somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একদিনে রংপুর..........

১০ ই নভেম্বর, ২০১০ দুপুর ২:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


গাড়ীতে আমরা চারজন। সুনসান নীরব রাস্তা দিয়ে ছুটে চলেছি। পুরো রাস্তায় অদ্ভুত একটা প্রশান্তি ছড়িয়ে আছে। হঠাৎ করে ডানে মোড় নিয়ে গাছপালা শোভিত একটা গেট দিয়ে আমরা ভেতরে ঢুকে গেলাম। অন্যরকম এক যাত্রা শুরু হল। হাজারো গাছে ভরপুর চারপাশ। নুয়ে যেন কূর্নিশ করছে তারা। সারি সারি গাছের মাঝ দিয়ে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি, ঠিক সরাসরি সূর্যের আলো প্রবেশ না করলেনা আলোকিত চারপাশ। আগে দেখা কোন জায়গার সাথে মিল খুজে পাচ্ছিনা, অবাক হয়ে চারপাশ দেখছি মুগ্ধ চোখে। আমরা এগিয়ে চলি হাতছানি দিয়ে ডাকা প্রশান্তির মধ্য দিয়ে । একটা মোড় পেরিয়ে দেখা পেয়ে যায় সাগর সৈকতের। ছোট কিছু বাচ্চা বালিয়াড়িতে স্বপ্নের আঁকিবুঁকি করছে। সেখান থেকে আমরা আবার প্রশান্ত সবুজে প্ড়বেশ করি। কিছু মানুষজন দেখা যায়, এদিক ওদিক হেঁটে বেড়াচ্ছে সুখী সুখী ভাব সবার চোখে মুখে। গাড়ী সামনে এগিয়ে যাচ্ছে , এমন সময় ঘুমটা ভেঙ্গে গেল পাশের সিটে বসা বন্ধু জামিল এর ডাকে , যাত্রা বিরতি সিরাজগঞ্জের ফুডভিলেজে........



আমি, জামিল, দিদার আর তৌহিদ ছুটে চলেছি রংপুর অভিমুখে। রংপুর যাওয়া নিয়ে অনেকের প্রশ্ন কি আছে ঐখানে, কোন মানে নেই রংপুর যাবার। আমার কথা হল ৫০ এর অধিক জেলা ঘুরে ফেললাম আর রংপুর গেলামনা, ব্যাপারটা কেমন কেমন হয়ে গেলনা। আর না গেলে জানব কেমনে কি আছে। ইন্সট্যান্ট ডিসিশানে এই যাত্রা।

এ্যানথ্রাক্স এর শহরে মধ্যরাত্রিতে ভরপেট গরুর মাংস আর পরোটা খেয়ে আবার ঘুমিয়ে পরলাম। না অমন সুন্দর স্বপ্নটা আর ফিরে আসেনি, আমার দেখা সেরা স্বপ্নও বটে, যেটা আসলেই স্বপ্নের মতন !!!!

ভোর ছয়টায় রংপুর নেমে পড়লাম আরেক বিপদে। বাসে আমার সিটের পাশে একটা মোবাইল পরে থাকায় তুলে নিলাম হাতে। কেন যেন মনে হয়েছিল ওটা দিদারের। ওরটা ওর পকেটে থাকায় শুরু হল নতুন ভোগান্তি, এর মালিককে কই খুজে পাই, শুরু হল অপেক্ষার পালা, কখন মালিকের খেয়াল পরে।অবশেষে প্রায় আধাঘন্টা পর মালিকের খোজ পাওয়া গেলে, ফোনটা বাস কাউন্টারে রেখে আমরা দুটো রিক্সা নিয়ে বেড়িয়ে পড়লাম। চালককে বলে দিলাম ঘুরিয়ে দেখান রংপুর। পুরো শহরই মোটামুটি ঘুরে আমরা চলে গেলাম কার মাইকেল কলেজে, বিশাল ক্যাম্পাস।



গাছপালা ভরপুর মনোরম পরিবেশে সুন্দর ভোরটা কেটে গেল। রংপুর নেমেই টের পেয়েছিলাম শীতকালে এখানে কেমন ঠান্ডা পরে, কারন এ সময়েই ভোরে বেশ ভাল ঠান্ডা পরছিল।



প্রাতঃরাশ শেষে আমাদের গন্তব্য তাজহাট জমিদার বাড়ী । যেটা নব্বই এর দশকে হাইকোর্টের একটা বেঞ্চ হিসেবে কিছুদিন ব্যবহার হবার পর জাদুঘরে রুপান্তর করা হয়। ২৪টি কামরা সম্বলিত মার্বেল পাথরের ফ্লোরের এই বাড়ী। সংলগ্ন পুকুরগুলো ভর্তি আমাদের জাতীয়ফুল শাপলায়। পাশে অনেক গাছগাছালির বিশাল কালেকশন।







সেখান থেকে আমাদের যাত্রা বাঙ্গালী নারীর মুক্তির অগ্রদুত বেগম রোকেয়া শাখাওয়াৎ এর স্মৃতি বিজরীত পায়রাবন্দে । বেগম রোকেয়ার ভিটেমাটি ধ্বংস হয়ে গেছে অনেক আগেই। সেখানে তৈরি হয়েছে বেগম রোকেয়া স্মৃতিকমপ্লেক্স, যেখানে বেকেএমই বিনামূল্যে পোশাকশিল্প শ্রমিকদের প্রশিক্ষন দিয়ে কর্মসংস্হানের ব্যবস্হা করে দেয়।





রংপুরের ভিন্নজগতের কথা শুনেছি অনেকবার, যাবার ইচ্ছাও ছিল। ব্যাটারি চালিত যানে করে আমরা হাজির হই ভিন্নজগতে। বিশাল জায়গা নিয়ে ব্যক্তি উদ্যেগে তৈরি এই এ্যামিউজমেন্ট পার্ক। সারাদিন কাটানোর মতই একটা জায়গা। ভালো লাগবে গাছপালা শোভিত এই এলাকাটা, এখানেই দেখলাম "মুক্ত বিহঙ্গ" , স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মরনে নির্মিত ভাস্কর্য, যেটা এই বিষয়ে নির্মিতগুলোর মাঝে সেরা মনে হল আমার ।







যাবার সময় এক বন্ধু বলে দিল রংপুর চিড়িয়াখানাটাও নাকি অনেক সুন্দর। হাতে যেহেতু সময় আছে...........তাই ওদিকটাও এক চক্কর দিয়ে আসলাম !!!









বানরের খাঁচার সামনেই জগতের সকল আনন্দ......



রাতে আবার ঢাকার পথে। স্বপ্নে দেখা সে প্রশান্ত বাগানে না ঘুরলেও একদিন চমৎকার ভাবে কাটানোর জন্য ঘুরে আসতে পারেন রংপুর। আর সবচেয়ে বড় কথা হল প্রিয় বন্ধুরা সাথে থাকলে আসলে যেকোন জায়গায় ঘুরে আসা যায়- বন্ধুতা আর ভাললাগা যে আসলে সমার্থক !!!




৬৮টি মন্তব্য ৬৮টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×