somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কবিদের নবীত্বের পতন অথবা “ভালো সমাজ” মিথের পুনরূৎপাদন

১৭ ই এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ১২:৫২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কবি’র ইমেজ সঙ্কটে আক্রান্ত জ্ঞাত সুধী সমাজ। অর্থাৎ যারা ছি: ছি: গল্পে মশগুল তারা অথবা আহা! নারীর কষ্ট নিয়ে নিরন্তর শোকরত যারা, সবাইকে দেখলে হাসি আসে, বিদ্রুপের। যে সমাজ ব্যবস্থায় শিক্ষকের জন্য অবধারিত স্থান হল আইডিয়াল মানুষ গড়তে গড়তে না খেয়ে মারা যাওয়া। সেখানে কবির জন্য বহুগামীতা স্বীকৃত হলেও প্রতারণা বিরাট পাপ। কয়েকজন কবির প্রতি প্রচারিত অভিযোগ এর সত্যতা বিচার আলাপের মূল উদ্দেশ্য নয় যেমন নয় মিথ্যা প্রমাণ করাও।

যে প্রাগৈতিহাসিক ইমেজ সঙ্কটে নিরন্তর দোদুল্যমান আমরা ; সেটা এই পর্যায়ে হাস্যকর নির্বুদ্ধিতা ছাড়া আর কিছু নয়। ভাবখানা এমন, চালাকচোদা কবিদের কাছে বোকাচোদা নারীদের ধরা খাওয়ার গল্প এবং পরিশেষে নারীর মর্ষকামী ননএ্যাকটিভ জায়গার মধ্যেই ঘুরপাক খাওয়া। দুইটাই বাতিল গল্প। এখন শিক্ষক পদবীর জন্য রাজনীতি শুরু হয় প্রথম বর্ষে ভর্তি হবার সাথে সাথেই। তখনি বাছাই বাতিল ইত্যাদি প্রক্রিয়া শুরু হয়। এরপর আনুগত্য, টাকা পয়সা অথবা শরীর (নারী ও পুরুষ উভায়ার্থে), বা বাজার করে দেয়া, শক্তিমান ভিসিকে জনসমক্ষে পায়ে ধরে সালাম করা বা ক্ষমতাশীল দলে নাম লেখানো; কি না করতে হয়।

কবি বা কবি যশোপ্রার্থীরা নিজের টাকায় বা ধারের টাকায় বই বের করেন, প্রকাশককে তেল দেন, কবি দলের ক্ষমতাশীল কাউকে লেহন করেন, দল রক্ষা করেন। অর্থাৎ কবি পেশার পাটাতনে আবশ্যিক শর্তগুলোকে নানাভাবে মোকাবিলা করতে থাকেন। শিক্ষক এবং কবি অথবা লেখক অথবা প্রতিটি ক্ষেত্রেই নারীর প্রতিষ্ঠা পাবার জন্য পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় তাকে শারীরি আপোষ থেকে অন্যান্য সবকিছুর জন্যই সাফল্যের শর্ত হিসেবে গ্রহণ করার জন্য প্রস্তুত থাকতে হয়। এই প্রস্তুতি এই দাবী অন্যায্য। এটাতে শারীরি মাত্রা যুক্ত হওয়াটাকে কেবল নারীরই এমনটা চিন্তার করা মূলত অজ্ঞানতা। পুরুষকেও কখনো কখনো শরীর দিতে হয়।

আমার চেনা অনেকেই আছেন যিনি প্রতিষ্ঠিত হবার জন্য শক্তিমান নারীর সাথে শুয়েছেন। এটাতে নারী ও পুরুষ সমান হয়ে যান না। নারীর প্রতি সহিংসতা বা আপোষের গল্প আর পুরুষের প্রতি একই জিনিসের ঢালাও তুলনা করাটাও সমান হয় না। পুরুষ নারীর চাইতে সব দিক দিয়েই সুবিধাজনক অবস্থানে থাকেন।

এই যে হাহাকার রব চারদিকে এসব দেখলে সেই রকমেরই বিবমিষা জাগে যাতে মনে হয় পাঠক কূল বা দর্শক কূল পৃথিবীর বাইরে থেকে কথা বলছেন। এই জগৎ চালিত হয় অর্থনীতিতে, কবিতার লাইনে বা শিক্ষকের প্রকৃত জ্ঞান এ নয়। ফলে বেচাবিক্রির কালে নৈকট্য বা নারী পুরুষের প্রেম যে একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হবে এর আর নতুন কি। নতুনো নয় আসলে। ইতিহাসে দেখা যায় যে প্রেম ও যৌনতা নানাভাবেই যুদ্ধ জয়, মালিকানা প্রাপ্তির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। যদিও এসবের মধ্যে দিয়েই মিথ তৈরি হয়েছে যে শিক্ষকমাত্রই পূত ও পবিত্র, কবি তো প্রায় নবীর পর্যায়ের। হ্যা অনেক কবি ও শিক্ষক আসলেই মহত্তম ভূমিকা পালন করেছেন ইতিহাসে। ইতিহাসের পুন:গঠন করেছেন। ভবিষ্যতে করবেন ও।

অনেকে প্রতারণাও করেছেন, অন্ধ জাতীয়তাবাদ, ধর্ম নিয়ে মাতামাতি করেছেন, স্বৈর শাসকের শিশ্ন লেহন করেছেন এমনকি ক্ষমতাবানের যোণীও, অন্তত ক্ষমতাবানের স্ত্রীর উপ-স্ত্রীর। এটাকে লৈঙ্গিক বা ক্ষমতার রাজনীতি থেকে আলাদা করে দেখার কোন মানে দেখি না। এই রাজনীতি সমাজের পড়তে পড়তে লেপ্টে আছে। এই যে ঢি ঢি পড়ে যাওয়া সেটাও পুরুষতান্ত্রিক রক্ষণশীলতার ফসল আসলে যতটা; ততটাই নারীর প্রতি সহমর্মীতা নয় আসলে।

যদি সত্যিই এমন হোত তাহলে; খবরে স্পষ্ট বোঝা যায় অথচ কবির প্রকৃত নাম নয় অর্থাৎ আইনী পদক্ষেপ নেয়া যায় না এভাবে নাম আসত না। প্রকৃত তথ্য প্রমাণ সমেত, প্রকৃত নাম দেখতে পেতাম। যেটা প্রমাণ করে যিনি এটার রিপোর্টার তিনি রিপোর্ট কেন্দ্রীক খ্যাতিতে যতটা মগ্ন ততটা আক্রান্ত নারীদের পক্ষে আইনী ব্যবস্থাপনার বিষয়ে নন। খেয়াল করার মত বিষয় এখানেও অনেকগুলো ফাঁক রয়েছে, যেসব নারী অভিযোগ করেছেন বা প্রতারিত হয়েছেন তারা পুরুষতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনার জন্যই সামনে এসে সরাসরি অভিযোগ করতে পারছেন না, এটাও যেমন সত্য হতে পারে; তেমনি তারা এটা পারবেন না বা করবেন না জেনে রিপোর্টার স্কুপ খবরটি দিয়ে খ্যাতি অর্জন করতে চাইলেন শঙ্কাহীন ভাবেই।

লৈঙ্গিক সর্ম্পকের অসমতা যেখানে এত গাঢ় সেখানে স্বামী স্ত্রীকে, প্রেমিক প্রেমিকাকে, যুবক আড়াই বছরের শিশুকে নিয়মিত ধর্ষণ করছে। সেখানে পটানীমূলক ঘটনা অর্থসিদ্ধির জন্য ঘটবে না এমনটা আশা করা বোকামী। কিন্তু সেটাকেই কেবল দেখতে পাওয়া ও চাওয়ায় বড় গলদ আছে। এই গলদটার একটা সমাধান এখনই সম্ভব প্রতারণা প্রমাণ করে অভিযুক্ত কবিদের শাস্তি নিশ্চিত করা। তা না হলে পরিশেষে এগুলো মুখোরোচক খবর খাদ্য হিসেবেই কেনা বেচা হবে, খবর পরিবেশন কারীর সার্কুলেশন হবে কিন্তু প্রতারিত আক্রান্তের জন্য সুরাহা হবে না। এবং একটি অসুস্থ, বৈষম্যপূর্ণ সমাজের প্রয়োজনীয় “মিথের” পুনরূৎপাদন ছাড়া কিছুই হবে না।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ২:০৮
৮টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×