somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কনে দেখা !!!

২৮ শে মার্চ, ২০১০ দুপুর ২:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


কনে দেখা !!! ব্যাপারটা কেমন কেমন জানি লাগে আমার কাছে সবসময়। অপরিচিত একজনের সাথে দেখা করতে যাচ্ছি দলবল সহ বিয়ে করার উদ্দেশ্যে। ব্যাপারটা যে কারও জন্যই বিব্রতকর। তবুও কি আর করা , সবার কপালেত আর ইটিস পিটিস করে বিয়ে করার সৌভাগ্য হয়না। তবে আমার মতে ব্যাপারটাকে যতটা সিম্পল রাখা যায় ততই ভাল, শুধু ছেলে আর মেয়ের মাঝেই সেটা সীমাবদ্ধ থাকা উচিত ।

যায় হউক ব্লগীয় বন্ধুরা বিশেষ করে নাতি গোস্ঠী ( রোহান, রাকু,পাথুরে, তায়েফ, তুষার কনা, কাব্য ) হয়ত নড়েচড়ে বসে গেছে নানারে ধরার জন্য । :):)
কিন্তু ঘটনা আমার না । এই সৌভাগ্য অথবা দূর্ভাগ্যে আমারে এখনও পড়তে হয় নাই ।

ঘটনা আমার বন্ধু কাম কলিগ সোহাগ ভাই এর। তার অনুমতি নিয়েই লিখছি......

সোহাগ ভাই মোটামুটি ব্যস্ত মানুষ ।একদিন লাঞ্চে জানতে চাইলাম কি মিয়া বিয়া শাদী করেন না কেন ? হাসি দিয়া বললেন কইরা ফেলব, একটু সবুর করেন। বললেন আজ এক মেয়ের সাথে সাক্ষ্যাৎ আছে। আমি আগ্রহ নিয়া বললাম ভাই আমারে নিয়া চলেন সাথে, অভিজ্ঞতা দরকার আছে। কয় মাথা খারাপ :(:(

ঘটনা বিস্তারিত জানার জন্য ওয়েট করছি, পরদিন দেখা হতেই জানতে চাইলাম। বেচারা নির্মোহ ভঙ্গীতে জানালেন নারে মতের মিল হইলোনা, বাট বাকী সব ঠিক ছিল । বিস্তারিত আর বললেন না। আমিও চাপ দিলামনা ।

এর কয়েকদিন পর সবাই টং দোকানে বসে আড্ডা দিচ্ছি, সোহাগ ভাইরে ধরা হল বিস্তারিত বলার জন্য। তিনি বাধ্য হলেন অতি উৎসাহী লোকজনের দাবী পূরনের, আফটার অল আড্ডা বাজদের সবারই গতি পথ সোহাগ ভাইয়ের মতই, সো কিছু অভিজ্ঞতা মন্দ নয়।

কনে ডাক্তার । দেখে শুনে সোহাগ ভাই এর পছন্দ হইল । কথায় কথায় মেয়ে জানাল তাকে রাতে ডিউটি করতে হয়। সোহাগ ভাই জানাল আমারও মাঝে মাঝে রাতে অফিসে যেতে হয়, সো এটা কোন ব্যাপার না। মেয়ে বলল সামনে প্রচুর পড়ালেখা করতে হবে , সামনে আমার এফ সিপি এস পার্ট ওয়ান পরীক্ষা । ভাই জানাল এটা কোন ব্যাপারনা, ক্যারিয়ারের প্রয়োজনে তাত করতেই হবে । আরও অনেক কথায় চলল , সোহাগ ভাইর কোন কিছুতেই না নেই । এই পর্যায়ে মেয়ে মনে হয় একটু টাসকি খাইল, বলে কি, যাই বলি তার কোনটাতেই না নাই, সবই ই হ্যাঁ।

সোহাগ ভাইর কথা হচ্ছে পছন্দ যেহেতু হইছে সো সব কিছুতেই হ্যাঁ , মেয়ে দেইখা বেড়ানো কোন ভাল কথা না, আর বিয়ে করে ফেললে এক সাথে থাকা শুরু করলে ভাল না লাইগা , ভাল না বাইসা যাইব কই । আমরাও বললাম ঠিক ঠিক, কথা সত্য। সোহাগ ভাই বলে চলেন - মেয়ে মনে হয় আমার মনের কথা বুঝে ফেলছিল। তখনই ফাটাইল বোম। বলল আমি আসলেই একই প্রফেসনের হওয়াটাকেই প্রেফার করি , সেটাই ভাল হবে। আজকে আমি এসেছি বাবা মায়ের চাপে পরে ।

আমরা একগাদা আফসোস বানী বর্ষন করে ক্ষান্ত দিব এমন সময় মজার বোমটা ফাটাল কিছুক্ষন আগে আড্ডায় যোগ দেয়া সোহাগ ভাইর মামাত ভাই।

সে বলে চলে , ধুর মেয়ের সাথে মতের মিল হয় নাই , এইটা কোন ইস্যুই না। আসল মজা হইছেত বিল দেয়া নিয়া। সোহাগ ভাইর সাথে গিয়েছিল আমাদের সাথেই জব করা তার চাচাত বোন, সিনিয়র আপু। মেয়ের সাথে এসেছিল তার কোন এক আত্মীয়। তারা দুজন অন্য টেবিলে বসে কথা বলছিল। সোহাগ ভাইর চেহারা দেখে আপু বুঝে নিয়েছিলেন ঘটনা কি হতে চলেছে। তো শেষে তিনি বিল দিতে কাউন্টারে গেলেন , সাথে গেলেন কনের সেই আত্মীয় ও। কে বিল দিবেন, তাতে আপু জয়ী হয়ে বিল দিতে যাবেন এমন সময় ঐ ভদ্র মহিলা বলে বসেন , শেয়ার করেই বিল দেয়া যাক। ভবিষ্যত কিছুই নেই দেখে আপুও তার কথায় সহাস্যে রাজী হয়ে গেলন ;)

এরপর শুরু হল আমাদের রম্য। আরে ভাই তোমারত কোন লস ই হইলনা। বিল দিয়া দিল আপু, আপুরও লস হয়নাই, তিনি শুধু তোমাদের দুইজনের বিল দিছেন , ওদের বিল ওরা দিছে।

লাভ লসের হিসাবে সোহাগ ভাই ক্ষেপে গেলেন ...........
তাকে আরও ক্ষ্যাপাতে আমরা সর্বসম্মতিতে বিল পাস করলাম, এটাই সিস্টেম হওয়া উচিৎ, যারযার বিল সে দিবে...জীবন মানেই শেয়ার, সো প্রথম দিন থেকেই তা হওয়া উচিত......এমনই আরও নানা কথা, সংসদীয় অধিবেশন পুরা শেষ হওয়ার আগেই সোহাগ ভাই ওয়াক আউট করলেন, আর বলে গেলেন এরপর বিয়ের দাওয়াত দেয়ার আগ পর্যন্ত তোদেরকে কোন ঘটনাই জানানো হবেনা। :(:(

পরবর্তী ঘটনা আমাদের এক বন্ধু কাম ব্লগার এর। আরেক বন্ধুর গায়ে হলুদে এক তন্বী তরুণীকে তার পছন্দ হয়ে গেল। আমরা ব্যাপক উৎসাহে বলতে লাগলাম একটা বিয়ে আসলে আরও অনেক বিয়ের ফুল ফুটিয়ে দেয় , সো তুই আজকে একটু ফিল্ডিং কর, বিয়ের দিন ইনিংস ডিক্লেয়ার করা হবে। বন্ধুর ইনস্যুইং আউটস্যুইং গুলো কন্যা ব্যাপক দক্ষতার সাথে মোকাবিলা করে চলল। মাঝে মাঝে ডাউন দা উইকেটে এসে সে বোলারকে প্রলুব্ধ করার কাজেও বেশ পারঙ্গম মনে হল । বাকী ফিল্ডাররা বলারকে উৎসাহ দিয়ে চলেছে । একবারতো কট এন্ড বোল্ড করার সুযোগ পেয়েও সে মিস করে ফেলল, ফলোথ্রুতে হাত পা ভাঙ্গার ভয় পাওয়ার কারনে। প্রথম ইনিংসে ব্যাটসম্যানই এগিয়ে থেকে ইনিংস ডিক্লেয়ার করল ক্যাপ্টেন (মা) প্যাভিলিয়নে ফেরৎ যেতে বলায় ।

বিয়ের দিন আমরা ব্যাটিং এ নামলাম। ক্যাপ্টেনের ছত্রছায়ার ব্যাপক রক্ষনাত্মক ফিল্ডিং সাজানো হলেও ফিল্ডারের মাঝে মাঝে লংঅনে দুর্বলতা দেখা গেল। সে অনুযায়ীই ব্যাটিং চলল। আর মাত্র দুটো সেশন বাকী । ফলাফল নিয়ে সবাই উদ্বিগ্ন ।এমন সময় কোচ (আরেক বন্ধুর বউ) আমাদের কাছে এলেন। পরবর্তী আরও দুয়েকটি ম্যাচ আয়োজন করতে চান জানালেন। পর্তিপক্ষ একজনকে নিয়েও আসলেন। ইনজুরি থাকায় (গলায় ব্যাথা) সে ঠিকমত কথা বলতে না পেরে পরে কথা হবে বলে জানিয়ে চলে গেল।

একজনত ভাবীকে বলে বসল, নাম্বারটা দিয়ে যেতে বলেন, ইনজুরি সারল কিনা আমরা খবর নিব B-)B-)

চলতি ম্যাচে কি করা যায় এই নিয়ে আমরা কোচের সাথে বসলাম । কোচ ফলাফল যে কোন মূল্যে ড্র এর দিকে নিয়ে যেতে চান , তিনি সরাসরি প্রতিপক্ষের ক্যাপ্টেনের কাছে প্রস্তাব রাখার ব্যাপারে উৎসাহ দেখালেন। ক্রীজে থাকা ব্যাটসম্যান যদিও নানা রকম কাভার ড্রাইভ চালিয়ে যাচ্ছিলেন কিন্তু কড়া ফিল্ডিং সাজানোর কারনে তেমন সুযোগ পাচ্ছিলেননা। আমাদের নানারকম উৎসাহ আর ভৎসনা বানীও ব্যাটস ম্যানকে ডাউন দা উইকেটে খেলতে সাহস যোগালোনা।

শেষ সেশনের শেষ দিকে কোচই এগিয়ে গেলেন সোজা ক্যাপ্টেনের কাছে। প্যাভিলিয়নে উৎসুক আমরা। পাশে বসে কোচ কথা শুরু করলেন, একি ক্যাপ্টেন দেখি শুধু হাসতেছেন, আর আমাদের ব্যাটসম্যান তখন লংঅনে দাঁড়ানো ফিল্ডারের হাতে কিভাবে ক্যাচ তুলে দেয়া যায় সে ভাবনা ভাবছেন।

আমাদের অধীর আগ্রহে অপেক্ষা , হতাশ কোচ এগিয়ে আসলেন .........

আলোক স্বপ্লতায় ম্যাচ পরিত্যক্ত ঘোষনা করা হল।

( কন্যা সবে মাত্র এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছেন । :-*:-*:(( )
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে মার্চ, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:৪৮
৫৯টি মন্তব্য ৫৮টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×