somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাড়ী ওয়ালীর বিশদশ অথবা উদ্বাস্তুর বছর শুরু (দেরীতে শুভেচ্ছা জানানোর জন্য দু:খিত)

০১ লা জানুয়ারি, ২০১০ রাত ৯:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ব্লগারদের সবাইকে ইংরেজী নব বর্ষের শুভেচ্ছা। উপযুক্ত সময়ের চাইতে অনেক দেরীতে শুভেচ্ছা জানাতে হল এ জন্য ক্ষমা চাইছি এক্কেবারে প্রথমেই। ইংরেজী নব বর্ষের প্রথম দিনটিকে আমরা মনে রাখি নানা কারণেই, যার অনেকটুকুই হয়ত একেবারে প্রয়োজন থেকে আবার একই সাথে আশাবাদ থেকেও। এই আশাই তো মানুষকে চালিয়ে নিয়ে যায় পুরোটা বছর। হয়ত এ জন্যই আমরা বিদায়ও জানাই উৎসবের মধ্য দিয়ে। আগের পোষ্টেই লিখেছিলাম ২০০৯ আমার জন্য নানা ঘটনাপূর্ণ ও আকর্ষনীয় বছর হিসেবে কেটেছে। এর শেষ আনন্দটুকু দিল ঘনিষ্ট ব্লগার বন্ধুর আন্তরিক আপ্যায়ণ। দারুন একটা সন্ধ্যা কাটিয়ে ফিরতে ফিরতে রাত হল; স্বাভাবিকভাবেই ক্রমান্বয়ে প্রয়োজনীয় যানবাহনও দুস্প্রাপ্য হয়ে উঠেছিল। কেননা পুরো ঢাকা তখন ৩১ উদযাপণের জন্য গুলাশান বনানীমুখী। যানবাহন সমস্যার খানিকটা সমাধানও হল আরেকজন ব্লগারের নিখাদ আন্তরিকতায়, তিনি গাড়ী করে এগিয়ে দিয়ে গেলেন কিছুটা পথ। এদিকে বাসা থেকে মা বারবার ফোন করছেন বাসা ফেরো বাসায় ফেরো গেট বন্ধ হয়ে যাবে । ঢাকা শহরে যাদের নিজেদের বাড়ী নেই তাদের জন্য এটা এক ভয়াবহ সিনড্রোম। রাত ১১টার মধ্যে ফিরতে হবে, আপনাকে দাবী দেয়া যাবে না, দারোয়ানেরও ঘুমাতে হবে, বাসায় এত গেষ্ট কেন, তারা কতদিন থাকবে? ইত্যাদি ইত্যাদি।

৭৫ বছর ধরে আমার দাদাবাড়ী লালবাগে, এর আগে ১৫০ বছর বিক্রমপুর মানে ঐতহ্য সূত্রে খাঁটি ঢাকাইয়া বলে দাবী করি যেখানে সেখানে। কিন্তু বাস্তবতা হল এই মহানগরে আমি ভ্রাম্যমান, উদ্বাস্তু । শ্রেণীতে মধ্যবিত্ত। শিক্ষিত, সৎ চাকুরীজীবি মা বাবার কল্যাণে ঢাকায় জমিজমা কেনার সুযোগ হয়নি বললেই চলে, মায়ের শেষ টাকা দিয়ে এক টুকরো জমি তাও কয়েক ভাগে। বাড়ী বানানো বা কেনা তো দূর স্বপ্নের মত। ফলে ভাড়া থাকি অন্যের বাড়ীতে, সেটা শৈশব থেকেই । যেমন দু বছর ধরে থাকছি দুয়ারী পাড়া ইষ্টার্ণ হাউজিং এ।

গতরাতে বাসায় ফিরতে পারলাম ১২:২০ নাগাদ। এসে যথারীতি কলিং বেল চেপে, দরজা ধাক্কিয়ে দারোয়ানকে ডাকছি, দারোয়ান কিছুতেই দরজা খোলে না, তার ঘুমই ভাঙ্গেনা। আমাদের বুয়া আবার বাড়ীওয়ালীর বাসায় যেয়ে চাবী ভিক্ষা করছে। কিন্তু তার শত অনুনয় বিনয়েও ড. করা বাড়ীওয়ালী দরজা খোলেন না, ধমক দেন; এদিকে বারান্দায় বেরিয়ে এসেছে তার ডা: কন্যা এবং আমাকে নামধাম দেরীর কারণ ইত্যাদির কৈফিয়ত দিতে বলছেন। দুই বছর ধরে এই বাসায় আছি, ফলে নতুন করে পরিচয় দেবার কিছু নেই তবুও আমি তাকে আমি শান্ত স্বরে বিস্তারিত বললাম এবং জানালাম নিচের দরজার চাবি পাঠিয়ে দিতে। এরপর আধঘন্টা পেরিয়ে গেছে আমি সর্বমোট এক ঘন্টা খোলা আকাশের নিচে, কারো কোন বিকার নেই। মা এবং বুয়া সিঁড়ির কলাপসিবল গেটের কাছে অসহায়ের মত বসে রয়েছেন। আমি মূল গেটের বাইরে কুয়াশা আর ঠান্ডায় কাঁপছি। এই সময়টাতেই মা আর থাকতে না পেরে বললেন বোনের বাসায় চলে যেতে। এই উপায়হীনতা আমার মধ্যে কি জানি ঘটিয়ে দিল। মূল দরজার দেয়ালটা ২৫ ফুট বা এর কাছাকাছি উঁচু ;উপরের মূল দালানের সাথে একটা মানুষ গড়িয়ে যাবার ফাঁক। কিভাবে জানি আমি সেই দেয়ালটা টপকে ভেতরে ঢুকে পড়লাম। এরপর কলাপসিবল গেটের কাছে যেয়ে দেখি মা বুয়া অসহায়ের মত বসে রয়েছেন। আমি বুয়াকে বললাম বাসা থেকে হাতুড়ী নিয়ে আসতে। আমি দৃঢ় সংকল্প করেছিলাম, আজকে আমি বাসায় ঢুকেই ছাড়বো। আমার হাতুড়ী আনতে বলার কথা শুনেই বাড়ীওয়ালী বুঝতে পারল যে খেলা তার হাতের বাইরে চলে গেছে। ঠিক তখনি অর্থাৎ আবেদন নিবেদনের দেঢ় ঘন্টা পর তিনি ফোন দিয়ে দারোয়ানকে জাগালেন!!! আশ্চর্য্য যে কিনা আমার দরজার আঘাতের শব্দে জেগে ওঠেনি।!!!

পুরো বিষয়টা যে বাড়ীওয়ালীর সাজানো তা পরিষ্কার হয়ে গেল চোখের সামনেই। আমি সকালে উঠে রাতের সেই কাপড়েই নতুন বাড়ী খুঁজতে বের হলাম এবং এখন অনন্ত ১০টা নতুন বাড়ীতে ওঠার সম্ভাবনা নিশ্চিত করে বাসায় ফিরলাম। টাকা দিয়েই যখন বাড়ীতে থাকি সেটা টাকার নতুন অপশনই বা হোক না কেন? বাড়ীওয়ালী বা ওয়ালাদের এই যে খাঁচার মালিকের মত আচরণ সেটাকে দেখে বাবা মা আর এই নষ্ট অর্থনীতিকে দোষ দিলাম শুধু। বারবার মনে হল কেন আমার বাবা মারা ঘুষ খায়নি, আর নিজেদের/আমাদের জন্য একটা বাড়ী বানিয়ে যায়নি, আর তাদের অধস্তন রা কিভাবে একের পর এক বাড়ীর মালিক সেজে বসে আছে। আমার যেভাবেই হোক খুব খুব ধনী হয়ে বাড়ীর মালিক হতে ইচ্ছে করছে....উদ্বাস্তুরা সততার দোষে এই নতুন অসততার স্বপ্ন দেখে বছর শুরু করলে.....রাষ্ট্র তাদের দোষ দিতে পারে কতটুকু?
১৮টি মন্তব্য ১২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×