সন্ধ্যার আঁধারে আমি যদি হারিয়ে যাই বন্ধু, আমাকে মনে রেখো তোমার ঘরের ধূপ-আগরের সুবাসে- তোমার ঘরের প্রদীপের আলোয়, আমাকে ফেলে দিও না বাসি ফুলের মত। মনের ঘরেই রেখো বন্ধু পথের ধারের ফুলটি ভেবে। আমি যে জলসাঘরে ...www.jolsaghor.com/author/sharmabangla

সিলেটের কথা- সিলেট সম্পর্কে ঐতিহাসিক গুণীজনের কিছু বাণী
১৫ ই মে, ২০০৯ বিকাল ৫:৫৭
বাংলাদেশের ছয়টি বিভাগের একটি হচ্ছে সিলেট। পূর্বে সিলেট চট্টগ্রাম বিভাগের অন্তর্গত ছিল। সিলেট বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব দিকে অবস্থিত পাহাড়ী, সমতল ও হাওর ঘেরা এক অঞ্চল।
সিলেট একটি প্রাচীন জনপদ। প্রাচীনকালে সিলেট বিভিন্ন খন্ডরাজ্যে বিভক্ত ছিল। বাংলাদেশের বিশাল অংশ যখন সাগরের গর্ভে বিলীন, সিলেট তখন ও ছিল সভ্য সমাজ। সিলেটের ভাটি এলাকা এক সময় ছিল সমুদ্র। কিন্তু উচুঁ ও পার্বত্য এলাকায় ছিল জনবসতি। ঠিক কোন সময়ে জনবসতির সূচনা হয় তা নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। ঐতিহাসিক যুগ শুরু হয়েছে খৃষ্টপূর্ব পাঁচ হাজার অব্দে। ইতিহাস বিজ্ঞানীরা ঐতিহাসিক যুগকে প্রাচীন মধ্য ও আধুনিক যুগে ভাগ করেছেন। ইতিহাসের প্রাচীন যুগ থেকে সিলেট জনবসতি শুরুর হদিস পাওয়া যায়। প্রাচীন যুগের ইতিহাসের অবলম্বন প্রায় সর্বত্রই পৌরাণিক গ্রন্থাদি, কিংবদন্তী, তন্দ্রমন্ত্র শিলালিপি প্রভৃতি। এসব উৎস হতে দেখা যায় খৃষ্টপূর্ব চার হাজার অব্দে ও সিলেটে উন্নত সমাজ ছিল। প্রাচীনকালেও সিলেট বিভিন্ন খন্ডরাজ্যে চিহ্নিত ছিল। এর আয়তন ও সীমা বারবার বদল হয়েছে। সিলেট অভিহিত হয়েছে বিভিন্ন নামে।
বিভিন্ন গুণীজন সিলেট সম্পর্কে বাণী দিয়ে গেছেন। নিম্নে কয়েকটি বাণী দেওয়া হলঃ
চীন দেশীয় পর্যটক হিউয়েন সাং বলেছেন, “শ্রীহট্ট একটা প্রাচীন ও গৌরবশবলী দেশ”।
বিশ্ব বিখ্যাত পরিব্রাজক ইবনে বতুতা বলেছেন, “শ্রীহট্ট পরিক্রমা না হওয়া পর্যন্ত আমার ভারত পরিক্রমা শেষ হলো বলে আমি মনে করি না”।
মৈথিলী পন্ডিতবৃন্দের মতানুসারে, “শ্রীহট্ট হলো পূর্ব মিথিলা”।
মহাভারত রচয়িতা ব্যাসদেবের ভাষায়, “আমার পরমারাধা প্রপিতামহী সতী অরুন্ধতী শ্রীভূমির কন্যা ছিলেন”।
ডক্টর সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণনের ভাষায়, “শ্রীহট্ট হলো দার্শনিকদের জন্মভূমি”।
বাংলার ঞ্জানতাপস সুরেশ চন্দ্র সমাজপতির অভিমত, “যখন আমাদের সমগ্র বঙ্গদেশ সমুদ্রগর্ভ বিলিন ছিল, তখন শ্রীহট্টে আর্য জাতির বিজয় বৈজয়ন্তী উড়েছিল”।
পন্ডিত জহর লাল নেহেরু বলেন, “লিখিত ও পঠিত ভাষার দিক দিয়ে শ্রীহট্টিয়ার বাঙ্গালী, কিন্তু সমাজগত, কৃষ্টিগত, সংস্কৃতিগত, এমনকি দৈহিক গঠন গাঠনে তারা সম্পূর্ণরুপে মৈথিলী”।
সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্রোপাধ্যায় বলেছেন, “আমাদের বঙ্গদেশ খৃষ্টিয় সপ্তদশ শতাব্দী পর্যন্ত ব্রাক্ষণশূন্য অনার্যভূমি ছিল। কিন্তু আমাদের পার্শ্ববর্তী শ্রীহট্টাদি অঞ্চলে সুপ্রাচীনকাল থেকে (সত্যযুগ থেকে) ব্রাক্ষণ বসতি ছিল বলে সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে”।
ডক্টর দীনেশ চন্দ্র সেন বলেন, “আমাদের বঙ্গদেশের সাংস্কৃতিক কেন্দ্রভূমি নবদ্ধীপের যে চারটি প্রধান গৌরব, তা শ্রীহট্টিয়া ব্রাক্ষণদের মনীষা প্রসূত”।
প্রখ্যাত প্রত্নতাত্ত্বিক ও বৈষ্ণব সাহিত্যিক অচ্যুতচরণ তত্ত্বনিধির (১৮৬৫-১৯৫৩)ভাষায় “শ্রীহট্ট হলো পৃথিবীর এক ক্ষুদ্র সংস্করণ”।
পল্লী কবি জসিম উদ্দিনের ভাষায়, “সিলেট একটি কবিত্বময় পরিবেশের আদি নিবাস, এখানে বাস করে কবি না হয়ে পারা যায় না”।
পাকিস্তানের মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ১৯৪৬ সালে সিলেট সফর এসে বলেছিলৈন, “ইচ্ছে হয় তোমাদের এই সবুজ সুন্দর পরিবেশে আমি ও একটি বাড়ি নির্মাণ করি”।
১৯৪৬ সালে পন্ডিত জওহর লাল নেহেরু বলেছেন, “সিলেট ইজ বেঙ্গল বাট উইথ এ ডিফারেন্স”।
১৯৮৬ সালে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি বলেছেন, “সিলেট বাংলাদেশের আধ্যাতিক রাজধানী”।
*তথ্যসুত্রঃ সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ওয়েবসাইট অবলম্বনে
বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
শাহনাজ সুলতানা বলেছেন:
আপনার এইপোষ্টটি ভালো লেগেছে। অনেক কিছু জানতে পারলাম। ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
ইমন জুবায়ের বলেছেন:
চমৎকার। ভালো লাগল। ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: শুভেচ্ছা রইলো।
লেখক বলেছেন: ভুলাও যাবে না। মনে গেঁথে রয়।
সািদক বলেছেন:
এরকম আরো পোষ্ট নিয়মিত করেন।
লেখক বলেছেন: হ্যাঁ- সিলেট নিয়ে আরও কয়েকটা পোস্ট দেব।
বিপ্লব কান্তি বলেছেন:
সিলেট ইজ বেঙ্গল বাট উইথ এ ডিফারেন্স”। সিলেটের মানুষের সাথে বাংলাদেশের অন্যান্য অঞ্চলের মানুষের অনেক পার্থক্য লক্ষ করা যায়। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে এগুলো বিলিন হতে চলছে।
লেখক বলেছেন: কথা সত্য।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
শয়তান বলেছেন:
এ অন্চলের না একটা আলাদা ভাষা রয়েছে ?
লেখক বলেছেন: ভাষা তো রয়েছেই যাকে সিলেটের আঞ্চলিক ভাষা বলা হয়। আলাদা বর্ণমালাও ছিল যাকে নাগরী লিপি বলা হয়।
নীল-দর্পণ বলেছেন:
অল্প সময়ের জন্য গিয়েছিলাম তাতেই প্রেমে পরে গেছি। সিলেটে একটা বাড়ী করে থাকতে চাই
লেখক বলেছেন: শুনে ভাল লাগলো।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে।
বন্ধন বলেছেন:
চমৎকার রচনাটির জন্য ধন্যবাদ । ইচ্ছে আছে কোনোদিন সিলেট ঘুরতে যাওয়ার ।
লেখক বলেছেন: নিমন্ত্রণ রইলো।
একাকী বালক বলেছেন:
বাংলাদেশের যেকোন প্রান্তের লোকজনই তার নিজের জেলা লুকাতে পারে। কিন্তু কেন যেন সিলেটের লোকজনই পারে না। “সিলেট ইজ বেঙ্গল বাট উইথ এ ডিফারেন্স”।লেখক বলেছেন: ![]()
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
জলপাই দেশি বলেছেন:
চমৎকার। সিলেটের লোক হিসেবে গর্ববোধ করছি। ভাল থাকুন।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
কালো রঙের পাকা চুল বলেছেন:
অনেক কিছু জানলাম।
লেখক বলেছেন: ![]()
এস,আহমেদ বলেছেন:
ধন্যবাদ।অনেক অজানা তথ্য জানতে পারলাম!
"সিলেট ইজ বেঙ্গল বাট উইথ এ ডিফারেন্স"।
ভাল থাকুন।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। ভাল থাকুন।
রোকসানা সুলতানা বলেছেন:
চমৎকার কবিগুরুর কবিতাটিও উল্লেখ করা যায়
মমতা বিহীন কালো স্রোতে
বাংলার রাষ্টসীমা হতে
নির্বাসিতা তুমি
সুন্দরী শ্রীভূমি
ভারতী আপন পূণ্য হাতে.........
লেখক বলেছেন: কবিগুরুর কবিতাটি শেয়ারের জন্য ধন্যবাদ আপনাকে।শুভেচ্ছা।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। ভাল থাকুন সবসময়।
নাজির বলেছেন:
চমৎকার পোষ্টটি অনেক দেরীতে চোখে পড়ল। অনেক ধন্যবাদ তথ্যবহুল পোষ্টের জন্য।
লেখক বলেছেন: শুভেচ্ছা।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...



















