somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ইসলাম পশ্চিম সংঘাত ও বাইবেল

০৫ ই জুলাই, ২০০৮ রাত ১১:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

নিভৃতচারী ( প্রয়াত আহমদ ছফা কথিত ক্ষুরধার ) লেখক ও কবি-সাংবাদিক শামসুদ্দোহা শোয়েবের প্রথম গবেষণা গ্রন্থ (১ম খন্ড) ‘ ইসলাম পশ্চিম সংঘাত ও বাইবেল’ ফেব্রুয়ারি বইমেলায় প্রকাশিত হয়েছে শুদ্ধস্বর প্রকাশনী থেকে। একটি মূলধারার বই হিসেবে মিডিয়ায় এই বইটি আলোচনার দাবি রাখলেও মিডিয়ায় এই বইটি নিয়ে আলোচনা হয়নি। সাহিত্যের বর্তমান মাস্টার গোষ্ঠী তখনকার করা বইমেলার প্রতিদিনকার রিপোর্টেও এই বইটির উল্লেখ করেননি। অথচ কত অগাবগাছগার বইয়ের কভার গুরুত্বসহকারে ছাপিয়েছেন তারা। তারপরও জায়গা হয়নি এই মুলধারার এই বইটির।
মেলা পরবর্তী কত ভেজাল বইয়ের গুরুত্বসহকারে রিভিউ হলেও এই বইটি রয়ে গেছে আড়ালে। শোনেছি সাহিত্যের মিডিয়া শাসনকর্তারা এই বই ও বইয়ের লেখককে ‘মুসলমান কমিউনিস্ট’ বলে কৌশলে দুরে রাখতে চাচ্ছেন। আর সাম্রাজ্যবাদের পৃষ্ঠপোষকতায় ঋষ্টপুষ্ট আমাদের প্রধান মিডিয়াগুলোতে তাই বই আলোচনায় এই বইয়ের উপস্থিতি নেই। কিন্তু সৃজনশীল পাঠকরা ঠিকই খুঁজে নিচ্ছেন এই মূল্যবান গবেষণা গ্রন্থটিকে, যারা সঠিক অবস্থানে দাড়িয়ে সাম্রাজ্যবাদ বিষয়ে সর্বক্ষণ জানতে আগ্রহী।
পুরান ঘেঁটে, অনেক কিছু জেনে নিয়ে ইসলাম-পশ্চিম সংঘাতের শিকড় খুঁজেছেন তিনি; বিশ্লেষণী শক্তি দিয়ে দেখিয়েছেন সাম্রাজ্যবাদই ক্রুসেডার-ইহুদিবাদ। তিনি দেখিয়েছেন ইহুদিবাদের শানানো ছুরি লুকিয়ে রয়েছে ইতিহাস-ধর্মপুরানের আস্তিনের ভিতর। তাই তিনি ডাকেন, ‘এ লড়াই একা মুসলমানদের নয়; এ লড়াই সাম্রাজ্যবাদ-আধিপত্যবাদ আর দখলদারবিরোধী সবার। এ লড়াই প্রতিরোধের -চে’র আতœদানের পুনরাবৃত্তি; এ লড়াই কাস্ত্রো-শাভেজ আর লাতিন আমেরিকার জেগে ওঠা মানুষের। তার এমনসব মন্তব্যে ক্রুসেডার বিরুদ্ধে তার পরিষ্কার অবস্থানও আমরা জানতে পারি।

পরিশ্রমী লেখক অষ্টাদশ বিশিষ্ট এই গ্রন্থের ভূমিকার বদলে ‘কেন এই বই’ শিরোানামে নিজেই ৬ পৃষ্ঠার বয়ান গেয়েছেন। এর মধ্যে কিছু অংশ এখানে সংযোজন করা হলো।
কথন-১ (লেখকের বয়ান)
অনেক প্রশ্ন জড়ো হয়েছিল মাথার ভেতর। অনেকগুলো... , যেমন, অমন একটা তত্ত্ব দিতে গেলেন কেন হান্টিংটন? ‘সভ্যতার সংঘাত’ নামে ইসলাম-পশ্চিমকে এভাবে মুখোমুখি দাড় না করালে কি চলতো না? ওই রকমটি না বলে তিনি কি বন্ধু ফুকুয়ামার মতো ‘ইতিহাসের অবসান’ জাতীয় কিছু একটার পথে হাটতে পারতেন না? সাধারণভাবে চীন হয়তো পশ্চিমের প্রতিযোগী, কিন্তু তাতে ‘কনফুশীয়’ পরিভাষাটি কেন? হঠাৎ করেই কানে এলো এক উড়ো কথা-বর্তমান লড়াইটা ইসহাক ও ইসমাঈলের মধ্যে। বিল ক্লিন্টন নাকি একবার এরকমই বলেছিলেন! বাইবেল তখনো পড়িনি। ঘটনা আরও আছে। ইহুদীবাদী রাষ্ট্রটি তার ছুঁচোদের দিয়ে নাকি জানতে চায়, এদেশের মুসলমানদের ‘ইহুদিবিদ্বেষের’ কারণ কি? শুনেই চকিতে মনে পড়ে যায়, আমি নিজেও একজন মুসলমান। ‘ইহুদিবিদ্বেষ’ তাহলে আমারও আছে? বলতে দ্বিধা নেই ফিলিস্তিনি মুক্তিসংগ্রামকে আমি সমর্থন করি। হামাসকে আমি ‘আাতœঘাতি’ বলে মনে করি না। ওটার অর্থাৎ ‘সুইসাইডাল বোম্ব’র বাংলা অনুবাদ হতে পারে ‘শহীদী বোমা’ ( স্বেচ্চাশহীদি বোমা), বা স্বাধীনতা, মুক্তি অথবা প্রতিরোধ বোমা। আতœঘাতি বলা পশ্চিমা তথ্য সন্ত্রাসেরই অংশ। সেটি আমি এড়িয়ে যাই। ১৯৭১ এ মুক্তিযুদ্ধে যাওয়ার বয়স আমার ছিল না। কিন্তু নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা ভাবতাম। প্রাণ খুলে গাইতাম ‘আমার সোনার বাংলা...।’ ইন্তিফাদার তরুণ লড়াকুরা আমার মতই। এরা ফিলিস্তিনের ভূমিপুত্র-নিজ দেশের জন্য লড়ছে। আমরা যেভাবে লড়ছি আমাদের দেশের জন্য এটিই হয়তো সাম্রাজ্যবাদ-দখলদারদের কাছে ‘ইহুদিবিদ্বেষ’। প্রশ্ন এ ও জাগে, মুসলমানেরা ‘ইহুদিবিদ্বেষ’ কেন? এর পেছনে কি নবী মুহাম্মদ অথবা কুরআন? মদিনা থেকে ওদের বের করে দেয়া হয়েছিল, ‘বিদ্বেষ’ থেকে, না নবগঠিত রাষ্ট্রটিকে বিশ্বাসঘাতকতার হাত থেকে বাঁচাতে গিয়ে? ইসলামের নবী যা করেছেন, এছাড়া বিকল্প কিছু ছিল? বিভীষণদের ঘরে রেখে বাইরে লড়াই করা যায়না। যে খেসারত রাবণকে দিতে হয়েছিল, সেই ঝুঁকি মুহাম্মদ নেননি। এর নাম ‘বিদ্বেষ’? ইতিহাস জানায়, মুসলমানদের হাতে নয় ইহুদী রক্তের দাগ লেগে আছে ক্রুসেডার ইউরোপের হাতে। রাইনের তীরে, জেরুসালেমে যিশু সেনারা তাদের কচুকাটা করেছে। বিপরীতে গাজী সালাদিনের বিজয়ে উল্লসিত হয়েছে ইহুদিরাও। মুসলমানদের সঙ্গে দল বেধে আবার ঘরমুখো হয়েছে। সর্বোপরী এধরনের ঐতিহাসিক ভাষ্য ইসলামকে নিয়ে বিনির্মিত হয়নি-‘ পরিস্থিতি তখন চরমে পৌঁছে যখন ক্রিস্টানত্ব রোমান সাম্রাজ্যের সরকারি ধর্মে পরিণত হয়; এবং কনন্টান্টাইন থেকে ঘোষিত হয় যে, ‘সবচে এই ঘৃণিত লোকজনের সঙ্গে আমরা কোন লেনদেনে যাবোনা, ঈশ্বর আমাদের জন্য আলাদা পথের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন’। এই সময় থেকে ইহুদিবিরোধী হুকুমনির্দেশ বহুধা পথ করে নেয় এবং ইহুদিদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা হতে থাকে, সেভাবে গোড়া র্চাচজনদেও দেবতাহত্যার মত্ততায় পেয়ে যায়’’ (পলিটিক্স অফ গড পৃষ্ঠা ৯০)। গ্রিক রোমান শাসনে, মধ্যযুগীয় ইউরোপে যে নির্যাতন মুসলমানরা তার ধারে কাছেও যায়নি। ক্রিস্টান ইউরোপে যখন ইহুদিবিতাড়ন চলছে, তখন ওসমানীয় তুরস্ক তাদের জন্য দুয়ার খুলে দিয়েছে। তাহলে আমি কি করে বিদ্বেষী? প্রশ্ন আরো জাগে শেক্সপিয়র কেন ভেনেসীয় সওদাগর কাহিনী লিখেছিলেন? জার্মানরা মনে করতো প্রথম বিশ্বযুদ্ধে তাদের পরাজয়ের পেছনে ছিল ইহুদি। জার্মান অর্থনীতিতে ছিল ওদের নিয়ন্ত্রণ। পর্ণো-গ্রাসও ডেকে এনেছিণ ওরা। আজ বিশ্বব্যাপী যে কর্পোরেট পূুজির তাগুব, এরও পেছনে এই কারুণের উত্তরসুরিরা। কিন্তু তাই বলে একটা জাতির ওপর ‘গণহত্যা’ চালাতে হবে? কিংবা হিটলার-আইখম্যান যদি তা না করে থাকেন তাহলে ‘হলোকাস্ট’ এর এই প্রচারণা কেন? সেকি কেবল করুণা পেতে? না এরও বাইরে আছে কোনো মনো-ঐতিহাসিক কারণ? একটি সত্য কথা বলি, হিটলারের প্রতি আমার কোনো অনুযোগ নেই। তার ইউরোপ বিজয় বাসনা ভালো ছিল না মন্দ -সেটি ইউরোপের নিজস্ব ব্যাপার। তবে সমগ্র পশ্চিম যখন হিটলার প্রতিরোধে ব্যস্ত, তখন নেতাজি সুভাষ বসু কেন তাকে নিয়ে ভারতকে ব্রিটিশমুক্ত করতে চেয়েছিলেন সেটা আমাকে বুঝিয়ে বলতে হয়নি কারও।
কথন-৩
সংঘাতটা কি ইসলাম-পশ্চিমের? এই প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছে আমাকে। জবাবে বলেছি ‘হ্যা’। কারণ দর্শিয়েছি এই বলে, আমার পিঠে ক্লাস্টার বোমা। আমার সন্তানকে বিদীর্ণ করেছে টমাহক মিসাইল। হন্তারকরা আগে হাতে করে বাইবেল নিয়ে ঘুরতো। এখন ওটি থাকে গির্জায়-সিনাগগে। কিন্তু তার বিষ মাটি পোড়ায়, মানুষ পোড়ায়। সেই বিষ রক্তগঙ্গা হয়ে বয়ে যায় বাগদাদ-নাজাফ-বসরা, কাবুল-কান্দাহার, মোগাদিসু, গাজা-পশ্চিম তীর, বৈরুত-কানাসহ শাতিলা-শাবরা-লিতানির নিসর্গ ছাপিয়ে। ইসলাম আতœক্ষায়। তবে তার লড়াইটা পশ্চিমা ভূখন্ডের বিরুদ্ধে নয় । কিংবা নয়, বুশ ব্লেয়াররা যেমনিটি বলেন, কোন রাজনৈতিক আদর্শ, পদ্ধতি বা সংস্কৃতি-সভ্যতার বিরুদ্ধে। কারণ বর্ণবাদে একচেটিয়াত্ব থাকলেও গণতন্ত্রে তারা অনুগামী। সারা দুনিয়া জানে ম্যাগনাকার্টার আগেই রচিত হয়েছে মদিনা চার্টার। ইসলামে কালোদের মতো শাদারাও সমান মুসলমান। তারপরও সংঘাতটা ইসলাম-পশ্চিমেরই। এ কারণেই আল কায়েদা বোমা ফাটালে সেটি হয় ‘ইসলামী সন্ত্রাসবাদ’ কিন্তু গণহত্যা, দখলদারি, যুদ্ধাপরাধকে মহত্ব দেয়া হয় মুক্তি, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা আর একনায়কের পতন দেখিয়ে। এসব আর খ্রিস্টান সন্ত্রাসবাদ বা ইহুদি সন্ত্রাসবাদ হয়ে ওঠে না। ইসলামের লড়াই সাম্রাজ্যবাদ এবং দখলদারির বিরুদ্ধে। মুসলিম বিশ্বে পশ্চিমা পুতুল শাসকদের বিরুদ্ধে। তাই শত্র“-মিত্র নির্ধারণে যেন ভুলটি না হয়।

প্রকাশক: শুদ্ধস্বর
৯১, আজিজ সুপার মার্কেট
৩য় তলা, শাহবাগ-ঢাকা
মূল্য; তিনশ টাকা।


১০টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×