আমার প্রিয় পোস্ট

পুরান চাল ভাতে বাড়ে, পুরান ব্লগার ভাতে মরে

তাহলে এইবারের বস্তি পোড়ার জন্য আমরা চাঁদকে দোষারোপ করতে পারি

০৩ রা নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১:৫২

শেয়ারঃ
0 0

ইশ হোল না, আরেকবার ট্রাই করতে হবে। যেই স্ন্যাপটা খুজছিলাম সেটা পেলে এইবার ওয়ার্ল্ড প্রেস ফটোর জন্য একটা সেইরকম জিনিস হইত। দেখি কালকে সকালে আবার ট্রাই করতে হবে। কিন্তু আজকে রাতে হলেই বেশি ভালো হত, কন্ট্রাসটা পাওয়া যেত। একদম নিচ থেকে একটা শট। নিচে পানিতো আছেই, উপরে আগুন আর সেই আগুন থেকে একটা বাচ্চা জীবন বাচানোর জন্য পানির দিকে তাকিয়ে আছে, আগুনের কারণে লাফও দিতে পারছে না। পানিতে বাচ্চাটার শরীরের আগুনের রিফ্লেকশন আর চারপাশে বস্তি পুড়ে যাবার দাউদাউ আগুন। একটা কালজয়ী শট; ইউনিসেফ, ইউএন, ন্যাশনাল জিওগ্রাফী, ওয়ার্ল্ডপ্রেস ফটো এক ছবিতেই কুপোকাত। কিন্তু কোন বাচ্চা কিংবা নিদেন পক্ষে কোন নারীকে জ্বলন্ত পুড়তে দেখা গেলনা। নিশ্চয়ই মারা গেছে কয়েকজন, কিন্তু কতজন কি সেটা বের করাই তো মুশকিল, পুরো জায়গাটা ভষ্ম হয়ে গেছে। দেখি কাল সকালে আবার.......... হয়ত ঝিলের ভেতর থেকে কোন পোড়া লাশ ভেসে উঠবে। লোকে বলে, “যেখানে দেখিবে ছাই উড়াইয়া........”।



৩রা নভেম্বর ঢাকার পত্রিকা বা নিউজ চ্যানেলের বক্তব্য হবে এরকম। ঢাকা শহরের বা এর বাইরের বড় বড় শহরগুলোতে বিভিন্ন সময়ে বস্তির পুড়ে যাওয়া খবর প্রায়শই আমাদের চোখে পড়ে । অনেকেই অনুমান করেন যে এই রহস্যজনক অগ্নিকান্ডের পিছনে নানান অসৎ উদ্দেশ্য থাকতে পারে। যেমন গতকাল ২রা নভেম্বর রূপনগর সংলগ্ন ঝিল পাড় বস্তিতে আগুন লেগে প্রায় পাঁচ শতাধিক ঘর পুড়ে গেছে। রাত ৯টা নাগাদ এলাকার মানুষ জন পুব-আকাশে আগুনের লেলিহান শিখা দেখে এগিয়ে যায়। মূলত ঝিলটিকে কেন্দ্র করেই এই বস্তি গড়ে উঠেছিল। ঝিলের পানি দখল করে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের মদদে এই বস্তিটি গড়ে ওঠে সেই ৯০ এর দশক থেকে। এখানে বাঁশের মাচা করে খুবই ঘনভাবে অনেকগুলো ঘরও তৈরী করা হয়েছিল, যেখানে বস্তিবাসী মানুষজন বসবাস করতেন। এখানেই দরিদ্র মানুষের আশ্রয় গড়ে উঠেছিল। স্থানীয়রা প্রাথমিকভাবে অনুমান করছেন যে অবৈধ গ্যাস লাইন বিস্ফোরণের ফলেই এমনটা হয়েছে। এখন পর্যন্ত নিশ্চিত করে হতাহতের খবর কেউই বলতে পারছেন না। নারী শিশু বৃদ্ধ সহ অনেকেই এখন পর্যন্ত নিখোঁজ। খুব আগুন খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় বস্তিবাসী অনেকেই তাদের মালামাল নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিতে পারেন নি। এদিকে রাস্তায় প্রচন্ড জ্যামের কারণে ও আগুনের খবর জানাতে দেরী হওয়ায় দমকল বাহিনীও ঠিক সময়ে সেখানে উপস্থিত হতে পারেনি। বাস্তুচ্যুতি ও স্বজন হারানোর আহাজারীতে সেখানকার পুরো পরিবেশ থমথমে হয়ে রয়েছে।


আগুনের বস্তি।


আমি জানি না প্রতিটা সকাল তার রাত্রির ইঙ্গিত দেয় কিনা। আজকে সকালে উঠে প্রথম যে ছবিটা তুলেছিলাম সেটা এইটা, এত রক্তিম এত দাউ দাউ আকাশ।

কিন্তু সারাদিন অফিস করে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিয়ে যখন বাসায় ফিরছি, তখনি দেখি পুব আকাশ দাউদাউ করে জ্বলছে। আর মানুষের ঢল ছুটে চলেছে আগুনের উৎসের দিকে, তারা প্রাণপণ চেষ্টা করছে এই লেলিহান আগুন নেভাতে।



অসহায় মানুষ আপ্রাণ চেষ্টা করছে যতটুকু সম্ভব সম্বল বাঁচানো যায়। কি কষ্ট আর শ্রমের বিনিময়ে যে এই অর্জন তা আমরা অনেকে কল্পনাও করতে পারবো না।



নৃশংস শহরে শেষ আশ্রয় হারানো যে কি সেটা অনুমান করাও অন্য শ্রেনীর জন্য দু:সাধ্য।


অপরাপর বিত্ত থেকে সাধারনত অভিযোগ করা হয় যে বস্তি নিজেই সকল অপরাধের উৎস। কিন্তু পরিষ্কার কথা হল, প্রতিটা সামন্ত এলাকার বিত্তবানদের বিলাসের জন্য যে স্বস্তা শ্রমের প্রয়োজন, দেহের প্রয়োজন সেগুলো সরবরাহের জন্যই বস্তির সৃষ্টি। খেয়াল করে দেখবেন ঢাকার বিভিন্ন অভিজাত এলাকার চারপাশে বস্তি রয়েছে। আর এসব বস্তি সেই মানুষগুলোর জন্য যারা তাদের শ্রম অনেক কম মূল্যে বিক্রি করতে বাধ্য হন। তাদের আশ্রয়ের জন্যই এই বস্তি। বস্তি হল মহানগরের উপদংশ লুকাবার স্থান।


আজ যে বস্তি পুড়ে ছাই হয়ে গেল তাতে আশপাশের কত যে গার্মেন্টস কর্মীর কত যে রিকশা চালকের সারাজীবনের সঞ্চয় আর স্বপ্ন পুড়ে গেল সেই বাস্তবতা বুঝবেন না অনেকেই। নিম্ন আয়ের কত মানুষের সারা জীবনের কষ্ট করে গড়ে তোলা সম্ভাবনা যে পুড়ে গেল সেটাও অনেকেই আন্দাজ করতে পারবেন না।



রইল অবৈধ পানি, গ্যাস, বিদ্যুতের কথা। এটাতো সরকারই নিশ্চিত করেছে, যাতে বস্তিবাসী মানুষজন সবসময় অবৈধ থাকেন। কারণ কোন হোল্ডিং নাম্বার ছাড়া সরকারের তরফ থেকে পানি, গ্যাস, বিদ্যুতের কোন বৈধ বিতরণ ব্যবস্থাই নেই। আর বস্তিতে হোল্ডিং নম্বর দেবে কে? ফলে সরকারের ব্যবস্থার মধ্যেই বৈধতার কোন স্থান নেই।



(দমকল এল, কিন্তু যখন এল ততক্ষণে যা পুড়ে যাবার তা পুড়ে গেছে।)

আরেকটা কথা। আমার পরিচিত এক বস্তিতে বৈধভাবে পানির বিল দেবার সুযোগ করে দেয়া হয়েছিল, বিশেষ ব্যবস্থায়। দেখা গেছে যে দশ বছরে তাদের বিল দেবার সময় ও তারিখ ম্যানটেইন মধ্যবিত্তের চাইতে কয়েকগুনে ভালো। তারা নিয়মিত বিল দিয়ে গেছেন একবারও খেলাপী হয়নি। কিন্তু এরপরও তারা সব ধরণরে ভালনারিবিলিটির কেন্দ্রে বসবাস করেন। তারা হলেন মহানগরের রেফিউজি।



কি নিয়ে তর্ক হবে আর, রাষ্ট্রের সিস্টেমেটিক কিলিং আর নাগরিক ভাগাড় তৈরীর বৈধতা নিয়ে? আমার আর আগ্রহ জাগে না।



কারণ সেটা অনেক আগেই ব্যবস্থার মধ্যে এমবেডেড। আমরা ভোগ করবো আমাদের ভোগের জন্য একদল দাস থাকবে, তারা বস্তিতে থাকবে এবং আমাদের কাছে পরিষ্কার হাইজিন হয়ে আসবে। আমরা আবার তাদের নিয়ে এনজিও করবো, আর্ট কালচার করবো। তারা আমাদের সামনে আগুনে পোড়া ছাই হয়ে আসবে, লাল আর ছাই রংএর কড়া কন্ট্রাস্ট হয়ে আসবে।



আমরা দরিদ্রের ছবি বেচবো, আর নিজের ট্যাক ভর্তি করবো...বস্তি থাকবে...এনজিও আর দরিদ্র-বেচা আর্টকালচার থাকবো। প্রদর্শনী শেষে আমাদের গ্যালারী বস্তিবাসী পরিষ্কার করে দিয়ে যাবেন।



বস্তির মানুষদের এরকম করেই অস্তিত্বের লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।



এনজিও হবে আর্টকালচার হবে, কোর-পেরিফেরি হবে আর মহানগরের উপদংশ নিয়ে বস্তি বেঁচে থাকবে। ধর্ষিত হবে, ধর্ষিত নারীর শিশুকে জন্ম দেবে আর সভ্য পরিষ্কার মানুষেরা তোরা বস্তির মেয়ে বস্তির ছেলে বলে গাল দেবে আবার যুবতী বুয়ার তাজা বুকে হাত বুলিয়ে অধরা সঙ্গম স্বাদ আর অপরাধ বোধে ভুগবে।



ছবি তুলে যখন ফিরছিলাম তখন আর্টকালচারের এক বন্ধুর সাথে দেখা। দেখা হওয়া মাত্রই তার আবদার; ছবি তুলে দিতে হবে। সবার প্রথমে আমি বললাম আমি বললাম জানো আধঘন্টার আগুনে ৫০০ ঘর পুড়ে শেষ। ঔযে দেখা যাচ্ছে এখনো আগুনের রেশ। ও বলল আমি জানবো কিভাবে আমি তো বাইরে ছিলাম, আমি তো নাটকের রিহার্সেলে ছিলাম, এইমাত্র এলাকায় নামলাম। কিন্তু ও একবারও বলল না চল গিয়ে দেখি কি হয়েছে অন্তত দেখে আসি। শ্রেণীর গল্পে আমরা সবসময় এরকম বাইরেই থাকি। আগুনে পুড়ে যাওয়া বস্তি আমাদের অনেক অনেক দূরে, শুক্রবারের সাপ্লিমেন্টের পাতায়।

তো তার আবদার ছিল এই কোরবানীতে অনেক গুলো বিভৎস জবাইয়ের ছবি তুলতে হবে যেটা দিয়া নাটকের বলি দৃশ্যের জন্য একটা ১মিনিটের স্লাইড শো হবে। আমি মনে মনে বলি মহানগরের বলি নিয়ে বস্তির আগুন নিয়ে নাটক হইলে সেইটা তো আরো বিভৎস হয়, রগরগে হয়। তখন না হয় একটা পোয়েটিক কনক্লুশনও দেয়া যায়। আজকের মতই।

যেমন, আজকে এই বস্তি পুড়ল কেন? কারন অন্য বিত্তের মানুষ জনের আকাশে আজ অনেক সুন্দর একটা চাঁদ উঠছে এই জন্যে।



বি:দ্র: প্রথমে ভাবলাম একটা খবর হিসেবে ছবি সহ দিলে পোষ্ট অনেক ব্লগ ব্লগ হইব। ইনফো ইনফো লাইভ লাইভ হইবো। কিন্তু এই সব বালের কি দরকার, আমি যেটা যেমনে প্রকাশ করতে চাই সেটা সেভাবে দিলেই তো আসল কথা কওন হয়।

 

সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা নভেম্বর, ২০০৯ সকাল ৭:৫২ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

০৩ রা নভেম্বর, ২০০৯ সকাল ৮:০২

লেখক বলেছেন: কি ভালো লাগলো অনিন্দ্য?

২. ০৩ রা নভেম্বর, ২০০৯ রাত ২:২৭
মানবী বলেছেন: কি বলবো বুঝতে পারছিনা!!!


চলুন আমরা চাঁদকেই দোষারোপ করি.....

০৩ রা নভেম্বর, ২০০৯ সকাল ৮:০৩

লেখক বলেছেন: হ্যা চাঁদকেই দোষারোপ করি বরং।

৩. ০৩ রা নভেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৩৮
মানবী বলেছেন: দিন শুরুর ছবিটা ভীষণ সুন্দর...!! - রাতের লেলহান শিখায় এই কম্প্লিমেন্ট জানাতেও কেমন বেমানান আর অপরাধী মনে হচ্ছে !


বস্তীবাসী এই হতভাগ্য মানুষরা যেনো ভালো থাকেন। তাঁদের এই ক্ষতি যেনো শিঘ্রী পূরন হয়ে যায়, প্রার্থনা রইলো।

পোস্টটির জন্য ধন্যবাদ অন্যমনস্ক শরৎ।
৪. ০৩ রা নভেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৩৮
শুভ রহমান বলেছেন: চমৎকার হয়েছে। ছবি ব্লগ + বিষয়বস্তু + বর্ণনা। ৫
০৩ রা নভেম্বর, ২০০৯ সকাল ৮:০৩

লেখক বলেছেন: কি ভালো লাগলো ছবিয়াল?

৬. ০৩ রা নভেম্বর, ২০০৯ সকাল ৭:৩৮
ছন্নছাড়ার পেন্সিল বলেছেন:
১.কিছুদিন আগে আমি ছিন্নমূল মানুষ নিয়ে ফটোগ্রাফি দেখে বলছিলাম এই ফটোগ্রাফার (বা এই ধরনের) -কে আমার কেমন ভণ্ড লাগছে। নিজস খ্যাতি বা সৃষ্টির জন্যে মানব দুস্থতার ঘাড়ে পা রাখাটা অনেকটাই পাশবিক। তেমনিভাবে সাহায্যপ্রার্থী সকল সংগঠনকেও আমার তেমন লাগে কারণ আমি জানি পুরোটা পয়সা উদ্দেশ্যে পৌঁছায় না।

২. পুরো পোস্ট পড়ে মন্তব্যে হোঁচট খেলাম। 'ভালো লেগেছে' - এই প্রতিক্রিয়া উৎপন্নের জায়গা কোথায়, এবং সেটা ব্রেনের যে অংশে উৎপন্ন হয় সে অংশে আর কি কি আছে তা জানার কৌতূহল হচ্ছে।

৩. প্রথম ছবিটা দেখে 'লর্ড অফ দ্য রিংস' উপন্যাসের একটা উক্তি মনে পড়লো। এমন রক্তাক্ত ভোর দেখলেই ধারণা করা হয় গতরাতে কোথাও নির্দোষের রক্তপাত হয়েছে! মারা গেছে কেউ কেউ ভয়ানক অত্যাচারিত হয়ে। রূপকথার কিছু কিছু ঘটনা কী প্রবলভাবেই বাস্তব!
৭. ০৩ রা নভেম্বর, ২০০৯ সকাল ৭:৫৭
অন্যমনস্ক শরৎ বলেছেন: ছন্ন আপনার ২য় কমেন্টর মত আমি সত্যি ভাবিত। মানুষ পোড়ার মধ্যে নন্দন তত্ব খোঁজার মত আর্ট কালচার আমি হতে চাই না। এই জন্য এত টেক্সট এর অবতারনা। হয়ত অনেক আগেই আমাদের ভেতরে খুব গুরুত্বপূর্ণ কিছু পুড়ে গেছে।
৮. ০৩ রা নভেম্বর, ২০০৯ সকাল ৮:১১
ছন্নছাড়ার পেন্সিল বলেছেন: আমরা খুব ফ্যানাটিক আর ফ্যান্টাস্টিক রিয়েলিটিতে বাস করি। নিজের ভাই বোনের হালকা অসুখে পাগল হই, আর রাস্তায় পড়ে কেউ মারা গেলেও নির্বিকার হেঁটে চলে যাই।

সেদিন কাকলি মোড়ে একটা উলঙ্গ পাগল দেখলাম, বাসস্ট্যান্ডের পাশে সুন্দর হেঁটে বেড়াচ্ছে। আশে পাশের পরিপাটি মানুষগুলো তাকিয়ে দেখছে এবং তাদের মুখে কোনো ভাবান্তর নাই!
আমি ভাবিত হলাম।
০৩ রা নভেম্বর, ২০০৯ সকাল ৮:৩৩

লেখক বলেছেন: হ্যা ছন্ন, আমাদের বাইরের আর ভেতরের হিসাব এত অদ্ভুত আর পরিষ্কার যে ভাবতে অবাকই লাগে..কি অবলীলায় আমরা বিযুক্ত হয়ে পড়ি। যে বস্তি গতকাল পুড়ে গেল, সেখানেই আমার ফলের দোকানদারের ঘর ছিল, সেলুনের পরেশ দার ঘর ছিল, এলাকার মুচি র ঘর ছিল। কিন্তু এদের জীবন এর সাথে সার্ভিস রিলেশন ছাড়া আমাদের কোন যুক্ততা নাই.....আমরা অনেক দূরের। এই দূরত্ব শেখাটাই শ্রেণী.....এই ভুলে যাওয়াটাই সুখ।

৯. ০৩ রা নভেম্বর, ২০০৯ সকাল ৮:৫৭
মুনীর উদ্দীন শামীম বলেছেন: এ ঘটনাটি খুব কাছে থেকে দেখার দুর্ভাগ্য হয়েছে আমার। আমি যতক্ষণ পর্যন্ত দেখছিলাম (আসলেই দেখছিলাম, কারণ আগুন নেভানোতে তেমন কিছু করতে পারিনি, কেবল ফায়ার ব্রিগেডে একটি ফোন করা ছাড়া) তখন পর্যন্ত দমকল বাহিনী এসে পৌছায় নি। মানুষগুলোকে হাতে টিভি এবং দু'একটি দরকারী জিনিষ নিয়ে বের হতে দেখেছি। তাদের চোখে-মুখে যে উৎকন্ঠা আর অনিরাপত্তা উৎপাদিত হয়েছিল তা বলে প্রকাশ করার মতো নয়। ভেতর থেকে দৌড়ে আসছে। কিন্তু আগুনের লেলিহান শিখা ভেতরে ঠিক করছে, কতখানি করছে কিছুই জানে না। কেবল সামন্য জীবন খানি নিয়ে ছুটে আসা।
.........................................................................................................
ছবি ও লেখার বর্ণনা, আবেগ, দ্রোহগুলো পড়ছি আর ভাবছি। মন্তব্য করার ভাষা নেই। সত্যি কথা বলতে কি, ঠিক বস্তিতে আগুন না লেগে তার একটু ওপরে লাগলে আমরা যারা ওপরে থাকি, নাগরিক মধ্যব্ত্তি, তারা আতংকিত হতাম একটু খানি বেশি। এ আতংকিত হওয়া না হওয়ার মধ্যেই শ্রেণীর অবস্থানটি পরিস্কার। একটু ওপরে থাকা মানুষগুলো যে আতংকিত হইনি তাও নয়। অনেকে নিশ্চিত হতে চেয়েছেন ঠিক তার 'বুয়া' যেখানে থাকে ওখানে আগুনটা লেগেছে কি না। কারণ ওখানে আগুন লাগলে তার সকালটাই মাটি হয়ে যাবে।
পোস্টে +++++++++++++ এবং প্রিয়তে
০৩ রা নভেম্বর, ২০০৯ সকাল ৯:১০

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ শামীম। বস্তির আগুনের আঁচ যতক্ষণ পর্যন্ত ফ্ল্যাট পর্যন্ত না পৌছায় ততক্ষণ অপর- উচ্চবিত্ত মিডিয়ায়, আলাপে যে কুম্ভীরাশ্রু বিসর্জন দেয় তা আসলে মুত্র। শ্রেণী মূত্র.....কখনো এই পেশাবের রং লাল, কখনো কালো, কখনো মদ মদ।

বুয়া দারোয়ান ড্রাইভার পতিতা গার্মেন্টস শ্রমিক সবাই এই উপদংশীয় মূত্রের ক্ষুদ্র জীবাণূ। জীবাণু যতক্ষণ প্রতিরোধ করা যায় ততক্ষণ তো আমরা এটাকে আর পাত্তা দেই না। কিন্তু যখনি এটা ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা জাগায় তখন সেটাকে আমরা পুড়িয়ে দেই।

১০. ০৩ রা নভেম্বর, ২০০৯ সকাল ৯:০৩
ছন্নছাড়ার পেন্সিল বলেছেন: শামীম ভাইয়ের মন্তব্যটা পছন্দ হলো। (আমি এই পোস্টে এসে আসলে ভালো কিছু খুঁজতেছি। পজেটিভ কিছু। সকাল সকাল মন ভারি হয়ে গেছে)
১১. ০৩ রা নভেম্বর, ২০০৯ সকাল ৯:২০
বৃত্তবন্দী বলেছেন: আমিও ভন্ড অনেকের মত...
০৩ রা নভেম্বর, ২০০৯ সকাল ১০:০৫

লেখক বলেছেন: হুমম, আমাদের শ্রেণী আমাদের চেয়েও ভন্ড।

১২. ০৩ রা নভেম্বর, ২০০৯ সকাল ৯:৩০
নুশেরা বলেছেন: হরিবল্... এই আগুন, এই ধ্বংস, আমাদের বিশেষায়িত উৎকণ্ঠা- সবকিছুই...

প্রিয়তে রাখার মতো একটা পোস্ট কিন্তু এইটা চোখের সামনে সর্বক্ষণ দেখার মতো মনের জোর নাই...

০৩ রা নভেম্বর, ২০০৯ সকাল ১০:০৬

লেখক বলেছেন: হুম নুশেরা, আমাদের সংবেদনকে আর কত পোড়াই।

১৩. ০৩ রা নভেম্বর, ২০০৯ সকাল ১০:২৪
মুক্তি মণ্ডল বলেছেন: শেষের ছবিটা চেনা চেনা লাগে..তবু অচেনা।

আর পুরো পোষ্টের এত লাল ( লাল বলবো না কি বলবো বুঝতেছি, এ নিয়ে পলিটিক্স এ না যাই)। নিজের ভিতরও দাউ দাউ করে উঠছে। হয়তো ভিতরে থেকে যাবে। যতটুকু থেকে যাই ভিতরে ততটুকুই আসল।

শাঁই আমার কখন খেলে কোন খেলা..বুঝতেছি না..
০৩ রা নভেম্বর, ২০০৯ সকাল ১০:৪০

লেখক বলেছেন: হ্যা মুক্তি সেই ছবিটাই, ভরা পূর্ণিমার। জীবন কিরকম আনস্পেক্টেড দেখেন। গতকাল সকালের এই ছবিটার কথাই বলছিলাম, যেটা দেখাতে পারি নাই।

শাঁই যে কখন কোন খেল দেখায় কে জানে....

১৪. ০৩ রা নভেম্বর, ২০০৯ সকাল ১০:৩১
আমি ও আমরা বলেছেন: মামা এইরকম পোষ্টে কি বল্বো বুঝতাছিনা। আগুন লাগলো ব্যাপারটা কষ্টদায়ক, কেমনে আগুন লাগলো কিভাবে লাগলো তার কথা খই ভাজা মানুষেরা কইবো। তবে তোমার ছবি গুলো দেখে আমি অবাক হয়ে আছি সকাল থেকে।
০৩ রা নভেম্বর, ২০০৯ সকাল ১০:৪২

লেখক বলেছেন: আমারো ছবি তুলতে যেয়ে মনে হচ্ছিল বারবার....অবাস্তব কিছু ঘটতে দেখছি..পুরো অবাস্তব কিছু ঘটতে দেখছি।

এটা ধারণ করাও ভীষণ কঠিন।

১৫. ০৩ রা নভেম্বর, ২০০৯ সকাল ১০:৩৮
মানবী বলেছেন: এটা এমন একটি পোস্ট, যেখানে প্রতিটি মন্তব্যই বেমানান মনে হচ্ছে, পোস্টের বিষয় ও ছবির ভয়াবহতার কারনে।

শরৎ সম্ভব হলে উদ্যোগ নিন, আমরা সাধ্যমতো ফান্ড রেইজের চেষ্টা করি... যদি একটি পরিবারকেও পুনর্বাসিত করা সম্ভব হয়!
তা না হলে, পোস্টটি দেখে যাঁদের ভালো লাগলো , যাঁদের লাগলোনা.. সব কিছুই এক.. লেখকের ভাষায় "সংবেদনের দহন" মাত্র!!
০৩ রা নভেম্বর, ২০০৯ সকাল ১০:৪৪

লেখক বলেছেন: এই একটা কাজই করা যেতে পারে মানবী..এই কাজই কাজের কাজ হতে পারে। আমি আরো খোঁজ খবর করছি কিভাবে সাহায্য করা যেতে পারে সেটার রাস্তা বের করি।

অনেক ধন্যবাদ মানবী।

১৬. ০৩ রা নভেম্বর, ২০০৯ সকাল ১০:৪১
কালপুরুষ বলেছেন: ক্ষোভের আগুনে আলো নেই আঁচ আছে। আর সেই আঁচে যখন বোধ পুড়তে থাকে তখন নিজের চেতনা থেকে শুধু ধোঁয়াই উঠতে থাকে। আলোগ্রাসী এই বোধহীন সমাজে আমরা শুধু ছাইটুকু সাজিয়ে রাখি প্রদর্শনীর জন্য। লজ্জা করে যখন ছাই ঘেঁটে শিল্পকর্ম খুঁজে ফিরি। মৃত্যু আর যন্ত্রণার মধ্যে কোন নান্দনিকতা নেই আছে শুধু উপহাস- আমরা এক শ্রেণীর মানুষ অত্যন্ত দক্ষতার সাথে অভিনয় করে সেই উপহাসকে দুঃখে রূপান্তিত করার চেষ্টায় রত। নিজের উপর ধিক্কার আসে। তবুও পরিশেষে বলতেই হয়- সমবেদনা রইলো সেই সকল ক্ষতিগ্রস্থ জনপদের দুঃস্থ মানুষদের জন্য যারা নিরন্তর নিজেদের পুড়িয়ে আমাদের আলোকিত করে।
০৩ রা নভেম্বর, ২০০৯ সকাল ১০:৪৫

লেখক বলেছেন: গতকাল থেকে আমার কর্নিয়া পুড়ে গেছে কালপুরুষ দা, একেবারে ভেতরের কর্নিয়া পুড়ে গেছে।

১৭. ০৩ রা নভেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১:৫১
কৌশিক বলেছেন: এক্সিলেন্ট। অনবদ্য। ছবির চেয়ে তোমার বিশ্লেষণ চমৎকার হয়েছে। ভুল বললাম। দুটো দুই মিডিয়ামের শ্রেষ্ঠ। এককথায় তুলনাহীন।

অনেক অনেক ধন্যবাদ।
০৩ রা নভেম্বর, ২০০৯ রাত ৮:৫৯

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ কৌশিক। আগুন যে লাগছে সেটা তুমি ই দেখায়া দিছিলা।

১৮. ০৩ রা নভেম্বর, ২০০৯ দুপুর ২:৩৫
হক মাহবুব বলেছেন: আপনার ছবি আর লেখাটা পড়ে কালকের দেখা অজস্র আগুন আর আগুনের চারপাশে আরও কি কি ঘটেছে মনে পড়ছে।

আপনার চোখে পড়েছে হয়তো কিন্তু বলেননি। আমি দেখেছি অজস্র অগুন্তি মানুষ চিৎকার করছে। কেউ কাঁদছে, আবার কেউ হাত সাফাই করেছে। একজনেরতো মাথায় একটা আধলা ইট পড়েছে ভাগ নিতে গিয়ে। দেখেছি একগাদা সবুজ-কালো-সাদা পাঞ্জাবী-প্যান্ট পরা কিশোর-যুবারা তাদের অতৃপ্তির কিছুটা মিটিয়ে নিচ্ছে চলমান অসংখ্য কিশোরীদের কারো কারো গায়ে।

আলুর গুদাম আবার কবে পুড়বে দাদা!!!!! আবার যাবো দেখতে। ওখানে সুন্দরী রমণীরা থাকবে। দেখবো তাদের কান্নার মতো হাস্যরস। রোম পুড়বে- নীরো বাঁশী বাজাবে।

আপনাকে ধন্যবাদ। সত্যকে তুলে ধরার জন্য।
০৩ রা নভেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:০০

লেখক বলেছেন: রোম পুড়বে আর আমরা ব্লগ করব।

ধন্যবাদ হক মাহবুব।

১৯. ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:১২
অতন্দ্র তওসিফ বলেছেন: কয়েকদিন পর আবার একটা বস্তি পুড়বে। আমরা সকালে গরম চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে পত্রিকায় সে খবর পড়ব, ছবি দেখব। নব্য-জমিদারদের গেলান মিথ্যা কথাও গিলে হয়তো বলব ওদেরই দোষ, অথবা একটু আহা-উহু করতেও পারি। তারপর ভুলে যাবো...

কয়েকদিন পর আবার একটা বস্তি পুড়বে। যদি আমাদের বাসার কাছে হয়, শঙ্কিত হব। আগুন আমার বাসা পর্যন্ত আসবে না তো? আমার বুয়া কাল কাজে আসবে তো? আর মনেমনে ওদের গালাগাল করব, "এত কেয়ারলেস কেন বস্তির লোকগুলো?" তারপর ভুলে যাব...

ভুলে যাওয়ার এ দুষ্টচক্র থেকে মুক্তি চাই... ভুলতে চাইনা আর...
০৪ ঠা নভেম্বর, ২০০৯ সকাল ৭:৩৯

লেখক বলেছেন: আমাদের পুড়ে গেছে কোথাও খুব ভেতরে খুব ভেতরে...তাই ভুলে যাই সহসাই।

২০. ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:২১
উদাসী স্বপ্ন বলেছেন: নিজের রক্তপানি করে খেয়ে না খেয়ে জমানো শখের জিনিস বা বেচে থাকার শেষ সম্বল যদি চোখের সামনে লেলিহান আগুনে পুড়ে যায় তখন হয়তো জীবনটাকে প্রথম থেকে শুরু করার বদলে অনেকেই হয় পাগল নাহলে আরেক আগুনে ঝাপ দেয়!

এভাবেই হয়তো আমাদের দেশে নির্দোষ পাপগুলো বড়রা করে যাচ্ছে আর আমরা ছোটরা দেখছি নিজেদের নিঃস্ব হওয়া তিলে তিলে!

হয় তাদের সাথে পা মিলিয়ে চলো নাহলে আগুনে পুড়ে মরো.....এটাই হয়তো বাস্তবতা!
০৪ ঠা নভেম্বর, ২০০৯ সকাল ৭:৪০

লেখক বলেছেন: দৈনন্দিন পুড়ে মড়ার চাইতে এই পোড়া অনেকে প্রতীকি লাগে উদাসী।

২২. ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০০৯ সকাল ১১:০১
মানবী বলেছেন: "লেখক বলেছেন:.................. আমি আরো খোঁজ খবর করছি কিভাবে সাহায্য করা যেতে পারে সেটার রাস্তা বের করি।"

- আপডেট জানতে এসেছিলাম।

অন্যকোন উপায় খুঁজে না পেলে নিজের নামের নতুন একটি এ্যাকাউন্টে এই হতভাগ্য মানুষদের জন্য সাহায্য সংগ্রহ করতে পারেন। যাঁরা আপনাকে বিশ্বাস করবে, শুধু তাঁরাই নাহয় দিলেন, তবুতো কিছু একটা করা হলো!

ভালো থাকুন শরৎ।
২৩. ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০০৯ দুপুর ২:৪৩
অন্যমনস্ক শরৎ বলেছেন: আপডেট দেই মানবী।

আগুন লাগার দিন রাতে উদ্বাস্তু মানুষজন রাস্তাতেই রাত কাটান। পরদিন সকাল বেলা দিনের আলোয় অবশিষ্ট আর কিছু পাওয়া যায় কিনা সেটা নিয়া অনুসন্ধান চলে। সৌভাগ্যবশত এখন পর্যন্ত নিশ্চিত মৃত্যুর কোন খবর পাইনি। তবে নিখোঁজ ব্যক্তি রয়েছেন, শিশু রয়েছেন।

এরপর আমি খোঁজখবর শুরু করি কিভাবে সাহায্য সহযোগীতা করা যায় সেই বিষয়ে। এত বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন যে এর মধ্যে থেকে একটি বা দুটি পরিবারকে সাহায্য করতে যাওয়া আপাতত খুব কাজের হবে না। পুরো কমিউনিটিতে এর ছাপ পড়বে। কেননা এর মধ্যে বাছাইয়ের প্রশ্নটা চলে আসে প্রথমেই। কাকে রেখে কাকে সাহায্য করবব? ফলে সময় নিচ্ছি এর মধ্য দিয়ে কোন একটা রাস্তা বের করা যায় কিনা। সেটা শেষ পর্যন্ত কার্যকর হবে বলেই মনে করি।

যখনি এই উত্তর লিখতে বসলাম তখনি লাইন কেটে গেল। এইমাত্র লাইন আসল তাই এখনি উত্তর করছি।
২৪. ০৯ ই নভেম্বর, ২০০৯ সকাল ১১:৫২
মানবী বলেছেন: তাঁরা এখন কেমন আছেন? সারকারী সহায়তা কিছু পৌঁছেছে আশা করি।
আমাদের ছোট সার্মথ দিয়ে সকলের জন্য সামান্য কিছু হলেও করা সম্ভব আশা করি।
২৫. ১৮ ই নভেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:১৭
নাজিম উদদীন বলেছেন: মনজুরুল হকও শিপইয়ার্ড নিয়ে এরকম কথাই বলেছেন, মানুষের দুর্দশা নিয়ে আমরা শিল্পকর্ম করি।
২৬. ২৫ শে নভেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৩:২৮
যীশূ বলেছেন: অসাধারণ! প্রিয়তে।
১৪ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ সকাল ১০:৪৯

লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ যীশূ।

২৭. ০৫ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ৩:১৫
আহমাদ মোস্তফা কামাল বলেছেন: ব্লগে অনেক লেখাই পড়ি, সবসময় মন্তব্য করা হয় না। অনেকদিন আগে আপনার এই লেখাটি পড়তে পড়তে আর ছবিগুলো দেখতে দেখতে আমার চোখ ভিজে উঠেছিলো-- আজ আপনার ছবি-ব্লগগুলো দেখতে দেখতে মনে পড়ে গেলো সেকথা।

আপনাকে দেখলে বোঝা যায় না-- কী অসামান্য সংবেদনশীল মন নিয়ে আপনি ঘুরে বেড়াচ্ছেন!
০৫ ই জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ১১:০০

লেখক বলেছেন: আপনি নিজেও অসামান্য সংবেদনশীল বলেই তো এর অনুরনণটুকুতে সংক্রামিত হলেন। অনেক অনেক ধন্যবাদ।

 

মোট সময় লেগেছে ২.৯৬৯৯ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
তুমি তোমার ইমেজ মতই
প্রোফাইল বানাও
কি ব্লগে
কি জীবনে
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ