বরিশালেই জন্ম তার, যদিও এখন ইনডিয়া তার রাষ্ষ্ট্র। গণ সঙীতের এ কালের পুরোধা মানুষ, সহজ মানুষ প্রতুল মুখোপাধ্যায়। দু জনাই বাঙালী ছিলাম, দেখ দেখি কান্ডখান, তুমি এখন বাংলাদেশী আমারে কও ইন্ডিয়ান।...
বাংলাদেশে আসার কয়েকদিন আগে রচিত। যথার্থ গান নিশ্চয়ই। দীর্ঘদিনের অভিমানে এদেশে আসা হয়নি, যদিও বুকের টান রয়েছে গেছে ভেতরে ভেতরে। আমি বাঙলায় গান গাই---- এই গান গেয়ে বিখ্যাত হলেন বাবু, আমরা জাতীয়তাবাদী সুখ পেলাম যদিও বাবু এই গানের রচয়িতা, সুরকারকে একবার জানালেন না পর্যন্ত, অনুমতিও নিলেন না। অভিমান জমতে থাকলো। অবশেষে উদীচির আমন্ত্রণে বাঙলাদেশে এলেন।
আর্ট কালচার নিয়ে আমার বিশেষ উৎসাহ নেই। কেননা প্রত্যেক আর্ট কালচার ঘারানার এক ধরণের মালিকানা বোধ রয়েছে।
যেমন রবীন্দ্রনাথের মালিকানা একটি গোত্রের তো নজরুলের আরেকটির, এমন হয়তো প্রতুলকে নিয়েও মালিকানা বোধ করেন কেউ কেউ।
যাই হোক বন্ধু মারফত আমি জানতে পারি প্রতুল ঢাকায়। তাকে নিয়ে নানা ধরণের অনুষ্ঠান হচ্ছে, তিনি দারুন আড্ডায় আর গানে মাতিয়ে রাখছেন খবর পাচ্ছি। কিন্তু কাছাকাছি সরাসরি যাবার কোন সুযোগ পাচ্ছি না, সময় হচ্ছে না। শেষ পর্যন্ত ছায়ানটের অনুষ্ঠানে তাকে পাওয়া গেল। তখন গলার শক্তি ৩০ ভাগে নেমে এসেছে। যদিও প্রাণ শক্তির কোন ক্লান্তি নেই।
৬৮ বছরের একজন মেধাবী বালকের দিকে বিষ্ময়ে তাকিয়ে থাকলাম। কেবল সঙীত প্রতিভায় নয়। রাজনৈতিক স্পষ্টতায়, অবস্থানে। গান দিয়ে যে বিপ্লব হয় না যেমন বললেন, গান দিয়ে কিছূটা উৎসাহ দেয়া হয় যেমন বললেন। তেমনি বললেন অন্ধকারকে গান শোনানোর অভ্যাস তার নেই। হল রূমের বাতি জ্বেলে দিতে বললেন যাতে দর্শকদের দেখা যায়।
গান শোনালেন, গান শেখালেন। যোগাযোগ করা শেখালেন। আর আর্ট কালচার ওয়ালাদের অহমকে কোথায় যেন ধাক্কা দিলেন, জোড়ালো ধাক্কা।
আমারো তাই মনে হল: মানুষের কেবল দুটি নিয়তি: কালের হিজড়া অথবা কাল উর্ত্তীণ
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই এপ্রিল, ২০১০ বিকাল ৪:০৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


