somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... ওবামা কি সত্যি পারবেন পৃথিবাটাকে 'চেঞ্জ' করে ফেলতে?
সবাই মোটামুটি আশা করছেন, ওবামা তাঁর স্ব-জাতির এই ক্রান্তিকালে কিছুটা হলেও পরিবর্তন আনতে পারেন অথবা ভিন্নভাবে বললে বলতে হবে, পরিবর্তন তাঁকে আনতে হবেই। কিন্তু ওয়াশিংটনের ওভাল অফিসে বসে পেন্টাগনের আগ্রাসী ভূমিকা থেকে হাত গুটিয়ে পুরো পৃথিবীটাকে আফ্রিকান-আমেরিকান ব্যারাক ওবামা কিভাবে বদলাতে পারবেন সেইটার এখন দেখার বিষয়।

বুশের বিদায় ঘন্টা উতসবের প্রস্তুতি অনেক আগে থেকেই শুরু হয়ে গিয়েছিল আমেরিকানদের মধ্যে। একাধিক কুটির শিল্প বিভিন্ন চমতকৃত দ্রব্যাদি যেমন, ক্যালেন্ডার, ম্যাগ্নেট, টি-শার্ট ইত্যাদি নিয়ে আগ্রহভরে প্রস্তুত হয়েছিল বুশ আমলের দ্রুত সমাপ্তির এই প্রতীক্ষিত মূহুর্তের আশায়। কিন্তু প্রতীক্ষিত দিনটি যখন এসেই যাবে অর্থাত বুশ ওভাল অফিস ছেড়েই যাবেন অথবা সবচেয়ে ব্যয়বহুল চাকরিটি যখন ওবামা করা শুরু করবেন, তখন তিনি বুঝবেন বুশ তার উত্তরাধিকার রত্নের জন্য এমন এক উইল রেখে গিয়েছেন যা বাস্তবায়ন করতে গেলে পৃথিবীর নাড়ি-ভুড়ি সব ছিঁড়ে খেতে হবে।

মে ৩১, ২০০৮ এ সাউথ এশিয়া টাইমস্‌ ‘ওয়ার্ল্ড পলিসি ইন্সটিউটের আর্মস ট্রেড রিসোর্স সেন্টার’-এর সিনিয়র রিসার্চ এসোসিয়েট ফ্রিডা বেরিগ্যান (Frida Berrigan) এর একটি বিশাল গবেষণালব্ধ প্রবন্ধ ‘পেন্টাগন কিভাবে দুনিয়াটাকে সাজাচ্ছে (How the Pentagon Shapes the world)’ প্রকাশ করেছে। আজকের নিবন্ধে আমরা উক্ত আর্টিকেলের বিভিন্ন দিক নিয়ে সংক্ষিপ্তভাবে আলোকপাত করব। প্রবন্ধে বলা হয়েছে, ১৯ জানুয়ারী ২০০৯ এ যেই প্রেসিডেন্টের আসনে বসুন, তিনি আর পেন্টাগনকে পঞ্চভূজ দালান হিসেবে বিবেচনা করতে পারবেন না। আমেরিকান সেনাবাহিনী সোভিয়েত ইউনিয়নের সাথে ‘কোল্ড ওয়্যার’ শেষে যেভাবে দুনিয়াটাকে ‘ইউনিপোলার ওয়ার্ল্ড’ বানিয়েছে তা থেকে তিনি নিজেকে দূরে রাখতে পারবেন না। অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক আধিপাত্য, শান্তি শান্তি বলে বিভক্তির বীজ বোনা, হাতেম তাঈ-র মত দয়ালু সেজে দেশে দেশে নাক গলানো, মিলিটারীকে এমন উচ্চ প্রযুক্তিতে রূপান্তরিত করা যে এর সমকক্ষ দুনিয়াতে যাতে আর কেউ না থাকে। সরকারী কর্মকর্তারা ২০০১-এর সেপ্টেম্বরের একেবারে শুরুতে বুশ প্রশাসনের আরো ৬০ টি জাতির উপর টার্গেট নেয়ার ফুটপ্রিন্টও প্রকাশ করে ফেলেছিল। উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তারা পেন্টাগণকে এমনভাবে প্রস্তুত করেছেন যেন, আমেরিকার সেনাবাহিনী পৃথিবীর যেকোন প্রান্তেই সংশ্লিষ্ট দেশ বা আন্তর্জাতিক আইন কানুনের তোয়াক্কা না করে সম্পূর্ণ ‘যৌক্তিক’ ভাবেই আঘাত হানতে পারে। ২০০২ সালে প্রতিরক্ষামন্ত্রী ডোনাল্ড রামসফেল্ড প্রতিরক্ষা কৌশলের ক্লাসিক শর্টহ্যান্ড ১-৪-২-১ প্রকাশ করেন। এর ব্যাখ্যা এরূপ, আমেরিকা তার নাগরিকদের রক্ষার কথা বলে প্রথমেই চারটি সংবেদনশীল অঞ্চল (ইউরোপ, উত্তর-পূর্ব এশিয়া, পূর্ব এশিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্য)-এ আগ্রাসন চালাবে। এদের মধ্যে দুই অঞ্চলকে এক সাথে পরাস্ত করতে সক্ষম এবং অন্য আরেকটি অঞ্চলে সময়ের ব্যবধানে এমনিতেই পূর্ব সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিজিত হয়ে যাবে।

১) পেন্টাগণের আকাশচুম্বী বাজেটঃ
বুশ প্রেসিডেন্টের চেয়ারে বসেই এই বিভাগে বাজেট দ্বিগুণ করে ৩০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করে ফেলেন। ২০০৯ অর্থবছরে শুধুমাত্র নিয়মিত বাজেট বেড়ে দাঁড়াবে এরও প্রায় দ্বিগুণ (৫৪১ বিলিয়ন ডলার)। কারণ তহবিল সরবরাহ করতে হবে ‘যুদ্ধব্যয়ে (war spending)’ ও ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ (war on terror)’-সহ নিজেদের অতিরিক্ত প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থার জন্য। ফেব্রুয়ারি ২০০৮ পর্যন্ত কংগ্রেসের বাজেট অফিসের সূত্র ধরে বলা হয়েছে, আইন প্রণেতারা ৭৫২ বিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্ধ করেছেন আফগানিস্তান, ইরাকসহ অন্যান্য স্থানে চলমান যুদ্ধ খরচের জন্য। ২০০৯ অর্থবছরের জন্য যে আরো ১৭০ বিলিয়ন ডলারের প্রয়োজন পড়বে তাও পেন্টাগণ আগেভাগে বলে রেখেছে। অর্থাত সামনের বছরে ডলারের পরিমান আর বিলিয়নে থাকবে না চলে যাবে ট্রিলিয়নের ঘরে। নিউইয়র্ক টাইমসের কলামিস্ট বব হারবার্ট (Bob Herbert) লিখেছেন, একশো ডলারের নোট যদি একত্রে সাজানো হয় ছয় ইঞ্চি উঁচু বানাতে এক বিলিয়ন ডলারের প্রয়োজন পড়বে। এক বিলিয়ন ডলার ওইভাবে স্তরে স্তরে সাজালে এর উচ্চতা হবে ঠিক ওয়াশিংটনের দূর্গ পর্যন্ত, আর এক ট্রিলিয়ন ডলারের উচ্চতা হবে ১৬০ কিমি যা কিনা আফগানিস্তানের সর্বোচ্চ শৃংগ হিন্দু কুশের চেয়েও বিশ গুণ বেশী উঁচু।

ফেডারেল গভর্ণমেন্টের এই ‘বিবেচনামূলক প্রোগ্রাম (discretionary program)’-এর জন্য শুধুমাত্র সামরিক খাতেই সমগ্র বাজেটের প্রতি ডলারের ৫৮ সেন্টই ব্যয় হচ্ছে। অর্থাত পেন্টাগণের সর্বমোট বাজেট আমেরিকার শিক্ষা, পরিবেশ রক্ষা, বিচার বিভাগ, সাবেক সৈন্যদের সুযোগ সুবিধা, আবাসন সহযোগিতা, যোগাযোগ, কর্মসংস্থান প্রশিক্ষণ, কৃষি, জ্বালানী এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রকল্পখাতসমূহ মিলে সর্বমোট বরাদ্ধেরও বেশী।

২) কূটনৈতিকের ভূমিকায় পেন্টাগণঃ
আঠার শতক থেকে আমেরিকান রাস্ট্রদূতেরা সেদেশের প্রেসিডেন্টেরই প্রতিনিধিত্বই করতেন। তারা আমেরিকার পররাস্ট্রনীতি সংশ্লিষ্ট দেশসমূহ মানছে কিনা তা নিশ্চিত করত অথবা সেসব দেশকে মেনে চলতে বুঝাতো। একজন রাস্ট্রদূত তাদের কাজের ধরণ এভাবে বুঝিয়েছিলেনঃ “The rule is: if you’re in Country, you work for the ambassador. If you don’t work for the ambassador, you don’t get country’s clearance” কিন্তু দিন পাল্টেছে। বুশীয় আমলে পেন্টাগণ এই মডেলটি উল্টিয়ে দিয়েছে। সিনেটর রিচার্ড লুগার (Richard Lugar) এর ২০০৬ সালের কংগ্রেসের রিপোর্ট অনুযায়ী, রাস্ট্রদূতেরা এখন অনুভব করেন তাদেরকে মিলিটারী অফিসারদের অনুগত হতে হবে। সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় তারা নিজেদেরকে দুই নম্বর টীম মনে করেন।

নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রবার্ট গেটস (Robert Gates) -ও এই সমস্যা সম্পর্কে অনবহিত নন। তিনি এর জন্য সামনের বছরে অতিরিক্ত আরো অর্থ বরাদ্ধের আহবান জানিয়ে বলেছেন, আমাদের মাত্র ৬৬০০ ফরেন সার্ভিস কর্মকর্তা রয়েছে, যার জন্যই মূলতঃ সেনাদের সাহায্য নিতে হচ্ছে। এ সংখ্যা বাড়াতে আরো টাকার প্রয়োজন। এই প্রেক্ষিতে একজন রাস্ট্রদূত ক্ষোভের সাথে বলেছেন, ওই অতিরিক্ত অর্থও সামরিক খাতেই ব্যয়িত হবে।

কূটনৈতিক চাল দিতে গিয়ে আমেরিকান রাস্ট্রদূতেরা যে শব্দসমূহ ব্যবহার করেন তাহলো, ইন্টারএজেন্সি, কো-অপারেশন, সিকিউরিটি প্রবলেম, রিজিওনাল প্রবলেম ইত্যাদি। নাইন ইলেভেনের পর সংশ্লিষ্ট দেশসমূহ মেনে না চললে, ‘সহযোগিতা (co-operation)’এর সংজ্ঞা পালটে ‘হুমকি (Threat)’-তে রূপ নেয়।

৩) অস্ত্রডিলারের ভূমিকায় পেন্টাগণঃ
আমেরিকার গোয়েন্দা বিভাগ সম্মন্ধে মানুষের ধারণা একেবারেই ধোঁয়াটে। এর জন্য বরাদ্ধ হয় ‘কালো টাকা (Black Budget)’। গোয়েন্দা বিশারদরা বলেছেন, এই এক দশক আগেও এর পরিমাণ ছিল ২৬ বিলিয়নে। ৯/১১এর পর (২০০৩ সালে) তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪০ বিলিয়ন ডলারে। ‘স্পাইস্‌ ফর হায়ার (Spies for Hire)’ গ্রন্থের লেখক অনুসন্ধিতসু সাংবাদিক টিম শোরোক (Tim Shorrok) এর মতানুযায়ী, পেন্টাগণ বর্তমানে ইউএস ইন্টেলিজিন্সের আশি ভাগই নিয়ন্ত্রণ করছে যার পরিমাণ গত বছরে ছিল ৬০ বিলিয়ন ডলার। প্রাক্তণ সিআইএর কর্মকর্তা ‘সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পলিসি’-র বিশেষজ্ঞ মেল গূডম্যান (Mel Goodman) এর দৃষ্টিতেঃ The Pentagon has been the big bureaucratic winner in all of this”

২০০৬ সালে আমেরিকা একাই অস্ত্র বেচেছে সারা পৃথিবীর অর্ধেক (১৪ বিলিয়ন ডলার) পরিমান। এর মধ্যে পাঁচ বিলিয়ন ডলার পেয়েছে পাকিস্তানের কাছ থেকে এফ-১৬ এর জন্য এবং সৌদী আরবের আভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পূনর্বিন্যাসের জন্য চুক্তি হয়েছে ৫.৮ বিলিয়ন ডলারের। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে রাশিয়া (৫.৮ বিলিয়ন ডলার), ৩য় অবস্থানে বৃটেন (৩.৩ বিলিয়ন ডলার)। মজার ব্যাপার হল, ৭০ ভাগেরও বেশী অস্ত্র বিক্রি হয়েছে উন্নয়নশীল দেশসমূহ যারাই মূলতঃ আমেরিকার ওয়ার্ল্ড পার্টনারের গিনিপিগ।

৪) গ্লোবাল ভাইসরয় এবং ‘স্বর্গ নিয়ন্ত্রণকারী দেবতার’ ভূমিকায় পেন্টাগনঃ
বুশামলে পেন্টাগন ভাইসরয়সূল্ভ সামরিক প্রত্যাদেশের মাধ্যমে বিশ্ব সমাজকে সুস্পষ্টভাবে বিভক্ত করতে সক্ষম হয়েছে। সত্যি বলতে কি, ৯/১১-এর আগ পর্যন্ত আফ্রিকা মহাদেশ ছাড়া পৃথিবীর এমন কোন দেশ ছিল না, যেখানে আমেরিকা সেনাবাহিনীর প্রভাব কোন না কোনভাবে পড়েনি। এ বছর ‘ইউএস আফ্রিকা কমান্ড (আফ্রিকম-Africom)’ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মানচিত্রের সেই শূন্যতাও পূরণ করা হল। মিসর বাদে এ অঞ্চলের সব দেশকে এই কমান্ডের অধীনে নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে। মিসরকে বিশেষভাবে রাখা হয়েছে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের অধীনে। নব্য ঔপনিবেশকতা বিস্তৃত করার এই ধারাকে বুশ এভাবে ব্যাখ্যা করেছেনঃ “enhance our efforts to bring peace and security to the People of Africa and promote our common goals of development, health, education, democracy and economic growth in Africa”.

আফ্রিকান এফেয়ার্সের সহকারী প্রতিরক্ষা সেক্রেটারী তেরেসা উইল্যান (Theresa Whelan) মন্তব্য করেছেন, It is about increasing the global reach of the Pentagon.

ভূ-পৃষ্ঠের উপরিভাগ দখলই যথেষ্ঠ নয়, চাই নভোমন্ডলও। মনে হয় কিছু স্বর্গের নিয়ন্ত্রনও পেন্টাগন চাইছে। জাতীয় মহাকাশ নীতি (National Space Policy) ‘ইউএস স্পেস কমান্ড ভিশন ২০২০’ প্রকাশ করে বুশ প্রশাসন বলেছে, আন্তর্জাতিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করলেও তাদের অধিকার রয়েছে ‘মহাকাশ প্রতিরোধের’ অর্থাত মহাকাশে বাঁধা-বন্ধনহীনভাবে তারা যা চাইবে তাই প্রতিস্থাপন করতে পারবে। সেই সাথে থাকবে প্রতিরক্ষার দায়িত্বও তাদের উপরই।

সম্প্রতি আরো খবর বেরিয়েছে ইউরোপ, দক্ষিণ ও মধ্য আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্য, মধ্য এশিয়া ও আফ্রিকায় ‘ভালো সাফল্য’ অর্জনের পর মার্কিন ন্যাশনাল গার্ডের স্টেট পার্টনারশিপ প্রোগ্রাম (এসপিপি) এখন সম্প্রসারিত হচ্ছে এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে। হনহুহু থেকে মার্কিন ন্যাশনাল গার্ড ব্যুরোর একজন স্টাফ সার্জেন্টের প্রণীত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আমেরিকার কোনো অঙ্গরাজ্যের পার্টনার হওয়ার জন্য বাংলাদেশের অনুরোধটি অনুমোদন করেছেন ইউএস প্যাসিফিক কমান্ডের অধিনায়ক অ্যাডমিরাল টিমোসি কিটিং। তিনি বাংলাদেশের পার্টনার হিসেবে আমেরিকার কোনো একটি অঙ্গরাজ্য খুঁজে দেয়ার জন্য ন্যাশনাল গার্ড প্রধান লে. জেনারেল স্টিভেন ব্লামকে দায়িত্ব দিয়েছেন। এ প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হলে বাংলাদেশ হবে যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্যগুলোর সাথে জোটবাঁধা ৫৯তম রাষ্ট্র। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের এই স্টেট পার্টনারশিপ প্রোগ্রাম চালু করা হয় ১৯৯৩ সালে-সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে পড়ার পর শুরুতে সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে সদ্য স্বাধীন দেশগুলোকে ন্যাটো আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য বানানোর আশা দিয়ে আমেরিকার বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের পার্টনার করা হয় তাদেরকে। পরে দক্ষিণ ও মধ্য আমেরিকা হয়ে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে এই পার্টনারশিপের জাল। (সূত্রঃ নয়াদিগন্ত ৩ নভেম্বর, ২০০৮)

উপরোক্ত পর্যালোচনার প্রেক্ষিতে উপসংহারে বলা যায়, বুশ সরকারের আট বছরের এতসব কূটকৌশল ও অশুভ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রভাব সামনের সব বাজেটেই পড়বে। সরকারে যেই আসুক না কেন পেন্টাগনের এই রাক্ষুসী ভূমিকা থেকে কেউই বিচ্ছিন্ন থাকতে পারবে না। ফলত. নানান ভিশন দাঁড় করিয়ে আমেরিকার নাগরিকদের ট্যাক্স গুণতে হবে চক্রবৃদ্ধি হারে। যেমন হতে পারে, কমপ্লেক্স ২০৩০ ভিশন, ইউএভি রোডম্যাপ ২০৩০, আর্মির ভবিষ্যত যুদ্ধ পন্থা, যোগাযোগ বিভাগের ভিশন ২০৫০, পরিবেশ সুরক্ষা ভিশন ২০৫০ ইত্যাদি যার তালিকা কখনো শেষ হবার নয়। আর এই ব্যয়বহুল খরচের মাশুল দিতে হবে অন্ততঃ তৃতীয় বিশ্বকে অস্ত্র বিক্রি, তেল কব্জা, মানুষহত্যাসহ অজস্র কূটচক্রান্তের মাধ্যমে।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/shahin72blog/28866525 http://www.somewhereinblog.net/blog/shahin72blog/28866525 2008-11-09 00:18:07
ফিনিক্স পাখি এবং দুই নেত্রী
প্রবীন রাস্ট্রবিজ্ঞানী তালুকদার মনিরুজ্জামান দুই নেত্রীকে কাল্পনিক অসাধারন ক্ষমতাধর এই পাখির সাথে তুলনা করেছেন। তাঁর কাছে নিশ্চয়ই যুক্তি রয়েছে। এই উপমহাদেশের কথাই ধরুন। ইন্দিরা গান্ধীর ভস্ম থেকে জন্ম নিয়েছে নতুন ফিনিক্স রাজীবের। রাজীবের পালক থেকে সোনিয়া, ‘অগ্নিমুখ’ থেকে এল রাহুল। জুলফিকার ভুট্টোর ‘গলার রশি’ ধরে থেকে জন্ম হলো ফিনিক্স পাখি বেনজীরের। তাঁর রক্ত ডিঙিয়ে চলে এল আসিফ জারদারী। জন্ম হল নতুন ফিনিক্স বিলাওয়ালের। বাপের সাথে মিলিয়ে নাম ছিল ‘বিলাওয়াল জারদারী’। কিন্তু ফিনিক্স পাকাপোক্ত করে নামও পালটে রাখা হল ‘বিলাওয়াল ভুট্টো’। শ্রীলংকার ফিনিক্সজনক হলেন সলোমন বন্দরনায়েকে। শত্রুর আঘাতে তাঁর ‘পবিত্রাগ্নি’ থেকে চলে এলেন একসাথে স্ত্রী শ্রীমাভো বন্দরনায়েকে এবং মেয়ে চন্দ্রিকা কুমারাতুঙ্গে। বাংলাদেশের অতীত ও ভবিষ্যত ফিনিক্স পাখিদের কথা সবার সামনে পরিস্কার থাকায় আলোচনা নাইবা করলাম।

ইতিহাসে সূত্র ধরে আপনাদের উপরো আঘাত এল । দুই দলেই জন্ম নিল কিছু ইঁদুরের। কেঁপে ঊঠছিলেন আপনারা। ভাবতেও পারেননি এত্থেকে আবার জেগে উঠবেন। কিন্তু ওই যে ফিনিক্স পাখি, আঘাত এলে আবার নতুন করে গজায়! আপনাদেরকে নিঃশেষ করতে পারেনি। তরবারীর নীচে মাথা রেখে কলমযোদ্ধারা জনতাকে জাগিয়ে দিয়ে জিতিয়ে দিল। বাংলার মানুষেরা প্রানভরে ভালবাসল। কিন্তু আপনারা কি নতুন করে জন্ম নিয়ে জাতিকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে নিতে পারবেন? সমগ্র দেশের নেত্রী হয়েও বিদেশে এসে সারাক্ষন যখন ‘দল’, ‘দল’ করেন, যারা বিদেশে বসে ‘দেশ’,’দেশ’ করে তাঁরা বড্ড অসহায় হয়ে পড়ে। আর ফখরুদ্দিন সাহেব তো আপনাদের দুইজনকে পেঁচিয়ে জাতিসংঘের সাধারন সভায় ২৬ সেপ্টেম্বরে গর্বের সাথে স্বদেশ সম্মন্ধে বললেন, ‘দশকের পর দশক ধরে চলে আসা দুর্নীতি দেশের গনতন্ত্র ও অর্থনীতিকে গ্রাস করেছিল’। গতবছর বলেছিলেন, ‘বছরের পর বছর ধরে বাংলাদেশে দুর্নীতির দুষ্টচক্রে গণতন্ত্রের উপাদানগুলো আবদ্ধ ছিল’। নিজের দেশ সম্মন্ধে সেই দেশেরই শীর্ষনেতৃবৃন্দের এরকম ‘নিজের পায়ে নিজেই কুড়াল মার্কা’ টাইপের কথাবার্তা পত্রিকায় প্রকাশ হয়ে পড়ায় বিদেশীদের নিকট থেকে মুখ লুকাবার জায়গা খুঁজি আমরা। ‘কার আমলে বেশী দূর্নীতি’ এ নিয়ে ঝগড়া বানরের তৈলাক্ত বাঁশ বেয়ে এক লাফ উপরে আর দুই লাফ নীচে নামাতেই জনম শেষ হয়ে যাবে, সমাধান মিলবেনা। যাহোক, পারবেন কি দলীয় গন্ডীর উর্ধ্বে উঠে মনটাকে আকাশের মত উদার করে সব মানুষকে ভালবাসতে? দলতো অনেক করলেন, দেখলেনও অনেক।জেনে গেলেন দৃশ্য-অদৃশ্য শক্তির নানান খেলা। আরো জানলেন, কারা আপনাদের সত্যি সত্যি ভালবাসে আর কারা আপনাদেরকে ভালবেসে চালাকি করে। জনতার কাতাড়ে না গিয়ে কোন্ শেকড়হীনেরা নিজেদের অস্তিত্ব বা গুরুত্ব বাড়াতে আপনাদের ব্যবহার করে? ঘৃণা ও বিভক্তির রাজনীতি করে। তাই বলে বলছিনা দল ছেড়ে দিতে। দলই আপনাদের পরিচয় বাড়িয়ে দিয়েছে, সত্য। বলছি মনটাকে অনেক বড় করতে।

ধরুন, আপনি ঢাকা থেকে বিমানে চড়ে বিদেশ যাত্রা করছেন। জিয়া থেকে একটু উপরে ঊঠেই হয়তো আপনি খোঁজার চেষ্টা করেন আপনার প্রাণপ্রিয় রাজনৈতিক দলের নয়াপল্টন বা বঙ্গবন্ধু এভিনিঊয়ের হেড অফিস। আর একটু উপরে উঠে দেখতে চান ঢাকা শহর, পরে খুঁজে ফেরেন বুড়িগঙ্গার তীর ঘেঁষা আপনার প্রিয় মেগাসিটিকে। এক সময় হয়তো হাতড়ে খোঁজার চেষ্টা করেন সমগ্র বাংলাদেশটাকেই। সেটিও একসময় দৃষ্টির সীমানায় হারিয়ে যায়। এবার খোঁজেন উপমহাদেশ, তারপর এশিয়া। পার হয়ে যান একসময় প্রশান্ত মহাসাগর, আটলান্টিক মহাসাগর ইত্যাদি। এই আপনাকেই যদি মহাকাশের অভিযাত্রী বানিয়ে ছেড়ে দেয়া হয় মহাশুন্যের কোন গ্যালাক্সিতে, এবার আপনি দেশ মহাদেশের ঊর্ধ্বে উঠে খুঁজতে চাইবেন সমগ্র পৃথিবীটাকে।

ওবামা ও ম্যাককেইনের নির্বাচনী প্রচারনায় সারা আমেরিকানদের সাথে নিয়ে একসাথে কাজ করবার অভিপ্রায়ের কথা মনে পড়ছে। তাঁদের কথা আপনাদের মুখ দিয়ে বলায়েই না হয় আজকের আলোচনা শেষ করব।

কেন এমন হলো?

অন্তর্নিহিত রহস্য পূর্বে আঁচ করতে না পারলেও এটি ছিল গতানুগতিক হেঁয়ালী, একরোখা, পশ্চাদমূখী ও স্মরণশক্তিহীন বা ‘পরিবর্তনশীল দুনিয়ায় অপরিবর্তনশীল’ রাজনীতির লৌহ কপাটে আত্ম-উপলদ্ধির করাঘাত। সম্ভাবনার নতুন দ্বার উন্মোচন ও মেরুদন্ডহীন মনোবৃত্তির প্রতি প্রচন্ড বিদ্রোহ। দলীয় শৃংখলে আবদ্ধ হিংস্র ও বর্বর মানুষ পেটানো রাজনীতির বিপরীতে অমিয় সুবাতাসে দেশটাকে শান্তি ও উন্নয়নের মরু উদ্যানে পরিনত করার তীব্র আকাঙ্ক্ষা। স্তাবকদের শঠতা, মিথ্যা কুহেলিকা ছিন্ন করে প্রখর দৃষ্টি নিয়ে শত্রুকে চিনে সম্মুখপানে চলার প্রতিযোগিতা। মোদ্দাকথা, ব্যারিস্টার রফিকের ভাষায় ‘চোর-বাটপারদের’ চিরতরে কবর দেয়ার সাহসী চেতনাই যেন হয় ওয়ান ইলেভেনের শিক্ষা।

দেশের মানুষই এত্থেকে কিন্তু আপনাদেরকে উদ্ধার করল, দল করেনি। সাধারন মানুষ নামের অজেয় শক্তি এই মূহুর্তে অনেককেই মাইনাস করে দিল, আপনাদেরকে করেনি। সাথে আরো একটা বিষয় পরিস্কার হয়ে গেছে। সেটা হলো প্রতিটা রাজনৈতিক দলই এদেশের মাটি থেকেই উতসরিত। প্রতিপক্ষ দলসমূকে কথায় কথায় ‘অমুক দেশের দালাল’, ‘তমুক দেশের আলাল’ বলে যে গালমন্দ করেন, কই তাঁরা তো কেউই আপনাদের উদ্ধার করতে এল না! বরঞ্চ দৃশ্য-অদৃশ্য বিনি সূতোর মালায় তাঁরা কি করেছে তা তো সাব-জেলে বসেই জেনেছেন নিশ্চয়ই। এদেশের সাধারন জনতাই আপনাদের উদ্ধার করেছে। দয়া করে তাদের ভালবাসাকে আর ফিরাবেন না।

দুই নেত্রীর মুখ চাওয়া-চাওয়ির কথা বলতেই ‘অসভ্য’ কথা বলার মহড়া আবার শুরু হয়ে গেছে। সংসদের বাইরে ‘পলিসি সামিট’ এই মূহুর্তে প্রয়োজন রয়েছে কিনা সে প্রসংগ বাদ দিয়েই বলতে পারি যে, রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা গলদঘর্ম হয়ে যাবেন কিন্তু এরকম কোন সুশীল দেশ খুঁজে পাবেন না যেদেশে প্রতিদ্বন্দ্বী দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের মধ্যে ‘হ্যান্ডশ্যাক’ পর্যন্ত হারাম। কংগ্রেস-বিজেপি, পিপিপি-পিএমএল, মালয়েশিয়ায় বিএন-কাআদিলান রাকায়েতসহ দুনিয়ার সাপে নেউলে সম্পর্ক অন্যান্য দলের দিকে তাকালেও হিসাব মেলেনা। কানাডার কনজারভেটিভ-লিবারেলদের মধ্যকার উত্তপ্ত বাক্যবান দেখলে বাংলাদেশের সংসদের দৃশ্য সহজেই চোখে ভাসে। অথচ, পার্লামেন্ট ভাঙার আগে প্রধানমন্ত্রী স্টিফেন হারপারের বাসভবনে আলোচনা করতে এসে বিরোধী দল নেতা স্টিফেন ডিওনের হাস্যরসাত্মক ছবি আমাদের জন্মভূমিতে কল্পনায়ও কেন পাইনা?

এমন তো হওয়ার কথা ছিলনা!

অতিথি আপ্যায়ন, এমনকি শত্রুকেও পাশে স্থান দেওয়ার হাজার বছরের সমৃদ্ধ কালচারের দেশে কোন্ স্তাবকেরা আপনাদেরকে মাটি নয় যেন ‘ধাতব পদার্থের তৈরী’ অতি দানবীয় রূপে রুপান্তরিত করে দিলো? অথচ, বার বার প্রধানমন্ত্রী ও মানুষের দৃষ্টিতে লৌহ মানবী হয়েও চল্লিশোর্ধ ছেলেকে জড়িয়ে পাগলের মত চুমোয় চুমোয় ভরিয়ে দেন, নবজাতক নাতী-নাতনীদের দেখার জন্য বা সদ্য প্রসূতা মেয়েকে অপত্য স্নেহের বন্ধনে আবদ্ধ করার জন্য পাগল হয়ে যান! এর উত্তর আগে জানলেও এখন বোধ করি আর অজানা নেই। আব্দুলদের মাইনাস করার মত আপনাদেরকে এই বন্দনা সৃষ্টিকারীদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। লন্ড্রী করা সাদা জামা-কাপড় পড়ে এসব মিডিয়া বাঘদের সুফী সুফী কথাবার্তা জাতি অনেক শুনেছে। এবার লুটেরা বা ‘মোর ক্যাথলিক দ্যান পোপ’ নয়, ইতিবাচক মনোবৃত্তির সত্যিকার দেশপ্রেমিকদের জাতি দেখতে চায়। প্রতিদ্বন্দ্বীতার চরম মূহুর্তে মাত্র চার হাজার মানুষের প্রানহানি নাইন ইলেভেনের সাত বছর পূর্তি উপলক্ষে রাজনীতি বাইরে রেখে ওবামা ম্যাককেইন এক মঞ্চে উঠতে পারলেও, লক্ষ মানুষের আত্মত্যাগের দিনটিতেও আপনারা এক হতে পারেন না।

আপনারা কি পারবেন না ভবিষ্যত প্রজন্মের দিকে চেয়ে শুধু সামনের দিকের কথাই বলতে? অনেকযুগ তো পেরিয়ে এলেন। শুধু পেছনের দিনের কথা বলে জাতি কি কিছু পেয়েছে? চিরদিন বিভক্তি আর ঘৃণা নিয়ে কোন জাতি বাঁচতে পারে? কোন দেশের রাজনীতিই ‘অতীত’ নামক কুপমুন্ডকতা এভাবে জগদ্দল পাথরের মত ঘাড়ে চেপে বসে জাতিকে যুগের পর যুগ উস্কে দেয়না। আমেরিকায় ডেমোক্রেট রিপাবলিকান মোটামুটি সব প্রেসিডেন্টের ঝুলিতেই একাধিক কেলেংকারীর কলংক থাকলেও সমালোচনার তীর ঠিক আগেরজনের বেশী অতিক্রম করেনা। আর আমাদের দেশে আগেরজন তো দূরে থাক অশ্রাব্য বাক্যবানের শূল কারো জন্ম, মৃত্যু, বিয়ে নিয়েও চলে। পুরাতন ফিনিক্সদের স্ব-স্ব অবস্থানে রেখে দিন, তাঁদের নিয়ে আর রাজনীতি করবেন না। এ বছর ৪ এপ্রিল আমেরিকার কালোদের প্রবাদপুরুষ মার্টিন লুথার কিং-এর ৪০ তম হত্যা দিবস উপলক্ষ্যে প্রার্থনা সভায় নিজের বাবার নির্মম হত্যাকান্ড স্মরন করে তার ছেলে চল্লিশ বছর পিছনে ফিরিয়ে না তাকিয়ে চল্লিশ বছর সামনের দিকে তাকাতে আমেরিকাবাসীদের আহবান জানিয়েছেন। বলেছেন, ‘পুরোন কথা তুলে এনে কি লাভ, চল্লিশ বছর পর আমরা দুনিয়াতে কি দিব তাই নিয়েই ভাবুন।‘

কি চাই এবার?

তাই বলছিলাম, আশার কথা শোনান। জাতিকে ভিশন ও বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা দেখান। রূপকথার গল্পের ফুলঝড়ি বা দুয়োরানী-সুয়োরানীর শোকগাঁথা কল্পকাহিনী নয়। সশ্রদ্ধা রেখেই বলছি, আপনাদের কেউ বলছেন ২০১৫ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে বিশ্বে একটি মধ্যআয়ের দেশে পরিনত করবেন, অত সালের মধ্যে নিরক্ষতামুক্ত দেশ উপহার দিবেন, ১০ টাকা কেজি চাল খাওয়াবেন ইত্যাদি।কিন্তু কিভাবে? সেটি নিয়ে ন্যুনতম কোন গবেষনা তো আপনাদের দলের ওয়েবসাইট বা কোথাও চোখে পড়ল না!

সবার আগে ঠিক করুন ‘স্ট্র্যাটেজিস্ট’ বা ‘কৌশলী’। বাংলার মানুষদের মনন , ঐতিহ্য ও মাটির গন্ধে মিশে আছে এবং গ্লোবাল পলিটিক্সের বর্তমান ধারা নখদর্পনে এমন আধুনিক এবং বিজ্ঞানমনস্ক মানুষদের নিয়ে গড়ে তুলুন ‘থিংক ট্যাংক’। আগে থেকে আপনাদের সেসব আছে কিনা জানিনা। থাকলে তা পালটিয়ে ফেলুন। কারন, তাঁরা যা দেবার, জাতিকে তা দিয়ে ফেলেছেন। রাস্তায় শবের উপর বিভীৎস নৃত্য ও ওয়ান ইলেভেনের ধারনা কয়েক বছর আগে কানাডিয়ান আইনজীবি উইলিয়াম স্লোন জানলেও আপনারা কিন্তু তা জানেননি। দেশজ থিংক ট্যাংক ও দূরদৃষ্টিসম্পন্ন ডালপালা আপনার পাশে থাকলে আগে থেকেই ইংগিত পেতেন। ইউএস ডিপার্টমেন্ট স্টেটের পলিসি ও প্ল্যানিং ডিরেক্টর রিচার্ড হায়াস এই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে বলেন, ‘Of many influenc on US foreign policy formation, the role of think tank is among the most important and least appreciated’।

ম্যাককেইনের দলীয় সম্মেলনে দেয়া ভাষন দিয়ে আজকের আলোচনা শেষ করার ওয়াদা প্রথমেই আপনাদেরকে দিয়েছিলাম। ওবামার কথাটাও এমনি ছিল। এবার সেটি কল্পনায় আপনাদের দুজনের স্ব স্ব মুখ থেকে পৃথকভাবে না হয় শুনে নেই! ‘বাংলাদেশীরা এক দল অন্য দলের বিরুদ্ধে আর বিষোদগার দেখতে চায় না। দেশের দুই দলের সদস্যদের সাথেই কাজ করার অভিজ্ঞতা আমার রয়েছে। আমাদের মূল সমস্যাটা কোথায় তা আমি জানি। আর এও জানি নিরপেক্ষভাবে দলের উর্ধ্বে ঊঠে কিভাবে এর সমাধান করতে হয়। আসুন, আমরা সব দলের মধ্যকার ভাল ভাল ধারনাগুলো কাজে লাগাই। আমরা সবাই এক স্রষ্টার বান্দা, সবাই বাংগালী।এই বাংলাদেশের জন্যই আমি যুদ্ধ করেছি। আর এবার আমি ঠিক আপনার (অর্থাত দেশের মানুষের) জন্যই লড়ব’।

দৈনিক নয়াদিগন্ত লেখাটা ছেপেছে ১০ই অক্টোবর, ২০০৮।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/shahin72blog/28853062 http://www.somewhereinblog.net/blog/shahin72blog/28853062 2008-10-10 16:12:52
শুরু হলো পথ চলা
হাঁটি হাঁটি পা পা করে সামারাহ্ বেড়ে উঠছে। আজ ওর জীবনের প্রথম শিক্ষালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু। সপ্তাহ খানেক ধরে উত্তেজনায় ছটফট করছে সে। যেদিন স্কুলব্যাগ কিনে দিলাম এক মূহুর্তের জন্যও কাঁধ থেকে সরেনি। আয়নার সামনে গিয়ে বারেবারে দাঁড়ায়। এপাশ ওপাশ ঘুরে ফিরে দেখে। অনাবিল আনন্দ ও উদ্দীপনায় রাতে ঘুমাতেও পারেনি। ব্যাগের ভিতর কি কি ভরবে, পানির বোতলটা কোন পাশে থাকবে, খাবারইবা কিভাবে রাখবে, এই ব্যাগের সাথে ক্লাসমেটের আর কারো ব্যাগ যদি মিলে যায় তবে চিনবে কেমনে, টিচারইবা ব্যাগটি দেখে কি বলবে, এরকম কত যে নিষ্পাপ প্রশ্নের উত্তর দিয়ে যাচ্ছি আমি! বিরক্ত হইনা। আমার অফিস-ব্যাগ যেইখানে রাখি ঠিক তার পাশেই ওর স্কুল-ব্যাগটা রেখে স্থির নয়নে অবলোকন করে বারবার।

ক’দিন আগে বাবা ও ছেলেকে নিয়ে চমতকার একটা এটাচমেন্ট ই-মেইলে কে যেন পাঠিয়েছে।

বারান্দার রেলিং-এর উপরে একটি কাককে দেখিয়ে বাবা তাঁর তরুন ছেলেটিকে জিজ্ঞেস করছেন, ‘মাই ডিয়ার সান, বলতো ওটা কি?’
ছেলের সহজ উত্তর, ‘কাক, বাবা’
একই প্রশ্ন আবারো, ‘প্রিয় বত্‌স, ওইটার নাম কি?’
‘বললাম তো কাক, বাবা।‘
বাবা আবার জিজ্ঞেস করেন, ‘কি নাম পাখিটার?’
‘তুমি কি শুনছো না? বললাম তো কাক’
আবারো, ‘পাখিটার নাম কি যেন?’
পিতার প্রতি ছেলের এবার বিরুক্তি চরমে। বলে, ‘তোমাকে আমি আর কতবার বলব, এটা কাক, এটা কাক, কাক, কাক, কাক, কা...ক, কা....ক, কা........’

বাবা এবার ছেলেকে ডাকেন। বেডরুমে আদরের ছেলেকে নিয়ে গিয়ে তাঁর পুরোনো দিনের ডায়েরীর পাতা উল্টিয়ে দেখান। ওর বয়স যখন তিন বছর, বারান্দার ঠিক সেই স্থানটিতেই একটি কাক বসেছিল।

ছেলে আজকের মতই পিতার কাছে জানতে চেয়েছিল ‘ওইটা কি, বাবা?’
‘কাক, মাই ডিয়ার সান’, বাবার উত্তর।
ছেলে বাবাকে বারবার একই প্রশ্ন করে চলে। একবার, দুইবার, তিনবার নয়, ছাব্বিশ বার। বিরুক্তিহীনভাবে বাবা
প্রতিবারই ছেলের প্রশ্নের উত্তর অবলীলায় সঠিকটাই দিয়েছেন। শুধু তাই নয় প্রতিবারই ছেলেকে কোলে তুলে গালে একটি করে চুমোও।
বাবা আজ ডায়েরীতে লাল কালি দিয়ে বড় বড় করে লিখলেন, ‘এই রিটায়ার্ড বয়সে বিশ বছরের ছেলে তাঁর সেই প্রশ্নের উত্তর তিনবারও দিতে পারল না’।

আমি সামারাহ্‌র দিকে তাকিয়ে ওর মত করে ভাবার চেষ্টা করি। চুপচাপ ওর কান্ডগুলো পরখ করি।
‘বাবা, আমি কিন্তু অনেক বড় হয়ে গেছি’।
জিজ্ঞেস করি, ‘কত বড় হয়েছো, মা? আমার সমান?’
‘না, তোমার চেয়ে একটু ছোট। আমি তো আর বেবি না, আমি হলাম বিগ গার্ল, সাওদা হল বেবি’। ঈশারা করে ওর এক বছর বয়সের বোন সাওদাকে দেখায়।

স্কুল বাসে চড়ে বিদ্যালয়ে যাওয়ার কল্পনা করছে কার্টুন বোঝার পর থেকেই। ‘আমি কিন্তু তোমার গাড়ীতে চড়ে যাব না। বাসার সামনে যে স্কুলবাসটা আসে, ওইটাতেই যাব। আর হ্যাঁ, বাসের ভিতর থেকে তোমাদেরকে ‘বাই’ দিব। তোমরা কিন্তু আমার সাথে আসবা না। ঠিক আছে।‘
আমি বলি, ‘ঠিক আছে। তুমি তো আমার বড় মেয়ে!’
‘আর শোনো, তোমরা আমার জন্য ওয়েট করবা। স্কুল থেকে যখন ফিরব, তখনি একসাথে বাসায় আসব, তার আগে না কিন্তু, ও.কে? আচ্ছা, আমার জন্য তোমাদের মন খারাপ হবে না? সাওদা তো আমাকে মিস করবে’।পাকামো করে আরো বলে, ‘কিন্তু কি আর করা! আমাকে তো স্কুলে যেতেই হবে। তাই না?’

এদেশে চার বছর বয়স থেকে জুনিয়র কিন্ডার গার্টেন স্কুলে যাওয়ার নিয়ম। বছরে মোট দুইটি স্কুল সেশন। শরত (Fall) শুরু হয় সেপ্টেম্বর থেকে আর শীতেরটা (Winter) শুরু জানুয়ারী । গ্রীষ্মে (Summer) না গেলেও চলে। জুনিয়র কিন্ডার গার্টেনে নতুনদের ভর্তি হয় সেপ্টেম্বরের শুরুতে। জন্ম তারিখ যদি সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বরের শেষদিনেরও কোন এক দিনের মধ্যে পরে, তবুও সে ওই সেশন ধরতে পারবে, যদিও তার বয়স চার বছরের কম। মাত্র ছয়দিনের জন্য সামারাহ্কে পরের সেশন থেকে যেতে হচ্ছে। অবশ্যি পাশের ইসলামিক সেন্টারে আমরা ওকে আগেই দিয়েছি। আছর থেকে মাগরিব পর্যন্ত প্রায় দুই ঘন্টা করে সপ্তাহে চারদিন আরবী শেখে। বাংলাদেশী একজন ছাত্রও নাই, উপমহাদেশ ও মধ্যপ্রাচ্যের শিশুরাই ওর ফ্রেন্ড। প্রথম দিকে আশপাশে থাকতে চাইতাম।‘পার্সোনালিটি’তে সম্ভবত খুব আঘাত লাগত। ‘বড়’ দাবী করে আমার প্রস্থান নিশ্চিত হয়ে তবেই ও ওস্তাদের কাছে ফিরত।

আমি আমার শৈশবে সাড়ে চার বছর বয়সের জীবনের স্মৃতি হাতড়াতে থাকি। এমন অনুভূতি কি হয়েছিল? ফার্স্ট ওয়ার্ল্ডের সিটিজেন মেয়ের তৃতীয় বিশ্বের নাগরিক বাবার জীবনে এরকম অনুভূতি কি হয়েছিল? না হয়নি। গ্রামে আমাদের বাড়ীর গা লাগানো মাদ্রাসা। মামা-খালাদের সাথে কবে যে খেজুর পাতার উপর বসে ছাত্রজীবন শুরু হয়ে গিয়েছিল মনেই নেই। মাদ্রাসা থেকে চার বছর পর পালিয়ে গেলাম প্রাইমারী স্কুলে। উদ্দেশ্য প্রাইমারী স্কুলের ফার্স্ট বয়কে টপকানো। সহপাঠিদের টিটকারী ‘মাদ্রাসায় ফার্স্ট হওয়া খুবই সহজ, প্রাইমারীতে গেলে পারবা না’! সেই যে শুরু হয়ে গেল আর থামেনি পথ চলা। ব্যাক-প্যাক, বাথরুম ট্রেইনিং, লাঞ্চ-ব্যাগ, হাইজেনিং ট্রেইনিং সেগুলো স্বপ্নেও ছিলনা।

স্কুল অফিসিয়ালি শুরুর আগে কর্তৃপক্ষ ছাত্র/ছাত্রী সবাইদের একদিন ডেমো দেন।আমরা প্যারেন্টরা ক্লাস রুমে বসে দেখলাম ক্লাস টিচার কিভাবে পড়াচ্ছেন। কাঁচি দিয়ে পেপার কাটা, ক্রেইয়ন দিয়ে ছবি আঁকা, গ্লু দিয়ে কাগজ লাগানো, টবে সানফ্লাওয়ারের বীজ রোপন ইত্যাদি। কার্টুন ও গানের তালে তালে বর্ণমালার পরিচয় দিতে গিয়ে দেখলাম ভীষন মনোযোগী তরুনী টিচার যেন স্টুডেন্টদের চেয়েই বেশী নাচছেন।

আরেকদিন ছিল ‘প্যারেন্ট-টিচার-স্টুডেন্ট’ সিটিং। এটা ঠিক ক্লাস শুরুর এক সপ্তাহ আগে। মেয়েকে নিয়ে আমাদের উদ্বিগ্ন ও পরামর্শগুলোই মূলতঃ টিচারের সাথে শেয়ার করা।তিনি আমাদেরকে অভয় দিয়ে বললেন, ‘সিনিয়র স্টুডেন্টরা ভেরী কো-অপারেটিভ। তারা ওদের খুব হেল্প করবে। এক একজনকে বাস থেকে সোজা নিয়ে আসবে ক্লাস রুমে। এভাবেই তাদের কাজ ভাগ করে দেয়া হয়েছে। চিন্তা করোনা’। সামারাহ্র ক্লাস টিচার মিস পিকুলা লাঞ্চ ব্যাগ, ব্যাক-প্যাক, এক্সট্রা প্যান্ট-শার্ট, জুতা (দূর্ঘটনা সামাল দেয়ার জন্য স্কুল থেকে পরামর্শ দেয়া হয় কাছে রাখতে) ইত্যাদি রাখার জন্য প্রত্যেক ছাত্রদের জন্য বরাদ্ধকৃত ক্যাবি আমাদের দেখালেন । তিনি একটা কাগজ ধরিয়ে দিয়ে লিখতে বললেন মেয়ের যেসব দিকটা আমাদের ভাল লাগে সেসব। কাগজটা হাতে নিয়ে একটু ভাবি। এমন লোককেও জানি প্রথমদিনেই হেড টিচারের কঞ্চির কষাঘাত আমাদের গ্রামের অনেককে আর স্কুলমূখী করতে পারেনি। সকাল ৯ টা থেকে একটানা সাড়ে তিনটা পর্যন্ত ভিন্ন দেশের সম্পূর্ণ অপরিচিত পরিবেশে সামারাহর প্রথম জীবনে ছন্দময়তা আসবে তো? অস্থির হয়ে যাই।

কানাডার স্কুলিং সিস্টেম বিভিন্ন ডিস্ট্রিক্ট বোর্ড দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। প্রত্যেক বোর্ড যে একই নিয়ম মেনে চলবে তা কিন্তু নয়। অনেক জায়গায় জে.কে হাফ-ডে’র মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখে। কিন্তু আমাদের অঞ্চলে ফুল-ডে। পার্থক্য হল প্রত্যেক দিনের বদলে ফুল ডে ওয়ালাদের ক্লাস হয় সপ্তাহে মাত্র দুইদিন প্লাস দুই সপ্তাহে এক শুক্রবার।

আজ ৯ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮। সামারাহ্‌র স্কুলের যাওয়ার চুড়ান্ত দিন। আগের রাতেই ওর মা যত্নসহকারে মোটামুটি প্রস্তুতিপর্ব সেরে রেখেছে। এখন শুধু স্যান্ডউইচ বানানো বাকি। খুব ভোরে ঘুম থেকে ডেকে উঠালাম। মনে হয় রেডী হয়েই ছিল। ধরমর করে উঠে বলে ‘আজ আমার স্কুল?’ বলি, ‘হ্যাঁ, আজ তোমার স্কুল’। ‘আমি বাসে করে যাব না?’ আমি বলি, ‘হ্যাঁ। তুমি বাসেই যাবা, মা।‘

আজ সামারাহ্ স্কুলে যাবে।
মনে পড়ছে ২০০৪ সালের জানুয়ারির ৫ তারিখ। প্রচন্ড শীত, হিমাঙ্কের নীচে তাপমাত্রা। মিশিগানের আকাশ পরিস্কার। আগের রাতে মুষলধারায় বরফ পড়েছে। ফজরের নামাজ শেষে বাম দিকে সালাম ফেরাতেই ফোন রিং। এমন অসময়ে ফোন? ধরতেই ওপার থেকে হেনরীফোর্ড ক্লিনিকের মিডওয়াইফ রোস্কির কন্ঠ। ‘তোমার স্ত্রীকে এখনই নিয়ে আসো। আজকেই বেবি আউট করব আমরা।‘

ডিঊ ডেট পার হওয়ার তিনদিন পরও পেইন না উঠায় অনাগত বেবির কোন ক্ষতি যাতে না হয় সেজন্যই তাদের এই পরিকল্পনা।ওর মা তখনো নামাজ পড়েনি।ওজু করছে। ফোনের কথা কিছুই বলিনা। চুপচাপ বসে থাকি। মিডওয়াইফের পরামর্শ অনুযায়ী আগেই একটা ব্যাগ মোটামুটি গোছানো আছে। নামাজ শেষে বললাম, ‘ব্যাগটা নাও, হাসপাতালে যেতে হবে’। ও চমকে উঠে ভয়ার্ত কন্ঠে বলে, ‘কেন?’

গাড়ীর ইমার্জেন্সী লাইট অন করে ফ্রি ওয়ের পাশ ঘেঁষে বিকল্প পথ ধরে ধীরে ধীরে ড্রাইভ করি। তুষারপাতের দরুন রাস্তাটি বেশ পিচ্ছিল। ছেলেপুলেরা থোকা থোকা সাদা বরফ দিয়ে রাস্তার দু’পাশে কৌতুক করে ‘পোলার বিয়ার’ বানিয়ে রেখেছে। সূর্যের নিস্তেজ ও মায়াবী রোদ বরফকণার উপর আছড়ে পড়ে সকালটাকে বেশ মনোরম সাজে সাজিয়েছে। আর আমি ড্রাইভ করছি নতুন জীবনের সন্ধানে। এক মায়ের পেটফুঁড়ে উতসরিত হবে আরো একটি তাজা প্রাণ! কল্পনার রাজ্যে যেন সাঁতার কাটছি আমি!

প্রায় পনের মিনিট পর ডেট্রোয়েট হেনরীফোর্ড হাসপাতালে ভর্তি হলাম। বাচচা-কাচচা হওয়ার সময় বা পরবর্তী সবচেয়ে দূর্দান্ত নিদ্রাহীন দিন-রাতগুলোতে দেশে যেখানে পুরুষ মানুষদের খবরই থাকেনা, সেখানে পরবাসী মানুষগুলোর প্রতিটা মূহুর্তই যেন কাটে চরম ব্যস্ততা, শঙ্কা ও উদ্বিগ্নতায়।চাইল্ড বার্থ ক্লাসে তাই ইনস্ট্রাক্টররা বলেন, 'প্রেগন্যান্ট শুধু মাম্মি নন, ড্যাড্ডিও'। ‘মায়ের পায়ের নীচে সন্তানের বেহেশত কথাটা’ কেন যে বলা হয়েছে তার প্রমাণও সহজেই মেলে। সন্তান প্রসববেদনার সাথে দুনিয়ার কোন কষ্টেরই বুঝি তুলনা নেই! আমাদের অনুরোধেই হাসপাতালের ডেলিভারী রুমে সাঁটানো ছিল ‘শুধুমাত্র মেয়েরাই ঢুকতে করতে পারবে’ এই ধরনের একটা সাইনবোর্ড। বয়স্ক এক অভিজ্ঞ সাদা মহিলা ছিলেন ধাত্রী। বললেন এ পর্যন্ত প্রায় তিন হাজার বাচচা তাঁর হাত দিয়ে ভূমিষ্ঠ হয়েছে। সাথে ছিলেন এক নার্স। ভয়ংকর এই কষ্টের মুহুর্তে বললাম, ‘এই জন্যই মনে হয় আমাদের নবী বলেছেন, জননীর পায়ের তলায় সন্তানের বেহেশত’। কথাটা শুনে দুইজনই চমকে উঠে জিজ্ঞেস করলেন, ‘Who is your Prophet?’ নাম বলতেই মিডওয়াইফ বললেন, ‘হি মাস্ট বি এ ওয়াইজ ম্যান’। বিরতিহীন টানা নয় ঘন্টা কষ্ট শেষে ৭ পাউন্ড ৭ আউন্স এবং একুশ ইঞ্চি উচ্চতার সামারাহকে পেলাম বুধবার ৬ই জানুয়ারীর বিকাল চারটা চৌদ্দ মিনিটে।

চোখের সামনে বড় হয়ে স্কুলে যাওয়ার বয়স ওর হয়ে গেল! আজকে অফিসে যাওয়া পিছিয়ে দেই। গতকাল অফিসের সবাই কংগ্রাচুলেশন দিয়েছে। ওর দিকে তাকিয়ে থাকি, মারাত্মক প্যাকড্ সে। পিঠে ‘ব্যাক-প্যাক’, এক হাতে ‘লাঞ্চ ব্যাগ’, অন্য হাতে ইমার্জেন্সী কাপড়চোপড় ও স্কেটস্সহ আরো একটি। সামারাহকে নিয়ে হলুদ রঙের স্কুলবাসের কাছে আসি। কানাডা আসা চার বছর হয়ে গেলেও কোন ধরনের বাস বা ট্রেনে উঠার অভিজ্ঞতা এখনো হয়ে ওঠেনি। কিন্তু ও অভিজ্ঞের মত নিশ্চিন্তে অন্যান্য ছেলেমেয়েদের সাথে বাসের কোথায় গিয়ে যেন বসল! দেখতে পাচ্ছিলাম না। উলটো দিকে গিয়ে দেখি জানালার পাশে বসে হাসছে। আমি হাত উঁচু করে উড়ন্ত আদর জানিয়ে দিয়ে বলি‘আল্লাহ হাফেয’। আমাকে 'বা....ই (b....y....e)’ বলে ফেরত দেয়, যার জন্যই মূলতঃ অপেক্ষা করেছিল প্রায় ছয়মাস!

একসময় ২২১ নাম্বারের স্কুলবাসটি ছেড়ে দেয়।ওর অন্তবিহীন পথের এই মুহুর্তটা সূচনা ভেবে কিছু সময়ের জন্য কেন যেন আনমনা হয়ে যাই! দৃষ্টির সীমানার বাইরে যাওয়ার আগ পর্যন্ত আমি কটকটে হলুদ রঙের চলন্ত বাসটির দিকে তাকিয়ে থাকি।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/shahin72blog/28851071 http://www.somewhereinblog.net/blog/shahin72blog/28851071 2008-10-05 05:09:48
অগ্নি পরীক্ষায় ওবামার ‘চেঞ্জ’ (শেষ পর্ব) অগ্নি পরীক্ষায় ওবামার ‘চেঞ্জ’-আগের পর্ব পড়ুন

ম্যাককেইনের ‘ভেরী এগ্রেসিভ’ প্রচারনার বিপরীতে ওবামাও খুব খাটছেন ক্যাথলিকদের মন পাওয়ার। ম্যাককেইনের সমর্থকরা ওবামাকে দোষছেন ‘দি এবোরশেন প্রেসিডেন্ট’ বলে। কারন ওবামা গর্ভপাত ও সমকামী অধিকার আন্দোলনের পক্ষে। অবশ্য ওবামাশিবির যুক্তি দেখাচ্ছে, অর্থনীতি, পরিবেশ ও দারিদ্র্য মোকাবেলায় তারা যে নীতি গ্রহন করেছে তা বাস্তবায়িত হলে ক্যাথলিকদের দাবী অনুযায়ী রিপাবলিকানদের চেয়েও গর্ভপাত হ্রাস পাবে।

ওবামার প্রচারণা-গোষ্ঠী ক্যাথলিকদের বিশেষ টার্গেট নিয়ে ‘ইয়ং ক্যাথলিক’, ‘সোশ্যাল জাস্টিস ক্যাথলিক’ ও ‘উইমেন রিলিজেয়াস কমিউনিটি’ ভাগ করে তাদের পেছনে কাজ করছে। রিগ্যান প্রশাসনের সাবেক সংবিধান বিশেষজ্ঞ ডগলাস কমিকের ওবামাকে নিয়ে লেখা সাম্প্রতিক “Can a Catholic Support Him” বইটিকে তারা রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করছে।

যাহোক, ওবামার সাড়া জাগানো ভাবমূর্তি মোকাবেলায় জেন্টেলম্যান ম্যাককেইন বেশ সংযত, মিতব্যয়ী। বেশ সম্মানজনক পথ তিনি বেছে নিয়েছেন। এ পর্যন্ত মাত্র ছয়বার সরাসরি ‘ওবামা’ নাম ধরে কথা বলেছেন। তিনি ওবামাকে ‘অপরিপক্ক’ ও ‘দেশের চেয়ে নিজের ক্যারিয়ার নিয়েই ব্যস্ত’ বলে মনে করেন। ওবামা কিন্তু এক্ষেত্রে পিছিয়ে আছেন। তিনি তাঁর নাম অসংখ্যবার উচ্চারন করছেন। বলছেন, ‘I’ve got news for you, John McCain. We all put our country first.’ এই “Country First” ই হল এবারের জন ম্যাককেইনের মূল শ্লোগান। ওদিকে ম্যাককেইন শিবিরও ‘Change’ শব্দ ব্যবহার করে মুখে ফেনা তুলছে। ওবামার জনপ্রিয় শ্লোগান ‘চেঞ্জ’-র সার্থক রূপায়ক একমাত্র ম্যাককেইনই অভিহিত করে রিপাবলিকান কৌশলী স্টিভ শমিড (Steve Schmidt) বলেছেন, ‘John McCain has a record of fighting to change.’ ওবামার শ্লোগানটি এভাবে চুরি হয়ে যাওয়া বিচিত্র কিছু না। কারন ভোটের শেষ মুহুর্তে রিপাবলিকানদের ‘ডার্টি গেম’-র নজির আমেরিকানদের কাছে আছে। গেল বারের নির্বাচনে জন কেরীর স্বাস্থ্য ও ইরাক ইস্যু বেশ জনপ্রিয় লাভ করায় বুশ দেশের ‘নিরাপত্তা’কেই মূল ইস্যু বলে আমেরিকানদের উত্তেজিত করে ফলাফল পালটে দেন।

পলিনের বাকপটুতা ও জেদী ইমেজ এখন আমেরিকার রাজনীতিতে আলোচ্য বিষয়। মাত্র দশ হাজার লোকের শহর ওয়াসিলার একসময়ের মেয়র এই পলিনকে আগে মূল রাজনীতিতে পরিচিতি না থাকায় সাংবাদিকরা জ্বালায়নি। এখন চটকদার নিউজ পরিবেশন করতে মিডিয়াকর্মীরা তাঁর নথিপত্র ঘাঁটা শুরু করে দিয়েছে। নিজের বোনকে তালাক দেয়ার অপরাধে পলিন তাঁর পুলিশ অফিসার সাবেক বোনজামাইকে চাকরি থেকে ছাঁটাই করার অনুরোধ করেছিলেন পুলিশের উর্ধতন এক কর্মকর্তাকে। তাঁর অন্যায় এই অনুরোধ আমলে না দেয়ায় খোদ ওই পুলিশ কর্মকর্তাকেই পলিন ডিসমিস করেছিলেন বলে খবর বেরিয়েছে। সরকারী কোষাগার তছরুপের অভিযোগও চলে এসেছে তাঁর বিরুদ্ধে। ‘সরকারী সফর’ দেখিয়ে ৪৩,৮৯০ ডলারের ট্যাক্স রিসিট জমা দিয়েছেন। অথচ পলিনের এই সফরসমূহ ছিল স্বামী ও সন্তানসহ তাঁর ওয়াসিলার নিজ বাড়ীতে ৩১২ রাত কাটানো। মাত্র ঊনিশ মাসের গভর্ণরশীপে ১৭ হাজার ডলার নিয়েছেন ৬০০ মাইল দূরে ‘ডিউটি স্টেশন’ দেখিয়ে সরকারী অফিস করার। পলিন অবশ্য এর উত্তরে বলেছেন, আগের গভর্ণর ফ্র্যাঙ্ক মুরকাওস্কির চেয়ে তিনি অনেক কম খরচ করেছেন। তাঁর মুখপাত্র বলেছেন, ‘এটা তো চাকরিরই অংশ। ভ্রমনের জন্য তিনি এসব করতেই পারেন’।

সুযোগ থাকা সত্ত্বেও ওবামা পলিনের ব্যক্তিগত ব্যাপার নিয়ে নাক গলাতে মোটেই পছন্দ করছেন না। তিনি বলছেন, ‘আমরা কারো পরিবারের পিছনে লাগি না। তাদেরকে নিয়ে রাজনীতিও করতে চাইনা। এটা সঠিক ও প্রাসঙ্গিকও নয়। আমার লোকজনের কেউ এতে জড়াচ্ছে না, জড়ালে অবশ্যই ফায়ার করব’। তিনি বলেন, ‘এগুলোকে আমাদের রাজনীতির অংশ বানানো উচিৎ নয়। পলিনের গভর্ণরের দায়িত্বপালনে এবং আগামীতে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে কর্মদক্ষতা প্রদর্শনে যোগ্যতার মাপকাঠি এসব হতে পারেনা। সবাইকে অনুরোধ করব এই ধরনের গল্প ফাঁদা থেকে দূরে থাকতে’। ম্যাককেইন দল কিন্তু ওবামাকে অগ্রিম দূষছেন পলিনের দূর্বল দিকগুলোতে ঘায়েল করার অভিযোগে।
রিপাবলিকানদের নিন্দনীয় প্রচারণা ওবামা-বাইডেনকে সার্বক্ষনিক তটস্থ করে রেখেছে। ইন্টারনেটে পলিনের লোকজন সম্প্রতি একটা এড ছড়িয়েছে। এডটা হল এরকম, পলিনকে নিয়ে ওবামা কথা বলছেন। এমন সময় তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, ‘আপনি কি নেতৃত্বের আসনে বসতে প্রস্তুত’? ওবামা বলছেন, ‘না’। আবার প্রশ্ন করা হলো, ‘বাজে কথা ছড়াতে কি আপনি রেডী’? ওবামার উত্তরঃ ‘হ্যাঁ’। বিভিন্ন রাজ্যে ছড়ানো আরো একটা ক্যাম্পেইনিং হল, ‘হোয়াইট হাউস’ মানেই হল ‘সাদাদের স্থান’, সুতরাং সেখানেই কৃষ্ণাঙ্গের না যাওয়াই হল আমেরিকান ট্র্যাডিশন।

ওবামাকে সারাক্ষণই চতুর্মূখী এরকম আক্রমন মোকাবেলা করতে হচ্ছে। তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে রিপাবলিকানদের আরো একটি নোংরামী ‘লিপস্টিক অন অ্যা পিগ’ ক্যাম্পেইন বন্ধ করার দাবী জানিয়েছেন। তিনি বলছেন, ‘আমাকে যা খুশী বল তাতে আমার মাথা-ব্যাথা নাই, কিন্তু তাই বলে কাউকে নোংরা ও ব্যক্তিগত আক্রমন করতে পারবা না’। ‘লিপস্টিক অন অ্যা পিগ’ হল, পিগ (শুয়োর)-এর শরীর রং দিয়ে ভরে দিলেও সে পিগই। পলিন কৌতুক করে বলেছিলেন, আমেরিকান ষাঁড়ের সাথে ‘হকি মাতার’ অর্থাৎ তাঁর পার্থক্যটা হল ‘লিপস্টিক’। ওবামাকে বিদ্রুপ করে বুশ বলেছেন, ‘একটা পুরোন মরা মাছকে যদি তুমি ‘চেঞ্জ’ নামের কাগজ দিয়ে পেঁচিয়ে রাখো, আট বছর পর এথেকে দূর্গন্ধই ছড়াবে’।

গত ২৮ আগস্ট ডেনভারে ওবামা ঐতিহাসিক ভাষন দেয়ার পর তাঁর জনপ্রিয়তা ম্যাককেইনের চেয়ে আট পয়েন্টে এগিয়ে ছিল। শুরুতে ওবামার আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তায় ডেমোক্রেটরা মোটামুটিভাবে এবার নিশ্চিত বিজয় ধরেই নিয়েছিল। কিন্তু পলিন মনোনয়নের পর এখন ওবামা কৌশলীদের আগের সব হিসাব-নিকাশ পালটে গেছে। বাগ্মী সারাহ পলিনের প্রথম আক্রমনেই ম্যাককেইন ৪ পয়েন্টে এগিয়ে ওবামা ক্যাম্পেইনে বাজীমাত করে দেন। জো বাইডেন এখন প্রস্তুতি নিচ্ছেন সামনের দিনগুলোতে সামনা-সামনি ডিবেটে কিভাবে এই বিদূষী মহিলাকে রুখা যায়। ‘ওয়ান অন ওয়ান’ ডিবেটে ম্যাককেইনকে মোকাবেলায় ওবামা খুব সহজে পার পেয়ে যাবার আশা করা গেলেও বাইডেনের ক্ষেত্রে তা নাও হতে পারে। আর সেখানেই হয়ে যেতে পারে নাটকীয় কোন কিছু, যদিও সারা দুনিয়ার শান্তিকামী মানুষেরা বুশের আদর্শের বিপরীত মেরুর ওবামার দিকে তাকিয়ে আছে আমেরিকায় ‘পরিবর্তন’-এর সত্যিকার দৃশ্য দেখার।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/shahin72blog/28845388 http://www.somewhereinblog.net/blog/shahin72blog/28845388 2008-09-19 21:20:32
অগ্নি পরীক্ষায় ওবামার ‘চেঞ্জ’
যাহোক, আমরা আজকে আমেরিকার সাম্প্রতিক প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাজনীতিতে নতুন উত্তাপ ছড়ানো নিয়েই আমাদের আলোচনা বৃত্তাবদ্ধ করে রাখব।

বিশ্বব্যাপী বর্তমান ভাঙা ভাবমূর্তি মেরামতে নিজেকেই সবচেয়ে বেশী যোগ্য কারিগর প্রমান করতে ওবামা-ম্যাককেইন বাগযুদ্ধ এখন তুঙ্গে। জন ম্যাককেইন রিপাবলিকান দলের আনুষ্ঠানিক মনোনয়ন লাভের পর অর্থ যোগানদাতাদের নিকট ই-মেইলে জানিয়ে দেন তিনি সারাহ পলিনকে ‘ওয়াশিংটন সংস্কার’-র জন্য রানিংমেট হিসেবে বাছাই করেছেন। অর্থাত এর মাধ্যমে তিনিও স্বীকার করে নিলেন আট বছর বুশ অফিস করায় ‘ওভাল অফিস’কে এখন ‘রিফর্ম’ করতে হবে। তিনি তাঁর নিজ দলের সমালোচনা করে বলেছেন, ‘কিছু রিপাবলিকানরা দূর্নীতি উতসাহিত করায় আজ আমরা আমেরিকানদের বিশ্বাস নষ্ট করেছি।’ আমেরিকার অংগরাজ্য মিনোসোটার সেন্ট পল এনার্জি সেন্টারে দলের কনভেনশনে ম্যাককেইন আলাস্কার গভর্ণর ১৯৮৪ সালের সাবেক রানারস্ আপ মিস আলাস্কা সারাহ পলিনের (৪৪) নাম ঘোষনা করেন। সারাহ তাঁর দীর্ঘ অনলবর্ষী বক্তৃতায় নিজের পরিচয় ‘হকি মাতা’ বলে ওবামার বিরুদ্ধে জ্বালাময়ী ভাষন দিয়ে রিপাবলিকানদের ভীষন উত্তেজিত ও উতফুল্লিত করেছেন। ডায়াসে তিনি স্বামী টড পলিন ও পাঁচ সন্তান নিয়ে হাজির হন। তাদের মধ্যে সবচেয়ে ছোট সন্তান ডাউন সিনড্রোম ছেলে ট্রিডের বয়স মাত্র পাঁচ মাস। সাধারনভাবে আমেরিকায় পারিবারিক বন্ধন অত্যন্ত নাজুক হলেও শাসকদের ক্ষেত্রে আমেরিকানরা উলটো দেখতে চায়। প্রার্থীরা তাই পরিবার-পরিজনদের সাথে করে স্টেজে উঠে শক্ত পারিবারিক বন্ধন প্রদর্শনের প্রথম অগ্নি পরীক্ষায় উত্তীর্ন হতে হয়। সারাহ বললেন, ‘তাদের সংসার দু’যুগের বেশী সময় ধরে আজো অভঙ্গুর’। সন্তানদের মধ্যে ১৭ বছর বয়স্কা ব্রিস্টল পাঁচ মাসের অন্তঃস্বত্বা। বন্ধু ও হবু স্বামী সমবয়সের লেভী জনস্টনও উপস্থিত ছিল। গর্ভপাতবিরোধী আন্দোলনের নেত্রী সারাহ তার কুমারী মেয়ের পেটের বাচ্চা নষ্ট না করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এই আন্দোলনকে আরো বেগবান করার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছেন। রিলেজিয়াস কমিউনিটির ব্যক্তিত্বরা এতে বাহ্বা দিয়েছেন। গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে পলিন এতগুলো সন্তান লালন-পালন ও সংসার সামলানোকে তাঁরা ‘অসাধারন’ বলে অভিহিত করেছেন।

সবাইকে চমকে দিলেও রিপাবলিকানরা মনে করছেন, ম্যাককেইন রানিং মেট নির্বাচনে ভুল করেননি। পলিনকে মনোনয়ন করার মূল কারনসমূহের একটি হল ‘জেন্ডার কার্ড’। হিলারীর ১৮ মিলিয়ন ভোট বাগানোর মোক্ষম হাতিয়ার একমাত্র সারাহ্ই। বাছাই পর্বে ওবামাকে হারাতে হিলারী খুব নোংরা ও ব্যক্তিগত আক্রমন করে এড দিয়েছিলেন। হিলারী সর্বশক্তি দিয়ে ওবামাকে এখন সমর্থন করলেও তাঁর ব্যবহৃত পূর্বের কৌশলগুলো বুমেরাং হয়ে ওবামাকে বারে বারে আঘাত করছে। হিলারীর পূর্বের ওই টেপ বাজিয়ে নেপথ্যের কন্ঠ বলছে, ‘হ্যাঁ, হিলারী সঠিকই বলেছেন’। হিলারীর ওই বিজ্ঞাপনটির সারমর্ম ছিল এরূপ, ভোর তিনটায় ওয়াশিংটন হাউসে ফোন এলে ওবামার সাহস নেই ফোন ধরার। কারন তিনি ‘অপরিপক্ক’, একমাত্র হিলারীই পারবেন অসময়ে উদ্ভূত যেকোন পরিস্থিতি সামাল দিতে। স্বামী বিল ক্লিনটনসহ তিনি তাঁদের গোঁড়া সমর্থক বিশেষকরে মহিলা ভোটারদের ওবামার পক্ষে ভোট দেয়ার প্রানান্তকর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। হিলারী বলছেন, ‘এই ২০০৮ সালেও ম্যাককেইন মনে করেন না যে, পুরুষ ও মহিলাদের বেতনে বৈষম্য থাকা বাঞ্চনীয় নয়’।

প্রতিপক্ষের এরকম অপবাদ আগেভাগে আঁচ করেই ওবামা তাঁর রানিংমেট হিসেবে ৬৬ বছর বয়স্ক জো বাইডেনকে পছন্দ করেছিলেন। বাইডেন ৬ মেয়াদ ধরে সিনেটর নির্বাচিত হয়ে আসছেন। মাত্র ৩০ বছর বয়সে সিনেট সদস্য নির্বাচিত হয়ে রেকর্ড গড়েছেন তিনি। আমেরিকার ‘ফরেন রিলেশন কমিটির’ চেয়ারম্যান ছাড়া ‘ইয়ুগোশ্লাভ যুদ্ধ’, ‘ইরাক যুদ্ধ’-র রেজুলেশন তৈরীতেও তাঁর প্রধান ভূমিকা রয়েছে। ‘সিনেট জুডিসিয়ারী কমিটি’, ‘ড্রাগ পলিসি’, ‘অপরাধ প্রতিরোধ’, ‘নাগরিক অধিকার আন্দোলন’, ‘ভায়োল্যান্টক্রাইম কন্ট্রোল এন্ড ল এনফোর্সমেন্ট অ্যাক্ট’, ‘ভায়োলেন্ট এগেইনস্ট উইমেন অ্যাক্ট’ ইত্যাদির সাথে তাঁর জড়িত থাকার অভিজ্ঞতা রয়েছে।

জো বাইডেনের বিপরীতে পলিনকে রক্ষনশীল দল রিপাবলিকান-কৌশলীদের পছন্দ করার আরো একটি কারন রয়েছে। সেটি হল সারাহ্র কট্টর ধার্মিক ইমেজ। যিনি ইরাক যুদ্ধকে ‘পবিত্র যুদ্ধ’ মনে করেন, এতে করে আনূমানিক ৮৭ মিলিয়ন ক্যাথলিকদের ‘সুইং ভোট’ ঝুঁকে পড়ার সমূহ সম্ভাবনা। গত জুনে পলিন তাঁর সাবেক গীর্জার বাইবেল ছাত্রদের উদ্দেশ্যে বক্তৃতায় ইরাকে আমেরিকান সৈন্য মোতায়েন প্রসঙ্গে বলেছিলেন, ‘Our national leaders are sending them out on a task that is from God (অর্থাত আমাদের নেতৃবৃন্দ ঈশ্বর অর্পিত কর্ম সম্পন্ন করতেই ইরাকে সৈন্য পাঠিয়েছেন।‘) তিনি আরো বলেছেন, ‘That’s what we have to make sure that we’re praying for , that there is plan and that plan is God’s plan (অর্থাত এই কারনেই আমাদেরকে অবশ্যই তাদের জন্য প্রার্থনা করতে হবে। আর সেখানে একটা পরিকল্পনাও রয়েছে এবং সেই পরিকল্পনাটা হল ঈশ্বরের পরিকল্পনা।‘) পলিনের বিশেষ এই ভাষনটি তাঁর নিজ শহর ওয়াসিলার ‘ওয়াসিলা এসেম্বলী অব গড’ সাইটে দেখানো হয়। তিনি ছাত্রদেরকে নিজেকে ‘বাইবেল বিলিভিং’ পরিচয় দিয়ে আরো বলেছেন, ‘আমি তোমাদেরকে এই বুঝাতে চাই যে, তোমরা যীশুর ভালবাসা আলাস্কার সর্বত্র ছড়িয়ে দাও। আমি গভর্ণর অফিসে বসে যীশুর ইচ্ছারই বাস্তব প্রতিফলন ঘটাতে চেষ্টিত। রাজ্যের ৩০ বিলিয়ন ডলারের প্রাকৃতিক গ্যাস পাইপ লাইনের প্রজেক্ট বাস্তবায়নের চেষ্টাও ঈশ্বরের ইচ্ছায়। আমার স্টাফরা কখনো কোন ভাল কাজ করতে পারত না যদি না আলাস্কাবাসীদের হৃদয়-মন ঈশ্বরের সাথে মিশে না থাকত’। তিনি আরো বলেন, ‘I think God’s will has to be done in unifying people and companies to get that gas line built.’

(চলবে)
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/shahin72blog/28842739 http://www.somewhereinblog.net/blog/shahin72blog/28842739 2008-09-13 22:30:33
পুলিশ তুমি কার
নামকরা একটি প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির বিবিএ ফাইনাল ইয়ারের ছাত্র সে। মায়ের সাথে ক’টা দিন কাটাবে বলে গ্রামীন টেলিকমে ইন্টার্ণশীপ শেষ করে থিসিস জমা দিয়েই গ্রামের বাড়ীতে ছুটে গেছে ছেলেটি ।সাথে নিয়েছে এক বন্ধুকে, যাকে সে নিজেদের ছায়াঘেরা সুনিবিড় গ্রাম দেখাবে। এরপর ঢাকা ফিরেই পূর্নোদ্যমে শুরু করবে নতুন ও উদ্দীপ্ত জীবন গড়ার পথ চলা। স্নেহময়ী মা তার নানান ব্যধিতে আক্রান্ত । কি নেই? ডায়াবেটিক, হাই ব্লাড প্রেসার, হার্টের রোগ সবই আছে। ছেলেমেয়েরা কাছে না থাকার বাড়তি শোকের কথা না হয় বাদই দিলাম। ঔষধপথ্য নিয়মিত সেবন করলেও মাঝে মাঝেই অজ্ঞান হয়ে মেঝেতে পড়ে যান । বাড়ীতে এসে তূর্য শোনে ক’দিন আগেও তার মায়ের এমনটি হয়েছিল। তখন ওকে জানায়নি। লেখাপড়ায় ক্ষতি হবে যে! তূর্য তাই বন্ধুসহ মাকে শহরে বড় বোনের বাড়ীতে নিয়ে যায় ডাক্তার দিয়ে আরেকবার চেক আপ করাতে। কিন্তু কে জানে এখানেই তূর্যের জন্য অপেক্ষা করছিল ভীতিকর ও দুঃসহ জীবনের নতুন এক অধ্যায়!

পরদিন সবাই বোনের বাড়িতে দুপুরে খাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল । এমন সময় টুং টাং কড়া নাড়ার শব্দে দরজা খুলে হতভম্ব হয়ে যায় তূর্য। দুজন পুলিশ দাড়িয়ে, সাথে তাদের এক আত্মীয়ের আত্মীয় (যাকে সে নানা ডাকে এবং যিনিও কিনা প্রাক্তণ পুলিশের এস আই)। লোকটি ওকে দেখিয়ে দিয়ে পুলিশকে বলে, এরই নাম তূর্য। কিছু বুঝে উঠার আগেই পুলিশের হুকুম, ‘প্যান্টটা পড়ে নিন, আমাদের সাথে একটু যেতে হবে।‘ ভয় পেয়ে পাছে মায়ের কোন অঘটন ঘটে বসে ভেবে দ্রুত পুলিশের সাথে সে পথ চলে। পুলিশ ওকে তাদের গাড়ীতে বসায়। আর ওই লোকটি কাজ সমাধা হয়েছে বিধায় সটকে যাওয়ার পথ খোজে।তূর্যের ভাবলেশহীন নীরিহ চেহারা দেখে পুলিশ হয়তো খানিকটা বুঝতে পারে লোকটি ওকে অযথা ফাসাতে যাচ্ছে।তাই তাকেও ধমকিয়ে গাড়ীতে উঠায়।

এদিকে অন্য একজন পুলিশ তূর্যকে একের পর এক হুমকি দেয়। হাত-পা ভেঙ্গে গুড়া করে দিব, তোর সাথে আর কে কে আছে বল ইত্যাদি । প্রাথমিক তদন্তেরও তোয়াক্কা না করে এস আই আব্দুর রাজ্জাক মাথা, কান ও বুক বরাবর প্রচন্ড বেগে তিন চারটি ঘুষি মারে। প্রচন্ড ব্যাথায় কুকড়ে উঠে তূর্য। আকাশ ভেঙ্গে মাথায় পড়ে তার। কি বলবে সে? ভদ্রবেশী ওই অমানুষটাকে সে জিজ্ঞেস করে, নানা আমি কি করেছি? নানা উত্তরে জানায় গত রাতে সে ৫০ হাজার টাকা নিয়েছে। অবাক হয়ে তূর্য জানতে চায় টাকা নিব কেন, সে টাকাই বা কোথায় রেখেছি, কোথা থেকে নিলাম, আমার বাবার কি সামান্য এই টাকা নাই, এসব কি বলছেন? লোকটি এবার এলোমেলো ভাবে পুলিশকে জানায়, রাতে নিয়েছিল, আজ সকালে ফেরৎও দিয়েছে।পুলিশ লোকটিকে হুমকি দিয়ে জিজ্ঞেস করে, টাকা যদি ফেরৎ পেয়েই থাকেন তবে আসছেন কেন, আপনাকেও ছাড়ছি না, ইত্যাদি। কিন্তু থানায় আসার পর অজানা অথবা জানা কারনে তাকে ছেড়ে দেয়া হয় আর তূর্যকে ভরা হয় লক আপে ।

মামলা সাজানো হয় সম্পূর্ণ উল্টাভাবে। জেলা পুলিশ লাইন থেকে তূর্যকে ধরা হয়েছে, টাকা সহ! মানে ‘পুলিশে সে লোক নিয়োগ দিবে’ কথা বলে মানুষজনের কাছ থেকে টাকা নিতে সে ঢাকা থেকে এসেছে বন্ধুবান্ধবসহ। আর আমাদের চৌকষ পুলিশবাহিনী তাকে ধরে ফেলেছে টাকা লেনদেনরত অবস্থায়! কি অদ্ভূত, পৃথিবী!

ওদিকে উৎকন্ঠিত অসুস্থা মা, ছেলে এখনো ফেরে না কেন? ঘুমের ট্যাবলেট খাওয়ায়ে তাকে রাখতে হয় দিনের পর দিন।বাবা স্কুল শিক্ষক, সজ্জন ও নীরিহ হিসেবে এলাকায় সমধিক পরিচিত। কয়েকমাস পরেই রিটায়ার্ড হবেন। পাগলের মত এদিক ওদিক ফোন করেন। খবর চলে যায় তূর্যের পারিবারিক বন্ধু এক এএসপির কাছে। তিনি ফোন করেন সংশ্লিষ্ট জেলার এসপি বরাবর। ভাল মানুষ হিসাবে জেলায় এসপির নামডাক আছে। তিনি তূর্যের পারিবারিক খবর নিতে শুরু করেন। কোন খারাপ রিপোর্ট পান না। কষ্টেসৃষ্টে তূর্যের বাবা-মা দেখাও করেন এসপির সাথে। জানতে চান তাদের ছেলে কি অপরাধ করেছে? ইউনিভার্সিটিতে কি সে কোন আইনবিরোধী কাজের সাথে জড়িত? পুলিশ সব কিছু এবার বুঝতে পারে। সম্পূর্ন ঈর্ষাপরায়ন বশত সম্ভাবনাময় তরুন ছেলেটাকে ফাসিয়ে দিয়েছে আত্মীয়রুপী ওই অমানুষটি। এসপি, এএসপি সহমর্মিতা দেখালেও থানার ওসি তূর্যকে ছাড়ে না। থানার ব্যাপার স্যাপার যারা বোঝে তাদের সাথে যোগাযোগ করে তূর্যের আত্মীয় সজন। ওসিকে বখশিস দেয়া হয়। ইতিমধ্যে ওসি বেচারা নাকি বেশ খ্যাতি অর্জন করেছেন ওসিগিরী করে রাজশাহীতে সম্পদের পাহাড় গড়ে।

দেশের মাটিতে কামড়ে পড়ে থাকবে বলে যে প্রতিজ্ঞা করেছিল, সম্পূর্ন বিনা কারনে শুরু হল তার নতুন জীবন। এই কচি বয়সে সমাজের প্রভাবশালি ও উচচ শিক্ষিত তথাকথিত ভদ্রমানুষদের সুফী চেহারার আড়ালে ঘৃন্যরুপের কিয়দংশ এক এক করে দেখতে শুরু করল সে। তার বাবার ছাত্র ও পারিবারিকভাবে শুভাকাংখী যাকে কিনা সারাজীবন আপনজন বলে জেনেছে, ফোনে পুলিশকে বলছে, পিটিয়ে কথা বের করতে। এত কড়াকড়ি অবস্থার মধ্যেও চোখের সামনে সে দেখল সামান্য একশো টাকার বিনিময়ে এক খুনীকে কিভাবে পুলিশ ছেড়ে দিল।এক এস আই এসে ওকে বলল, আপনার আপাকে আমার সাথে দেখা করতে বলুন, তবে এটি ভাববেন না যে আমি ঘুষ চাচ্ছি। আকাশের দিকে চেয়ে থাকে তূর্য, বোঝে না কি করবে সে। যে ধারায় তার বিরুদ্ধে মামলা সাজানো হচ্ছে, তাতে নাকি তার সাত বছরের জেল হবে। তার মত অনেক নিরপরাধ ছাত্র, কিশোর, যুবার সাথে পরিচয় হয় জেলের ভিতর। নিজের ভবিষ্যৎ ভেবে আৎকে উঠে তূর্য। বাইরের পরিচিত মানুষজন তাকে নিয়ে কি ভাবছে? তারা তাকে ভুল বুঝছেনা তো? কিভাবে তাদের সামনে সে মুখ দেখাবে? ছাড়া পেয়ে কয়জনকে সে বুঝাবে?

যাহোক, এসপি ও এএসপির বদান্যতায় শেষমেশ জেল খেটে তূর্য ছাড়া পেয়েছিল ঠিকই, কিন্তু ভয় ও অজানা আশংকা তার পিছু ছাড়েনি। আগেরমত তার প্রত্যয় নেই, দেশের থাকার অদম্য বাসনাও নেই। প্রতিশোধের স্পৃহা সারাক্ষন তাকে তাড়া করে বেড়ায়। ফুপিয়ে ফুপিয়ে কেদে বলছিল আমাকে কোন কিছু না লিখতে। না জানি কখন আবার পুলিশ এসে তাকে কোন ধারার সীমাহীন ক্ষমতা বলে ধরে নিয়ে যায়!

তূর্যের সম্ভাবনাময় জীবনে আর নতুন কোন অঘটনা ঘটুক, তা অবশ্যই চাইনা বরং তার চলার পথ আবার শুভ হোক, আশা ভঙ্গের আর কোন অনভিপ্রেত পরিস্থিতির সম্মুখীন না হোক, তাই-ই কামনা করি। কিন্তু একদম নিরবতাকে নিজের বিবেকের কাছে কোনমতেই মেনে নিতে পারছিলাম না। পত্র পত্রিকায় টুকটাক লেখালেখির সুবাদে অনেকেই
ই-মেইল করে, ফোন করে তাদের জীবন ঘনিষ্ঠ অনেক সমস্যার কথা বলেন। মানুষের কাছে তাদের মনের আকুতি তুলে ধরতে বলেন। ভাবলাম এসব নিয়ে আমি কিভাবে কলাম লিখব? আমার প্রিয় যেদেশে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীরা সরাসরি আন্ডারওয়ার্ল্ড সন্ত্রাসীদের সাথে জড়িত কিংবা বিচারপতিদের শায়েস্তা করতে লাঠি মিছিলের নেতৃত্ব দেন, খোদ প্রধানমন্ত্রী যেদেশে এক লাশের বদলে দশ লাশ ফেলে দেয়ার হুকুম দেন, ওসির নির্দেশে প্রতিবেশীর জমি-বাড়ী ভোগ দখলের খায়েশে কলেজ ছাত্রকে হত্যা করা হয় কিংবা দিন দুপুরে পুলিশের সামনে সাপের মত পিটিয়ে মানুষ হত্যা করা হয়, যৌতুকলোভী শয়তান স্বামীদের নির্যাতনের শিকার হয়েও নারীরা পুলিশকে কাছে পায় না, যেদেশে ইয়াসমীন, রাহেলা, নূরজাহান আর কত নাম না জানা কৈশোরী, তরুনীর অকাল জীবনের করুন পরিসমাপ্তি ঘটে সেদেশে আমি কত জনের কথা লিখব? সর্ষের মধ্যেই যদি ভুত থাকে, সে ভুত তাড়াবে কে? তাও আবার পুলিশের বিরুদ্ধে যে বিভাগে কিনা আমার আত্মীয় সজনদের বিরাট অংশই বিভিন্ন পদে কর্মরত? তবুও অজস্র মজলুম হতভাগাদের মধ্য থেকে তূর্যের কথা লিখছি, কারন তার কান্না আমাকে সরাসরি শুনতে হয়েছে। প্রায় সপ্তাহ খানিক ধরে ভেবেছি আমি কি সত্যি কিছু লিখব না? কেমন করে নিশ্চুপ হয়ে বসে থাকি যেখানে আমার কিনা মুক্ত অস্ত্র (কলম)কে কেউ লাগাম টেনে ধরতে পারবেনা। যে লেখায় প্রানের স্পন্দন থাকে না, মাটি ও মানুষের চাপা কান্না থাকে না, জীবনবোধের দোলা থাকে না, হৃদয়ের স্খরন থাকে না, তা আবার কিসের লেখা?

মুঞ্জুরুল করিমের ক্রাইম ওয়াচে কয়দিন আগে দেখলাম দক্ষিনাঞ্চলের এক জেলার গোটা পরিবারের ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ হওয়ার করুন কাহিনী। শুরু হয় কলেজ পড়ুয়া মেয়ের মুখের উপর এসিড নিক্ষেপের মাধ্যমে। তারপর একে একে হত্যা করা হয় পরিবারের কয়জন সদস্যকে। এবার তাদের লোলুপ দৃষ্টি পড়ে জমি জমার উপর। সাথে রয়েছে পুলিশের উপরি চাহিদা। সইতে না পেরে পরিবারের জীবিত একমাত্র পুরুষ সদস্য বাবা (যিনিও সারা শরীরে জখমের চিহ্ন বয়ে বেরাচ্ছেন) মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে হাসপাতালে উঠেছেন। বেদনাদায়ক ব্যাপার হল, সেখানেও বেপরোয়া সন্ত্রাসীদের হুমকি ধমকি থেকে নিস্তার পাচ্ছেন না নিঃস্ব ওই পরিবারটি। পুলিশের চেয়েও বহুগুন উন্নত ও আধুনিক অস্ত্র শস্ত্রে সজ্জিত সন্ত্রাসীদের নিকট আমাদের পুলিশবাহিনী যেন নির্জীব এক অপদার্থের নাম।

অথচ, অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে পুলিশ ঠিকই লিখে রেখেছে তাদের ভিশন হল, প্রতিটি নাগরিককে সেবা প্রদান করে বসবাস ও কাজের জন্য সুন্দর ও নিরাপদ বাংলাদেশ বাস গড়ে তোলা (To provide service to all citizens and make Bangladesh a better and safer place to live and work) এবং তাদের মিশন হল, আইনের শাসন সমুন্নত রাখা, নাগরিকদের সেফটি ও সিকিউরিটি নিশ্চিত করা, অপরাধ দমন ও তা নির্ণয় করা, অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা, এবং শান্তি ও শৃংখলা বজায় রাখা (To ensure safety and security of citizens, To prevent and detect crime, To bring offenders to justice, To maintain peace and public order) ।

একটা সুস্থ ,সুন্দর ও সভ্য সমাজ বিনির্মানের প্রধান সোপান হল আইনের যথাযথ প্রয়োগ ও সবার প্রতি মানসম্মত আচরন। কোন সমাজ থেকেই মিথ্যার বেসাতি ও অপরাধ সমূলে নির্বংশ করা আকাশ কুসুম কল্পনা বৈ কিছু নয়। কিন্তু সেসব