আমি বরিশালের ছেলে। যতই ইট-কাঠের এই শহরে থাকিনা কেন, গা থেকে 'বরিশাইল্যা' গন্ধটা যায়নি। আর তাই, এখনো আমি বিশাল নদীর সামনে বসে উদাস হয়ে যাই, বুকের মাঝে একটা শূণ্যতা তৈরী হয়। ইচ্ছে হয় ঝাপিয়ে পড়ি। স্বচ্ছ দিঘীর টলমল জল আমাকে পাগল করে দেয়। নিজের মাঝেই নিজের ছেলেবেলা জেগে উঠে। পুকুরে হাবুডুবু খেয়ে, জল ঘোলা করে গোসল..... উফ, আই মিস ইট।
খুব ছোটবেলার একটা স্মৃতি হঠাত্ মনে পরল। বাড়ির পাশের ছোটনদী দুই ভাই সাতরে পাড়ি দিলাম। তখনো জোয়ার-ভাটার খেলা জানিনা, ভাটার সময় যে নদী সহজেই পাড়ি দিলাম, জোয়ার ঠেলেতো আর ফিরতে পারিনা। ছোটভাই কান্না শুরু করল আর আমি? বহু কষ্টে ভাইকে নিয়ে নদী পাড় হয়ে ঘরে ফিরলাম।
বাড়ির পাশের সেই ছোট নদীটা এখন আরো ছোট হয়ে গেছে। এখন আর সাতরে পাড়ি দেয়া লাগেনা, হেটেই পাড় হওয়া যায়। নদীর উপর এখন একটা সেতুও হয়েছে। তবু আমার ছোট বেলার সেই স্রোতস্বিনীকে আমি আর খুজে পাইনা।
নদীগুলো জীর্ণ হয়ে যাচ্ছে, শুকিয়ে যাচ্ছে। আমিও...... ।
আমি একটা স্বপ্ন দেখি; একটা বিশাল নদীবক্ষে ভেসেচলা নৌকার গলুইয়ে আমি শুয়ে আছি।ভোরবেলার রাংগা সূর্য পানির আড়াল থেকে জেগে উঠে আমাকে রাংগিয়ে দিচ্ছে, হু হু বাতাস ছুয়ে দিচ্ছে আমায়। আর আমি আরামে চোখ মুদে আছি। সত্যিই স্বপ্ন বটে....।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



