আমার প্রিয় পোস্ট

শাহ নজরুল আলম

যুদ্ধাপরাধ বিষয়টি রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী ঘায়েল করা

১২ ই জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ৭:০৩

শেয়ারঃ
0 0 0


জনগনের মৌলিক অধিকারের একটি অধিকারও কোন সরকার পূর্ণ করতে পারেনি।হাজার সমস্যা থাকা সত্বে সরকার যুদ্ধাপরাধ বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক প্রতিদ্বনদ্বী নির্মূলের একটি নোংরা খেলা শুরু করা হয়েছে।তবে ইতিহাস ও বাস্তব প্রেক্ষাপঠ কি অনেকের জানার বাইরে।এই সুযোগে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের পায়তারা চলছে। এই খেলার রেফারী হচ্ছেন বরাম ও বামপন্থী বুদ্ধিভ্রষ্ট কিছু সাংবাদিক বুদ্ধিজীবী এবং রাজনীতিবিদ।তারা দিনকে রাত এবং রাতকে দিন করে দেশবাসীকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন। এদের প্রধান টার্গেট হচ্ছেন ইসলামপন্থী রাজনীতিবিদ, বিশেষ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা।
যুদ্ধাপরাধ কি?আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী যুদ্ধাপরাধ বা War Crime এর সংজ্ঞা হচ্ছে Violations of the laws or Customs of war, including but not limited to murder, the ill treatment or deportation of civilian residents of an occupied territery to slave labour camps, the murder or ill-treatment of prisoners of war, the killing of hostages, the wanton destmction of cities, towns, villages and any devastation not justified by military necessity.
আওয়ামী লীগ ও তাদের সুহৃদরা গত ৩৯ বছর ধরে এদের প্রথম রাজাকার আলবদর, পরে ঘাতক দালাল বলে আখ্যায়িত করে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু ‘এতে কাজ না হওয়ায়', তাদের অপপ্রচার সত্ত্বেও দল হিসেবে জামায়াতের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাওয়ায় একটি বিদেশী শক্তির ইন্ধনে ও তাদের গোয়েন্দা সংস্থার অর্থায়নে সেনা সমর্থিত বিগত কেয়ারটেকার সরকারের আমলে নতুন করে যুদ্ধাপরাধী শব্দটির অপব্যবহার শুরু হয়, সেক্টর কমান্ডার্স ফোরাম নামে একটি সংগঠনের জন্ম দিয়ে তার ছত্রছায়ায় যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দাবি করা শুরু হয়। যারা এই দাবি করছেন তারা সকলেই বাংলাদেশের স্থপতি শেখ মুজিবর রহমানকে ‘জাতির পিতা' বলে গণ্য করেন। আর স্বয়ং শেখ মুজিবর রহমান যুদ্ধাপরাধীদের ক্ষমা করেছেন।
স্বাধীনতা যুদ্ধের অব্যবহিত পরে শেখ মুজিবর রহমানের শাসনামলে ভারত ও বাংলাদেশ মিলে মানবতাবিরোধী অপরাধের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ১৯৫ জন সদস্যকে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করে তাদের বিচারের উদ্যোগ নেয়া হয়। তাদের অপরাধের ফিরিস্তিও তৈরি হয় এবং বিচার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করার জন্য ১৯৭৩ সালে International (Crimes) Tribunal Act নামে একটি আইনও পাস করা হয়। প্রেস নোট জারী করে সরকার বিচার শুরুর একটা তারিখও ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু এক পর্যায়ে এসে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী জুলফিকার আলী ভুট্টোর অনুরোধে ভারত, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে সম্পাদিত এক চুক্তির ভিত্তিতে চিহ্নিত ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীদের বিচার না করে ক্ষমা করে দেয়া হয় এবং তাদের পাকিস্তানে ফেরত পাঠানো হয়। শেখ মুজিবর রহমান পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে এই ক্ষমা ঘোষণা দেন এবং বলেন যে, বাংগালীরা জানে কিভাবে ক্ষমা করতে হয়। একইভাবে Collaborator Act এর অধীনে ১৯৭১ সালের রাজনৈতিক ভূমিকার কারণে যাদের গ্রেফতার করা হয়েছিল তাদের জন্যও তিনি সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেন।
সদ্য স্বাধীনতাপ্রাপ্ত দেশকে গড়ে তোলার লক্ষ্যকে সামনে রেখে তিনি বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য ও সংহতির স্বার্থে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। তবে হত্যা, ধর্ষণ, অগ্নি সংযোগ ও লুটপাট-- এই চারটি অপরাধের সাথে যারা জড়িত ছিল সংগত কারণে তাদের প্রতি সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার সুবিধা প্রযোজ্য ছিল না। স্বাধীনতা-উত্তর আওয়ামী লীগের প্রথম সরকারের আমলে প্রতিদ্বনদ্বী রাজনৈতিক দল ও তাদের নেতাকর্মীদের পাইকারী হারে দালালীর অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছিল। তাদের অনুপ্রেরণায় মুক্তি বাহিনীর সদস্যরা বিনা ওয়ারেন্টে এবং আইনের নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই লক্ষাধিক লোককে গ্রেফতার ও হত্যা করেছিল। এই নিহতদের তালিকা ও বিস্তারিত ঠিকানা এবং হত্যাকারীদের নাম ধাম, পরিচয় ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনেকেই সংরক্ষণ করেছেন এবং এখনো তা আছে।
হত্যা নির্যাতনের পর যাদের বাঁচিয়ে রাখা হয়েছিল তাদের মধ্যে ঐ সময় দালালীসহ বিভিন্ন অভিযোগে ৩৭৪৭১ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয় এবং তাদের বিচারের জন্য বিশেষ ট্রাইবুনাল গঠিত হয়। এর মধ্যে পুলিশী তদন্তে ৩৪৬২৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগের অনুকূলে কোনো সাক্ষী প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ২৮৪৮ জনের বিরুদ্ধে পুলিশ চার্জশীট গঠন করে এবং অভিযোগ প্রমাণ করতে না পারায় এর মধ্য থেকে ২০৯৬ জন বেকসুর খালাস পান। অবশিষ্ট ৭৫২ জনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ফৌজদারী অপরাধ প্রমাণিত হয় এবং আইন অনুযায়ী তাদের শাস্তি হয়। এদের সঙ্গে জামায়াতের কোনো সম্পর্ক ছিল না। স্বাধীনতার আগে, স্বাধীনতা যুদ্ধকালে এবং স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে যত হত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ, সন্ত্রাস, নৈরাজ্য এবং লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে তার কোনটির সাথে অদ্যাবধি জামায়াতের সম্পৃক্তি প্রমাণ করা যায়নি। গত ৩৯ বছরের ইতিহাসে এটাই প্রমাণ করে যে বাংলাদেশে জামায়াতই একমাত্র দল যারা সন্ত্রাসী লালন করে না, দলটি স্বয়ং কিংবা তার কোনো অংগ সংগঠনের নেতাকর্মীরা সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি অথবা দুর্নীতির সাথে জড়িত নয়। ১৯৭১ সালে জামায়াত অথবা তার তৎকালীন ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র সংঘ কোনো যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেনি।
সত্তুরের নির্বাচনে বিজয়ী দল আওয়ামী লীগের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর না করে পাকিস্তানের সামরিক শাসকগোষ্ঠী তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রতিবাদী নিরীহ জনগণের বিরুদ্ধে সামরিক বাহিনী লেলিয়ে দিয়ে যে গণহত্যা শুরু করেছিল, একটি বিরোধী রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতের নেতাকর্মীরাও এ থেকে রেহাই পায়নি। এই সামরিক একশন থেকেই মুক্তিযুদ্ধের সূচনা হয় এবং ৩ ডিসেম্বর ভারত-বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিক যুদ্ধ ঘোষণার পূর্ব পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধ ছিল গেরিলা পদ্ধতির; ডিসেম্বর মাসের ৩ তারিখে আনুষ্ঠানিক যুদ্ধ ঘোষণার পর ১৩ দিন এই যুদ্ধ চলে এবং ১৪তম দিনে পাকিস্তান বাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে যুদ্ধের পরিসমাপ্তি ঘটে এবং দেশ স্বাধীন হয়। এই যুদ্ধে দু'টি পক্ষ ছিল। এক পক্ষে ভারত-বাংলাদেশ যৌথবাহিনী এবং অন্যপক্ষে পাকিস্তান বাহিনী। নিয়মিত বাহিনীর সাথে সহযোগী বাহিনীও এই যুদ্ধে লিপ্ত ছিল। পাকিস্তানী বাহিনীর সহযোগী বাহিনী হিসেবে তখন ইপিআর, আনসার এবং রাজাকার বাহিনী তৎপর ছিল। আল বদর, আল শামস, রাজাকার বাহিনীরই দু'টি শাখা ছিল। পাকিস্তান বাহিনীর আত্মসমর্পণের সাথে সাথে তার সহযোগী বাহিনীর সদস্যরাও যৌথবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। জামায়াত যুদ্ধরত এই বাহিনীগুলোর কোনটিরই সাথে জড়িত ছিল না। মাওলানা নিজামীসহ জামায়াতের কোনো নেতা যুদ্ধরত কোনো বাহিনীর সাথে সশস্ত্র যুদ্ধে লিপ্ত ছিলেন না। ভারত-বাংলাদেশ যৌথভাবে প্রথমত সহস্রাধিক ও পরে যে ১৯৫ ব্যক্তিকে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করেছিল তার মধ্যে জামায়াত অথবা অন্য কোনো দলের নেতাকর্মীদের নাম ছিল না। তাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী কোনো অপরাধ করার কারণে কোথাও কোনো মামলা ছিল না। এমনকি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত যুদ্ধাপরাধের সংজ্ঞায়ও তারা পড়েন না। তাহলে তারা যুদ্ধাপরাধী হন কিভাবে? যুদ্ধাপরাধের সংজ্ঞার ভিত্তিতেই ১৯৭৩ সালে তৎকালীন সরকার যুদ্ধাপরাধীদের চিহ্নিত করেছিলেন। চিহ্নিত করার এই কাজটি ছিল চূড়ান্ত। সরকারী প্রেস নোট অথবা গেজেট নোটিফিকেশনে এই কাজকে অসমাপ্ত বলা হয়নি অথবা দ্বিতীয় কিস্তিতে অপরাধীদের আরেকটি তালিকা তৈরীর প্রতিশ্রুতিও তৎকালীন মুজিব সরকার দেননি, ভারত-বাংলাদেশ যৌথ বাহিনীর যে সমস্ত সিনিয়ার কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশ সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা বেসামরিক যুদ্ধাপরাধীদের অস্তিত্ব সম্পর্কে ঐ সময়ে কোন আভাসও দেননি। সামরিক যুদ্ধাপরাধীদের বিনাবিচারে মুক্তি দিয়ে দেশে পাঠিয়ে দেয়ার ৩৮ বছর পর আজ রাজনৈতিক প্রতিদ্বনদ্বীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ এবং বিচারের প্রহসনের আসল উদ্দেশ্য জ্ঞানপাপীরা না জানার ভান করতে পারেন কিন্তু দেশবাসী নিশ্চয়ই তা উপলব্ধি করতে পারেন।

 

সর্বশেষ এডিট : ১২ ই জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ৭:০৬ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ১২ ই জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ৭:১২
মুহিব ইরম বলেছেন: যুদ্ধাপরাধের সংজ্ঞার ভিত্তিতেই ১৯৭৩ সালে তৎকালীন সরকার যুদ্ধাপরাধীদের চিহ্নিত করেছিলেন। চিহ্নিত করার এই কাজটি ছিল চূড়ান্ত। সরকারী প্রেস নোট অথবা গেজেট নোটিফিকেশনে এই কাজকে অসমাপ্ত বলা হয়নি অথবা দ্বিতীয় কিস্তিতে অপরাধীদের আরেকটি তালিকা তৈরীর প্রতিশ্রুতিও তৎকালীন মুজিব সরকার দেননি

মুজিব সরকার যা করেনি তা করবে এই সরকার। তা না হলে পনেরদলের সরকার কি করে হয়।
২. ১২ ই জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ৭:১২
াহো বলেছেন: দ্ধাপরাধীদের বিচারের বিরুদ্ধে কিছু কথা এবং সেগুলোর প্রত্যুত্তর

লিখেছেন হিমু (তারিখ: বুধ, ২০১০-০১-০৬ ২৩:৩৯)





২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে পিলখানায় বিডিআর হত্যাকাণ্ডের পর সদ্য ক্ষমতায় আগত মহাজোট সরকারের মুখে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রসঙ্গ কয়েক ডেসিবেল নিচে নেমে বাজতে থাকে। এ কথা খুব দূর অতীতের নয় যে মহাজোট যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রতিশ্রুতি বাংলাদেশের জনগণকে দিয়ে বিপুল ভোটে জিতে সরকার গঠন করেছে। ক্ষমতায় আসতে না আসতেই সেনাবাহিনীর ৫৭ জন অফিসার [মেজর জেনারেল থেকে শুরু করে ক্যাপ্টেন পর্যন্ত]সহ ৭৪ জনের মৃত্যু এবং পিলখানায় বিডিআর সদস্যদের দ্বারা সংঘটিত অন্যান্য অপরাধ সরকারের মনোযোগ অন্যদিকে সরিয়ে নিতে বাধ্য করে। কোনো সন্দেহ ছাড়াই বলা যায়, এ হত্যাযজ্ঞে বেনিফিশিয়ারিদের তালিকায় যুদ্ধাপরাধীরা রয়েছে।



পুনরায় মানুষের মুখে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবি গুঞ্জরিত হতে শুরু করে যখন, তখন আমরা লক্ষ করি, পাকিস্তান থেকে তাদের দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত ও অতীতে সাজা খাটা প্রেসিডেন্টটির এক বিশেষ দূত মির্জা জিয়া আনসারি ঢাকায় এসে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে একটি বার্তা জানায়, যে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রকৃষ্ট সময় নাকি এখন নয়। এই অভব্য অনুরোধ করেই পাকিস্তান ক্ষান্ত হয়নি, আন্তর্জাতিক মহলেও তারা জোর লবিইং করে এই বিচারকে বন্ধ বা বাধাপ্রাপ্ত করার জন্যে।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তারপর সৌদি আরব সফরে গেলে একটি গুজব বাংলাদেশে ছড়িয়ে দেয়া হয় যে সৌদি আরব এই বিচারের বিরুদ্ধে। যদিও সৌদি সরকার কোনো বিবৃতি দেয়নি, এবং বাংলাদেশ সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরাও সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জোর গলায় এ কথা অস্বীকার করেছেন।

আমরা ওয়ার্স্ট পসিবল কেইস হিসেবে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রশ্নে অপরাধী পক্ষ পাকিস্তান ও তার সহমর্মী পক্ষ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি রাষ্ট্রকে এই বিচারের বিপক্ষে অত্যন্ত বিরোধী থেকে শুরু করে মৃদু বিরোধী, এই স্পেকট্রামে সাজাতে পারি। পাকিস্তানের তৎকালীন সহযোগী পক্ষ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এ বিচারের প্রশ্নে কোনো প্রকাশ্য বিরোধী অবস্থান গ্রহণ করেনি, এবং তাদের ভাষ্যমতে তারা এ বিচারকার্যে সহযোগিতায় আগ্রহী।

কিন্তু এ কথা অনস্বীকার্য যে স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ তার মাটিতে সংঘটিত হওয়া অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিচারের মুখোমুখি করার সকল ক্ষমতা রাখে। এ বিচারের প্রকৃতি অনন্য এবং অভূতপূর্ব বলে এর প্রবাহের পথে সকল বিঘ্ন দূর করার জন্যে বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থা সমমানের আন্তর্জাতিক কেইসগুলি পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির সহায়তা নিতে পারে।

আমি নিচে কিছু ছাগুপ্রিয়, বরাহপ্রিয় মিথ, প্রশ্ন ও যুক্তি তুলে ধরে সেগুলো খণ্ডন করবো। পাঠকদের কাছে অনুরোধ থাকবে, ফেসবুকে, মেইলগ্রুপে, পথেঘাটে, জলেস্থলেঅন্তরীক্ষে যখন কাছাকাছি ধরনের তর্ক হবে, তখন এই টেমপ্লেটটি উপস্থাপন বা রেপ্লিকেট করার। আপনাদের সংযোজন, বিশ্লেষণ আর সংশ্লেষণ আমি সম্পাদনা করে পোস্টে যোগ করার অভিলাষ জানাই এবং অনুমতি চাই। ধন্যবাদ।

মিথ ০: দেশে কোনো যুদ্ধাপরাধী নেই।

স্পষ্টভাবেই আছে।

১৯৭৩ সালে ঘোষিত সাধারণ ক্ষমার আওতায় অনেক পাতি রাজাকার, যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ সেই সময়ে আনীত হয়নি, তারা ছাড়া পেলেও ১১ হাজারের বেশি রাজাকার আলবদর যুদ্ধাপরাধী দালাল আইনের আওতায় কারাবন্দী ছিলো। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু নিহত হবার পর যারা ক্ষমতায় আসে, তারা এক পর্যায়ে আইনের চোখে অবৈধ ঘোষিত অধ্যাদেশ জারি করে দালাল আইন বাতিল ঘোষণা করার ফলে এই ১১ হাজার যুদ্ধাপরাধী মুক্তি পায়। এদের অধিকাংশই এখনো বহাল তবিয়তে দেশে বিরাজ করছে এবং তারা যুদ্ধাপরাধী। ফলে দেশে কোনো যুদ্ধাপরাধী নেই, এই দাবী মিথ্যা।

মিথ ১: ৩৮ বছর আগে কী হয়েছে না হয়েছে, তা নিয়ে জাতিকে বিভক্ত করার কোনো মানে হয় না

৩৮ বছর আগে, ১৯৭১ সালে আমাদের দেশে যা ঘটে গেছে, তা একটি নৃশংস অপরাধ। পাকিস্তানী সেনাবাহিনী ও তার এ দেশীয় সহযোগী, যথাক্রমে জামায়াতে ইসলামী, নেজামে ইসলামী ও মুসলিম লীগের নেতৃ- ও কর্মীবৃন্দ এবং তাদের নেতৃত্ব ও নির্দেশনায় পরিচালিত রাজাকার বাহিনী, আল বদর ও আল শামস, বাংলাদেশের নিরস্ত্র জনতার ওপর গণহত্যা, হত্যা, লুণ্ঠন, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ, জেণ্ডারসাইড, পরিকল্পিত জাতিধর্ষণ, পরিকল্পিত জাতিনিধনের মতো অপরাধ করেছে। এসব অপরাধ আন্তর্জাতিকভাবে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে স্বীকৃত, এবং ফৌজদারি অপরাধ তামাদি হয় না বলে এখনও বিচারযোগ্য। জাতি এই অপরাধের বিচার নিয়ে ঐক্যবদ্ধ, যার প্রমাণ সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মহাজোটের প্রতিশ্রুতির পক্ষে প্রদত্ত ভোটের অনুপাতে মেলে। অল্প কিছু সংখ্যক শুয়োরের বাচ্চা এই বিচারের বিরুদ্ধে।

মিথ ২: শেখ মুজিবর রহমান তো যুদ্ধাপরাধীদের ক্ষমা করে দিয়েছিলেন, এখন আবার কথা কীসের?

শেখ মুজিবর রহমান যুদ্ধাপরাধীদের ক্ষমা করেননি।

১৯৭২ সালের ২৪ জানুয়ারি "দালাল আইন (বিশেষ ট্রাইব্যুনাল) আদেশ" জারি করা হয়। একই বছরের ৬ ফেব্রুয়ারী, ১ জুন ও ২৯ আগস্ট তারিখে তিন দফা সংশোধনীর পর আইনটি চূড়ান্ত হয়।

দালাল আইন জারির পর ১৯৭৩ সালের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে ৩৭ হাজার ৪৭১ দালালকে গ্রেফতার করা হয়। ৭৩টি বিশেষ ট্রাইব্যুনালে এদের বিচার কাজ চললেও ২২ মাসে মাত্র ২ হাজার ৮৪৮টি মামলার বিচার সম্পন্ন হয়। এ-রায়ের মাধ্যমে ৭৫২ জন বিভিন্ন মেয়াদে দণ্ডিত হন।

১৯৭৩ এর ৩০ নভেম্বর বহুল আলোচিত সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করা হয়। এ-ঘোষণার মাধ্যমে ২৬ হাজার ব্যক্তি মুক্তি পান। বাকীদের বিচার অব্যাহত থাকে।

সাধারণ ক্ষমার প্রেস-নোটে বলা হয়,


উদ্ধৃতি

ধর্ষণ. খুন, খুনের চেষ্টা, ঘর-বাড়ী অথবা জাহাজে অগ্নি সংযোগের দায়ে দণ্ডিত ও অভিযুক্তদের ক্ষেত্রে ক্ষমা প্রদর্শন প্রযোজ্য হবে না।



মিথ ৩: ৩৮ বছর আগে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিচার এখন সম্ভব নয়

ভুল। অবশ্যই সম্ভব। প্রথমত, ফৌজদারি অপরাধ তামাদি হয় না। দ্বিতীয়ত, এই অপরাধের ভিক্টিমরা এখনও অনেকে জীবিত ও সাক্ষ্যের জন্যে প্রস্তুত রয়েছেন। তৃতীয়ত, এই অপরাধ সংক্রান্ত বহু দলিলপত্র বর্তমানে অবমুক্ত করা হয়েছে [মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তান সরকার]। চতুর্থত, পৃথিবীতে এখনও প্রায় ৭০ বছর আগে ঘটে যাওয়া দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিচারের মুখোমুখি করা হচ্ছে। আমাদের আলোচ্য অপরাধ মাত্র ৩৮ বছর আগে ঘটা।

মিথ ৪: এই বিচারের দাবি মূলত রাজনৈতিক বিদ্বেষ প্রসূত এবং জামায়াতে ইসলামিকে বিপন্ন করার বাকশালী পাঁয়তাড়া

জামায়াতে ইসলামি দলটি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের বিরোধিতা করেছিলো, এবং এর তৎকালীন নেতৃবৃন্দের সকলে যুদ্ধাপরাধের সাথে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত ছিলো বলে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। তাদের বর্তমান নেতৃত্বেও যুদ্ধাপরাধের অপরাধে অভিযুক্তরাই রয়েছে। তারা যদি বিপন্ন হয়, তাহলে এই বিপদের পেছনে তাদের অতীত ইতিহাসই দায়ী।

মিথ ৫: যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করতে গেলে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলি সেখানে কর্মরত বাংলাদেশীদের দেশ থেকে তাড়িয়ে দেবে

জামায়াতে ইসলামির নেতৃবৃন্দের সাথে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির হৃদ্যতা রয়েছে, এবং এমন একটি গুজব তাদের উৎসাহেই ছড়ানো হয়েছে যে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করতে গেলে মধ্যপ্রাচ্য আমাদের ওপর গজব নাজিল করবে। তবে প্রকৃত সত্য হচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্যের সাথে বাংলাদেশ বর্তমান সরকারেরও জোরালো সম্পর্ক রয়েছে, এবং রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে আলোচনার মাধ্যমে এমন অশুভ উদ্যোগ ঠেকানোর ক্ষমতা বাংলাদেশ সরকারের রয়েছে।

প্রশ্ন ১: যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা হলে কি বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়বে? অপরাধ কমবে? দুর্নীতি কমবে? বিদ্যুৎ বিভ্রাট কমবে? ওয়াসার পানিতে গুয়ের গন্ধ দূর হবে?

পাল্টা প্রশ্ন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা না হলে কি বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়বে? অপরাধ কমবে? দুর্নীতি কমবে? বিদ্যুৎ বিভ্রাট কমবে? ওয়াসার পানিতে গুয়ের গন্ধ দূর হবে?

উভয় ক্ষেত্রেই একই উত্তর।

প্রকৃতপক্ষে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কার্যক্রম আমাদের প্রাত্যহিক জনজীবনের ওপর কোনো নেতিবাচক বা তাৎক্ষণিক ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে না। অপরাধের বিচার কেবল তাৎক্ষণিক প্রভাবের কথা ভেবে করা হয় না, করা হয় সমাজে ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্যে। এর সুদূরপ্রসারী ইতিবাচক প্রভাবের মধ্যে রয়েছে, সার্বভৌম বাংলাদেশে এ ধরনের অপরাধের বিচার নিষ্পত্তি করার মাধ্যমে বিচারব্যবস্থার উত্তরণ লাভ এবং প্রকৃত অপরাধীদের শাস্তি দিয়ে সমাজে ন্যায় প্রতিষ্ঠা।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার অন্যান্য অপরাধের বিচারের সাথে এ অর্থে তুলনীয়, যদি তাদের বিচারের বিরোধিতা করা হয়, তাহলে আজ প্রতিটি খুনী, ধর্ষণকারী, লুণ্ঠনকারী ও অগ্নিসংযোগকারী এই একই ছাড় পাবার দাবিদার।

প্রশ্ন ২: আওয়ামী লীগ তো আগে একবার ক্ষমতায় এসেছিল। তারা তখন বিচার করে নাই কেন? শেখ হাসিনা একটা সময় জামায়াতের সাথে হাত মিলিয়েও রাজনীতি করেছিল। তখন যুদ্ধাপরাধী বিচারের ইস্যু কোথায় ছিল?

প্রশ্নটির মধ্যে একটি ভুল তথ্য রয়েছে। বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর আওয়ামী লীগ দুইবার ক্ষমতায় আসে। প্রথমবার ক্ষমতায় আসার পর তখনকার সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের উদ্যোগ নেয়, এ লক্ষে আইন প্রণয়ন করে এবং তার ভগ্নাংশ পরিমাণ বাস্তবায়নও করে। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর যারা ক্ষমতার বলয়ে প্রবেশ করে, তারা যুদ্ধাপরাধীদের রাজনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে ক্ষমতা পোক্ত করার আশায় আওয়ামী লীগ সরকারের প্রণয়ন করা আইনগুলি বাতিল করে।

১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের উদ্যোগ নেয়নি, এর পেছনে প্রধান কারণ হতে পারে তাদের তৎকালীন নেতৃত্বে দূরদর্শিতার অভাব। এ দূরদর্শিতার অভাবের মূল্য আওয়ামী লীগকে শোধ করতে হয়েছে ২০০২-২০০৭ পর্যন্ত ক্ষমতাসীন জোট সরকারের শাসনামলে বারবার আক্রান্ত হয়ে। দেশের মানুষ দুই ভূতপূর্ব আলবদর নেতাকে মন্ত্রী হিসেবে দেখে অপমানিত বোধ করে, এবং সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা হবে, এ প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে আওয়ামী লীগকে পুনরায় আরেকটি সুযোগ দেয় যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করার জন্যে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা না করা আওয়ামী লীগের একান্ত এখতিয়ার নয়। এটি বাংলাদেশের মানুষের দাবি। অতীতে এ দাবি পূরণে ব্যর্থতার অর্থ এই নয় যে বর্তমানে তা পূরণ করা যাবে না।

প্রশ্ন ৩. স্বাধীনতার পর পর যুদ্ধাপরাধীদের বিচার তো সঠিক ভাবে হয়নি, চুনোপুঁটির বিচার হয়েছে, কিন্তু রাঘব-বোয়াল ছাড়া পেয়েছে। এবারও কি তা হবে না?

স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের প্রশাসন ও বিচার ব্যবস্থা উভয়ই সদ্য স্বাধীন দেশকে প্রায় ধ্বংসস্তুপ থেকে টেনে তোলার কাজে ব্যস্ত ছিলো। তারপরও দু'টি অত্যন্ত শক্তিশালী আইন প্রণীত হয়েছিলো এবং তার আওতায় বিচারও শুরু হয়েছিলো। ১৯৭৩ সালে ঘোষিত সাধারণ ক্ষমায় যে সকল রাজাকার ছাড়া পেয়েছিল, তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অপরাধের অভিযোগ আনীত হয়নি। কিন্তু রাঘব-বোয়ালদের ছাড়ার প্রশ্ন আসে না, কারণ রাঘব-বোয়ালরা তখন পলাতক ছিলো এবং তাদের নামে সুনির্দিষ্ট অভিযোগও ছিলো। তখন স্বল্প লোকবল ও পরিকাঠামো নিয়ে বিচারে যে অসামঞ্জস্য ছিলো, এখন তা অনায়াসে দূর করা সম্ভব, কারণ ৩৮ বছরে বাংলাদেশের বিচার ও প্রশাসন কাঠামো এখন অনেক সংগঠিত। তাই যুদ্ধাপরাধীদের পালের গোদাদেরও ধরা যাবে এবং ধরা হবে।

প্রশ্ন ৪. বিচারের দাবী শুধু প্রাকনির্বাচন আর আওয়ামী রাজনীতিতে সীমাবদ্ধ কেন?

এই ইস্যুতে আওয়ামী লীগকে এবার যত মানুষ ভোট দিয়েছে, তারা সকলেই আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক সমর্থক নয়। নির্দলীয় বা অন্যদলীয় সবাই এই বিচারের দাবী জানাচ্ছে। বরং নিজেকে প্রশ্ন করুন কেন বিচারের দাবীতে আপনিও সরব হচ্ছেন না। প্রাকনির্বাচনী প্রচারণা এক দিকে যেমন রাজনৈতিক দলকে বাধ্য করে যুদ্ধাপরাধের বিচারের প্রতিশ্রুতি দিতে, অন্যদিকে সংসদকে যুদ্ধাপরাধীমুক্ত রাখতেও সহায়তা করে। এতে ভবিষ্যতে যুদ্ধাপরাধীদের মনোনয়ন দেবার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোও নিরুৎসাহী হবে।

প্রশ্ন ৫. এত বছর পর দেশকে এটা নিয়ে ভাগ করার দরকার কী?

ভাগ হচ্ছে না তো, দেশের লোক একাট্টা হচ্ছে কতিপয় খুনি-ধর্ষকের বিচারের দাবীতে। যুদ্ধাপরাধীর বিচার মানে তো আর দেশের জনগণকে ভাগ করা নয়। খুনির বিচার, ধর্ষকের বিচার মানে যদি দেশ ভাগ করা হতো তাহলে তো দেশে আইন-আদালত দরকার হতো না। জেলখানা তুলে দিয়ে খুনি-ধর্ষককে বাসার লজিং মাস্টার নিয়োগ করা হতো।

প্রশ্ন ৬. হাসিনার বেয়াই তো যুদ্ধাপরাধী। তারপর আওয়ামী লীগের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী বদরুল হায়দার চৌধুরী ১৯৯১ সালে গোআ'র কাছে দুআ চাইতে গিয়েছিলেন। সুতরাং আওয়ামী লীগের এই বিচারের ব্যাপারে সততা কতটুকু?

যেমনটা আগে বলা হয়েছে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার তো আর আওয়ামী লীগের একান্ত এখতিয়ারের বিষয় নয়। এটি বাংলাদেশের মানুষের দাবি। যুদ্ধাপরাধীর দলীয় পরিচয় বিবেচ্য নয়, কৃত কুকর্মই বিবেচ্য। যুদ্ধাপরাধ যে আইনের অধীনে বিচার করা হবে, সে আইনের আওতায় আপনি স্বচ্ছন্দে আওয়ামী লীগের কোনো ব্যক্তির নামেও অভিযোগ তুলতে পারেন।
৩. ১২ ই জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ৭:১৬
ফ্লাইওভার বলেছেন: বিচার চাই, করতে হবে।+
৫. ১২ ই জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ৭:২৭
মতিউর রহমান চরিয়া বলেছেন: "ভারত, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে সম্পাদিত এক চুক্তির ভিত্তিতে চিহ্নিত ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীদের বিচার না করে ক্ষমা করে দেয়া হয় এবং তাদের পাকিস্তানে ফেরত পাঠানো হয়। শেখ মুজিবর রহমান পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে এই ক্ষমা ঘোষণা দেন এবং বলেন যে, বাংগালীরা জানে কিভাবে ক্ষমা করতে হয়। একইভাবে Collaborator Act এর অধীনে ১৯৭১ সালের রাজনৈতিক ভূমিকার কারণে যাদের গ্রেফতার করা হয়েছিল তাদের জন্যও তিনি সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেন।"

- সত্যি কি তাই ? এর কোন প্রমান আছে?

৬. ১২ ই জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ৭:২৯
াহো বলেছেন: ঢাকা, বাংলাদেশ, ৪ মার্চ ১৯৭২:
এই লেখাটি The Newyork Times এ ১৯৭২ সালের ৫ ই মার্চ
Click This Link
সমাজকর্মীরা মনে করছেন, বাংলাদেশে যে হাজার হাজার অপ্রত্যাশিত শিশু জন্ম নিতে যাচ্ছে তাদেরকে হত্যা করা হবে।

মুক্তিযুদ্ধের অনুপ্রেরনাকে নষ্ট করার উদ্দ্যেশে যেসব বাংগালী নারীকে পাকিস্তান সেনা কর্তৃক ধর্ষণ করা হয়েছিলো তাদের গর্ভেই এই শিশুদের জন্ম হতে যাচ্ছে।

যদিও কতো জন নারী গর্ভবতী হয়েছেন এর সঠিক পরিমান এখনো নিধারিত হয়নি, তবে ' নারী পূনবার্সন সংঘ' গুলোর মতে এ সংখ্যা ২৫০০০ কম হয় নয়, তাছাড়া ধর্ষিত নারীর সংখ্যা ৫০০০০ কম হবে না।

মহিলা পূনর্বাসন প্রশিক্ষন কেন্দ্রের বিশিষ্ট সমাজকর্মী তাহেরা শফিকের বলেন, '' এ ব্যাপক শিশুহত্যা রুখতে হলে আমাদের একমাত্র উপায় এসব গর্ভবতী/ধর্ষিত নারীদের উদ্ধার করে সঠিক ভাবে পূনর্বাসনের ব্যবস্থা করা। ''

তিনি আরো বলেন, '' পিতৃহীন শিশুসহ মায়েরা বাংগালী সমাজে অতি নিগৃহীত । সব পরিবারই চাইবে যেকোন ভাবে এসব অনাকাংখিত শিশুদেরকে মেরে ফেলে মুক্তি পেতে।''

মহিলা পূনর্বাসন প্রশিক্ষন কেন্দ্রের সহায়তায় বিভিন্ন গ্রুপ এসব গর্ভবতী/ধর্ষিত নারীদের উদ্ধার করে সঠিক ভাবে পূনর্বাসনের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করে যাচ্ছে।এসব গভবতী/ধর্ষিত নারীদেরকে তাদের পিতা/ স্বামী গন বাড়ি থেকে বের করে দিয়ে বলেছেন, '' পেঠের সন্তান ভূমিষ্ট হলে এগুলো কে মেরে বাড়ীতে ফিরতে নয়তো আত্মহত্যা করতে।''

স্বেচ্ছাসেবী ডাক্তার শফিক জানালেন এরকম শিশুহত্যার খবর মাট পর্যায় থেকে পাওয়া যাচ্ছে। বাংগালী সমাজে যে পরিবারে এরকম ঘটনা ঘটেছে ঐ পরিবার জাস্ট ধংস হয়ে গেছে , ঐ পরিবারের অন্য মেয়েগুলোর ও আর বিয়ে হচ্ছে না।

ডাক্তার শফিক ব্যাখ্যা করেন, ''পাকিস্তানী দের আমরা কতো ঘৃনা করি এসব শিশুহত্যা থেকেই বুঝা যায়, এসব শিশুদের একমাত্র অপরাধ তারা পাকিস্তানীদের সন্তান।''

তিনি আরো বলেন , যদিও এডাল্টারি মুসলীম ধর্মে গ্রহন যোগ্য নয়, কিন্তু যুদ্ধক্ষেত্রের জন্য ভিন্ন। তাই বলে সামাজিক রীতির কাছে এসব গভবতী/ধর্ষিত নারী ও শিশুদের কোন স্থান নেই।

আন্তর্জাতিক ত্রান সংঘ ও বাংলাদেশ সরকারের সম্মিলিত উদ্যোগে এসব গর্ভবতী/ধর্ষিত নারীদের উদ্ধার করে সঠিক ভাবে পূনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আসুন শুনি এরকম ঘটনার শিকার ১৫ বছর বয়স্ক এক কিশোরীর মর্মবেদনা, ''আমি জানিনা আমার পেঠে কার সন্তান, হাজারো পাকিস্তানী সেনাদের মধ্য থেকে কেউ হয়তো হবে, আমাকে রাখা হয়েছিলো ঢাকার কাছের কোন এক সেনা ক্যাম্পে যেখানে আমার সাথে আরেকটা মেয়েও ছিলো। আমরাদের কে পালক্রমে পাকি সেনারা ভোগ করতো। আমার পেটের যে সন্তান আছে আমি তার জন্য মোটেও কেয়ার করি না, যা খুশী হোক, মরলে বাঁচি। ''

বাংলাদেশের হোম ডাইরেক্টর বলেন, '' এখন আর গর্ভপাতের সময় নেই, সে সময় পার হয়ে গেছে, এখন এইসব শিশুদের পৃথিবীতে আনতেই হচ্ছে।''

বাংলাদেশ সরকার সীমিত সম্পদের মধ্যে এসব গর্ভবতী/ধর্ষিত নারীদের পূনর্বাসনের চেষ্টা করে যাচ্ছে। এজন্য এরকম ৪০ জন নারী ও ৫ জন শিশু নিয়ে একটা পাইলট প্রজেক্ট করা হয়েছে। প্রাক্তন পাকিস্তান অফিসার নুরুল আমিনের বাড়িকে এই প্রকল্পের জন্য বেঁচে নেওয়া হয়েছে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে।

এ প্রকল্পে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংঘটন সাহায্য প্রদান করছে।

এই লেখাটি The Newyork Times এ ১৯৭২ সালের ৫ ই মার্চ
৭. ১২ ই জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ৭:৩২
ফয়জুল আলম বেলাল বলেছেন: ভারত-বাংলাদেশ যৌথভাবে প্রথমত সহস্রাধিক ও পরে যে ১৯৫ ব্যক্তিকে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করেছিল তার মধ্যে জামায়াত অথবা অন্য কোনো দলের নেতাকর্মীদের নাম ছিল না। তাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী কোনো অপরাধ করার কারণে কোথাও কোনো মামলা ছিল না। এমনকি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত যুদ্ধাপরাধের সংজ্ঞায়ও তারা পড়েন না। তাহলে তারা যুদ্ধাপরাধী হন কিভাবে?

যতিদন যায় তত সংখ্যায় বাড়ে।
কথায় বলে পুরানো চাল ভাতে বাড়ার মত।
৮. ১২ ই জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ৭:৩২
াহো বলেছেন: ১৯৭৩ এর ৩০ নভেম্বর বহুল আলোচিত সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করা হয়। এ-ঘোষণার মাধ্যমে ২৬ হাজার ব্যক্তি মুক্তি পান। বাকীদের বিচার অব্যাহত থাকে।

সাধারণ ক্ষমার প্রেস-নোটে বলা হয়,


উদ্ধৃতি

ধর্ষণ. খুন, খুনের চেষ্টা, ঘর-বাড়ী অথবা জাহাজে অগ্নি সংযোগের দায়ে দণ্ডিত ও অভিযুক্তদের ক্ষেত্রে ক্ষমা প্রদর্শন প্রযোজ্য হবে না।
১০. ১২ ই জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ৭:৩৭
াহো বলেছেন: http://www.genocidebangladesh.org/?page_id=246


এদের চিনুন
মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের শক্তি ও পাকিস্তানের দোসররা যা বলেছে ও করেছে


এপ্রিল ১৯৭১
# ঢাকায় নাগরিক শান্তি কমিটি গঠিত – দৈনিক পাকিস্তান- এপ্রিল ১১, ১৯৭১
# মিছিলে নেতৃত্ব দেন গোলাম আযম ও নিজামী – দৈনিক সংগ্রাম -এপ্রিল ১৩, ১৯৭১
# পাকিস্তান রক্ষার জন্য গোলাম আযমের মোনাজাত – দৈনিক সংগ্রাম -এপ্রিল ১৩, ১৯৭১

# নুরুল আমিনের নেতৃত্বে শান্তি কমিটির প্রতিনিধি দল পূর্ব পাকিস্তানের গভর্ণর টিক্কা খানের সাথে দেখা করে নাগরিকদের মধ্যে স্বাভাবিক অবস্থা ও শান্তি প্রতিষ।ঠায় অগ্রগতির কথা অবহিত করেন এবং সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি তাদের সমর্থন পুন:ব্যক্ত করেন। – ঢাকায় নাগরিক শান্তি কমিটি গঠিত – দৈনিক পাকিস্তান- এপ্রিল ১৭, ১৯৭১
# ভারত মুসলমানদের হিন্দু বানাতে চাচ্ছে তাই পাকিস্তানি সেনাবাহিনী নৃশংসতা চালিয়ে যাচ্ছে বলে গুজব ছড়াচ্ছে – মৌলবী ফরিদ আহমেদ - – দৈনিক সংগ্রাম -এপ্রিল ১৬, ১৯৭১
# ‘যেখানে তথাকথিত মুক্তিবাহিনী আলবদর সেখানেই’ এই স্লোগান নিয়ে কুখ্যাত বদর বাহিনী গঠিত হয় ২২ এপ্রিল, ১৯৭১ -দৈনিক পাকিস্তান, পূর্বদেশ -এপ্রিল ২২/২৩, ১৯৭১
# সশস্ত্র বাহিনীকে সাহায্যে করার আহ্বান – আহ্বায়ক শান্তি কমিটি- দৈনিক পাকিস্তান -এপ্রিল ২৩, ১৯৭১

মে ১৯৭১
# নয়া সাম্রাজ্যবাদ নস্যাত করার জন্য শাহ আজিজের আহ্বান- দৈনিক পূর্বদেশ ৫ মে, ১৯৭১
# শান্তি কমিটির তৎপরতা, মুন্সিগন্জে পাক সেনাদের বিপুল সম্বর্ধনা – দৈনিক পূর্বদেশ ১২ মে, ১৯৭১
# সামরিক সরকার ২৫ মার্চ রাত্রে পাকিস্তানকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করেন; তিনি শ্রী তাজউদ্দিন হয়ে গেছেন – দৈনিক সংগ্রাম ৮ মে, ১৯৭১
# আল্লাহু আকবরের জায়গায় জয় বাংলা দখল করে নিয়েছে – দৈনিক সংগ্রাম ১২ মে, ১৯৭১
# শান্তি কমিটির আবেদন : দেশের শত্রুদের মোকাবেলা করুন – দৈনিক পূর্বদেশ ১৮ মে, ১৯৭১
# শান্তি কমিটির আবেদন -পাকিস্তানের শত্রুদের ধরিয়ে দেয়ার জন্যে সামরিক বাহিনীকে সহায়তা করুন – দৈনিক আজাদ/পূর্বদেশ মে, ১৯৭১
# যে কোন মূল্যে ভারতের চক্রান্ত নস্যাৎ করব -মওলানা আশরাফ আলী – দৈনিক আজাদ, ১৯ মে, ১৯৭১
# জামাতে ইসলামী সেক্রেটারী জেনারেল রহমতে এলাহী বলেন- নতুন করে নির্বাচন চাই – দৈনিক পূর্বদেশ, ২৪ মে, ১৯৭১
# অতি সম্প্রতি আমাদের দেশের একদল লোক হিন্দুদের সাথে যোগ দিয়েছে – পাকিস্তানের দুশমনদের নিশ্চিন্হ করার আহ্বান – মওলানা সিদ্দিক আহমেদ – দৈনিক আজাদ, ২৪ মে, ১৯৭১
# জামাতের নেতা মওলানা ইউসুফ খুলনার শাহজাহান আলী রোডে অবস্থিত আনসার ক্যাম্পে ৯৬ জন জামাত কর্মী নিয়ে প্রথম রাজাকার বাহিনী গড়ে তোলেন – দৈনিক পাকিস্তান/আজাদ, ২৫-২৭ মে, ১৯৭১

জুন, ১৯৭১
# বিশুদ্ধানন্দ মহাথেরো, হাফেজ্জী হুজুর ও মাওলানা মওদুদী বললেন মুজিব বিচ্ছন্নতাবাদী
# মওদুদীর বক্তব্য -শেখ মুজিবের দল গুন্ডামী ও মারামারী করে নির্বাচনে জয়ী হয় -পাকিস্তানী বাহিনীর হস্তক্ষেপ যৌক্তিক- দৈনিক পাকিস্তান, জুন ৬, ১৯৭১
# মুজিবের বিচ্ছন্নতাবাদী আন্দোলন জনতা সমর্থন করেনি – মাওলনা মওদুদী – দৈনিক সংগ্রাম ৭ জুন, ১৯৭১
# মীর জাফর কারা? – সম্পাদকীয় – দৈনিক সংগ্রাম ৮/৯ জুন, ১৯৭১
# তাজুদ্দিন ও তোফায়েলসহ অন্যান্যদের ফৌজদারী আদালতে বিচার করা হবে – দৈনিক সংগ্রাম ১০ জুন, ১৯৭১
# শান্তি কমিটির দায়িত্ব ও কর্তব্য- দুস্কৃতিকারী গেরিলাদের গেরিলা স্টাইলে নির্মুল করা; ভারত ফেরত হিন্দুরা কড়া পাকিস্তান ভক্ত -সম্পাদকীয় – দৈনিক সংগ্রাম ১৩/১৪ জুন, ১৯৭১
# সরকারী প্রেসনোটে পহেলা বৈশাখ নববর্ষের ছুটি বাতিল, ২৪০টি রাস্তার নামকরন হিন্দু থেকে মুসলিম করন, ৬৯টি বই নিষিদ্ধ- হিন্দুরা মুসলমানদের অস্তিত্ব বিলোপের কাজ করেছে – এই সংবাদে দৈনিক সংগ্রামের উপসম্পাদকীয় জুন, ১৯৭১
# বিভিন্ন স্খানে শান্তি কমিটর সভা – ভারত ও তাবেদারদের বিরুদ্ভে প্রতিরোধের দৃঢ় সংকল্প – দৈনিক পাকিস্তান ১৭ জুন, ১৯৭১
# পূর্ব পাকিস্তানীরা সর্বদাই পশ্চিম পাকিস্তানী ভাইদের সাথে একত্রে বসবাস করবে – গোলাম আযম দৈনিক সংগ্রাম -২৯শে জুন, ১৯৭১
# লাহোরে সাংবাদিক সম্মেলনে অধ্যাপক গোলাম আজম:

“শেখ মুজিব প্রকাশ্যে কখনও স্বাধীনতার জন্যে চিৎকার করেন নি বরং মওলানা ভাষানীই বিচ্ছিন্নতাবাদের দাবী তোলেন। পূর্ব পাকিস্তানের অখন্ডতা বজায় রাখতে সামরিক হস্তক্ষেপ ছাড়া উপায় ছিল না।”

- দৈনিক সংগ্রাম -২৯শে জুন, ১৯৭১

জুলাই ১৯৭১
# জয় বাংলা স্লোগানে পূর্ব পাকিস্তানের আকাশ বাতাস কলুষিত হয়েছে। ধর্ম নিরপেক্ষদের ধর্ম বিরোধী অত্যাচার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ময়দানে রাজাকারদের ক্ষূদ্র অস্ত্র দিয়ে গুলী চালানোর ট্রেনিং দেয়া হচ্ছে – দৈনিক সংগ্রাম – ১-৫ জুলাই, ১৯৭১
# জামাত সাধারণ সম্পাদক আব্দুল খালেকের আহ্বান- গ্রামে গ্রামে রক্ষীদল গঠন করুন – দৈনিক পাকিস্তান ৩রা জুলাই ১৯৭১
# জনগণ এখন স্বেচ্ছায় রাজাকার ট্রেনিং নিচ্ছে – জামাত নেতা আব্দুল খালেক – দৈনিক সংগ্রাম ৯ জুলাই, ১৯৭১
# ৭০ এর নির্বাচন প্রত্যক্ষভাবে ঘর ভাঙার নির্লজ্জ চক্রান্ত – দৈনিক সংগ্রাম সম্পাদকীয় ১২ জুলাই, ১৯৭১
# পূর্ব পাকিস্তানের বাঙ্গালীদের জীবনের নিরাপত্তা নেই একথা ভিত্তিহীন – ড: সাজ্জাদ হোসেন – দৈনিক পাকিস্তান ৯ জুলাই, ১৯৭১
# বরিশালের শান্তি কমিটির সভায় আব্দুর রহমান বিশ্বাসের বক্তৃতা – দৈনিক সংগ্রাম ১৮ জুলাই, ১৯৭১
# সেনাবাহিনী কুখ্যাত শহীদ মিনারটি ধ্বংস করে মসজিদ গড়েছে – দৈনিক সংগ্রাম সম্পাদকীয় ১৬ জুলাই, ১৯৭১
# ফজলুল কাদের চৌধুরী – পূর্ব পাকিস্তানের পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে - দৈনিক পাকিস্তান ১৮ জুলাই, ১৯৭১
# ক্ষমতা হস্তান্তরে প্রেসিডেন্টের ফর্মূলা বর্তমান সংকটের একমাত্র সমাধান, শেখ মুজিবের বিচার শূরুর আবেদন – জামাত অস্থায়ী আমীর মীর তোফায়েল মোহাম্মদ – দৈনিক পাকিস্তান ২৪ জুলাই, ১৯৭১
# আলেমদের প্রতি সশস্ত্র বাহিনীর সাথে সহযোগিতার আহ্বান – দৈনিক পাকিস্তান ২৬ জুলাই, ১৯৭১
# সামরিক আইনে রাজাকারদের যে কোন লোককে গ্রেফতার করার ক্ষমতা প্রদান- রাজাকারদের অত্যাচার বৃদ্ধি

আগস্ট ১৯৭১
# পাক সেনারা আমাদের ভাই, তারা জেহাদী চেতনায় উজ্জীবিত – মতিউর রহমান নিজামী – দৈনিক সংগ্রাম ৩রা আগস্ট, ১৯৭১
# সেনাবাহিনী আওয়ামী লীগের চক্রান্ত ব্যর্থ করে দেয়- দৈনিক সংগ্রাম ৭ই আগস্ট, ১৯৭১
# পাকিস্তান টিকলেই এদেশের মুসলমানরা টিকবে, দুনিয়ার কোন শক্তিই পাকিস্তানকে নিশ্চিহ্ন করতে পারবে না। গ্রামে গন্জের প্রতিটি এলাকা থেকে শত্রুর চিন্হ মুছে ফেলার আহ্বান – নিজামী -দৈনিক সংগ্রাম ৫ই আগস্ট, ১৯৭১
# পাকিস্তান অখন্ডতা ও সংহতি সংরক্ষণ এ্যাকশন কমিটি গঠন – দৈনিক সংগ্রাম ৯ই আগস্ট, ১৯৭১
তাদের এজেন্ডা:

× উর্দু একমাত্র রাষ্ট্রভাষা, বাংলা সাইনবোর্ড ইত্যাদি অপসারন, রোমান হরফে বাংলা লেখার আহ্বান।
× কাফের কবি কাজী নজরুল ইসলামের রচনা বর্জন।
× পূর্ব পাকিস্তানের রেডিও টিভিতে শতকরা ৫০% অনুষ্ঠান উর্দুতে হবে।
× জাতীয় স্বার্থে উচ্চপদ থেকে বাঙালী অফিসারদের অপসারন করতে হবে।
× রাজাকার বাহিণীর বেতন এবং শান্তি কমিটির ব্যয় নির্বাহের জন্যে হিন্দু সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে হবে।
× তিনমাসের জন্যে বিদেশী সাংবাদিকদের বহিস্কার করতে হবে।

# তথাকথিত বাংলাদেশ আন্দোলনের সমর্থকরা ইসলাম, পাকিস্তান ও মুসলমানদের দুশমন – গোলাম আযম – দৈনিক সংগ্রাম ১২ই আগস্ট, ১৯৭১
# দুস্কৃতকারীদের এর পরিণাম ফল ভোগ করতে হবে – মতিউর রহমান নিজামী – দৈনিক সংগ্রাম ১২ই আগস্ট, ১৯৭১
# পাকিস্তান ভূখন্ডের নাম নয় একটি আদর্শের নাম – মতিউর রহমান নিজামী – দৈনিক সংগ্রাম ১৬ই আগস্ট, ১৯৭১
# পাকিস্তানের শত্রুর মোকাবেলার আহ্বান – নুরুল আমীন, গোলাম আযম, শফিকুল ইসলামদৈনিক সংগ্রাম
# পাকিস্তান অর্থ পবিত্র স্থান – গোলাম আজম- দৈনিক সংগ্রাম সম্পাদকীয় ১৬/১৮ই আগস্ট
# জামাতের একজন সদস্যও পূর্ব পাকিস্তানে বাংলাদেশ আন্দোলনে নিজেদের কোন ক্রমেই জড়িত করেনি – মওলানা আব্দুর রহিম – দৈনিক সংগ্রাম ১৮-২১ আগস্ট
# আনসার অর্ডিন্যান্স বিলুপ্ত করে রাজাকার অর্ডিন্যান্স জারিদৈনিক ইত্তেফাক, ২২শে আগস্ট, ১৯৭১
# ঐক্যবদ্ধ পাকিস্তান ছাড়া অন্য কোন সমাধান গ্রহণযোগ্য নয় – মাহমুদ আলীদৈনিক আজাদ, ২৪শে আগস্ট, ১৯৭১
# পাকিস্তানকে যারা বিচ্ছিন্ন করতে চায়- তারা ইসলামকেই উৎখাত করতে চায় – নিজামী
# সশস্ত্র বাহিনী পাকিস্তান রক্ষা করেছে – গোলাম আজম- দৈনিক সংগ্রাম ২৭ আগস্ট, ১৯৭১
# হিন্দু ভারতের নিরপেক্ষ আদর্শের প্রচারক আওয়ামী লীগ – দৈনিক সংগ্রাম সম্পাদকীয় ৩০ আগস্ট, ১৯৭১
# নোয়াখালীর পল্লীতে জনসভা পাকিস্তানের সংহতি রক্ষার আহ্বান- দৈনিক আজাদ, ২৯শে আগস্ট, ১৯৭১
# অধ্যাপক আতিকুজ্জামানের বক্তৃতা: পাকিস্তান কেয়ামত পর্যন্ত ঐক্যবদ্ধ থাকবে -দৈনিক আজাদ, ৩০শে আগস্ট, ১৯৭১
# দেশে পূর্ণ স্বাভাবিক অবস্খা কায়েম না হওয়া পর্যন্ত ক্ষমতা হস্তান্তর অর্থহীন – আব্দুর রহিমদেনিক সংগ্রাম, ২৯শে আগস্ট, ১৯৭১
# নিজামী ও গোলাম আজম – দৈনিক সংগ্রাম

সেপ্টেম্বর ১৯৭১
# বিচ্ছিন্নতাবাদী রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ ঘোষনার দাবী – গোলাম আযম দেনিক পাকিস্তান, ২রা সেপ্টেম্বর, ১৯৭১
# বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান বিশ্বাসঘাতক – মিনহাজ শহীদ – দেনিক সংগ্রাম, ১ম সেপ্টেম্বর, ১৯৭১
# বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান ভারতীয় এজেন্ট – দেনিক সংগ্রাম

# রেজাকার ও বদর বাহিনীর মরনাঘাত
# পাক সেনানায়করা রেজাকারদের কৃতিত্ব আনন্দিত ও গর্বিত
# অপবাদ মূলত সামরিক সরকারকেই দেয়া হচ্ছে

# পাকিস্তানকে ধ্বংস করতে পারবে না
# পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা দিবসে গোলাম আজম ও মতিউর রহমান নিজামী
# ছাত্রসংঘ কর্মীরা পাকিস্তানের প্রতি ইঞ্চি জায়গা রক্ষা করবে – মতিউর রহমান নিজামী
# যশোহরে ছাত্রনেতা মতিউর রহমান নিজামীর মন্তব্য : পাতা ১, পাতা ২ – দৈনিক সংগ্রাম – ১৫ই সেপ্টেম্বর, ১৯৭১
# আল্লাহ তাদের লাঞ্জিত করেছেন- মতিউর রহমান নিজামী : পাতা ১, পাতা ২
# পাকিস্তান হাসিলের লক্ষ্য বাস্তবায়িত না হওয়ায় বর্তমান সংকটের কারণ – আব্বাস আলী খান -দৈনিক সংগ্রাম – ২০শে সেপ্টেম্বর, ১৯৭১
# যশোহরের রাজাকার সদর দফতরে মতিউর রহামন নিজামী : পাতা ১, পাতা ২
# জামাত বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদ মেনে নিতে রাজী নয় : গোলাম আজম - দৈনিক পাকিস্তান ২৬শে সেপ্টেম্বর, ১৯৭১
# বিপদগামী তরুণদের সঠিক পথ দেখান : জেনারেল নিয়াজী -দৈনিক পাকিস্তান ২৮শে সেপ্টেম্বর, ১৯৭১

গণতন্ত্র পুণ: প্রতিষ্ঠাই দেশকে ঐক্যবদ্ধ রাখার পূর্বশর্ত : নূরুল আমীন
# সংবর্ধনা সভায় গোলাম আযমের ভাষণ – দৈনিক সংগ্রাম ২৬শে সেপ্টেম্বর, ১৯৭১
# নিউইয়র্কে এ.টি. সাদী – বাংলাদেশ আন্দোলন ইসলাম বিরোধী ষড়যন্ত্র -দৈনিক পাকিস্তান ২৭শে সেপ্টেম্বর, ১৯৭১
# আব্বাস আলী খান, মতিউর রহমান নিজামীর বক্তব্য

অক্টোবর ১৯৭১
# শান্তি কমিটি সদস্যরা ব্যক্তিগত শত্রুতা ও রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল করছে
# রেজাকার বাহিনীর হাতে ভারী অস্ত্র দেবার আহ্বান

# আব্বাস আলী খান, আখতার উদ্দীন আহমদ, ওবায়দুল্লাহ মজুমদার ও গোলাম আজম বলেন
# স্বাধীন বাংলা জিগিরের উদ্দেশ্য মুসলমানদের হিন্দু বানানো - দৈনিক সংগ্রাম সম্পাদকীয়, ১০ অক্টোবর, ১৯৭১
# তথাকথিত মুক্তিবাহীনির শতকরা ৯০ জন হিন্দু – দৈনিক সংগ্রাম সম্পাদকীয়, ১৩ অক্টোবর, ১৯৭১
# আব্বাস আলী খান, ইউসুফ বলেন
# জামাতে ইসলামী নিরলসভাবে শান্তি কমিটির সাথে কাজ করে যাচ্ছে – গোলাম আজম
# দেশটা আল্লাহর ফজলে টিকে গেল
# বায়তুল মোকাররম প্রাঙ্গণে গণজমায়েতে অধ্যাপক গোলাম আজম, ভুট্রো বিচ্ছিন্নতাবাদের পথ প্রশস্ত করছে
# ভারতের প্রচারণা চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছে – শাহ আজিজ- দৈনিক পাকিস্তান ২৫শে অক্টোবর, ১৯৭১
# জসীম উদ্দীন আহমেদ, আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ, মওলানা ইউসুফ, ড: মালেক প্রমুখ বলেন
# ৬ নেতার যুক্ত বিবৃতি- দৈনিক ইত্তেফাক, ২৭শে অক্টোবর, ১৯৭১
# দুস্কৃতিকারীদের গুলিত শান্তি কমিটির সদস্য আহত : পাতা ১, পাতা ২, পাতা ৩

নভেম্বর ১৯৭১
# রেজাকারদের হাতে ৪ ভারতীয় চর খতম- দৈনিক সংগ্রাম, ৫ নভেম্বর, ১৯৭১
# প্রেসিডেন্ট সকাশে নূরুল আমীন : রাজাকারদের সংখ্যা বৃদ্ধি ও তাদের আরো অস্ত্র দেয়ার সুপারিশ পাতা ১, পাতা ২
# হয় শহীদ নয় গাজী
# আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও আব্দুল খালেক বলেন
# প্রদেশব্যাপি বদর দিবস পালিত -দৈনিক সংগ্রাম ১০ নভেম্বর, ১৯৭১
# ভারত আক্রমণ করলে কোলকাতা ও দিল্লীতে নামাজ পড়বো – আব্বাস আলী খান- দৈনিক সংগ্রাম ১০ নভেম্বর, ১৯৭১
# আল বদর বাহিনীর অভিযান: ৪০ মুক্তিযোদ্ধা গ্রেফতার- দৈনিক সংগ্রাম ১১ নবেম্বর, ১৯৭১
# বদর দিবসে বায়তুল মোকাররমে জনসভা: ভারতীয় সাম্রাজ্যবাদ মোকাবেলার আহ্বান
# বদর দিবসের ডাক-দৈনিক সংগ্রাম ১২ নভেম্বর, ১৯৭১
# রাজস্ব মন্ত্রীর সাতক্ষীরা রেজাকার শিবির পরিদর্শন- দৈনিক সংগ্রাম ১৩ নভেম্বর, ১৯৭১
# বিভিন্ন স্খানে বদর দিবস পালিত -দৈনিক সংগ্রাম ১৪ নভেম্বর, ১৯৭১
# পাকিস্তান বিরোধী আন্দোলন ধ্বংস করতে হবে – জাামাতে ইসলামী
# সেনাবাহিনীর পরেই রাজাকারদের স্থান
# ৯৩ জন বাঙালী সিএসপি, ৪২ জন ইপিসিএস, এবং ৪ জন অধ্যাপকের ১৪ বছর সশ্রম কারাদন্ড ও সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত
# কিছু রাষ্ট্রদ্রোহী কলকাতা থেকে বাবুদের ডেকে নিয়ে এসেছে
# গোলাম আজম শেখ মুজিবের জায়গা দখল করতে সবই করে যাচ্ছেন
# পাক সেনাবাহিনীর সহায়তায় বদর বাহিনী গঠিত হয়েছে – নিজামী
# বদরবাহিনী হিন্দুস্তানকে খতম করবে -নিজামী
# রাজাকারদের জাতীয় বীর বলা উচিৎ
# দুস্কৃতিকারীদের চক্রান্ত বানচাল করার আহ্বান – জামায়াত
# প্রধানমন্ত্রীর পদ পূর্ব পাকিস্তানকে দিতে হবে – গোলাম আজম
# জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠাই আমাদের লক্ষ্য – গোলাম আজম
# পাকিস্তান আল্লাহর ঘর – মতিউর রহমান নিজামী
# আওয়ামী লীগের যে পরিণতি হয়েছে ভুট্টোরও সে পরিণতি হবে – গোলাম আজম
# আত্মরক্ষার জন্য আক্রমণাত্মক ভূমিকা গ্রহণ করতে হবে – গোলাম আযম – দৈনিক সংগ্রাম, ২৪ নভেম্বর, ১৯৭১
# দেশপ্রেমিক জনগণ যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত – গোলাম আযম – দৈনিক সংগ্রাম, ২৮ নভেম্বর, ১৯৭১
# নেতৃবৃন্দের বজন্সকঠোর ঘোষণা : পাতা ১, পাতা ২ – দৈনিক সংগ্রাম, ৩০ নভেম্বর, ১৯৭১
# আক্রান্ত হলে জেহাদ ফরজ হয়ে যায় – মওদুদী
# রবিন্দ্র মার্কা লারেলাপ্পা গান

ডিসেম্বর ১৯৭১
# আল বদর আল শামস বাহিনীর সংখ্যা এক লাখেরও বেশী – ইউসুফ

golam-azam-malek-rao.jpg
গোলাম আজম, রাও ফরমান ও মালেক বুদ্ধিজীবি হত্যার নীল নক্সায় ব্যস্ত
# বুদ্ধিজীবি ও মুক্তিযোদ্ধাদের ব্যাপারে আব্বাস আলী খান বলেন এদের নির্মূল করার ব্যপারে শান্তি বাহিনী ও সেনা বাহিনীকে সহায়তা করুন
# একেএমইউসুফের বক্তব্য

litigation-against-jammat.jpg
jamati-innocence.jpg

বই:

× মুক্তিযুদ্ধে দৈনিক সংগ্রামের ভূমিকা – আলী আকবর টাবী
ডাউনলোড করুন পিডিএফ ফরম্যাটে (ক্লিক করুন) – প্রথম খন্ড, দ্বিতীয় খন্ড, তৃতীয় খন্ড

× একাত্তরের ঘাতক দালাল ও যুদ্ধাপরাধীদের সম্পর্কে জাতীয় গণতদন্ত কমিশনের রিপোর্ট
ডাউনলোড করুন পিডিএফ ফরম্যাটে (ক্লিক করুন)

× একাত্তরের যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যা সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের তালিকা -ওয়ার ক্রাইমস ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি:
# রাজাকারদের তালিকা
# বিহারি যুদ্ধপরাধীদের নামের তালিকা
# শান্তি কমিটির সদস্য
# গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের সাথে প্রত্যক্ষ অথবা পরোক্ষভাবে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দদের তালিকা
# আলবদর বাহিনীর তালিকা

কৃতজ্ঞতা: এনওয়াই বাংলা ও এম এম আর জালাল
১১. ১২ ই জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ৮:৩৮
আনিসুর র বলেছেন: যে কোন মূলে রাজাকারদের বিচার চাই। এই বিচার নিয়ে কোন বিতর্ক নয়।
১২. ১২ ই জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ৯:০৩
ধীবর বলেছেন: এটা সত্য যে পাকিস্থান সামরিক বাহিনীর ৯০,০০০ যুদ্ধাপরাধী সৈন্যকে ভারত তাদের স্বার্থ উদ্ধারের পর ছেড়ে দিয়েছিল। কিন্তু বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ ওই সব বেজন্মাদের প্রতি এখনও ঘৃণা বোধ করে। যারা ঐ পাকিস্থানি হায়েনাদের দেশীয় সহযোগি তারাও কোনদিন ক্ষমা পাবার যোগ্য নয়। গো আযম নিজামি এদের পক্ষ্যে দালালি করে আপনি শুধু ইসলামের অবমাননায় নয়, বরং দেশ ও জাতির সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন।

আপনার কপাল ভালো এটা ব্লগ। নইলে এই সব অর্ধ সত্যে উচ্চারনের উৎপত্তি স্থলটি গুড়িয়ে দিতাম। মাইনাস।
১৩. ১২ ই জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ৯:০৬
সুপ্ত শিপন বলেছেন: লাল সালাম াহো । যুদ্ধপরাধীদের নতুন প্রজন্মের জারজ সন্তান রা পাকিস্তানে যাও।
১৪. ১২ ই জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ৯:১২
ফকির ইলিয়াস বলেছেন: ১৯৭১ সালে জামায়াত অথবা তার তৎকালীন ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র সংঘ কোনো যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেনি।


খাটি রাজাকারের মতোই কথাটা কইলেন মিয়াভাই
১৫. ১২ ই জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ৯:২৫
হাসান মাহমুদ (ফতেমোল্লা) বলেছেন:
ধন্যবাদ হিমু’র পোষ্ট দু’টোর জন্য।

যুদ্ধাপরাধ বিষয়টি রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী ঘায়েল করা - কথাটার মাত্রা একটু বাড়াতে হবে।

যুদ্ধাপরাধ বিষয়টি সাধারণভাবে দরিদ্র অথচ বুদ্ধিমান, অর্ধশিক্ষিত অথচ সৎ, সমস্যাসংকুল অথচ পরিশ্রমী একটা কাব্যিক জাতি’র রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, নৈতিক, মানবিক ও ধর্মতাত্ত্বিক প্রতিদ্বন্দীকে ঘায়েল শুধু নয়, তিরিশ কোটি দুর্দম পদাঘাতে দেশের জলস্থলের মাদুর থেকে উৎখাত করার প্রথম পদক্ষেপ মাত্র।



১৬. ১২ ই জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ৯:৫৫
বাঙ্গাল বলেছেন: যারা হিমু ভাইয়ের পোষ্ট নিয়ে আসছেন...।তাদের বলছি
"প্রথম লাইনে একটা প্রশ্নঃ লেখক হিমু ভাই বলেছেন "২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে পিলখানায় বিডিআর হত্যাকাণ্ডের পর সদ্য ক্ষমতায় আগত মহাজোট সরকারের মুখে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রসঙ্গ কয়েক ডেসিবেল নিচে নেমে বাজতে থাকে।...পিলখানায় বিডিআর সদস্যদের দ্বারা সংঘটিত অন্যান্য অপরাধ সরকারের মনোযোগ অন্যদিকে সরিয়ে নিতে বাধ্য করে।"

----আপনি জানাবেন কি... ...বর্তমানে সরকার বিডিয়ার ঘটনাকে কতটা নজরে (!) রেখেছে? পিলখানার হত্যাকান্ডের বিচারে সরকারী তদন্ত কমিশনের কিরস গোল্লা উদ্ঘাটিত হয়েছে। সরকার কি চুপচাপ বসে সেনা সদস্যদের হাতে বিডিয়ার সদস্যদের বিচারভহির্ভুত হত্যাকান্ডের (রিমান্ড- হার্ট এটাক- সুইসাইড) পৃষ্ঠপোষ্কতা করে নাই?

সরকার কি একটি মানুষ...যার দুটি মাত্র চোখ আর নজর মাত্র একদিকে দিতে পারে... একসাথে দুই তিন দিকে নজর দিতে তাদের সমস্যা কিসে? এসব ধোয়া তুলে প্রকারন্তরে সরকারকে পিছনের দরজার সন্ধান দিচ্ছেন... আঙ্গুল তুলে বলুন--- "যুদ্ধাপরাধের বিচারে আর সব সরকারের মত এদেরো স্বদিচ্ছার অভাব"।"

এই পোষ্টে মাইনাস। ১৯৫ জনের বাইরে আর কেউ যুদ্ধাপরাধ করে নাই, এইটা কোথাও লেখা আছে?
১৭. ১২ ই জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ১০:১৪
মোহাম্মদ আরজু বলেছেন: ঠিক এই মুহুর্তে আমার প্লেয়ারে একটা গান বাজতাছে। একটু শেয়ার করি-
সোনায় মোড়ানো বাংলা মোদের শ্মশান করেছে কে? / কে কে কে ? / এহিয়া তোমায় আসামীর মত জবাব দিতে হবে /

এহিয়াদের জবাব দিতে হয় নাই। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ শেষে বিজয়ী ভারত তার দীর্ঘদিনের প্রতিযোগী পাকিস্তানের সাথে অন্য স্বার্থে ইতিবাচক আচরন কর্লো! এই জমিনে যারা সাম্প্রতিক ইতিহাসের নৃশংসতম গনহত্যা আর যুদ্ধাপরাধ ঘটালো সেই পাক শাসক আর সেনারা পার পেয়ে গেলো। যারা ছিল প্রিন্সিপাল অফেন্ডার!

আর যারা ছিল অ্যাবেটর, উস্কানিদাতা, কলাবরেটর, সহযোগী; তারাও পার পেয়ে যাচ্ছে প্রথমত শেখ মুজিবুর রহমানের জাতির পিতা হওয়ার অপরীসিম আকাঙ্খা আর দ্বিতীয়ত, এখনকার আওয়ামী রাজনীতির হিসাব নিকাশে কারনে।
১৮. ১২ ই জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ১০:২৩
াহো বলেছেন:

গনহত্যা ও যুদ্ধাপরাধ সংক্রান্ত জাতিসংঘ ঘোষনা ||জামায়াত নিজেকে বাঁচাবে কি করে?
লিখেছেন হাসান মোরশেদ (তারিখ: শুক্র, ২০০৯-০১-০২ ১০:১১)
ক্যাটেগরী: চিন্তাভাবনা
ভূমিকা বাহুল্যমাত্র । সরাসরি কথাবার্তা হোক ।
৯ডিসেম্বর ১৯৪৮ জাতিসংঘের সাধারন পরিষদের অধিবেশনে CONVENTION ON THE
PREVENTION AND PUNISHMENT OF
THE CRIME OF GENOCIDE নামে একটি রেজুলেশন পাশ হয় । লিংক আছে এখানেঃ-
গনহত্যা সংক্রান্ত জাতিসংঘ ঘোষনা

রেজুলেশনের ২৬০(৩) ধারার অনুচ্ছেদ ২ এ নির্ধারন করা হয়েছে , শুধু হত্যা নয় আরো কিছু অপরাধ গনহত্যা হিসেবে গন্য হবে ---

১।পরিকল্পিত ভাবে একটি জাতি বা গোষ্ঠিকে নির্মুল করার জন্য
তাদের সদস্যদেরকে হত্যা বা নিশ্চিহ্নকরন
২।একই উদ্দেশ্যে শারীরিক বা মানসিক ক্ষতিসাধন
৩।একটি জাতি বা গোষ্ঠিকে নির্মুল করার উদ্দেশে এমন পরিবেশ
সৃষ্টি করা যাতে তারা সম্পুর্ন বা আংশিক ভাবে নিশ্চিহ্ন হয়ে
যায়
৪।এমন পরিবেশ তৈরী করা যাতে একটি জাতি বা গোষ্ঠীর
জীবনধারন কষ্টসাধ্য , সেই সংগে জন্মপ্রতিরোধ করে জীবনের
চাকা থামিয়ে দেয়া হয়
৫।একটি জাতি বা গোষ্ঠি শিশু সদস্যদের অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে
তাদের জন্ম পরিচয় ও জাতিস্বত্বা মুছে ফেলা ।

গনহত্যার সংজ্ঞা নির্ধারনের পর ধারা ৩ এ গনহত্যা সংশ্লিষ্ট অপরাধ সমুহ ও চিহ্নিত করা হয়েছে

১। গনহত্যা চালানো
২।গনহত্যা চালানোর ষড়যন্ত্র/পরিকল্পনা করা
৩। প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে গনহত্যা উস্কে দেয়া
৪।গনহত্যা চালানোর চেষ্টা করা
৫।গনহত্যায় যে কোন প্রকারে সহযোগী হওয়া ও সমর্থন করা

ধারা ৩ এর পর ধারা ৪ এ বলা হয়েছে--
উপরোক্ত যে কোনো একটি অপরাধেই, অপরাধী যুদ্বাপরাধী হিসেবে বিবেচিত হবে- তা সে সাংবিধানিক সরকার, সরকারের আজ্ঞাবাহী কর্মচারী, কোন দল কিংবা একক কোনো ব্যক্তি ই হোক ।

ধারা ৭ এ আবার স্পষ্ট করে বলা হয়েছে --
ধারা ৩ এ বর্নিত অপরাধ সমুহ কোনো ভাবেই রাজনৈতিক অপরাধ বলে গন্য হবেনা ।

----------------------------------------------------------------------------------

বাকী সব কিছু বাদ দিচ্ছি, ধারা ৩ এর ৫ নম্বর উপধারা কি বলে? গনহত্যায় সহযোগীতা করা কিংবা যে কোনো ভাবে সমর্থন জানানো ও যুদ্ধাপরাধ ।

২৫ শে মার্চ রাত থেকে বাংলাদেশে পাকিস্তান সেনাবাহিনী কি কাজ করছিল? পাকিস্তান সেনাবাহিনী কি গনহত্যা চালাচ্ছিলোনা? ২৫ শে মার্চ রাতে শুধু মাত্র ঢাকাতেই কয় হাজার বেসামরিক মানুষকে হত্যা করেছিলো পাকবাহিনী?

২৫ শে মার্চের পর থেকে ১৬ ই ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে বক্তৃতা বিবৃতি দিয়ে কারা পাকবাহিনীকে সমর্থন জানিয়েছিলো? পাকবাহিনীকে সমর্থন জানিয়ে গোলাম আজম-নিজামীদের শত শত বিবৃতি আছে । ১৯৭১ এর মে মাসে খুলনায় জামায়াতের ৯৬ সদস্য নিয়ে যে রাজাকার বাহিনী গঠিত হয় সেপ্টেম্বরের ৭ তারিখে সেই বাহিনী টিক্কা খানের সামরিক অধ্যাদেশ বলে নিয়মিত বাহিনীর সহযোগী হিসেবে নথিবদ্ধ হয় । এরা সেনাবাহিনীর মতোই বেতনভুক্ত ছিলো । রাজাকার ছাড়া আলবদর ও আলশামস নামে বাহিনীগুলো গঠিত হয় এগুলোর কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে কারা ছিলো?
রাজাকার-আলবদর-আলশামস বাহিনী তৈরী হয়েছিলো পাকবাহিনীর সহযোগীতা করার জন্য । পাকবাহিনী নয় মাস জুড়ে গনহত্যা চালিয়েছিলো । সুতরাং পাকবাহিনী যদি গনহত্যার জন্য দায়ী হয় তাহলে এদের সহযোগী বাহিনী সমুহ এবং এইসব বাহিনীতে যুক্ত জামাতের নেতৃবৃন্দ সেই দায় এড়াবে কি করে?

দায় এড়াতে হলে তাদেরকে প্রমান করতে হবে- যে ২৫ মার্চ রাত থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত অধিকৃত ভুখন্ডে পাকিস্তান আর্মি কোন গনহত্যা চালায়নি । সংখ্যাটা ৩০ লক্ষ না হয়ে ৩০ হাজার কিংবা ৩ হাজার ও যদি হয়- সেটা গনহত্যা হবে,গনহত্যা হলে যুদ্ধাপরাধ হবে,যুদ্ধাপরাধ হলে পাকিস্তান আর্মি ও তার সহযোগী ও সমর্থক জামাত ও যুদ্ধাপরাধী বলেই বিবেচিত হবে ।

-----------------------------------------------------------------

এবার দেখা যাক, নিজেদের অপরাধ ঢাকার জন্য জামায়াত যে সব যুক্তি দেখায় সেগুলোর অসারতাঃ

১। জামায়াত ইদানিং বলছে, শেখ মুজিব যুদ্ধাপরাধী হিসেবে ১৯৫ জন পাকিস্তানী সৈন্যকে হস্তান্তর করেছিলেন শিমলা চুক্তির আওতায় । সুতরাং ঐ ১৯৫ জন্য ছাড়া আর কেউ যুদ্ধাপরাধী নয় ।--

হাস্যকর যুক্তি । ঐ ১৯৫জন পাকিস্তানী সৈন্য এতোবড় হত্যাকান্ড ঘটিয়েছিলো? ১৬ ডিসেম্বরে আত্নসমর্পন করা ৯৩,০০০ পাক আর্মি তাহলে নির্দোষ ছিলো?
বস্তুতঃ এই ১৯৫ ছিলো একটা স্মারক সংখ্যা মাত্র । ১৬ ডিসেম্বরের পর পাকিস্তান সরকার তার সেনাবাহিনীকে ফিরিয়ে নিলেও রাজাকার আল বদরদের ফিরিয়ে নেয়ার কোন চুক্তি হয়নি । সুতরাং ঐ চুক্তির আশ্রয়ে জামাতীদের বাঁচার সুযোগ নেই ।
এখানে আরো বলা যেতে পারে, শেখ মুজিবের সকল সিদ্ধান্তই ধ্রুবক নয় । শেখ মুজিব যদি দালালদের ক্ষমা করেও থাকেন তাহলে ও সেই সিদ্ধান্ত বাতিল হতে পারে, কারন ধর্মনিরপেক্ষতা,সমাজতন্ত্র,বাকশালের মতো সিদ্ধান্ত যদি বাতিল হতে পারে তাহলে দালাল সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত বাতিল হতে আপত্তি কেনো?
যে শেখ মুজিবের রাজনীতির চরম বিরোধী জামাত,নিজেদের জান বাঁচানোর সেই শেখ মুজিবের দোহাই দেয়া জামাতী রাজনীতির দৈন্যতা ছাড়া আর কিছুই নয় ।

২। জামাতীরা বলে, তারা যদি আসলেই অপরাধী হয়ে থাকে তাহলে গত ৩৬ বছরে কেনো কেউ তাদের বিচার করলোনা? এই বিচার না করাই নাকি তাদের নিরপরাধের প্রমান?

বিচার না হলেই কি অপরাধি নির্দোষ প্রমানিত হয়ে যায়? পৃথিবীতে বহু হত্যা,বহু অপ্রাধের বিচার হয়নি । কারবালার মর্মান্তিক হত্যাকান্ড ঘটালো যে ইয়াজিদ তার ও তো বিচার হয়নি,বিচার হয়নি চেংগিস,হালাকু খানদের,বিচার হয়নি জালিওয়ানোয়ালাবাগ হত্যাকান্ডের । এইসব বিচার না হওয়ার পেছনে অনেক রাজনীতি আছে । বিচার হয়নি বলেই ইতিহাস ইয়াজিদকে নির্দোষ ঘোষনা করেনি,বিচার হয়নি বলেই জামাতীরা নিজেদের নির্দোষ দাবী করতে পারেনা ।

৪।
গোলাম আজমের নাগরিকত্ব মামলার রায়কে উদাহরন হিসেবে টেনে জামাতীরা নিজদের নির্দোষ প্রমান করতে চায়--- জাতিসংঘ ঘোষিত মানবাধিকার আইন অনুযায়ী(ধারা ১৩) জন্মসুত্রে প্রাপ্ত নাগরিকত্ব বাতিল কিংবা কাউকে জোর করে দেশ থেকে বের করে দেয়া বা দেশে ঢুকতে বাধা দেয়া যায়না । আদালতের রায়ে গোলাম আজম নাগরিকত্ব পেয়েছে কারন মামলা ছিলো নাগরিকত্বের,যুদ্ধাপরাধের নয় । এই মামলার রায় কোনভাবেই প্রমান করে না যে সে যুদ্ধাপরাধী নয় । বরং এই মামলার রায় তার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের বিচার করাকে আরো সহজতর করেছে ,কারন এখন সে বাংলাদেশের নাগরিক । বাংলাদেশ রাষ্ট্র চাইলেই তার নাগরিকের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের বিচার কার্য সমাপদন করতে পারে -এর জন্য কোন কুটনৈতিক আনুষ্ঠানিকতার প্রয়োজন নেই ।

জামাতী সহ জামাতীদের বাঁচানোর জন্য কেউ কেউ দাবী তুলছেন প্রচলিত আইনে বিচার করার । পৃথিবীর কোথাও গনহত্যা ও যুদ্ধাপরাধের বিচার প্রচলিত আইনে হয়নি । নুরেম্বার্গ ট্রায়াল কিংবা বসনিয়া গনহত্যার জন্য সার্বিয়ান জেনারেলদের বিচার -সবই বিশেষ ট্রাইবুনাল গঠন করে হয়েছে ।

তাই প্রচলিত আইনে বিচার করা একটা চরম ফাঁকিবাজী মাত্র । এর মাধ্যমে জনগনের চোখে ধুলো দেবার আয়োজন করা হবে । তাই সচেতন সকলকে দাবী উত্থাপন করতে হবে বিশেষ ট্রাইবুন্যালের । রাষ্ট্র কে নিজে বাদী হতে হবে কারন জামাতীদের অপরাধ ছিলো স্বয়ং বাংলাদেশ রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ।
আর যুদ্ধাপরাধীর বিচার করাই শেষ কথা নয়, বন্ধ করতে হবে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি । যেহেতু নিরংকুশ ভাবে সকল ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলোই এদেশের জন্মযুদ্ধের বিরোধীতা করেছিলো সেহেতু এ দেশে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি চলতে পারেনা । যে রাজনীতি রাষ্ট্রের জন্মের বিরোধীতা করেছিলো,সেই রাজনীতি রাষ্ট্রের কল্যান কামনা করবে-এমোন ইউটোপিয়া থেকে বের হয়ে আসা খুব জরুরী ।
http://www.sachalayatan.com/hasan_murshed/5869

* edit
* Flag this comment
* Email this comment

শঙ্খচিল's picture
by শঙ্খচিল | Sat January 9, 2010 - 1:55am
পাকিস্থানি প্রিজনার এবং দায়মুক্তি চুক্তি

Under the terms of the agreement worked out by Foreign Ministers Kamal Hossein of Bangladesh, Swaran Singh of India and Aziz Ahmed of Pakistan, Bangladesh agreed "as an act of clemency" to drop its plans to try 195 Pakistani prisoners for war crimes.

চুক্তিটিতে সুস্পষ্ঠভাবে বলা হয়েছে পাকিস্থানি প্রিজনার। বাংগালি বা বাংলাদেশি কোন যুদ্ধয়াপরধি থাকলে আমাদের সরকার তার কোন বিচার করতে পারবে না, এমন ধারা সেই চুক্তিতে ছিলনা।এমনকি বহুলপ্রচারিত "সাধারন ক্ষমাতে" যারা ক্ষমা পাবার যোগ্যতা রেখেন না তাদেরকেই কেবল বিচারের আওয়াতায় আনা হচ্ছে।এতে বাধা কোথায়?
অবশ্য এখন গোয়াযম-নিজমিরা তাদের পাকিস্থানি নাগিরিকত্ব ফেরত নিয়ে, বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ত্যাগ করলে সেই চুক্তির আওয়াতায় পাকিস্থানি প্রজনার হিসাবে দায়মুক্তি পাবেন কিনা, কিনা সেটার আইনি বিতর্ক হতে পারে।
১৯. ১২ ই জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১২:০০
ত্রিশোনকু বলেছেন: হে রাজাকার (যদি যদি আমার চেয়ে প্রবীণ হন)/ হে রাজাকার শাবক,

আপনাকে একটা সুখবর দেই,

ছাগলের তিন নম্র্বর বাচ্চার মত আপনার লম্ফ ঝম্ফের কোন প্রয়োজন নেই। এ বিষয়ে ব্লগ লিখে সময়, মেধা, শক্তি ব্যয় না করে তা ইসলামের নামে চাঁদাবাজী করে নিজের ও দলের আখের গোছান।বর্তমান সরকারের আপনাদের/আপনাদের পিতাদের বিচার করার কোন সদিচ্ছা বা সৎ সাহস নেই। তারা এখন ব্যস্ত ভারত এবং বহুজাতিক সংস্থা তোষনে।

আমাদের শুধু অসম্ভব কষ্ট ও অসহনীয় হতাশার মধ্যে দিয়েই জীবন কেটে যাবে। আমরা শুধু একটি আশাতেই জীবন ধারন করি। ৭০ বছর পরও যখন আপনাদের পূর্বসুরীদের বিচার করা হয়, ক্ষীণ ভাল লাগায় মনকে শান্ত করি-এ রকম তো এদেশেও কখনও ঘটতে পারে।
২০. ১২ ই জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১২:০২
ত্রিশোনকু বলেছেন: প্রিয়তে। আপনার পোষ্টর জন্য নয়, অপূর্ব কিছু মন্তব্যের জন্যে।
২১. ১২ ই জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১:৪৭
নন্দনপুরী বলেছেন: যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাই...........
করতে হবে..............
২২. ২৩ শে জানুয়ারি, ২০১০ রাত ৩:১৭
আশফাকুর র বলেছেন: ত্রিশোনকু র সাথে কঠিন সহমত।

 

মোট সময় লেগেছে ০.৯৬৬৯ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
সত্য সবাক কালের কন্ঠ
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই