মিউনিসিপ্যালিটি বাজারে পৌছে যখন ফোন দিলাম তখন অপর প্রান্তের কন্ঠ শব্দ দূরত্বে। মুকুল বলে উঠলেন আপনিও চুল কেটেছেন দেখি। আমিও মুকুলের চীরচেনা ঝুটিটা দেখছি না। কিন্তু পাশের প্রণব আচার্য্য ফটোগ্রাফিক সততার প্রতিমূর্তি, একই রকম এবং দুজনাই হাস্যজ্বল মুখে। এরপর চা খাওয়া, সিগারেটের ধোঁয়ায় টেবিল গরম করা আর এক অদ্ভুত নৈকট্য উদযাপণ। নোয়াখালী শহর নতুন করে আবিষ্কৃত হল যেন। এরপর রাসেল........, রাইসু, হিমু, অমি পিয়াল, কৌশিক, (মাঝখানে কৌশিকের ফোন) আন্দালীব, মাঠশালা, অশোক, কবি, কবিতা, এটিম, নার্ভাস, ছাগু তন্ত্র, রাজাকার, ঢ়াজাকার, মুক্তবুদ্ধি, ধর্মানুভূতি, ইমনের বিয়ে, আরিফ জেবতিক, মাহবুব মোরশেদ, মৈথু, ব্লগীয় ইতিহাস, অপর বাস্তব, শ্বাশত, তথাকথিত মফস্বলতা , ঢাকার কেন্দ্রবাদীতা, সামাজিক নির্মাণ, চর্চিত ধর্ম, জামাত কি না। মুকুল বারবার বলছেন তিনি নিজে লেখক নন (আমার যদিও তা কখনই মনে হয় না)। প্রণব বলছেন কবিতার কথা যদিও শুনছেন আরো বেশি। এরপর আলাপের জন্য অনাকাঙ্খিত ভীর লক্ষ্য করে মুকুলের বাইকে চড়ে প্রেসক্লাবের সামনে আড্ডা। আরো কয়েক দফা চা বিড়ি এবং কোনভাবেই আমাকে বিল দিতে না দেয়া। প্রণব ১০ মিনিটের জন্য একটু বাইরে গেলেন কিন্তু জুটে গেলেন আরো কয়েক জন যেমন মাসুদসহ আরো মেধাবী অনেকেই। জারদারি টু ইউনুস এনজিও টু কর্পোরেট কি নয়। আজাদ, ফরহাদ মজহার, আল মাহমুদ, আধুনিক উত্তরাধুনিক যত তর্ক। কিন্তু প্রাণটুকু অটুট আর উত্তেজনায় আমার বাচালতাই বেশি, তবুও বাকীরা ধৈর্য্যশীল শ্রোতা। এক দারুন বন্ধন। এর মধ্যেই আলাপ ওপেন সোর্স সফট নিয়ে; একজন প্রস্তাবনা করলেন সফটওয়ার দিবস পালনের। আবার সে বিষয়ে আলাপ।
আমি জেনে চলেছি আমি বুঝতে চেষ্টা করছি বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তের নানা ক্ষেত্রের মেধাবী মানুষজনদের মানস চরিত। আর বুঝতে পারছি কত কম জানি আসলে। শিক্ষা ব্যবস্থার বাস্তবতা বিযুক্তি নিয়েও তর্ক জমে উঠল খুব। আর মাঝখানে সবাক এসে ঘুরে গেলেন, আমাকে ব্লগার হিসেবে চিহ্নিত না করেই, আরেক মজা শুরু হল। প্রণব, মুকুলের সাথে আঁতাত হল যে তাকে বলাও হবে না; তিনি জানবেন ব্লগ পড়তে এসে। হয়ত সবাকের সাথেই কথা বলে প্রেসক্লাব ক্যাফেতে ব্রাউজ করেছি। তিনিও আমাকে ব্লগার হিসেবে চেনেননি আমিও নই। অদ্ভুত মজার টুইস্ট। এইভাবেই কেটে গেল পাক্কা দুই ঘন্টা। মুকুলই মনে করিয়ে দিলেন যে আমার উঠতে হবে। তার বাইকে আবার মিউনিসিপ্যালিটি বাজারে ফিরে আসা এবং বিদায় নেয়া। দারুণ আনন্দিত মুহুর্তগুলোর রেশগুলো শুধু ঢেউয়ের মত বয়ে যেতে থাকা। সারাদিনই সুন্দর সময় কাটানোর ব্যবস্থা করেছেন নতুন এক ব্লগার বন্ধু, অনেকক্ষণ ফোনে কথা বলেছেন আর ব্লগের আপডেপ দিয়েছেন। আর জন্মদিনের সবচেয়ে চমকপ্রদ উপহারটা দিলেন মুকুল, প্রণব আর তাদের বন্ধুরা। তাই কৃতজ্ঞতা সবার কাছেই আর সবাকের জন্য টুইস্ট আপনি শুধু পেছন থেকে না দেখে আড্ডায় এসে যুক্ত হলেই পারতেন, সকালের ক্যাফে ব্রাউজারের সাইন বইটা কি আপনার হাতেই ছিল? গতকাল সকাল ১০:৩০ এর সাইনটা এই অধম বান্দাই করেছিল। যাই হোক ক্যাফের স্পিড ভালো ছিল কিন্তু, শুধু আমার পিসিতে ইয়াহু মেসেঞ্জার ছিলনা।
ছবি: আমার ডিসপ্লে বিহীন এন ৭০ ক্যামেরায় আন্দাজে গত বিকেলের আকাশ। এই ছবিটা আড্ডার জন্য উৎসর্গীকৃত।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

