সানী নামক শুয়োরের বাচ্চাটাকে ছাত্রী নিপীড়নের অভিযোগ থেকে অব্যহতি দেবার খবরটা দেয়ার মধ্য দিয়ে এই গোছানো মলভান্ডারে আরেক দলা লেবাছী গু ই তারা যুক্ত করল। ক্লীবদের নিজ নিজ পদ আর পাছা লেহনের ঐতিহাসিক ধারাক্রমে পালাক্রমে ধর্ষিত হল নিপীড়িত শিক্ষার্থীদের স্বর, তাদের আকাঙ্খা, তাদের নিরাপত্তা আর বিশ্বাসের ক্রমশ সংকীর্ণ হয়ে আসা জায়গাটুকু।
প্রথমে এই ধর্ষণের খবরও জানতে দেয়নি পেটোয়া বাহিনী। ব্যারিকেড ভেঙ্গে ছুটে যেয়ে খবর আনতে হয়েছে। ক্লীবদের দল নিজেদের পাছা মারামারি, দলবাজি আর পদক্রম লেহনকে যথাসম্ভব নিরাপদ রাখার জন্য এই অন্যায় সিদ্ধান্তকে চেপেচুপে ঢেকে রাখার পুরাতন রাস্তাটাই নিয়েছে। আরো অসংখ্য মানিক আর সানোয়ার পয়দা করার জারজ প্রক্রিয়াটাকে তারা হাসিমুখে মুলামুলির বাজারে বহাল রেখেছে।
তাহলে এই সিদ্ধান্তে কি বোঝা গেল? বোঝা গেল যে সানোয়ার যে নিপীড়ণ চালিয়েছে সেটার প্রতি পূর্ণ সমর্থন প্রশাসনের রয়েছে। বোঝা গেল ক্লীব রাজনীতিতে নিজের শক্ত অবস্থান ধরে রাখার কৌশল তাকে এবং বিদ্যমান অনেককে বাঁচিয়ে দেবে, অতীতেও যেমন বাঁচিয়েছে। ফলে এই পুরো আয়োজন সেই বাহাসকে বৈধতা দেবার আরেকটা পন্থা মাত্র। আরো বোঝা গেল উপাচার্যের গদি আর নির্বাচনকালীন হল খালি করার রাজনীতির সূত্রগুলো কিভাবে একই থালায় গু হিসেবে পরিবেশিত হয়। জানা গেল এই গুয়ের ভাগাভাগিতে সানোয়ারের ধর্ষক দলের একটা বড় হিস্যাও আছে। এবং এতদিন ধরে আসলে গু ভাগাভাগির দরদামই চলছিল। উপাচার্যের গদিতে পাছা ঠেকানোর জন্য, সেখান থেকে গু বিতরণের জন্য বুড়ো ক্লীবরা যেভাবে ওঁৎ পেতে ছিল তার একটা আপাত ফয়সালা পাওয়া গেল।
অর্থাৎ পুরো ব্যবস্থাপনা শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের চত্তরে দিনে দুপুরে বলাৎকার করল। রয়ে সয়ে রসিয়ে রসিয়ে দূরে দূরে থেকে একটু একটু করে শিক্ষার্থীদের আশ্বাস দিয়ে কাছে এনে আব্রু ছিঁড়ে ছিঁড়ে। এতে যে রক্তক্ষরণ হল তার চিহ্নও তারা ধাপে ধাপে মুছে দিয়ে যেতে থাকল। এই ধর্ষক ব্যবস্থার সুপুত্ররা যুবরাজ, মহারাজেরা এতদিন ধরে পুরোহিতদের সাথে ব্রাম্মণদের সাথে আঁতাত করছিলেন মাত্র। এদিকে ফাঁকে ফাঁকে আন্দোলনকে কিনে নেবার বিক্রী করবার পাঁয়তারাও করেছেন। কিন্তু কোনভাবেই আন্দোলনকে কিনে নেয়া যায়নি। আমি কল্পনা করতে পারি এখনো অনেক ক্লীব নিজেদের অনির্ণিত প্রত্যঙ্গটি কামড়ে পড়ে আছেন আর ভাবছেন সম্ভাব্য প্রতিবাদকে তারা কিভাবে গদি রাজনীতিতে ব্যবহার করবেন।
আজ আমার বারবার মনে পড়ছে ধর্ষিতা ইয়াসমীনের কথা কিন্তু তারচেয়েও বেশি মনে পড়ছে নিপীড়িত হওয়া বন্ধুদের কথা। নিজেদের আক্রান্ত সত্তাকে প্রমাণ করার জন্য তাদের বারংবার ধর্ষিত হবার কথা। ক্লীবরা বলছে সানোয়ারের বিরুদ্ধে নিশ্চিত করে অপরাধ প্রমাণ করা যায়নি, কিন্তু এই শুকরটিকে তো নিশ্চিত করে নিরপরাধও প্রমাণ করা যায়নি। এখন কি তাহলে আন্দোলনকারীদের বিরূদ্ধে ব্যাবস্থা নেবে নাকি প্রশাসন? একটা কাজ করতে পারে এই ক্লীবের দল, যেহেতু নিশ্চিত করে কোনকিছুই করা সম্ভব হয়নি তারা নিশ্চিত হবার জন্য আন্দোলনকারীদের ডেইরীতে, প্রান্তিকে, চৌরঙ্গীতে ধর্ষণ করতে পারে। যেহেতু প্রশিক্ষিত ধর্ষকেরা ব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে পুরো আন্দোলনকে ধর্ষণ করল, সেহেতু এই চোখে দেখা ধর্ষণে আর তাদের ভয় নেই।
নিপীড়ণ বিরোধী নীতিমালা কিংবা ধর্ষকের চিরস্থায়ী বরখাস্ত এর কোনটাই নিশ্চিত না করার মধ্য দিয়ে ক্লীব প্রশাসন যে বিষয়টি নিশ্চিত করল তা হল এইবার শিক্ষার্থীদের নিজের হাতেই আইন তুলে নিতে হবে, শুকর সানোয়ার আর তার দোসরেরা যাতে ক্যাম্পাসে না থাকতে পারে তার ব্যবস্থা করতে হবে। নিপীড়ণ বিরোধী নীতিমালা বাস্তবায়ন করে ক্লীবদের ক্ষমতা কাঠামো ভেঙ্গে ফেলতে হবে। আইন আর প্রশাসনিক ব্যবস্থা ধর্ষকামী হয়ে উঠলে এটাই করা দরকার, এটাই একমাত্র রাস্তা। সময়টা শোকের নয়, প্রতিরোধের।
প্রতিরোধে গর্জে উঠেছে শিক্ষার্থীরা তারা সানোয়ারকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করেছে।
আরো জানতে
প্রতিরোধের খবর বিডিনিউজ২৪ এ
প্রতিরোধের জন্য একটা ফেইসবুক গ্রুপ খোলা হয়েছে
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ দুপুর ২:৩৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



