না না না শিরোনাম দেইখাই আমারে মদন ভাইবা নেওনের কাম নাই, অহন পর্যন্ত ধরা খাই নাই। তয় আপনেরা যাতে এট্টু সমঝে বুঝে চলতে পারেন এর জন্যই...কাহীনি বয়ান।
বইসা আছি আইডিবির পাশের চায়ের দোকানে, খালুর ল্যাপটপের সমস্যা এই জন্যই এখানে আসা। রোজাদারদের ঈমানের পরীক্ষা না নেওনের লাইগা স্টলটা বোরখা দিয়া ঘেরা। আমি বেগানা বেরোজাদার বিসিএস এ ঢুকনের আগে বিড়ি ফুকনের জন্য চামে দোকানে ঢুইকা পড়লাম। সবেমাত্র বিড়িটা ধরাইছি তখন দেখলাম একজন মধ্য বয়সী যুবক নেভী সিগারেট ধরাইয়া পাশে আইসা বসল।
আমি মনোযোগ দিয়া বিড়ি টানতাসি, সে কথা শুরু করল।
সে: ভাইজান কি চাকরী করেন?
আমি: হ্যা (ইতোমধ্যে ছেড়ে দিয়েছি সেই ডিটেইলে আর গেলাম না)
সে: কোথায় করেন?
আমি: একটা জার্মান এনজিওতে
সে: ভাই আমি ৯ নম্বর সিটিং সার্ভিসের ড্রাইভার ছিলাম
আপনাদের অফিসে কোন গাড়ী নাই, বা আপনার বাসাবাড়ীতে?
সে: ভাই আপনি কই থাকেন?
আমি: পল্লবী, আমাদের অফিসে গাড়ীর কোন বন্দোবস্ত নাই।
সে: ভাই তো আমার একেবারে কাছে থাকেন, আমি কালশি তে, ভাইয়ের বাসায় গাড়ী নাই?
আমি: না আমার গাড়ী নাই, আমি গরীব মানুষ।
এর মধ্যেই বোঝা গেল বেশ আলাপী মানুষ, আমার অভ্যাস ও চর্চাবশত সেই আলাপ থামানোর ইচ্ছা ছিল না।
সে: আসলে ভাই এই বিল্ডিং এ আসছিলাম, একজন আমাকে একটা ড্রাইভারির কাজ দিবে বলছিল, কিন্তু তার মোবাইল নাম্বার হারায়া ফেলছি, কিন্তু এই বিল্ডিংটা চিনা গেসি সেটার খোঁজ করতেই আসছি।
সে: ভাই আপনার বেতন কত?
আমি:.........এত।
সে: ও, !!
সে: ভাই আপনি কি সেই অফিসের অফিসার?
আমি: হ্যা। (তখন বেশ বলতে ইচ্ছা হচ্ছিল যে এই চাকরী আমি ছেড়ে দিয়েছি, তবুও সতর্কতা বশত কিছু আর বললাম না)
সে: ভাই আমার এলাকার একজন লোক আছে ভাই। সে এক বিদেশীর কাছে কাজ করতো। তো ভাই তার কাছে কিছু বিদেশী টাকা আছে ভাই। সে এক লম্বা পাগড়ীঅলা বিদেশী ভাই। এক্টা ভাঙ্গাইতে গেছিল, ৯০০টাকা পাইছিল। আচ্ছা ভাই টাকা ভাঙ্গানী কি ভাই সম্ভব না?
আমি: (ততক্ষণে সতর্ক হয়ে উঠেছি)। সরাসরি পাল্টা টোকা দিলাম, এসব তো খুব ঝামেলার পুলিশে ধরে।
সে: আসলে পুলিশে ধরে?
আমি: হ্যা।
সে: যে পাইছে সে ভাই মূর্খ মানুষ, আমিও মুর্খ মানুষ এসব কিছু বুঝিনা। এক জায়গায় ভাঙ্গাইতে গেছিল দারোয়ান টাকা রাইখা দিছে আর ধাক্কা দিয়া বাইর কইরা দিছে।
আমি: হুমম।
সে: ভাই তার কাছে আছে কিছু টাকা, আমারে কইছে সাহায্য করতে। আপনারা শিক্ষিত ভদ্র মানুষ। আপনারা ভাঙ্গাইতে গেলে কিছু বলবেনা।
আমি: হুমম।
সে: ভাই আপনারা শিক্ষিত ভদ্র মানুষ, একটা নোট যদি দেখতেন। তারপার যদি ট্যাকা আসে তো ভালো। আপনেও কিছু পাইলেন আমিও কিছু পাইলাম আর সেও কিছু পাইল। একটা মানুষের উপকার হইত। আমারো একটু লাভ হইত। আপনারা শিক্ষিত ভদ্র মানুষ। সবাইরে তো আর বলা যায় না। আপনার বংশ ভালো। বিদেশী কোম্পানীতে চাকরী করেন।
আমি: হমম। আসলে মানি এক্সচেঞ্জতো (ইচ্ছে করে ইংরেজী ব্যবহার) খুব রিস্কি পুলিশে ধরে।
সে: তারপরও ভাই যদি দেখতেন। এখানে তো আর দেখানো সম্ভব না যদি...ঐ মানুষটার খুব উপকার হইত, আপনারা শিক্ষিত ভদ্র মানুষ, আমিও কিছু পাইতাম আপনেও....
একজন অর্থলোভী মানুষ এই প্রলোভনে বেশ বড় একটা রিস্ক নিতে পারতেন, সেই লোকের সাথে কোন গোপন স্থানে মিলিত হলে আমি নিশ্চিত ধরা খেতেন।
আমি: (লোকটার দিকে ভালো করে তাকিয়ে) কাজ আছে বলে উঠে পড়লাম। বিসিএস এ ঢুকতে গিয়েই মনে পড়ল, আরে এই ধরণের প্রস্তাব তো আমি আগেও পেয়েছি, সেবার এক রিকশাওয়ালার কাছ থেকে। এটা তাহলে সাজানো নাটক, আরো নিশ্চিত হলাম।
ঐ ব্যাটাকে পুলিশে ধরিয়ে দেয়া দরকার ছিল, অন্তত সাথে আরেকজন বন্ধু থাকলে খেলাটা আরো জমানো যেত। কিছু নোন রিস্ক নিয়ে পুরো কাহীনিটা বোঝা যেত।
অভারঅল এই বাটাপারী থেকে আপনারা সাবধান থাইকেন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


