ছোটবেলায় আইসক্রীম, চকোলেট, চুইংগাম যেখানেই ফ্লেভার বেছে নেবার সুযোগ হয়েছিল, চোখ বন্ধ করে বলেছি স্ট্রবেরী। আহ! স্ট্রবেরী। বিদেশী বলতে যা কিছু ভাল যা কিছু সুন্দর যা কিছু সুস্বাদু তার সবকিছুই স্ট্রবেরী। আহ! স্ট্রবেরী আহ!।
আরেকটু বড় হলে, কৈশোর পেরিয়ে নিউমার্কেটের পোষ্টারে পোষ্টারে চোখ আটকে গিয়েছে মুগ্ধ হয়ে বলেছি গায়ের রং স্ট্রবেরী, ঠোটের রং স্ট্রবেরী, গালের রং স্ট্রবেরী, ঠোঁট আর স্ট্রবেরী মাখামাখি।
স্ট্রবেরীর গন্ধ আমি শুঁকতে চেয়েছি যা কিছু সুন্দর তার মধ্য থেকে, স্ট্রবেরী আমার অধরা বিদেশ, আমার অধরা বিদেশী নারী, আমার অধরা বরফ, আমার অধরা বরফে মিষ্টির স্বাদ। কেক, দ্রাক্ষা রস। স্ট্রবেরী আমার ভোগ, সম্ভোগ।
কিন্তু তাকে ছুঁতে পারিনি, বন্ধুরা বিদেশ থেকে ফিরে স্ট্রবেরীর গল্প করে, তারা কিভাবে সপ্তাহের পর সপ্তাহ স্ট্রবেরী খেয়ে থেকেছে, কিভাবে হেলাফেলায় স্ট্রবেরী ফেলে দিয়েছে সে গল্প করে। আমি শুনি আর শুনি। স্ট্রবেরীর স্বপ্ন দেখি। গুলশানে কয়েকটা দোকানে বলে আমদানী করা স্ট্রবেরী পাওয়া যায়, সাদা চামড়া আর দেশী সাদারা এসব খায়...আমি শুনি আর মৌন থাকি। বন্ধুরা আমার স্ট্রবেরী মোহ দেখে খোঁচা দেয় আরে এখন তো দেশেই, সিলেট অঞ্চলে স্ট্রবেরী চাষ হয়, তুই পাসনা কেন, খাসনা কেন?
নারী বন্ধুরা আমার স্ট্রবেরী মোহ দেখে আশা দেয়, "আমি নিশ্চয়ই তোমাকে স্ট্রবেরী খাওয়াবো বেবি"। আমার আর স্ট্রবেরী খাওয়া হয় না।
স্ট্রবেরীর জন্য অপেক্ষা করতে করতে এখন ভয় হয়, ঢাকা শহরেই হঠাৎ ৮-১২টা স্ট্রবেরীর স্বচ্ছ প্লাস্টিকের বাক্স চোখে পড়ে, কিন্তু বিশ্বাস হয় না। স্ট্রবেরীর জন্য আমার এত শ্রদ্ধা জমে গেছে যে আমি সচক্ষে স্ট্রবেরী দেখছি তা ভাবতে মন সায় দেয় না।
অবশেষে আজই, এইতো ঠিক এক ঘন্টা আগে অফিসের কাজ শেষ করে ফিরতে ফিরতে দেখি অবলীলায় বিক্রি হচ্ছে আহ আমার স্ট্রবেরী!!! এ যাবৎ কালের সমস্ত স্ট্রবেরী স্বপ্ন আমাকে ঘিরে ধরতে থাকে। দেশেই উৎপাদিত বলে এই স্ট্রবেরী নিয়ে আমার সন্দেহ হয় তারপরও আমি এগিয়ে যাই। আহ! এই স্ট্রবেরী এক বাক্স স্ট্রবেরী। ঠিক ১৫০ টাকা দিয়ে আমি এক বাক্স স্ট্রবেরী কিনি। এখন আমি চাইলেই এটাতে কামড় বসাতে পারব, আমি চাইলেই এটাকে নেড়ে চেড়ে চেখে চুষে বুঝতে পারব। আমার শ্রেণি উত্তরণের মত শংকা হচ্ছে, আমার স্বপ্ন বাস্তবায়নের ভয় হচ্ছে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

