদিনে জমা হওয়া এক বস্তা বই ফেরত দিতে এবং এর বিনিময়ে আরো এক বস্তা বই আনতে। শেখা (আমার ছোট বোন) পিনু আপার বাসায় আগে কখনও যায়নি। তাই ওকে এবার সাথে নিব। এসব বড় আপার সাথে আলোচনা করে ঠিক করলাম। এবার পিতা মাতার কাছে অনুমতি নেয়ার পালা।
আম্মা রাজি হলেন না, বললেন, এখন ৪টা বাজে। আমি তৈরি হয়ে যাব কখন আর আসব কখন। আমি বোঝালাম এখন ৭টায় সন্ধ্যা হয়। অতএব আমি ৬টার মধ্যে ফিরতে পারব। যাব আর আসব। আম্মা নিমরাজি হয়ে আব্বার পারমিশন নিতে বললেন। আব্বা যাব শুনে চুপ করে বসে রইলেন। নিরাবতা সম্মতির লক্ষন। শেখাকে চিৎকার করে বললাম তৈরি হয়ে নিতে। ওমা, ও দেখি এরমধ্যই পোশাক বদলে নিয়েছে। আমিও তাড়াতাড়ি তৈরি হয়ে নিলাম। তারপর বড়পার কাছে গিয়ে বললাম, ভাড়া দাও। ওর কাজে যখন যাচ্ছি তখন রিক্সা ভাড়ার খরচ ওরই করা উচিত। বড়পা বলল, ওর কাছে টাকা নেই। আমি জানালাম, আব্বা বলেছে টাকা দিবে না (না চাইতেই আব্বা একথা শুনিয়ে দিয়েছিল)।
বড়পা টাকা বের করতে লাগল, আর আমি পাশের ঘরে গিয়ে আব্বাকে বললাম, বড়পা বলেছে আপনার কাছে টাকা চাইতে। আব্বা অনিচ্ছা স্বত্তেও ২০টাকা বের করে দিলেন। কি আশ্চর্য্! রিক্সা ভাড়া ১০ টাকা বলে কি টাকা বেশি দিবে না? বৃষ্টির দিনে টাকা বেশি লাগে। আব্বাকে বলতেই বললেন, বেশি লাগলে সেটা পড়ে দেয়া হবে। আসলে খরচ করার পর টাকা বাড়তি থাকলে আমি সেটা ফেরত দেইনা। আমারও তো ইনকাম করতে হবে!

....১৯৯২ সনে লেখা ডায়রী থেকে]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/shahana/29468674 http://www.somewhereinblog.net/blog/shahana/29468674 2011-10-18 17:47:15
পিনু আপার বাসা ১ বড়পার প্রয়োজনে ওর চিঠি নিয়ে পিনু আপার বাসায় যাব এবং এতোদিনে জমা হওয়া এক বস্তা বই ফেরত দিতে এবং এর বিনিময়ে আরো এক বস্তা বই আনতে। শেখা (আমার ছোট বোন) পিনু আপার বাসায় আগে কখনও যায়নি। তাই ওকে এবার সাথে নিব। এসব বড় আপার সাথে আলোচনা করে ঠিক করলাম। এবার পিতা মাতার কাছে অনুমতি নেয়ার পালা।
আম্মা রাজি হলেন না, বললেন, এখন ৪টা বাজে। আমি তৈরি হয়ে যাব কখন আর আসব কখন। আমি বোঝালাম এখন ৭টায় সন্ধ্যা হয়। অতএব আমি ৬টার মধ্যে ফিরতে পারব। যাব আর আসব। আম্মা নিমরাজি হয়ে আব্বার পারমিশন নিতে বললেন। আব্বা যাব শুনে চুপ করে বসে রইলেন। নিরাবতা সম্মতির লক্ষন। শেখাকে চিৎকার করে বললাম তৈরি হয়ে নিতে। ওমা, ও দেখি এরমধ্যই পোশাক বদলে নিয়েছে। আমিও তাড়াতাড়ি তৈরি হয়ে নিলাম। তারপর বড়পার কাছে গিয়ে বললাম, ভাড়া দাও। ওর কাজে যখন যাচ্ছি তখন রিক্সা ভাড়ার খরচ ওরই করা উচিত। বড়পা বলল, ওর কাছে টাকা নেই। আমি জানালাম, আব্বা বলেছে টাকা দিবে না (না চাইতেই আব্বা একথা শুনিয়ে দিয়েছিল)।
বড়পা টাকা বের করতে লাগল, আর আমি পাশের ঘরে গিয়ে আব্বাকে বললাম, বড়পা বলেছে আপনার কাছে টাকা চাইতে। আব্বা অনিচ্ছা স্বত্তেও ২০টাকা বের করে দিলেন। কি আশ্চর্য্! রিক্সা ভাড়া ১০ টাকা বলে কি টাকা বেশি দিবে না? বৃষ্টির দিনে টাকা বেশি লাগে। আব্বাকে বলতেই বললেন, বেশি লাগলে সেটা পড়ে দেয়া হবে। আসলে খরচ করার পর টাকা বাড়তি থাকলে আমি সেটা ফেরত দেইনা। আমারও তো ইনকাম করতে হবে!

....১৯৯২ সনে লেখা ডায়রী থেকে]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/shahana/29468673 http://www.somewhereinblog.net/blog/shahana/29468673 2011-10-18 17:46:53
আর ভালবাসতে চাই না
তারপরও যখনই সামহোয়্যার আউট জানায় অফিস থেকে বাসায় ফিরছি, তখনই মনটা নাচতে থাকে। কি কান্ড বলুন দেখি? নিজের মনের উপর এতটুকু কন্ট্রোল নেই?]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/shahana/29465281 http://www.somewhereinblog.net/blog/shahana/29465281 2011-10-13 16:37:09
এইটাই সবচেয়ে ভাল খেলনা?
অনেক ঘোরাঘুরির পর ব্যাগ কিনলাম, তারপর মৌচাকের নিচতলায় প্রথম যে দোকানে খেলনা দেখলাম, সেখানে একটা দোতলা বাস পছন্দ করলাম। একদাম ১৫০ টাকা। এটা কিনলাম, কারন ওর দোতলা বাস নেই আর শাফিন রাস্তায় দোতলা বাস দেখলেই চিৎকার করে উঠে, দোতলা বাস, ডবল ডেকার। আর যতক্ষন দেখা যায় ততক্ষন তাকিয়ে থাকে। দেখতে দেখতে একেবারে ঝুকে পড়ে।

বাস কিনে রিক্সায় ফিরছি। দেখলাম ও গম্ভির মুখে বাসটা কোলে করে রেখেছে। একটু পর আমাকে বলল, এটাই সবচেয়ে ভাল খেলনা? সবচেয়ে সুন্দর খেলনা? হমম? আমি বুঝলাম ছেলে বুঝেছে, মা তাকে ঠকিয়েছে। সে অনেক রকম সুন্দর খেলনা দেখেছে, শেষ পর্যন্ত মা তাকে এটা কেন কিনে দিল সেটা সে বুঝতে পারছে না। আমারও খারাপ লাগল। বললাম, খেলনা পছন্দ হয়নি? বলল, না পছন্দ হয়েছে। বলে গম্ভির ভাবে আবার বসে রইল। এমনিতে খেলনা কিনলে সারা রাস্তা খেলতে খেলতে গল্প করতে করতে আসে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/shahana/29462104 http://www.somewhereinblog.net/blog/shahana/29462104 2011-10-08 13:23:21