somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

তারকাঁটার ঐ পাশে আরশি নগর (উৎসর্গ কুঙ্গ থাঙ)

৩০ শে এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ১০:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এসময়ের নাভীশ্বাস তোলা রাষ্ট্রবাদীতার দিকে তাকালে এটাকে যতটা অনিবার্য, অনাদিকাল থেকে চলে আসা বৈশ্বিক প্রপঞ্চ বলে মনে হয়, তাতে সহজেই ধারনা তৈরী হতে পারে যে আজ রাষ্ট্র’র যে মহা উদযাপন দেখছি সেটাই চিরকালের রীতি। মানুষের মতই টিকে রয়েছে দীর্ঘকাল ধরে, যদিও মহাকালে মানুষও খুব পুরাতন নয় আসলে। আধুনিক জাতি রাষ্ট্রের উদ্ভবের ইতিহাস সোয়া দুইশ বছরের বেশি পুরাতন নয়। যদিও এখনো অনেকেই রাষ্ট্রের শেকড় খুঁজতে যেয়ে বা বৈধতা খুঁজতে যেয়ে প্লেটো পর্যন্ত না পৌছালে ঠিক স্বস্তি বোধ করেন না। রাষ্ট্র ধারনার হেজেমনির শক্তিমত্তা পুরাতন তাই ন্যায্য এই রাস্তাতে হেঁটে চলেছে বেশ আগে থেকেই, রাষ্ট্র ধারনার হাত ধরে আসলে; হেজেমনিকে পোক্ত করতেই।

ব্লগের প্রথম পাতায় কুঙ্গ থাঙ এর পোষ্ট মাথায় ঘুর ঘুর করছে আর আমি ভারতীয় সীমান্তে দাঁড়িয়ে আছি। যারা সীমান্তবর্তী এলাকায় বড় হয়েছেন তাদের হয়ত মনে থাকতে পারে, প্রায়শই বন্ধুবান্ধবের কাছে বীরত্ব প্রকাশের একটা রাস্তা ছিল, “বুঝছস, ইন্ডিয়ার মুইতা আইলাম, আরেকটু হইলেই বিএসএফের গুলি খাইতাম”। এই মুত্র ত্যাগে যে অর্ন্তনিহিত সুখ তা জাতীয়তাবাদের, যে সুখ আমরা পাই ক্রিকেট টিম নিয়ে হইচই করে, যে সুখ আমরা পাই বিএসএফের তুলনায় বিডিআরকে সাহসী মনে করে। আরো কত কিছুই না করে।

সীমান্ত বড়ই অদ্ভুত, ভূমিতে অধিকারের দাগ টেনে টেনে পৃথকতার দাগ টেনে টেনে। হিলি সীমান্তেও এমন, একটা রেল ক্রসিং এর ঐ পাশে ভারত আরেকটা শহর। দেখি ব্যানার ঝুলছে টাটা স্কাই এর, একটা মন্দির, আরো অদ্ভুত ভাবে মানুষ। আমাদের মতই মানুষ। কিন্তু আমি যেতে পারবো না ছুতে পারবো না। সীমানা সবসময়ই দ্বৈততাবোধক। কখনো মানুষ নিজের অধিকারের জন্যই সীমানা দেয়, কখনো অন্যের অধিকার খর্ব করার জন্য। আমার মনে পড়ে উর্বশী বুটালিয়ার রানা মামার কথা, ৪৭ এর পর মাকে নিয়ে পাকিস্তান অংশে থেকে গিয়েছিলেন বলে, সেখানে ধর্ম পরিবর্তন করে মুসলমান হয়েছিলেন বলে ভারতে তার পরিবার কখনো ক্ষমা করতে পারেনি। অন্যদিকে পাকিস্তানে তার নতুন পরিবার নিজের সন্তান স্ত্রীর কাছেও তিনি চীরকাল ওপারের মানুষ। নিজের ঘরে তিনি “অন্য” হয়ে ঘুরে বেড়ান।

পৃথিবীর আনাচে কানাচে কতনা সীমান্ত আছে যা একই ঘরকে দুই ভাগে বিভক্ত করে চলে গেছে। আক্ষরিক অর্থেই বিছানার এই পাশ আর ঐ পাশ দুটো দেশ হয়ে গেছে। যদিও রাষ্ট্রের হেজেমনি সকলে সমানভাবে মেনে নেয় নি, সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষ পাহারাদারের গুলির তোয়াক্কা না করে নিয়মিত যাতায়ত করছে আর বহাল রেখেছে মানুষের নেটওয়ার্ক।

আমার ভাবতে বিষ্ময় লাগে যে দেশের মানুষজন ভাষার স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করে, শহীদ হয়। নিজের স্বতন্ত্র অস্তিত্বের জন্য মুক্তিযুদ্ধ করে সে দেশে অপরাপর ভাষার মানুষজনের পরিসর কতনা সীমিত, কতনা শৃঙ্খলিত। বিভেদের জন্য উচ্চারণকেও মানুষ হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে পারে, তেমনি মিলের জন্য জাতপাতবর্ণধর্মও কোন বিষয় নাও হতে পারে। কিন্তু ইতিহাস বলে এই উদারনীতি অধিকার আদায়ের জন্য খুব ভালো রাস্তা নয়। অধিকারের জন্য যুদ্ধ করতে হয়। তাহলে আদিবাসী মানুষজনের ভাষা আধিকারের জন্য বাংলাদেশ রাষ্ট্র কি যুদ্ধ অনিবার্য করে তুলবে? যেমন করে তুলেছে আদিবাসী জমি অধিগ্রহণ এবং বৈষম্যমূলক ব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে? রাষ্ট্রের হেজেমনিকে যত শক্ত বলে প্রচার করা হয় আমি তো দেখি হেজেমনি তত শক্ত নয়। আবার সম্ভাব্য উপায় হিসেবে আরেকটি রাষ্ট্র’র ধারণা বহুলভাবে সমাদৃত। তাহলে একটি পৃথিবী কতগুলো রাষ্ট্র ধারণ করবে, যতগুলো মানুষ ততগুলোই? পুরো বিষয়টাকে একটা বড় বাহাসের মতন লাগে। আমার যে আদিবাসী বন্ধু ঢাকায় আমার সাথে বুকে বুক মিলিয়ে চলে রাঙামাটিতে তাকে অন্য আচরণ করতে হবে কেন, আমি যে বাঙ্গালী মুখ মুখে সাম্যের কথা বলি তাকে জাতীয়তাবাদী অন্ধ হয়ে উঠতে হবে কেন।

বাড়ীর পাশে আরশি নগর তারকাঁটার সীমানা ঘেরা। আমি পড়শিকে দেখি পড়শি আমাকে দেখে আমাদের কিছুই এক নয় তবুও আমরা জানি আমরা মানুষ। কিন্তু আমরা যে মানুষ তা বারবার আমাদের ভুলতে হবে কেন?
৮টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×