somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কেমন আছেন বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিম

০৯ ই নভেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৪:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একুশে পদকপ্রাপ্ত বাউল শিল্পী শাহ আবদুল করিম দীর্ঘ দিন ধরে অসুস্থ থাকায় লোপ পেয়েছে তার স্বাভাবিক স্মৃতিশক্তি। বয়সের ভারে ন্যুব্জ এই কিংবদন্তি লোকশিল্পীর জীবনগাড়ি আজ প্রায় অচল। মধ্যপথে না ঠেকে বেলাশেষে ধুকে ধুকে চলছে এই গাড়ি। অন্যের কাধে ভর দিয়ে আর একমাত্র ছেলের ২০ মাস বয়েসী নাতির হাত ধরে জীবন শেষের খেয়া অতিক্রম করলেও আগামী প্রজন্ম হিসেবে তার এই ছোট্র নাতিকেই পথ দেখিয়ে যেতে চান তিনি। তাই শেষ বয়সে তার সময় কাটছে বিছানায় গড়াগরি করে আর একমাত্র নাতির সাথে খেলা করে। তার পরিবারের লোকজন জানান, তিনি সারারাত নির্ঘুম থেকে কি যেন ভাবেন আর বিড় বিড় করে আওড়ান। সৃষ্টির নিশাচরের মতো নয়, জীবন সায়াহ্নে তার প্রতিটি রাত এখন ঘুমহীন কাটে এলোমেলো বিছানায়।
কালনী নদীর পশ্চিম তীরের উজানধলের বাড়িটিতে আগের তোলনায় কিছুটা আভিজাত্যের ছাপ ল্য করা গেলেও শাহ আবদুল করিম এখন বেলা শেষের যাত্রী। যে নদীকে ঘিরে তার বাউল হয়ে ওঠা সেই ীন যৌবনানদীতে জলথৈথৈ করছে। কিন্তু শৈশবের সেই ছলাত ছলাত নদীটি নিরবে বয়ে যায় ধলগ্রামের বাউল সম্রাট এর বুকের উপর দিয়ে তার শেষ নিঃশ্বাস গুণে গুণে...। তার বিপরিতে তাকে দেখতে আসা সুধীজনের কোলাহলে বাউলের বাড়িটি প্রায়ই মুখরিত থাকলেও অতিথির দিকে ফ্যাল ফ্যাল করে থাকানো ছাড়া তার কিছু করার নেই তার। তবে তাকে দেখতে যাওয়া অথিতিদেও আসার পথে প্যারালাইজ্ড’’ হাতে বিদায় জানাতে তিনি ভুল করেন না।
বাউল সম্রাটের ছেলে শাহ নুর জালালও একজন বাউল। তার বাড়ির চারপাশে তিনি লাগিয়েছেন বিভিন্ন প্রজাতির বৃ। ফলজ ও বনজ বৃরে নিচে বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিম ফ্যাল ফ্যাল থাকিয়ে দেখেন শৈশবের কালনী নদীটিকে। নদীর বুকে হাসের দুরন্ত চলা দেখে দীর্ঘশ্বাস ত্যাগ করেন কৃষ্ণচুড়া গাছের নিচে বসে। শোনেন পাখির কিচির মিচির গান। যখন ভালো লাগে না তখন আবার অন্যদের সহায়তায় একচিলতে উঠোনে হাটাচলা নয়তো দিনরাতের সঙ্গী কেবল বিছানা...
শাহ নুর জালাল জানান, তার পিতার প্রতিটি রাত এখন নির্ঘুম কাটে। দিনে একটু ঘুমান। খাওয়াধাওয়ায়ও রুচি নেই। তবে তরল জাতীয় খাবার একটু একটু খান। মাঝে মধ্যে অষ্পষ্ট কথা বলেন। ইশারায় ২০ মাস বয়েসী নাতি শাহ নূর করিম ঝলককে ডাকেন। একটু হাসেন। এভাবেই কাটছে তার দিনকাল। তবে মাঝেমধ্যে কথা বলার জন্য রাগিয়ে তুললে হয়তো কিছু অষ্পষ্ট কথা শোনতে পাওয়া যায়।
এই বয়সে তার কেমন লাগছে, চাওয়া পাওয়া, পরিচিত বন্ধুবান্ধব আতœীয় স্বজন, নিজের রচিত গান ও সহশিল্পীদের নিয়ে কথা বলতে চাইলে দেখা যায় ঠোট নড়ানোর চেষ্টা করলেও কথা বলতে পারছেন না। একটু আধটু বললেও তা অষ্পষ্ট। কালজয়ী আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম গানের এই শিল্পিকে আগের মানুষ আর এখনের মানুষের সম্পর্কে জানতে চাইলে ধরা গলায় বলেন, ‘‘সব আমলেই মানুষ ভালাবুড়া আছিল। তবে আগের মানুষ আছিল খুব সরল ।’’ শৈশবের কোনো বন্ধু বান্ধব, তাদের মুখ মনে পড়ে কি না জিজ্ঞেস করলে বলেন, ‘‘আগের অনেকই আর দুনিয়াত নাই। যারা বাইচ্যা আছে তাদের দেখাও মিলে না।’’ তবে শৈশবের বন্ধুদের জন্য তার মন আনচান করে। দিরাই উপজেলার জগদল গ্রামের আরেক সহশিল্পী বাউল শিল্পি মরহুম শফিকুন নূর সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে আমতা আমতা করে বলতে চাইলেও মুখের দিকে ফ্যাল ফ্যাল চেয়ে থাকেন। কোনো মতে বলতে পারলেন ‘‘সে বড়ো ভাল মানুষ ছিল । বড়ো জাত বাউল ছিল। তার কথা মনে হলে খুব খারাপ লাগে।’’
যৌবনে যে স্বপ্ন লালন করতেন শেষ বয়সে এসেও সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের প্রতিধ্বনি হচ্ছে তার কালনীনদীর বাড়িটিকে ঘিরে। তার সেই স্বপ্নটির নাম ‘‘শাহ আবদুল করিম সংগীত বিদ্যালয়।’’ তার সেই স্বপ্নটি প্রশাসন ও বিভিন্নজনের সহানূভূতির পরও তার মনের মতো হচ্ছে না। তার যৌবনের এই স্বপ্ন সম্পর্কে বলেন, এই বিদ্যালয়টি ভক্ত বাউল শিষ্যদের জন্যই । তারা আসবে গান করবে, থাকবে ঘুমুবে। তার গান নিয়ে ভাববে। তার চর্চা ও লালন করবে। বাউল ও লোক জীবনের চেতনা ছড়িয়ে দিবে প্রজন্মের মধ্যে। এইটাই তার সংগীত বিদ্যালয়ের একমাত্র ল্য। তবে কিভাবে চলবে তা তিনি জানেন না। হাল ছাড়েন নি, আশাবাদী কেউ না কেউ এই বিদ্যালয়ের হাল ধরবে। তার সৃষ্টিকে লালন করবে।
বাউল সম্রাটের বাড়িতে গেলে সব সময়ই ভক্ত শিষ্যদের দেখা মিলে। তাছাড়া দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রতিদিনই কোন না কোন লোক আসছেন বাউল স¤প্রাট কেমন আছেন দেখতে। তার স্মুৃতিকে ছুতে। তার সৃষ্টির স্বাদ নিতে। মিডিয়ার লোকদেরও ভিড় থাকে প্রায় সময়।
বাউল সম্রাটের ছেলে শাহ নুর জালাল জানান, তার পিতা গানের পাশাপাশি প্রাচীন মিথ ও ইতিহাস ও মধ্যযুগের কাহিনী নিয়ে কয়েকটি কেচ্ছা রচনা করেছেন। এর মধ্যে একটি তার সংগ্রহে আছে। তিনি বলেন, তার প্রথম গানের বই ‘আফতাব সঙ্গীত’টি হারিয়ে গেছে। তিনি চেষ্ঠা করে এই বইয়ের প্রায় চল্লিশটি গান খুঁজে পেয়েছেন। জালাল বলেন, তার সংগ্রহে যে কয়টি গানের বই ও অগ্রন্থিত গান আছে সেগুলোকে সমগ্ররূপে গ্রন্থস্থ করতে চান। আর এই সমগ্রে কেচ্ছাটিও থাকবে। তার পিতার জীবদ্দশায়ই তিনি চেষ্ঠা করছেন এই রচনা সমগ্রকে মলাটবন্ধী করতে।
৮টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×