somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

স্মৃতি গুলোই শেষ পর্যন্ত আসলে সম্বল হয়ে থেকে যায়।

১৩ ই মে, ২০১০ রাত ১২:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


স্মৃতি গুলোই শেষ পর্যন্ত আসলে সম্বল হয়ে থেকে যায়। সেই কক্সবাজার থেকে শুরু পথ চলা। বাসের হইচই শেষে কাজের ফাঁকে ফাঁকে দল বেঁধে আড্ডা । ইউনিটের সবাই, আয়োজকরা আর দশ প্রতিযোগী । সবাই জানে এক একটা রাউন্ড শেষে চলে যেতে হবে এক এক করে, তবুও আড্ডায় কোন ক্লান্তি নেই, নেই কোন জড়তা ।


আড়ালে যে সবাই প্রতিযোগী সেটা খুব একটা বোঝা যায়না।লুমিক্স ক্লিক টু ফেইমের দশ প্রতিযোগীকে নিয়ে লেখায় আশংকা প্রকাশ করেছিলাম সুন্দরবন ট্যুরে আমার খবর আছে , মাইর টাইর খেয়ে যেতে পারি। সুন্দরবন পর্যন্ত যাওয়া লাগেনি , চ্যানেল আই এর অফিসে ঢুকে সবার সামনে পরার সাথে সাথে প্রতিযোগী তানিয়া আপু শুরুতেই আমাকে একটা দৌড়ানি দিলেন, ঘুম নাকি কেমন দামী সেটা তিনি দেখে নিবেন। যাত্রা পথে বাসে আমার পেছনের সিটে বসলেন , আর কিছুক্ষন পরপর আমাকে উদ্দেশ্য করে নানা কথা ছুড়ে দিলেন- নির্ঘুম একটা রাত বাসে সবাই মিলে হইহল্লা করে কাটিয়ে দিলাম।

লঞ্চে উঠার পর শুরু হল গোল হয়ে বসে আড্ডা দেয়া, সাথে নানা খাবার দাবার। আর ছবি তোলার ফাঁকে ফাঁকে অবসরে একবার এক কেবিনে জমে বসত আড্ডা। দেখে বোঝার উপাই নেই এরা সবাই কমপিট করছে একে অন্যের সাথে । আসলেই কি তাই ???




না মনে হয় তা না । ছেলেদের মাঝে প্রকাশ ভঙ্গীতে এটা ধরা কস্টকর হলেও মেয়েরা মনে হয় তাদের এই মানসিকতাটা খুব বেশী লুকিয়ে রাখতে পারেনা। যেটা বের হয়ে আসল সিলেট ট্যুর এ।

সুন্দরবনে সবাই যখন ছবি তোলায় ব্যস্ত তখনও কিন্তু যেকোন দুজন মাথায় খড়গ নিয়ে ঘুরছিল বাদ পড়ে যাবার । যে চারজন রেড জোনে ছিল তাদের কেউ কেউ বলছিল বাদ পড়ে গেলেই বাঁচি । জানিনা তারা এটা মন থেকে বলছিল কিনা, নাকি এমনি বলার জন্য বলা। যায় হউক ব্যাপারটা আমার পছন্দ হয়নি, একজন প্রতিযোগীর দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলেও নিজের ব্যাপারে কনফিডেন্স থাকা উচিৎ আর প্রত্যাশায় থাকা উচিৎ সাফল্যের চিন্তা, অমন হেলা ফেলাই যদি থাকে মনে তাহলে পার্টিসিপেট করার দরকার কি ?

ফটোগ্রাফীকে ধারন করার যে বিষয়টি আছে অনেকের মাঝে দেখলাম এটা অনুপস্হিত। একটা প্রতিযোগীতায় অংশ গ্রহনের পরও এটা সবার মাঝে খুব একটা ডেভেলাপ করেনি । এই জিনিসটা আমাকে বেশ হতাশ করেছে।

একজনকে দেখলাম নৌকায় বসে পানির সমান্তরালে বসে ছবি তুলতে গিয়ে ক্যামেরার পুরো লেন্সটি পানিতে ডুবিয়েই ফেলল। খুব একটা আফসোস করতেও দেখলামনা। অথচ একজন ফটোগ্রাফারের কাছে ক্যামেরা তার সন্তানতুল্য। নিজে পানিতে ডুবে গেলেও আমি শিউর সে শেষ পর্যন্ত চেস্টা করবে যাতে তার ক্যামেরাটি পানিতে না ডুবে। এটাও হতে পারে নিজের ক্যামেরা না বলে অত সতর্ক হবার প্রয়োজন বোধ করেনি !!! এমন আচরন একজন ফটোগ্রাফারের কাছে কাম্য হতে পারেনা। সেরা ফটোগ্রাফার হতে হলে আচার আচরনেও সেরা হতে হবে।

ক্রিয়েটিভ আর্ট এ দর্শক এসএম এস যে কত নেগেটিভ ফল নিয়ে আসতে পারে তার উদাহরন হল প্রতিযোগী মুনির। সুন্দরবন ট্যুরের উপর বিচারকদের জার্জমেন্টে সে ত্রিশে উনত্রিশ পেলেও শুধু মাত্র কম এসএমএস পাওয়ায় বাদ পড়ে গেল, এটা ভীষন দুঃখজনক। এ ধরনের প্রতিযোগীতায় মেধার মূল্যায়নটা আরও সঠিক ভাবে করার উপায় উদ্ভাবন জরুরী । শুরু থেকেই তেমন একটা মনোযোগী ছিলনা মাইনুর, তার বাদ পড়াতে তাই তেমন বিস্ময় ছিলনা ।

তিন জনকে রেড জোনে নিয়ে যাত্রা শুরু করি আমরা সিলেটের দিকে। অসুস্হতার জন্য নিজেকে প্রত্যাহার করে নিল তানিয়া । পুরো বাস জার্নিতে সবাই আসলেই টাকে অনেক মিস করল, হইহল্লা করে দারুন জমিয়ে রাখত সবাইকে ।

মেয়ে প্রতিযোগীরা আসলে ছেলেদের মত অত ওদার হতে পারেনা । ছেলেরা একে অন্যের সাথে আইডিয়া শেয়ার করে, নিজের ছবি তোলা দেখায়, ভুল নিয়ে আলোচনা করে। অথচ আমরা যখন লাওয়াছড়া যাব তখন তাদের একজন অন্যজনের সাথে একই গাড়ীতে উঠতে আপত্তি জানিয়ে বসল।

এ ধরনের ব্যাপার দেখলে আমার মাথাটা অল্পতেই গরম হয়ে যায়। জানতে চাইলাম কি সমস্যা। জানলাম অন্যজন তার তোলা ছবি দেখে ফেলবে, তার মত একই সাবজেক্টে ছবি তুলবে, তাই তারা এক সাথে থাকবেননা। অবাক হতে গিয়েও পারলাম না, মেজাজ টাই খারাপ হয়ে গেল। এত সংকীর্ন হলে চলে। একই বস্তুর ছবি আমি শিউর দশ জনকে দিলে কম্পোজিশন দশ রকম হবে, কারো দেখার চোখ কখনো অন্যের মত হতে পারেনা, এটা কে বোঝাবে তাদের।

যায় হউক এ ধরনের ছোট ছোট ব্যাপারগুলো ইগনোর করলে চমৎকার একটা টীম হয়ে উঠেছে সবাই । অবসরের আড্ডাগুলো পুরো টীমের সবাই মিলে আমরা ব্যাপক উপভোগ করছি.......

একদিন প্রতিযোগীতা শেষ হয়ে যাবে, শুধু রয়ে যাবে সম্পর্কগুলো, স্মৃতিগুলো....................

সেরা ছবিটি কি তুলেই ফেলল ;)


পরিচালক মিঠু ভাইও নিজেকে নিয়ে গেলেন উচ্ছল শৈশবে:


ইস আরেকটু যদি ভাল হত


কম্পোজিশনটা অমন হলে মনে হয় বেশী ভাল হবে


আড্ডা আর বিলিয়ার্ড খেলায় অবসর সময়...
২৯টি মন্তব্য ২৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×