( উৎসর্গ : বড় বিলাই আপু , বিড়াল প্রেম যার অন্তহীন )
বিড়াল দেখতে ভাল লাগলেও খুব বেশী প্রিয় হয়ে উঠেনি কখনও। আর এখনতো এটার জ্বালাতন চরম পর্যায়ে পৌঁছে গেছে , বলতে গেলে সহ্যহীমার বাইরে।
প্রথম বিড়ালের কাছাকাছি যাওয়া ছোট বেলায় নানুর বাড়ীতে। তারা আশে পাশে ঘুড়ে বেড়াত নিজের মত করে। যেহেতু পোষা ছিলনা তাই ওগুলো নিয়ে অত মাতামাতিও ছিলনা।
ক্লাশ থ্রী কি ফোরে পড়ি তখন, আম্মু বলল বাসায় ইঁদুরের যন্ত্রনা বেড়ে গেছে, লানি রেটে কাজ হচ্ছেনা। সমাধান দিল বাসার কাজের বুয়া। সে প্রস্তাব করে বসল একটা বিড়াল পালেন। দুদিনের মাথায় সে কোথা থেকে একটা বিড়াল ও যোগাড় করে নিয়ে আসল।
ধবধবে সাদা এক বিড়ালের বাচ্চা । দেখলেই মায়া লাগে। কিন্তু বেটা যখন হা করে তার দাঁত গুলা বেশ ভয়ংকর। সবাই ভাবলাম এইবার ইঁদুর টের পাবে বিড়াল কি জিনিস। শুরু হল তার যত্ন আত্তী। আনর সাথে সাথে তারে খাইতে দেয়া হইল.....আমি কাছে যাই, আবার ভয় ও পাই। বোনতো কাছেই যায়না।
এক দুইদিন গেল। তৃতীয় দিন সে আর আমাদের আতিথেয়তা গ্রহনে রাজী হলনা। সারারাত হেভী চিল্লাফাল্লা করল । ইঁদুর কি মারবে সে, উল্টা আমাদের ঘুমের দফারফা। একদিন সহ্য করা গেলেও দ্বিতীয়দিন আর এটা হজম করা গেলনা। সে ত পোস মানছেইনা উল্টা তার তরে নির্ঘুম রাত।
ইঁদুর ঢের ভাল , কাটাকাটি যায় করুক ঘুমেত আর ব্যাঘাত ঘটাইনা। সেই সাথে আমরা অমন কোন বিড়াল প্রেমী ওনা যে তারে তেল দিব রেগুলার। সোজা দোতালা থেকে খেদানো হল তাকে, নীচে নিয়ে রেখে আসা হল।
না সারাদিন খবর না থাকলেও রাতে ঠিকই দরজার সামনে এসে হাজির। ঘরে ঢুকতে দেয়া হলনা। আরেকরাত এই অত্যাচার কে সহ্য করবে। মাঝরাতে বেটা যথারিতি এবার দরজার সামনে চিল্লানো শুরু করল। সে রাত ও পার করতে হল।
পরদিন সকালে তাকে বাসায় ঢুকতে দেয়া হল। খানা খাদ্য দেয়া হল। মামাত টের পেলনা আমাদের মনের খবর। বুয়া আসার পর তারে বস্তা বন্দী করা হল । দেয়া হল নির্বাসন।
সে থেকে আমার জীবন মোটামুটি বিড়ালমুক্ত।
ভার্সিটি লাইফে একদিন বাজার থেকে মুরগী এনে কিচেনে রেখে চলে গেছি। রাতে খাইতে বসে দেখি আলুর ভর্তা। আমিত বিলা হইয়া গেলাম, ঘটনা কি । রুম মেট কইল দোস্ত তোমার মুরগী বিলাই এ খাইয়া ফেলছে অর্ধেক, বাকীটা বুয়া ফালাইয়া দিছে।
এরপর দেখি নতুন যন্ত্রনা। রুমে ঢুকুম, বিলাই লাফ দিয়া বিছানা থেকে পালাইতাছে। ময়লা কাপড় রাখছি সেখানে ঘুমাইতাছে। কিচেন থেকে মাছ গায়েব, আরও কত কি।
শেষ ধামাকা দিল- একটা কার্টনে আমার কিছু বই রাখছিলাম, রুম মেট আবার তার উপর ওর রেইনকোট টাও রাখছে। কয়েকদিন পর দেখি কেমন একটা বোটকা গন্ধ। হারমজাদা বিলাই ঐখানে বাচ্চা দিছে। মেজাজ আর ঠিক রাখি কেমনে। আমার বই , রুম মেটের রেইন কোট সব ডাস্টবিনে ঠিকানা খুজে নিল।
ভার্সিটি লাইফ শেষ , ভাবলাম বাঁচা গেল। তাও হলনা। কপাল খারাপ গ্রাউন্ড ফ্লোর ছাড়া আমার বাসা জুটেনা। পিসিতে কাজ করতেছি, দেখি ধুম করে একটা বিড়াল দৌড় দেয়। ময়লার বক্স উল্টায়া রাইখা যায় ....আরও কত কি ।
গত শুক্রবারে হঠাৎ ঘুম ভেঙ্গে গেল কিউ মিউ শব্দে। ঘটনা বুঝলামনা। পরে আবিষ্কার করলাম হারামযাদা কোথায় বাচ্চা দিছে কে জানে, এখন আইনা রাখছে আমার খাটের তলায়। মাথা পুরা বিলা হইয়া গেল। বুয়া আইসা এগুলি বাইরে রেখে এল। প্রতিশোধ নিতে গিয়ে সে এখন আরও বেশী পেইন দেয়া শুরু করছে। ময়লা কাপড় এদিক ওদিক করে রাইখা যায়, ডাস্টবিন পুরা উল্টায়া দেয়, পাতিল ফেলে দেয়।
কি আর করা সব জানালা বন্ধ করে এখন ঘুমায়, যে কাজটা আমার সব থেকে পেইন লাগে।
কেমন সাহস বেটার চিন্তা করেন, আমি জানালায় আর সে ছবি তোলার পোজ দিতাছে দেয়ালে বসে:

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


