আমার প্রিয় পোস্ট
- পরী এবং বিশটি বছর - ধূসর মেঘমালা
- শাওন - মানবী
- স্বপ্নবাজি - কিংকর্তব্যবিমূঢ়
- বৃস্তি পলে লে... - তেলাপোকা
- তিন টাকার ভাবনা - মাহবুবা আখতার
- একটি গোপন কথা ছিল বলবার - বিন্দু আমি
- রেইন ইন দ্য সিটি অব ডেসটিনিজ - বৃশ্চিক
- দুঃখবিলাস… - ফারজানা মাহবুবা
- তুমি জানলে না - মুনিয়া
- I am livin' la vida loca - মাহবুবা আখতার
- বুদবুদ চিনেনা? - তেলাপোকা
নারী দিবস এবং আমার কিছু কথা
০৮ ই মার্চ, ২০০৭ বিকাল ৩:৪৯
নারী ?
আমার মা ।
আমি তোমাকে কতটা ভালোবাসি তুমি জানোনা মা । বিশ্বের সকল মা জাতি নারী'কে সম্মান করেই
কিছু কথা বলতেছি । আমি প্রথমেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি সকল নারী জাতির কাছ থেকে ।
আমার ক্লাসের মেয়েগুলার দিকে যখন আমি তাকাই তখন পুরুষ অধিকার নিয়ে টানা-হেঁচড়া পড়ে যায় । ক্লাসের এই মেয়েগুলো এতই মডার্ণ এবং এতই ফার্স্ট যে পুরুষ অধিকার নিয়ে টান পড়বেই । তবে যখন পুরো ফ্রান্সের দিকে তাকাই তখন নারী-পুরুষের বৈষম্য ঠিকই চোখে পড়ে । আর বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর একটা দেশ ফ্রান্সে যখন এই বৈষম্য চোখে পড়ে তখন বাংলাদেশে একটু বাড়াবাড়ি দেখব সেটাই স্বাভাবিক । কিন্তু না , আমার মতে এটা মোটেও স্বাভাবিক না । অধিকার বলে যে শব্দটা আছে সেটা সবার ক্ষেত্রে প্রোয়োগ না করলে সেটা কখনই স্বাভাবিক না ।
আমাদের দেশের পত্রিকা খুললে চোখে পড়ে :এসিড নিক্ষেপে অমুক নারীর মুখ ঝলসে গিয়েছে । তমুক নারীকে মধ্যযুগীয় কায়দায় গণ-ধর্ষন করা হয়েছে । কিছু ললনা প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার সময় বখাটে ছেলেদের দ্্বারা উত্তপ্ত কথার স্বীকার হয়েছে ।
এখন যদি পরিস্থিতিটা ভালোভাবে লক্ষ্য করি তাহলে দেখা যাবে : যে মেয়েটার মুখে এসিড মারা হয়েছে সে যখন বাইরে জনসম্মুখে হাঁটাহাঁটি করতো তখন তার পরনে থাকতো ফিনফিনে শাড়ী যা পরলে শরীরে কিছু আছে বলে মনে হয়না । যাকে ধর্ষন করা হয়েছে তার সাথে ছিলো তার দেবরের পরকীয়া প্রেম । পরে ভাবীজান 'না' বলাতে দেবর ও তার বন্ধুরা করেছে গনধর্ষন । যে ললনা উত্তপ্ত কথার স্বীকার হয়েছে তার হেটে যাওয়ার ভঙ্গী ছিলো হেলিয়া-দুলিয়া ধরনের ।
একটা মেয়ে যদি সুস্থ ধারায় চলাফেরা করে তাহলে সে কখনো গন-ধর্ষনের বা উত্তপ্ত কথার স্বীকার হতে পারেনা । একটা বোরখা পরা মেয়ে কখনো এইসবে স্বীকার হয়না কেনো আমার খুব জানতে ইচ্ছা করতেছে । কেও কি বলবেন ?????
তবে হ্যা , কিছুদিন আগে ফ্রান্সের টিভি চ্যানেল ফ্রান্স ৩ তে হয়ে যাওয়া আফগান নারীদের উপর যে ডকুমেন্টারি দেখলাম সেটা আসলেই চিন্তায় ফেলিয়ে দেয় । সেখানে নারীরা বাইরে কাজের জন্য বের হতে পারবেনা । যে ঘরে পুরুষ নেই সে ঘরের মহিলারা দিনের পর দিন খুদার জ্বালা পোড়ায় একসময় ম্ত্যুর দিন গোনে । এসব হয়েছে একমাত্র কাঠখোট্টা মোল্লাদের জন্য । এটা ধর্মান্ধদের বাড়াবাড়ি । আমি ব্যক্তিগতভাবে এটার বরাবরই বিপক্ষে ।
আমাদের গ্রামেই দেখেছি নারী বৈষম্য । যারা ক্ষেতে কাজ করে , শুধু কাজই না টারা কাজ করে একজনে পুরুষের সমান তারাই সন্ধ্যায় মালিকের কাছ থেকে টাকা পায় একজন পুরুষের আর্ধেক । এটা হয়েছে আমাদেরই অসেচতনার কারণে ।
একজন নারী প্রতিটা কর্মক্ষেত্রে কাজ করার অধিকার রাখে ( বিশেষ কিছু ক্ষেত্র ছাড়া ) যারা এই বিষয়ে একমত না তাদের ভুল শুধরানোর সময় হয়েছে ।
আজ একজন নারীর অধিকার না থাকার পেছনে অতন্ত্য স্বচ্ছ কারণ হলো : মুক্তমনা আর ধর্মান্ধরা । একজন নারীকে হেলিয়ে-দুলিয়া চলার কারনের জন্য যদি ধর্ষনের স্বিকার হয় তার জন্য দায়ী মুক্তমনা আবার একজন নারীর ঘরে পুরুষ নেই বলে ক্ষুদার জন্য মরার জন্য দায়ী একজন ধর্মান্ধ ।
আসেন না আমরা এই মা' জাতীকে সর্বোচ্চ সম্মান তাকে দেই । মা' জাতী কখনো বাজারে প্রদর্শনের জিনিস হতে পারেনা । এইটা একটু কি আমরা বুঝতে পারিনা ?? এখনো কি বোঝার সময় হয়নি ??
অতিথি বলেছেন:
বোরখা পড়া মেয়ে স্বীকার হতে পারে। পূরুষটা যদি ধর্ষন করার ইচ্ছে করে তবে যে কাউকে করতে পারে।
ধূসর ছায়া বলেছেন:
ভালো পোস্ট । অনেকাংশে একমত । তবে শিক্ষাটা জরুরী । সুশিক্ষিত হলে এতো প্রবলেম বোধহয় থাকবে না ।
শাওন বলেছেন:
ধ্রুপদী , সব কথা যদি আমি বলে দেবো তাহলে আপনি বুঝলেন কোনটা ? যে ধর্ষন করেছে তার মনে যৌনোকাঙ্খা কখন চাপে ? যখন দেখে একটা মেয়ে দুলে দুলে হেটে যাচ্ছে । যখন দেখে মেয়েটার শরীরে কোনো কপড় নেই , যখন থাকে মেয়েটার শরীরে ফিনফিনে শাড়ি , আর একটুর জন্য হলেও মেয়েটার আকাঙ্খা ।
আর 2য় মন্তব্যটারও একি উত্তর ।
ছবিটা নেট থেকে নেওয়া । গুগল সার্চ করে পেয়েছি ।
ধূসর ছায়া , আপনার সাথে সহমত । শিক্ষা থাকলেই মানুষ সচেতন হবে । আর সচেতন হলেই সবকিছু রোধ করা সম্ভব ।
অতিথি বলেছেন:
ধ্রপদী ও শাওন,সবার মানসিকতা চ্যাঞ্জ হবে না.. মানুষের সাইকোলজিই এরকম যে তারা সুযোগ পেলেই অন্যায় করে... যাদের একটু বিবেক টিবেক এর বাধা আছে..তারা অন্যায়টার পক্ষে একটা যুক্তি দাঁড় করিয়ে ফেলে... তারপর নিশ্চিন্তে অন্যাটা করে ফেলে.. উদাহরন হিসেবে দেখাতে পারি কিছু তথাকথিত প্রগতিশীলদের কথা যারা অবাধ গর্ভপাত, লিভ টুগেদার, বিবাহ পূর্ব সেক্স ইত্যাদি বিষয়গুলোকে প্রগতির উদাহরন হিসেবে প্রচার করে। এসব প্রচার করার কারনে এক দল মানুষের মনে এসবকে খুব সাধারন ব্যাপার মনে হয়.. তখন সে তার আশেপাশের নারীদের এভাবে পেতে চেয়ে যখন না পায়.. তখন তার একটা অতৃপ্তি তৈরি হয়... আর সেটা থেকে তারা ধর্ষনের মত অন্যায় কাজকে ন্যায় মনে করে করে ফেলে.. (ধর্ষন অনেক রকম রয়েছে.. একটা মেয়েকে ব্লাক মেইলিং করে সেক্সে রাজী করানোটাও এক ধরনের ধর্ষন).. এসব ক্ষেত্রে সে যতই সচেতন হোক না কেন.. লাভ নেই। কারন তার কাছে কাজটা অন্যায় নয় একদমই....
একটু আগে একটা ব্লগে মন্তব্য করেছিলাম নারীদেরকে পন্য করে তোলা নিয়ে করা একটা পোষ্টে.. সেটা এখানে আবার দেই -
------------------------
নারী দিবসের নারীরা এসবের বিরুদ্ধে কেন বলেনা বুঝতে পারি না.. সম্ভবত তারা নিজেদের পন্য ভাবতে ভালবাসে... আর কিছু সুবিধাবাদী পুরুষ তো তাদের স্বাধীনতা বলতে কাপর খোলার স্বাধীনতা বুঝিয়ে থাকে.. যাতে তারা মজা লুটতে পারে....
বুদ্ধিবৃত্তিক দিক থেকে নারীরা আসলেই অনেক পিছিয়ে... এই ব্যাপারে তারা পুরুষের সমান কেন হতে চাচ্ছে না আমি ভেবে পাই না...
অতিথি বলেছেন:
শাওনকথায় আছে অতিরিক্ত কোন জিনিসই ভালো নয় ......যেমন ধর্মের নামে বাড়াবাড়ি আবার মুক্তচিন্তার নামে ধর্মকে দূরে সরিয়ে দেওয়া ....
আর যার জন্য দরকার শিক্ষা ....সেই সাথে সুশিক্ষাও.....কারন শিক্ষি ত হলেই যে তার মাঝে নৈতিকতার অবক্ষয় থাকবে না
তা নয়...তাই শিক্ষার সাথে নৈতিক দিকগুলোও শিখতে হবে....তবেই হয়তো সুন্দর সমাজ গঠন সম্ভব হবে...



















মানসিকাতা চেনজের কথা বলাটাই আমি বেশী ভালো মনে করি।
দুলে দুলে চললে ধর্ষনের সম্ভবনা বাড়ে কিন্তু যে ধর্ষন করছে তার কথা তো বললানা।
ছবিটা চেনা চেনা লাগছে , নেট থেকে নেওয়া নাকি তোমার কেউ?