স্কুলের বাইরের দেয়ালের সাথে লাগোয়া একটি ভ্যান গাড়ি। পাঁচফিট বাই তিন ফিট আকারের গাড়িটাকে দুভাগে ভাগ করে রেখেছে একটি জ্বলন্ত উনুন আর বরফ ক্রাশার। উনুনে টগবগ করছে চটপটির মটর আর ক্রাশারে অনবরত চলছে বরফ গুঁড়া করা।
দুবছর আগেও এটি ছিল নিত্য দিনের দ্শ্য। এখন রাস্তার ওপারে পুরোদস্তুর দোকান নিয়েই চলছে এই কাজ।
৯২-৯৭ সালে আমাদের সময়ে চটপটি ছিল ২/৩ টাকার প্লেটে ফুসকা সহ। আরেকটু ভাল করে খেতে চাইলে পিয়ন মতিন ভাইয়ের থেকে একটাকা দিয়ে আলুর চপ কিনে চটপটির বাটিতে চালান করা হত।
তবে ইউনিক আইটেম ছিল হিমালয় গ্লাস আইসক্রীম। বরফ চূর্নের সাথে জাফরান রং মিশানো চিনির ঘন সিরার সাথে একটুকরো লেবু অথবা একচামচ কনডেন্সড মিল্ক। স্যারদের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র থেকে পনের মিনিটের বিরতীতে এটা যেন ছিল অমৃত। একটাকা আর দুটাকার গ্লাস। কনডেন্সড মিল্ক হলে দুটাকা। তপ্তরোদে (এখন অবাক হই রোদে কিভাবে ছেলেপেলে ফুটবল খেলে ) ঘামের জলে গোসল সেরে সোজা ভ্যান গাড়ির সামনে। সুযোগ পেলে বরফের বাক্সটার উপরে শরীর এলিয়ে দেয়া ।
আজও কানে বাজে মমিন ভাইয়ের গলা ...কি দিমু লেমু না দুধ !!! আগে একটা লেমু দেন। লেমু শেষে আবারও -এইবার দুধ দেন , বরফ বাড়াইয়া সিরা বেশী দেন। এই মমিন ভাই দুধ কম হইছে আরেকটু দেন। মমিন ভাই হাফ চামচ দুধ দিয়ে আরেকটা ঘুটা দিয়ে দেন।
কয়েকদিন আগে বাসার কাছে হওয়ায় জামিল জুয়েল সহ হাঁটতে হাঁটতে স্কুলে গেলাম অনেকদিন পর। ঘুরে এসে এবার মমিন ভাই এর দোকানে। এবার আর আলাদা নয় দুধ লেমু দুইটায় দাও। দুই গ্লাস খেলাম - সেই আগের স্বাদ - সেই প্রিয় দিন গুলোতে ফিরে যাওয়া।
পত্রিকার পাতায় মমিন ভাই :
মমিন ভাই (এই ছবিটি ব্লগার রোহানের সৌজন্যে) :
চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল। নিজ নামেই তার পরিচয় , নতুন করে পরিচয়ের কিছু নাই। অনেক কিছুর সাথেই এই স্কুলের ছাত্রদের মনে গেথে থাকা একটি নাম মমিন ভাই এর হিমালয় গ্লাস আইসক্রীম ।
মোবাইলে তোলা স্কুলের কিছু ছবি :

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



