somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কীর্তিমান ব্যাক্তিদের বিপুল জনপ্রিয়তার শেষ পরিণতি: প্রেক্ষাপট বাংলাদেশ (১ম পর্ব)

০৪ ঠা আগস্ট, ২০০৯ সকাল ৯:৩৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পূর্বকথা:

২০০৬ এর মার্চের বরফ ঢাকা সাদা-কালো সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে যখন নামলাম তখন সকাল হয়ে গেছে। সাদাকালো সুইডেন বললাম দেশ জোড়া সাদা বরফ-সাগর আর কালো গাছ-পাহাড় এর কারনে, প্লেন থেকে এতটুকু সবুজের চিহ্ন দেখি নি। স্টকহোম এয়ারপোর্টও নজর কাড়তে পারলো না। সাদামাটা ছোটখাটো। তবে কাস্টমস চেকিংএর পথে যেতে যেতে মন জুড়িয়ে গেল। করিডোরের দু'পাশেই পুরো দেয়াল জুড়ে সুইডিশ কিংবা সুইডিশ বংশোদ্ভূত বিশ্বখ্যাত ব্যাক্তিদের বিশাল বিশাল পোস্টার সাঁটা। মনে হলো মাত্র ৯০ লাখ লোকের দেশ সুইডেন আমাকে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে বলছে, দেখেছো আমি কেমন রত্নগর্ভা! সেখানে লাস্যময়ী হলিউড তারকা গ্রেটা গার্বো যেমন ছিলেন, নোবেল পুরস্কারের প্রবক্তা আলফ্রেড নোবেলের পোস্টার ও ছিলো। টেনিস তারকা বিয়র্ণ বোর্গ, সংগীত দল এ্যাবা সহ আরো কয়েকজন সুইডিশ কৃতী ব্যক্তিত্বের আলাদা আলাদা হাসি মুখের পোস্টার শোভা পাচ্ছিলো তাদের রাজা রানীর পাশাপাশি।

শহরে যেতে যেতে আমাদের ১৫ কোটি মানুষের বাংলা মায়ের কৃতি সন্তানদের কথা মনে পড়লো, যাঁদের অনেকেই বিশ্বখ্যাত। অথচ তাঁদের প্রতিভা বিদেশীদের কাছে তুলে ধরা তো দূরের কথা, তাঁদের প্রতি আমাদের নির্মম অবহেলা, অবজ্ঞার কথা চিন্তা করলে আঁতকে উঠতে হয়।

আসলে বিতর্কের উর্ধে্ব কে?
কার আছে সর্বগ্রহনযোগ্যতা এ জগতে ?- হোক সে সাধারন কিংবা জনপ্রিয় মানুষ- কেউ নয়- প্রতিভাবানরাও নয়।
তাই বেশির ভাগ দেশই তাদের দেশের কৃতিমানদের বিতর্কগুলো এড়িয়ে তাঁদের কীর্তি বা অবদানকে কত আগ্রহের সাথেই না জাতীয় বা আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত করে তুলে ধরতে স্বচেষ্ট রয়েছে।

অথচ বাংলাদেশের গুণী মানুষদের মূল্যায়নের ক্ষেত্রে কি তা আমরা মনে রাখি।
আমাদের দেশে কোন কীর্তিমান যদি বিপুল জনপ্রিয় হয় এবং পরবর্তী সময়ে বিতর্কিত হয়ে পড়েন, তখন আমাদের প্রতিক্রিয়া কি রূপ হয় তা তুলে ধরাই এ্ই লেখার বিষয়বস্তু।

তাই এই লেখায় বাংলাদেশী বা বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত একজন করে রাজনীতিবিদ, অর্থনীতিবিদ, সাহিত্যিক, সেনাপতি ও কূটনীতিবিদের উদাহরন টানলাম, যারা নিজ নিজ কর্মবলয়ে একাধারে যেমন কীর্তিমান ও সফলতম তেমনি স্বক্ষেত্রে প্রাথমিক পর্যায়ে এই দেশে তারা জনপ্রিয়তমও ছিলেন বটে।

জানি আমার এই বাছাই বা মতামতের সাথে অনেকেই একমত হবেন না, সেটা আবশ্যক কিংবা বান্ছনীয়ও নয়। আমার উদ্দেশ্য আমাদের বাংলাদেশের গুণী জনপ্রিয় ব্যাক্তিত্বের ব্যাপারে সাধারণ বাংলাদেশীদের দৃষ্টিভঙ্গী - সে রাজনৈতিক বা অরাজনৈতিক ভাবেই হোক না কেন - তা একটু ফিরে দেখা - কারন বিশ্লেষণ নয়!

তবে আমার সনির্বন্ধ অনুরোধ লেখাটি পাঠের সময় দলীয় রাজনৈতিক সংকীর্ণতা ঝেড়ে একজন সাধারন বাংলাদেশী হিসেবে পাঠ করুন। তাহলে লেখাটির উদ্দেশ্য বোঝা সহজ হবে ও আমার অনুভূতি ব্লগে শেয়ার করা সার্থক হবে।


রাজনীতিবিদ:
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান




এককালের জনপ্রিয়তম এই রাজনীতিবিদ ও স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রনায়ক বিবিসির জরীপ অনুযায়ী সর্বকালের সেরা বাঙ্গালীও বটে। মূলতঃ তাঁর রাজনৈতিক নেতৃত্বেই এতদঅন্চলের বাঙালীর ইতিহাসে সর্ববৃহৎ ভূখন্ড ও সর্বাধিক জনসংখ্যা নিয়ে স্বাধীন রাষ্ট্র বাংলাদেশের অভূদ্যয় ঘটে। কিন্তু বাংলাদেশীদের এই অসম্ভব জনপ্রিয় রাজনীতিবিদের চূড়ান্ত পরিনতি সাত বছরের শিশু সন্তানসহ সপরিবারে নিহত হওয়ার মধ্য দিয়ে। এমনকি তাঁর হত্যাকান্ডের বিচার প্রক্রিয়াকে এই বাংলাদেশেই আইন করে বন্ধ করা হয়। বলাবাহূল্য তাঁর সেই হত্যাকান্ডের পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশীরা ছিল আশ্চর্য রকমের নীরব। প্রায় দু'দশক পর তাঁর মৃত্যুদিনে সহসা পালিত হতে থাকে বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় নেত্রী, বিশ্বের প্রথম মুসলিম মহিলা প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন। বাংলাদেশীরা সেই সময়েও খুব সরব হয়ে উঠেছিলো তাও বলা যাবে না।





অর্থনীতিবিদ:
ড. মুহম্মদ ইউনুস




শান্তিতে নোবেল জয়ী একমাত্র বাংলাদেশী এই অর্থনীতিবিদকে বলা হয় মাইক্রোক্রেডিটের জনক। ২০০৬ সালে শান্তিতে নোবেল পুরষ্কার পাওয়ার পর তিনি একরকম জাতীয় আইকনে পরিনত হন। প্রায় মাসাধিককাল যাবৎ ইলেকট্রনিক ও প্রিন্টিং মিডিয়ার শিরোনাম সহ দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে তাঁর জয়গানে ব্যস্ত থাকতে দেখা গেছে। তাঁর নোবেল পুরষ্কার লাভকে স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অর্জন বলে আখ্যা দেয়া হয়। কিন্তু পরবর্তীতে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে যখন তিনি রাজনৈতিক দল করার ঘোষনা দেন তখনই প্রেক্ষাপট পাল্টে যায়। সূধী সমাজের একাংশ ও বেশির ভাগ রাজনৈতিক নেতৃত্ব তাঁর সমালোচনায় মেতে ওঠেন। বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তখন প্রকারান্তরে তাঁকে "সুদখোর" আখ্যা দেন। বহির্বিশ্বে পরিচিত "গরীবের ব্যাংকার" স্বদেশে পরিনত হন অজনপ্রিয় সুদখোর মহাজনে। অবস্থা প্রতিকূল দেখে ৬৭ বছর বয়সী ড. ইউনুস রাজনৈতিক দল "নাগরিক শক্তি" গঠনের পরিকল্পনা পরিত্যাগ করেন। এবং নেলসন মান্দেলা, ডেসমন্ড টুটু, গ্রেস মাশেল প্রমূখ খ্যাতিমান নোবেল লরেটদের নিয়ে গঠিত "Elder's Group" সহ অরাজনৈতিক অন্যান্য আন্তর্জাতিক আভ্যন্তরীন কর্মপরিধিতে নিজেকে নিয়োজিত করেন।





ছবিসূত্র: ইন্টারনেট
তথ্যসূত্র: ইন্টারনেট ও পত্রপত্রিকা
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই আগস্ট, ২০০৯ সকাল ১০:৩৪
১৪টি মন্তব্য ১৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×