প্রসংগ রাস্ট্রধর্ম, রাস্ট্রভাষা --কারো জানা থাকলে আওয়াজ দিয়েন
০৫ ই জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ১১:০৭
একটি ধর্মকে রাস্ট্রধর্ম করলে অন্য ধর্মের অনুসারীরা দ্বিতিয় শ্রেনীর নাগরিকে পরিনত হয়, কাজেই সেকুলার রাস্ট্রে কোনো ধর্মকে রাস্ট্রধর্ম করা উচিত নয় ।৮৮% লোকের ধর্মকে রাস্ট্রধর্ম করলে বাকী ১২% এর নাগরিক অধিকার ক্ষুন্ন হয়। এইটুকু বুঝলাম।
কিন্তু ৯৮% মানুষের ভাষাকে রাস্ট্রভাষা করলে বাকী ২% এর নাগরিক অধিকার এর কিছু হয় না কেন?
২%, ১২% এর তুলনায় ৬ ভাগের ১ ভাগ বলে? আধুনিক সেকুলার গনতন্ত্রে কয় % মানুষকে দ্বিতিয় শ্রেনীর নাগরিকে পরিনত করা বৈধ। কারো জানা থাকলে আওয়াজ দিয়েন।
বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
লেখক বলেছেন: আমি ও আপনার পাশের সিটে আছি।
এ.টি.এম.মোস্তফা কামাল বলেছেন:
হতবুদ্ধিরতো মেলা বুদ্ধি ! হতবুদ্ধিরে ফলো করলাম।
লেখক বলেছেন: সবাই গ্যালারিতে বসলে খেলবে কে রে ভাই?
লেখক বলেছেন: সিস্টেম কে প্রশ্ন করতে শেখাটাই তো প্রয়োজন। ধন্যবাদ সুন্দ্র মন্তব্যের জন্য।
নীড় ~ বলেছেন:
ভাষা আর ধর্ম কি এক জিনিস! রাষ্ট্রের অফিসিয়াল ভাষা কি হবে, অফিসিয়ালী কোন ভাষায় রাষ্ট্র পরিচালিত হবে তা নির্ধারন করেতই রাষ্ট্র ভাষার দরকার।
রাষ্ট্র ধর্মটা ঠিক কোন কাজের জন্য দরকার ?
লেখক বলেছেন: ভাষভিত্তিক জাতীয়তাবাদের কন্সেপ্ট যেমন আছে তেমনি ধর্মভিত্তিক জাতীয়তাবাদের ও কন্সেপ্ট আছে । কাজেই তুলনাটা বোধ হয় সংগত।
কাজ অকাজ দিয়ে যদি বিবেচনা করতে চান তাইলে ঠিক আছে। এইটা ভিন্ন আলোচনা।
রাজর্ষী বলেছেন:
সুন্দর পেরেশ্ন হৈছে। আমি ঘুমাইতে গেলাম। সন্তোষজনক উত্তর না পাইলে আমারে নক কৈরেন আগামি কইল্য বাদ আছর।
লেখক বলেছেন: ঘুমের মধ্যে স্বপ্নে কিছু পাইলে জানাইয়েন।
লেখক বলেছেন: বাংলা যার মায়ের ভাষা না, সে রাস্ট্রের অফিসিয়াল ভাষা হওয়ার কারনে আপনার ভাষা শিখতে বাধ্য হবে আর আপনি সংখ্যাগরিস্ট হওয়ার জোরে তার ভাষা শিখতে বাধ্য না, কেমন কেমন যেনো লাগে।
জিপিএস বলেছেন:
আসল জায়গায় হাত দিসেন।
লেখক বলেছেন: তাই না কি ! নকল জায়গা কোনটা রে ভাই!
ধন্যবাদ।
অন্যমনস্ক শরৎ বলেছেন:
কিন্তু ৯৮% মানুষের ভাষাকে রাস্ট্রভাষা করলে বাকী ২% এর নাগরিক অধিকার এর কিছু হয় না কেন?২%, ১২% এর তুলনায় ৬ ভাগের ১ ভাগ বলে? আধুনিক সেকুলার গনতন্ত্রে কয় % মানুষকে দ্বিতিয় শ্রেনীর নাগরিকে পরিনত করা বৈধ। কারো জানা থাকলে আওয়াজ দিয়েন।
একটা ঘুরাইন্না উত্তর দেই ওকে?
গণতন্ত্র নিশ্ছিদ্র ব্যবস্থা না মোটেও। গণতন্ত্র সংখ্যাধিক্যের আধিপত্যে চলবো..ফলে আদর্শ গণতন্ত্রে ২% এর দলে থাকলে আপনে ব্যাকফুটে। যেমন আমাদের দেশের আদিবাসী মানুষজনের ভাষা।
আধুনিক সেকুলার গনতন্ত্রে কয় % মানুষকে দ্বিতিয় শ্রেনীর নাগরিকে পরিনত করা বৈধ।
এইটা জোশিলা কোশ্চেন....বাট উত্তর সহজ: কোন অংশকেই ২য় শ্রেণীর নাগরিকেপরিণত করা যায়না; ইভেন গণতন্ত্রের লজিক্যাল ডিডাকশনেও। কিন্তু ২য় শ্রেণীর নাগরিক আমরা নানান ভাবেই হই। সেইটা ক্ষমতার বিভিন্নমুখী চর্চার মধ্যে দিয়া বুঝা যায়। যেমন সব দাড়িয়ালই ক্ষমতাহীন নন, এলিটও আছে। আবার সব মুক্তিযোদ্ধাই যুদ্ধ করেন নাই, কেউ সার্টিফিকেট নিছেন শুধু। আবার সব আদিবাসী প্রান্তিক নন, ইউএনডিপিতে উচূ পোষ্টের চাকমা মানুষটি এলিট।
আর এখানেই আধুনিক সেক্যুলার গণতন্ত্র ইন বিগ কোশ্চেন এন্ড পোষ্ট মর্ডার্ণ পজিশনালিটি পলিটিক্স শুরু। ফলে সাংবিধানিক ভাবে % নির্ণয় করে দিলেও, আসল প্রশ্নের উত্তর এখনো অনেক দূর।
ভালো প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। ভালো বিশ্লেষন করেছেন।
'সব দাড়িয়ালই ক্ষমতাহীন নন, এলিটও আছে। আবার সব মুক্তিযোদ্ধাই যুদ্ধ করেন নাই, কেউ সার্টিফিকেট নিছেন শুধু। আবার সব আদিবাসী প্রান্তিক নন, ইউএনডিপিতে উচূ পোষ্টের চাকমা মানুষটি এলিট।'
কাজেই আপনি মুক্তিযোদ্ধ এর রাজনীতিই বলেন আর ধর্মের
রাজনীতিই বলেন ক্ষমতার বিভিন্নমুখী চর্চার মধ্যে দিয়া তার চরিত্র বিশ্লেষন না কইরা বাতিল করাও উচিত না, গ্রহন করা ও উচিত না।
আমাদের দেশে এই বিচার বিশ্লেষন করার মানসিকতার বড় অভাব।
মৌ-মাছি বলেছেন:
রাষ্ট্রভাষা দুইটি হইতে পারে -- কোন সমস্যা নাই তাতে। কেউ বেজার হবে না তাতে, আরো অধিক সংখ্যক লোক খুশিই হবে। এখন নিজেদের জিজ্ঞেস করুন রাষ্ট্রধর্ম যদি একাধিক হয় খুশী হবেন নাকি বেজার হবেন। যদি খুশি হন তাহলে রাষ্ট্রধর্ম করা দোষের না, আর যদি বেজার হন তাহলে রাষ্ট্রধর্ম করা যাবে না। ভাষার বিষয়ে মানুষের মাঝে শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে তেমন সংবেদনশীলতা নেই, কিন্তু ধর্ম বিষয়ে আছে -- কারন এর সাথে আমাদের ইহকাল/পরকালের সত্য/মিথ্যা নির্ভর করে।
যাইহোক, প্রশ্নটি ভালো ও গুরুত্বপূর্ন। ধর্মনিরপেক্ষতার অনুসারীরা বেশ কয়টি ধর্মকে রাষ্ট্রধর্ম করে এই বিতর্কের সমাধান করে ফেলতে পারে।
লেখক বলেছেন: রাষ্ট্রধর্ম করা যাবে না বা করতেই হবে এই অবস্থানের বাইরে এসে আলচোনা শুরু করার জন্য ধন্যবাদ।
ভাষার বিষয়ে মানুষের মাঝে শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে তেমন সংবেদনশীলতা নেই, কিন্তু ধর্ম বিষয়ে আছে । এই সংবেদনশীলতাকে ধর্মনিরপেক্ষতার অনুসারীরা গুরুত্ব সহকারে বিবেচোনা করতে রাজি থাকলে এর সমাধান বোধ হয় এত জটিল হত না।
লেখক বলেছেন: ভাষার বিষয়ে মানুষের মাঝে শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে তেমন সংবেদনশীলতা নেই
এইটা ভুল কথা। ৫২ এর ইতিহাস কি বলে? ভাষা ও আধিপত্য প্রতিস্টার হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার হয়।
মৌ-মাছি বলেছেন:
"এই সংবেদনশীলতাকে ধর্মনিরপেক্ষতার অনুসারীরা গুরুত্ব সহকারে বিবেচোনা করতে রাজি থাকলে এর সমাধান বোধ হয় এত জটিল হত না।"ধর্মনিরপেক্ষতার অনুসারীরা গুরুত্বটি বুঝে না এটি আমি পুরাপুরি বলতে চাইনা। আমার বোধ বুদ্ধি অনুযায়ী তারা হয় সব গুলোকে সমান গুরুত্ব দিতে চায় না হয় কোনটাকেই গুরুত্ব দিতে চায় না। এখন বলুন আমাদের সংখ্যাগরিষ্ঠ লোক (বিশেষ করে যারা নিজ নিজ ধর্মের প্রতি অধিকতর সংবেদনশীল) তারা একাধিক ধর্মকে রাষ্ট্রধর্ম হিসাবে কতটা সহজে গ্রহন করতে পারবে। যদি মনে করেন সহজে গ্রহন করবে, তাহলে প্রশ্নটি আরো বড় পরিসরে তোলা দরকার। আমাদের দেশের ধর্মনিরপেক্ষতার অনুসারীরদের মাথায় একাধিক রাষ্ট্রধর্মের ধারনা খুব সম্ভবত নাই। এটি নতুন এবং প্রয়োগোপযোগী হতে পারে।
লেখক বলেছেন: সেকুলার গনতন্ত্র একাধিক রাষ্ট্রধর্ম মানবে কিনা এইটা আগে সমাধান করতে হবে। পাশ্চাত্যের বহু দেশে ইসলাম ধর্মের অনুসারীর সংখ্যা ২% চাইতে বেশি। যে দেশগুলোতে খ্রীস্ট্র ধর্ম রাষ্ট্রধর্ম তারা ইসলাম কে ও একাধিক রাষ্ট্রধর্ম তত্বে মানবে কি?
চোখ বন্ধ করে উত্তর হল না।
কাজেই আমাদের সংখ্যাগরিষ্ঠ লোক একাধিক ধর্মকে রাষ্ট্রধর্ম হিসাবে সহজে গ্রহন করতে পারবে না এটাই স্বাভাবিক। অন্তত সেকুলার গনতন্ত্র এর জায়গায় দাঁড়িয়ে এইটার সমালোচনা করা নৈতিক হয় না বলেই আমার কাছে মনে হয়।
রাজিব খান০০৭ বলেছেন:
পৃথীবির বহু উন্নত দেশে রাষ্ট্রধর্ম আছে।তাদের বেলায় সমস্যা নেই যত সমস্যা আমাদের দেশে?
লেখক বলেছেন: কাজেই রাষ্ট্রধর্ম উঠিয়ে দিলেই আমরা খুব উন্নত আর অসাম্প্রদায়িক হয়ে যাব বিষয়টা এমন না।
মৌ-মাছি বলেছেন:
পৃথিবীর বহু অন/উন্নত দেশে রাষ্ট্রধর্ম নাই। তাদের বেলায় সমস্যা নেই যত সমস্যা আমাদের দেশে? প্রশ্নটা তো দুই তরফেরই।
লেখক বলেছেন: একদম ঠিক। কাজেই এইটা সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মতামতের উপর ছেড়ে দেয়া যায় কি না?
মৌ-মাছি বলেছেন:
সেকুলার গনতন্ত্র একাধিক রাষ্ট্রধর্ম মানবে কিনা -- প্রশ্নটি এটি নয়। একাধিক রাষ্ট্রধর্ম করার বাধা আমার বিবেচনা মতে ধর্মনিরপক্ষতাবাদীদের পক্ষ হতে হওয়ার কথা না। বাধাটি আসবে রাষ্ট্রের বাসিন্দা একএকটি ধর্মসংবেদনশীল গোষ্ঠি হতে। সংখ্যাগরিষ্ঠ খ্রীষ্ট ধর্ম অনুসারীদের জন্যই অনেক জায়গায় একাধিক ধর্ম রাষ্ট্রধর্ম করা যাবে না, আবার আমাদের দেশে সংখ্যাগরিষ্ঠ ইসলাম ধর্ম অনুসারীদের জন্যই করা যাবে না হয়ত। ধর্ম নির্বিশেষে সব ধর্মসংবেদনশীলদের আচরনে অনেক মিল আছে। সেটি আমরা ভালো দৃষ্টি কোন থেকেই দেখি আর মন্দ দৃষ্টি কোন থেকেই দেখি।
মৌ-মাছি বলেছেন:
"কাজেই এইটা সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মতামতের উপর ছেড়ে দেয়া যায় কি না"ধরুন আপনাকে বলা হল রান্নাঘরে দুটি আম আছে। আরো বলা হল একটি আপনি খান আর একটি আপনার ৫/৬ বছরের ছোটভাইকে দিন। আপনি গিয়ে দেখলেন আমদুটির একটি একটু নষ্ট হওয়ার দিকে। এখন আপনি কি করবেন। আপনি ভালোটি নিতে পারেন, ছোটভাইটিকে ঐ একটু নষ্ট হওয়াটি দিতে পারেন। আবার উল্টোটিও করতে পারেন। আপনি যদি প্রথমটি করে তাহলে আপনি স্বাধীন নন। আর যদি উল্টোটি করেন তাহলে আপনি স্বাধীন। এখানে বিবেকের বিবেচনার স্বাধীনতার কথা বলা হচ্ছে। কিছুটা বিসাদৃশ্য সত্ত্বেও আমরা যদি মোটামুটি ভাবে এটি মেনে নেই তাহলে স্বীকার করব যে সংখ্যাগরিষ্ঠ হলেই যে কোন কিছু করা যায় না। সংখ্যালঘিষ্ঠ বা কমজোড়দের বিষয়টিও বিবেচনা করার বিষয় আছে। বিবেচনা বোধ জাগ্রত থাকলে আমরা ছোটভাইকে খারাপ আম দিতে পারি না।
লেখক বলেছেন: কিন্তু কোনো না কোনো না ভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠ এর প্রভাব তো থাকবেই।
সমাজ তো কখোনোই নিরেপেক্ষ হয় না। আমার মতে এই প্রভাবে কোনো সমস্যা নাই যদি না সংখ্যালঘিস্টের আধিকার নস্ট না হয়।
যেমন আমাদের দেশে ইসলাম রাষ্ট্রধর্ম হলে সমস্যা নাই যদি অন্য সবার নিজ নিজ ধর্ম পালনের স্বাধিনতা থাকে এবং অন্য ধর্মের হওয়ার কারনে কেউ যদি সাম্প্রদায়িকতার স্বীকার না হয়। একই ভাবে পাশ্চাত্যের বহু দেশে দেশগুলোতে খ্রীস্ট্র ধর্ম রাষ্ট্রধর্ম হলে সমস্যা নাই যদি অন্য সবার নিজ নিজ ধর্ম পালনের স্বাধিনতা থাকে এবং অন্য ধর্মের হওইয়ার কারনে কেউ যদি সাম্প্রদায়িকতার স্বীকার না হয়।
রিয়াজুল ইস্লাম বলেছেন:
রাষ্ট্র ধর্ম হিসাবে ইসলাম ধর্মের কথা উল্লেখ থাকবে আবার সংবিধান ধর্ম নিরপেক্ষ হবে। এটা স্ব-বিরোধ। আমার কথা হলো: আমরা যদি সংবিধানকে সত্যিই ধর্ম নিরপেক্ষ হিসাবে দেখতে চাই তাহলে সংবিধানে এই ধর্ম না টেনে আনলেই কি নয়? আবার রাষ্টধর্ম যদি ইসলাম হয় তাহলে সে কথা দিয়ে কি বুঝায় সেটা কি যারা আইনজীবি বা আইনপ্রনেতা তারা কি বুঝেন না? নাকি বুঝেও ধর্মভিরু মানুষদেরকে ধোঁকা দেওয়ার জন্য এইসব হালুয়া মার্কা কথা বার্তা রাখতে চায়।
এর আগে আমি একটি পোষ্ট লিখেছিলাম যে ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল সংবিধান অসমর্থিত নয়। পোষ্টটিতে আমি এই সব কন্ট্রাডিকশনকেই বুঝাতে চেয়েছিলাম কিন্ত ২/১ জন ব্লগার সেটা ভিন্ন মানে বের করেছিলেন, এবং পরবর্তিতে আমি পোষ্টটা ড্রাফট করে নেয়।
এখন আবার পোষ্টটি প্রকাশ করলাম। এখানে রেফারেন্স হিসাবে ব্যবহার করার জন্য।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ রিয়াজুল ভাই।
রাজিব খান০০৭ বলেছেন:
পৃথিবীর বহু অন/উন্নত দেশে রাষ্ট্রধর্ম নাই। তাদের বেলায় সমস্যা নেই যত সমস্যা আমাদের দেশে? পৃথিবীর বহু অউন্নত দেশেও কিন্তু রাষ্ট্রধর্ম আছে।
আমাদের দেশের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম।কিন্তু এখানে কি সংখালুঘুদের প্রতি কোনও বৈষম্য করা হচ্ছে?এখানে কি কোনও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হচ্ছে?
ভারত তো ধর্মনিরেপেক্ষ দেশ।তাহলে ঐখানে এত সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হয় কেন?
রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম ঠিক আছে কিন্তু আপনাকে বুঝতে হবে এদেশের মানুষ শান্তিপ্রিয়।ধর্মীয় উগ্রতাকে সমর্থন করে না।
লেখক বলেছেন: সংখালুঘুদের প্রতি কোনও বৈষম্য একেবারে নেই তা বলবো না। তবে আমাদের দেশের অবস্থা সমকালীন দুনিয়ার অনেক দেশের চাইতেই ভাল। ভারত আর পাকিস্তানের চাইতে তো অবশ্যই।
মৌ-মাছি বলেছেন:
"আমাদের দেশের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম। কিন্তু এখানে কি সংখালুঘুদের প্রতি কোনও বৈষম্য করা হচ্ছে?এখানে কি কোনও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হচ্ছে?ভারত তো ধর্মনিরেপেক্ষ দেশ। তাহলে ঐখানে এত সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হয় কেন"
আপনি মনে হয় প্রথম প্রশ্নের উত্তর "না" ধরে নিয়েছেন। কিন্তু রাজনৈতিকভাবে বিম্পী বা আম্লীগ যাই বলুক, আমাদের দেশেও বাস্তবিক অর্থে সংখ্যালঘু নির্যাতন আছে, এবং তা দৃশ্যমান ভাবেই আছে। আর ভারতে তো হয়ই, হিন্দু ধর্মের প্রতি অধিকতর সংবেদনশীলদের আধিপত্য যেখানে আছে।
ধর্মের প্রতি সংবেদনশীলরা এইদল অন্যদলের উপরে অত্যাচার করেই, তারপর দেখাদেখি ঐদল আবার এই দলের উপরে করে। কোন একক ধর্ম কে রাষ্ট্রধর্ম করলে কমবেশী সেই ধর্মের প্রতি পক্ষপাত হবেই, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার সৃষ্টি সবসময় না করলেও তা যে ধর্মসম্পর্কে স্পর্শকাতরতাকে উস্কে দেয়, এটা নি:সন্দেহ। কাজেই বড় বড় সব ধর্মকেই রাষ্ট্রধর্ম করা হোক। যেমন সবার জন্যই ছুটি আছে।
লেখক বলেছেন: কোন একক ধর্ম কে রাষ্ট্রধর্ম করলে কমবেশী সেই ধর্মের প্রতি পক্ষপাত হবেই,
একমত না। এম্অন একটা রাষ্ট্র দেখাতে পারবেন যেখানে সংখ্যালঘিস্টরা সংখ্যাগরিষ্ঠ এর ঠিক সমান সমান সুবিধা ভোগ করছে? রাষ্ট্রধর্ম না করলেও একই ঘ্টনা ঘটবে। আবার রাষ্ট্রধর্ম করলেও একই ঘ্টনা ঘটবে।
ত্রিভুজ বলেছেন:
ভাল পয়েন্ট।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
মৌ-মাছি বলেছেন:
দেখা যাচ্ছে আমরা যারা রাষ্ট্রধর্ম হিসাবে ইসলাম চাচ্ছি (অন্তত মৌন ভাবে হলেও) তারা কিন্তু অন্যধর্মগুলোকেও রাষ্ট্রধর্ম হিসাবে গ্রহন করতে তেমন উৎসাহী নই। নিজেরটায় স্পষ্ট করে চাইলেও বলতে চাই অন্যেরটা দিয়ে দিলেই তো হয়, স্পষ্ট করে বলার কি দরকার।
রাজিব খান০০৭ বলেছেন:
সংখালুঘু নির্যাতনের কিছু সাম্প্রতিক উদাহরন দিন@মৌ-মাছি
লেখক বলেছেন: একেবারে নেই তা বলবো না। তবে আমাদের দেশের অবস্থা সমকালীন দুনিয়ার অনেক দেশের চাইতেই ভাল। ভারত আর পাকিস্তানের চাইতে তো অবশ্যই।
মৌ-মাছি বলেছেন:
"রাষ্ট্রধর্ম না করলেও একই ঘ্টনা ঘটবে। আবার রাষ্ট্রধর্ম করলেও একই ঘ্টনা ঘটবে।"তাইলে কি দাঁড়াইলো -- রাষ্ট্রধর্ম এখানে কোন ব্যাপার না। কাজেই রাষ্ট্রধর্ম করে তা হলে লাভ কি? আর না করেই লাভ কি। এইটা একটা ননইস্যু। নাকি তারপরও রাষ্ট্রধর্ম করতেই হবে এবং শুধু একটা করতে হবে, এবং সেটা শুধু আমারটা? আপনাকে বলছি না, কিন্তু বিষয়টা তো তাহলে ভাই বিচার সবকিছু ঠিক আছে তালগাছটা আমার। আমি মাঝে মাঝে সবাইরে তাল তো খাইতে দিমু। তাল তো সবাই খাবে গাছটা আমার নামে হলে ক্ষতি কি। তাল যদি খাইতে দিই গাছের মালিকানা ও চলুন সবাই মিলে শেয়ার করি।
"এম্অন একটা রাষ্ট্র দেখাতে পারবেন যেখানে সংখ্যালঘিস্টরা সংখ্যাগরিষ্ঠ এর ঠিক সমান সমান সুবিধা ভোগ করছে?" ধরুন অনেক রাস্ট্রেই সেটা হচ্ছে (ধরেন অন্য কিছু যেমন চুরিও হচ্ছে)। আপনি কি মনে করেন সেটা সঠিক হচ্ছে? যদি মনে করে সঠিক হচ্ছে তাহলে আমার কিছু বলবার নেই। অবশ্যই তাহলে আমাদের সংখ্যাগরিষ্ঠরা সংখ্যালঘিষ্ঠদের বঞ্চিত করবে, করে যাবে আজীবন। আর আমরা চুরিও করতে থাকব আইনসংগত ভাবেই। আর যদি আপনি মনে করে সঠিক হচ্ছে না তাহলে অবশ্যই কোন একক ধর্ম রাষ্ট্রধর্ম হতে পারে না। হয় কোনটিই হবেনা না হলে বেশ কয়টি হবে।
জাতীয়ফুল শাপলা, রাষ্ট্রধর্ম জিনিসটা তো এইরকম হালকা প্রতীকি কিছু না। কাজেই এইটার একটা প্রভাব সমাজে পড়বেই।
লেখক বলেছেন: এইটা একটা ননইস্যু।
একমত। এরশাদ যখন রাষ্ট্রধর্ম করেন তখন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই করেন। এখন রাষ্ট্রধর্ম করাটা আর ইস্যু না। একটা ননইস্যু নিয়ে সরকারের আর বুদ্ধিজীবিদের গলাবাজি নিয়ে হল কথা। যদি রাষ্ট্রধর্ম না থাকত আর কেউ করার প্রস্তাব দিত তাহলে আমার অবস্থান বিপক্ষে। আর এখন যেহেতু রাষ্ট্রধর্ম আছে , এইটার সাথে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের আবেগ জরিত আর এইটা থাকলে মহাভারত অশুদ্ধ ও হয়ে যাছছে না, কাজেই একে উথিয়ে দেয়ার প্রস্তাব আমার মতে গ্রহন যোগ্য বা প্রয়োজনীয় নয়।
আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ গঠনমুলক আলোচনা করার জন্য।আমরা যত বেশি খোলামেলা আলচোনায় আসব তত বেশি সমস্যা কমবে।
রাজিব খান০০৭ বলেছেন:
জাতীয়ফুল শাপলা, রাষ্ট্রধর্ম জিনিসটা তো এইরকম হালকা প্রতীকি কিছু না। কাজেই এইটার একটা প্রভাব সমাজে পড়বেই।প্রভাব কি পড়েছে? একটু লিংকসহ বলুন।
লেখক বলেছেন: বিষয়টার এতটা সরলীকরন করা বোধ হয় ঠিক না। একটা ছোট উদাহরন দেই। ভারত সংবিধান মতে সেকুলার আর বাংলাদেশ সেকুলার না। অথচ ভারত বাংলাদেশের চাইতে অনেক বেশি সাম্প্রদায়িক এবং মৌলবাদি।কাজেই ভারতে সেকুলারিজমের প্রভাব পড়ে নাই বা কম পড়েছে আর বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িকতা কম চর্চা হয়েছে। এখন বলেন ত এমন টা কেন হল?
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
নুভান বলেছেন:
আমার ছোট মাথায় যা ধরে তা হলো এইটা এখন একটা পলিটিক্যাল ইস্যু ছাড়া আর কিছুই না। রাজনীতিবিদগণের একটা হাতিয়ার হলো এমন কোন পয়েন্ট খুঁজে বের করা যাতে পাবলিককে নাড়া দিতে পারে, পাবলিক সেই সিদ্ধান্তের আলোচনা-সমালোচনা করে, আর কিছুই না।ঠিক আছে, এবার চিন্তা করুনঃ যখন রাষ্ট্রধর্ম দেশে ছিলো না, তখন মুসলমানেরা কি মসজিদে যায়নি? গিয়েছে। হিন্দুরা কি পুজার উৎসব পালন করেনি? করেছে। ওকে, এবার আসুন যখন রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম হলো, তখন কি ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা তাদের অনুষ্ঠান করেন নি? করেছেন। এক্ষেত্রে রাষ্ট্রধর্ম আমাদের সামাজিক জীবনে কোন রকম-ই প্রভাব ফেলতে পারেনি।
উপমহাদেশের প্রসঙ্গে আসিঃ ভারত সেক্যুলার রাষ্ট্র বলে দাবী করে। কিন্তু নির্বাচনের আগে বিজেপি যে কোন ইস্যু নিয়ে এন্টি মুসলিম-খৃষ্টান প্রচারনা চালায়। কেন? ভোটের জন্য। সেক্যুলার সরকার থাকা কালেই কিন্তু বাবরী মসজিদ ভাঙ্গা হয়েছিলো।
এবার বাংলাদেশের কথা ভাবুন, বাবরী মসজিদ ভাঙ্গার সময় দেশে কিছু তস্কর লোকজন অনেক মন্দির ভেঙ্গেছিলো। যদি বাংলাদেশ তখন সাংবিধানিক ভাবে সেক্যুলার রাষ্ট্র হতো তবে কি সেই তস্করদের মন্দির ভাঙ্গা বন্ধ হতো? না হতনা। তাহলে? রাষ্ট্রধর্ম এই উপমহাদেশে কোনরকম প্রভব ফেলতে অক্ষম। আমরা ছোটবেলা থেকে যা শিখি তা পরিবার থেকে শিখি। ছোটবেলা থেকে শিখি ও হিন্দু তুমি মুসলমান। ছোট বেলা থেকে শিখি হিন্দু আর মুসলমান আলাদা। এটা আমাদের সামাজিক ব্যাধি, এর সাথে রাষ্ট্রধর্মের সম্পর্ক অনেক গৌণ।
আমেরিকার চাকুরির সিভি-তে ধর্মের কোন উল্লেখ থাকে না যাতে ডিস্ক্রিমিনেশন না হয়, কেউ কি মনে করেন দেশে রাষ্ট্রধর্ম উঠে গেলে চাকুরীর সিভি-তে ধর্মের ব্যবহার উঠে যাবে? আমি মনে করি না। কেউ কি মনে করেন রাষ্ট্রধর্ম সেক্যুলার হলে একটি বিধর্মী ছেলে বা মেয়ে কে তার জামাই বা পুত্রবধু হিসেবে কোন পরিবার সহজে গ্রহণ করবে? আমি তা মনে করি না। তা, রাষ্ট্রধর্মের ব্যাপারটা খুবই গৌণ আর একটা রাজনৈতিক চাল, আর নেতাদের লাইমলাইটে আসার অস্ত্র ছাড়া আর কিছুই না।
লেখক বলেছেন: অনেক অনেক ধন্যবাদ।
'আমেরিকার চাকুরির সিভি-তে ধর্মের কোন উল্লেখ থাকে না যাতে ডিস্ক্রিমিনেশন না হয।'
সিভিতে উল্লেখ না থাকলে ও গায়ের রং আর মুসলমান নামের জন্য বৈষম্য কিন্তু ঠিকই আছে।
আমি আপনার সাথে একমত। সামাজিক ভাবে আমাদের মানসিকতা কিভাবে তৈরি হছেছ এইটাই গুরুত্বপুর্ন।
'আমরা ছোটবেলা থেকে যা শিখি তা পরিবার থেকে শিখি। ছোটবেলা থেকে শিখি ও হিন্দু তুমি মুসলমান। ছোট বেলা থেকে শিখি হিন্দু আর মুসলমান আলাদা। এটা আমাদের সামাজিক ব্যাধি।'
এইটাকে কি ধর্মের ভিতরকার সমস্যা মনে করেন না কি ধর্মের নামে আমদের তৈরি করা ভুল সামাজিক সংস্কার বলে মনে হয় আপনার ?
নুভান বলেছেন:
এটা অবশ্যই ধর্মের ভেতরকার সমস্যা নয়। এটা আমাদের সামাজিক সমস্যা। খুব সহজ দুটো উদাহরন দেইঃনবীজির চাচা আবু তালিব ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন নাই। তার মানে ইসলাম ধর্মের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি বিধর্মী ছিলেন। তাই বলে কি নবীজি তার চাচাকে পরিত্যাগ করেছিলেন? না, করেন নি।
ছোটবেলায় ইসলাম ধর্মের বইয়েও তো পরেছিলাম - বাবা-মার প্রতি কর্তব্য অংশে, যদি কেউ মুসলমান হয় আর তার বাবা-মা অমুসলিম হয় তবুও তাদের ত্যাগ করা যাবে না আর বাবা-মার প্রতি সন্তানের কর্তব্য পালন করতে হবে।
এবার প্রতিবেশীদের কথা চিন্তা করুনঃ শুনেছিলাম (রেফারেন্স দিতে পারবনা) একবার এক সাহাবাকে তার ইহুদি প্রতিবেশী কিছু মাংশ দিয়েছিলো। তখন সেই সাহাবা নবীজির কাছে এসে জানতে চাইছিলেন সেই মাংশ খাওয়া যাবে কিনা। তখন নবীজি বলেছিলেন খাওয়ার আগে বিসমিল্লাহ বলে খেলেই হবে।
আফসোস হয়, ইসলামে প্রাথমিক যুগে যদি এমন ধর্মীয় সলিডারিটি থাকতে পারে তবে আমাদের মধ্যে এখন এত বিভাজন কেন?
বাংলার সম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিয়ে আমার ব্লগ গুলো দেখতে পারেনঃ
বাংলার ইতিহাসে সাম্প্রদায়িকতার অবস্থান - ১ (প্রাচীন যুগ)
বাংলার ইতিহাসে সাম্প্রদায়িকতার অবস্থান - ২ (মধ্যযুগ)
বাংলার ইতিহাসে সাম্প্রদায়িকতার অবস্থান - ৩ (কলোনিয়াল যুগ)
সেক্যুলারিজম (বাংলার ইতিহাসে সাম্প্রদায়িকতার অবস্থান - ৪)
লেখক বলেছেন: ভালো বলেছেন।
'আফসোস হয়, ইসলামে প্রাথমিক যুগে যদি এমন ধর্মীয় সলিডারিটি থাকতে পারে তবে আমাদের মধ্যে এখন এত বিভাজন কেন?'
একমত। এটা শুধু ইসলাম না সকল ধর্মের জন্যই সত্য।
আপনার এই কথাটাকে বটম লাইন ধরে চিন্তা করলে একটা সহনশীল মানবিক সমাজ নির্মানের রাস্তা খোজা হয়ত সম্ভব।
রিয়াজুল ইস্লাম বলেছেন:
নুভানের মন্তব্যের সাথে সম্পুর্ণভাবে একমত।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...














