ঘোর বৃষ্টিতে নগর জীবন ভিজে গেছে পুরোটাই। যারা সকাল সকাল অফিসে পৌছে গেছেন কিংবা যারা বাসা থেকে বেরই হননি, হয়ত ঘরে বসে উপভোগ করছেন এই বর্ষা তাদের সাথে আমার বিস্তর ফারাক। সেই সকালে ভিজতে ভিজতে চলে গেছি ইউনিভার্সিটিতে, থিসিসের কাজটা একটু এগিয়ে নিতে। এরপর সেই কাজ শেষ করে অফিসে ফিরছি । সাহাবাগ থেকে ফার্মগেট পৌছতে পৌছতে বৃষ্টি ধরে ফেলল। এরপর সম্পূর্ণ জাপটে ধরে ভিজিয়ে দিল চোখের পলকেই।
দৃষ্টি ক্রমশ ঝাপসা হয়ে আবার পরিষ্কার হচ্ছে কিছুক্ষণের জন্য। প্রায় প্রতি তিন মিনিট পর পরই জ্যাম আর ঢাকার পানির জামে আটকে যাবার ভয়। সবার মধ্যেই একধরণের তাড়া, নিরাপদ আশ্রয়ে পৌছে যাবার। আমার ডানে বায়ে বাস আর প্রাইভেট গাড়ীর ভীড়। একটা ছাদের নীচে থাকা আর না থাকার দূরত্বটা স্পষ্ট ভীষণ। বাইকওয়ালারা একদম বায়ের লেন ধরে সাবধানে এগিয়ে যাচ্ছেন।
গতি থমকে গেল বিজয় সরণী এসে, ট্রাফিক সিগন্যালে আটকে পড়লাম। ফার্মগেট থেকে জাহাঙ্গীর গেট মুখী রাস্তায় গাড়ীর চাপও বেশি। বা দিকে চন্দ্রিমা অভিমুখী রাস্তা মিলে ছোট্ট একটা সড়ক দ্বীপ।
সিগন্যাল ছাড়ার অপেক্ষা করছি, এমন সময় দেখলাম একজন এসিআই (সাব ইন্সপেক্টর) ছাতা ধরে দাঁড়িয়ে আছেন। আর ছাতার নীচে মাটিতে বসে আছেন একজন মধ্য বয়ষ্ক ভদ্র মহিলা। মহিলার কাতরানোর শব্দ বৃষ্টি ভেদ করে আমার কানে এসে পৌছল। আমার কৌতুহল হল। আমি পুলিশ অফিসারের কাছে বৃত্তান্ত জানতে চাইলাম। তিনি জানালেন এই কিছুক্ষণ আগে বাস থেকে নামতে গিয়ে এই মহিলা শাড়ি পেঁচিয়ে পিছল কেটে পড়ে যান। সৌভাগ্যবশত তেমন গুরুতর কিছু হয়নি তবে বাঁ পায়ে চোট পেয়েছেন বেশ। আমি দেখলাম তার বাঁ পা টা ফুলে গেছে আর তিনি ব্যাথার কাতরাচ্ছেন। পুলিশ অফিসার মহিলার কাছে ফোন নম্বর নিয়ে তার আত্মীয়কে ফোন করেছেন যিনি এরই মধ্যে রওয়ানা দিয়েছেন এবং অতিসত্বর চলে আসবেন। আর তিনি ভদ্রমহিলাকে সাহায্য করার জন্য তার মাথায় ছাতা ধরে রেখেছেন যাতে তিনি বৃষ্টি না ভিজে যান। মহিলা অনেকটুকুই বৃষ্টিতে ভিজে গেছেন ইতোমধ্যেই কিন্তু এই ছাতা ধরে রাখা এবং বিপদে পাশে থাকা এমন কিছুর সাক্ষ্য বহন করে, যার সাথে আমরা পরিচিত নই মোটেই। তাই হয়ত খটকা জাগে। “জনগণের সেবার নিয়োজিত” বাক্যটার এমন একটা জ্বলজ্যান্ত প্রমাণ সামনে দেখাটা আনন্দের নিশ্চয়ই।
আমি বাইকে থেকেই সেই পুলিশ অফিসারকে ধন্যবাদ দিলাম। তিনি জানালেন পুলিশ গাড়ীর ব্যবস্থা থাকলে তিনি নিজেই মহিলাকে বাসায় পৌছে দিতেন। ইতোমধ্যে সিগন্যাল ছেড়ে দিয়েছিল। পিছনে ত্রস্ত ব্যস্ত হর্ণের শব্দও বেড়ে চলেছিল। আমি মাথা ঝুকিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে গেলাম আড় চোখে দেখে নিলাম পুলিশ অফিসারের নাম “আলমগীর”।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই আগস্ট, ২০১১ দুপুর ২:৪০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



