somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সম্ভব হলে সব বিড়ালকে দেব নির্বাসন :):)

২৩ শে নভেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


( উৎসর্গ : বড় বিলাই আপু , বিড়াল প্রেম যার অন্তহীন )

বিড়াল দেখতে ভাল লাগলেও খুব বেশী প্রিয় হয়ে উঠেনি কখনও। আর এখনতো এটার জ্বালাতন চরম পর্যায়ে পৌঁছে গেছে , বলতে গেলে সহ্যহীমার বাইরে।

প্রথম বিড়ালের কাছাকাছি যাওয়া ছোট বেলায় নানুর বাড়ীতে। তারা আশে পাশে ঘুড়ে বেড়াত নিজের মত করে। যেহেতু পোষা ছিলনা তাই ওগুলো নিয়ে অত মাতামাতিও ছিলনা।

ক্লাশ থ্রী কি ফোরে পড়ি তখন, আম্মু বলল বাসায় ইঁদুরের যন্ত্রনা বেড়ে গেছে, লানি রেটে কাজ হচ্ছেনা। সমাধান দিল বাসার কাজের বুয়া। সে প্রস্তাব করে বসল একটা বিড়াল পালেন। দুদিনের মাথায় সে কোথা থেকে একটা বিড়াল ও যোগাড় করে নিয়ে আসল।

ধবধবে সাদা এক বিড়ালের বাচ্চা । দেখলেই মায়া লাগে। কিন্তু বেটা যখন হা করে তার দাঁত গুলা বেশ ভয়ংকর। সবাই ভাবলাম এইবার ইঁদুর টের পাবে বিড়াল কি জিনিস। শুরু হল তার যত্ন আত্তী। আনর সাথে সাথে তারে খাইতে দেয়া হইল.....আমি কাছে যাই, আবার ভয় ও পাই। বোনতো কাছেই যায়না।

এক দুইদিন গেল। তৃতীয় দিন সে আর আমাদের আতিথেয়তা গ্রহনে রাজী হলনা। সারারাত হেভী চিল্লাফাল্লা করল । ইঁদুর কি মারবে সে, উল্টা আমাদের ঘুমের দফারফা। একদিন সহ্য করা গেলেও দ্বিতীয়দিন আর এটা হজম করা গেলনা। সে ত পোস মানছেইনা উল্টা তার তরে নির্ঘুম রাত।

ইঁদুর ঢের ভাল , কাটাকাটি যায় করুক ঘুমেত আর ব্যাঘাত ঘটাইনা। সেই সাথে আমরা অমন কোন বিড়াল প্রেমী ওনা যে তারে তেল দিব রেগুলার। সোজা দোতালা থেকে খেদানো হল তাকে, নীচে নিয়ে রেখে আসা হল।

না সারাদিন খবর না থাকলেও রাতে ঠিকই দরজার সামনে এসে হাজির। ঘরে ঢুকতে দেয়া হলনা। আরেকরাত এই অত্যাচার কে সহ্য করবে। মাঝরাতে বেটা যথারিতি এবার দরজার সামনে চিল্লানো শুরু করল। সে রাত ও পার করতে হল।

পরদিন সকালে তাকে বাসায় ঢুকতে দেয়া হল। খানা খাদ্য দেয়া হল। মামাত টের পেলনা আমাদের মনের খবর। বুয়া আসার পর তারে বস্তা বন্দী করা হল । দেয়া হল নির্বাসন।

সে থেকে আমার জীবন মোটামুটি বিড়ালমুক্ত।

ভার্সিটি লাইফে একদিন বাজার থেকে মুরগী এনে কিচেনে রেখে চলে গেছি। রাতে খাইতে বসে দেখি আলুর ভর্তা। আমিত বিলা হইয়া গেলাম, ঘটনা কি । রুম মেট কইল দোস্ত তোমার মুরগী বিলাই এ খাইয়া ফেলছে অর্ধেক, বাকীটা বুয়া ফালাইয়া দিছে। X(X( বাকরুদ্ধ আমি। আবার বিলাই।

এরপর দেখি নতুন যন্ত্রনা। রুমে ঢুকুম, বিলাই লাফ দিয়া বিছানা থেকে পালাইতাছে। ময়লা কাপড় রাখছি সেখানে ঘুমাইতাছে। কিচেন থেকে মাছ গায়েব, আরও কত কি।

শেষ ধামাকা দিল- একটা কার্টনে আমার কিছু বই রাখছিলাম, রুম মেট আবার তার উপর ওর রেইনকোট টাও রাখছে। কয়েকদিন পর দেখি কেমন একটা বোটকা গন্ধ। হারমজাদা বিলাই ঐখানে বাচ্চা দিছে। মেজাজ আর ঠিক রাখি কেমনে। আমার বই , রুম মেটের রেইন কোট সব ডাস্টবিনে ঠিকানা খুজে নিল।

ভার্সিটি লাইফ শেষ , ভাবলাম বাঁচা গেল। তাও হলনা। কপাল খারাপ গ্রাউন্ড ফ্লোর ছাড়া আমার বাসা জুটেনা। পিসিতে কাজ করতেছি, দেখি ধুম করে একটা বিড়াল দৌড় দেয়। ময়লার বক্স উল্টায়া রাইখা যায় ....আরও কত কি ।

গত শুক্রবারে হঠাৎ ঘুম ভেঙ্গে গেল কিউ মিউ শব্দে। ঘটনা বুঝলামনা। পরে আবিষ্কার করলাম হারামযাদা কোথায় বাচ্চা দিছে কে জানে, এখন আইনা রাখছে আমার খাটের তলায়। মাথা পুরা বিলা হইয়া গেল। বুয়া আইসা এগুলি বাইরে রেখে এল। প্রতিশোধ নিতে গিয়ে সে এখন আরও বেশী পেইন দেয়া শুরু করছে। ময়লা কাপড় এদিক ওদিক করে রাইখা যায়, ডাস্টবিন পুরা উল্টায়া দেয়, পাতিল ফেলে দেয়।

কি আর করা সব জানালা বন্ধ করে এখন ঘুমায়, যে কাজটা আমার সব থেকে পেইন লাগে।

কেমন সাহস বেটার চিন্তা করেন, আমি জানালায় আর সে ছবি তোলার পোজ দিতাছে দেয়ালে বসে:



২২টি মন্তব্য ২২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×