তোর ছেলে বেলা চেয়ে নিবো
গাড়িটা দ্রুতই চালাচ্ছিলেন নচিকেতা। শেষ বিকেলের আলোগুলো গাছপালার ফাঁকফোকর দিয়ে পালাচ্ছে। বড় বেশি তেষ্টা পায় চা পানের। দ্বীপের মতো একটি গ্রামের দোকানের সামনে গাড়িটা থামালেন। চায়ের কাপে শেষ চুমুক দিয়ে হাঁটা শুরু করলেন গাড়ির দিকে। পেছন দিক থেকে একটি কণ্ঠস্বর বলে উঠল, `নচিকেতা'। ফিরে তাকালেন তিনি। আগন্তুক এবার হতাশ কণ্ঠে বলে, `আমাকে চিনতে পারছিস না নচিকেতা, আমি অনির্বাণ। তোর ফেলে আসা শৈশবের বন্ধু। হ্যাঁ, তুই তো এখন অনেক বড় ¯স্টার হয়েছিস, আমাকে চিনবি কী করে? । নচিকেতা গাড়িতে উঠলেন নির্বাক হয়ে। ভেতরটা যেন এক ভূমিকম্প এসে দুমড়ে-মুচড়ে দিয়ে গেল। অন্দকারের ছোঁয়া লাগল গাড়িতে। হেডলাইট দুটি জ্বলে উঠল। নচিকেতার ভেতরেও জ্বলে উঠল এক অন্য আলো। ফেলে আসা বন্দুকে নিয়ে লিখে ফেললেন অনির্বাণ নামে একটি গান । দেখে যা অনির্বাণ কতটা সুখে আছি'। এ গল্পটা পুরনো। শ্যাওলার জামা পড়ে গল্পটা এখনো সজীব আছে। প্রতিটি মানুষের মনে এমন কিছু গল্প থাকে বন্দুকে নিয়ে। যা অতি যতনে লালন করেন। অশৈশবের সেই বাঁধনহারা দিনগুলোতে ফিরে যেতে মন চায়। সময় এক কঠিন চিড়িয়া। সেই চিড়িয়ায় আটকে থাকে জীবন। বদলে যায় মানুষ। একটা সময় আসে যখন মানুষ আবার তার ফেলে আসা দিনগুলোতে ফিরে যেতে চায়। প্রকৃতি অনেক কিছু দিলেও এ মতা দেয়নি। তবে সবার মধ্যেই একটা ইচ্ছা বসবাস করে। ` ইস আমি যদি আমার শৈশবে ফিরে যেতে পারতাম। '
সবুজ ঘাস মাড়িয়ে ধুলোউড়া পথে যদি শৈশবে ফিরে যাওয়া যেত। প্রত্যেকে তাদের ছেলেবেলায় শিশু মনে যে বল্পব্দুটির ছবি এঁকেছিলেন মানসপটে তাকেই খুঁজে নিয়ে ভোঁদৌড় দিতেন দিগন্তজোড়া মাঠে।
এ স্বপ্নটা হুমায়ুন ফরীদির। গত ৫০ বছর ধরে তিনি তার ছেলেবেলার বন্দুকে খুঁজে বেড়াচ্ছেন অভিমান নিয়ে। বন্ধুটি তার কাছে একটি ঘুড়ি চেয়েছিল; কিন্তু তিনি দিতে পারেননি। এখন হাজার হাজার রঙিন ঘুড়ি কিনে দিতে চান। দু বন্ধু মিলে বিশাল আকাশে ঘুড়ির মেলা বসাবেন। সবার মধ্যে একজন করে ফরীদি আছেন। যারা প্রতিনিয়ত নষ্টালজিয়ায় ভুগেন। মনের বারান্দায় ছেলেবেলার বন্ধুদের সঙ্গের স্মৃতিগুলো নামিয়ে খেলা করেন আপন মনে। এ খেলা কষ্ট আর আনন্দের। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় এখনো ক্যামেরার চোখ দিয়ে খুঁজে বেড়াচ্ছেন তার বন্ধু মার্গারেট ম্যাতিউকে। অনেক কথা জমিয়ে রেখেছেন বন্ধুর জন্য।
আচ্ছা বন্ধুত্বের কোনো ঘ্রাণ, রং আর সজ্ঞা হয়? হয় না। বন্ধুত্বের ভূখ-খন্ডে কোনো সীমানা নির্ধারণী কাঁটাতারের কুৎসিত দেয়াল থাকে না। থাকে দুরন্তপনা। যে বয়সটায় মানব সন্তানের উর্বর মনের জমিতে বুনে দেওয়া হয় বন্ধুত্বের শেকড়। সে বয়সী তিন খুদে তারকাকে আন্ত্রন জানানো হয়েছিল নন্দন আড্ডায়। পিদিম, প্রতিক্ষা, অপি। তিনজনেই কেউ কাউকে চেনে না। পরিচয়টা প্রথম। তবে টিভি পর্দায় একে অন্যকে দেখার অভিজ্ঞতা আছে। অনেকটা পরিকল্পনা করে এ তিনজনকে ছেড়ে দেওয়া হয় একটি খোলা মাঠে। শুরু হয়ে যায় নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়া। সাটারডে, সানডে, মানডে, দশ-বিশ-ত্রিশ জাতীয় নানা খেলায় মেতে উঠেন তারা। ধীরে ধীরে ঘনিষ্ঠতা বাড়তে থাকে। একে অন্যের সঙ্গে দুষ্টামি শুরু করে দেয়। ভ্যাংচি কাটে। শুরু হয় দৌড়াদৌড়ি। শেষ বিকেলের আলো ঠিকরে পড়ছিল ওদের চোখে-মুখে। প্রাণবন্ত সজীব হাসির ধ্বনি বাজতে থাকে। ছোট ছোট পায়ের ছাপ মাটির বুকে নকশি এঁকে দিচ্ছে। উড়ছে ধুলো জমছে খেলা। জাগতিক সব কিছু ভুলে যায় এ কোমলপ্রাণ শিশুগুলো। বেশি নয়, মাত্র ত্রিশ থেকে চল্লিশ মিনিট। অপরিচিত এই তিন খুদে তারকা বন্ধু বনে যায় একে অপরের। বেশ দোস্তি হয় তাদের মধ্যে। বন্ধু হিসেবে অপি ও পিদিম কেমন? প্রতিক্ষা প্রশ্নটা শুনে সহজীয়া ভাষায় বলে, `ভালো, খুব ভালো, অনেক ভালো। ঘামের সঙ্গে হাসির কণাও লেগে থাকে তাদের শরীরে। পিদিম বড় হলে প্রকৌশলী হবে। অপি হতে চায় অমিতাভ রেজার মতো পরিচালক। পিদিম, প্রতিক্ষা দু নই বড় হলে অপির পরিচালনায় কাজ করতে চায়। তবে অপি যদি তাদের ডাকে। অপির কথা, ‘ওরা তো আমার বল্পব্দু হয়ে গেল, ওদের তো আমি ডাকবই। কিন্তু ওরা আমার মেেতা পরিচালকের সঙ্গে কাজ করবে কি-না?
পিদিম-প্রতিশা দু’জনই এক সঙ্গে বলে ওঠে `, হ্যাঁ তুমি ডাকলেই আমরা কাজ করব। বন্ধুত্বের সেতুটা এভাবেই গড়ে ওঠে। প্রতিনিয়ত উঠছে। যার শুরুটা আদীমকাল থেকে। যুগে যুগে দেশ বদলায়, ক্ষমতা পরিবর্তন হয়, ধ্বংস হয়, নতুন সভ্যতা গড়ে ওঠে; কিন্তু বদলায় না বন্ধুত্ব।
একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন
কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?
হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন
আসলে কেউ ফেরে না।
মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর
যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন
দ্য ড্রাগ কিং

সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।
খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন
সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে
আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।