somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণের জন্য ভারতের নতুন ষড়যন্ত্র - ১

২৭ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৫:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাংলাদেশ নিয়ে ভারতের খাঁই খাঁই ভাবের আর শেষ নেই। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলেই তাদের এই খাঁই খাঁই বেড়ে যায়। ট্রানজিট তথা করিডোরের চাহিদা তাদের আজকের নয়। সেই শেখ মুজিব যখন ক্ষমতায় তখন অর্থাৎ ১৯৭২ সালে ওরা ট্রানজিটের দাবি তোলে। এবার অর্থাৎ ২০০৯ সালের শেষে শেখ হাসিনা যখন দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসেছেন তখন ওরা করিডোর ও সমুদ্র বন্দর তো চাচ্ছেই এখন আবার ওরা নতুন একটি বায়না ধরেছে। সেটি হলো, বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগের ওপর প্রাধান্য বিস্তার। ভাবতে অবাক লাগে যে, এসবই ঘটছে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের অগোচরে। বাংলাদেশ সরকার বা ভারত কেউই বাংলাদেশের ১৫ কোটি মানুষকে এমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জানাবার প্রয়োজন মনে করে না। বাংলাদেশের মানুষকে এসব খবর জানতে হয় বিদেশের মাধ্যমে। এ ধরনেরই একটি খবর জানা গিয়েছে থাইল্যান্ডের একটি সূত্রের মাধ্যমে। খবরে প্রকাশ, বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ পদ্ধতির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য ভারত মরিয়া হয়ে উঠেছে। থাইল্যান্ডের একটি প্রচার মাধ্যমের নাম ‘থাইল্যান্ড নিউজ।' ঐ পত্রিকায় বলা হয়েছে যে, বাংলাদেশের কক্সেস বাজারের সাবমেরিন ক্যাবল ব্যবহার করে ওরা একটি শক্তিশালী ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে চায়। এই ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে তারা তাদের সাত বোন নামে পরিচিত উত্তর পূর্ব ভারতের সাতটি প্রদেশ বা রাজ্যের সাথে সংযোগ প্রতিষ্ঠা করতে চায়। এ ব্যাপারে ভারতের দুটি টেলিযোগাযোগ কোম্পানী ইতিমধ্যেই যৌথভাবে একটি প্রস্তাব বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ রেগুলেটরী কমিশন বা বিটিআরসির নিকট পেশ করেছে। ভারতে যে দুটি কোম্পানী যৌথভাবে বাংলাদেশের নিকট এই প্রস্তাব পেশ করেছে সে দুটি কোম্পানীর নাম হলো ‘ভারতী এয়ার টেল' এবং ‘রিলায়েন্স কমিউনিকেশনস্।' আজ অর্থাৎ ২০০৯ সালের শেষের দিকে বাংলাদেশের কাছে ভারতের এই প্রস্তাব পেশ সত্যিই অত্যন্ত রহস্যময়। কারণ বাংলাদেশের মধ্যদিয়েই যদি ভারত তাদের একটি অঞ্চলের সাথে যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা করতে চায় তাহলে তারা অতীতের উপআঞ্চলিক সহযোগিতার প্রস্তাব নিয়ে টালবাহানা করেছে কেন? সেই প্রস্তাব নিয়ে ভারত এতই টালবাহানা করে যে একসময় সেটি আঁতুড় ঘরেই মারা যায়। আজ এক যুগ পর ভারত টেলিযোগাযোগের ক্ষেত্রে এই প্রস্তাব নিয়ে এগিয়ে এসেছে কেন? এই বিষয়ে যাদের কিছুটা বিশেষ জ্ঞান আছে তারা জানে যে টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠার আলোচ্য প্রস্তাবের গূঢ় উদ্দেশ্য হলো, ভারতীয় সেনাবাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ডের সাথে বাংলাদেশের সামরিক স্থাপনাকে যুক্ত করা। যদি তাদের এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হয় তাহলে ভারত শুধুমাত্র বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগের ওপরই নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করবে না, বরং বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্কের ওপরও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় সক্ষম হবে। এমন একটি ভয়ংকর পরিণতি যদি ঘটেই যায় তখন বাংলাদেশের সামরিক স্থাপনাসমূহ ভারতীয় সেনাবাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ডের সম্প্রসারিত অংশে পরিণত হবে। ইতিমধ্যেই বাংলাদেশের পত্রপত্রিকাসমূহে প্রকাশিত আরেকটি খবরের প্রতি সচেতন পাঠকদের দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়েছে। ঐ খবরে বলা হয়েছে যে, ভারতের একটি বড় টেলিযোগাযোগ কোম্পানী বাংলাদেশের একটি মোবাইল টেলিযোগাযোগ কোম্পানীর ৭০ শতাংশ মালিকানা ক্রয় করার যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। যে কোম্পানীটির ৭০ শতাংশ শেয়ার ইন্ডিয়ানরা ক্রয় করবে সেই কোম্পানীটির নাম হলো ‘ওয়ারিদ টেলিকম।' আর ইন্ডিয়ান যে প্রতিষ্ঠানটি ক্রয় করবে তার নাম ‘ভারতী এয়ারটেল।' ৭০ শতাংশ শেয়ারের মূল্য ধার্য হয়েছে ৯০০ মিলিয়ন ডলার বা ৯০ কোটি ডলার। বাংলাদেশী মুদ্রায় ৬ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। ওয়ারিদ টেলিকমের মূল মালিক হলো আবুধাবী গ্রুপ। আলোচ্য ৯০ কোটি ডলার বা ৬ হাজার ৩০০ কোটি টাকা আবুধাবী গ্রুপের কাছে পরিশোধ করবে ভারতী এয়ারটেল। তথ্যাভিজ্ঞ মহল বলছেন যে, ব্যবসা বাণিজ্য নিয়ে ভারতের অভ্যন্তরে রিলায়েন্স টেলিকম এবং ভারতী এয়ারটেল প্রবল প্রতিদ্বনদ্বী। কিন্তু বাংলাদেশের ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্কের ওপর আধিপত্য বিস্তারে ভারতের এই দুটি বিজ্নেস জায়ান্ট বিস্ময়করভাবে হাত মিলিয়েছে।

চলবে

ইন্টারনেট
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×