পুলিশ তুমি কার
২৭ শে এপ্রিল, ২০০৮ সকাল ১০:৫৩
সুন্দর একটা স্বপ্ন দেখেছিল টগবগে যুবক তূর্য (ছদ্ম নাম)।দেশ গড়ার স্বপ্ন। একমাত্র উচচ শিক্ষা ছাড়া বিদেশ যাবে না, দেশেই ক্যারিয়ার গড়বে। দেশে কি মানুষ থাকে না? বিসিএস-র গাইড কিনছে সে। অন্য দুই ভাই দেশের বাইরে থাকায় পরিবার দেখভালের অভাবটুকু সে একাই পূরণ করবে। বাবা মাকে আগলে রাখবে, আরো কত তাজা স্বপ্ন ও প্রত্যয় নিয়ে এগিয়ে চলছিল তূর্য!
নামকরা একটি প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির বিবিএ ফাইনাল ইয়ারের ছাত্র সে। মায়ের সাথে ক’টা দিন কাটাবে বলে গ্রামীন টেলিকমে ইন্টার্ণশীপ শেষ করে থিসিস জমা দিয়েই গ্রামের বাড়ীতে ছুটে গেছে ছেলেটি ।সাথে নিয়েছে এক বন্ধুকে, যাকে সে নিজেদের ছায়াঘেরা সুনিবিড় গ্রাম দেখাবে। এরপর ঢাকা ফিরেই পূর্নোদ্যমে শুরু করবে নতুন ও উদ্দীপ্ত জীবন গড়ার পথ চলা। স্নেহময়ী মা তার নানান ব্যধিতে আক্রান্ত । কি নেই? ডায়াবেটিক, হাই ব্লাড প্রেসার, হার্টের রোগ সবই আছে। ছেলেমেয়েরা কাছে না থাকার বাড়তি শোকের কথা না হয় বাদই দিলাম। ঔষধপথ্য নিয়মিত সেবন করলেও মাঝে মাঝেই অজ্ঞান হয়ে মেঝেতে পড়ে যান । বাড়ীতে এসে তূর্য শোনে ক’দিন আগেও তার মায়ের এমনটি হয়েছিল। তখন ওকে জানায়নি। লেখাপড়ায় ক্ষতি হবে যে! তূর্য তাই বন্ধুসহ মাকে শহরে বড় বোনের বাড়ীতে নিয়ে যায় ডাক্তার দিয়ে আরেকবার চেক আপ করাতে। কিন্তু কে জানে এখানেই তূর্যের জন্য অপেক্ষা করছিল ভীতিকর ও দুঃসহ জীবনের নতুন এক অধ্যায়!
পরদিন সবাই বোনের বাড়িতে দুপুরে খাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল । এমন সময় টুং টাং কড়া নাড়ার শব্দে দরজা খুলে হতভম্ব হয়ে যায় তূর্য। দুজন পুলিশ দাড়িয়ে, সাথে তাদের এক আত্মীয়ের আত্মীয় (যাকে সে নানা ডাকে এবং যিনিও কিনা প্রাক্তণ পুলিশের এস আই)। লোকটি ওকে দেখিয়ে দিয়ে পুলিশকে বলে, এরই নাম তূর্য। কিছু বুঝে উঠার আগেই পুলিশের হুকুম, ‘প্যান্টটা পড়ে নিন, আমাদের সাথে একটু যেতে হবে।‘ ভয় পেয়ে পাছে মায়ের কোন অঘটন ঘটে বসে ভেবে দ্রুত পুলিশের সাথে সে পথ চলে। পুলিশ ওকে তাদের গাড়ীতে বসায়। আর ওই লোকটি কাজ সমাধা হয়েছে বিধায় সটকে যাওয়ার পথ খোজে।তূর্যের ভাবলেশহীন নীরিহ চেহারা দেখে পুলিশ হয়তো খানিকটা বুঝতে পারে লোকটি ওকে অযথা ফাসাতে যাচ্ছে।তাই তাকেও ধমকিয়ে গাড়ীতে উঠায়।
এদিকে অন্য একজন পুলিশ তূর্যকে একের পর এক হুমকি দেয়। হাত-পা ভেঙ্গে গুড়া করে দিব, তোর সাথে আর কে কে আছে বল ইত্যাদি । প্রাথমিক তদন্তেরও তোয়াক্কা না করে এস আই আব্দুর রাজ্জাক মাথা, কান ও বুক বরাবর প্রচন্ড বেগে তিন চারটি ঘুষি মারে। প্রচন্ড ব্যাথায় কুকড়ে উঠে তূর্য। আকাশ ভেঙ্গে মাথায় পড়ে তার। কি বলবে সে? ভদ্রবেশী ওই অমানুষটাকে সে জিজ্ঞেস করে, নানা আমি কি করেছি? নানা উত্তরে জানায় গত রাতে সে ৫০ হাজার টাকা নিয়েছে। অবাক হয়ে তূর্য জানতে চায় টাকা নিব কেন, সে টাকাই বা কোথায় রেখেছি, কোথা থেকে নিলাম, আমার বাবার কি সামান্য এই টাকা নাই, এসব কি বলছেন? লোকটি এবার এলোমেলো ভাবে পুলিশকে জানায়, রাতে নিয়েছিল, আজ সকালে ফেরৎও দিয়েছে।পুলিশ লোকটিকে হুমকি দিয়ে জিজ্ঞেস করে, টাকা যদি ফেরৎ পেয়েই থাকেন তবে আসছেন কেন, আপনাকেও ছাড়ছি না, ইত্যাদি। কিন্তু থানায় আসার পর অজানা অথবা জানা কারনে তাকে ছেড়ে দেয়া হয় আর তূর্যকে ভরা হয় লক আপে ।
মামলা সাজানো হয় সম্পূর্ণ উল্টাভাবে। জেলা পুলিশ লাইন থেকে তূর্যকে ধরা হয়েছে, টাকা সহ! মানে ‘পুলিশে সে লোক নিয়োগ দিবে’ কথা বলে মানুষজনের কাছ থেকে টাকা নিতে সে ঢাকা থেকে এসেছে বন্ধুবান্ধবসহ। আর আমাদের চৌকষ পুলিশবাহিনী তাকে ধরে ফেলেছে টাকা লেনদেনরত অবস্থায়! কি অদ্ভূত, পৃথিবী!
ওদিকে উৎকন্ঠিত অসুস্থা মা, ছেলে এখনো ফেরে না কেন? ঘুমের ট্যাবলেট খাওয়ায়ে তাকে রাখতে হয় দিনের পর দিন।বাবা স্কুল শিক্ষক, সজ্জন ও নীরিহ হিসেবে এলাকায় সমধিক পরিচিত। কয়েকমাস পরেই রিটায়ার্ড হবেন। পাগলের মত এদিক ওদিক ফোন করেন। খবর চলে যায় তূর্যের পারিবারিক বন্ধু এক এএসপির কাছে। তিনি ফোন করেন সংশ্লিষ্ট জেলার এসপি বরাবর। ভাল মানুষ হিসাবে জেলায় এসপির নামডাক আছে। তিনি তূর্যের পারিবারিক খবর নিতে শুরু করেন। কোন খারাপ রিপোর্ট পান না। কষ্টেসৃষ্টে তূর্যের বাবা-মা দেখাও করেন এসপির সাথে। জানতে চান তাদের ছেলে কি অপরাধ করেছে? ইউনিভার্সিটিতে কি সে কোন আইনবিরোধী কাজের সাথে জড়িত? পুলিশ সব কিছু এবার বুঝতে পারে। সম্পূর্ন ঈর্ষাপরায়ন বশত সম্ভাবনাময় তরুন ছেলেটাকে ফাসিয়ে দিয়েছে আত্মীয়রুপী ওই অমানুষটি। এসপি, এএসপি সহমর্মিতা দেখালেও থানার ওসি তূর্যকে ছাড়ে না। থানার ব্যাপার স্যাপার যারা বোঝে তাদের সাথে যোগাযোগ করে তূর্যের আত্মীয় সজন। ওসিকে বখশিস দেয়া হয়। ইতিমধ্যে ওসি বেচারা নাকি বেশ খ্যাতি অর্জন করেছেন ওসিগিরী করে রাজশাহীতে সম্পদের পাহাড় গড়ে।
দেশের মাটিতে কামড়ে পড়ে থাকবে বলে যে প্রতিজ্ঞা করেছিল, সম্পূর্ন বিনা কারনে শুরু হল তার নতুন জীবন। এই কচি বয়সে সমাজের প্রভাবশালি ও উচচ শিক্ষিত তথাকথিত ভদ্রমানুষদের সুফী চেহারার আড়ালে ঘৃন্যরুপের কিয়দংশ এক এক করে দেখতে শুরু করল সে। তার বাবার ছাত্র ও পারিবারিকভাবে শুভাকাংখী যাকে কিনা সারাজীবন আপনজন বলে জেনেছে, ফোনে পুলিশকে বলছে, পিটিয়ে কথা বের করতে। এত কড়াকড়ি অবস্থার মধ্যেও চোখের সামনে সে দেখল সামান্য একশো টাকার বিনিময়ে এক খুনীকে কিভাবে পুলিশ ছেড়ে দিল।এক এস আই এসে ওকে বলল, আপনার আপাকে আমার সাথে দেখা করতে বলুন, তবে এটি ভাববেন না যে আমি ঘুষ চাচ্ছি। আকাশের দিকে চেয়ে থাকে তূর্য, বোঝে না কি করবে সে। যে ধারায় তার বিরুদ্ধে মামলা সাজানো হচ্ছে, তাতে নাকি তার সাত বছরের জেল হবে। তার মত অনেক নিরপরাধ ছাত্র, কিশোর, যুবার সাথে পরিচয় হয় জেলের ভিতর। নিজের ভবিষ্যৎ ভেবে আৎকে উঠে তূর্য। বাইরের পরিচিত মানুষজন তাকে নিয়ে কি ভাবছে? তারা তাকে ভুল বুঝছেনা তো? কিভাবে তাদের সামনে সে মুখ দেখাবে? ছাড়া পেয়ে কয়জনকে সে বুঝাবে?
যাহোক, এসপি ও এএসপির বদান্যতায় শেষমেশ জেল খেটে তূর্য ছাড়া পেয়েছিল ঠিকই, কিন্তু ভয় ও অজানা আশংকা তার পিছু ছাড়েনি। আগেরমত তার প্রত্যয় নেই, দেশের থাকার অদম্য বাসনাও নেই। প্রতিশোধের স্পৃহা সারাক্ষন তাকে তাড়া করে বেড়ায়। ফুপিয়ে ফুপিয়ে কেদে বলছিল আমাকে কোন কিছু না লিখতে। না জানি কখন আবার পুলিশ এসে তাকে কোন ধারার সীমাহীন ক্ষমতা বলে ধরে নিয়ে যায়!
তূর্যের সম্ভাবনাময় জীবনে আর নতুন কোন অঘটনা ঘটুক, তা অবশ্যই চাইনা বরং তার চলার পথ আবার শুভ হোক, আশা ভঙ্গের আর কোন অনভিপ্রেত পরিস্থিতির সম্মুখীন না হোক, তাই-ই কামনা করি। কিন্তু একদম নিরবতাকে নিজের বিবেকের কাছে কোনমতেই মেনে নিতে পারছিলাম না। পত্র পত্রিকায় টুকটাক লেখালেখির সুবাদে অনেকেই
ই-মেইল করে, ফোন করে তাদের জীবন ঘনিষ্ঠ অনেক সমস্যার কথা বলেন। মানুষের কাছে তাদের মনের আকুতি তুলে ধরতে বলেন। ভাবলাম এসব নিয়ে আমি কিভাবে কলাম লিখব? আমার প্রিয় যেদেশে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীরা সরাসরি আন্ডারওয়ার্ল্ড সন্ত্রাসীদের সাথে জড়িত কিংবা বিচারপতিদের শায়েস্তা করতে লাঠি মিছিলের নেতৃত্ব দেন, খোদ প্রধানমন্ত্রী যেদেশে এক লাশের বদলে দশ লাশ ফেলে দেয়ার হুকুম দেন, ওসির নির্দেশে প্রতিবেশীর জমি-বাড়ী ভোগ দখলের খায়েশে কলেজ ছাত্রকে হত্যা করা হয় কিংবা দিন দুপুরে পুলিশের সামনে সাপের মত পিটিয়ে মানুষ হত্যা করা হয়, যৌতুকলোভী শয়তান স্বামীদের নির্যাতনের শিকার হয়েও নারীরা পুলিশকে কাছে পায় না, যেদেশে ইয়াসমীন, রাহেলা, নূরজাহান আর কত নাম না জানা কৈশোরী, তরুনীর অকাল জীবনের করুন পরিসমাপ্তি ঘটে সেদেশে আমি কত জনের কথা লিখব? সর্ষের মধ্যেই যদি ভুত থাকে, সে ভুত তাড়াবে কে? তাও আবার পুলিশের বিরুদ্ধে যে বিভাগে কিনা আমার আত্মীয় সজনদের বিরাট অংশই বিভিন্ন পদে কর্মরত? তবুও অজস্র মজলুম হতভাগাদের মধ্য থেকে তূর্যের কথা লিখছি, কারন তার কান্না আমাকে সরাসরি শুনতে হয়েছে। প্রায় সপ্তাহ খানিক ধরে ভেবেছি আমি কি সত্যি কিছু লিখব না? কেমন করে নিশ্চুপ হয়ে বসে থাকি যেখানে আমার কিনা মুক্ত অস্ত্র (কলম)কে কেউ লাগাম টেনে ধরতে পারবেনা। যে লেখায় প্রানের স্পন্দন থাকে না, মাটি ও মানুষের চাপা কান্না থাকে না, জীবনবোধের দোলা থাকে না, হৃদয়ের স্খরন থাকে না, তা আবার কিসের লেখা?
মুঞ্জুরুল করিমের ক্রাইম ওয়াচে কয়দিন আগে দেখলাম দক্ষিনাঞ্চলের এক জেলার গোটা পরিবারের ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ হওয়ার করুন কাহিনী। শুরু হয় কলেজ পড়ুয়া মেয়ের মুখের উপর এসিড নিক্ষেপের মাধ্যমে। তারপর একে একে হত্যা করা হয় পরিবারের কয়জন সদস্যকে। এবার তাদের লোলুপ দৃষ্টি পড়ে জমি জমার উপর। সাথে রয়েছে পুলিশের উপরি চাহিদা। সইতে না পেরে পরিবারের জীবিত একমাত্র পুরুষ সদস্য বাবা (যিনিও সারা শরীরে জখমের চিহ্ন বয়ে বেরাচ্ছেন) মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে হাসপাতালে উঠেছেন। বেদনাদায়ক ব্যাপার হল, সেখানেও বেপরোয়া সন্ত্রাসীদের হুমকি ধমকি থেকে নিস্তার পাচ্ছেন না নিঃস্ব ওই পরিবারটি। পুলিশের চেয়েও বহুগুন উন্নত ও আধুনিক অস্ত্র শস্ত্রে সজ্জিত সন্ত্রাসীদের নিকট আমাদের পুলিশবাহিনী যেন নির্জীব এক অপদার্থের নাম।
অথচ, অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে পুলিশ ঠিকই লিখে রেখেছে তাদের ভিশন হল, প্রতিটি নাগরিককে সেবা প্রদান করে বসবাস ও কাজের জন্য সুন্দর ও নিরাপদ বাংলাদেশ বাস গড়ে তোলা (To provide service to all citizens and make Bangladesh a better and safer place to live and work) এবং তাদের মিশন হল, আইনের শাসন সমুন্নত রাখা, নাগরিকদের সেফটি ও সিকিউরিটি নিশ্চিত করা, অপরাধ দমন ও তা নির্ণয় করা, অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা, এবং শান্তি ও শৃংখলা বজায় রাখা (To ensure safety and security of citizens, To prevent and detect crime, To bring offenders to justice, To maintain peace and public order) ।
একটা সুস্থ ,সুন্দর ও সভ্য সমাজ বিনির্মানের প্রধান সোপান হল আইনের যথাযথ প্রয়োগ ও সবার প্রতি মানসম্মত আচরন। কোন সমাজ থেকেই মিথ্যার বেসাতি ও অপরাধ সমূলে নির্বংশ করা আকাশ কুসুম কল্পনা বৈ কিছু নয়। কিন্তু সেসব নিয়ন্ত্রণে রাখতে গিয়ে নিয়ন্ত্রকরাই যদি সমান বা তার চেয়েও বেশী অপরাধে জড়িয়ে পড়ে, তাহলে অসহায় মানুষরা যাবে কোথায়? পুলিশের কোন্ আইজি যেন একদিন বলেছিলেন, যদি সামগ্রিকভাবে এই বাহিনীর সব সদস্য কোন অপরাধের সাথেই জড়িত না হতেন, তবে সারাদেশের অপরাধ আপনা আপনিই কমে যেত।
এনটিভিতে এই তো কিছুদিন আগে কয়েকটা এনজিও প্রতিনিধিদের সাথে মতবিনিময়কালে পুলিশের আইজির বক্তব্য মনযোগের সাথে দেখছিলাম। তিনি পুলিশদের একটু ধাক্কা দিতে অনুরোধ করছিলেন যাতে করে তারা অল্প বেশী নড়ে চড়ে ওঠে, অচলায়তনের শক্ত খুঠি ভেঙ্গে একটু হলেও সচল হয়। বৃটিশদের পৌণে দুইশো বছর শাসনের ধারাবাহিকতার ফসল পুলিশের এই সেবাহীন মনোভাবের বর্তমান ধারা আগামী একশো বছরেও পরিবর্তন হবে কিনা তা নিয়ে খোদ পুলিশের আইজিই সন্দেহ প্রকাশ করছিলেন। একথা বলতে আজ দ্বিধা নেই যে, উপমহাদেশে বৃটিশদের দীর্ঘদিনের দস্যুপনার শিকার হতে হয়েছে সরকারী ,বেসরকারী সহ প্রতিটা বিভাগ ও ক্ষেত্র। জনগনকে সরকার ও তাদের বিভাগসমূহ থেকে দূরে রাখার প্রবণতা নিয়েই তাদের মত করে গড়ে তুলেছিল বিভিন্ন ইনস্টিটিউশন। তৈরি করেছিলে একদল এলিট শাসক শ্রেনী যারা কিনা আম জনতার ধরাছোয়ার বাইরে থাকবে। আদালতকে ‘লর্ড’ বলা তারাই শিখেয়েছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘একান্ত ও বাধ্য অনুগত ছাত্র’ তৈরির কারিকুলাম তারাই সাজিয়েছে। পাকিস্তানীরা ২৩ বছরের শাসনের জন্য যদি একবার ক্ষমা চায় তবে বৃটিশদের ভদ্রবেশী দস্যুবৃত্তির জন্য আমাদের নিকট কমপক্ষে সাতবার ক্ষমা চাওয়া উচিৎ। প্রথম স্বাধীনতা প্রাপ্তিরও তো ষাট বছর পার হতে চলল, আমরা কি ওই গোলামী মনোবৃত্তির জিঞ্জিরতা থেকে আমাদেরকে টেনে বের করতে পারব না?
সাধারন মানুষের মনের ভিতর থেকে না বলা কথা টেনে এনে পুলিশের আইজি নূর মোহাম্মদ বলেছিলেন, ‘এই বিভাগটি মূলত রক্ষক না হয়ে ভক্ষকের ভূমিকায়ই বেশী পরিমানে চালিত হয়। তা পরিবর্তন করতে হবে।‘ সত্যিকার সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে এটিকে পরিনত করার কঠিন চ্যালেঞ্জ তিনি হাতে নিয়েছেন। কতটুকু সফল হবেন জানিনা, তবে একথা সত্যি যে মুষ্টিমেয় কিছু অসৎ পুলিশ সদস্যদের কারনে আজ গুরুত্বপূর্ন ও অপরাধ দমনে প্রথম পদক্ষেপ নেয়া এই আইন শৃংখলা রক্ষা বাহিনীর পচন কেউ ঠেকাতে পারছেনা। এরশাদের বেপরোয়া পুলিশ, খালেদা ও হাসিনার গনতান্ত্রিক পুলিশ, ফখরুদ্দীনের জরুরী অবস্থার পুলিশ-জনগন সবই দেখেছে। কিন্তু মানুষ ভালবাসার পুলিশ বাহিনী কোথায়?
এক একজন বঞ্চিত মানুষের বিন্দু বিন্দু ক্ষোভ জমা হতে হতে আগ্নেয়গিরির লাভা হয়ে যখন পুরা বাহিনীকে খেয়ে ফেলবে তখন আর করার কিছুই থাকবেনা। গুরুত্বপূর্ণ এই বাহিনীর অকর্মন্যতার ফলে দেশটার রসাতলে যাওয়া থেকে কেউ বাচাতে পারবেনা। আমেরিকা ও কানাডায় পুলিশ বিভাগে রিক্রটিং শুরুই হয় পদের নাম ‘পুলিশ অফিসার’ এবং অন্যান্য চাকরির সমান্তরালে সম্মানজনক বেতন ভাতাসহ উন্নত সুযোগ সুবিধার মাধ্যমে। অবৈধ পথে টাকা রোজগার না করলেও তাদের সংসার সুন্দরভাবে চালাতে কোন কষ্ট করতে হয় না। যদিও উন্নত দেশসমূহের সাথে তৃতীয় বিশ্বের কোন দেশের তুলনা করা বাস্তবসম্মত নয়, তবুও মনে হয় খুব জরুরী ভিত্তিতে পেটোয়া বাহিনী থেকে মানুষের কল্যানের বাহিনীতে রুপান্তরিত করার জন্য বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর ‘ত্রি টি (ট্রেনিং, টেকনোলজি ও টাকা বা উন্নত পারিতোষিক)’ বাস্তবায়নের উদ্যোগ দ্রুত নেয়া উচিৎ। দেশ বিদেশ থেকে উন্নত প্রশিক্ষক এনে বছরব্যাপী সেবামূলক নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা, বিশ্বমানের উন্নত প্রযুক্তির যথাযথ প্রয়োগ রপ্ত ও সর্বোপরি উন্নত বেতন ভাতার পাশাপাশি কড়া জবাবদিহী মূলক সিস্টেমের ব্যবস্থা থাকা উচিৎ। উচচপদে সঠিক অফিসার বাছাইয়ের জন্য পুলিশের আইজি ম্যানেজমেন্টের জনপ্রিয় PAQ থিউরি বাস্তবায়ন করতে পারেন, যার অর্থ পারফরমেন্স, এক্সেপ্টেন্স ও কোয়ালিফিকেশন। অর্থাৎ কর্মদক্ষতার মাধ্যমে যেসব পুলিশ অফিসারেরা সর্বক্ষেত্রে নিজেদের যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখে সবার মাঝে গ্রহনযোগ্যতা অর্জন করেছেন শুধু তাদেরকেই সঠিকভাবে প্রশাসন তদারকীর জন্য লোভনীয় ও অধিক দায়িত্বশীল পদে বসানো হবে। যাতে করে পুলিশকে দেখে সাধারন মানুষ ভয়ে আতকে উঠবেনা, ‘ঘুষ ও পুলিশ একই সমান্তরালে চলে’ এই অপবাদকে উল্টিয়ে দিয়ে মানুষের মনে গেথে যাবে ‘সেবাদানই হল পুলিশের একমাত্র ব্রত’।
মাহবুব সুমন বলেছেন:
হুমমম, লেখাটি ভালো লাগলো।
লেখক বলেছেন: ভাল লাগায় খুশী হলাম। পড়ার জন্য ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: ব্যস্তই থাকতে হয়। তবে এর মাঝে কিন্তু দুটা লেখা দিয়েছি।
তুকি মনে হয় মিস করেছো।
এখনো কি ছন্নছাড়াই আছো? ছন্ন কি যুক্ত হয়নি? কবে আসছে?
প্রশাসন বলেছেন:
ভাই ভাল লাগল। তবে আপনার এই ঘটনার সাথে আমার নিজের একদিনের ঘটনার কথা মনে পড়ল। আমাকে মোটর সাইকেলের জন্য সন্ধ্যা পর্যন্ত আটকে রাখে। অপরাধ আমি আমার চাচার মোটরসাইকেল চালাইছি। আটকে ২০০ টাকা চায় বখশিষ হিসেবে। আমি বললাম রশিদ দিলে অবশ্যই টাকা দিব। তাই একদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত অফিসে আটকে রাখে। এই হল পুলিশ। আমি সকলকে অনুরোধ করব পুলিশকে কোন ভাবেই প্রশ্রয় দিবেন না। এখানে মাথা থেকে গোড়া পর্যন্ত এবং এদের অফিসের ইটগুলা পর্যন্ত ঘুষ খায়। গত ২২.০৪.০৮ তারিখে থানায় গেলে দেখি রিসিপষনিষ্ট তার দুই পা টেবিলে তুলে চেয়ারে হেলান দিয়ে ফ্যানের নীচে বসে আছে। কত যোগ্য রিসিপসনিষ্ট। তবে আপনার পোষ্ট ভাল লাগল। ধন্যবাদ। chatt korben massanger a
লেখক বলেছেন: আপনার ঘটনাটা শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ।বেশ দুঃখ পেলাম।
পুলিশ যে এই চক্র থেকে কবে বেরুতে পারবে?
কোলাহল বলেছেন:
পুলিশ যে আসলে কার এই প্রশ্নের উত্তর এখনও আমাদের জানা নেই। আমরা শুধু একটি স্বার্থপর, অসৎ, বিষাক্ত চেহারা দেখে আসছি যুগ যুগ ধরে। যতই ঢেলে সাজানো হয় আসলে কোন পরিবর্তন হয়না।মানুষের ভিতর থেকে পরিবর্তন আসাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। হতে পারে সে পরিবর্তনের পরিবেশ আমরা তৈরী করে দিতে পারিনি।
লেখক বলেছেন: এরকম একটা দারুন মন্তব্যের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: হুম, সেটাই তো দেখছি। এর কি কোন চেঞ্জ হবে না?
মাইনুল বলেছেন:
পুলিশ কবে মানুষ হবে?
লেখক বলেছেন: এর উত্তরটা জানা খুবই দরকার, ভাই।
লেখক বলেছেন: হুম্। মনে হয় দুটোই।
শফিউল আলম ইমন বলেছেন:
লেখা ভালো লাগছে।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
উদার আকাশ বলেছেন:
পুলিশ মানেই একটা ঘৃন্যরুপ ফুটে আসে । মারপিট, ঘুষ, ক্রিমিনালদের সাথে যোগ সাজশে নানান অপকর্মের সাথেও জড়িত বাংলাদেশ পুলিশ।আপনার লেখা বেশ সুন্দর হয়েছে। তাদের জন্য সমাধানের পথও দিয়ে দিয়েছেন। তবে সবচেয়ে ভাল হয় আইজিকে এসব জানানো। নূর মোহাম্মদ সাহেব মনে হয় অন্যদের চেয়ে ভাল।
কারো কাছে কি তার ইমেইল এড্রেস আছে?
লেখক বলেছেন: আমার তাই মনে হয়। বর্তমানের আইজিপি তুলনামুলকভাবে ভাল মানুষ বলে মনে হয়। জানি না তিনি কতটুকু পরিবর্তন আনতে পারবেন।
না, এই মূহুর্তে তার ইমেইল এড্রেস আমার কাছে নাই। অবশ্য ভাল আইডিয়া।
উনাকে আমরা সবাই ইমেইল করে আমাদের মতামত জানাতে পারি।
একটা ঘটনা বলার লোভ সামলাতে পারছিনা। তখন সবে মাত্র আমেরিকা এসেছি। রাস্তাদিয়ে চলাফেরা বাংলাদেশ স্টাইলেই চালিয়ে যাচ্ছিলাম। সকালবেলা হাটতে রাস্তা ক্রস করতে নির্ধারিত যায়গা দিয়ে পার না হয়েই ওপারের দিকে যাচ্ছিলাম। এমন সময় দেখি পুলিশ আসছে। অবাক করে দিয়ে পুলিশ গাড়ী থামিয়ে আমাকে হাত দিয়ে বারে বারে ঈশারা করে রাস্তা পার হতে অনুরোধ করছিল।
আমি ভাবছিলাম আমাদের দেশের পুলিশের কথা!
লেখক বলেছেন: থ্যাংকস্।
দূরন্ত বলেছেন:
হুমম....
লেখক বলেছেন: হুমম...
ফারজানা মাহবুবা বলেছেন:
পুলিশ কার?
বিশাল প্রশ্ন…… আপনার লেখাটা আমাকে রুবেল নামের সেই ছেলেটার কথা মনে করিয়ে দিল যাকে ডিবি পুলিশ টর্চার করে মেরে ফেলেছিল! সে সময় আমি বেশ ছোট। কিন্তু এখনো যখন পত্রিকায় দেখা রুবেলের সেই মৃত ছবিটা মনে পড়ে, অদ্ভূদ রাগে দিশেহারা হয়ে যাই। রুবেলের জায়গায় বা আপনার এই তূর্যের জায়গায় যদি আমার নিজের ছোটভাই হয়, কীভাবে স্বান্তনা দিবো নিজেকে?
……একটা সময় যারাই বিদেশে চলে যেত, একধরনের রাগ লাগতো তাদের উপর। দেশের মেধা পাচার হয়ে যাচ্ছে দেখে আফসোস হত। কিন্তু এখন মনে হয়- যে দেশটার মাথার চুল থেকে পায়ের নখের আগা পর্যন্ত করাপশান, সে দেশে কোন মুখে কাউকে থাকতে বলি?......... নিজের ছোট ভাইটাকে বিদেশে পাঠিয়ে দেয়ার প্ল্যান ঘুর ঘুর করে মাথার ভিতর। ও যদি ভবিষ্যত রুবেল/তূর্য হয়?.........তারপরো আশা ছাড়িনা। আমরা যারা চলে যাই তারা আবার ফিরে আসার তীব্র আশা নিয়েই যাই।…… বাংলাদেশের প্রায় সবারই খুব সম্ভব পুলিশ নিয়ে তিক্ত অভিজ্ঞতা আছে। আমার নিজেরো আছে। কিন্তু বিপরীত অভিজ্ঞতাও রেয়ার হলেও আছে।……… পুলিশরা তো এলিয়ান কেউ না। আমাদের-ই বাপ-চাচা কেউ। ওরা তাহলে এমন জানোয়ার হয়ে যায় কী করে?......... আমি আপনার ‘থ্রী-টি’ ছাড়া উপায় দেখছিনা…… পুলিশদের চেইঞ্জ’র জন্যে এই থ্রী-টি একটা শ্লোগান হওয়া উচিত।
লেখক বলেছেন: হৃদয়ছোঁয়া মন্তব্যের জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ।
আমরা যারা বিদেশে আছি তারা মনে কেউই কখনো ভাবিনা যে দেশে আর আসবো না! যেদেশের সাথে রয়েছে নাড়ির টান তাকে কিভাবে উপেক্ষা করি? কখনো ভাবতেই পারিনা যে আমার কবরটি হবে কিনা বিদেশের মাটিতে!
কিন্তু এমন দ্বিধাদ্বন্দ্বে থাকি যে, বুঝে উঠতে পারিনা কিই বা করা উচিৎ নিজের ফ্যামিলি মেম্বারদের জন্য যারা আমাদের অবর্তমানে সুযোগসন্ধানীদের থেকে নিজেদের রক্ষা করতে হিমশিম খায়।
ফারজানা মাহবুবা বলেছেন:
শাহীন ভাই, নিজের ছোট ভাই আছে বলেই হয়তো আপনার লেখাটা পড়ে এমন মন খারাপ হলো…… তূর্য/রুবেল এরা ভিকটিম। ওরা যদি এসে জিজ্ঞেস করে আমাদেরকে- আমি কেন ভিকটিম? কী অপরাধ করেছিলাম আমি? ……… এই দেশের একজন নাগরিক হিসেবে কোনো উত্তর জোগাবেনা মুখে…… আমাদের পুলিশরা ভাল’র দিকে সেবার দিকে চেইঞ্জ হোক- আন্তরিক প্রার্থনা।
লেখক বলেছেন: আমাদের পুলিশরা ভাল’র দিকে সেবার দিকে চেইঞ্জ হোক- আন্তরিক প্রার্থনা।
ফজলে এলাহি বলেছেন:
ফারজানা রুবেলের কথা মনে পড়িয়ে দিলেন, ঠিক মনে করতে পারছি না তখন প্রবাসে ছিলাম না কি দেশে; তবে রুবেলের আকুতিটা যেন কানে বাজছে....পুলিশরা যখন তাকে মারধোর করে নিয়ে যাচ্ছে সে ভাবীকে বলছিল..."ভাবী আমাকে ওরা মেরে ফেলবে, আমাকে বাঁচান...!" ভাবী পারেননি রুবেলকে বাঁচাতে, কিন্তু রুবেল জেনে গিয়েছিল যে, তাকে মেরে ফেলা হবে। চিন্তা করতে পারেন, কি প্রকাশ্য জুলুম চলছিল এবং এখনো চলছে।লেখাটি পড়ে পুরোনো দিনের মনোভাবটা বুকের ভেতর নড়েচড়ে উঠলো যেন। পত্রিকার পাতা খুলেই দেশের করুণ অবস্থা দেখে দেখে এবং স্বল্পমেয়াদী রাজধানীতে বসবাসের সুবাদে যে তিক্ত অভিজ্ঞতা অর্জিত হয়েছিল, তাতে মনে হতো যেন এদেশটি থেকে পৃথিবীর আর কোথাও যদি বেরিয়ে যেতে পারতাম....।
কিন্তু আজ বহুবছর পর, জীবনের শুরু এবং শেষ এবং উত্তরসূরীর কল্যাণ-অকল্যাণ চিন্তাগুলো এখন প্রিয় স্বদেশকেই বেছে নিচ্ছে, তা যত যন্ত্রণাকর যাপনই হোক না কেন। প্রার্থনা শক্তিমানের কাছে, "আমাদেরকে দিন ন্যায়, কল্যাণ ও শান্তি"।
যেখানে আশ্রয় মিলবে সেখানে যদি অপেক্ষমান থাকে লাঞ্ছনা, ভীতি, যন্ত্রণা ও মৃত্যু! তাহলে সে আশ্রয় সহ্য করা মানুষের সাধ্যসীমায় প্রায় অসম্ভব। দো'আ থাকলো ভাইটির জন্য এবং এরূপ হাজারো ভাই/বোনের ন্যায়বিচার প্রাপ্তির জন্য।
লেখক বলেছেন: আমাদের মত মানুষগুলোই কেন যে এত অমানুষ হয়ে যায়!
অত্যন্ত সুন্দর করে মনের কথাগুলো বলার জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ।
মাহমুদ রহমান বলেছেন:
আপনার লেখাটি খুব কষ্টদায়ক। বাংলাদেশের কোন মানুষের মনে পুলিশ আস্থার জায়গাটি তৈরি করতে পারিনি। কর্তৃপক্ষের এই জায়গাটিতে ভূমিকা রাখার ব্যাপক প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। মানুষ কারো দ্বারা নিগৃহীত হলে সে যে পুলিশের কাছে একটা সল্যূশন পেতে পারে সেটা অনেকেরই মাথায়ই আসে না। কারণ একটিই পুলিশ তাদের আস্থা অর্জন করতে পারেনি। এরকমটি কখনই কাম্য নয়।......এমন একজন দেশপ্রেমিক কাউকে কি আমরা পাব না যিনি এই পেশার লোকদের পরিচ্ছন্নতার কাজে হাত দিবেন?বনানীর একটা রাস্তায় হাঁটছিলাম। সাথে পরিচিত একজন ছিলেন। হঠাৎ দেখলাম, একজন শক্তি সামর্থবানের হাতে একজন দুর্বল মার খাচ্ছে। আশপাশে পুলিশও ছিল। যাকে মারা হচ্ছে তার প্রতি যুলম করা হচ্ছে। তার মাথাতেও নেই যে এসব ক্ষেত্রে পুলিশ ভাল একটা ভূমিকা রাখতে পারে। আমাদের মাথাতেও নেই, পুলিশের মাথাতে হয়ত ছিল অন্যকিছু। আমার সাথের জনকে বললাম- চলেন, ওদের বিবাদ মিটিয়ে দিয়ে আসি। ঘটনার শেষ দিকে একজন পুলিশ এল। পুলিশ ওদের দুজনকে বলল....... এদিকে আয়। লোকচক্ষুর আড়ালে ডাকল। অবস্থা বুঝে তারা তাদের নিজেদের ঝামেলা তাৎক্ষণিক মিটিয়ে ফেলল।
টাকা পয়সার এখন অনেক দাম
লেখক বলেছেন: ......এমন একজন দেশপ্রেমিক কাউকে কি আমরা পাব না যিনি এই পেশার লোকদের পরিচ্ছন্নতার কাজে হাত দিবেন?
'আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে, কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে?'
মাহমুদ, অনেক ভাল ইনপুট দেয়ায়।
লেখক বলেছেন: এর পরিবর্তন কি হবে না? এভাবে কতদিন একটা সমাজ চলতে পারে?
প্রশ্নোত্তর বলেছেন:
ভাই একটা একটা কৈরা কোনদিন পরিবর্তন হয় না। অনেক কিছু একসাথে পরিবর্তন হয়, হয়তো ধীরে ধীরে হয় তবু হয়। আমাদের সমস্যা অযুত-নিযুত - কোন ম্যাজিকেই আমাদের কোন কাম হইবেক না, চেষ্টা লাগবে।
লেখক বলেছেন: একমত।
ত্রিভুজ বলেছেন:
"প
















