হত্যাকান্ড নৃশংসতম অপরাধ। বঙ্গবন্ধু, জাতির জনক ইত্যাদি অভিধায় অভিহিত না করেই কেবল একজন নেতার, দেশপ্রেমিক সত্তার সপরিবারে হত্যাকান্ডের বিচারের জন্য অপেক্ষা করছি। কেননা হত্যাকান্ডের মত অপরাধের বিরুদ্ধে শক্ত হয়ে দাঁড়াতে অভিধার প্রয়োজন হয় না। দরকার হয় ন্যায়-বোধের, নৈতিকতার। আর যে জনগোষ্ঠীতে এইসব হাস্যকর হয়ে ওঠে সেখানে আর সভ্যতা, বিশ্বাস, একত্র অবস্থান বলে কোনকিছু থাকে না।
যে রাতে বঙ্গবন্ধু মারা যান সে রাতে বহু বহু দূরের সাধারন এক নারী, আমার মা স্বপ্নে দেখেছিলেন বঙ্গবন্ধু কাঁদতে কাঁদতে তার কাছে আসছেন, তাকে অস্থির দেখাচ্ছে। পরদিন সকালে রেডিওতে তিনি খবর পান বঙ্গবন্ধু স-পরিবারে নিহত হয়েছেন। আজ সকালে দৈনিকের প্রথম পাতায় বঙ্গবন্ধুর ছবির দিক তাকিয়ে তিনি কেঁদে উঠলেন, বললেন এই পোশাকেই তাঁকে সবচেয়ে সুন্দর লাগতো। একজন সাধারণ বাঙালীর প্রতিকৃতি। দোষে-গুনে মেলানো মানুষ। তিনি বঙ্গবন্ধুর মুখের সেই পুরোনো হাসি দেখতে চান আজ।
আমি তার সন্তান, বেশ কয়েক প্রজন্ম পরের বাঙালী। বাংলাদেশের নাগরিক। জ্ঞান, বিবেচনা বুদ্ধি সবকিছু মিশিয়ে অনেক বেশি সমালোচোনামনষ্ক, অনেক বেশি আবেগ রহিত।
কিন্তু এই একটি বিষয় বোঝার জন্য বিশেষ কোনকিছুই হতে হয় না। হত্যাকান্ডের শাস্তি হতে হবে এই বিষয়ে কোন সন্দেহ থাকার অবকাশ নেই। এখানে দলাদলির কোন সুযোগ নেই....। শেখ মুজিবর রহমানের মত, জিয়াউর রহমানের, চার নেতার হত্যাকান্ডের বিচার হওয়াটাও তাই একই রকম গুরুত্বপূর্ণ।
আমি আমাদের জাতিগত পাপমোচনের এই মাহেন্দ্রক্ষণে উৎকন্ঠিত হয়ে বসে আছি...আমি আমার পরবর্তী প্রজন্মকে এই পাপের ভাগীদার করতে চাই না।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

