অনুসন্ধান:
cannot see bangla? সাধারণ প্রশ্ন উত্তর বাংলা লেখা শিখুন আপনার সমস্যা জানান ব্লগ ব্যাবহারের শর্তাবলী
তুমি তোমার ইমেজ মতই
প্রোফাইল বানাও
কি ব্লগে
কি জীবনে
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার প্রিয় পোস্ট

যারা উত্তম কে উচ্চকন্ঠে উত্তম বলতে পারে না তারা প্রয়োজনীয় মুহূর্তে শুকরকেও শুকর বলতে পারে না। এবং প্রায়শই আর একটি শুকরে রুপান্তরিত হয়।

পোড়া গলিতে, পোড়া চোখে, পোড়ো মনে

১৮ ই জুন, ২০১০ রাত ১০:৫০ |

শেয়ারঃ
6 0

মানুষ তীব্রতম শোকও তিনমাসের বেশি বহন করতে পারে না। এরপর তার ভেতরের ব্যবস্থাপনা তার অস্তিত্বের জন্য তাকে সহনশীল করে তোলে, কোন না কোনভাবে মানিয়ে নিতে বাধ্য করে, আবার শুরু করতে প্রণোদনা দেয়। আবার শুরু করা; মানব জাতির এক অসামান্য হাতিয়ার, বিকশিত হবার এগিয়ে যাবার। ৩রা জুন রাতে স্মরণকালের ভয়াবহতম অগ্নিকান্ডে নিহত হয়েছেন অনেক মানুষ। এই মানুষগুলোর সাথে একাত্মতা বোধ করেছি কল্পনায়, গণমাধ্যমের কল্যাণে, প্রচারে, কষ্টে, বেদনায়। ফেইসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছিলাম: ১০৯ এবং আরো বাড়ছে? এটা মৃত্যু নয় বন্ধু সিস্টেমেটিক কিলিং। গণমাধ্যমে দেখেছি লাশ বয়ে বেড়ানো কফিনের মিছিল, শোকের মাতম, কবরস্থান উপচে পড়া লাশের ভিড়। দেখেছি বার্ণ ইউনিটে মানুষের আহাজারি।

এরপর স্তিমিত হয়ে এসেছে শোক, মানুষ আবার নি:শ্বাস নিতে শুরু করেছে। বিশ্বকাপের দোলা লেগেছে। আশাবাদের প্রতীক হিসেবে বিয়ে হয়েছে আক্রান্ত তিন কন্যার। আমরা সহজ সমাধানের শোকমুক্তির আনন্দে ভেসেছি। সরকার ঘটনা সামাল দিয়েছে। এরপর ঘটেছে আরো নানা ঘটনা, আবিষ্কৃত হয়েছে পাটের জিনোম, মঞ্জুর আর মহিউদ্দিন নিয়ে উন্মাদনা বাঙলাদেশ, পৃথিবী এগিয়ে চলেছে। প্রকৃতি শূণ্যস্থান পছন্দ করে না, আমাদের স্মৃতিগুলো ভ'রে উঠেছে নতুন অভিজ্ঞতায়।

এমনি প্রেক্ষাপটে আমার সুযোগ হয়েছিল নিমতলি ঘুরে দেখার। ইভেন্ট হিসেবে ছবি তোলার জন্য বড় ঘটনা হলেও খুব যেতে ইচ্ছে করেনি। মানে ঘটনা টাটকা টাটকা থাকার সময়েও। শোকের ছবি, পরাজয়ের ছবি অব্যবস্থার স্কুপ আমাকে টানেনা তেমন। কারণ আমি এর পরিবর্তন চাই খুব তীব্র জোড়ালো আকুতি অনুভব করি বুকের ভেতরে যে আমি এর পরিবর্তন চাই। আর এই পরিবর্তন আকাঙ্খা নিয়েই এই ছবিব্লগ।



নবাব কাটরায় ঢোকার মুখের রাস্তা ছেয়ে আছে শোক পতাকায়, শোকের মাতমে। এই গলিতে ঢুকতে আমার ভয় হয়, দূর থেকে আমি দেখি মানুষের পরাজয়ের ছাপ দেয়ালে দেয়ালে লিখিত।



দুমড়ে মুচড়ে যাওয়া আচ্ছাদন কেবল কষ্টের কথা বলে।



এই জানালা দিয়ে তাকিয়ে থাকতো কেউ, বৃষ্টি দেখতো, সব পুড়ে গেছে। আমাদের লোভ আর দুর্নীতির কাছে পুড়ে গেছে সেই চোখ।



ধ্বসে পড়েছে দেয়াল, যে দেয়াল আমরা বানাই নিরাপত্তার জন্য।



মাতমের গলিতে পরিণত হয়েছে প্রাণ চঞ্চল পথ



আমরা স্তুপ করে জমা করে রেখেছি আমাদের ব্যার্থতা



হয়ত এই মোটর বাইকের শব্দে ঘুম ভাঙতো কোন বালিকার, পাড়াত যুবকের সামর্থের গল্প বলত এই বাইক।



সমস্ত স্বপ্ন আর অস্তিত্ব ছাই হয়ে গেছে



বই বাঁধাইয়ের জীবিকা জ্বলেপুড়ে গেছে, খুলে গেছে জীবনের বাঁধন



এই কলতলায় হত পাড়াত আলাপ, কুশল বিনিময়, জীবনের উৎসটা পুড়ে গেছে



সাধের নিরাপত্তা, মৃত্যুর শৃঙ্খল হয়ে গেছে



আমাদের আবিষ্কার আমাদের ব্যবস্থাপনাও পুড়ে গেছে



পুরো আকাশ জুড়ে শোকের জলধারা, আর তার মাঝে প্রাণ



পুড়ে গেছে কমিটির মানুষ, পুড়ে গেছে নবাব কাটরা


আমরা যে কত বিপদজনক জীবনে আছি, নিজেদের দুর্নীতির কারণে এ যেন তারই স্মারক



কোন সাটার বন্ধ করা দরকার তা যেন ভুলতে বসেছি



এই চক্র আমার পুড়িয়ে দেবে নির্ঘাত, কোন স্প্রীং আর কাজ করবে না।




আমরা দেয়ালে দেয়ালে ঝোলাবো শোকের পতাকা



যদিও ঠিক একই সময়ে কাজ করবে এই শিশু আবার পুড়ে যাবার ঝুঁকি নিয়ে



আমরা স্তুপ করব ভোগের মল



এই হাস্যজ্জ্ব মুখগুলো ছিন্নভিন্ন হবার জন্য দিন গুনবো



আর শহীদ মিনার বানিয়ে দিয়ে আসবো পোড়া পুষ্পের স্তবক

এভাবে তো পুরো দেশ একদিন শহীদ মিনার হয়ে যাবে। আজ রাজনীতি হেলে পড়বে, কাল দালান, ভেঙ্গে যাবে পঙ্গু ব্যাবস্থাপনা আর হত্যা হবে শতকোটি মানুষের দল।

এমনটা তো আসলে হতে দেয়া যাবে না, আমাদের বেঁচে থাকার জন্যই এমনটি হওয়াকে প্রতিরোধ করতে হবে। আজকে, এখন থেকেই।

 

বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 


৩৩টি মন্তব্য

১. ১৮ ই জুন, ২০১০ রাত ১১:০০

সর্বদাবেলায়েত বলেছেন: দাদা, পোস্ট প্রিয়তে।

অসাম ফটোগ্রাফি। নাড়া দিয়ে যায়

১৮ ই জুন, ২০১০ রাত ১১:১৭

লেখক বলেছেন: সর্বদাবেলায়েত অনেক ধন্যবাদ।

আমরা যে কীভাবে আমাদের ভবিষ্যৎ শোকের জন্য নিজেরাই ব্যাবস্থা নিচ্ছি তা উপলব্ধি করলে মনে খারাপ করে ভীষণ।

২. ১৮ ই জুন, ২০১০ রাত ১১:০১

১৮ ই জুন, ২০১০ রাত ১১:১৯

লেখক বলেছেন: আমাদের কেবল মন খারাপ করলে তো চলবেনা মনসুর, মন খারাপ সামনে যাতে না করতে হয় তার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। অনেক ধন্যবাদ।

৩. ১৮ ই জুন, ২০১০ রাত ১১:০২

সাধারণমানুষ বলেছেন: খুব টাচি একটা পোষ্ট দিয়েছেন ।
আসলেই প্রকৃতি কখনো শূণ্যস্থান পছন্দ করে না, শূন্যস্থান সে নিজ গুনে পূরন করে । নতুন অভিজ্ঞতায় অভিজ্ঞ হই আমরা। এই তো পৃথিবী, এভাবেই সে এগিয়ে চলেছে অনন্তকাল ধরে।

১৮ ই জুন, ২০১০ রাত ১১:২৩

লেখক বলেছেন: প্রকৃতির জন্য আমরা নিশ্চয়ই এই জাতীয় শূন্যস্থান তৈরি করতে চাই না সাধারণমানুষ । অনেক ধন্যবাদ।

৪. ১৮ ই জুন, ২০১০ রাত ১১:১৭

ছন্নছাড়ার পেন্সিল বলেছেন: এইগুলো ছবি মনের ওপর ভয়ানক চাপ ফেলে শরৎ। ভয়ানক!

আপনাকে বলেছিলাম ছবি তুইলেন, কিন্তু এইগুলো কী তুললেন ভাই, সত্যি খুব অন্যরকম কষ্ট হচ্ছে ছবিগুলো দেখে...




এরকম শোককে যদি সত্যিই আমরা শক্তি বানাতে পারতাম, তাহলে হয়তো আর কেউ পুড়ে মরতো না...

১৮ ই জুন, ২০১০ রাত ১১:২২

লেখক বলেছেন: ছন্ন এরকম শোককে আমাদের শক্তি বানাতেই হবে, তা না হলে ভবিষ্যতের এরকম হাজার শোকের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।

আর এইসব ছবি আসলে কীভাবে কীভাবে জানি তোলা হয়ে গেল...ভেতরে কষ্টটা মনে হয় ছবিতে চলে আসছে।

৫. ১৮ ই জুন, ২০১০ রাত ১১:২৩

সায়েম মুন বলেছেন: :(

১৮ ই জুন, ২০১০ রাত ১১:৩৫

লেখক বলেছেন: :(
:(
:(
:(
:(

৬. ১৮ ই জুন, ২০১০ রাত ১১:২৩

ডঃ জেকিল বলেছেন: +++ for the post.

১৮ ই জুন, ২০১০ রাত ১১:৩৬

লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ জেকিল,,,

৭. ১৮ ই জুন, ২০১০ রাত ১১:২৪

মানবী বলেছেন: প্রকৃতির চেয়ে আমাদের শূণ্যস্থান পূরণের তাড়া অনেক বেশি, তাই আমরা অগ্নিদগ্ধের অসহায় আর্তনাদ আর পোড়া মাংশের উৎকট ঘ্রান ভুলতে সানাইয়ের সুরে মাথা দুলিয়ে আত্মতৃপ্তি লাভ করি।।

ভীষণ বাঙ্ময় ছবিগুলোর জন্য ধন্যবাদ অন্যমনস্ক শরৎ।

১৮ ই জুন, ২০১০ রাত ১১:৪০

লেখক বলেছেন: আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ মানবী। অগ্নিদগ্ধের অসহায় আর্তনাদ আর পোড়া মাংশের উৎকট ঘ্রান ভুলতে যত দিকেই পালাই না কেন এখনি নিজেরা উদ্যোগ না নিলে পালানোর ও যে আর কোন জায়গা থাকবে না।

সমাজ দূষিত করছি, রাষ্ট্র দূষিত করছি , পৃথিবী দূষিত করছি..পালাবোটা কোথায় বলেন।

৮. ১৯ শে জুন, ২০১০ রাত ২:৫৫

মামন বলেছেন: :(

১৯ শে জুন, ২০১০ দুপুর ১:৩১

লেখক বলেছেন: :( :( :( :(...

৯. ১৯ শে জুন, ২০১০ দুপুর ১২:৪২

কৌশিক বলেছেন: এই পোস্ট বারবার পড়তে হবে, দেখতে হবে

১৯ শে জুন, ২০১০ দুপুর ১:৩২

লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ কৌশিক, আসলে পরিবর্তন আনতে হবে, এখনি আনতে হবে।

১০. ১৯ শে জুন, ২০১০ দুপুর ১২:৪৭

রাজসোহান বলেছেন: কিছুই বলার নাই !!

১৯ শে জুন, ২০১০ দুপুর ১:৩৩

লেখক বলেছেন: পরিবর্তন করার আছে...রাজসোহান

১১. ২২ শে জুন, ২০১০ রাত ৯:৩৪

শায়মা বলেছেন: এমন করে বলতে হয়?:(

১২. ২২ শে জুন, ২০১০ রাত ৯:৩৪

শায়মা বলেছেন: এমন করে বলতে হয়?:(

২৩ শে জুন, ২০১০ রাত ৮:২০

লেখক বলেছেন: এমন করেই তো বলা দরকার। কিন্তু কে শোনে বলেন।

১৩. ২৩ শে জুন, ২০১০ ভোর ৬:৩৪

সাকিরা জাননাত বলেছেন: এমনটা তো আসলে হতে দেয়া যাবে না, আমাদের বেঁচে থাকার জন্যই এমনটি হওয়াকে প্রতিরোধ করতে হবে। আজকে, এখন থেকেই।

২৩ শে জুন, ২০১০ রাত ৮:২০

লেখক বলেছেন: একদম তাই, অনেক অনেক ধন্যবাদ সাকিরা জাননাত

১৪. ২১ শে জুলাই, ২০১০ দুপুর ২:২২

বাবুল হোসেইন বলেছেন: কি আর বলবো দাদা।

আপনার ছবি তো মারাত্মক রকম সুন্দর কিন্তু সেগুলো যে আমাদের হৃদয়ে বেদনার আহাজারি নিয়ে আসে.......

২১ শে জুলাই, ২০১০ রাত ১১:২১

লেখক বলেছেন: ছবি মাঝে মাঝে সত্য কথা বলে দেয় বাবুল, এই সত্য বেদনার, পরাজয়ের, মানুষের অসহায়ত্বের।

১৫. ০৯ ই আগস্ট, ২০১০ দুপুর ২:১০

গুরুজী বলেছেন: ভয়ানক সুন্দর পোস্ট। প্রিয়তে।

১০ ই আগস্ট, ২০১০ সকাল ৯:৫১

লেখক বলেছেন: অনেক অনেক ধন্যবাদ গুরুজী।

১৬. ০৯ ই আগস্ট, ২০১০ বিকাল ৩:২০

তায়েফ আহমাদ বলেছেন: বাঙলাদেশে যে এই রকম একটা ঘটনা ঘটেছিল, সেটাই তো ভুলতে বসেছি........:(:(

১০ ই আগস্ট, ২০১০ সকাল ৯:৫৩

লেখক বলেছেন: এ জাতীয় ঘটনা আমাদের ভেতর থেকে ভোলানোর জন্য নানা ধরণের চেষ্টা তো চলছেই। আমরা যতটা ভুলি তারচেয়েও বেশি ভোলানো হয়।

১৭. ২২ শে মে, ২০১১ দুপুর ১২:৪০

নীরজন বলেছেন: মাঝে মাঝে ভাবি নিজেকেই ভুলে গেলে ভালো হতো........কোন কষ্ট আর পোড়াতো না....

২৭ শে মে, ২০১১ দুপুর ১২:৩১

লেখক বলেছেন: নিজেকে যে ভোলা যায় না কিছুতেই।

 

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল‍্যাটফমর্। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...

 

© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি | বিজ্ঞাপন