সংসদ সদস্য লুৎফুল হাই সাচ্চু আর নেই
ঢাকা, ২২ নভেম্বর (শীর্ষ নিউজ ডটকম): ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এডভোকেট লুৎফুল হাই সাচ্চু মারা গেছেন। (ইন্নানিল্লাহে.......রাজেউন)। সোমবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে হার্ট এ্যাটাক হলে তাকে রাজধানীর এ্যাপোলো হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
পরে হাসপাতালেই তিনি মারা যান। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭০ বছর। তিনি স্ত্রী, ১ পুত্র ও ১ কন্যাসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন রেখে গেছেন। মরহুমের প্রথম নামাজে জানাজা সোমবার বাদ মাগরিব গুলশান আজাদ মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে। আগামীকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টায় জাতীয় সংসদ প্লাজা ও পরে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দ্বিতীয় ও তৃতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে তার মরদেহ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে বাদ আসর জেলা ঈদগাহ ময়দানে জানাজা শেষে সদর উপজেলার সোহাতা গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে লুৎফুল হাই সাচ্চুকে দাফন করা হবে। তার মৃত্যুর খবর শুনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ, চিফ হুইপ উপাধাক্ষ্য আব্দুস শহীদ, আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম গুলশানে সাচ্চুর বাস ভবনে ছুটে যান।
এদিকে লুৎফুল হাই এর মৃত্যুতে জাতীয় সংসদে স্পিকার আবদুল হামিদ ও ডেপুটি স্পিকার শওকত আলী গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। বিকেলে ই-বার্তায় প্রেরিত পৃথক শোক বার্তায় তারা বলেন, লুৎফুল হাই এর মৃত্যুতে দেশ একজন বরেণ্য রাজনীতিবিদ ও মুক্তিযোদ্ধা হারালো। তার মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে যে শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে তা পূরণ হবার নয়। দেশে সংসদীয় গণতন্ত্রের বিকাশ ও বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তার অবদান দেশবাসী শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোক-সন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন।
আমাদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি জানান, সাচ্চুর মৃত্যুর খবর এলাকায় পৌঁছলে শোকের ছায়া নেমে আসে। সর্বস্তরের শোকাহত মানুষ ভিড় করেন তার মৌলভীপাড়াস্থ বায়তুল আমান বাসভবনে। আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। তার মৃত্যুতে পৌর মেয়র ও বিএনপি সিনিয়র সহসভাপতি হাফিজুর রহমান মোল্লা কচিসহ দলের নেতাকর্মীরাও সাচ্চুর বাসভবনে ছুটে যান।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয় ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ড কার্যালয়ে কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে। কালোব্যাজ ধারন করেছেন সর্বস্তরের মানুষ। আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠন ৩ দিনের শোক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
লুৎফুল হাই সাচ্চু ১৯৪০ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম আব্দুল হাই। মায়ের নাম রাশেদা খাতুন। ৫ ভাই ৫ বোনের মধ্যে তিনি তৃতীয়। লুৎফুল হাই সাচ্চু ১৯৭০ সালে গণ পরিষদ সদস্য এবং ২০০৮ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এছাড়া মহান মুক্তিযুদ্ধে অনবদ্য ভূমিকা রাখেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ২৬ মার্চ তিনিই প্রথম কারফিউ ভঙ্গের নির্দেশ প্রচার করেন। আইয়ুব বিরোধী ছাত্র আন্দোলন, ছয় দফা আন্দোলন একাত্তরের স্বাধীনতাসংগ্রাম, এরশাদ বিরোধী আন্দোলনসহ বিভিন্ন আন্দোলনে এ মুক্তিযোদ্ধার ভূমিকা ছিল অতুলনীয়। সাধারণ মানুষের কাছে তিনি নির্লোভ, ত্যাগী, আদর্শবান রাজনীতিবিদ হিসেবেই পরিচিত। রাজনীতিবিদ লুৎফুল হাই সাচ্চু মহান মুক্তিযুদ্ধে ২ ও ৩ নং সেক্টরের গেরিলা উপদেষ্টা ছিলেন।
২২ বছর বয়সে তিনি ছাত্র রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হন। ১৯৫২ সালে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সদস্যপদ লাভ করেন। ১৯৫৭ সালে বাবার চাকরির সুবাদে তিনি মাগুড়ায় যান। সেখানে থাকাবস্থায় মাগুড়া কলেজের এজিএস পদে নির্বাচিত হন।
১৯৫৮ সালে আইয়ুব বিরোধী মার্শাল ’ল ভাঙ্গতে গিয়ে ঢাকা কলেজ থেকে বহিষ্কার হন। ১৯৬০-৬২সালে আইয়ুব বিরোধী শিক্ষা আন্দোলনের তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন তিনি। আইয়ুব বিরোধী আন্দোলনে তার বিরুদ্ধে ৩টি মামলা হয়। ওই সময় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের ইলেকশন কমিটির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তিনি।
১৯৬৮ সালে ঢাকা কোর্টে আইন পেশায় নিজেকে যুক্ত করেন। ১৯৭৬ সালে সুপ্রিম কোর্টের সদস্য নির্বাচিত হন। এর আগে ১৯৭০ সালে প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে তিনি পূর্বাঞ্চলীয় মুক্তিযুদ্ধের যানবাহনের কো-অর্ডিনেটর ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের পর দেশ পুণর্গঠনে আত্মনিয়োগ করেন।
১৯৭২ সালে তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হন। ২০০৩ সাল পর্যন্ত টানা ৩১ বছর এ পদে আসীন ছিলেন। ২০০৩ সালে তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে নির্বাচিত হন। আমৃত্যু তিনি এ পদে ছিলেন।
(শীর্ষ নিউজ ডটকম/ এসইউ/ এআই/ ১৬.৫০ঘ)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



