somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গ্লোবালাইজেশনের যুগে আমরা মনে হয় একটু বেশীই বিশ্ব নাগরিক হয়ে উঠছি ....

১৪ ই জানুয়ারি, ২০১১ বিকাল ৩:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমার খুব জানতে ইচ্ছা করছে (কারন আমি জানিনা) ভারতের কয়টা বিশ্ববিদ্যালয়/ ভাষা ইনস্টিটিউটে ২১শে ফেব্রুয়ারি উদযাপন করা হয়, বাংলা ভাষা নিয়ে আলোচনা করা হয়। কাউকে সন্মান দেখাতে আমার আপত্তি নাই, আমি বরং বেশীই দেখাব -কিন্তু আমাকে কতটুকু দেখানো হচ্ছে সেটাও গুরুত্বপূর্ণ। চাইলেই ব্যাপারটা ইগনোর করা যায়, কিন্তু এভাবে আমরা এত বেশী নিশ্বনাগরিক হয়ে উঠছি যে, এক সময় নিজের বলে আর কিছু নাও থাকতে পারে । চরম আশাবাদী মানুষ আমি, তার মানে এই না যে- আমি হতাশ হতে পারবোনা আমাদের অতিরিক্ত উন্মাষিকতায় !!!

আমি অস্বীকার করবোনা আমি হিন্দী গান শুনি, হিন্দী মুভী দেখি । কিন্তু তার মানে এই না যে - আমি আমার ভাষাকে ভুলে গেছি, আমার গানকে অবজ্ঞা করি - বাংলা আমার প্রানের ভাষা, বাংলাদেশ আমার পরিচয় , বাংলাদেশী হিসেবে আমি গর্বিত - বিশ্বের যে কোন প্রান্তে আমি মাথা উঁচু করে বলার সাহস রাখি আমার দেশের কথা ।

যেকোন বন্ধু রাস্ট্রকে যথাযথ সন্মান দেয়ার মত শিক্ষা আমার আছে, তেমনি আমি কেউ আমাকে অপমান করলেও তার জবাব দেয়ার আশা রাখি ।

আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামে ভারতের অবদান যেমন আছে, তেমনি স্বাধীন বাংলাকে পদাবনত করার জন্য যত আয়োজন দরকার তা করতেও তাদের কোন কমতি নেই । এটা আমি মেনে নিতে পারিনা !!!

ভাষা ইনস্টিটিউটে বিশ্ব হিন্দী দিবস নিয়ে আলোচনা হতেই পারে, এটা স্বাভাবিক - কিন্তু সেই সাথে এটাও মাথায় রাখা উচিৎ আমাদের ভাষাকে- আমাদেরকে তারা কতটুকু সন্মান দিচ্ছে- আদৌ দিচ্ছে কিনা । না দিলে কেন দিচ্ছেনা সেটাও আমাদের ভেবে দেখা উচিৎ, আমাদের দুর্বলতা কোথায় ।

অন্যের প্রশংসা করতে গিয়ে নিজেকে বিকিয়ে দেয়া কোন সুস্হ মাথার কাজ হতে পারেনা । ঢাবিতে বিশ্ব হিন্দী দিবস এর আলোচনায় উপাচার্য বললেন- "বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে রক্তের সম্পর্ক রয়েছে। একাত্তরে দুইদেশের সৈন্যদের রক্ত একই সঙ্গে প্রবাহিত হয়েছিল।"

এই কথায় আমার আপত্তি নেই, আমার জানতে ইচ্ছা করে এখন যে ভারতীয় সৈন্যদের গুলিতে শুধুই আমার দেশের মানুষের ( অনুপ্রবেশ ই শুধু রক্ত বয়ে যায়না, আমাদের অভ্যন্তরেও তারা রক্ত বইয়ে দেয়) রক্ত বয়ে যাচ্ছে এটা নিয়ে স্যার কি ভাবছেন। প্রতিবেশীদের সাথে সুসম্পর্ক ব্যতীরকে কারো শান্তিপূর্ণ উন্নতি সম্ভব নয়, কিন্তু প্রতিবেশী হিসেবে আমরা আসলে কি পাচ্ছি । হউকনা আমার প্রতিবেশী অনেক ধনী, অনেক শক্তিশালী- তাই বলে আমি সবসময় মাথা নুইয়ে থাকব কেন ?

একেরপর এক অনাহুত ঘটনা ঘটছে আমাদের সাথে ভারতের- অথচ আমাদের অতি উচ্চ শিক্ষিত ক্ষমতাবান মানুষ কি অবলীলায় সব মেনে নিচ্ছেন, মুখে একটা প্রতিবাদ করতেত পয়সা খরচ হয়না । আমরা এত ভীতু কেন।

বর্তমানে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সবচেয়ে ভালো বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিরাজ করছে উল্লেখ করে বিশেষ অতিথি ভারতীয় হাইকমিশনার রাজীত মিত্র বলেন, "দু'দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক ও বিনিয়োগ যোগাযোগ আরো বাড়ছে। হিন্দি ভাষার প্রসারে দু'দেশের মানুষে-মানুষে যোগাযোগ আরো বাড়বে। হিন্দি চলচ্চিত্র ও গানের কল্যাণে বাংলাদেশে হিন্দি ভাষা অনেক জনপ্রিয়।" --- বর্তমানে শব্দটি উল্লেখ করে হাই কমিশনার সাহেব আসলে কি বুঝাতে চান, তিনি এভাবে বলতে পারেন কিনা আমি জানিনা
, কিন্তু এর মাধ্যমে আমাদের দেশের জনগনের মাঝের বিভেদটুকু কি আরো বেশী করে ইংগিত দেয়া হয়ে গেলনা।
আমার দেশ হয়ে উঠুক বিশ্ব সংস্কৃতির মিলন মেলা- এতে আমি গর্বিত হব, তবে তা যেন কোন ভাবেই আমাকে, আমার সংস্কৃতিকে বিকিয়ে দিয়ে নয় - আর সেটা রক্ষা করার দায়িত্বও কিন্তু আমার। আমার যে গর্বের বিষয়গুলো রয়েছে তাকে অন্যরা যথাযথ সন্মান দিচ্ছে কিনা সেটা নিশ্চিত করার দায়িত্ব কিন্তু আমার ঘাড়েই বর্তায়। আমাদের সুধীমহল এই ব্যাপারে কতটুকু সচেতন কিংবা আদৌ সচেতন কিনা কে জানে।

সন্মান আমি সবাইকে দেখাব- তবে তার আগে অবশ্যই নিজের অধিকার আর সন্মান সমুন্তত রেখে , নিজেকে বিকিয়ে দিয়ে নয় । ।

নিউজটি দেখে লেখার অবতারনা : ঢাবিতে বিশ্ব হিন্দি দিবস উদযাপন
Click This Link
৮২টি মন্তব্য ৮২টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×