প্রিয় ইশতিয়াক ভাই এবং ব্লগারদের কাছে খোলাচিঠি অথবা আমাদের ‘দেবদূত’ কিংবা ‘পথকলি’দের জন্য একটু ভালোবাসা প্রার্থনা
০৭ ই মার্চ, ২০০৯ রাত ১০:১৯
ইশতিয়াক ভাই আমার বড় ভাই। তবে তার সঙ্গে আমার কোন রক্তের সম্পর্ক নেই। মানে আপন ভাই না। তবুও আমার মত একজন ‘গুণহীন’ বালককে তিনি নিজের ছোটভাইয়ের মত স্নেহ করেন। কী কারণে করেন আমি জানি না। তবে তার স্নেহের প্রতিদান স্বরুপ আমি তাকে অসম্ভব রকমের শ্রদ্ধা করি এবং ভালোবাসি। কারণ তাকে ভালোবাসার এবং শ্রদ্ধা করার পেছনে রয়েছে বহু যুক্তিসঙ্গত কারণ। এই মানুষটা একের ভেতর নানা ধরণের বৈশিষ্ট্যের অধিকারী।
আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই বলি- আমার নানা ধরণের রোগ রয়েছে। তার মধ্যে একটি হচ্ছে মন খারাপ রোগ। যখনই আমি এ রোগে আক্রান্ত হই; তখনই আমি তার সঙ্গে যোগাযোগ করি, কথা বলি। আমার মন ভালো হয়ে যায়। কী কারণে ভালো হয়ে যায় আমি জানি না।
আমার রোগ সমূহের মধ্যে অন্যতম একটি হচ্ছে সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগা। আর রোগের প্রাদুর্ভাবে আমি আমার জীবনে গণনাহীন ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আবার কারো কোন ধরণের পরামর্শও আমার তেমন ভালো লাগে না। তাই কারো কাছে আমি পরামর্শও চাই না। কিন্তু ইশতিয়াক ভাইয়ের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার পর, যেকোন ব্যাপারে আমি সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগলেই তাকে ফোন করি। পরামর্শ চাই। তিনি তার স্বভাবসুলভ মৃদুকণ্ঠে আমার সমস্যা ও আমার নিজের ভাবনা শোনেন এবং পরামর্শ দেন। প্রতিবার পরামর্শ পেয়ে আমি অবাক হয়ে আবিষ্কার করি আমার ব্যাক্তিগত জীবনাদর্শের সঙ্গে এগুলোর মিল আছে। তাই অবশ্যই আমার কাছেও মনে হয় এটাই ঠিক। আর এসব পরামর্শ আমার উপকার ব্যাতিত ক্ষতি করে না।
ইশতিয়াক ভাইয়ের লেখার আমি বিশাল রকমের ভক্ত। এই মানুষটা যা লেখেন তাতেই আমি মুগ্ধ হই(বিনয়ের সঙ্গে ক্ষমা প্রার্থনা করছি তাদের কাছে, যারা ইশতিয়াক ভাইয়ের লেখা পছন্দ করেন না।)। ব্লগে তার সব লেখা পড়ে আমি মুগ্ধ হই। এই মুগ্ধতা এতটাই বিশাল যে আমি তার লেখায় কোন কমেন্ট করার ভাষা খুঁজে পাই না।
একটা পত্রিকাতে কাজ করি, তাই আমার পেশাটাই হয়ে গেছে লেখালেখি। এই লেখালেখি নিয়েই ব্যস্ত থাকতে হয় প্রায় সব সময়। সেই সাথে আবার সারা বছরই বইমেলার প্রস্তুতি এবং নানা পত্রিকায় ফরমায়েসি স্বরুপ নানা ধরণের লেখা লিখতে হয়। এইসব লেখা লিখতে লিখতে যখন আইডিয়াহীনতায় ভুগি তখন কিছু লিখতে না পারার কারণে বেশ মনোকষ্টে জর্জরিত হই। এ কথা জানতে পেরে ইশতিয়াক ভাইই বু্িদ্ধ দিলেন ব্লগে লেখার জন্য। তার প্ররোচনাতেই আমার ব্লগে লেখালেখি।
এসব নানা কারণে ইশতিয়াক ভাই আমার পছন্দ এবং শ্রদ্ধার পাত্র। ইশতিয়াক ভাই আমার এ শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসার কথা জানেন কীনা জানি না। তবে আমি নিজে কখনো জানানোর প্রয়োজন বোধ করি নি। তবে গত পরশু ব্লগে তার শিশু বিষয়ক লেখাটা পড়ে বড়ই আবেগাপ্লুত হয়েছি। চুপচাপ, প্রায় সকল বিষয়েই নির্বিকার, বিশালদেহী ইশতিয়াক ভাইয়ের বুকের ভেতরে যে এমন একটা মায়াভরা হৃদয় ঝুলন্ত আছে তা আমার জানা ছিল না। ব্লগে সবাই যখন আর্মী এবং বিডিআর নিয়ে আলোচনে ব্যস্ত (কাউকে উদ্দেশ্য করে এ মন্তব্য করছি না; তাই ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে সবাই দেখবেন বলেই আশা করি।), তখন ইশতিয়াক ভাই সম্পূর্ণ অন্যরকম বিষয় নিয়ে অন্যরকম একটি পোস্ট করলেন এবং সেই পোস্টটা আগামীর ভবিষ্যৎ শিশুদের নিয়ে। সেই শিশুদের ইশতিয়াক ভাই ‘দেবদূত’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। ইশতিয়াক ভাইয়ের এ শিশুপ্রেম আমাকে আবারো মুগ্ধ করেছে। এবং তার প্রতি আমার শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসাকে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। সেই সঙ্গে আমার মনে এই ভাবনার উদ্রেগ করেছে যে, ইশতিয়াক ভাইকে তার প্রতি আমার মনোভাবের কথা জানানো দরকার। তাই এ লেখার জন্ম।
‘ইশতিয়াক ভাই আপনার মত একজন সুন্দর মনের মানুষ আমার আপন বড় ভাই হলে আমার জীবনটা বোধহয় খুব আনন্দদায়কই হত!!! পূণর্জন্ম বলে যদি কিছু থাকে, তবে আমি পূণর্জন্মে আপনাকে আপন বড়ভাই হিসেবে পেতে চাইতাম।’
এবার ইশতিয়াক ভাইয়ের লেখাটার প্রসঙ্গে আসি- প্রিয় ব্লগার বন্ধুরা, আপনাদের কর্মকান্ডের সাথে আমি সরাসরিভাবে জড়িত না হলেও, আপনারা সংগঠিত হয়ে নানা ধরণের ভালো কাজ করতে পারেন বলে আমি বিশ্বাস করি। বইমেলাতে আপনাদের গণস্বাক্ষর অভিযান দেখে আমার এ বিশ্বাস তৈরী হয়েছে। ভালোর সঙ্গে আপনাদের এই পথচলা দেখে আমি ব্যাক্তিগতভাবে আনন্দিত। আমি যে পত্রিকাতে কাজ করি সেখানকার বইমেলা বিষয়ক রিপোর্টগুলো আমার করা ছিল। আপনাদের কারো নজরে পড়েছে কীনা জানি না, আমি ব্লগারদের এ পদক্ষেপের কথা সেই রিপোর্টে বেশ গূরত্ব সহকারে লিখেছি। আপনাদের প্রতি এ বিশ্বাস আমাকে স্বপ্ন দেখায় ব্লগাররা চাইলে অনেক কিছু করতে পারে। বদলে দিতে পারে সময়কে। ইশতিয়াক ভাইয়ের সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়ে আমিও তাই আপনাদের আহ্বান জানাচ্ছি শিশুদের প্রতি সহানুভূতি দেখিয়ে তাদের নিয়ে ব্লগে একটা দিন উদযাপন করার জন্য। এবং এ ব্যাপারে আপনাদের সমর্থন আশা করছি।
সেই সাথে শুধু ব্লগে শিশুপ্রেম নয়। কামনা করছি আমাদের চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা আমাদের আগামী প্রজন্ম; আমাদের দেবদূত, যারা নানা সমস্যায় জর্জরিত বা অবহেলিত হয়ে ‘পথকলি’ হিসেবে ছড়িয়ে আছে তাদের প্রতি সবার সহানুভূতি। এদেরকে সুন্দর করে তুললেই আমরা নিজেরা সুন্দর হয়ে উঠতে পারবো। আমাদের দেশ সুন্দর হবে। সুন্দরের এ পথচলায় আপনাদের সবাইকে আগমন। একদিন দুইদিন নয় আসুন বছরের সবগুলো দিন আমাদের সহানুভূতিগুলোকে আমরা ছড়িয়ে দেই আমাদের আশেপাশের বঞ্চিত পথশিশুগুলোর দিকে। তাদের সুযোগ করে দেই তাদের প্রাপ্য পরিবেশে বেড়ে ওঠার, যাতে করে তারা জাতিকে উপহার দিতে পারে একটি সুন্দর বাংলাদেশ।
(বি:দ্র: লেখাটা লেখার সময় একটু অতিরিক্ত আবেগপ্রবণতার কারণে ইশতিয়াক ভাইয়ের প্রসঙ্গটা বেশী চলে এসেছে। হয়ত লেখাটা পড়ে অনেকেই বিরক্ত হতে পারেন। তাই আবারো প্রিয় ব্লগারদের কাছে করজোড়ে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টি এবং মনোভাব প্রার্থনা করছি।)
বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
সন্দীপন বসু মুন্না বলেছেন:
সম্পূর্ন একমত।প্রিয়তে যোগ করলাম।তোর সাথে গলা মিলিয়ে বলতে চাই-
"সেই সাথে শুধু ব্লগে শিশুপ্রেম নয়। কামনা করছি আমাদের চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা আমাদের আগামী প্রজন্ম; আমাদের দেবদূত, যারা নানা সমস্যায় জর্জরিত বা অবহেলিত হয়ে ‘পথকলি’ হিসেবে ছড়িয়ে আছে তাদের প্রতি সবার সহানুভূতি। এদেরকে সুন্দর করে তুললেই আমরা নিজেরা সুন্দর হয়ে উঠতে পারবো। আমাদের দেশ সুন্দর হবে। সুন্দরের এ পথচলায় আপনাদের সবাইকে আগমন। একদিন দুইদিন নয় আসুন বছরের সবগুলো দিন আমাদের সহানুভূতিগুলোকে আমরা ছড়িয়ে দেই আমাদের আশেপাশের বঞ্চিত পথশিশুগুলোর দিকে। তাদের সুযোগ করে দেই তাদের প্রাপ্য পরিবেশে বেড়ে ওঠার, যাতে করে তারা জাতিকে উপহার দিতে পারে একটি সুন্দর বাংলাদেশ।"
পুনশ্চ
কেবল এই একটা ব্যাপারে তোর সাথে আমার অনেক মিল। শুধু মিল বললে ভুল বলা হবে লেখাটি পড়ে মনে হল আমার হৃদয়ের সবগুলো কথাই যেন তুই বলে দিয়েছিস ।সত্যি কথাই লিখেছিস তুই, আমারও মাঝে মাঝে মনে হয় এই বিশাল হৃদয়ের মানুষটি আমার আপন বড় ভাই হলেই বোধহয় সবচে ভাল হত । তবে রক্তের বন্ধন না থাকার পরও আমার মত গুনহীন এবং দ্বায়িত্বজ্ঞানহীন একটা ছেলেকে এই মানুষটি যেভাবে প্রশ্রয়, স্নেহ ও শাসনের ছায়াতলে বেঁধে লেখক বানানোর চেষ্টা করছেন এতটুকু আমার আপন বড়ভাই করতো কিনা সন্দেহ আছে। আমার তার ঋণ বোধকরি সারা জীবনেও শোধ করা সম্ভব নয়।জানি নিরহংকার এই মানুষটি তোর লেখা এবং আমার কমেন্টটি পড়ে ভীষণ লজ্জায় পড়ে যাবেন।আগামীকাল হয়তো মুখখানা গম্ভীর করে আমার এই পুনশ্চ আংশটুকু লেখার জন্য আমাকে মৃদু বকাও দিতে পারেন।তোর চিঠির মাধমেই প্রিয় বড় ভাইকে জানাচ্ছি- ইশতিয়াক ভাই, আপনার কাছে বকা খাওয়ার রিস্ক নিয়েই বলছি, আমরা আপনার ভাইব্রাদাররা আপনাকে অনেক ভালবাসি এবং আপনার সকল কাজে আপনার সাথে আছি। কারণ আমরা জানি ও বিশ্বাস করি আপনার সকল কাজই এ+।
আর শাকিল তোকে অনেক থ্যাংকস আমার মনের কথাগুলো বলে দেবার জন্য।তোর মত সুন্দর করে আমিও কখনো বলতে পারতাম না।)
তুসিন আহমেদ বলেছেন:
অনেক দিন পর লেখাটা পড়ে ভাল লাগল....
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...

















এই সাম-ইনের মধ্যেই বেশ কতকগুলো গ্রুপ রয়েছে, যেমন মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক গ্রুপ 'জন্মযুদ্ধ, কম্পিউটার ভিত্তিক, ধর্ম ভিত্তিক ইত্যাদি ইত্যাদি নানান গ্রুপ। যে যে গ্রুপের সদস্য সেটা ওকে করে কোন লেখা সাম-ইনে পোস্ট করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে লেখাটা ওই গ্রুপেও পোস্ট হয়ে যাচ্ছে। যেমন আমার মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কয়েকটা ছবিপোস্ট গ্রুপ ওকে রেখে পোস্ট করেছি সাম-ইনে। স্বাভাবিকভাবে সাম-ইনে পোস্ট তো হয়েছেই, ওই গ্রুপেও পোস্ট হয়ে গেছে। হয়তো দশ মিনিটের মধ্যে সাম-ইনের তীব্র স্রোতে প্রথম পাতা থেকে তা সরে গেছে। কিন্তু গ্রুপের প্রথম পাতায় কয়েকদিন রয়ে গেছে। কেউ মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক লেখাগুলো পড়তে চাইলে সেখানে ঢু মারলে পড়তে পারছে।
ব্যক্তিগতভাবে আমি কম্পুকানা মানুষ। তাই এ ব্যাপারে কারিগরি দিক সম্মন্ধে আমি কিছু বলতে পারবো না। যারা এ বিষয়ে জানেন বা অভিজ্ঞ, তাদের সহায়তা নিয়ে এরকম একটা গ্রুপ খোলা যায় কিনা ভেবে দেখতে পারেন। অবশ্য এর চেয়েও বেটার কোন চিন্তা ও উপায় থাকলে তো আরো ভালো।
সবাই যেহেতু শিশুসাহিত্য বা এ অঙ্গনের চর্চা করেন না এবং এই ব্লগের ব্লগারদের বিশাল একটা অংশ গ্লোবালি ব্লগটাকে ঘিরে প্রাণচঞ্চল থাকায় সচেষ্ট থাকেন তাঁরা বিষয়টাকে কিভাবে নেবেন জানি না। তবে আবারও বলি, শিশু বিষয়ক থিমটা কিন্তু চমৎকার ! দেখুন না সবাই মিলে কিছু একটা করা যায় কিনা !
আমার এ মন্তব্য কেবল সবাইকে এ বিষয়ে একটু ভাববার জন্যই উপস্থাপন করা।
ধন্যবাদ শাকিল। এবং আপনার মাধ্যমে ইশতিয়াককে আবারো অভিনন্দন।