বাংলাদেশ নিয়ে ভারতের খাঁই খাঁই ভাবের আর শেষ নেই। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলেই তাদের এই খাঁই খাঁই বেড়ে যায়। ট্রানজিট তথা করিডোরের চাহিদা তাদের আজকের নয়। সেই শেখ মুজিব যখন ক্ষমতায় তখন অর্থাৎ ১৯৭২ সালে ওরা ট্রানজিটের দাবি তোলে। এবার অর্থাৎ ২০০৯ সালের শেষে শেখ হাসিনা যখন দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসেছেন তখন ওরা করিডোর ও সমুদ্র বন্দর তো চাচ্ছেই এখন আবার ওরা নতুন একটি বায়না ধরেছে। সেটি হলো, বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগের ওপর প্রাধান্য বিস্তার। ভাবতে অবাক লাগে যে, এসবই ঘটছে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের অগোচরে। বাংলাদেশ সরকার বা ভারত কেউই বাংলাদেশের ১৫ কোটি মানুষকে এমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জানাবার প্রয়োজন মনে করে না। বাংলাদেশের মানুষকে এসব খবর জানতে হয় বিদেশের মাধ্যমে। এ ধরনেরই একটি খবর জানা গিয়েছে থাইল্যান্ডের একটি সূত্রের মাধ্যমে। খবরে প্রকাশ, বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ পদ্ধতির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য ভারত মরিয়া হয়ে উঠেছে। থাইল্যান্ডের একটি প্রচার মাধ্যমের নাম ‘থাইল্যান্ড নিউজ।' ঐ পত্রিকায় বলা হয়েছে যে, বাংলাদেশের কক্সেস বাজারের সাবমেরিন ক্যাবল ব্যবহার করে ওরা একটি শক্তিশালী ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে চায়। এই ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে তারা তাদের সাত বোন নামে পরিচিত উত্তর পূর্ব ভারতের সাতটি প্রদেশ বা রাজ্যের সাথে সংযোগ প্রতিষ্ঠা করতে চায়। এ ব্যাপারে ভারতের দুটি টেলিযোগাযোগ কোম্পানী ইতিমধ্যেই যৌথভাবে একটি প্রস্তাব বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ রেগুলেটরী কমিশন বা বিটিআরসির নিকট পেশ করেছে। ভারতে যে দুটি কোম্পানী যৌথভাবে বাংলাদেশের নিকট এই প্রস্তাব পেশ করেছে সে দুটি কোম্পানীর নাম হলো ‘ভারতী এয়ার টেল' এবং ‘রিলায়েন্স কমিউনিকেশনস্।' আজ অর্থাৎ ২০০৯ সালের শেষের দিকে বাংলাদেশের কাছে ভারতের এই প্রস্তাব পেশ সত্যিই অত্যন্ত রহস্যময়। কারণ বাংলাদেশের মধ্যদিয়েই যদি ভারত তাদের একটি অঞ্চলের সাথে যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা করতে চায় তাহলে তারা অতীতের উপআঞ্চলিক সহযোগিতার প্রস্তাব নিয়ে টালবাহানা করেছে কেন? সেই প্রস্তাব নিয়ে ভারত এতই টালবাহানা করে যে একসময় সেটি আঁতুড় ঘরেই মারা যায়। আজ এক যুগ পর ভারত টেলিযোগাযোগের ক্ষেত্রে এই প্রস্তাব নিয়ে এগিয়ে এসেছে কেন? এই বিষয়ে যাদের কিছুটা বিশেষ জ্ঞান আছে তারা জানে যে টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠার আলোচ্য প্রস্তাবের গূঢ় উদ্দেশ্য হলো, ভারতীয় সেনাবাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ডের সাথে বাংলাদেশের সামরিক স্থাপনাকে যুক্ত করা। যদি তাদের এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হয় তাহলে ভারত শুধুমাত্র বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগের ওপরই নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করবে না, বরং বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্কের ওপরও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় সক্ষম হবে। এমন একটি ভয়ংকর পরিণতি যদি ঘটেই যায় তখন বাংলাদেশের সামরিক স্থাপনাসমূহ ভারতীয় সেনাবাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ডের সম্প্রসারিত অংশে পরিণত হবে। ইতিমধ্যেই বাংলাদেশের পত্রপত্রিকাসমূহে প্রকাশিত আরেকটি খবরের প্রতি সচেতন পাঠকদের দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়েছে। ঐ খবরে বলা হয়েছে যে, ভারতের একটি বড় টেলিযোগাযোগ কোম্পানী বাংলাদেশের একটি মোবাইল টেলিযোগাযোগ কোম্পানীর ৭০ শতাংশ মালিকানা ক্রয় করার যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। যে কোম্পানীটির ৭০ শতাংশ শেয়ার ইন্ডিয়ানরা ক্রয় করবে সেই কোম্পানীটির নাম হলো ‘ওয়ারিদ টেলিকম।' আর ইন্ডিয়ান যে প্রতিষ্ঠানটি ক্রয় করবে তার নাম ‘ভারতী এয়ারটেল।' ৭০ শতাংশ শেয়ারের মূল্য ধার্য হয়েছে ৯০০ মিলিয়ন ডলার বা ৯০ কোটি ডলার। বাংলাদেশী মুদ্রায় ৬ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। ওয়ারিদ টেলিকমের মূল মালিক হলো আবুধাবী গ্রুপ। আলোচ্য ৯০ কোটি ডলার বা ৬ হাজার ৩০০ কোটি টাকা আবুধাবী গ্রুপের কাছে পরিশোধ করবে ভারতী এয়ারটেল। তথ্যাভিজ্ঞ মহল বলছেন যে, ব্যবসা বাণিজ্য নিয়ে ভারতের অভ্যন্তরে রিলায়েন্স টেলিকম এবং ভারতী এয়ারটেল প্রবল প্রতিদ্বনদ্বী। কিন্তু বাংলাদেশের ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্কের ওপর আধিপত্য বিস্তারে ভারতের এই দুটি বিজ্নেস জায়ান্ট বিস্ময়করভাবে হাত মিলিয়েছে।
চলবে
ইন্টারনেট

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

