somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অচেনা চীনে

০৫ ই আগস্ট, ২০১২ বিকাল ৩:৪৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এক।

জ্ঞান অর্জনের জন্যে সুদুর চীন পর্যন্ত যাবার জন্যে বলেছেন নবীজি। কেন বলেছেন চীনে যাবার চেষ্টা করার দিন থেকে হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি। চীনে যাওয়া সেদিন যেমন কষ্টকর ছিল এখনও তেমনই আছে। ভিসা নেবার জন্যে চীন এম্ব্যাসির বাঙালিদের কাছে বিস্তর ঘোরাঘুরি করতে হয়েছে। তারা প্রথম দিন আমার দিকে না তাকিয়েই বলে দিলেন কাগজ পত্র ঠিক নেই। যেহেতু ব্যাবসায়িক কারনে যাচ্ছেন, যে কোম্পানিতে যাচ্ছেন সেই কোম্পানি যে প্রদেশে সেই প্রাদেশিক সরকারের নেমনতন্ন লাগবে।নিজের কোম্পানির ৬ মাসের ব্যাংক স্টেইট্মেন্ট লাগবে। কোম্পানির ভিসিটিং কারড লাগবে। আরও কিছু কাগজ পত্র লাগবে। সব নিয়ে হাজির হতে প্রায় ৫ দিন লেগে গেল। ৬ষ্ঠ দিনে ঢুকতে পারলাম না। সূরযের চেয়ে বালুর তাপ বেশি। যে ঘরে ভিসার কাগজ পত্র জমা হয় তার সামনে একজন দারোয়ান স্রেণীর লোক আটকে দিল। পাসপোর্টের ফটো কপি চেয়ে। চৈনিক এম্বেসির সামনে ফটোকপির ব্যবস্থা নেই। দৌড়াতে দৌড়াতে গুলশান দুই। ফিরে আসার পর এম্বেসির সদর দরজা বন্ধ। সেই দারোয়ান সাহেবের দেখা পাওয়া গেল তিনি নির্বিকারে বললেন বারোটার আগে আসবেন না। সেই মুহূর্তে এক অভিজ্ঞ লোকের কাছে জানলাম ফটোকপির আসলে দরকারই নেই।
পরদিন আবার গেলাম। এবার একজন অভিজ্ঞ ভিসা কেরানি বললেন আপনারটা জমা নেওয়া যাবেনা। আপনার ৬মাসের স্টেইট্মেন্ট নেই। আমি দেখালাম জানুয়ারি ১ তারিখ থেকে জুলাই মাসের ১ তারিখ পর্যন্ত আছে। উনি বললেন না এপ্রিল মাসে ্ট্রাঞ্জাকশন নাই।
আমি বললাম এপ্রিল মাসে ্ট্রাঞ্জাকশন হয়নি –
- এ কথা কাউন্সিলর কে কে বোঝাবে?
- আমি কেন বুঝাবো? আপনি বরং চায়না ইস্টার্ন এয়ার লাইন্সের মাধ্যমে যোগাযোগ করেন।
চায়না ইস্টার্নে যাবার পর আসল রহস্য উন্মোচিত হল। ২৮০০০, টাকা লাগবে ভিসার জন্যে। চীন দেশের বিভিন্ন স্রেণীর ভিসা ফি আছে । তবে কোনটিই ৪৮০০ টাকার বেশি নয়।চায়না ইস্টার্নের সাথে ভিসা অফিসের মহারথিদের যোগাযোগ থাকাটা তাই বাংলাদেশর পরিস্থিতে খুবই তাৎপর্যময়। যাই হোক ভিসা শেষ পর্যন্ত হোল।তবে ভিসা আবেদনের দিন যে টিকেটের দাম ছিল ৪৭০০০/ সেটা ততদিনে বেড়ে দাঁড়িয়েছ ৭১৮০০তে।

দুই।
জিয়া আন্তর্জাতিক থুড়ি হযরত শাহজালাল এয়ারপোরটে (আমরা ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করবোনা বলে আইন পাশ করার বছরই ভিনদেশি এই ওলির নামে এয়ারপোর্টের নাম করণ করা হয়েছে, বার বার ভুলে যাই) পৌছে দেখি লোকে লোকারণ্য। এত লোক যে চায়না যায় আগে যানা ছিল না। রাত দুইটায় ফ্লাইট। চেক ইন হয়ে গেল সাড়ে বারোটায়। তার পর ডিঊটি ফ্রি শপে ঘোরা ঘুরি আর একটু পর পর ফ্লাইট সিডিউল দেখি। ঈলেক্ট্রনিক বোডে বার বার একই লেখা। চায়না ইস্টার্নের যাত্রীদের চেক ইন হচ্ছে। হঠাত শুনি মাইকে আমার নাম ঘোষণা করা হচ্ছে। আমাকে ১৬ নম্বর গেটে দ্রুত যেতে বলা হচ্ছে। িমিগ্রেশনের এক কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসা করলাম গেট টি কোন দিকে তিনি, ফটিকের ওই হোথা জাতিয় একটা কিছু বললেন। আরও দুই একজনের কাছে জিজ্ঞাসা করে, সেই গেটের দিকে ছূটতে থকলাম। ততক্ষণে আমার সহযাত্রীরা বোর্ডিং শুরু করেছে মনে হল। বাঙালির একটা সহজাত ইন্টিঙ্কট আছে। তারা অনেক কিছু আন্দাজ করতে পারে। সেই ইন্সটঙ্কটের জোরেই তারা প্লেনে উঠে যাচ্ছে। আর আমি মহা দুশ্চিন্তায় ১৬ নম্বর গেটের দিকে আগাচ্ছি। বাড়িতে খুব আসুস্থ একজন রোগি রেখে এসেছি, তাঁরই কি কিছু হল, না কি আমার ভিসার গণ্ডগোল, আমাকে কি ফেরত যেতে হবে ভাবতে ভাবতে ১৬ নম্বর গেটে পৌছলাম। যেয়ে দেখি প্লেনের অথবা ইমিগ্রেশনের কোন লোক দাঁড়িয়ে তিনি বললেন সবাই তো ঊঠে যাচ্ছে আপনার দেরি দেখে ভাবলাম ফ্লাইট মিস করবেন। তখনও কিন্তু ডিস প্লে তে আমাদের চেকিং ই দেখাচ্ছে। সেদিকে তার দৃষ্টি আকর্ষণ করায় তিনি বললেন সম্ভবতঃ ভুল দেখানো হচ্ছে। এই সব ঘটনা অঘটনের মধ্যে দিয়ে কুনমিং পৌছে দেখলাম সারা এয়ারপোর্ট জুড়ে মানুষের ছড়া ছড়ি। পরে জেনেছি উইকেন্ডের জন্যে এত ভিড়। এদের মধ্যে দুই একজন বাঙালি ছাড়া কথা বলা কিম্বা সাহায্য করার মত কেউ নেই। এরকম জায়গাতেও ইংরেজি জানা চীনা লোকের অভাবে অহেতুক ছোটা ছুটি করতে হল। কোন লাইনে দাঁড়িয়ে কুনমিং এর টিকেট কনফারম করবো সেটাই খুজে পাচ্ছি না। শেষ মেষ একটা লাইন খুজে পেলাম কিন্তু সেই লাইন যখন কাউন্টারে পৌছাল ততক্ষণে সিস্টেম বিকল। অতঃপর আবার লাইনের খোঁজে ছুটলাম। এবার ও একই ঘটনা ঘটলো। প্লেন ছাড়ার আরমাত্র ৩২ মিনিট বাকি। একটু পরপরই ইলেক্ট্রিওনিক বোর্ডে লেখা উঠছে, ফ্লাইট ছাড়ার ৩০ ইনিট আগে চেক ইন বন্ধ হয়ে যাবে। এই প্লেন মিস হলে আমার সমূহ বিপদ। চীন দেশে আমি কিছুই চিনি না। কুনমিঙ্গের কিছু বাঙালি ব্যবসায়িকে আগে এয়ারপোর্টে দেকেহছিলাম কিন্তু ততক্ষনে তারাও এয়ারপোর্ট ছেড়েছে। বোরডিং পাশ হাতে নিয়ে ছূটতে লাগলাম ৬৪ নম্বর গেটের দিকে।

তিন।
সেনঝেন পৌছে পড়লাম আরেক বিড়ম্বনায়। কুনমিং থেকে আমার লাগেজ পৌছেনি। লস্ট এন্ড ফাউন্ডে গিয়ে নিজেঈ লস্ট হয়ে গেলাম। এরা চৈনিক ছাড়া অন্য কোন ভাষা বোঝে না। আর আমার চৈনিক জ্ঞান নি হাঊ ( কেমন আছেন?) পর্যন্ত। (অসমাপ্ত)
৮টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিলেন মমতার দলকে?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২২


শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জিকে। কিভাবে? দুই দফায় পানিচুক্তি হতে দেননি মমতা। কংগ্রেসের মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এবং বিজেপির Narendra Modi প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন দুবার দুজনই বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন, দুবারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×