এই রকম নানান ইস্যু নিয়া ব্লগের সরগরম হওন পুরান বিষয়। কিন্তু পাটাতন হিসেবে ব্লগের একটা বড় দোষ হইল এইটা প্রায় কোন না কোন ধরণের রাজনৈতিক তৎপরতারে পুরা বিলা কইরা দিতে সক্ষম। যদিও এই ব্লগেই জামাতী তৎপরতা প্রথম থেকেই খুব গোছানো।
যাই হোক যেটা মনে হইতাছে তা হইল ব্লগীয় পোষ্টে প্রতিরোধ/ব্যাঙ্গ প্রায়শই এমন একটা জায়গায় পৌছায় তাতে কোন রাজনৈতিক প্রতিরোধের জায়গা প্রায়শই ঢিলা হয়ে যায় বা আলাপটাই তৈরী হয় না। এই সংক্রমণ বেরাজনৈতিকীকরণের সেই পুঁজিবাদী প্রক্রিয়ার সাথে যুক্ত ব্লগ যার প্রযুক্তি, মতাদর্শ ও পদ্ধতিগত উৎপাদন। যেমন বাংলাদেশের প্রেক্ষীতে খুব জরুরী ও সহজ প্রশ্ন হইল সিভিলকর্পোরেটসামরিকজামাত যেভাবে "রাজনীতি" খারাপ বইলা রাজনীতিরেই উঠাইয়া দিতে তৎপর, সেটার কাউন্টারর রাজনীতি কি হইব?। বেরাজনৈতিকীকরণের এই প্রস্তাবনা ভয়ংকর রাজনীতির অংশ। ব্লগেও দেখি এই জিনিসেরই পুন:পুন: উৎপাদন রাজনীতি জিনিসটাই খারাপ বা এর ওর রাজনীতি খারাপ এই কথা কইয়া লোকে খালাশ। এই খালাশ করার অভ্যাস তৈরী করাই আসলে এই ছদ্ম মুক্ত বার্তালাপের মুখ্য উদ্দেশ্য। কথা কইতে দেয়ার নামে বেরজানৈতিকীকরণ কইরা তুলন। এবং এমন একটি বৃহৎ গ্রাহক গোষ্ঠী তৈরী করা যারা আসলে নতুন কোন রাজনীতির কথা বলবেনা। বা রাজনীতির কথাই বলবেনা।
নতুন মাধ্যম হিসেবে ব্লগের ক্রম শক্তিশালী হয়ে ওঠা ভেতরে ভেতরে দুইটা ভয়ংকর বার্তা দেয়।
১. রাজনীতির চেতনাহীন মানে শক্তিহীন আবাল গ্রাহক গোষ্ঠী।
২. বেরাজনৈতিক চিন্তা/কর্ম/চর্চা পরিসর।
এই বিষয়টা খুবই জরুরী হয়ে পড়েছে যে, জনমানুষ/ব্লগাররা কি এই বেরাজনৈতীকীকরণের প্রোডাক্ট/গ্রাহক হবে নাকি নিজ রাজনৈতিক পরিসর নিয়ে কাজ করবে, তৈরীর চেষ্টা করবে।
ব্লগ যেমন বেরাজনৈতিকীকরণের ভালো অস্ত্র হতে পারে তেমনি এটা কাউন্টার হিসেবেও ব্যবহৃত হতে পারে। সিদ্ধান্ত ও পদ্ধতি ঠিক করার এটাই সময় যে সামগ্রিক বেরাজনৈতীকিকরণকে কিভাবে ঠেকাতে হবে কিভাবে নতুন রাজনীতি তৈরী করতে হবে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

