সন্ধ্যার আঁধারে আমি যদি হারিয়ে যাই বন্ধু, আমাকে মনে রেখো তোমার ঘরের ধূপ-আগরের সুবাসে- তোমার ঘরের প্রদীপের আলোয়, আমাকে ফেলে দিও না বাসি ফুলের মত। মনের ঘরেই রেখো বন্ধু পথের ধারের ফুলটি ভেবে। আমি যে জলসাঘরে ...www.jolsaghor.com/author/sharmabangla

কর্ণফুলীর কান্না (আদিবাসীদের উপর বাঙ্গালীদের শোষণ)

১৩ ই জুন, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:৫২

শেয়ারঃ
0 1 0

শোষণের নাগ পাশে বন্দী থাকার যাতনা বাঙ্গালী ছাড়া আর কে বুঝবে? পরাধীনতার ভয়াবহ দূর্ভোগ বাঙ্গালী ছাড়া আর কে অনুভব করবে? ইংরেজদের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার আন্দোলন করে আসলো প্যায়ারা পাকিস্তান। প্যায়ারা পাকিস্তানের প্যায়ারা পাকিস্তানিদের ভালবাসা দুই দিনেই উতলে উঠেছিল। ভাষার জন্য লড়তে হল। অধিকারের জন্য লড়তে হল। রক্তের সাগর বয়ে গেল। ইজ্জতের বলিদান যজ্ঞের যূপকাষ্ঠে নারীরা তাদের সম্ভ্রমের আহুতি দিয়ে গেল। আজ ব্রিটিশ শাসন নেই। নেই পাকিস্তানী শোষণ। আজ আমরা স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে বাস করি। আজ আমাদের পরিচয় শুধু বাঙ্গালী হিসেবে নয়- আমাদের জাতীয়তা আজ বাংলাদেশী। অধিকার আদায়ে এত বলিদান, শোষণের বিরুদ্ধে এত আন্দোলন- সবই তো আমাদের ইতিহাসে লেখা হয়ে আছে। এই ইতিহাসগুলো কি কখনও ভুলে যাওয়া যায়?

কিন্তু বাস্তবতা বলে ভিন্ন কথা। আমরা আমাদের জাতীয় জীবনে সত্যিই ভুলে গেছি সেসব ইতিহাস। ঠিক যেন- দিন গেলে আর দিনের কথা কে মনে রাখে। আজকের এই লেখা আমাদের স্বাধীনতা আর দেশের কুলাঙ্গার-রাজাকারদের নিয়ে নয়। এই লেখা আমাদের হাতেই ঘটে যাওয়া শোষণ নিয়ে। আমাদের জাতীয় জীবনে, রাজনৈতিক পটভূমিতে আমেরিকার দাদাগিরির কথা উঠে আসে, উঠে আসে ভারতের দাদাগিরির কথা। কিন্তু সুযোগ পেলে আমরা নিজেরাও সেই দাদাগিরি করতে পিছপা হইনা। তাই স্বার্থান্বেষী আমেরিকা আর ভারত থেকে আমরা আলাদা নই। আমরা পৃথক হয়ে আছি সময়ের কারণে, ক্ষমতার অভাবে। আমাদের সামান্য ক্ষমতার পরিসরে আমাদের হাতে ঘটে যাওয়া শোষণ প্রমান করে আমেরিকার মত ক্ষমতা থাকলে আমেরিকার মত আচরণ আমরা নিজেরাই করতাম।

ভারতের পানি নীতির কথা নিয়ে বললে প্রথমেই আসে ফারাক্কার কথা। সাম্প্রতিক সময়ে আসে টিপাইমুখের কথা। ফারাক্কার কারণে আমরা কত যে ভুক্তভোগী হয়েছি তা তো আমাদের সকলের জানা। টিপাইমুখের কারণে আর কি কি সমস্যায় ভুক্তভোগী হতে হবে তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মুখর আলোচনায় আমরাও যুক্ত হয়ে দু’একটি পাণ্ডিত্যের কথা বলে আসি। কিন্তু কাপ্তাই হ্রদের কারণে মানুষের কান্নার কথা কয়জন জানেন। প্রায় ৪৮-৪৯ বছর হয়ে গেছে তবুও কি কেউ সেই দূর্ভোগের কাহিনী শুনেছেন? যারা ভুক্তভোগী তাদের দূর্ভোগ কমাতে কি কেউ সচেষ্ট হয়েছেন?উত্তর একটাই- না।

কাপ্তাই হ্রদের কারণে পাহাড়ী জনগোষ্ঠীকে হতে হয়েছে গৃহহারা। হারাতে হয়েছে নিজের সহায় সম্বল। রাতারাতি বদলে গেছে জীবন। সুখের জীবনে গ্রাস করেছে অনন্ত দুঃখের গ্রাস। সেই দুঃখ আজও শেষ হয়নি বরঞ্চ সময়ে সময়ে রূপ বদলে আরও দুঃখের ঢালি নিয়ে এসেছে। আমাদের ঘরে বিদ্যুতের আলো জ্বলে আর ওদের বুক ব্যথায় জ্বলে,ক্ষুদার জ্বালায় পেট জ্বলে। এমনকি এত বলিদানের পরেও সেই বিদ্যুতের সুবিধা ওদের অনেকেই পায়নি। অনেকেই বলবেন- এই প্রকল্প তো পাকিস্তান আমলে হয়েছিল, আমরা তো কিছু করিনি। কথা ঠিক- কিন্তু আমরা তো সেই সুবিধা ভোগ করে যাচ্ছি। আমরা কি পারি না আমাদের সুখের তরে যারা নিজের সুখ বিলিয়ে দিল তাদের সুখের তরে কিছু করে যেতে? ইতিহাস বদলে গেছে, পতাকা বদলে গেছে, মানচিত্র বদলে গেছে কিন্তু আজও তাদের দুঃখ দুঃখ গাঁথাই হয়ে আছে। এত গেল কাপ্তাই হ্রদের কথা। আসুন- আমাদের বাঙ্গালীরাও যে শোষণে সিদ্ধহস্ত তার কিছু উদাহরণ পেশ করি।

আমরা বাঙ্গালী জাতি- বাংলাদেশের সংখ্যাগুরু এক জাতি। কিন্তু বাংলাদেশে তো আরও অনেক জাতি রয়েছে। ওরা বাঙ্গালী না হতে পারে কিন্তু ওরাও তো বাংলাদেশী। আমরাও বাংলাদেশী, ওরাও বাংলাদেশী- তাহলে পার্থক্য কোথায়? লেখার ভাষায় কোন পার্থক্য নেই- অথবা নেতা-নেত্রীদের মিথ্যা ভাষণেও কোন পার্থক্য পাবেন না। সংবিধানেও লেখা আছে রাষ্ট্র বিজ্ঞানের ভাষায় রাজনৈতিক অধিকারের নিশ্চয়তা। দেখার বিষয় বাস্তবে কি হচ্ছে? আদিবাসী বাংলাদেশীরা বাস্তবে বাঙ্গালী বাংলাদেশীদের মত সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে না। বরঞ্চ বাঙ্গালী বাংলাদেশীদের ক্ষমতার দাপটে জর্জরিত। আদিবাসীদের জায়গা-জমি সরকারী মদদে দখল করে নেওয়া হয়েছে। সেখানে বাঙ্গালী বাংলাদেশী সেনাবাহিনী নিরপেক্ষ না থেকে বলতে গেলে স্বজাতির পক্ষই অবলম্বন করেছে। ঠিক পাকিস্তানীরা যেমন আমাদের মেয়েদের ধর্ষণ করেছে আমরাও আদিবাসী মেয়েদের ধর্ষণ করেছি। পাহাড়ীরা আন্দোলন করলো- শান্তি বাহিনী বানালো- সংঘর্ষ হলো, পাহাড়ী-বাঙ্গালী মারা গেল- শান্তি চুক্তি হলো। বস- এই পর্যন্তই, কতটুকু বাস্তবায়ন হয়েছে তা এত দূর থেকে আমি দেখছি না, দেশের অন্যপ্রান্তের নাগরিকরা দেখছেন না। শুধু আদিবাসীরাই জানে- শান্তি চুক্তি কতটুকু শান্তি নিয়ে এসেছে।

আমরা ভাষার জন্য লড়েছি। রক্ত দিয়েছি। মাতৃভাষার মূল্য আমাদের থেকে কে আর বেশি জানবে? কিন্তু সেই আমাদের হাতেই আদিবাসীদের মাতৃভাষাগুলো দিন দিন মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তাহলে আমাদের সাথে ঐ হারামী পাকিস্তানিদের পার্থক্য কোথায়?আদিবাসীদের তাদের মাতৃভাষায় লেখা-পড়ার অধিকার দেওয়া আসলেই কি কোন কঠিন কাজ? সেখানে কি এত খরচ হয়ে যেত যে বাংলাদেশ সরকার তা বহন করতে পারত না? সরকার চাইলে প্রাথমিক পর্যায়ের সরকারী বিদ্যালয়ে আদিবাসীদের তাদের মাতৃভাষায় লেখা-পড়ার সুযোগ করে দিতে পারে। অন্তত ঐচ্ছিক বিষয় হিসেবে কিছু বিষয় অন্তর্ভুক্ত করতে পারে। দেশের যে যে অঞ্চলে যে যে আদিবাসী রয়েছে- তাদের অবস্থানের পার্শ্ববর্তী বিদ্যালয়ে এ ধরণের সুযোগ চালু করা যেতে পারে। দুঃখের বিষয়- এসব ছোটখাট বিষয়েও আমাদের একের পর এক সরকার ব্যর্থ।

আমাদের এহেন কর্মকাণ্ডে একজন বাঙ্গালী হিসেবে আমি লজ্জিত। আমি লজ্জিত যে- আমাদের পূর্বপুরুষরা স্বাধীনতার জন্য লড়েছেন আর আমরা অধীনস্থ কিছু ক্ষুদ্র জাতিকে পরাধীন করে রাখি যদিও সংবিধানমতে আমরা সবাই বাংলাদেশী। আমি লজ্জিত যে- আমরা শাসনের নামে শোষণ করছি। আমি লজ্জিত যে- ইতিহাসের পাতায় আমাদের অন্ধকারের দিনগুলোর কথা লিখা থাকলেও আমরা সেই অন্ধকারের দিকে কাউকে ঠেলে দিচ্ছি। আমি লজ্জিত এই কারণে- আমাদের পূর্বপুরুষ মাতৃভাষা বাংলার জন্য শহীদ হয়েছেন অথচ আমাদের হাতেই মৃত্যু হচ্ছে- অবমাননা হচ্ছে কিছু মাতৃভাষার।

উপরের অনেক কথাই অনেকে বুঝতে পারবেন না হয়তো কারণ আমি পটভূমি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করিনি। তাই নিচে তানভীর মোকাম্মলের তৈরি একটি ডক্যুমেন্টারি যুক্ত করে দিলাম। আমার এক বন্ধুর কাছে শুনেছি- বাংলাদেশের কোন এক সরকার নাকি এই ডক্যুমেন্টারিকে নিষিদ্ধ করেছিল বাংলাদেশে। ভাবতে হাসি পায়- আমাদের দেশের সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে কর্মরত কর্মকর্তারা এত বোকা কেন? কোন কিছু নিষদ্ধ করা মানে এটা মেনে নেওয়া যে ঐ কোন কিছু আমার জন্য ক্ষতিকর। তাহলে প্রশ্ন- সরকার যদি এই ডক্যুমেন্টারি নিষদ্ধ করে থাকে তাহলে নিষেধাজ্ঞার দ্বারা সরকার কি বুঝাতে চেয়েছে? সরকার কি নিজের ব্যর্থতাকেই প্রমান করেনি?






 

সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই জুন, ২০০৯ রাত ১০:৪১ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৮:০৫

লেখক বলেছেন: বলেই বা কী হবে। শুনার তো কেউ নেই।

২. ১৩ ই জুন, ২০০৯ রাত ৮:৪২
ঘোর বলেছেন: রাষ্ট্রব্যবস্থাই এর জন্য দায়ী। আদিবাসী ইসুতে রাষ্ট্রের যে পলিসি দেখছেন... তাও ব্রিটিশ ঔরসজাত। অস্ট্রেলিয়া বা কানাডায় ওরা যা করেছে, আমাদের দিয়ে তাই করিয়ে নিচ্ছে। আবার প্রতিবাদের জন্য ফান্ডও দিচ্ছে। গোলমেলে, জটিল অংক এটা... মাথায় ঢোকে না।
১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৮:০৬

লেখক বলেছেন: বিশ্বরাজনীতি আমারও মাথায় ধরে না তবে আমাদের আভ্যন্তরীন বিষয় আমরা চাইলে সহজেই সমাধান করতে পারি।

৩. ১৩ ই জুন, ২০০৯ রাত ৯:৩৬
আইরিন সুলতানা বলেছেন: তথ্যবহুল পোস্ট এবং আবেগে পরিপূর্ণ..

নদী মাতৃক দেশে নদীগুলো যেন শুধু নামেই ...!!!
১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৮:০৮

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ মহতরমা।

৪. ১৩ ই জুন, ২০০৯ রাত ৯:৫১
আলী আরাফাত শান্ত বলেছেন: পোস্টটা প্রিয়তে রাখলাম!
ডকুমেন্টারিটা দেখবো সময় করে
ধন্যবাদ!
১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৮:০৯

লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।

৫. ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:০৩
হাসান শহীদ ফেরদৌস বলেছেন: আদিবাসীদের উপর বাঙ্গালী আধিপত্যবাদের উপর তথ্যবহুল ডকুমেন্ট পাওয়া বেশ দুস্কর। আর এ নিয়ে কথা বলতে গেলে ভিন্নভাবে চিহ্নিত করে অনেকে। কিন্তু অসম্পূর্ন তথ্য থেকেই এটা বলা যায় জাতি হিসেবে এ ক্ষেত্রে আমাদের অবস্থান লজ্জ্বাজনক।
১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৮:১০

লেখক বলেছেন: সত্যিই আমাদের অবস্থা লজ্জাজনক। কারণ আমরা নিজেরাই অত্যাচারীদের কাছ থেকে মুক্ত হয়ে আবার নিজেরাই অত্যাচারী হয়েছি।

 

মোট সময় লেগেছে ০.৯৭৪২ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
ক্ষেত্রঃ তড়িৎ-তাড়িৎ-যান্ত্রিক এবং নবায়ন শক্তি ও সবুজ প্রকৌশল
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ