ঘটনা তেমন জটিল কিছু না। মানে এই দেশে বসবাস কইরা বাইচ্চা থাকতে হইলে যে পরিমাণ মগজের ব্যবহারের দরকার হয়, সেই বুদ্ধি দিয়া বিশ্বের অনেক দেশে কোটপতি হওন যায়। এই যেমন সকালে বাড়ী থেইক্কা বাইরাইয়া রিকশাওয়ালা মামারে ম্যানেজ করা, এরপর দৌড়ের উর্পে বাসের লাইন, ঐখানে ভাই বেরাদার বন্ধু বানাইয়া সিরিয়ালে একটু আগাইয়া যাওন। বাসে উইঠা কন্ডাকটর মামাগো একটু সেটিং। এরপর জাম পার কইরা অফিসে যাইয়া দারোয়ান মামারে ধইরা লেইট প্রেজেন্ট ম্যানেজ এবং সবকিছুর শেষে বসরে সেটিং। অন্যান্য কলিগগো কথা তো বাদই দিলাম। সেটিং আর ফিটিং । এগুলা শেষ কইরা বাসায় ঢুকলে স্বামী, বউ, বাচ্চা, আত্মীয়স্বজনরে গেটিস দেওন। কোনক্রমে বাসা ভাড়া দিতে দেরী হইলে বাড়ীওয়ালারে ফিটিং। কারেন্টের বিল, ডিশের বিল, ময়লার বিল, ইন্স্টলমেন্ট, ইন্টারনেটের বিল, প্রতিদিনের বাজার। খালি সেটিং আর ফিটিং।
চাইলের দাম বাড়তে বাড়তে মুরগীর কাছাকাছি গেছেগা। উপার্জনকারী লুকজন ভুলক্রমে অসুস্থ হয়া পড়লে তো পুরা মাইনকার চিপায়। বিয়া করতে লোন, বাচ্চা পয়দা করতে লোন, বাচ্চা মানুষ করতে লোন, বাচ্চার বিয়া দিতে লোন। লিভ টুগেদার করতে লোন, ডিভোর্স করতে লোন। পুরা দেশবাসী টিকা আছে লোনের উর্পে। কিন্তু লোনের উর্পে তো টিকা থাকন যায়না। শান্তির ঘুম হয় না। নিশ্চয়তা না হইলে তো তিনটি বেসিক কাজ করা যায় না। খাওন যায় না, শোওন যায় না, নিজেরে রক্ষা করণ যায় না। আর এই তিনটা বেসিক কাজ না করতে পারলে মানুষ বাইচ্চা থাকতে পারে না, চিন্তাও করতে পারে না। পেটে ভাত না থাকলে, চিন্তা করার কোন টাইম নাইক্কা, মাগার চিন্তা না করলে পরের দিনের ভাতের ব্যবস্থা অনিম্চিত হয়া যায়। আবার পেটে ভাত না থাকলে শোওন আসে না। ঠিকমত শোওন না হইলে নিজেরে রক্ষা করার বুদ্ধি খুলে না। আবার যে নিজেরে রক্ষা করতে পারে না তার তো কোন বেইল ই নাই। সে নিজের ক্ষমতা কেমনে বাড়াইবো। আর যার এই তিনটা হয়া গেসে সে চিন্তা করবো তার জিনিসগুলা যাতে “চীরকাল এমন থাকে সেই ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ”। এর লাইগা সে অন্য ঘরের সম্পদ চুরি করবো, দখল নিব, ভেজাল লাগাইবো সোজা হিসাব।
ফলে রক্তের মধ্যে ডাকাত স্বভাবআলা লোকগো সারভাইবাল ক্ষেমতা এট্টু বেশি। আর দরিদ্র অঞ্চলের লুকজন বেশি ইসমার্ট হইতে হয়। কিন্তু দরিদ্র দেশের লুকজন যদি ইসমার্ট না হয় তাইলে তাদের অন্য দেশের লুকজন ধরি ভরি দেয়। তাই তাগের আরো বেশি ইসমার্ট হওন দরকার।
কিন্তু বিশ্বের বেশিরভাগ গরীব মানুষ আসলে ইসমার্ট না। তাগের ইসমার্ট ***নির টাইম নাই। ভালু, তাহলে *য়া মারা খাওনের টাইম হলে তো হবে না। ক্যামনে কি?
ঘরে আছে ১০ কেজি গ্যাস। চেটেপুটে খেতে চায় বহুত মাল। বুঝলুম। যারা চায় তারা আবার অনেকটুকই ঘরের মালকিন নির্ধারণ করে দেয়। ওরে নারে। মালকিন তো চেইঞ্জ হয় কিন্তু দাবী তো একই থাকে ১০ কেজি গ্যাস। যারা বড়বাবু তারা চাইলেও একলা খেতে পারে না, কারণ তারা থাকে দূরে তাই প্রতিবেশীদের দিয়েথুয়ে খেতে হবে। প্রতিবেশী আবার বেড়ার ফুটো বড় করে দেয় আর কয়, “কইয়া দিমু” “দেখছি”। এই পাড়ায় আর হাটতে পারবানা এক ঘরে কইরা দিমু। এগুলাও টু সাম এক্সটেন্ট ভেলিড ফাপড়, বুঝলুম।
কিন্তু কাহীনি তো সেই পুরানা, যতই ফাপড় দেও আমার যা আছে তা তোমার চাই। বরং এইটা দিয়া যদি আমি ঘরের মাইয়াগো পুলাগো মানুষ করি, শিক্ষিত করি তারা বেড়ার ফুটা বন্ধ করতে শিখবো। যদি একটু ডেয়ারিং বানাই তাইলে প্রতিবেশীগো ফাপড় দিব। মোটা ভাত খাইয়া বামাল হইবো তারপর নিজের জমি, পানির দখল নিতে পারবো। কিন্তু ১০ কেজি গ্যাস যদি বড়বাবু ভাগেভোগে লুটেপুটে ল্যায় তো ঘরের ইঁদুরটা না হয় একটু মোটাই হইবো। চামে চিকনে সাদা ইঁদুরের লগে ইস্টু কুলু কুলু করপে আরা সাদা দেশে গিয়ে ভদ্র হয়ে থাকপে। কিন্তু মালকিনের কাজ তো ইঁদুর পোষা নয়। মালকিনের কাজ ঘরের খুঁটি শক্ত করা। দেশের ভাত চাল নিরাপদ রাখা। তাহলে মালকিন কে ক্ষমতায় আসতে আর বড় বাবুর ঘরে যেতে হবে না। ইঁদুরের কথা শুনলে ভাত মাথার পিছন দিয়ে ঘুরিয়ে খেতে হবে। ইঁদুর এটা বলে কারণ, মাথার পিছন দিয়ে ভাত খেতে গেলে অনেক ভাত ছিটায়, তার খাইতে সুবিধা হয়। আর বড়বাবুর পনিরটা, বাটারটা, সাদা মাংসটা তো আছেই জমা। ইস্টু কুলু কুলু। এগুলা খেয়ে ইঁদুর আরো বড় হবে ধাড়ী হবে সারাদিন ইস্টু কুলু কুলু করবে আরো ইঁদুর পয়দা করবে, তাদের আরো ক্ষূধা লাগবে তারা আরো খাবে। কিন্তু ইস্টুকুলুকুলু করতে যেয়ে তারা প্লেগ আনবে আর প্লেগে ঘরের সব লোক মারা যাবে। তখন তো মালকিন এর কোন বেইল থাকবে না। বড়বাবুর কামরায় কোন ডাক পড়বে না।
ফলে ভাত সোজা ভাবে খেতে হবে, ঘরের মধ্যেই খেতে হবে। আর ঘরের মধ্যে বুদ্ধি আর পেশী দুইটাই বাড়াতে হবে নাহলে ঘরের বেড়ার ফুটো অনেক বেড়ে যাবে, পানি ঢুকবে। ইজ্জতও থাকবে না, ইজ্জত করার জন্য দেহটাও থাকবে না। বড়বাবুর কিন্তু তিনটা বেসিক জিনিস ঠিকই থাকবে, বড়বাবু কিন্তু চাঁদে যাবে মঙ্গলে যাবে আর ছোট্ট বেড়ার ঘরটা ঠিকই মাটিতে মিশে যাবে। ফলে আসেন টোকাই হই আর ভাত সোজাভাবে খাওয়ার পেট্টিস করি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

