তারা এও বলেন, এইবারের রোযায় কোন জিনিস পত্রের দামই নাকি বাড়েনি। বরং সাম্প্রতিক ইতিহাসের সবচেয়ে বড় লেনদেন হয়েছে এই ঈদের বাজারে। সরকার কত কথা বলেরে.......। যাই হোক ম্যাঙ্গো পাব্লিক রোযা শেষ কইরা ঈদ হজম কইরা সুয়েরেজ লাইনে ফলাফল ঢাইলা আবার জীবনের জন্য, থুক্কু যুদ্ধের জন্য ঢাকায় চলে আসতে শুরু করেছে। এই দেশে বেঁচে থাকার অপর নাম হইল বোকা থাকা আর ভালো থাকা। এই জাতি বাই ডিফল্ট এত ভালো যে খালি বোকা রাখার কাজটা সরকারের করতে হয়, তাও প্রতি পাঁচ বছরে একবার।
এবারের ঈদ এ বন্ধুস্থানীয় এক ছোট ভাই এর আমন্ত্রণে ফতুল্লা গিয়েছিলাম। রাতের বেলা সরাসরি ফতুল্লা ঘাটে। উদ্দেশ্য ছবি তোলা। ঘাটের ছবি তুলে যখন ফিরছি তখন চায়ের জন্য ভান্ডারীর দোকানে বসলাম। হাতে ক্যামেরা দেখেই জিগ্গেস করলেন সাংবাদিক কিনা...বাকীটা...
একজন সুদর্শন মানুষ। বিশেষত চুলের অনন্য বৈশিষ্ট্যের কারণে এবং খানিকটা জীবন আচরণের জন্য নাম হয়ে গেছে ভান্ডারী। গান গাইতে ভালোবাসেন। ভান্ডারী এমন মানুষ যাদেরকে স্থানীয় ক্যারিশমেটিক ব্যক্তিত্ব বলা যায়। যিনি খুব সাধারণের মধ্যেও খানিকটা অসাধারণ।
ভান্ডারী চা বিক্রেতা, এটা আপনারা ইতোমধ্যেই জানেন। কিন্তু ভান্ডারী আরো কি কি? তার আসল নাম কি?
ভান্ডারী ওরফে খোরশেদ মৃধা একজন মুক্তিযোদ্ধা। তার নাম, তার গল্প যায়যায়দিনে ছাপা হয়েছিল বছর তিনেক আগে। দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান এখন চা বিক্রেতা। তিনি সেই কিশোর যিনি দেশের হয়ে যুদ্ধ করেছেন। বাবা মার একমাত্র সন্তান হয়েও যিনি ঘরে বসে থাকেন নি, তিনি যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন।
নিজের যৌবনকে যিনি লগ্নি করেছেন দেশের জন্য। আরেকজন বোকা মানুষ।
সিগারেট খেতে পছন্দ করেন। আর উৎসাহিত হন....
যত্ন করে চুল আঁচড়িয়ে, ছবি তুলতে। তিনি সেইসব সাধারণ বাঙালীদের একজন যারা ক্যামেরার সামনে একটু হেসে ছবি তুলতে পারলেই খুশি। তাদের গল্প একটু পত্রিকায় ছাপা হলেই খুশি। তিনি সেইসব ভালো মানুষদের একজন যারা এদেশে সফল হবার আবশ্যিক ধান্দাবাজীকে গ্রহণ করেন নি। আর তাই তিনি...
সেইসব মানুষের দলে যিনি নিজের জীবনের জন্য কিছুই করতে পারেন নি। যাদের কথা পত্রিকায় পড়ে আমরা একটু আহা উহু করবো, একজন "প্রকৃত" মুক্তিযোদ্ধার প্রতিকৃতি হিসেবে কল্পনা করে একটু গর্ববোধ করবো। এবং অপেক্ষা করবো আরেকটি ফিচারের, আরেকটি ব্লগেরই হয়ত। অর্থাৎ আরেকজন বোকা লোকের।
কাকাতালীয় বিষয় হল। যখন তার সাথে কথা বলছিলাম, তখনি এক ছাগু তার দোকানের বিস্কিট চুরি করে খাওয়া শুরু করে। আমার মনে হল যেমন করে ছাগুরা মুক্তিযুদ্ধের সুফলগুলো চুরি করেছে/ডাকাতি করেছে এ যেন তারই রূপক।
একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার ত্যাগের প্রতিদান হল একটি সার্টিফিকেট আর একটি সিরিয়াল নাম্বার: ১০১৭। ভাতা পাননি, সাহায্য পাননি। তারপরও তিনি দেশের মাটিতে রাজাকারের বিচার চান। তিন বছরে ভাসমান চা বিক্রেতা থেকে স্থায়ী চায়ের দোকান হয়েছে। বাহ! অনেক অগ্রগতি। তিনি এবং তার মত অসংখ্য বোকা মানুষ একটা নির্জলা ধান্দাহীন সার্টিফিকেট হাতে আমাদের দিকে তাকিয়ে কিছু একটা বলছেন। সেটা কেবল রাজাকারের বিচার হোক তা আমার মনে হয় না। মুক্তিযোদ্ধাদের সহ সকল সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক, সামাজিক মুক্তি হোক সেটাও হয়ত তারা বলছেন। অনেক মন:কষ্ট নিয়ে গোপনে সেটাও বলছেন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



