সন্ধ্যার আঁধারে আমি যদি হারিয়ে যাই বন্ধু, আমাকে মনে রেখো তোমার ঘরের ধূপ-আগরের সুবাসে- তোমার ঘরের প্রদীপের আলোয়, আমাকে ফেলে দিও না বাসি ফুলের মত। মনের ঘরেই রেখো বন্ধু পথের ধারের ফুলটি ভেবে। আমি যে জলসাঘরে ...www.jolsaghor.com/author/sharmabangla

গ্রেট ওয়াইল্ডলাইফ মোমেন্টস

১৯ শে নভেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:১৬

শেয়ারঃ
0 0


ছায়াছবি, গান অনেক দেখেছি। এখন আর ভাল লাগে না। ইংরেজী ছবি চারপাশটা বন্ধুদের কাছ থেকে নিয়ে আসি। দেখব দেখব করে দেখা হয় না। পরে মুছে দেই। নতুন হিন্দি ছায়াছবিও কয়েকটা পড়ে আছে। সংরক্ষণ করে রাখা দেবদাস ছবির প্রিয় কিছু দৃশ্য দেখি- আর বাকিগুলো দেখা হয় না। মুড নেই। ইদানিং প্রামান্যচিত্র(ডকিউমেনট্যারি) দেখতে খুব ভাল লাগে। বেশ কিছুদিন আগে দেখলাম মাইকেল উডের “স্টোরি অব ইন্ডিয়া”। বিবিসি’র জন্য নির্মিত এই প্রামান্যচিত্রতে মাইকেল উড বিভিন্ন দিক তুলে ধরলেন হাজার বছরের ইতিহাসের। ভাল লাগলো দেখতে- চিত্রায়ন, বর্ণনা- এককথায় অসাধারণ ছিল। চার দশমিক সাত জিবি’র বিশাল প্রামান্যচিত্র কয়েকদিনে দেখেছিলাম। এরপরে আফগানিস্তানের প্রত্নতত্ত্ব নিয়ে আরেকটি প্রামান্যচিত্র দেখলাম। কিছু নিবেদিত প্রাণ কর্মীরা কিভাবে তালেবান সরকারের কাছ থেকে বিভিন্ন প্রাচীন চিত্র, সংরক্ষণ করে রাখা সিডি রক্ষা করেছিল, কিভাবে বিভিন্ন জায়গায় খনন কাজ চলছে এসব দেখলাম। বুদ্ধদেবের বড় মূর্তি ধ্বংসের পর এখন তৃতীয় আরেকটি মূর্তি- “শায়িত বুদ্ধ”-এর খুঁজে খনন কাজ চলছে। কয়েকদিন আগে ওয়াল্ড লাইফের উপর একটি প্রামান্যচিত্র দেখলাম- “গ্রেট ওয়াইল্ড লাইফ মোমেন্টস”। অভূতপূর্ব কিছু বন্যপ্রাণীর জীবনচিত্র দেখলাম; দেখলাম কিছু দুর্লভ দৃশ্য। বেশ কিছু বিচিত্র ঘটনা নিয়ে নির্মিত এটি- ইন্ট্রডিসড বাই ড্যাভিড এটেনবরাগ।

প্রামান্যচিত্রটি শুরু হয় ১৯৯০ সালে ধারণকৃত- সী লায়নদের উপর নির্মিত কিছু দৃশ্য দিয়ে- ‘দ্যা ট্রায়ালস অব লাইফ- হান্টিং এন্ড এসক্যাপিং’। সাউথ আমেরিকার সমুদ্রতটে ধারণকৃত চিত্রে দেখা গেল সী লায়নরা কিভাবে তিমির মুখের খাবার হয়ে যায়। সমুদরতটকে নিরাপদ মনে হলেও তিমির হাত থেকে রেহাই পায় না তারা। কিছু কিছু চ্যানেলে তিমিরা তটের নিকটবর্তী যেতে পারে। তারপরে প্রবল বেগে এসে আক্রমন করে। তিমিরাও বেশ কৌশলে শিকার করে। এক দৃশ্যে দেখা গেল- দলভেদে তিমিরা তাড়া করে, পরে আরেকটি এসে মুখের গ্রাস বানিয়ে নেয়। তটের উপরে শুকনা জায়গায় বসে থাকা নিরাপদ মনে হলেও- নিরাপদ নয়। ক্ষুদার্থ তিমিরা প্রবল বেগে অনেকখানি তটের উপরে উঠে যায়। যেহেতু পানি নেমে যায় তাই তাদের নামতে অসুবিধা হয়। তখন তারা শরীর দিয়ে ধাক্কা দিয়ে দিয়ে পানিতে নেমে যায়। অন্য কোথাও তিমিদের ক্ষেত্রে এমন দেখা যায় না। এখানে প্রয়োজনই তাদেরকে এই কৌশল শিখিয়ে দিয়েছে। এরকম নাটকীয় দৃশ্যের দৃশ্যায়ন সহজ কথা নয়। অনেক ঝুঁকি নিতে হয়। একজন ক্যামেরা ম্যান পানির নিচের দৃশ্য ধারণ করেন- অন্যজন উপরের দৃশ্য। আর তিমির আক্রমনের দৃশ্য ধারণও অনেক ঝুঁকিপূর্ণ। এই ক্যামেরাম্যানের ভরসা ছিল যে তিমি তাকে যখন দেখবে তিনি সী লায়ন নন তখন আর আক্রমন করবে না। এমনটি হয়েছিল- একটি তিমি প্রবল বেগে এসেছি কিন্তু থেমে ফিরে যায়।





ব্লু প্ল্যানেট-২০০১ এর জন্য ধারণকৃত দৃশ্য ছিল সা(র)দিন নামক ছোট মাছকে ঘিরে। সাউথ আফ্রিকার সমুদ্রে ধারণকৃত। এই মাছ ঝাঁক বেঁধে চলে। উপর থেকে দেখলে কালো অয়ল’স লেকের মত মনে হয়। তাদের এই ঝাঁক বেঁধে মাইগ্রেশনের পথে বেরিয়ে পড়া তাদের জন্যই কাল হয়ে দাঁড়ায়। কারণ সামনে শিকারী। উপরে কেইপ পাখিরা তাদের অনুসরণ করে। আর ওদিকে হাঙ্গর এবং ডলফিনরাও আছে। হাঙররা আক্রমন শুরু করে। তারা মাছের দলকে তীরের দিকে নিয়ে যায়। ডলফিনরা এলেই শুরু হয় মূল ভুরিভোজ। ডলফিনের কারণে হাঙ্গরদেরও সুবিধা হয়। একসময় ঝাঁকে ঝাঁকে বের হওয়া সা(র)দিন শেষ হয়ে যায়। উপরে অনুসরণ করে আসা পাখিরাও ভেসে উঠা মাছগুলোকে নিজের গ্রাস করে নেয়। মাছগুলোর জীবনের অন্ত ঘটে।





১৯৮৮ সালে ধারণকৃত কাঁকাড়াদের রাজ্য নিয়ে প্রামান্যচিত্রও দেখার মত। নভেম্বরের মনসুন ক্রিসমাস দ্বীপে প্রচুর বৃষ্টি নিয়ে আসে। লাখ লাখ লাল কাঁকাড়া তখন বের হয়ে আসে সারা দ্বীপ জুড়ে। তাদের দেখে মনে হয় তারা জানে যে তারা কোথায় যাচ্ছে। তারা বন থেকে বের হয়ে পার্শ্ববর্তী তটের দিকে যাচ্ছে। এই মাইগ্রেশন তাদের জন্য জরুরী; কারণ তাদের প্রজন্মকে ভূমিতে বেড়ে তুলতে না পেরে তাদের পূর্বজদের আবাস সমুদ্রে তাদের যেতেই হয়। এভাবে প্রতিবছর তারা কয়েক কিলোমিটার পথ পাড়ি দেয়। চলার পথে দূর্ঘটনাও ঘটে। সবাই লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারে না। রেল লাইনের উপর লাখ লাখ কাঁকাড়া ট্রেনের চাপায় মারা যায়। রাস্তায় গাড়ীর নিচে পড়ে মারা যায়। অবশ্য মৃতদেহ কাউকে পরিস্কার করতে হয় না। তারা নিজেরাই খেয়ে ফেলে। এই দ্বীপের মানুষরা কাঁকাড়াদের ইনভেইশন দেখে আশ্চর্য হয় না। তারাও নিজেদের মত করে চলে। এমনকি গলফ মাঠেও বিশেষ নিয়ম আছে যখন কাঁকাড়ারা সেখানেও হাজির হয়।





গভীর সমুদ্রের আরেকটি বিস্ময়কর মাছ হলো ফ্যাংকটুথ মাছ। এদের দাঁত সামুদ্রিক সব প্রাণীদের চেয়ে বড়। এত বড় যে এরা নিজের মুখ বন্ধ করতে পারে না। সমুদ্রের গভীরে যেখানে আলো পৌঁছায় না, চাপ অনেক বেশি- সেখানেই তাদের বসবাস। গভীর সমুদ্রের জেলী ফিশও দেখার মত। শরীর থেকে লাল রঙ্গের আলো, সাথে আরও বিভিন্ন আলো বের হচ্ছিল। দেখে মনে হচ্ছিল বিভিন্ন রঙ্গের ইলেক্ট্রিক বাল্ব জ্বলছে।



লায়ার বার্ড- লম্বা লেজের একটি পাখি। অবাক করা কিছু বৈশিষ্ট্য আছে তার। লম্বা লেজ বিশিষ্ট এ পাখি স্ত্রী পাখিকে আকৃষ্ট করতে বিভিন্ন ধরণের শব্দ করে ডাকে।সে তার আশেপাশের অনেক প্রজাতির কণ্ঠস্বর নকল করতে পারে। এমনকি পাখিদের বাইরে অন্যান্য শব্দও তার আয়ত্ত্বে। যেমন ক্যামেরায় ক্লিক করে ছবি তোলার শব্দ, শব্দ করে ক্যামেরার ঘোরার শব্দ, পুলিশের গাড়ী বা এম্বুলেন্সের মত এলার্ম দেওয়া, গাছ কাটার শব্দ, করাত দিয়ে গাছ কাটার শব্দ। আশ্চর্য এক পাখি।




১৯৯৩ সালে ধারণকৃত ‘লাইফ ইন দ্য ফ্রীজার’ প্রামান্য চিত্রে এম্পারার পেঙ্গুইনের জীবনের কিছু অংশ দেখানো হয়েছিল। সন্তান জন্ম দেওয়ার জন্য পুরুষ পেঙ্গুইনের এত কঠোর সংগ্রাম আর সহিষ্ণুতা আমাকে মুগ্ধ করে তুলল। আশ্চর্য হলাম আর নিজেদের সাথে বিচার করলাম। আমরা মানুষরা এত কষ্ট করতে পারবো না। একদিনের জন্য নয়- দীর্ঘ ১১৫ দিনের উপরে পুরুষ পেঙ্গুইনদের এই সংগ্রাম দেখার মত। এই প্রজাতির পেঙ্গুইন ছাড়া কোন প্রাণীই এত ঠাণ্ডা সহ্য করতে পারে না। মে মাসে যখন অন্যান্য প্রাণীরা ঠাণ্ডার আধিপত্যের কারণে উষ্ণতার খুঁজে উত্তরে চলে যায়- এই পেঙ্গুইনরা দক্ষিণে চলে আসে। এত ঠাণ্ডার মাঝেই তাদের ঐতিহ্যগত আঁতুড়ঘর। প্রামান্যচিত্রে দেখা গেল প্রায় ২৫ হাজারের মত পেঙ্গুইন কলোনি গড়েছে। এরাই একমাত্র পাখি যারা সরাসরি বরফের উপরে ডিম পাড়ে। ডিম পাড়ার পরপরই স্ত্রী পাখির কাছ থেকে পুরুষ পাখিটি নিজের কাছে ডিম নিয়ে নেয় তাড়াতাড়ি করে যাতে ডিম ঠাণ্ডা না হয়। তারপরে বিশেষভাবে তার পেটের নিচে চামড়ার ভাঁজে ডুকিয়ে দেয় যাতে এত ঠাণ্ডার মাঝেও তা ৮০ ডিগ্রী সেঃ তাপমাত্রায় থাকে। ডিম পাড়ার পরপরই তা যখন পুরুষ পাখির কাছে নিরাপদে গচ্ছিত হয়; স্ত্রী পাখিরা সেখান থেকে চলে যায় দক্ষিণের সাগরে। আর পেছনে রেখে যায় তাদের সঙ্গীকে পৃথিবীর সবচেয়ে শীতলতম এবং কঠিনতম সময় অতিবাহিত করতে। তাপমাত্রা ৭০ এর নিচে- শুরু হয় প্রবল ঝড়। পুরুষ পেঙ্গুইনরা একসাথে জটলা বাধে তাপমাত্রা ধরে রাখতে। তবে এখানেও তাদের নিয়ম-শৃঙ্খলা মানুষ হিসেবে আমাকেও লজ্জায় ফেলে দিল। যারা সব চেয়ে বাইরে থাকে তারা তো বেশি ঠাণ্ডা সহ্য করে। তাই সবাই যাতে সমানভাবে সবকিছু সহ্য করে তারা স্থান পরিবর্তন করে। কোন ঝগড়া নেই, কোন পিছুটান নেই- তারা কি মানুষের চেয়ে শ্রেষ্ঠ নয় এখানে?????? এই এত ঠাণ্ডা সহ্য করা কোন প্রজাতির পুরুষ পেঙ্গুইনের পক্ষে সম্ভব না শুধু এম্পারার পেঙ্গুইন ছাড়া। এটাই এদের অস্তিত্ব ঠিকিয়ে রাখার চাবিকাঠি। নিজের কাছে ডিমকে সংরক্ষণ করে এভাবে এরা ঠিকে থাকে- শুধুমাত্র একটি শিশুর জন্য, নতুন প্রজন্মের জন্য। তারপরে যখন মধ্যবর্তী শীতকাল আসে- একসময় সূর্য দীর্ঘদিনের জন্য অস্ত যায়- দীর্ঘ অন্ধকার কাল চলে আসে। সামনে থাকে একমাসের মত অন্ধকার সময়। তাদের জটলার উপরে তখন মেরুজ্যোতি খেলে যায়- কত রঙ্গের প্রদর্শন হয়। যখন শীত কমতে থাকে তাদের জটলা ভেঙ্গে যায়।এই পুরুষ পেঙ্গুইনগুলো যারা ১১৫ দিনের মত না খেয়ে আছে- উপবাসে মৃ্ত্যুর কাছাকাছি।তারপরে সূর্য ফিরে আসে। স্ত্রী পেঙ্গুনরা তখন লং মার্চ করে রকারিতে ফিরতে থাকে- শত মাইল তাদের পেরোতে হয় হেঁটে হেঁটে- কলোনিতে পৌঁছতে যেখানে তাদের নবজাতক অপেক্ষা করছে মায়ের কাছ থেকে খাবার গ্রহন করতে। পুরুষ পাখিগুলো তাদের বাচ্চাকে একবারের বেশি তাদের জমানো খাবার দিতে পারে না কারণ তারা নিজেরাই এত দিনের উপবাসে মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে। তখন সাথীর ফিরে আসারই প্রতীক্ষা। যদি বাচ্চা জন্মের দশ দিনের মধ্যে সাথী ফিরে না আসে তাহলে বাচ্চাকে রেখে খাবার খুঁজে যেতে পুরুষ পেঙ্গুইনটি বাধ্য হবে। সাথী ফিরে আসার পর কোলাহলে ছেয়ে যায় চারদিক। এত দীর্ঘ বিচ্ছেদের পর তারা একে অপরকে চিনতে পারে। তারপরেও তারা পরস্পরকে অভিবাদন জানায় যার মাধ্যমে তারা দেখে নেয় চেনাতে কি ভুল হয়েছে। তারপরে মা পেঙ্গুইন প্রথম খাবার বাচ্চার মুখে তুলে দেয়- খাবার হচ্ছে অর্ধ পরিপাককৃত মাছ।





জাপানীজ ক্রেইন ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বেঁচে থাকে। এরা যখন ডানা ঝাপ্টিয়ে নেচে উঠে- খুব সুন্দর এক দৃশ্য। আর এদের ডাক শুনে মনে হয় এরা গানের সাথে নাচছে। একটি দৃশ্যে দেখা গেল জাপানের কোন এক অঞ্চলের শিশুরা এভাবে হাত নেড়ে নাচছে আর গান গাইছে- বিশ্বাস করা হয় এর মাধ্যমের খারাপ আত্মা দূরে সরে থাকে। মানুষের নাচের সাথে পাখির প্রায় কাছাকাছি স্বরের অনুকরণ শোনা গেল। তাহলে বলতে হয় মানুষের সংস্কৃতি প্রকৃতি থেকেই আসে।




মীরক্যাটদের দেখে খুব মায়া লাগলো। এদের নিয়ে কয়েকটি ভিডিও দেখেছি ইউটিউবে। এখানে দেখানো হলো একটি বিশেষ দৃশ্য। একটি গাছের ডালে বাজপাখি দেখা গেল। পুরুষ মীরক্যাটটি সতর্ক হয়ে আছে। খেয়াল করে দেখলো তাকিয়ে। গাছের উপরে উঠে যেভাবে হাত ধরে তাকালো তা এক অসাধারণ দৃশ্য। তারপরে সবাইকে নিয়ে গর্তে ডুকে গেল। সেখানে আগে থেকে আশ্রয় নিয়েছিল সাপ। আঁধারের মাঝে সাপ তাকে ছোবল মারলো তার পায়ে। তারা বেরিয়ে এলো। ধীরে ধীরে সে অচেতন হয়ে গেল। পরিবারের জন্য আর কিছুই সে করতে পারছে না- থাকতে পারছে না পরিবারের সাথে।সে এক জায়গায় শুয়ে পড়লো। বিকেলে যখন পরিবারের সবাই ফিরে এলো সে একেবারে অচেতন- তার পেটটাই শুধু উঠানামা করছে।খুব করুন এক দৃশ্য ছিল। অন্যদের মুখেও যেন বিষাদের ছায়া। এভাবে সে রাত গেল, পরের দিন-রাত গেল। তৃতীয় দিন সকালে তার মাঝে পরিবর্তন এলো। সে অনেকটা সেরে উঠেছে। অবাক করার মত- যে সাপের সংশনে একজন মানুষ অনায়াসে মারা যাবে- মীরক্যাটটি তা কাটিয়ে উঠলো।






সিফকরা গাছে থাকে। এক ডাল থেকে আরেক ডালে লাফিয়ে চলে। গাছের ডালে ডালেই তারা সচ্ছন্দে চলাফেরা করে। মাটিতে নামলে তারা লাফিয়ে লাফিয়ে চলে। এমনভাবে চলে যে মনে হয় তিড়িং-বিড়িং করে নেচে যাচ্ছে। ওদের এই দৃশ্য ধারণ করে সাথে মিউজিক চালিয়ে দিলে সুন্দর এক কলা প্রদর্শন হয়ে যাবে।





গ্রীসের গোল্ডেন ঈগল- যাদের বেশ লম্বা ডানা তাই গাছের মধ্যে শিকার করা তাদের জন্য বেশ কষ্টকর। তাই তারা একটি বিকল্প শিকার বের করেছে। আশ্চর্যজনকভাবে সেই শিকার হচ্ছে কচ্ছপ। কচ্ছপ শিকারের পদ্ধতিটাও অবাক করার মত। ঈগল যখন কচ্ছপের কাছে যায় তখন কচ্ছপ মুখ ভেতরে ডুকিয়ে নেয়- তার মানে সে নিরাপদ আর তার পিঠের যে খোলস তাতে নখ দিয়ে ঈগল কিছু করতে পারবে না। ঈগলরা একটি এগিয়ে গয়ে এখানে প্রকোশল প্রয়োগ করে। তারা নখ দিয়ে ধরে কচ্ছপটিকে নিয়ে আকাশে উড়ে। তারপর এমন এক জায়গার উপরে যায় যেখানে নিচে কঠিন পাথুরে শিলা রয়েছে। উপর থেকে কচছপটিকে ছেড়ে দেয় আর নিজে প্যারাসুটের মত কচ্ছপের পিছে পিছে নামতে থাকে। শিলার উপরে পড়ে কচ্ছপের খোলস আলাদা হয়ে যায়। তখন ঈগলটি খোলসবিহীন কচ্ছপকে নখে করে বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে বাচ্চাকে খাওয়ায়। তার সেই বাচ্চাও এই প্রকৌশল শিখবে বেঁচে থাকার তাগিদে। তাহলে দেখা যাচ্ছে- প্রয়োজন জীবকে অনেক কিছু শিখিয়ে দেয়। ঈগলের ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং দেখে অবাক হলাম।




আরও অনেক প্রাণীর বিষয়ে দৃশ্য আছে।

ছবিঃ নেট থেকে নেওয়া

ডাউনলোড করতে হলে বেশ ধৈর্যের পরিচয় দিতে হবে। অনেকগুলো অংশ- সময় তো লাগবেই। কেউ চাইলে করতে পারেন।
Click This Link
Click This Link
Click This Link
Click This Link
Click This Link
Click This Link
Click This Link
Click This Link
Click This Link
Click This Link
Click This Link
Click This Link
Click This Link
Click This Link


 

সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে নভেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:৪৭ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ১৯ শে নভেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:৩৫
দীপান্বিতা বলেছেন: অনেক...অনেক........অনেক .......ধন্যবাদ!
সী লায়ন, পেঙ্গুইন, মীরক্যাট -এদের নিয়ে প্রগ্রামগুলো এ্যানিমেল প্ল্যানেটে দেখেছি...এদের নিয়ে প্রগ্রামগুলো এ্যানিমেল প্ল্যানেটে দেখেছি.........................................আজ কাগজ়ে একটা খবর দেখলাম...দাড়ান! আমার ব্লগে পোস্ট করি......দেখলে খুব ভাল লাগবে......জীব জগৎ নিয়ে একটা গ্রুপ খোলার আবেদন করেছি, কি হয় দেখা যাক্‌!
১৯ শে নভেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:৪৯

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। পড়ার অপেক্ষায় থাকলাম।

১৯ শে নভেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:৫২

লেখক বলেছেন: শুকরিয়া।

৩. ১৯ শে নভেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:৩৮
নতুন রাজা বলেছেন: ++++++++++++++

ভালো লাগলো। প্রিয়তে নিলাম।

ভালো থাকবেন...
১৯ শে নভেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:৫২

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

৪. ১৯ শে নভেম্বর, ২০০৯ রাত ৮:৩৩
মার্বেল বলেছেন: অনেক সুন্দর লিখেছেন..ডাউনলোড করা শুরু করলাম...এবং অবশ্যই প্লাস !
২০ শে নভেম্বর, ২০০৯ রাত ৮:৩৩

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে। শুভেচ্ছা রইলো।

 

মোট সময় লেগেছে ২.৭৮৮৮ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
ক্ষেত্রঃ তড়িৎ-তাড়িৎ-যান্ত্রিক এবং নবায়ন শক্তি ও সবুজ প্রকৌশল
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ