বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক শহীদ তাজউদ্দীন আহমদের 'ঘনিষ্ঠ আত্মীয়' পরিচয়টিকে কাপাসিয়ার সাইফুল হাকিম মোল্লা ওরফে কাজল মোল্লার আজকাল খুবই প্রভাব-প্রতিপত্তি।
আত্মীয়তার দোহাই দিয়েই সংগঠনে কোনো পদে না থেকেও স্থানীয় আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ পদাধিকারীদের সমীহ আদায় করে নিয়েছেন তিনি।
আর সে জন্যই বুঝি গৃহকর্মী ধর্ষণ ও নির্যাতনের মতো ঘৃণ্য কাজ করার পরও তিনি বিষয়টিকে পেশিশক্তিবলে থামিয়ে দেওয়ার অনবরত চেষ্টা চালিয়ে গেছেন।
দেহেন তার কাজকাম।
- ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে ২০০০ সালের দিকে ওই পরিচয় ব্যবহার করে 'মম পোলট্রি লিমিটেডের নামে সোনালী ব্যাংক ঢাকা করপোরেট শাখা থেকে দুই কোটি টাকা ঋণ নেন। কয়েক লাখ টাকা দিয়ে গ্রামের বাড়িতে নামমাত্র খামার করে বাকি টাকা সরিয়ে ফেলেন। আর ব্যাংকের কিস্তি পরিশোধ না করেই কয়েক বছর আগে পোলট্রি খামারের মালামাল গোপনে বিক্রি করে দেন। সমপ্রতি ব্যাংক অর্থঋণ আদালতে মামলা করলে বন্ধক জমি নিলামে ওঠে।
- ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান তাজউদ্দীন আহমদের ছেলে সোহেল তাজ। এ সময় তিনি অবস্থা বুঝে এলাকায় ঘন ঘন যাওয়া-আসা শুরু করেন। চলে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর নাম ভাঙানো। সেই পুরনো আত্মীয়তার বুলি কপচে প্রভাব খাটিয়ে রায়েদ ইউনিয়নের হাইলজোর উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির বিদ্যুৎসাহী সদস্য নির্বাচিত হন কাজল মোল্লা। ২০১০ সালে ওই স্কুলের ছাত্র সাইফুল ইসলাম শাওন এসএসসির নির্বাচনী পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়। ফরম ফিলাপের সুযোগের জন্য কাজল মোল্লা শাওনের বাবা আরিফুর রহমান বাতেনের কাছে এক লাখ টাকা দাবি করেন। পরে দর কষাকষি করে কাজল মোল্লা ৯০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন।
- কাপাসিয়ায় গত উপনির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে কাজল মোল্লা প্রকাশ্যে তাঁর ক্যাডার তোফাজ্জল হোসেনকে নির্দেশ দেন মোতালেব মিয়ার দুই পা হাটুর নিচ থেকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার।
- নির্বাচনের পরের দিন কাজলের ভাই রায়েদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক হীরণ মোল্লার নেতৃত্বে ক্যাডাররা হামলা করে মোতালেব মিয়াসহ পাঁচজনকে আহত করে।
- কাপাসিয়ার উপনির্বাচনে সিমিন হোসেন রিমির সঙ্গে নির্বাচনী প্রচারণায় থাকতেন কাজল মোল্লা। চলাফেরা করতেন একই গাড়িতে। রিমির হয়ে নানা কাজকর্ম করতেন। এভাবে দ্রুত দলে প্রভাবশালী হয়ে উঠেন তিনি। রিমি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর তাঁর দাপট আরো বেড়ে যায়।
সমপ্রতি গৃহকর্মীকে ধর্ষণ ও নির্যাতনের পর খবর প্রকাশ পেলে বেরিয়ে আসতে থাকে কাজল মোল্লার নানা অপকীর্তি। কাজলের এসব অপকীর্তি ঢাকতে অপতৎপরতার পরাকাষ্ঠা দেখিয়েছেন তাঁর দোসর যুবলীগের ক্যাডার আসাদুজ্জামান আসাদ, উপজেলা যুব মহিলা লীগের আহ্বায়ক মহিলা মেম্বার কানিজ ফাতেমা রুহিতা, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক দীপক মজুমদার খোকন, সাবেক এমপি ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রার্থী মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ, ছাত্রলীগ নেতা আল আমিন শেখ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের ইব্রাহীমসহ সরকারি দলের অনেক কথিত নেতা।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে জানুয়ারি, ২০১৩ সকাল ১০:৪৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



