somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... জোৎনা বাসর এক
আমাদের বিয়ে হলো আজ এক সপ্তাহ । আমি মাঝে মাঝে ওর দিকে আঁড়চোখে তাকিয়ে দেখি ও ফুসতেছে । বিয়ের জন্যে এই কয়দিন বেশ খাটা-খাটনি পড়েছে তাই যখন রাতে ফ্রেশ হয়ে বিছানায় আসি তখন আর চোখ দুটো খোলা থাকতে চায়না । ঘুম না আসলেও অনেকটা মন এবং শরীরের ইচ্ছার বিরুদ্ধেই ঘুমিয়ে পড়ি । ও মনে হয় এ জন্যই রেগে আছে। বিয়ের পর প্রতি রাতেই আমি ঘুমিয়ে যাই, ও আমার বুকের উপর মাথা রেখে শুয়ে থাকে। ওর ঘুম আসে কিনা জানিনা তবে চুপটি করে শুয়ে থাকে , কোনো নড়াচড়াও করেনা । শুধু রাগ ই না। মাঝে মাঝে ওকে খুব চিন্তিতো, শঙ্কাগ্রস্থ লাগছে। রেগে, শঙ্কায়...থাকলে থাকুক। এতদিনের জমানো ভালো লাগা , রাগ , অভিমানের উত্তেজনার সবটুকু অনিচ্ছা স্বত্তেও দমিয়ে রেখেছি। আমি জানি এটা অস্বাভাবিক কিন্তু আমাকে যে ঐ ইচ্ছাটা পূরণ করতেই হবে।




দুই
আমার প্যারিসে যাওয়ার দিন ঘনিয়ে আসতেছে । দেশের সময়টা কিভাবে চলে যাচ্ছে চোখের সামনে বোঝা মুশকিল ! ভালো লাগা মূহুর্তগুলো এমনভাবেই চলে যায় । গতকাল রাতেই সবাই চলে গেল । এতদিন বাসাটা সব আত্মীয়দের ভীড়ে গুম গুম অবস্থা ছিলো । বিয়ের কয়েকদিন আগে থেকে কাল পর্যন্ত কেমন একটা উৎসবের ভাব ছিলো ।

আজ সকালে উঠেই সিদ্ধান্ত নিলাম সিলেট যাব ওকে নিয়ে । সকালের দিকে সাতক্ষীরা টু সিলেট দু'টো টিকেট কেটে আনলাম । অবশ্য যেতে গেলে ঢাকা হয়েই যেতে হবে । বাইরে থেকে এসে আমি টিকেট দুটো খাটে রেখে আধা শোয়া হয়ে চোখ বুজলাম । ও কিছুক্ষণ পর ঘরে এসে পাসে বসে আমাকে বললো : কখন আসলে ?
আমি : এইত মাত্র...
ও : ওগুলা কি ?
আমি : দেখো কি ; সিলেটের টিকেট।
ও :সত্যি?
টিকেটের উপর চোখ বুলিয়ে ও বললো : আজি? আজকেই রওনা করে কালকে পৌঁছাবে?
আমি : হু
ও : ঢাকায় থামবে না ?
আমি : না , সরাসরি সিলেট।
ও : সরাসরি কেনো? এত দূরের জার্নি... ঢাকায় বাসায় একদিন থেকে তারপর গেলে হতো না ?
আমি : উহু , আমরা ফেরার সময় যাবো । জার্নি তে কষ্ট হবেনা , সেভাবেই ঠিক করেছি ।
ও : কেনো? ব্রেক নিয়ে গেলে কি হয়? সবাই তো এখনো আছে , বড় আপু , মেজদী...চলো না...
আমি : না সোনা প্লীজ , আমরা ফেরার পথে যাবো তো বললাম ।
ও : এত দূরের জার্নি আমি করতে পারব না ।
আমি : আরে পাগলী, তুমি বুঝতেও পারবে না । ঘুম থেকে উঠে দেখবা সিলেট পৌছে গিয়েছি ।
ও : হু মাথা খারাপ তোমার। একদিনে এত জার্নি কিভাবে করবো? ঢাকায় একদিন থেকে তারপর যাব ।
আমি : দেখ ঈশি , আমি ছোট মামাকে বলে দিয়েছি গেস্ট হাউসের জন্যে । মামার গেস্ট হাউসেই উঠব । আর এখন কনফার্ম করে না গেলে মামা কি মনে করবে না । আর তাছাড়াও টিকেট ও কনফার্ম করেছি আজ রাতেই ।
ও : টিকেট ফোন করে ক্যানসেল করলেই তো হয়ে যায় ।
আমি : ঈশি দেখ শুধু টিকেটের জন্যেও না ; মামাকে বলে দিয়েছি ওদিকে
ও : তো মামাকে আমার কথা বলো যে, আমি অত দূরের জার্নি করতে পারবে না । ঢাকায় থেকে পরদিন যাব ।
আমি : ইশি তুমি বুঝতে পারছ না এখন সিলেট যাওয়াটা কতটা জরুরি ।
ও : কেন জরুরি? তুমি কি কোনো বিজনেসের কাসে ওখানে যাচ্ছ নাকি? যাবো না আমি। ক্যানসেল করো। কোথাও যাওয়া লাগবেনা ।
আমি : ঈশি , তেজ দেখাইও না। মেজাজ খারাপ হচ্ছে। আমি বলতেছি কোন সমস্যা হবেনা। আমরা আজই সিলেট যাব , সন্ধ্যায় গুছিয়ে নিবা , রাত ১০টায় বাস ।

ঘর থেকে আমি বের হয়ে আসি । আমাদের এই অভ্যাসটা বোধয় যাবে না কোনো কালেও । কথায় কথায় রাগারাগি। বিয়ের নয় দিনের মাথায়ও রাগারাগি ! ভাবাই যায়না। আমি প্রদীপের দোকানের দিকে যাইতে থাকি ।




তিন
রাত ১০টার বাসেই রওনা দিলাম আমরা সিলেটের উদ্দ্যেশ্যে । রাতে কিছু খায়নি ও । আমি জানতাম খাবেনা। মা খাওয়ার কথা বললে বলেছিলো : এখন খেতে ইচ্ছে করছে না আম্মু , ক্ষুদা লাগলে রাস্তা থেকে খেয়ে নিবো ।

মাগুরায় যেয়ে বাস কিছুক্ষণ দাড়ালো । বাইরে প্রচুর বৃষ্টি । জুলাই মাসে এই বৃষ্টি হওয়া স্বাভাবিক । আমি গাড়ী থেকে নেমে ওর জন্যে চিপস আর কোক নিয়ে আসলাম ।
আমি : এটুকু খেয়ে নাও , ভালো লাগবে , না হলে মাথা ঘুরাবে ।
ও : খাবোনা ; ক্ষুদা নেই...

রাগ এখনও কমেনি। আমি কথা না বাড়িয়ে ওর সামনের সিটের পেছনে বক্সে রেখে দিলাম । ও আমাকে একটা তোয়ালে বের করে দিয়ে বললো : মাথা মুছে ফেলো , পানি থেকে গেলে পরে সর্দি হবে ।
আমি ভেতরে হাসি ফুটিয়ে বললাম : কেয়ারিং মেয়ে...

মাগুরা ছেড়ে বাসটা যতই সামনে এগোতে থাকে মেঘের ঘন ঘটা ততই কেটে ওঠে । এখন ভরা পূর্ণিমা , মেঘলা আকাশ থেকে এখন জোৎনার তেজ বাড়তেছে ।আমি বাইরে তাকিয়ে দেখলাম জোৎনাটাও আমাদের বাসের সাথে পাল্লা দিয়ে সামনে এগিয়ে চলছে ।

আরিচার ফেরীতে উঠে দেখলাম পুরা জোৎনাটা ওর মুখে , কি মায়াবী মুখ । ও অঘোরে ঘুমাচ্ছে । ফেরী ছাড়ার কিছু পরে দেখি জোৎনার আলো পানিতে পড়ে চিক চিক করছে , অদ্ভুত সুন্দর । ওকে ডেকে দেখাবো কিনা ভাবতেই ওর মাথায় আলত করে হাত দিলাম । ওর চুলের ফাঁকে ফাঁকে হাত বুলাতে বুলাতে ওকে আস্তে করে ডাকলাম ঈশি , ঈশি...
ও চোখ মেলে আমার দিকে তাকিয়ে থাকে । আমি ওর মাথায় হাত বুলাতে বুলাতেই বললাম : খুব ক্লান্ত লাগছে ?
ও : না তেমন না ।

ওকে বাইরের দিকটা দেখিয়ে বললাম : দেখো জোৎনার আলো পানিতে পড়ে কি হয়েছে । ও বাইরে তাকিয়ে দেখে চমকিয়ে ওঠে । দৃশ্যটা আসলেও খুব চমৎকার লাগছে । আমি ওকে বললাম : সুন্দর না ?
ও : ওয়াও!!! কি সুন্দর...

আমি ওকে আড়চোখে দেখে বুঝলাম যে ওর রাগটা কমেছে । ও আমার ডান কাঁধে মাথা রাখল । আমি সামনে রাখা চিপসে প্যাকট টা নিয়ে ওকে দিয়ে বললাম : খাও এবার , না হলে বেশি ক্লান্ত লাগবে । ও মাথাটা ওভাবে রেখেই বলে খুলে খাইয়িয়ে দাও । আমি প্যাকেট থেকে একটা চিপস নিয়ে ওর মুখে দেই ।




চার
আমরা কিছুক্ষণ আগে এসে পৌছেছি । দুজনেই অনেক ক্লান্ত । মামার গেস্ট হাউসটা দারূন। চমৎকার প্রাকৃতিক পরিবেশে গেস্ট হাউসটা দেখেই ক্লান্তি অনেকখানি কমে যায়। আমার ছোট মামাটা অসাধারণ। মামা যখন এটা বানায় তখন মামা আমাকে বলে : কি রে পাগলা শেয়ার হবি নাকি? সেসময়ই তার অফারটা লুফে নিতে হতো , কিন্তু বাড়ী বানাতে যেয়ে আর ওদিকে থাকা হলোনা । আমি সন্ধ্যার দিকে মামাকে নিয়ে বের হলাম । ফিরে আসলে ও আমাকে বলে : কোথায় গিয়েছিলে ?
আমি : কোথাও না , এমনি সামনে টা দেখে আসলাম




পাঁচ
রাতে খাবারের পর ওকে বললাম চলো রাতে শহরটা দেখে আসি । ওর এবারি প্রথম সিলেট আসা । হয়ত এজন্যেই না করেনি । আমরা রিকশা নিয়ে নদীর ধারে চলে আসলাম । আমি জানি ও নদীর পাড়ে গেলেই বলবে নৌকায় উঠতে ।
ও : এই চলো না নৌকায় উঠি।
আমি : না উঠলে হয়না ?
ও : না , চলো না প্লীজ।
আমি : ওকে বাবা ওকে।

আমরা সামনে একটা নৌকার সামনে গিয়ে দাড়ালাম । লোকটি নৌকা থেকে নেমে এসে নৌকাটা আমার হাতে দিয়ে নেমে গেলো । আমি ওকে নিয়ে অনেকদূর চলে আসলাম । ও এতক্ষণ আমার দিকে চোখ ছোট ছোট করে তাকিয়ে ছিলো । এবার কথা বললো, আচ্ছাব্যাপার কি? লোকটা কিছু না বলেই নেমে গেলো কেনো? কত টাকা দিবা ওকে সেটাও তো ওকে বলে উঠলে না? আর ও নেমে গেলো কেনো? যদি হারিয়ে যাই? তুমি কি চেনো এখানে?
আমি : ঈশি , গতকাল সন্ধ্যায় মামাকে নিয়ে বের হয়েছিলাম তখনই এই নৌকাটা ঠিক করে রেখেছিলাম , তোমাকে বলিনি , সারপ্রাইজ !!!

আমরা কথা বলতে বলতে অনেকদূর চলে আসলাম । ও আমাকে বললো, এই আর কতদূর যাবে ? এবার ঘোরাও ফিরে যাই । অনেক রাত হয়ে গিয়েছে এমনিই , মামারা চিন্তা করবেন ।
আমি : এইত সোনা আরেকটু ।

আমাদের সামনে একটা ঘর আসলে আমি নৌকাটার ইন্জিন বন্ধ করে দিলাম । ও চিৎকার করে বলে : এই শ্রাবণ , দেখো সেই ঘরটার মত !!
আমি : কোন ঘরটার মত?
ও : ঐযে জোৎস্নাঘরটার মত , ঠিক তোমাদের ঐটার মত ।

আমি ঘরের কাছে নৌকাটা বেঁধে ফেলি । ওকে বলি : চলো , ভেতরে যাই , বলে বললাম তুমি আগে যাও , ওকে ধরে উঠায় দিলাম । ঘরে ঢুকতেই ও আবার চিৎকার করে উঠে আর আমি হাসি, চিৎকার করে বলে: এ কি? এটার ভিতরে বিছানা,বালিশ কেনো? চলো চলে যাই , কাদের বাসা জানি। কোনো ঠিকঠাকানা নেই।চলো...
এবার আমি চিৎকার করে বলি: সারপ্রাইজ !!! এটা আমিই ঠিক করে রেখেছি সোনা , আজ আমরা শুয়ে শুয়ে জোৎনা দেখব , জোৎস্নাতে ভিজব !

ও অবিশ্বাসের চোখে আমার দিকে তাকিয়ে রইলো । আমি ঘরে উঠে ওটার একটা কোণা থেকে মোমবাতী বের করলাম । ১৩ টা মোমবাতী দিয়ে ঘরের ভিতরে সাজালাম। ও চোখ বড় বড় করে আমাকে জড়িয়ে ধরে বললো : শ্রাবণ , আই লাভ ইউ ।

রাত ১১টা । আমরা শুয়ে শুয়ে জোৎনা দেখছি । আমি ওকে ধরা গলায় ডাকলাম : ঈশি
ও : বলো
আমি : আমি স্যরি ঈশি , আজ ঢাকায় তোমাদের বাসা হয়ে আসিনি বলে ।
ও : হুমমম...
আমি : কেন যাইনি জানো ?
( ও নিশ্চুপ )
আমি : আজ পূর্ণীমার শেষ রাত । কাল থেকে অমাবশ্যা । কালকে আসলে এই জোৎনাটা দেখতে না , আমি তোমাকে এই জোৎনাটা দেখাতে চেয়েছিলাম।

ও আমার দিকে ফিরে বলে : আমি বুঝিনি শ্রাবণ , তখন রাগ লাগছিলো। আমিও স্যরি ।

আমি : ঈশি
ও : হু
আমি : আজ কত তারিখ জানো ?
ও : ১৩ , কেনো ?
আমি : কি সুন্দর মিলে গেলো তাই না ? নভেম্বরের ১৩ এর মত আজও ১৩ , আবার কালকে আসলে ১৪ হয়ে যেত , পূ্র্ণিমাও থাকত না । এই মাখামাখি জোৎনাটা সুন্দর লাগছে না ?

ও নিশ্চুপ । আমি ওর দিকে তাকিয়ে দেখলাম ও আকাশের দিকে চেয়ে আছে । নীল জোৎনাটা ওর মুখের উপর পড়েছে , ওর চোখের কোণ থেকে এক ফোটা পানি চিক চিক করে উঠলো ।
আমি : এই পাগলী , কানছো কেন ?
ও আমাকে জড়ি্যে ধরে জোরে কেঁদে উঠলো ; তুমি খুউব ভালো শ্রাবণ । খুউব ভালো ।
আমি আর পারলাম না। ওকে বাহুডোরে আবদ্ধ করে নিয়ে পাগলের মত ভাসবাসায় ভরে দিতে লাগলাম। এতদিনের জমে থাকা সলজ্ব সাধ নিতে ভালবাসায় দু'জনে মিশে গেলাম ।



ছয়
রিকশায় করে গেস্ট হাউসে ফেরার পথে আমি ওর বাম হাতটা আমার ডান হাতের মুঠোয় নিতে গিয়ে দেখলাম ওর হাতে একটা কাপড় দিয়ে বাঁধা । বললাম : কি হয়েছে ?
ও : কিছু না , সামান্য কেটে গিয়েছে।
আমি : কি করে ???
ও : কাল রাতে ... চুড়ি . . .

আমি হতবাক হয়ে ওর দিকে তাকিয়ে থাকি । ঘরে ঢুকেই ওকে বলি ; স্যরি অনেক ব্যাথা করছে ? দেখি , কি অবস্থা ?
ও : না তোমার মাথা ঘুরবে তাহলে । আর কালকে যে সুখটা আমাকে দিয়েছো সেটার চেয়ে এই ব্যাথা বড় নয় ।

আমি বাথরুমে ঢুকতে যাই শাওয়ার নিতে । ও আমাকে ডেকে উঠলো : এই শোনো...
আমি ঘুরে ওর দিকে তাকিয়ে থাকি ।
ও : তুমি কি এই সারপ্রাইজ এর জন্যই এতদিন এমন করেছিলে?
আমি : ইশি , তোমার মনে আছে , সেই প্রথম দিকে আমাদের যখন কথা হত তখন তুমি একবার বলেছিলে হানিমুনে সিলেটে এসে এমন কিছু হোক । আমি তোমার সেই ইচ্ছাটাই পূরণ করতেই এই সারপ্রাইজটাই দিয়েছি। বলেই আমি বাথরুমে ঢুকে লক করে দিলাম।



সাত
অনেকদিন পরের কথা । প্রায় ১১ মাস হবে । আমাদের একটা মেয়ে হয়েছে। । ঈশি ওর নাম রেখেছে সকাল । ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/shaon/29373638 http://www.somewhereinblog.net/blog/shaon/29373638 2011-05-02 12:56:40
গতকাল রাতে সে যখন আমাকে কিস করেছিলো ; আমি পারিনি তখন তাকে বাঁধা দিতে . . . মনে আমার ধরেছে নেশা নেশা
বুকে আমার কামনার তৃশা
রূপের জাদু বড় জাদু গো . . .


ঘরের মধ্যে তখন বেশ গরম । হীটারের গরম হাওয়ায় ঘর অনেক গরম হয়ে গিয়েছে । বাইরের মৃদূ হাওয়ার জন‌্যে আমি তখন আমার জানালা দরজার খুলে দিয়েছিলাম । ঠিক তখন-ই সে এলো । পরীর মত উড়তে উড়তেই আমার ঘরে ঢুকে পড়ল । আমি তখন শত চেষ্টা করার পরও তাকে বাঁধা দিতে পারিনি । তার গায়ের রঙ ছিলো অনেক কালো ; যেন কৃষ্নকলি । তার রূপের ঝলকে আমার তখন শরীরে শিহরণ করে গিয়েছে । কোনো এক অজানা ভয়ে শরীরের প্রতিটি লোমকূপ দাড়িয়ে গিয়েছিলো ।


না , আমি পারিনি তখন বাঁধা দিতে । আমি প্রথমে অনেক কষ্টে তাকে বুঝিয়েছিলাম চলে যেতে । কিন্তু সে যায়নি । সে তখন আমাকে গুন গুন করে গান শোনাতে ব্যস্ত । সে অসম্ভব সুন্দর শিশ বাজাতে পারে । আমি তখন পাগলপ্রায় হয়ে গিয়েছিলাম । যেন মনে হচ্ছিলো হ্যামিলিয়নের বাশিওয়ালার মত তার সেই শিশ আমাকে ডাকছে । অনেক কাছে , অনেক বেশী কাছে ।


আমি কখনই চাইনি সে আমাকে টাচ করুক । আমি রেগে গিয়ে তাকে মারতে চাইছিলাম । কিন্তু তাকে আমি মারতে পারিনি ।


আমি তখন শুয়ে ছিলাম । সে প্রথমে আমার কাছে আসল । অনেক কাছে । সে মনে হয় অনেক ক্রেজী হয়ে গিয়েছিলো আমাকে দেখে । এসেই বলা নেই কওয়া নেই হুট করে কিস করল । তার কিস এর জ্বালায় আমি তখন পাগলপ্রায় । আমার সহ্য ক্ষমতার বাইরে চলে গিয়েছিলো তার শরীর জ্বালানো কিস । আমি অনেক চেষ্টা করেও পারিনি মশা'টাকে মারতে ।
তবে হ্যা , প্রায় এক ঘন্টা পরে যেয়ে ঠিকই তাকে মেরে ভর্তা বানিয়েছিলাম । ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/shaon/29342502 http://www.somewhereinblog.net/blog/shaon/29342502 2011-03-11 19:48:07
ফিরে দেখা বিশ্বকাপে বাংলাদেশ
১২ এপ্রিল ১৯৯৭ ; তেনাগা ন্যাশনাল সপোর্টস কমপ্লেক্স , কুয়ালালামপুর , মালোয়েশিয়া ।


দিনটির কথা মনে আছে আপনাদের ? আই সি সি ট্রফির ফাইনাল খেলা । কুয়ালালামপুরের আকাশে ছিলো মেঘের ঘনঘাটা । সারাদিন ফিচফিচ করে বৃষ্টির পর দুপুর ৩টা ৪৫ -এ আমপায়ার'রা সিদ্ধান্ত নিলেন বিকেল ৫টা ৪৫ এ খেলা শুরু হয়ে ১৩ তারিখে বাকি অংশ খেলা হবে । সারা বাংলাদেশ তখন চেয়ে আছে বাংলাদেশ ক্রিকেট টীমের দিকে ।

টসে জিতে সাবেক অধিনায়ক আকরাম খান বল করার সিদ্ধন্ত নেয় । শেষ পর্যন্ত কেনিয়া ৫০ ওভার ব্যাট করে বাংলাদেশকে টার্গেট ছুড়ে মারে ২৪১ রানের ।
খারাপ আবহাওয়া আর বৃষ্টির জন্যে ডাকওর্থ লুইস ক্যালকুলেশন করে সিদ্ধান্ত হয় বাংলাদেশকে ২৫ ওভারে ১৬৬ রান করলেই হবে । শেষ ওভারে যেয়ে বাংলাদেশের দরকার পড়ে ১১ রানের । সেই শেষ মুহুর্তের কথা কখনো ভোলার নয় ।

এভাবেই ১৯৯৭ সালে আই সি সি ট্রফি জিতে বিশ্বকাপ ক্রিকেট
১৯৯৯ এ যায়গা করে নেয় বাংলাদেশ ।


_______
১৯৯৯ এ ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত বিশ্বাকাপে বাংলাদেশ পড়ে বি গ্রুপে সাথে ছিলো পাকিস্তান , অস্ট্রেলিয়া , নিউজিল্যান্ড , ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং স্কটল্যান্ড ।
১৭ মে ১৯৯৯ এ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলে নিউজিল্যান্ডের সাথে ।

১৯৯৯ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ফলাফল :

বাংলাদেশ ১১৬ (৩৭.৪ ওভার)
নিউজিল্যান্ড ১১৭/৪ ( ৩৩ ওভার )



২১ মে ১৯৯৯ বাংলাদেশ বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ :
বাংলাদেশ ১৮২ (৪৯.২ ওভার)
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১৮৩/৩ (৪৬.৩ ওভার)
মেহরাব হোসেন ৬৪ (১২৯)

অপির কথা মনে আছে আপনাদের ? মুখটা চাপা দেখতে বাংলাদেশের পক্ষে বিশ্বকাপের প্রথম হাফ সেঞ্চুরিয়ান ।


২৪ মে ১৯৯৯ বাংলাদেশ বনাম স্কটল্যান্ড (বিশ্বকাপের প্রথম জয়)
বাংলাদেশ ১৮৫/৯ (৫০ ওভার)
স্কটল্যান্ড ১৬৩ (৪৬.২ ওভার)


২৭ মে ১৯৯৯ বাংলাদেশ বনাম অস্ট্রেলিয়া
বাংলাদেশ ১৭৮/৭ (৫০ ওভার)
অস্ট্রেলিয়া ১৮১/৩ (১৯.৫ ওভার)


৩১ মে ১৯৯৯ বাংলাদেশ বনাম পাকিস্তান
বাংলাদেশ ২২৩ /৯ (৫০ ওভার)
পাকিস্তান ১৬১ (৪৪.৩ ওভার)
পাকিস্তানের বিপক্ষে সেই ঐতিহাসিক জয়



বাংলাদেশ সেবার ৫টা ম্যাচ খেলে ২টা জয় পেয়ে ৪ পয়েন্ট পায় । এবং প্রথম রাউন্ডেই বাদ পড়ে ।


_______
২০০৩ এর ফেব্রুয়ারীতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে বাংলাদেশ পড়ে বি গ্রুপে সাথে শ্রীলংকা , কেনিয়া , নিউজিল্যান্ড , সাউথ আফ্রিকা , ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং কানাডা ।

১১ ফেব্রুয়ারী ২০০৩ বাংলাদেশ বনাম কানাডা
বাংলাদেশ ১২০ (২৮ ওভার)
কানাডা ১৮০ (৪৯.১ ওভার)


১৪ ফেব্রুয়ারী বাংলাদেশ বনাম শ্রীলংকা
বাংলাদেশ ১২৪ (৫০ ওভার)
শ্রীলংকা ১২৬/০(২১.১ ওভার)


১৮ ফেব্রুয়ারী বাংলাদেশ বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৫০ ওভারে ২৪৪ রানের টার্গেট দেওয়ার বাংলাদেশ ৮ রানে ১ উইকেট যায় এবং বৃষ্টির কারণে খেলা বন্ধ হয়ে যায় ।

২২ ফেব্রুয়ারী ২০০৩ বাংলাদেশ বনাম সাউথ আফ্রিকা
বাংলাদেশ ১০৮ (৩৫.১ ওভার)
সাউথ আফ্রিকা ১০৯/০ (১২ ওভার)


২৬ ফেব্রুয়ারী ২০০৩ বাংলাদেশ বনাম নিউজিল্যান্ড
বাংলাদেশ ১৯৮/৭ (৫০ ওভার)
নিউজিল্যান্ড ১৯৯/৩ (৩৩।৩ ওভার)


১ মার্চ ২০০৩ বাংলাদেশ বনাম কেনিয়া
কেনিয়া ২১৭/৭ (৫০ ওভার)
বাংলাদেশ ১৮৫ (৪৭.২ ওভার)


২০০৩ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ৬টি ম্যাচ খেলে একটি ম্যাচেও জিততে পারেনা । ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাথে বৃষ্টির কারণে ম্যাচটি বাতিল হয়ে গেলে সেখান থেকে ২ পয়েন্ট পায়। সুতরাং প্রথম রাউন্ডেই চলে যেতে হয় বাংলাদেশ কে ।



_______
২০০৭ এর মার্চে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে ৪টি গ্রুপে বাংলাদেশ পড়ে বি গ্রুপে সাথে থাকে শ্রীলংকা , ভারত এবং বারমুডা ।

১৭ মার্চ ২০০৭ বাংলাদেশ বনাম ভারতের প্রথম খেলাতেই বাংলাদেশ জয় দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করে ।

বাংলাদেশ ১৯২/৫ (৪৮.৩ ওভার)
ভারত ১৯১ (৪৯.৩ ওভার)


২১ মার্চ বাংলাদেশ বনাম শ্রীলংকা
শ্রীলংকা ৩১৮/৪ (৫০ ওভার)
বাংলাদেশ ১১২ (৩৭ ওভার)


২৫ মার্চ বাংলাদেশ বনাম বারমুডা
বাংলাদেশ ৯৬/৩ (১৭।৩ ওভার)
বারমুডা ৯৪/৯ (২১ ওভার)

বাংলাদেশ প্রথমবারের মত সুপার ৮ এ যায় গ্রুপ রানার্স আপ হয়ে শ্রীলংকার সাথে ।

৩১ মার্চ বাংলাদেশ বনাম অস্ট্রেলিয়া
বাংলাদেশ ১০৪/৬ (২২ ওভার )
অস্ট্রেলিয়া ১০৬/০ (১৩.৫ ওভার)

২ এপ্রিল বাংলাদেশ নিউজিল্যান্ড
বাংলাদেশ ১৭৪ (৪৮।৩ ওভার)
নিউজিল্যান্ড ১৭৮/১ (২৯.২ ওভার)

৭ এপ্রিল বাংলাদেশ বনাম সাউথ আফ্রিকা
বাংলাদেশ ২৫১/৮ (৫০ ওভার)
সাউথ আফ্রিকা ১৮৪ (৪৮.৪ ওভার)

১১ এপ্রিল বাংলাদেশ বনাম ইংল্যান্ড
বাংলাদেশ ১৪৩ (৩৭.২ ওভার)
ইংল্যান্ড ১৪৭/৬ (৪৪.৫ ওভার)

১৫ এপ্রিল বাংলাদেশ বনাম আয়ারল্যান্ড
আয়ারল্যান্ড ২৪৩/৭ (৫০ ওভার)
বাংলাদেশ ১৬৯ (৪১.২ ওভার)

১৯ এপ্রিল বাংলাদেশ বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২৩০/৫ (৫০ ওভার)
বাংলাদেশ ১৩১ (৪৩.৫ ওভার)

স্যুপার ৮ এর ৭টি ম্যাচের একটিতে জয়ী হয়ে ২ পয়েন্ট নিয়ে ৬ষ্ঠ হয় বাংলাদেশ সেবার । কোয়ার্টার ফাইনালের স্বপ্ন হারায় বাংলাদেশ ।


*** বিশ্বকাপে বাংলাদেশের পক্ষে একটি রেকর্ড আছে । সেটি হলো : ১৭ বছর ২ মাস ১০ দিন বয়সে তালহা জুবায়ের সর্ব কনিষ্ঠ প্লেয়ার হিসাবে বিশ্বকাপে খেলে ।




-----_____-----_____-----_____-----

*-- এই লেখার সোর্স নেওয়া হয়েছে http://www.espncricinfo.com/ এখান থেকে । ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/shaon/29339391 http://www.somewhereinblog.net/blog/shaon/29339391 2011-03-06 18:35:34
আসেন আমরা যারা সামুর ব্লগার তারা ভাব মারি <img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_03.gif" width="23" height="22" alt=":)" style="border:0;" /> <img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_05.gif" width="23" height="22" alt=":D" style="border:0;" /> <img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_07.gif" width="23" height="22" alt="B-)" style="border:0;" /> <img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_09.gif" width="23" height="22" alt=";)" style="border:0;" />... " style="border:0;" /> বুয়েটিয়ান <img src=" style="border:0;" /> <img src=" style="border:0;" /> বিদেশী ভার্সিটি <img src=" style="border:0;" /> <img src=" style="border:0;" /> <img src=" style="border:0;" /> মেডিকেলের <img src=" style="border:0;" /> <img src=" style="border:0;" /> <img src=" style="border:0;" /> <img src=" style="border:0;" /> পুলাপাইন গুলার এত ভাব বাড়ছে কাইল থেইক্কা যে বলার মত না । মাথা মুথা আউলায় যাইতেছে এইসব দেইখা । <img src=" style="border:0;" /> <img src=" style="border:0;" /> <img src=" style="border:0;" /> <img src=(" style="border:0;" />

আরেকজন দেখলাম ম্যাক ইউজ করে তাই ফাল পাড়তেছে । <img src=" style="border:0;" /> <img src=" style="border:0;" /> <img src=" style="border:0;" /> <img src=" style="border:0;" /> <img src=" style="border:0;" />

ভাই , বোনেরা সোজা কথা আমরা সামুর ব্লগারআসেন আমরা যারা সামুর ব্লগার তারা ভাব মারি <img src=" style="border:0;" /> <img src=" style="border:0;" /> <img src=" style="border:0;" /> <img src=" style="border:0;" /> <img src=" style="border:0;" /> <img src=)" style="border:0;" /> :`> :``>> <img src=" style="border:0;" /> <img src=" style="border:0;" /> <img src=" style="border:0;" /> <img src=" style="border:0;" /> ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/shaon/29337738 http://www.somewhereinblog.net/blog/shaon/29337738 2011-03-03 23:26:18
আমার চিংড়ি মাছ ভুনা <img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_71.gif" width="23" height="22" alt="!:#P" style="border:0;" /> <img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_71.gif" width="23" height="22" alt="!:#P" style="border:0;" /> <img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_71.gif" width="23" height="22" alt="!:#P" style="border:0;" /> " style="border:0;" /> আমার দ্বারা সেটা সম্ভব কখনই না ।

বেশ কিছুদিন আগে শখ করেই চিংড়ি মাছ ভুনা করেছিলাম । কিভাবে রান্না করি সেটা একজন জানতে চেয়েছিলো । তাকে হাজার বলেও বুঝে উঠতে পারত না । শেষমেশ আমাকে বলে : শাওন তুমি প্রতিটা স্টেপের ছবি তুলবা । এ টু জেড ছবি তুলবা । তুলে দেখালে আমি বুঝব । তো তার জন্যেই সেদিন একটু করে পেঁয়াজ কাটি একটু করে টমেটো কাটি আর ছবি তুলি ।

সেদিনকার ছবি গুলো :


প্রথমে হাড়ি পাতিল , চাক্কু , ছুরি , দা , প্লেট গ্লাস যা যা আছে সেটা ভালো করে ধুয়ে আমার মত করে সুন্দর করে রাখুন <img src=" style="border:0;" />



চিংড়ি মাছগুলো একটি পাত্রে রাখুন ।


চিংড়ি মাছ


চিংড়ি মাছগুলো ভাবে ধুয়ে নিন ।


টমেটো, পেঁয়াজ, রসুন আরো যা যা দিবেন আর কি সেগুলোও ভালোভাবে ধুয়ে নিন


এবার টমেটো কাটাকাটি <img src=" style="border:0;" />


পেঁয়াজ কাটাকাটি <img src=" style="border:0;" /> /<img src=" style="border:0;" />


কুঁচি কুঁচি করে কাটাকাটি <img src=" style="border:0;" />


রসুন ও কাটাকাটি


সুন্দর করে গুছিয়ে রাখুন <img src=" style="border:0;" />


যে পাত্রে রান্না করবেন সেটিতে পরিমাণমত তেল দিয়ে পেঁয়াজ রসুন আর টমেটো গুলো একটু ভাজা ভাজা করে নিন ।


আরো ভাজা ভাজা <img src=(" style="border:0;" />


আরো একটু বেশী ভাজা ভাজা <img src=(" style="border:0;" /><img src=" style="border:0;" />


আরো একটু বেশি বেশি ভাজা ভাজা <img src=(" style="border:0;" /><img src=" style="border:0;" /><img src=(" style="border:0;" />


আরো বেশি বেশি ভাজা ভাজা <img src=(" style="border:0;" /><img src=" style="border:0;" /><img src=(" style="border:0;" /><img src=" style="border:0;" />


এবার একটু ঝাল দিলাম মানে মরিচ , এটারে বাংলায় কি বলে আল্লাহ জানে !


এবার টমেটো ক্যাচপ <img src=" style="border:0;" />


এবার সবকিছু দিয়ে একটু নাড়ানাড়ি


আরো একটু নাড়ানাড়ি <img src=(" style="border:0;" />


এবার হালকা পানি দিলাম


ইয়েয়েয়েয়ে শেষ <img src=" style="border:0;" />


প্লেটে পরিবেশন <img src=" style="border:0;" /> <img src=)" style="border:0;" />


কেমন ??? <img src=" style="border:0;" /> <img src=" style="border:0;" /> <img src=" style="border:0;" /> ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/shaon/29329570 http://www.somewhereinblog.net/blog/shaon/29329570 2011-02-19 00:33:30
এমনটা যেন না হয়
এইত গতবার ই ; বাংলাদেশ থেকে আসার চলে সময় যখন ভোরে বাবা-মার সাথে এয়ারপোর্টে গেলাম , ঠিক ভেতরে ঢোকার মুহুর্তেই শুনলাম হাওমাও করে কান্নার শব্দ । কি হয়েছে জিজ্ঞাসা করতেই শুনি একজন প্রাবসী ছেলে মারা গিয়েছে , তার লাশ পাঠিয়ে দিয়েছে কাতার থেকে । পুরো পরিবার এসেছে এয়ারপোর্টে ছেলের লাশ রিসিভ করতে । সেই কান্নার আওয়াজ শুনলে গা শিউরে ওঠে । মনের মধ‌্যে একটা ভয় হয় । তখন বলে উঠি আল্লাহ এমনটা যেন না হয় ।

মাঝে মাঝে প্যারিসেও শুনি আজকে একজনের বাবা মারা গিয়েছে দেশে । কালকে আরেকজনের মা মারা গিয়েছে দেশে । ঠিক তখনই বুক কেঁপে ওঠে । শুধু মানুষেরটা কেন ? এইত আমার নানা যখন মারা গেলেন তখন আমার মেজ খালা এখানে । আমি দেখেছিলাম আমার মেজ খালার হাহাকার । কেঁদে উঠত শেষ সময়টাতে বাবার সেবা করতে পারেনি বলে । আমি তখন বলে উঠি আল্লাহ এমনটা যেন না হয় । অনতত যেন তাদের সেবাটা করতএ পারি ।

সবাই-ই চায় প্রিয়জন চলে যাওয়ার সময় তার পাশে থাকুক । হায়রে ভাগ্য । প্রবাসে থাকা ৯৯ % মানুষই মনে হয় না এই ভাগ্য নিয়ে জন্মায় । আমি তখন বলে উঠি আল্লাহ এমনটা যেন না হয় । এমন কঠিন করে দিও না ।

আমার মা'র হঠাৎ জ্বর হলো । তারপর সর্দি-কাশি ।তারপর জ্বর সেরে গেলো ঠিক তখনই শুরু হলো শাস-কষ্ট । কিছুদিন আগে দেখি কথা বলতে পারতেছে না । ফোন করলেই বলে : আব্বুর সাথে কথা বল । আমার একটু কষ্ট হচ্ছে ।
দুদিন পরে দেখি কথাই বলেনা । বাবা বলে : এখন কথাই বলে না । ডক্টর এসে ওশুধ দিয়ে গেলো । ওশুধ খায় ঠিকমত কিন্তু পানির কাজ করা বন্ধ করেনা । কিছু বললেই বলে এখন শীতের সময় , কতগুলো করে কাপড় পরতে হয় এসব সব না ধূলে হয় । আমাকে ভুল ভাল বুঝিয়ে দেয় । আবার আমাকে ঠিক মত বলেও না কি হয়েছে । এই কাজটা প্রায় সব বাবা - মা'রা ই করে । মনে করে ছেলে দুশ্চিন্তা করবে । একা একা দূরে আছে । এইসব করে করে শাস-কষ্ট আরো বাড়িয়েছে । মাঝে ৪-৫ দিন কথাই বলেনা । পরে ভালো ডক্টর দেখিয়ে বললো এক্স-রে করাতে , ব্লাড টেস্ট করাতে । এদিকে বসে বসে আমার চিন্তায় ঘুম হারাম হয়ে যায় ।

আজকে রিপোর্ট দিলো : আল্লাহর রহমতে ভালো । কিছু হয়নি । কিন্তু তারপরও ভয় হয় শেষ সময়টা ; পাশে থাকতে পারব তো । নাকি আমার পাশে বাবা - মা থাকতে পারবে । তাদের প্রিয় মুখ খানি দেখে বিদায় নিতে পারব ! জানি যে একদিন চলে যেতেই হবে । তখন বলে উঠি আল্লাহ এমনটা যেন না হয় । শুধু আমার না , কারোরই যেন না হয় । ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/shaon/29322772 http://www.somewhereinblog.net/blog/shaon/29322772 2011-02-08 21:09:30
আমাগ্যে বাড়ী সাতক্ষীরে

বেশ কিছুদিন আগে রাজশাহী ভার্সিটিতে পড়ুয়া এক বড় ভাই আমার ফুপাত বোনকে ফোন করে বলছে : আইছা, আমাগ্যে বাড়ী যে সাতক্ষীরে , আমি কতা কলিপ্পারে মানুষ বুঝি ফেলায় কি কইরে ? কিছু কলিপ্পারে বলে ; ভাই আপনার বাড়ী কি সাতক্ষীরে ?


সেদিন আমি আর আমার বোন রিকশায় করি যাইতেছিলাম ধানমন্ডিতে । উদ্দেশ্য আমি ফুচকা খাব । আমি আমার এই জীবনে কোনোদিন ফুচকা খাইনি । আশ্চর্য হলেও কথাটা সত‌্য । তো এক ফাঁকে আমার বোন বললো : ভাইয়া তুমি সত্যি কোনোদিন ফুচকা খাওনি ? আমি বলি : না সত্যি খাইনি । আপু মজা করে বললো : তোমাগ্যে বাড়ী যে সাতক্ষীরে এই জন্যি খাওনি ।
রিকশাওয়লা ঘাড় ঘুরিয়ে বলে : আপনাগ্যে বাড়ী সাতক্ষীরে ?? আমিও
সাতক্ষীরের ।

কথা বলতে বলতে চোখে পড়লো মিষ্টির দোকান : সাতক্ষীরা ঘোষ ডেয়ারী ।মনে হয় দেশ সেরা সাতক্ষীরার সন্দেশ এইখানেই পাওয়া যায় । আর সবথেকে বড় কথা হলো আমার মনে হয় এমন কোনো বড় বড় শহর নেই যেখানে একটা সাতক্ষীরা ঘোষ ডেয়ারী খুঁজে পাওয়া যাবে না ।


মাঝে মাঝে আমার কথা শুনে কেও হাসলে মনে হয় আমি যেন কোন আবাইদে এলাকা থেকে উঠে আইছি । আইছি ,যাতিছি , খাতিছি কথাগুলো সাতক্ষীরে মানুষের মুখি প্রায়ই শোনা যায় ।
তারপর সাতক্ষীরার মানুষ চেনার আরেকটা উপায় হলো : কথা বলার মধ্যে "বলো" শব্দটা উচ্চারণ করবে । এর মানে হলো কিন্তু । এমনকি আমি নিজেও বলি । যেমন কেও একজন আমাকে বললো : শাওন , দুপুরে কিছু খাইছির ? এখন খাবিনি ?
আমি : এখন খাবোনা বলো , আমি খাইছি আগে । আগে যখন আইলাম তখন খাইছিলাম ।
এর থেকে জঘন্য জিনিস যখন শুনি যাতিছে ( যাচ্ছে) , খাতিছে (খাচ্ছে) রকমের কথাবাত্রা ।
যেমন : দ্যাখো , কি করে খ্যাতিছে
ও বাজারে যাবে না , তুই সেই কখন কলি ( বললি ) যে ও বাজারে য্যাতিছে (যাচ্ছে), কই গেলো না তো ।


আবার কেও যদি বলে একটু পরে সেটা সাতক্ষীরে ভাষায় হয়ে যাবে : ইট্টু পরে । যেমন : ইট্টু পরে আমি করবোনে ।
আবার একদম দক্ষিণাঞ্চলের পানি অনেক লবণাক্ত । অনেকে সেটা বলে : উরি নুনতা পানি । ইরাম (এইরকম) পানি খালিপ্পরে বমি আসি যাবে ।


অনেকে আবার ভালোমন্দ বলতে গেলে বলে :
আছির কিরাম ? ( আছিস কেমন ? )
ভালো , তুই কিরাম ? ( তুই কেমন ? )


সাতক্ষীরার মানুষদের আরেকটা কথা না বলেই পারতেছি না সেটা হলো : অনেক যায়গায়ই শোনা এই অন্চলের মানুষ এমন সেইটার তেমন । এই করছে সেই করছে । কিন্তু সাতক্ষীরের মানুষ এতই সাদা-শিধে যে এদের কথা কোথাও তেমন আসেনা । ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/shaon/29313657 http://www.somewhereinblog.net/blog/shaon/29313657 2011-01-24 22:15:31
শুভ জন্মদিন """শ্রাবণী""" শ্রাবণী ''.............................

আজ শ্রাবণীর জন্মদিন । মনে করেছিলাম জন্মদিনে একটা ইশাল বিশাল স্যুপার ড্যুপার লেখা লিখে চমকে দেব । কিন্তু ব্লগের সামনে বসে হাত আর চলে না <img src=" style="border:0;" />

যাইহোক গত মাসের ঠিক এদিনে শ্রাবণী একটা পোস্ট দেয় "" রেল গাড়ি রেল গাড়ী "" যেখানে লেখা ছিলো ওনার খুব চকলেট কেক খেতে ইচ্ছা করতেছে । আবার তার কিছুদিন আগে ১৩ই নভেম্বর ছিলো ও'র ✶⋆❤●.HaPpy MaGIcal AnNIvErSarY .●❤⋆✶
আবার আজকে ওর জন্মদিন সবমিলিয়ে একটাই কেইক আছে । সব মিলিয়ে এই কেক ওনার জন্য ।


আর কি ?! উমম তেমন কিছু বলার নেই । অনেক বড় হন । অনেক সুখী হন । সামনের প্রতিটা মুহুর্ত , প্রতিটা ক্ষণ অনেক অনেক এবং অনেক ভালো কাটুক এই কামনা করি ।
আর কিছু লেখার নেই <img src=" style="border:0;" />

ও হ্যা আপনার জন্য আমার খুব প্রিয় একটা জন্মদিনের গান :
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/shaon/29310872 http://www.somewhereinblog.net/blog/shaon/29310872 2011-01-20 14:00:06
এবার ছুটি , হাফ ছেড়ে বাঁচি

সেদিন ভোরে মা'কে ফোন দিলাম । বললো বাবা মসজিদে নামাযে গিয়েছে । মা বললো : তোর আব্বু কাল রাতে দেড়টা দুটোর দিকে দেখি ইশ-পিশ করতেছে । পরে আমি বলি : কি হয়েছে তোমার ? বাবা বলে : ঘুম আসতেছে না । মা বলে : তোমার তো কোনোদিনই ঘুম আসে না । বাবা বলে : আজকে আসতেছে না একটা স্পেশাল কারণ আছে । মা বলে কি কারণ ? বাবা বলে : ছেলে দেশে আসতেছে , এই খুশিতে ঘুম আসতেছে না ।
কথার ফাঁকে মা'কে বললাম : আর কি খবর আম্মু ? আম্মু বলে আর কোনো খবর নাই । খবর এইতো কিছুদিন পরে হবে । আমি তো অবাক । বললাম : কি খবর হবে ? মা বললো: এই যে তুই দেশে আসবি !


দেশে যাওয়ার সময় সব কাজিনদের মধ্যেও একটা আলাদা ভাব দেখি ; কিছুদিন আগে থেকে ফোন দেয় , এস এম এস করে । আসল কথা হলো কার জন্যে কি আনতে হবে সেটার জন্য । তখন শাওন ভাইয়া-ই সব । শাওন ভাইয়ার প্রতি সবার আদর আর সম্মান বেয়ে বেয়ে পড়ে !
আর আমার খালাগুলোও তখন শাওন আর শাওন । কাজিনদের চাওয়া পাওয়ার মধ্যে থাকে ভাইয়া এম পি থ্রি লাগবে , ভাইয়া একটা ইউ এস বি কি লাগবে আর খালাদের হলো : শোন আগের বার যে ক্রীমটা আনছিলি সেটা , ঐ যে নাম কি যেন ! আচ্ছা , ভালো কি সাবান পাওয়া যায় ? শোন ভালো দেখে শ্যাম্পু কিনবি । আর আমার ছোট খালা হলো : আমার জন্য কফি । প্রতি বছর একটা করে কফি ।


শেষমেশ দেখা যায় ব‌্যাগের ওজন ছাড়িয়ে দ্বিগুণ হয়ে গিয়েছে । ব্যাগের মধ্যে তাকালে দেখা যায় এখনো কিছুই কেনা হয়নি । এইটুকু জিনিসের এত ওজন ! পাগল নাকি !!


আমার হাতে আর সময় আছে ৮-১০ দিন । আমি এখনো কিছুই কেনাকাটা করিনি । সেদিন মেজ খালার বাসায় গিয়ে দেখি মেজ খালার ঘরে একটা ব্যাগ । বললাম কেও ব্যাগ রেখে গিয়েছে ? বললো : এই ব্যাগ দেশে নিয়ে যাবি । আমি তো অবাক । হাতে নিয়ে দেখি এটা মাস্ট ৩০ কেজি ছাড়িয়ে ৫০ কেজি হবে । বললাম কি ঢোকাইছেন এর মধ্যে । বলে পানির ফিল্টার দিয়েছি ; এইখান থেকে দেশে পানির ফিল্টার বয়ে নিয়ে যাব বড় খালা বলছে নিয়ে যেতে
পানির ফিল্টার আর মামাবাড়ীর সবকয়টা রুমের পর্দার কাপড়েই হয়ে গিয়েছে সব তাহলে সাবান শ্যাম্পুর কি হবে


সবাই তো বলেই তার উপর বাবা মা ও বলে দেয় এর জন্য এই তার জন্য তাই আনতে । প্রতিবারই এর জন্য এই আর ওর জন্য ঐ নেই । সবশেষে আর বাবা মা'র জন্য জন্যে কিছু নেওয়া হয়ে ওঠে না । দেখা যায় যায়গা নেই নাহলে ওজনে কুল কিনারা পাচ্ছি না । আর আমি প্রতিবারই বলি বাবা'কে এই এক সাবান শ্যাম্পু আর চকলেট নিয়ে যাই , দেশে কি অভাব পড়ছে এইসবের ? দেশে আরো ভালো ভালো পাওয়া যায় । দেশে পাওয়া গেলেও সবাই ভাবে আহ বিদেশের জিনিস ! কি না মধূ আছে ঐসবে । আমি ১০০% শিওর দেশে এখন অনেক ভালো ভালো জিনিসই পাওয়া যায় , তারপরও বিদেশ বলে কথা । নদীর ঐ কূলের মানুষ মনে করে এই কূলে কি না কি আছে !


এবারো শুরু করেছে বাবা আর মা । কার জন্যে কি নিয়ে আসবি । বললাম গরীব মানুষ টাকা নাই । কারো জন্যে কিছু নাই । এইবার সবাই আমাকে দিবা । বড় হয়ে যাওয়াটা একটা পাপ । কিযে অপরাধ করছিলাম জীবনে । আব্বু বলে : মাইর ঠিকমত দিলে টাকা তখন বের হয়ে আসবে । আমি হাসি . . .
গতকাল শপিং এ গেলাম । কিছু কেনাকাটা করলাম । আমি একটা জিনিস খেয়াল করেছি মানুষকে উপহার দেওয়ার মধ্যে আলাদা একরম শান্তি আছে । মনের মধ্যে কেমন শান্তি শান্তি লাগে । কেনার সময় তাদের মুখটা চিন্তা করি । কি যে খুশি হবে সবাই ।


আরেকটা বিষয় প্রতিবারেই হয় । বাবা মা'র জন্য কি কিনব ভেবে পাই না । আমার একটা বোন আছে প্যারিসে । ও প্রতিবারই আমার মা'র জন্য কিছু না কিছু দেয় । ব্যাগ , না হয় বোরকার কাপড় না হয় কিছু । কিন্তু কিনতে গেলে কি নিবো ভেবে পাই না ।


গত পরশু ঈশি'কে বললাম কি কিনব আম্মু আব্বুর জন্য । সেও কিছু ভেবে পায় না । শেষে বললো : তোমার আম্মুর জন্যে ডাইমন্ডের কিছু নাও । ডাইমন্ড শুনেই মাথা ঘুরাবার অবস্থা ! বলে কি এই মেয়ে ! আমি বললাম : আমার মা এসব কিছু পরে না । ও বললো : পরতে হবে না , তুমি নিয়ে যাও ।
আমি ওর কথা মত গতকাল একটা ডাইমন্ডের কানের দুল কিনেছি । নিজের সাধ্যের মধ্যেই কিনেছি । কেনার পর মনে হলো আমি মনে হয় এর থেকে খুশি কখনো হইনি । কিনেই ঈশিকে এস এম এস করলাম যে ওর কথা মত কিনেছি । সেও খুব খুশি । সে বললো আমার মা'র খুশিটা তার নিজের চোখে দেখতে ইচ্ছা করতেছে । পরে ভেব দেখলাম মেয়েদের এটা একটা শখ , আমার মা না পরলেও সে অনেক খুশি হবে । কাল থেকে আমার মেজাজ টা ফুরফুরা হয়ে আছে । মা'র হাসিটা দেখতে ইচ্ছে করতেছে । আমি নিশ্চিত দেয়ার সময় আমাকে আদর করে বলবে : পাগল ছেলে একটা ।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/shaon/29262550 http://www.somewhereinblog.net/blog/shaon/29262550 2010-10-27 20:06:43
এটি একটি পিচ্চি-পাচ্চা পোস্ট আগে আমি পিচ্চি-পাচ্চা'দের নিয়ে কোনোদিন পোস্টাইনি । কিন্তু এদের পাকনামী দেখে আর না পোস্টায়ে থাকতে পারলাম না ।আমার মনে হয় দিন যত যাচ্ছে পিচ্চি'রা ততই যুগের সাথে তাল মিলিয়ে আরো বেশী পাকনা হচ্ছে ।



উপরের ছবিতে যে পাকনারে দেখা যায় ওর নাম আহরাজ ; বয়স পুরো ৫ বছর ।কিছুদিন আগে আমি ওদের বাসায় বেড়াতে গিয়েছি । মাগরীবের সময় আহরাজকে বললাম : আহরাজ চলো নামাজ পড়ে নেই ।
আহরাজ উত্তর দিলো : না, নামাজ পড়বো না , আমারে শয়তানে ধরছে । :-*
আমি মুখ দিয়ে কোনো কথা বলতে পারলাম না ! পাশের ঘরে যেয়ে আহরাজের বড় ভাইকে জিজ্ঞাসা করলাম : এই ও কি বলে রে ? ওরে নাকি শয়তানে ধরছে ! <img src=" style="border:0;" /><img src=" style="border:0;" />:-*
ওর বড় ভাই বললো : আরে শাওন ভাইয়া , ওরে যখন বলি আহরাজ আসো নামাজ পড়ি , ও না আসলে ওরে তখন বলি আহরাজ তোমারে শয়তানে ধরছে । <img src=" style="border:0;" /> আপনি আরেকবার যেয়ে বলেন যে আহরাজ আসো নামাজ পড়লে শয়তান চলে যাবে দেখবেন ও আসবে । আমি পাশের ঘরে যেয়ে আহরাজকে বললাম ঐ কথা , ও ঠিক ই নামাজ পড়তে আসলো । /<img src=" style="border:0;" /> B:-) <img src=" style="border:0;" />

___________________________________________________



এইটার নাম ক্ষণিক । বয়স ৩ ; দেশে আমাদের পাসের বাড়ীতে ভাড়া থাকে ।এই পিচ্চি বাসায় জ্বালাতন করে বলে ওর মা আমাদের বাসায় রেখে যায় আমার আম্মুর কাছে । তো সেদিন ক্ষনিকরে আনা হয়েছে আমাদের বাসায় তো সে মোটে থাকবে না । পরে আমার আব্বু বাইরে থেকে বাদাম কিনে আনছে ; ক্ষণিক বাদাম খেতে শুরু করলে আমার আম্মু বললো : তুমি তাহলে বাদাম খাও , আর তোমার মা বাসায় যেয়ে একটু কাজ করুক ? ক্ষণিক বলে না থাকবো না ।
পরে আম্মু : ঐ থাকবি না তো বাদাম খাইলি কেন ?
ক্ষণিক গলার মধ্যে আঙ্গুল ঢুকিয়ে বমি করার মত করতে শুরু করলো । <img src=" style="border:0;" />
পরে আমার আম্মু বললো : ঐ গলা টানতেছিস কেন ? <img src=" style="border:0;" /> <img src=(" style="border:0;" />
ও বললো : তোমার বাদাম পেট থেকে বের করে দিচ্ছি , আর খাবোও না । আমি বাসায় যাবো । <img src=" style="border:0;" /> <img src=" style="border:0;" />

___________________________________________________


নিবিড়
এই পিচ্চির ছবি আমার কাছে নাই । সেদিন ওদের বাসায় গেছি যেয়ে দেখি ও কানতেছে ওকে খেলনা কিনে দিতে হবে ।<img src=(" style="border:0;" /> এখন ওর আম্মু বলতেছে যে অনেক খেলনা আছে এখন কিনে দিবে না ।<img src=" style="border:0;" /> পরে নিবিড় চিল্লায়ে বলে উঠলো : আমার মরণ হয়না ক্যান !!! :-* <img src=" style="border:0;" /> <img src=" style="border:0;" />
আমি চোখ মোটা মোটা করে আন্টিকে বললাম : আয় হায় আন্টি ও কি বলে ? /<img src=" style="border:0;" /> B:-) :-*
আন্টি বললো : দেখছো , দেখছো তাহলে ? আমি ওর আব্বুর সাথে চিল্লায়ে চিল্লায়ে মাঝে মাঝে বলি যে আমার মরণ হয়না ক্যান , ও শুনে শিখছে !! <img src=(" style="border:0;" /> <img src=" style="border:0;" />

___________________________________________________
এবার গল্প বাদ দিয়ে অন্য জিনিস দেখি ।
___________________________________________________


এই শান্ত শিষ্ঠ লেজ বিশিষ্ট যে পিচ্চিরে দেখছেন সেটা আমার সেই ন্যাংটা কালের দোস্ত ! <img src=" style="border:0;" />


এইটা হলো আরেকটু বড় অবস্থায় <img src=" style="border:0;" /> <img src=" style="border:0;" />


এইটা হলো বর্তমান অবস্থা B:-) <img src=" style="border:0;" />

___________________________________________________


ছবিতে যে বান্দর'কে দেখতে পাচ্ছেন সেইটা আমি :`> :``>> /<img src=" style="border:0;" /> <img src=" style="border:0;" />


আরেকটু বড় হলে


এইটা আমার সর্বকালীন শ্রেষ্ঠ ছবি <img src=" style="border:0;" /> // ছবির এই শাওনকে অনেক ভালা পাই আমি । <img src=" style="border:0;" />


আমার বর্তমান অবস্থা <img src=" style="border:0;" />

___________________________________________________

অবশেষে নিচে আমার মামাত ভাইয়ের ছবি দিয়ে শেষ করতে চাই । এর নাম ফাহমী । বয়স ৩ বছর । সে প্রতিদিন আমার মামার সাথে ব্যায়াম করে । নিচের ছবিটি সে যখন ব্যায়াম করতেছিলো তারই একটি অংশ ।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/shaon/29153238 http://www.somewhereinblog.net/blog/shaon/29153238 2010-05-11 20:35:06
ব্লা ব্লা ব্লা
গত সপ্তায় হঠাৎ অনেক জ্বর আসলো ; ঘরে বসেই কাটিয়ে দিলাম ৪টা দিন । আংকেল অবশ্য বলেছিলো যেন বাসায় চলে যাই । আমিই যাইনি । কিছু কিছু মুহুর্তে আমি আমার মা'কে খুব মিস করি । এই যেমন জ্বর হলে । দেশে থাকতে আম্মু কতকিছুই না করত । এখন সেগুলো খুব মিস করি ।
এখন বুঝি আমি আর আগের মত নেই । আংকেল বলা সত্ত্বেও আমি বাসায় গেলাম না । যেয়ে কি হবে ? সবাই যে যার মত কাজে থাকবে সকাল থেকে সন্ধ্যা । তারপর বাসায় এসে ঘরের কাজ । শুধু শুধুই ঝামেলা করা ।

আমার এখন খাওয়া দাওয়ার কোনো ঠিক ঠিকানা নেই । কখন খাই , কখন ঘুমাই , কখন কি করি নিজেও জানিনা । যখন খিদা লাগে তখন খেয়ে নেই বাইরে থেকে । প্রতিদিনই এভাবে বাইরে খেলে মাস শেষে যদি হিসাব করি কত টাকা খাওয়ার পেছনে খরচ করলাম তখন চোখ বড় বড় হয়ে যায় । বাসায় রানতে ইচ্ছে হয় না । এখানে এমনও না যে কেও রান্না করে দিয়ে যাবে । সকালে আল্লাহর ৩০টা দিনের একদিনও খাওয়া হয়না । দুপুরে বাইরেই খাই রাতে কখনো বাইরে কখনো বাসায় । এমনও দিন গিয়েছে যে পুরো এক সপ্তাহ দুধ দিয়ে সিরেয়াল খেয়ে পার করেছি । সকাল , বিকাল রাত , ৩ বেলাতেই সিরেয়াল । ঝামেলা নেই । দুধের মধ্যে ঢেলে খেয়ে নেই ।

আমি যখন থেকে একা থাকা শুরু করেছি তখন থেকেই বড়রা একটা কথা বলত । একা থাকলে নাকি মানুষ বিগড়ায় যায় । নানা রকম খারাপ চিন্তা মাথায় আসে । আমি তখন বলতাম : সব কিছুই নিজের কাছে । নিজে ভালো তো সব ভালো ।
আমি গত ৫মাস একা থাকি । সম্পূর্ণ একা । এখন অনতত এটা বুঝেছি ওরা যেটা বলত আসলে ভুল না । একা থাকলে আসলেই মাথা বিগড়ায় যায় । তবে এটাও সত্যও নিজে ভালো তো সব ভালো । আমি এখন যে অবস্থায় আসি এখন নিজেকে হালকা ছাড় দিলেই হয়ত অনেক হাসিখুশি থাকতে পারব । অনেক বন্ধু জুটবে ।অনেক কিছুই হবে আমার ।

এখন এমনও রাত যায় রাত ৩-৪ টা পর্যন্ত না ঘুমিয়ে কাটাই । কিন্তু আমার মাথায় সত্যি আসেনা কি করে এটা সম্ভব ! সারাদিন কাজ শেষে বাসায় এসে ফ্রেশ হলে যে কোনো মানুষেরই ঘুমে ঢুলতে থাকে । আমারো আগে হতো কিন্তু একা থাকার পরে এটা হয়না । এখন ঘুমই আসে না ; ঘরের মধ্যে কিচ্ছু করার নেই , কিছুই না । তারপরও ঘুম আসতে আসতে সেই রাত ৩টা ৪টা বেজে যায় । শুয়ে শুয়ে ভাবতে থাকি । অন্যদিকে ল্যাপটপে শ্রীকান্তের সফ্ট গান বাজতে থাকে একটার পর একটা । নীল একটা আলো সারা ঘর হয়ে থাকে । নীল আলোটা আসে ল্যাপটপ থেকে ।

আরেকটা জিনিস আবিষ্কার করলাম আমি । গভীর রাতে শ্রীকান্তের ঐ হালকা ধরণের গানের সাথে ঐ নীলচে আলোতে সিগারেটের ধোঁয়া ছাড়তে দেখা অষ্টম আশ্চর্য । অদ্ভুত সুন্দর । ঐরকম পরিবেশে না দেখলে জিনিসটা অনুভব ও করা যাবে না ।

আজকাল আরেকটা জিনিসও আমাকে ভাবায় । আমি কেন একা ভাই ? আমার আরেকটা ভাই নেই কেনো ! এই জিনিস ভাবাটা এক ধরণের স্বার্থপরতা ।
আজকাল আমি আমার বাবা মাকে অনেক ভালোবাসা শুরু করেছি যেটা আমি আগে কোনোদিনই এভাবে ভাবিনি । এমনিও তাদের উপর আমার অনেক রাগ । প্রচুর রাগ তবুও তাদেরকে ভালোবাসি । এই রাগটা আছে এবং মনে হয় থেকেও যাবে ।
আমার আব্বু যখন আমার আম্মুকে বিয়ে করে তখন আব্বু বেকার ছিলেন , ঐ অবস্থায় তাই আমার আম্মু অনেক কষ্ট করেছে । এবং এখনও করতেছে । আমি জন্মের পর থেকেই তাকে কষ্ট করতে দেখেছি । এখন আর এটা দেখতে ভালো লাগে না । এখন মনে হয় সারাদিন এসি ঘরে শুয়ে থাকতো যদি ।
আমাদের বাসায় কোনোসময় কাজের মানুষ ছিলো । গ্যাসের চুলাও এসেছে অনেক পরে । আর গ্যাসের চুলা আসলেও সবসময় কাঠের চুলায় রানতে হয়েছে ; আমার মা বাংলাদেশের সেই ৩০-৩২° তে গরমে রোদের মধ্যে দুপুর ২টা ৩টার দিকেও কাঠ কেটেছে কুচি কুচি করে রান্নার জনয়ে ।
এসব মনে পড়লে মনে হয় কেন আমি পৃথিবীতে আসলাম <img src=" style="border:0;" />

সবকিছু একটা এলোমেলো হয়ে গিয়েছে । আমি কেন এক সন্তান <img src=" style="border:0;" /> আরেকটা থাকলে আব্বু আম্মু কাওকে নিয়ে থাকতে পারত । গত ৭টা বছর তারা এভাবেই দুজন কাটিয়ে দিলো । আমি মাঝে মাঝে নিজেকে বাবার স্থানে দাঁড় করিয়ে ভাবার চেষ্টা করি কি করে আমার বাবার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে । আমি কোনো উত্তর খুঁজে পাইনা । আড় লিখতে ইচ্ছে করতেছে না ।
আমার আসলে মনটা খুবই খারাপ , তাই জিনিসগুলো মন থেকে বের করে দিলাম । ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/shaon/29143512 http://www.somewhereinblog.net/blog/shaon/29143512 2010-04-27 20:02:03
হাত দেখুন, কেও কিছু বলতে পারবেন ?
ফিলিপ্স বাতির মত ফকফক্কা নাকি কবরের মত আন্ধালয় ?

মরণ আসবে কবে ? সেটা দিয়ে শুরু করেন । আর শেষ করেন বিয়ে দিয়ে । আদৌ হবে নাকি হবেনা ?

লেখাটা অনেক আগে একবার দিয়েছিলাম । আজ নতুন করে আবার জানতে ইচ্ছে করতেছে ।



ইতি
শাওন
চরম প্রকারের আজিব ফাজিল

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/shaon/29132991 http://www.somewhereinblog.net/blog/shaon/29132991 2010-04-11 19:15:25
আমার মা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মা <img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_39.gif" width="23" height="22" alt=":`" style="border:0;" /> <img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_73.gif" width="23" height="22" alt="=p~" style="border:0;" /> " style="border:0;" /> আমার উত্থাপিত এই বিষয়টি সর্বসম্মতিক্রমে আমার বাবার কাছ থেকেও ইতিমধ্যে পাশ করানো হইয়াছে । :`> <img src=" style="border:0;" />


ঘটনার শুরু হইয়াছে গত ডিসেম্বর মাসের এক তারিখ হইতে । আমি গত ডিসেম্বর মাস হইতে একলা একা থাকিতেছি নিজের বাসায় । জব শেষ করিয়া যখন নিশি রাইতে বাসায় ফিরিয়া যাই তখন ঘড়ির কাটায় অলরেডি রাত ১১ টা বাজিয়া থাকে । এতই টায়ার্ড হইয়া যাই যে, রাতের বেলায় না খাইয়াই ঘুমিয়া পড়ি । /<img src=" style="border:0;" /> গত দু মাসে সকালের নাস্তার মুখও দেখি নাই । <img src=" style="border:0;" /> দুপুর বেলায় বাইর হইতে কোনোরকম খাইয়া নেই । কোনোদিন বাসায় ভাত রাধিঁলেও তরকারী রাঁধিতে না পারায় শুধু ডিম ভাজি দিয়েই খাইয়া উঠিতে হয় । রাতে ঘুমাতে গেলেও ঘুম আসিয়া থাকে রাত ৩টা চারটা হইতে । <img src=(" style="border:0;" /> <img src=" style="border:0;" />


তাহাদের একমাত্র সন্তানের দৈনন্দিন জীবনে এত বিশাল প্রকারের অনিয়ম দেখিয়া তাহারা উপরোক্ত সিদ্ধান্ত নিয়া বাধিত হইয়াছে । <img src=" style="border:0;" /> :`> <img src=" style="border:0;" />



উপোরোক্ত আলোচনায় পরিষ্কারভাবে একটি সিদ্ধান্তে উপনিত হওয়া যায় যে, আমার মা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মা । <img src=" style="border:0;" /> <img src=" style="border:0;" /> মা , তোমাকে আমি অনেক ভালোবাসি ।

---
বি. দ্র. : আপনাদের সবাইরে আমার বিয়াতে দাওয়াত থাকিলো <img src=" style="border:0;" /><img src=" style="border:0;" /><img src=" style="border:0;" /><img src=" style="border:0;" /> বি . দ্র. : আজ ঈশির বার্থ ডে । হ্যাপি বার্থ ডে টু ইউ ঈশি ।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/shaon/29082711 http://www.somewhereinblog.net/blog/shaon/29082711 2010-01-21 05:43:31
ফ্রেন্চ : এ এক আজীব ভাষা ! || ২ || বলা হয়ে থাকে ফ্রান্সের পারফিউম বা সেন্টের দেশ এবং প্যারিস হলো এর রাজধানী । বিশ্বের সবথেকে নামী-দামী পারফিউম গুলো এখানে পাওয়া যায় । প্যারিস ভ্রমণে যিনি'ই আসেন তিনি'ই সুভেনির হিসাবে নিয়ে যান এখানকার নামকরা সেসব পারফিউম ।
সবথেকে আশ্চর্য ব্যাপার হলো সবথেকে দামী-দামী এই পারফিউম গুলোর গায়ে লেখা থাকে eau de toilette , যেটার বাংলা করলে হয় : টয়লেটের পানি <img src=" style="border:0;" />
তার মানে দাড়ায় আপনারা যারা ফ্রেন্চ পারফিউম ব্যবহার করেন তারা টয়লেটের পানি ব্যবহার করেন<img src=" style="border:0;" /> <img src=" style="border:0;" />


আপনারা কেও ফ্রেন্চে পচা কথা ( গালি ) বলতে পারেন ? না বলতে পারলেও সমস্যা নেই । আমি আপনাদের এখন একটি গালি শেখাবো । ফ্রেন্চে একটা গালি হলো Putin । আপনারা এখন একটি পচা কথা শিখলেন ফরাসী ভাষায় । কিন্তু সমস্যা হলো আপনারা যখন এটা উচ্চারণ করবেন । এটা যদি উচ্চারণ করা হয় তাহলে সেটি দাড়ায় পিতা<img src=" style="border:0;" />
এখন আমার মতামত হলো : ফরাসীদের বাংলাদেশ ও জাতির স্বার্থে ভাবা উচিৎ তারা যেন ফ্রেন্চে কথা বলে তখন বাংলা ভাষাকে যথাযথ মর্যাদা দিয়ে কথা বলে । <img src=" style="border:0;" /> <img src=" style="border:0;" />(


আমি মাঝে মাঝে একটা বাঙালী একচেন্জের দোকানে যাই আড্ডা দেওয়ার জন্য । সেই দোকানের একাউন্ট ম্যানেজার হলো একটি খাঁটি ১০০% ফরাসী । এখানে আশ্চর্য বিষয় হলো তার নাম । তার নাম হলো Juto । তাঁকে ডাকা হয় জনাব জুতো বলে । <img src=" style="border:0;" /> <img src=" style="border:0;" /> <img src=" style="border:0;" />

আবার একি দোকানের একজন নিয়মিত কাস্টমার আসে । ঐ একটাই কাস্টমার যাঁকে দোকানের ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হয় । অনেক টাকার লেনদেন করে । তো সেই লোকও খাঁটি ফরাসী এবং তার নাম হলো Lungi । তাকে ডাকা হয় জনাব লুঙ্গী বলে । <img src=" style="border:0;" /> <img src=" style="border:0;" /> <img src=" style="border:0;" /> <img src=" style="border:0;" /> ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/shaon/29071250 http://www.somewhereinblog.net/blog/shaon/29071250 2010-01-03 21:40:43
ফ্রেন্চ : এ এক আজীব ভাষা !
সেদিন দুপুরে একসাথে খেতে বসলাম প্যারিসে এক বাঙালী আন্টির বাসায় । কিছুক্ষণ খাওয়ার পর পাসে বসে থাকা আট বছর বয়সী খালাত ভাই বললো : আম্মু আর খাবো না , ভাতে কোনো গু নেই । আমি শুনে অবাক ! বলেকি ছেলে !! ভাতে কোনো গু নেই মানে ? পরে আসল ব্যাপার বুঝলাম । আসলে ও বাংলা ফ্রেন্চ একসাথে বলেছে । আমরা হলে বলতাম : ভাতে কোনো টেস্ট নেই । টেস্ট শব্দটার ফ্রেন্চ করলে দাড়ায় গু ।


আবার মনে করেন সেদিন আমি মেট্রোতে করে যাচ্ছিলাম । পরিচিত একজনের সাথে ট্রেনে মোবাইলে কথা বলতেছিলাম । কথার ফাকে বললাম : আমার মেজো কাকা গিয়েছিলো । পরক্ষণেই দেখি লোকজন আজীব ভাবে আমার দিকে তাকাচ্ছে । আমি ভুল বুঝলাম । তারা বাংলা না বুঝলেও কাকা শব্দটা বুঝেই আমার দিকে ওভাবে তাকাচ্ছিলো । বাংলায় কাকা শব্দটা ফ্রেন্চ করলে হয় : মলমুত্র


আমি লেখাটা এমন দেগুতো ( ডিসগাসটিং) ভাবে শুরু করতে চাইনি । তবুও হয়ে গেলো ; যেহেতু এমন আজিব ভাষা সেহেতু হয়ে গেছে । আমার কিছু করার নেই ।


সেদিন এক বাঙালী বড় ভাই বলতেছিলো : শাওন ভাই, এই ভাষা শিখলেন ক্যামনে ? যে ভাষায় লেখা মোরগ আবার উচ্চারন করার সময় করে মুরগী , সে ভাষা শিখবো কি করে ?
আসলেই এই ভাষায় লেখার সাথে উচ্ছারণের কোনো মিল নেই । যেমন ধরুন লো । লো মানে হলো পানি । লো ফ্রেন্চে লেখার সময় লেখা L'eau । উচ্চারণের সময় Lo । তাহলে এত কঠিন করার দরকার টা কি আমার মাথায় ঢোকে না ।


সব থেকে আজব বিষয় তো এখনো বলিনি । এখনকার বর্তমান জেনারেশনের পোলাপাইন ফরাসী ভাষাটাকে আরো কঠিন করে ফেলতেছে । এরা কোনো এক শব্দটাকে উল্টিয়ে কথা বলে । এবং এটা এখন সারা ফ্রান্সে চালু । যেমন ধরুন মেরসি মানে হলো ধন্যবাদ । আজকালকার পোলাপাইন মেরসি বলে না , বলে সিমের । মেরসি উল্টিয়ে সিমের ।


একদিন আমার এক ফ্রেন্ড হাঠাৎ কাছে এসে বললো : তুমি কি একটা ফেকা চাও ? আমি হা হয়ে জিজ্জাসা করলাম ফেকা কি ? ও বললো : ক্যাফে । খেয়াল করছেন জিনিসটা ? ক্যাফে'টাকে উল্টিয়ে ফেকা করেছে
এমন আরো কিছু শব্দ যেগুলা উল্টিয়ে বলা যায় :
সে তোয়া ( তোমার বাসায় ) = সে ওয়াত
সে মোয়া ( আমার বাসায় ) = সে ওয়াম


এইবার আসি দেশের কথায় ! ছোটকাল থেকে পড়ে এসেছি বাংলাদেশ আমাদের মাতৃভূমি । কিন্তু ফরাসীরা বাংলাদেশকে বানিয়ে দিয়েছে পিতৃভূমি । কিন্তু আবার ফ্রান্সকে বানিয়েছে মাতৃভূমি । নিজেরা ঠিকই ওদের দেশটাকে মায়ের দেশ বানিয়ে নিয়েছে আবার বাংলাদেশকে পিতার দেশ বানালো । <img src=" style="border:0;" /> :-*
ফরাসীরা যখন ফ্রান্সের কথা বলে তখন বলে : লা ফস ( এখানে লা হলো স্ত্রী লিংগ ) আবার যখন বাংলাদেশকে বলে লো বাংলাদেশ ; ( এখানে লো হলো পুং লিংগ )


লেখা আর বড় করবো না । নিজের নামের ব্যাপারটা দিয়ে শেষ করবো । ফরাসী ভাসায় H শব্দটার কোনো উচ্চারন নেই । এখন আমার আরেক নাম হলো মেহেদী । এখন যখন মেহেদী নামে ডাকে তখন ওরা উচ্চারণ করে : মেয়েদী , আবার এখনকার জেনারেশন মানে আমার কয়েকটা ফ্রেন্ড উল্টিয়ে বলে : দীমে । কোথায় মেহেদী আর কোথায় মেয়েদী আর কোথায় দীমে ।

এর থেকে তাহলে আশ্চর্যজনক ভাষা তাহলে আর কোথায় পাবো ??? ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/shaon/29063498 http://www.somewhereinblog.net/blog/shaon/29063498 2009-12-22 10:21:18
ছবি ব্লগ : সুমাইয়া
তো ছবিটা কেমন হলো ? ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/shaon/29015273 http://www.somewhereinblog.net/blog/shaon/29015273 2009-09-24 21:57:41
প্যারিস ভ্রমনকারী'দের জন্য একটি গাইড পোস্ট সাথে একজন গাইড হলে জমত ভালো ।
অবশ্য এর মধ্যে ৫-৬জন ব্লগার প্যারিসে এসে গিয়েছে যাদের সাথে আমার দেখা হয়েছে এবং ঘুরাঘুরিও হয়েছে । ঘুরাঘুরির পর বলতে শুনেছি : চেনাজানা একজন থাকার কারনে ঘুরাফেরা'টা দারূণ হলো

কিন্তু যখন কেও থাকবে না বা হঠাৎ করে কেও প্যারিস ভ্রমণর এসে গেলে যেন কোনো সমস্যার মধ্যে না পড়েন সেজন্যই এই পোস্টটি লেখা ।


চলুন এক নজরে দেখে নেওয়া যাক প্যারিসের প্রধান ট্যুরিস্ট প্লেস গুলোর নাম :

আইফেল টাওয়ার ( Tour Eiffel ) ,
নটরড্যাম গীর্যা ( Cathédrale Notre Dame ) ,
লা ডিফন্স ( La Défense ) ,
লুভর মিউজিয়াম ( musée du Louvre ) ,
ডিজনিল্যান্ড ( Disneyland ) ,
বাস্তিল দূর্গ ( La Bastille ) ,
জর্জ পম্পিডু লাইব্রেরী ( Georges Pompidou ) ,
ভার্সাই রাজবাড়ী ( Chateau de Versailles ) ,
পিগাল নাইট ক্লাব বা মুলা রুজ ( Moulin Rouge ) ।

( উপরের প্লেস গুলো-ই সব নয় । প্যারিসে এ ছাড়া দেখার মত অনেক কিছুই আছে । এগুলা উধাহরণ স্বরূপ দিলাম )


প্যারিস ভ্রমনে আপনার যে কথা গুলো জানতে হবে :

এখানকার প্রধান মাধ্যম হলো : ট্রেন , বাস , অথবা সাইকেল । তবে যে কোনোটির চেয়ে ট্রেনে করে যাতায়াত করাটাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ । প্যারিসের ট্রেনগুলোর মধ্যে আবার দুটি ভাগ , যেমন : RER ( মোট ৫ টি RER) ও METRO ( মোট ১৬টি METRO ) । RER গুলো আপনাকে নিয়ে যাবে প্যারিস সেন্টার থেকে আউট প্যারিসে আর মেট্রো'তে উঠলে আপনি যেখানেই যান না কেন প্যারিসের মধ্যেই থাকবেন ।

আপনি যখন ভ্রমণে বের হবেন তখন প্রথম আপনাকে যোগাড় করতে হবে একটি ম্যাপ । ম্যাপ পাওয়া যাবে যে কোনো টিকিট কাউন্টারে ।
ম্যাপটি দেখতে হবে ঠিক এমন :



যেভাবে আপনি ঘুরাঘুরি করবেন :

ম্যাপ দেখে আপনি যে স্টেশনে আছেন সেই স্টেশন'কে মুল কেন্দ্র হিসাবে ধরে নিন এবং সেখান থেকে আপনি যেতে পারবেন প্যারিসের বিভিন্ন স্থানে । এখানে আমি ধরলাম প্যারিসের সব থেকে বড় স্টেশন গুলোর একটি Châtelet et Les Halles

কয়েকটি উধাহরণ
এখন Châtelet et Les Halles থেকে আপনি যাবেন আইফেল টাওয়ার ( Tour Eiffel ) = Châtelet et Les Halles থেকে RER B ধরে আসবেন Denfert-Rochereau স্টেশনে । সেখান থেকে METRO 6 চলে আসবেন Tour Eiffel স্টেশনে ।

এখন Châtelet et Les Halles থেকে আপনি যাবেন নটরড্যাম গীর্যা ( Cathédrale Notre Dame ) = Châtelet et Les Halles থেকে RER B ধরে আসবেন Saint Michel Notre Dame স্টেশনে ।

এখন Châtelet et Les Halles থেকে আপনি যাবেন লা ডিফন্স ( La Défense ) = Châtelet et Les Halles থেকে METRO 1 ধরে চলে আসবেন La Défense স্টেশনে ।

এখন Châtelet et Les Halles থেকে আপনি যাবেন ভার্সাই রাজবাড়ী ( Chateau de Versailles ) = Châtelet et Les Halles থেকে RER B ধরে চলে আসবেন Saint Michel Notre Dame স্টেশনে ।
সেখান থেকে RER C ধরে চলে আসবেন Chateau de Versailles স্টেশনে ।

এখন Châtelet et Les Halles থেকে আপনি যাবেন লুভর মিউজিয়াম ( musée du Louvre ) = Châtelet et Les Halles থেকে METRO 1 ধরে চলে আসবেন musée du Louvre স্টেশনে ।

এখন Châtelet et Les Halles থেকে আপনি যাবেন ডিজনিল্যান্ড ( Disneyland ) = Châtelet et Les Halles থেকে RER A ধরে চলে আসবেন Parcs Disneyland স্টেশনে ।



সবসময় মনে রাখবেন , আপনি যেখানেই যান না কেনো আপনি হারাবেন না । তারপরও সর্বরকম সমস্যায় যোগাযোগ করতে পারেন :
জরুরী ডাক্তার বা নার্স পেতে কল করুন 15 তে জরুরীভাবে পুলিশ পেতে হলে কল করুন 17 তে আপনার কোনো রকম শারীরিক সমস্যা হলে জরুরীভাবে কল করুন 18 তে ।

যদি আপনার কাছে ফোন না থাকে তাহলে খুঁজে নিন একটা টেলিফোন বুথ । এই বুথ গুলো থেকে উপরের তিনটি নাম্বারে আপনি ফ্রি কল করতে পারবেন ।

শেষের কথা : আনন্দময় হোক আপনার পথ চলা । শুভ হোক আপনার প্যারিস ভ্রমণ । আর লিখে ফেলুন ব্লগে । ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/shaon/28959837 http://www.somewhereinblog.net/blog/shaon/28959837 2009-06-04 00:45:24
- ধুম্রজাল - পেচিয়ে বের হয়ে আসা ছেড়া যায়গাতে
সুপার গ্লু' দিয়ে বন্দী করে রাখা নিওরোনের ককড়াঘাতে ফসল
জ্ঞাণীর জ্ঞাণীত্ত্বে জ্ঞানভরা মনে জ্ঞান দান ছাড়া অন্য কিছু নহে
বিকৃত রূচীর মগজের ফলে রিফ্রেশ দেওয়ার
কোণঠাসা নীলচে হার্ডডিস্ক

অতীতকে বানানো সোনা রঙের ঘুড়ির উড়ে চলা বগি
নিবর্ণ বর্ণের কৃত্রিম রূপালী চাঁদের শহর থেকে
মাটির পৃথিবীকে দেখা
দীঘির পাড়ে প্রেমালয়ে বসবাস
ব্যাকইয়ার্ডের মায়া কান্নার মোহো ভাঙা হৃদয়

সিগারেটের ধুম্রজাল হওয়া মিশ্রত ধোঁয়া
সাথে লালচে পানির তিক্ততা
ঘুম লাগা দেহে স্বপ্নে মন বিভোর
আত্মচিৎকার আর সাহসের প্রতিফলন ।


০২ রা জুলাই, ২০০৭
---[ কবি সাহিত্যিকদের আখড়া থেকে অসাহিত্য থেকে সাহিত্যে রূপ দানক শাওন ]---

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/shaon/28857052 http://www.somewhereinblog.net/blog/shaon/28857052 2008-10-19 22:50:15
প্যারিসের পথে পথে : একটু নিরিবিলির খোঁজে

ভার্সাইয়ের সামনে থেকে এই দৃশ্য দেখা যায়

প্যারিসের বাইরে খোলামেলা আকাশে , বিশুদ্ধ বাতাসে , সবুজের মেলাতে আর সামনের নিস্তব্ধ পানিতে কেউই নিজেকে সংবরণ করতে পারেনা । আরাফাত ভাইও পারলো না । উনি বলেছিলো : ইশ শাওন , আমি পাগল হয়ে যাবো তো !
এর আগে আমি এখানে এসেছি মাইনাস -৫° ঠান্ডাতে । চারদিক বরফে সাদা । উপর থেকে বরফ পড়তেছিলো । চারদিক সাদা । পানি গুলা বরফ হয়ে গিয়েছিলো ।
এসেছি ৩০° গরমে । চারদিন হিমেল বাতাস । আকাশে সূর্যের কড়া তেজ ।
এসেছি রাতের জোৎনাভরা আলোতে । উপরে খোলা আকাশ । এক কোণে চাঁদ উকি দেয় । গাছের ডালপালার ভেতর থেকে তাকালে কেও আর শান্ত থাকতে পারবে না ।
এবার আসলাম ঝিরি ঝিরি বৃষ্টিতে । আসলাম আর ই আর সি ধরে । আর ই আর সি আবার বাংলাদেশের গরুর গাড়ির ন্যয় দ্রুত চলে । অনেক গতি ! দুতলায় উঠে চলে আসলাম ৩০ মিনিটের মধ্যে । আসার সময় ট্রেনের মধ্যে ফটো সেশনের কাজ সারলাম !
যখন বিশাল খোলা ময়দানে এনে ছেড়ে দিলাম তখনও মনে হয় আরাফাত ভাই কিছু বুঝে ওঠেনি ভেতরের দিকটায় কি আছে । আরাফাত ভাই মেইন গেটে দাড়িয়ে কিছু ফটো তুললো ঝপাঝপ । এবার আস্তে আস্তে ভেতরে আসলাম । আরাফাত ভাই তখুনি বলে উঠলো : শাওন আমি তো পাগল হয়ে যাব । তুমি এখানে একদম শেষে আনলে কেনো ?
আমি হাসতে থাকি ।


ভার্সাইয়ের এক পাশের চিত্র


এলোমেলো ঘরতে লাগলাম । তখন বর্ষায় ঝাপটায় একটা অনয়রকম অনুভূতি । আমাকে আরাফাত ভাই বলে উঠলো : কি ভাবো শাওন ? অন্যমনষ্ক মনে হচ্ছে ? আমি হেসে বলো : না তো কিছু না ।
আসলে ঈশিকে সেসময় খুবই মিস করছি । তখনই একটা জেদ চেপে বসলো ঈশি প্যারিসে আসলে আগে এখানে নিয়ে আসবো ওকে ।

এর মধ্যে আরাফাত ভাই আমাকে ফাটাফাটি একটা প্রস্তাব দিয়ে বসল । আমি অবাক হয়ে গিয়েছিলাম । নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারলাম না । নিশ্বাস তখন বন্দ ছিলো ! পরে আরাফাত ভাই নিজেই বললো : দেশে গেলে সব ঠিক করে দিবো । <img src=" style="border:0;" /> আমি শুনে নাচতে থাকি ।
বেশ খানিক্ষণ এলোমেলো ঘোরাঘুরি করার পর চলে আসার সময় হলো । তখন বিকেল । আর বৃষ্টি পড়েই যাচ্ছে ।

ওখান থেকে সোজা আসলাম নটর ড্যাম গীর্যাতে । প্যারিসের অন্যতম প্রধান গীর্যা । সামনে থেকে অনেক উচু । ওখানে কিছুক্ষণ থাকলাম । এবার বিদায় নেওয়ার পালা ।


নটর ড্যাম গীর্যা

মেট্রো হুশে ছেড়ে দিয়ে বিদায় দিয়ে চলে আসলাম । আরাফাত ভাই বুকের কাছে টেনে নিলেন । বললো : ঋণ করে রাখলে শাওন । আমি হুশ করে একটা শব্দ করলাম ! ফিরে উলটো দিক তাকালাম । উনি হাত নেড়ে বিদায় জানালেন ।
বিদায় আরাফাত ভাই , আবার দেখা হবে অন্য কোথাও অন্য কোনো খানে ।

---[ লেখাটা ঈশির জন্য । ওকে একদিন সময় করে বৃষ্টদিনে এখানে আনবো ]---]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/shaon/28794859 http://www.somewhereinblog.net/blog/shaon/28794859 2008-05-06 16:36:52
প্যারিসের পথে পথে : পাশ্চাত্য সংস্কৃতি আগুনের দিন শেষ হবে একদিন
ঝরণার সাথে গান হবে একদিন
এ পৃথিবী ছেড়ে চলো যাই
স্বপনের সিঁড়ি বেয়ে সীমাহীন

গান শুনে হুড়মুড় করে লাফিয়ে উঠলো । আমি বলি কাহিনী কি ? উনি বললেন , এই গান তুমি পেলে কই শাওন ? এটা তো আমার প্রিয় একটা গান ।

আমরা যখন বের হলাম তখন বাজে ১১টা কয়েক মিনিট । তখন আমরা বের হয়েছি মিউজিয়াম লুভর'এর উদ্দেশ্যে । মেট্রো তখন হু হু করে ছুটে চললো ।

লুভরের সামনের গেটে এসে আরাফাত ভাই বললো : এই তাহলে লুভর মিউজিয়াম যেখানে মোনালিসার ছবি আছে ! আমি হাসি , বলি ছবিটি দেখার পর সেরকম কিছু মনেই হবেনা আরাফাত ভাই ।
মিউজিয়ামের ভেতরের দিকটায় ঢুকলে দেখা যাবে ৩টি কাচের পিরামিড । সবথেকে বড় পিরামিডের মধ্য দিয়ে ঢুকতে হয় সেন্টারে । নিচে নামলাম তখন দেখা যায় ৪দিক ৪ রকম গ্যালারি । আমরা আগাতে থাকলাম মোনালিসার ছবি দেখে ।



যাহোক , পরে আমি মোনালিসার ঘর যেদিকে সেদিকে এগোতে থাকি ।

ঘরের মধ্যে আনলাম আরাফাত ভাইকে । ছোট্ট একটি ঘরে শত শত মানুষ । আর সোজাভাবে তাকালে দেখা যায় বুলেট প্রুফ কাচ দিয়ে ঘেরা ছোট্ট একটি ছবি । মোনালিসার ছবি । ছবি দেখে আরাফাত ভাই হতাশ গলায় বললো : এই জিনিস দেখার লাইগা তুমি ১৮€ খরচ করে আমাকে এখানে আনলে শাওন ?
আমি হাসতে হাসতে বলি , আমি তো আগেই বলেছিলাম ।


এই সেই মোনালিসার আসল ছবি

ফটাফট কয়েকটা ছবি তুলে বের হয়ে আসলাম । বেশিক্ষণ আর থাকা যাবেনা । ক্ষুদায় পেট চু চু করছে তখন । আর সময় ও বেশি নেই । খাওয়ার পর উদ্দেশ্য আইফেল টাওয়ার ।

ওখান থেকে বের হয়ে ম্যাকডোতে ঢুকলাম । ঢোকার নামমাত্র ইচ্ছা আমার ছিলোনা । আরাফাত ভাইয়ের জন্য ঢুকলাম । দুপুরের খাবার টা ধীরে ধীরে শেষ করলাম । খাবারের মধ্যে গল্প করতে থাকলাম দেশ আর রাজনৈতিক আলাপ নিয়ে । হাহা , নিজেকে অনেক বড় মনে হতে থাকে ।

ম্যাকডো থেকে বের হয়ে আর ই আর সি ধরে রওয়না দিলাম টাওয়ার আইফেলের উদ্দেশ্যে । নামলাম ঠিক পাশে । উঠেই টাওয়ারের মাথা দেখা যায় । বাজে তখন বিকাল সাড়ে ৬টা । আমি সেটা দেখেই আরাফাত ভাইয়ের কাছ থেকে বিদায় নিলাম । আকাশে তখন কালো ঘন মেঘ ।


সেন নদীর অপর পাশ থেকে আইফেল টাওয়ার


---[মোনালিসার ছবিটা সহ এই পোস্টটি মাহবুবা আখতারের জন্য । মোনালিসার প্রতি ওর টান দেখে বিশেষ করে ওর জন্য ছবিটি তোলা]---]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/shaon/28793533 http://www.somewhereinblog.net/blog/shaon/28793533 2008-05-02 16:49:17
প্যারিসের পথে পথে : ধন্যবাদ জানা পু

গ্যালিনি থেকে ওনাকে রিসিভ করে মেট্রোতে উঠে আমার মনে হলো আমার পেট ছিড়ে পড়ছে । আরাফাত ভাইয়েরও ক্ষুদা লাগছে । তৎক্ষণাত সিদ্ধান্ত নিলাম আগে মেট্রো থেকে বের হয়ে খেয়ে নিই । ঢুকলাম কে এফ সি'তে । মেন্যু : বক্স মাষ্টার ।

এবারই প্রথম মুখ খুললেন তিনি ।
আরাফাত ভাই : যে শাওনে'কে ব্লগে লিখতে দেখেছি সেই শাওন আমার সামনে ?! চিন্তা করতেই কেমন লাগে ! ব্লগ কতটা কাছে এনে দিয়েছে আমাদের ।
আমি হাসি ।
আরাফাত ভাই : এবার বলো ব্লগের কার কার সাথে দেখা হয়েছে তোমার ?
আমি : বলি , সুইডেন থেকে একজন ব্লগার আর আপনি ।
আরাফাত ভাই : হাসিন , জানা, আরিল্ড এদের সাথে দেখা হয়নি ?
আমি : দেশ থেকে আসার পরই তো ব্লগে দেখলাম । দেশে গেলে হয়ত দেখা হতে পারে ।
আরাফাত ভাই : আমার সাথে জানা'র কথা হয়েছে বুঝলে । জানা'র স্বপ্ন ছিলো এই ব্লগ ।
আমি : জানা আপুকে তাহলে সামনে পেলে একটা বিশাল ধন্যবাদ দিতে হবে । এই ব্লগের কারণে কতকিছুই না হলো ।

এভাবেই কথা হতে হতে কখন যে খাওয়া শেষ হয়ে গেলো বোঝাই গেলোনা ।

রেস্টুরেন্ট থেকে বের হয়ে আরাফাত ভাইকে বললাম : ২টা কাজ করা যেতে পারে এখন । এক, আপনি যদি অনেক টায়ার্ড থাকেন তাহলে বাসায় যেয়ে রেস্ট নেওয়া আর ২য়টি হলো : টায়ার্ড না থাকলে এখুনি ঘুরে ঘুরে দেখা যেতে পারে প্যারিস । তখন আমাদের মাথার উপর ছিলো সুন্দর একটা সূর্য । গরম ছিলো ২০° ।

উনি ঘুরবেন বলেই সিদ্ধান্ত নিলেন । সুতরাং মেট্রোতে উঠে এবার রওনা দিলকাম অ্যানভার্সে । অ্যানভার্সে গিয়ে দেখি শত শত মানুষ সবুজ ঘাসের উপর শুয়ে পড়েছে গরমে । আমরা সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতে লাগলাম । একদম উপরে উঠে দেখি বেশ কয়েকজন বাঙালী । হঠাৎ দেখে চিন্তে পারি ওদের । এ তো পুরা পাগল ! কাজ সারছে । আরাফাত ভাই দেখে বললেন চলো শাওন পরিচিত হওয়া যাক । আমি আগে থেকে সাবধান করে দিলাম ওনাকে , আরাফাত ভাই , পুরা আউলা পাবলিক কিন্তু , দেখেবন , সাবধান । আরাফাত ভাই আমাকে অবাক করে দিয়ে বলে : আমি ঝাউলা পাবলিক । চলো দেখা যাক কি হয় ।

- সালাম ভাইজান , ভালো আছেন ?
আরাফাত ভাই : জ্বি ভালো , আপনারা ?
- আল্লাহর ইচ্ছা । ভাইজান কি করেন ?
আরাফাত ভাই : কাজ, ওকাজ দুটোই করি । দিনে কাজ , রাতে অকাজ ।

আমি অন্যদিকে ফিরে হাসি লুকানোর ব্যর্থ চেষ্টা করি । আকাশে ফাঁকা , নীলাকাশে উরোধূড়ো মেঘ । আকাশের দিকে কিছুক্ষণ তাকানো যেতে পারে । হাহ হা ( নকল হাসি । এটা হলো আরাফাত ভাইয়ের হাসি , শুনলে বিচিত্র লাগে )


ওয়ালী ভাইয়ের ফোন , শাওন কোথায় তোমরা ? আমি বললাম, সাক্রে করের মাথায় । বললো আমি আসতেছি ১৫-২০ মিনিটের মধ্যে ।

সাক্রে কর থেকে নিচে নামতে শুরু করলাম একটু একটু করে । আরাফাত ভাইকে বললাম চলেন লিফট দিয়ে নামি । উনি বললেন : নাহ , এভাবে নামতেই মজা লাগছে .

পরে নিচে নেমে ওয়ালী ভাইয়ের সাথে দেখা । আরাফাত ভাইকে ওয়ালী ভাইয়ের কাছে হাস্তান্তর করেআমি রওনা দিলাম বাসার দিকে । মাথার উপরের আকাশ টা তখনও রৌদ্রজ্জ্বল । ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/shaon/28792563 http://www.somewhereinblog.net/blog/shaon/28792563 2008-04-29 17:01:20
একজন তসলীমা নাসরিনের অপরাধ তাই কৌশিকের মত অন্য কোনো ধর্মের মানুষকে খুঁচিয়ে দেখতে ইচ্ছা করেনা তার ধর্মের বিশ্বাস মলমুত্রের ন্যয় নরম কিনা ! )আর এই ধর্ম যেমন আমাকে শিখিয়েছে অন্য ধর্মকে সম্মান করতে তেমনি শিখিয়েছে অন্য মানুষকেও সম্মান করতে ।

ধর্ম সম্পর্কে তসলীমা নাসরিনের মন্তব্য : ধর্মের দালান-কোঠা যদি মানুষে মানুষে ভালোবাসা নষ্ট করে তবে এই পৃথিবী থেকে ধ্বংস হয়ে যাক মন্দির, মসজিদ, প্যাগোডা আর গীর্জার সকল অস্তিত্ব । ইট সুড়কিরে চেয়ে মানুষ বড়, ইট সুড়কির চেয়ে ভালোবাসা বড় । (নির্বাচিত কলাম:৯৫)
~~~~ আমি জানিনা অন্য ধর্ম বিশ্বাসীরা এই উক্তি শুনে কি বলবে কিন্তু আমি বলব, একজন উন্মাদের মুখ থেকেই এটা বের হতে পারে । তসলিমা, একটি বার চোখ খুলে দেখেছেন যখন কক্সবাজার , চট্টগ্রামে দশ নাম্বার বিপদ সংকেত দেওয়া হয় তখন সেই মন্দির মসজিদ আর প্যাগোডাতে চলে প্রার্থনা । প্রার্থনা চলে কোনো মানুষের যেন বিপদে না পড়ে সেজন্য ।

ধর্ম সম্পর্কে তসলীমা নাসরিনের মন্তব্য : ওরা জেরুজালেম, হেরা পর্বতে বসে ধর্ম রচনা করেছে । এই ধর্মকে ওরা পবিত্র ঘোষণা করেছে । এই পবিত্রতার দোহায় দিয়ে তোমাকে ( নারীকে ) পায়ের নিচে স্থান দিচ্ছে , আবৃত করছে , অনাবৃত করছে । ওরা তো মানুষ নয় , ওরা পুরুষ ।
~~~~ হায়রে ! তুমি মুসলিম পরিবারে জন্ম নিয়ে নাম ধারণ করলে মুসলিম নাম । কিন্তু একটিবার কোরান পড়ে দেখার সময় তোমার হলো না । পড়ে দেখলে বুঝতে, মানুষ পারে মানব ধর্ম রচনা করতে , পারেনা ইসলাম ধর্ম রচনা করতে ।
কোরানটা তুলে পড়নি বলে জানলেও না একজন মায়ের ( একজন নারীর ) পায়ের নিচে সন্তানের বেহেশত । সেটা হোক ছেলে , হোক মেয়ে ।

------- ------- ------- ------- -------

মানুষ সম্পর্কে তসলিমার মন্তব্য (নারী) : নারী ধর্ষণ করতে শিখুক, ব্যভিচার করতে অভ্যস্ত হোক । নারী খাদকের ভূমিকায় না এলে তার খাদ্য নামের কলংক ঘুচবে না । এখন ভালো কথার যুগ নয়, নীতি বাক্যের সময় নয় । কাঁটা দিয়েই আজকাল কাঁটা তুলতে হয় । (নির্বাচিত কলাম : ১০৭)
~~~~ আমি দুঃখিত তসলীমা নাসরিন । উমম নাহ , তসলীমার এই মন্তব্যটি নারীদের উপর ছেড়ে দিলাম । একটুখানি মন দিয়ে চিন্তা করে উত্তরটা জানিয়ে দিয়ে গেলে কৃতজ্ঞ থাকব ।

মানুষ সম্পর্কে তসলিমার মন্তব্য (নারী) : পুরুষকে খুশী করা ছাড়া সাধারণত নারীর অন্য কোনো কাজ নেই ।
~~~~ আমি দুঃখিত তসলীমা নাসরিন । উমম নাহ , তসলীমার এই মন্তব্যটি নারীদের উপর ছেড়ে দিলাম । একটুখানি মন দিয়ে চিন্তা করে উত্তরটা জানিয়ে দিয়ে গেলে কৃতজ্ঞ থাকব ।

মানুষ সম্পর্কে তসলিমার মন্তব্য (পুরুষ) : নারীকে নারী অংগের বাইরে কেও কল্পনা করার অভ্যাস কারো গড়ে ওঠেনি । এই অংগকে পুরুষেরা বরাবরই খাদ্য হিসাবে গ্রহন করেছে । ( নির্বাচিত কলাম:১০৬)
~~~~ আমি দুঃখিত তসলীমা নাসরিন এবং তসলীমা নাসরিনের বক্তব্যের সাথে একমত হওয়া পুরুষ মানুষ । আমি নারীকে মনে করি মা , নারীকে মনে করি বোন , নারীকে মনে করি খালা , নারীকে মনে করি নিজের সুন্দর স্ত্রী । আর শ্রেষ্ঠ সম্মানগুলো তাদেরই করি ।


মানুষ সম্পর্কে তসলিমার মন্তব্য (পুরুষ) : স্ত্রৈণ শব্দটির অর্থ স্ত্রীর অতিশয় বাধ্য । অর্থাৎ যে ছেলে তার স্ত্রীর অতিশয় বাধ্য তাকে স্ত্রৈণ বলা হয় । কিন্তু যে ছেলে স্ত্রৈণ তাকে কেউ ভালো চোখে দেখে না । বরং তার দিকে তাকিয়ে আড়চোখে তাকিয়ে উপহাসের হাসি হাসে । (নির্বাচিত কলাম : ৫১-৫২)
~~~~ আমি দুঃখিত তসলীমা নাসরীন । আমি আমার স্ত্রীর অতিশয় বাধ্য , তাই বলে শুনতে হয়নি কোনো কটুকথা , পরতে হয়নি কোনো উপহাসে । বরং দেখে এসেছি যারা তাদের স্ত্রীকে জ্বালিয়ে মারে তাদের উপর সমাজের শাস্তি ।

মানুষ সম্পর্কে তসলিমার মন্তব্য (পুরুষ) : যে তুমি মুখ থুবড়ে পড়ে আছো নারী, তোমার সারা শরীরে পুরুষের কামড় । তোমাকে শুকতে একটি কুকুরও বেদনায় নীল হবে সেই তোমাকেই যদি কেও পুনরায় কামড়ায় সে কোনো শূকর নয় সে কোনো কাল কেউটে নয় সে পুরুষ ।
~~~~ হায়রে তসলিমা ! ভুলে গেলে তোমার জন্মদাতা পিতাও একজন পুরুষ ? আর কিছু মানুষের জন্য সম্পূর্ণ পুরুষ জাতীকে তুলনা করলে শূকরের চেয়ে নিকৃষ্ঠ ? করুণা তোমার জন্য ।


মানুষ সম্পর্কে তসলিমার মন্তব্য (পুরুষ) : ওরা মৃত্যুর আরেক নাম , ওরা পরুষ । তোমার দিকে ধেয়ে আসা পুরুষেরা মূলত আসে অবাধ কাম ও অনিয়ন্ত্রিত ক্রোধের কারণে , কতৃত্ব বোধের ক্রোধ ।
~~~~ আমি দুঃখিত তসলীমা নাসরিন । আমি নারীর ( আমার মা )'র দিকে যাই একটু স্নেহ পাওয়ার জন্য , একটু মমতা পাওয়ার জন্য ।


মানুষ সম্পর্কে তসলিমার মন্তব্য (পুরুষ) : ওরা তোমার বিকেলের চায়ে বিষ মিশিয়ে দেবে ওরা দল বেধে তোমাকে ধর্ষণ করতে আসবে , ওরা মানুষ নয় ওরা পুরুষ ।
~~~~ আমি দুঃখিত তসলীমা নাসরিন । আমরা বিকেলের চা একসাথে খাই মা , বোন আর স্ত্রীর সাথে ।

আমি দুঃখিত তসলীমা নাসরিন , খুব দেখার ইচ্ছা হলে ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ির শাস্তি , দেখার ইচ্ছা ছিলো পুরুষ-নারীকে নিয়ে কটূ কথা বলার শাস্তি । ইচ্ছাটাকে এখনো দমন করিনি । চেয়ে আছি ।
আর এই ব্লগের যারা দোষ দেখতে চেয়েছিলেন তাদের জন্য উপরের পয়েন্ট গুলা দিলাম । অবশ্য যারা তসলিমার মত মানব ধর্মে নিয়ে আছেন তারা ধর্ম সম্পর্কে কটূ কথা বললেও তাদের লাগবে না । তবে একটিবার চিন্তা করে দেখুন তো আশেপাসের পুরুষ আর নারীদেরকে নিয়ে করা মন্তব্যগুলো কতটা বিবেক সম্পন্ন । ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/shaon/28790880 http://www.somewhereinblog.net/blog/shaon/28790880 2008-04-24 20:01:03
একটি জন্মদিন, একটি শ্রেষ্ঠ উপহার মোরা লালটু পাট্টা মাল মাল কা
জি মোরা লালটু পাট্টা মাল মাল কা হো জি, হো জি
ইধার উধার নেহেরায়ে
মোরা লালটু পাট্টা মাল মাল কা
লালটু পাট্টা মাল মাল কা . . .

ভোর সাড়ে ৫টায় যখন এমন গান কানে বাজতেছে তখন আমি হু হু করে দৌড়াচ্ছি দিনের প্রথম ট্রেনটা ধরার জন্য । মোরা লালটু পাত্তা মাল মাল
যাক বাবা ট্রেনটা কয়েক সেকেন্ডের জন্য হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছিলো এখুনি । হাপাতে হাপাতে ভেতরের দিকের এক সিটে যেয়ে বসলাম । বেশ লম্বা বগি, কিন্তু কোনো মানুষ নেই । উইকেন্ডের প্রথম দিনের প্রথম ট্রেনে মানুষ না থাকাটাই স্বাভাবিক ।

নেক্সট মিউজিক ৩ ২ ১
ইধার উধার নেহেরায়ে
মোরা লালটু পাট্টা মাল মাল কা
লালটু পাট্টা মাল মাল কা . . .


হাতে ঘড়ি নেই বলে মুঠোফোনের সাহায্য নিতে হয়েছে । কাজ শুরুর এখনো বেশ ২৫ মিনিট বাকি । ফাঁকে দেশে ফোন দেওয়া যেতে পারে । ফোন দিয়ে শুনলাম বাসায় ছোট চাচি আর পিচ্চি এসেছে ।
মুঠোফোনের কথা বলতে যেয়ে একটা কথা না বলে থাকতে পারতেছিনা । ঈশিকে কোটিবার বলার পর তার মোবাইল নেওয়ার সময় হয়েছে । নেওয়ার পরই ম্যাসেজ দেওয়া শুরু করছে । ওকে বললাম ম্যাসেজ দেওয়ার দরকার নেই যদি কখনো মিস করো তাহলে মিস কল দিও তাতেই হবে । পরমুহুর্তে ওপার থেকে বলে উঠলো : শাওন প্রতি সেকেন্ডে মিস কল দেওয়ার কোনো পদ্ধতি তোমার জানা আছে ? মোরা লালটু পাট্টা মাল মাল

পকেটে হাত দিলাম । ইউরো লাতিনা কার্ড বের হতেই কোড টিপলাম । পকেটে শুধু একটাই কার্ড আর কিছু নেই । টাকা পয়সা কিছু নাই । আজ ২৯ তারিখ এখনো ২দিন চলতে হবে টাকা ছাড়া চলতে হবে সেটই মনে করতেই মাথা ঘুরায় । পরের মুহুরর্তে হেসে উঠি , ওহ টাকা তো এমনিও থাকার কথা না ।
২৯ তারিখ ?! আমি চমকে উঠি আজ নাকি ২৯ তারিখ ! তাও আবার মার্চ মাসের । এজন্যই তো বলি ছোট চাচী আজ আমাদের এখানে কেন । আজ তো ওনার জন্মদিন ! ওহহো, মানুষ হলিনা শাওন । শাওন কাচুমুচু করে ছোট চাচীকে ফোনটা দিতে বলে , শুভ জন্মদিন ছোট চাচি ।

শাওন চমকে ওঠে এটা বলার সময় । কিছুদিন আগেও একটা ফালতু ইমোশন নিয়ে ছিলো সে। অনেক কষ্ট করে এক আন্টির কাছ থেকে উত্তরাধিকার, কালবেলা আর কালপুরুষ জোগাড় করলাম । অনেকদিন আগে কে যেন বলেছিলো : শাওন কালপুরুষ, কালবেলা আর উত্তরাধিকার বইটা জোগাড় করে পড়বে । সেটা যোগাড় করলাম পড়তে শুরু করলাম । এমন সময় ইমোশন আঘাত হানে । শাওনের মন শাওনকে বলতে থাকে ২৯ তারিখে যেন বইটা শেষ হয় এমনভাবে পড় শাওন । সেভাবেই আগাচ্ছিলাম । হঠাৎ মাথা ঝিম ঝিম করে । সব শালা চুলোর ছাই ! ২৯ তারিখে না শেষ করলে যেন মহাভারত অশুদ্ধ হয়ে যাবে !? তাই তার আগেই কালপুরুষ শেষ করলাম ।
তবে হ্যা, আমার মত ছেলেমেয়েরা যারা হুমায়ুন খেতে খেতে পঁচে গলে বাসী গেছে তাদের কাছে এই সমরেশ পড়লে অন্য এক জগৎ বের হবে এটা নিরদিদ্ধায় বলা যায় ।

গতকাল ভালই ধরা খেয়েছি একজনের কাছে । ইয়াহু চ্যাটে অভ্যাস নেই বলে জানিও না কোনখানে কি অপশন । যে ধরা খাওয়াইলোরে বাবা , চিরকাল মনে থাকবে । এ বছরের প্রথম জন্মদিন পেয়ে ভালই লাগল ।


--- --- --- --- --- --- --- --- --- --- --- --- --- --- ---


এতটুকু লেখার পর মনে হলো সকাল থেকেই সব এলোমেলো হয়ে গেল । আজকে আকাশে ছিলোনা বৃষ্টির ছিটেফোটা , ছিলো মেঘের ঘনঘাটা , ছিলো নতুন একটা সূর্য ওঠার দূর্দান্ত প্রস্তুতি । কিন্তু হঠাৎ প্রকৃতি মাতাল হয়ে উঠলো । নেশা জুড়িয়ে গেলো তার প্রতিটি বিন্দুতে । যা আশা করেছিলাম তা হলোনা ।
বাবা-মা'র কাছে খারাপ হয়ে থাকলাম এখনো । একটুও বুঝতে পারলনা আমাকে । একটুখানি বোঝার চেষ্টাও করলোনা ।

তারপরও সারাটা দিন আমি খুশিতে কাটালাম । অনেক চেষ্টা করে গোমড়া মুখটাকে হাসিমুখ করে রাখছিলাম ।

আমি আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ উপহারটা পেয়ে গিয়েছি ।
---- শাওন গতবছর ধরে তোমাকে একটা কথা বলব বলব করছি কিন্তু বলা হয়ে ওঠেনা ।
- কি ?
---- চিন্তা করে দেখবা , যেটা বলব সেটা মোটেও সুখের হবেনা ।
-তারপরও আমি শুনতে চাই ।
---- শিওর ?
-হু শিওর ।
---- কথাটা শোনার পর হা হুতাশ করোনা , আগে থেকে চিন্তা করে দেখো ।
- বললাম তো । বলো , আমি শুনতে চাই ।
---- আমি এখন . . .
-তুমি এখন ?
---- যদি না বলি ?
-উফফ , বলো ।
---- আমি এখন নামাজ পড়ি ।

আমি কল্পনা করিনি এতটা এত তাড়াতাড়ি হবে । আজ মনে হয় আমার চেয়ে সুখী আর কেও না এই ধরণীতে । আমি সুখী, সুখী এবং অনেক সুখী । এটাই ছিলো আমার জীবনের সবথেকে বড় পাওয়া ।

আর লিখতে ইচ্ছা করতেছে না । অনেকদিন লিখিও না । শাওন ভালো আছে , ভালো থাকবে । বাহ! কি সুন্দর কথা ! হাহাহা । হু আসলেই ছায়াকন্যার শেষ ছায়ায় চিরকাল বেঁচে থাকবে শাওন । চুলোর ছাই থাকবে ! শালা গ্যারগ্যান্ডিবোস ।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/shaon/28783644 http://www.somewhereinblog.net/blog/shaon/28783644 2008-03-29 23:52:14
চাইনা সাম্প্রদায়ীক দেশ, চাই যুদ্ধ অপরাধী বিহীন দেশ এক
মুহাম্মদ জাফর ইকবালের অপ্রকাশিত একটা লেখা পড়ছিলাম । তিনি ঘটনাটি এভাবে প্রকাশ করেছেন যে, তাঁর বাবা মারা যাওয়ার পর তাঁরা অবস্থান নেয় গ্রামের এক ক্বারীসাহেবের বাসায় । কিছুদিন পর গুঞ্জন শোনা যায় গ্রামে মিলিটারী এসে পড়েছে । হঠাৎ-ই অনেক বাড়ি ঘর পুড়িয়ে দিল পাকিস্তানি মিলিটাররা । মানুষজন নৃসংস ভাবে হত্যা করে ধরে নিয়ে গেল অনেক যুবক-যুবতীদের । তারা চলে যাওয়ার পর এক সকালে জাফর ইকবালের মা দেখল এক হিন্দু পরিবার ক্ষুদার্থ অবস্থায় কাতরাচ্ছে । তিনি তখনই ঘর থেকে কিছু খাবার এনে তাদেরকে খেতে দিলেন সেটা দেখে ক্বারীসাহেব বলল : " হিন্দুদের সাহায্য করতে নেই, সাহায্য করতে হয় মুসলমানদের । তাহলে অনেক সওয়াব পাওয়া যায় । "

এটা এখান থেকে ৩৭ বছর আগের ঘটনা । ৩৭ বছর আগের ঘটনা হলেও বর্তমানেও অনেক অঞ্চলে এখনো এসব কুসংস্কার চালু আছে । গ্রামের কিছু দাড়িওয়ালা আর খাটখোট্টা ধর্মান্ধ্য হুজুর এ ধরনের কুসংস্কার এখনো টেনে নিয়ে বেড়াচ্ছে নিজেদের সুবিধার জন্য । শুধু গ্রাম্যঞ্চালে না, দেশের বড় বড় গুরুত্মপূর্ণ পদেও এখনো কিছু মানুষ এমন হীনমানসীকতার পরিচয় দিয়েই চলছে । শুধু নামের জন্য যোগ্য প্রার্থীকে দূরে ঠেলে দিয়ে মনোনয়ন দেওয়া হচ্ছে পরের জনকে । একটা দেশের উন্নয়ের ক্ষেত্রে এটি যেমন সুবিধাজনক নয় তেমনি কিছু ধর্মান্ধ্য ব্যক্তিদের জন্য ইসলাম নামক ধর্মও ছোট হয়ে যাচ্ছে দিনের পর দিন , পরিচয় পাচ্ছে সাম্প্রদায়ীক ধর্ম হিসাবে ।



দুই
বর্তমান সরকার সম্প্রতি বি.সি.এস'এর ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধা কোটা কিভাবে বাতিল করা যায় সেদিকে হাত দিয়েছে । ব্যক্তিগতভাবে আমার কাছে যুক্তিগত একটি কাজ এবং এজন্য সরকার অবশ্যই অভিনন্দন পাওয়ার যোগ্য । অবশ্য গুটিকতক গোষ্ঠী সহ কিছু দলও ইতিমধ্যে মিছিল-মিটিং ও করে ফেলছে । আমার ধারণা তারা এটার বিরোধীতা করছেন মূলত দু'টি কারণে ।
এক, তাদের ধারণা এই কোটায় হাত দেওয়া মানে মুক্তিযোদ্ধাদের হেয় করা ।
দুই , স্বাধীনতাবিরোধী অন্দোলন এগিয়ে নেওয়া ।
তাদের স্লোগান , তারা মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান । একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হয়ে কিভাবে তারা বিবেক দিয়ে বিচার করে যে , আমার থেকেও একজন মেধাবী অথবা যোগ্য প্রার্থী বাদ পড়ে যাচ্ছে শুধু আমি মুক্তিযোদ্ধার সন্তান বলে । আর এটা নিয়ে দেশের কিছু জনগন মাতামাতিও করছে ! আমাদের বিবেক কবে ফিরে পাব আমরা ?


তিন
বর্তমান সরকারের বি.সি.এস'এর কোটা বাতিলের দিকটা আমি সাপোর্ট করি শতভাগ । কিন্তু যদি এই সরকার এই কাজটা করে ফেলতে পারে তাহলে কেন স্বাধীনতা বিরোধীদের বিচার করতে পারবে না ? বলা হয়ে থাকে স্বাধীনতাপক্ষের দল আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় এলো , তারাও গেলো । সৈরাচরক দল এলো সেও গেল । শেষে আসল যুদ্ধ বিরোধীদল তারাও একি খেলা দেখালো । এক ধরনের পলিটিক্যাল গেইম চলতেই আছে । এই গেইমটাকে গরম করার জন্য ডাক পড়ে হরতালের । হরতালে প্রাণ হারালো দিন আনা দিন খাওয়া রিকশা চালকের । তার ভুল ছিলো সে হরতালের দিনও রিকশা নিয়ে বের হওয়া । আর এর জন্য তার প্রাণ কেড়ে নিল কিছু জানোয়রের দল রিকশাসহ তার শরীরে আগুন দিয়ে । প্রাণ দিলো মুজাহিদ , মেরে ফেলা হলো সাপের মত লাঠিসোটা দিয়ে পিটিয়ে । ইট , পাথর ব্যবহার করলো বর্ষার মত । সাধারণ জনগনের আশা এবং স্বপ্ন মাটিতে মিশিয়ে দিয়ে রাজনৈতিক নেতারা নিজের থলে ভারি করল কিন্তু জনগনের আশা মেটানোর কোনো লক্ষ্যই তাদের ছিলোনা । প্রতিবার সরকার বদলায় আবারো আমরা স্বপ্ন দেখি নতুন কিছু পাবার ।
স্বাধীনতার কিছু পরেই , ৯০ এর দশকে জাহানারা ইমামের নেতৃত্বের মাধ্যমে এবং এখন তৃতীয় বারের মত যুদ্ধ অপরাধীদের বিচার কাজের জন্য নৈতিক জনমত করা হলো ।

সরকারের কাছে শুধু এতটুকুই অনুরোধ থাকবে যে , এই রকম চক্ষুলজ্জাহীন সরকার আগে ৩৭ বছর ধরে দেখে আসছি । ভরসা পাইনি সেইসব সরকারের যারা যুদ্ধ অপরাধীদের বিচার করবে বলেও করেনি । এ প্রজন্মের সন্তানেরা শুধু যুদ্ধ অপরাধীদের বিচার টুকুই দেখতে চায় । ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/shaon/28778970 http://www.somewhereinblog.net/blog/shaon/28778970 2008-03-14 01:52:34
বাবা . . .


আমি দেশে গিয়ে নীল আকাশ খুব কম পেয়েছি। সারাক্ষণ অঝোর ধারায় বর্ষা। ফজরের নামাযের জন্য যে কয়দিন মসজিদে গেলাম সে কয়দিনের মুহুর্তগুলো ভোলার নয়। এক ছাতার নিচে বাবার শরীরের সাথে ঘেষাঘেষি করে গেলাম। ইচ্ছা করেই আমি আরেকটি ছাতা নেইনি। বাবার এক হাতে ছাতা আরেক হাত আমার পিঠের উপর। আমিও বাবাকে জড়িয়ে ধরে যাই।



এক রাতে হঠাৎ হাও-মাও করে কেঁদে উঠলাম। আমি তোমাকে ছেড়ে যাব না কোথাও বাবা। ৩টা বছর হারিয়েছি। আর চাইনা তোমাকে না দেখে। আমার কাঁদার সাথে তুমিও দিলে কেঁদে ; ওমন করিস না আব্বু, এখানে থাকলে কোনো ভবিষ্যত নেই। হ্যান ত্যান করে বুঝিয়ে আবার পাঠিয়ে দিলে। পৃথিবীটা কদিনের ? এর মধ্যেই ৩টা বছর কেটেছে ঐ স্নেহময়ী চেহারাটা না দেখে। আরো কতটা দিন যে না দেখে থাকবে হবে তার কোনো ইয়ার্তা নেই।


বাবা তুমিও যখন চশমা পরা ধর তখন তোমারও ১৮-১৯ বছর ছিল। আমারো খুব ইচ্ছা করত আমিও তোমার মত চশমা পরব। এখন আমিও তোমার মত চশমা পরি। যেদিন দেশে গেলাম , বাসায় যেয়ে ঝাড়ি মারলে ; গেলি ভালো চোখে আর আসলি চোখটা খারাপ বানিয়ে ?
আমি যে হাসতেছিলাম বুঝতে পেরেছিলে বাবা ? পারনি। এখন আমারও চশমা পরে থাকতে হয় তোমার মত।


বাবা তোমার কি মনে আছে ঈদের দিন গুলিতে কি হতো ? গোছল করে নামাযের পাটি নিয়ে হাঁটতে হাঁটতে নামাযে যেতাম । নামায পড়ে শুরু হত সেলামী দেওয়ার পালা । সেলামী দিয়েই বাসা থেকে দু'জন সাইকেল নিয়ে গ্রামের বাড়ীতে যেয়ে কবর জিয়ারত । মা চিল্লাতো, কিছু খেয়ে যা । সময় নেই বলেই দৌড় দিতাম আমি আর তুমি । তোমার পাসে দাড়িয়ে কবর জেয়ারত । আমাকে প্রতিবার বলতে এবার এইটা পড় । বড় চাচা , দাদা আরো সবার জন্য দোয়া করো । তুমি দাদার জন্য চোখের পানি ফেলাতে । তোমার পানি দেখে আমারো পানি পড়ত । আজ বুঝি কেন এত কাদতে । কেন আজ বার বার বলো : রাব্বির হাম হুমা পড়তে । পরে বাসায় আসতাম । আর আজ । আজ প্রায় ৯টা ঈদ তোমাকে ছাড়া কাটালাম । ঈদের দিনটায় বিদেশ থেকে লাইন যাওয়া কত যে কষ্টের ব্যাপার । আর আমি টেলিফোনের পাসে দাড়িয়ে কাদি লাইন না পওয়ার জন্য ।

বাবা , তুমি যেখানে থেকো ভালো থেকো । অনেক অনেক ভালো । পৃথিবীর সব বাবারা ভালো থাকুক । ভালো থাকুক যেসব বাবা পৃথিবী ছেড়ে আবার স্রষ্ঠার কাছে আছেন ।

---[উপরের স্কেচ করা ছবিটা আমার বাবার]---]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/shaon/28751101 http://www.somewhereinblog.net/blog/shaon/28751101 2007-12-12 13:39:22
বিবেকের কাছে প্রশ্ন করি

ভোর চারটার কিছু আগে ৪জন মারা গিয়েছে সয্যহীন ঠান্ডায় । ওখানেই ফেলে রাখতে হয়েছে লাশ । কিছুই করার নেই । যত দেরী তত বিপদ । পুলিশের ভয়, একবার জানতে পারলে সবারই বিপদ । কেও টু শব্দ করলো না । নীরবে চোখের পানি ফেলা ।
সামনে কাটাতারের বেড়া পড়েছে । অনেক উঁচু । পুলিশ পাহারারত,সুতরাং বুঝে শুনেই এগোতে হবে । কয়েকজনের কাছে কুকুর দেখা যাচ্ছে । চারদিক অন্ধকার । দালাল ৪-৫ জনের ৩টা গ্রুপ করে দিল । সবাই একসাথে একি রাস্তায় পার হওয়া বিপদজনক । সেজন্যই এই ব্যবস্থা ।


কাটা তারের বেড়া পার হওয়ার মুহুর্তে পুলিশের ধাওয়া খেল একটা গ্রুপ । তার মধ্যে ৩জন বাঙালী । দ্রুত পার হওয়ার সময় শরীর ছারখার হয়ে গেল । তারা ওখানেই পড়ে থাকল ।
আরেকটি দল দূর থেকে এটি দেখে জোরে দৌড় মেরে রাস্তা পার হওয়ার সময় গাড়ির চাপায় মারা গেল একজন । প্রচন্ড শীতে, না খাওয়া অবস্থায় সবাই খুবই কাহিল । কিন্তু তারপরও একটা স্বপ্ন : আর কিছুদূর, তারপরেই সব ঠিক হয়ে যাবে । আমি যেয়ে একটা কাজ জোগাড় করে নেব । সেই টাকা দেশে পাঠিয়ে অনতত কিছু খেয়ে পরে বেঁচে থাকবে ।



অবশেষে পা দেয় ইউরোপ নামক সুখপাখি খোঁজার দেশে । না নেই খাওয়া, না নেই গোছল, না নেই একটু সাহস যোগাবার কেও । উঠেপড়ে লেগে যায় নিজ দেশের কাউকে খুঁজে পেতে । নতুন পরিবেশে গড়ে তুলতেই চলে যায় বেশ কিছুদিন । তারপর থেকে শুরু হয় ব্যস্ত জীবন , অসহানীয় জীবন ব্যবস্থা । ছোট ছোট রেস্টুরেন্টের মধ্যে শুরু হয় কাজ । ভোর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত না থামা খাটুনি খেটে মাস শেষে পায় ২০০-২৫০ ইউরো । এর মধ্যেই চালাতে হয় দেশের সম্পূর্ণ একটি যৌথ পরিবারকে, চলতে হয় নিজেকে । কয়েকমাস এভাবে অস্বাভাবিক খাটুনির পর সুখপাখি খুঁজতে আসা মানুষটি হয়ে পড়ে অসুস্থ । ইচ্ছা হয়ে ওঠেনা ডক্টর দেখানোর : ডক্টর দেখানোর টাকাটুকু পরিবারের কাছে পাঠালে অনতত খেয়ে পরে বাঁচতে পারবে সেই চিন্তায় থাকে মশগুল ।


ভালোভাবে খবরের কাগজের দিক তাকালে দেখা যাবে উপরের ঘটনা প্রায়ই ঘটে । বছরের পর বছর বেড়েই যাচ্ছে এই সংখ্যাটা । যেটার মধ্যে বাংলাদেশীদের সংখ্যাও কম নয় । কিন্তু কেন ? দেশে কি এতই অকাল পড়েছে যে দেশ ছাড়তে হবে ? যদি পড়েই থাকে তাহলে দোষটা কাদের ?


সোনার দেশটা ছেড়ে হাড় ভাঙা খেটে খুটে মাস শেষে পাওয়া টাকাটার সিংহ ভাগই পাঠায় দেশে পরিবারের কাছে । দেশের কেও জানতে পারে না উপরের ঐ ঘটনা । জানতে পারেনা বর্তমানে পরিবারের কর্তার পরিস্থিতি কি । দেখতে পারেনা বুক ভাঙা কান্না জমানো খেটে খাওয়া মানুষটার মুখ ।


দোষটা কাদের ? পত্রিকার পাতা উল্টালে দেখব শখের বসে করা পারিবারিক চিড়িয়াখানার দৃশ্য, আন্ডারগ্রাউন্ডে গড়ে ওঠা স্বর্ণ-কমলের চেহারা, হাজার কোটি টাকা পাচার করার সন্ধান । ধান, গম , টিনের চাল সহ ত্রান সামগ্রী লুকিয়ে রাখা গুদোম ঘর । আধুনিক বিশ্বের আধুনিক সারঞ্জামাদী । এম পি বা মন্ত্রীদের ছেলেদের ঘরে অযথা কেনা নতুন এম পি ফোর অথবা নতুন কেনা প্লে স্টেশন । টাকা অপচয় কারীর দিনে ২ প্যাকেট বেনসন বা মালবোরো শেষ করা । অশিক্ষিত কৃষকের কাছ থেকে টিপ সই দিয়ে মেরে নাওয়া জমিটা । আজ হাহাকার গ্রামাঞ্চলের প্রতিটা বাড়ীতে । ভৌগোলিক দিক থেকেও তেমন সুবিধার স্থানে পড়েনি বাংলাদেশ । সারা বছর সাইক্লোন , ঝড় , বন্যা লেগেই আছে । নদী ভাঙনের এক রাতেই তলিয়ে নিয়ে যায় ঘরের সব কিছু ।


দেশের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের বর্তমান অবস্থা দেখনীয় । সবার পেছনের মুখটা ফুটে উঠছে । বর্তমানে সরকারের যথাযজ্ঞ প্রচেষ্ঠায় এটা সম্ভব হলো । বড় বড় তিনটি রাজনৈতিক দলই কি খেলাটা না দেখালো ২৮ অক্টোবর ! রাস্তার ফুটপথের নিরহ মানুষ মারা গিয়েও শান্তি পেলনা । ৩টি দলই নিজেদের দিকে টানা হেচড়ায় ছিন্ন বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল দেহটা । মন্ত্রি-মিনিষ্টারদের আনলিমিট অরাজকতা আর কতদিন দেখতে হবে ? আর কয়জন বিদেশে যেতে যেয়ে মারা পড়বে বনে জঙ্গলে ? মারা পড়বে কাটা তারের বেড়াতে বিচ্ছিন্ন হয়ে ? খেটে মরবে অন্য একটা দেশে ?


আমরা কি পারিনা সবাই এক হয়ে কাজ করতে ? পারিনা পাসের গরীব পরিবারগুলোর কিছু দিয়ে থাকতে । খোঁজ নিতে পারিনা কি তারা কয় বেলা না খেয়ে দিন কাটাচ্ছে । কিভাবে চলছে জীবন সংগ্রাম । আমরা আর কতটা নিচুতে স্থান নিব ? আমাদের পূর্ব-পুরুষরা একটা বিবেক দিয়ে জয় করেছিলো এই দেশটাকে পাকিস্তানীদের অত্যাচার না সয্য করতে পেরে । বাংলা নামের সুন্দর একটা ভাষাকে উপহার দিয়ে গেল তাঁরা । উপহার দিক সুবাসময় এই দেশটাকে । কিন্তু সেই বিবেকটা আজ আমাদের এ প্রজন্মের মানুষদের নেই কেন ?


বর্তমানে দেশে চলছে এক ক্ষতি-পূরণের প্রচেষ্ঠা । সিডর আক্রান্ত মানুষের নির্বাসনের প্রচেষ্ঠা । এটা দিয়েই কি আমরা পারিনা সবসময় দেশের গরীব মানুষদের বাঁচাতে । হয়তবা এই সাইক্লোনে দেশের অনেকাংশ অসুবিধা হয়ে অনেক পরিবার ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে । কিন্তু আমরা কি খোঁজ নিয়ে দেখেছি স্বাভাবিকভাবেই আসেপাসের কতটা মানুষ না খেয়ে রাত কাটাচ্ছে?? আসুন না আমরা এই ক্ষতিগ্রস্তের সাহায্যের মাধ্যমে শুরু করি সারা দেশের মানুষজনের খাওয়ার অধিকারটুকু ।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/shaon/28748027 http://www.somewhereinblog.net/blog/shaon/28748027 2007-11-28 00:15:55
ভালোবাসার সাত রঙ

অলস বিকেলে আজ পশ্চিমাকাশে ছিলনা এক চিলতে রোদ । ছিল মেঘের ঘনঘটা . . . অয়োজন করে পড়ে বর্ষার ঝুমঝুম ফোটা . . . হাতে হাত ধরে ভেজা সেই বৃষ্টিতে । অন্য এক অনুভূতি ; ঠান্ডা বর্ষায় তার গরম ছোঁয়া . . . পড়ন্ত সিগারেটে নাকি গন্ধ নেই ; হয়ে ওঠে সুন্দর মিষ্টি এক সুবাস । তিতে সিগারেট টানা ; ফুঁ দিয়ে উড়িয়ে দেওয়া । এটাও ভালোবসার এক পাস ।

ভালোবাসা মানে হাত ধরে হেঁটে চলা ; পার্কে বসে হাতে হাত রাখা . . . নদীর পাড়ে ঘাড়ের উপর মাথা রেখে নিঃশব্দে বসে থাকা । শরীরের সুবাস নেওয়া ; চরম উত্তেজনা নিয়ে কথা বলা । পাগলামী করা ; মধ্যরাতে ফিসফিস করে কথা বলা । নির্ঘুম রাতের এলোমেলো প্রলাপ বকা ; মনের কথা বের করে দেওয়া । ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে ঘুমহীন চোখে ভোর দেখা । সেলফোনে কথা বলা । লাভ ম্যাসেজ দেওয়া ।

মনের অজান্তেই মন দেওয়া । পাগলামীটা যে আমার বেড়ে চলেছে সেটি বুঝতে পারছি । ক্রোশটা বেড়ে ওঠে ; নির্স্বার্থ্ আমি স্বার্থপর হয়ে উঠি । অথবা স্বার্থহীন ভালোবাসা . . . ভালোবাসা মানে আজ কয়রাত ঘুম না হওয়া । ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/shaon/28746074 http://www.somewhereinblog.net/blog/shaon/28746074 2007-11-18 00:45:19
আমরা আর কতটুকু নিচে নামব ?


এক একজন অ্যামবাস্যাডারদের মর্যাদা দেওয়া হয় কতটুকু ? VVIP ? আর যারা তাদের এক ধাপ নিচে কাজ করে তাদের মর্যাদা ? VIP ? এই সম্মানটুকু কেন দেওয়া হয় ?



ভেতরে যখন ঢুকাল গেস্ট রুমে ২টি ঘিয়ে রঙের সোফা , পাশে দুটো চেয়ার । এক কোণায় টেলিভিশন রাখা । সামনে এগোলে দেখা যাবে ফরাসি সিটিজেনশিপ এক অফ্রিকান মহিলা । আমার মনে হয় বাইরে থেকে যখন বেল টিপছিলাম তখন এই ললনা-ই গেট খুলে দিয়েছিল সুইচ টিপে । আর কিছুটা সামনে গেলে বসা একজন , তিনি ই কাগজপত্রের কাজ করেন ।



আমি মূলত গিয়েছিলাম আমার পার্সপোর্টের রিনিউ করার জন্য । সাথে এক বড় ভাই গিয়েছিল তার বিয়ের জন্য একটা কাগজ তোলার জন্য । আমি পাসপোর্টের ফর্মটা তুলবো আর সে ঐ কাগজটা তুলবে , সুতরাং কাজটা হয়ে গেলেই চলে আসব ।



ঐ রুমে ৩জন বাঙালী বসে ছিল কালো সোফাটাতে , আমরা যখন গেলাম সোফাতে যায়গা নাই ,তাই বাধ্য হয়ে দাঁড়িয়ে বোরিং টাইম পাস করছিলাম । পাসে রাখা মেট্রো পেপারটা হাতে নিলাম সেই আ্যামব্যাসির লোকটা জিজ্ঞাসা করলো আমাদের কি সাহায্য করতে পারবে ? সাথে থাকা বড় ভাই এগিয়ে বললো : তার বিয়ের জন্য একটা কাগজ লাগবে । অ্যামব্যাসির লোকটি উঠতে যেয়েও বললো : একটু পরে আসতে । পরে আমি আমার পাসপোর্টের জন্য ফর্মের কথা বললাম , উনি ফরমটা পূরণ করে আনতে বললেন ।



বাইরে গেলাম । ছোট একটি কাগজ দিবে সেটাতেও পরে আসব ! বারে ঢুকে কাপুচিনো খেলাম , টাকা খসল বড় ভাইয়ের । পাসপোর্টের ফর্মটা পূরণ করলাম । কিন্তু সমস্যা হলো ছবি আনিনি । সুতরাং সামনে আরো একদিন আসতে হবে ।



বড় ভাইয়ের সেই কাগজটি আনার জন্য আবার ঢুকাল । এবার দেখি সোফাতে যারা বসা ছিল তারা নাই । হয়তবা তাদের কাজ হয়ে গেছে । উনি ফর্ম আনলেন । বললেন : হালকা ফি দিতে হবে । বলেই আবার পেছনের ঘরে ঢুকলেন । দাড়িয়ে রয়েছি আমি । বড় ভাই পাশে । পকেট থেকে টাকা টাকা বের করলেন এক হাতে ২০€ একটা নোট আরেক হাতে ৫€ একটা নোট ।
লোকটি ঘর থেকে ফিরে আসলে বড় ভাই ৫€ এর নোটটি ধরিয়ে দিয়ে বললেন : থ্যাংক্স । লোকটি ৫€ নিয়ে বললো : কোনো অসুবিধা নাই ।



বের হয়ে চিন্তা করছি আমাদের বয়স কত । আমার ১৯ , সাথে বড় ভাইয়ের ২৪ । আর ঐ লোকটির বয়স কত ? হয়তবা আমার বাবার বয়সের । হয়তবা ওনারো কোনো ছেলে আছে আমার মত । ফি চাইতে কি একটু লজ্জা করলো না মানুষটির ? ৫€ দিলো , সেটি নিতে একটুও বিবেকে বাঁধল না ? মনের মধ্যে খোঁচা লাগল না যে তার ছেলের বয়সের ছেলের কাছ থেকে এই "ঘুষ" টুকু নিতে ?



আমরা আর কতটুকু নিচে নামব ? আর কবে আমাদের সুবুদ্ধি হবে ? কবে আমরা বিবেক দিয়ে চিন্তা করতে শিখব ? কবে আমাদের কলুষিত মনটুকু পবিত্র করব ? আর কবে ?
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/shaon/28742902 http://www.somewhereinblog.net/blog/shaon/28742902 2007-11-05 16:31:06
ছুটি পেলে এবার মা গো তোমায় আমি দেখতে যাব
আজ কতটা দিন তোমায় না দেখে মা গো । কেমন আছো তুমি ? শেষবার যখন তোমাকে দেখেছিলাম তখন তোমার চোখ ছিল টকটকে লাল । চোখের আড়ালে ছিল কান্না , তুমি সেই কান্না লুকানোর চেষ্টা করছিলে আমাকে দেখাবে না বলে । কারণ তোমার কান্না দেখলে আমারো কান্না আসবে । আমিও কত কষ্টে ঠোটে হাসি ফুটিয়ে বিদায় নিলাম । ইমেগ্রেশন পার হয়েই আমি দৌড়ে গেলাম জিয়ার টয়লেটে । তোমাকে আরেক নজর দেখব বলে উঁকি মারলাম । কিন্তু হাজার মানুষের ভীড়ে আর তোমার মায়াভরা মুখখানি দেখা হয়ে উঠলো না ।

ইচ্ছে করে ছুটে যাই এখন । যেয়ে তোমার গলাটা জড়িয়ে ধরি । তোমার আদরভরা চুমু দিবে আমার কপালে । যান্ত্রিক সমাজে আমি হাঁপিয়ে উঠেছি । আমি এখন স্যোসাল হয়ে উঠতে পারিনি । এদের সাথে খাপ খাওয়াতে পারিনি । সকালে এখন আর কেও ডেকে দেয়না, তোমার মিষ্টি গলাটা শুনে ঘুম ভাঙে না , ঘুম ভাঙে ইলেক্ট্রনিক ঘড়ির কড়কট শব্দে ।

মা'গো তোমায় কত কষ্ট দিয়েছি । আমি জানি এত কষ্ট দেওয়ার পরও আমাকে বুকে টেনে নিবে । ùমা গো তুমি এত ভালো কেন ? ছুটি পেলে এবার মা গো তোমায় আমি দেখতে যাব, মা গো । তোমার কথা ভেবে চোখটা ঝাপসা হয়ে আসে , একটা আশা নিয়েই বেঁচে থাকি , তোমাকে সামনের ছুটিতে দেখতে যাব । মাগো তুমি এখন কেমন আছো? কেমন হয়ে গেছ ? আগের সেই মাকে পাবো ?

মনে আছে তোমার ? আমার প্রায়ই জ্বর হলে তুমি আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে । ঘুম না আসা পর্যন্ত মাথায় তোমার কোমল হাতের পরস পেতাম । মা, এখন জ্বর হলে মাথায় হাত বুলানোর মত মানুষ নেই । এই যন্ত্রণাময় শহরে জ্বর হলে ভাববার মত সময়টুকু এখন আর নেই । রাতে কোঁকাতে কোঁকাতে নাপা খেয়ে সকালে উঠেই চলমান রাস্তায় নেমে পড়তে হয় । তোমার হাতের পরশ বেশি পাবার জন্য তখন শরীর গরম হলে জ্বর বলে চিল্লাতাম । থার্মোমিটার ১ মিনিটের যায়গায় ২মিনিট জ্বিহবার নিচে রাখতাম যেন বেশি তাপ আসে । তাহলে তোমার সঙ্গটা বেশি পাওয়া যাবে । মা গো , আর এখন থার্মোমিটার নেই । ওটার ব্যবহার কিভাবে করতে হয় সেটিও ভুলে গেছি ।

মা গো , তোমার হাতের রান্না কতদিন খাইনা । দেশে থাকতে আমাকে গালে তুলে খাওয়ায় দিতে । গোছল করার পর জামা কাপড় বাথরুমে ফেলে আসতাম তোমার জন্য মা । <img src=" style="border:0;" /> আর এখন নিজে নিজের প্রোয়োজনের খাবার নিজে বানাতে পারি । গোছল করার পর নিজের জামা-কাপড় নিজে ধুয়ে রাখি ।

মা , আজ খুব তোমার কথা মনে পড়ছে । আর কতটা সময় মা ? আর কতটা সময় তোমাকে না দেখে থাকতে হবে ?আর কতটা সময় এভাবে মোবাইলে তোমার গলা শুনে থাকতে হবে ? এবার ছুটি পেলে এবার মা গো তোমায় আমি দেখতে যাব ।

মা , তোমার বলা কথার বেশিরভাগই আমি শুনিনি । একটা করতে বললে করেছি আরেকটা । যখনকার কাজ তখন করিনি , কিছু আনতে বললে সেটা আনিনি বাজার থেকে , কতই না দুঃখ দিয়েছি । আম্মু , আম্মু, তোমাকে আর কষ্ট দিব না । আমি তোমায় ভালোবাসি । আজ কি যে হলো বুঝছি না । সামনেরবার ছুটি পেলে তোমায় দেখতে যাব ।

আমি পারলে ব্যস্ত এই শহর ছেড়ে তোমার কোলে ঝাপ দিতাম মা । আমি আর পারছি না . ..

. . . é é éé . . .


. . .
. . . . . . .]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/shaon/28740862 http://www.somewhereinblog.net/blog/shaon/28740862 2007-10-29 07:53:03
এই ধোকাবাজির শাস্তি কি ?
তিঁনি তো নিজেই বলেছিলেন , তার বইয়ের তালিকায় আসা ১০০ জনকেই যেন মানুষ পৃথিবীর সেরা ১০০ জন মনে না করেন । এই তালিকায় কিছু ব্যক্তির নাম এসেছে যারা সমালচিত হয়েছিলেন । যেমন হিটলার । আবার এনাদের আনতে গিয়েই বাদ পড়তে হয়েছে অনেক নামকরা মণীষীদের । কিন্তু তাঁরাও বিশেষ মর্যাদার অধিকারী ।

বাংলায় প্রকাশিত Michael H. Hart এর "বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ১০০ মণীষীর জীবনী" এটাই পড়ে আসছিলাম প্রথম থেকে । এটা থেকেই জেনেছিলাম সেরা ১০০ । বইটার প্রকাশক মো: আল রাজিউল হক সুমন । প্রকাশিত হয় : সোলেমানিয়া বুক হাউস থেকে । ঠিকানা : ৩৬, ৪৫ বাংলা বাজার , ঢাকা-১১০০ ।
সংকলন করেছেন : মো: হুমায়ুন কবীর ।

আমি জানিনা এই বইটার সেরা ১০০ মো: হুমায়ুন কবীর কোথা থেকে সংকলন করেছেন তবে Michael H. Hart এর সেরা ১০০ এর প্রায় ২৫-৩০জনই উধাও । কত নিম্ন মানের সম্পাদনা হলে অথবা কত নিম্নমানের রূচি হলে কাজটি করা যায় ! তার উপর লেখকের মন গড়া ২৫-৩০ জন ঢুকিয়েছেন ।

Michael H. Hart এর অন্তর্ভুক্ত যাদের নাম নেই তাদের মধ্যে কয়েকজন হলেন : আডম স্মিথ , সাইমন বলিভার , পোপ উরবান ২ , এডওয়ার্ড জেনের , নেইলস ভোর , কুইন ইসাবেলা ১ , উইলিয়াম মোরটন , ভাস্কো দা গামা , মেনেস , জন লাক . . . ইত্যাদি . . .

আবার Michael H. Hart এর অন্তর্ভুক্ত না বাদের তাদের নাম ঢুকিয়েছেন : আব্রাহাম লিংকন , রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর , ম্যাক্সিম গোর্কী , জন কিটস , জর্জ বার্নাডস , লিওনার্দো দ্যা ভেঞ্চি , ইবনে সিনা , হেলেন কিলার . . . ইত্যাদি . . .

এতবড় লেখকের ( Michael H. Hart ) অসম্মান অথবা নিজের ধৃষ্টতার পরিচয় হয়ত অনেক কম পাওয়া যাবে ।
যদি তার মন গড়াই লিখতে ইচ্ছা হত তাহলে বইটার নাম দেওয়া যেত : "মো: হুমায়ুন কবীরের সেরা ১০০" । কিন্তু কেন এতবড় ধোকাবাজী দেশের মানুষের সাথে ?

আমরা কিছু জানতে চাই । কিছু পড়তে চাই । এটাও কি পাপ ? এই ধোকাবাজী করে কার লাভ হলো ? নিজেদের কোথায় নামালেন ?

Michael H. Hart এর কথিত সংকলন বাজায়াপ্ত করা উচিত । সংকলক সহ প্রকাশক-কেও শাস্তি দেওয়া উচিত যেন এরকম ধোকাবাজি যে আর দেশের মাটিতে ২য়টি না হয় । ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/shaon/28738202 http://www.somewhereinblog.net/blog/shaon/28738202 2007-10-18 14:58:17